খুঁজুন
শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২৩ মাঘ, ১৪৩২

ফরিদপুরে শত বছরের প্রাচীন মেলার মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের অভিযোগ 

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৬:৫২ পিএম
ফরিদপুরে শত বছরের প্রাচীন মেলার মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের অভিযোগ 

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতাদের বাদ দিয়ে প্রধান অতিথি করা হয়েছে বিগত আমলে টাকার কুমির বনে যাওয়া শেখ পরিবারের ঘনিষ্ঠ সাবেক ছাত্রলীগ নেতাকে। আর বিশেষ অতিথি করা হয়েছে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আরেক নেতাকে৷ এমনকি অনুষ্ঠানে নিমন্ত্রণ পাননি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানও। এ নিয়ে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বোয়ালমারী উপজেলার শেখর ইউনিয়নের তেলজুড়িতে ২৬ সেপ্টেম্বর আয়োজন করা হয়েছে এই নৌকা বাইচ ও মেলার। আর ওই অনুষ্ঠান সফল করতে চলছে ব্যাপক আয়োজন। ইতোমধ্যে এ উপলক্ষে উপজেলাজুড়ে সাঁটানো হয়েছে রঙিন পোস্টার। ওই পোস্টার প্রধান অতিথি হিসেবে নাম লেখা রয়েছে ছাত্রলীগের বুয়েট শাখার সাবেক সভাপতি আজিজুল আকিল ডেভিড শিকদারের। আর বিশেষ অতিথি করা হয়েছে খন্দকার ওমর হাফিজ মুক্তি। অবশ্য পোস্টারে তাদের রাজনৈতিক পরিচয় উল্লেখ না করে তাদের ব্যবসায়িক পরিচিতি উল্লেখ করা হয়েছে। আর ওই নৌকা বাইচ ও মেলার উদ্বোধক হিসেবে রয়েছে বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর হাসান চৌধুরীর নাম।

জানা গেছে, আজিজুল আকিল ডেভিড শিকদার ছাত্রাবস্থায় বুয়েটে ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। তিনি ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি লিয়াকত শিকদারের চাচাতো ভাই। বিয়ে করেছেন বরিশাল-১ থেকে পাঁচবার নির্বাচিত এমপি আওয়ামী লীগ নেতা আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহর ফুফাতো বোনকে। মূলতঃ সেই সুবাদেই তিনি শেখ পরিবারের ঘনিষ্ঠজন হয়ে উঠেন এবং সালমান এফ রহমান ও ওয়াসার সাবেক এমডি তাকসিম আহমেদ খানের আশীর্বাদ পেয়ে গত ১৭ বছর বড় বড় ঠিকাদারি কাজ বাগিয়ে নেন। সম্প্রতি ঢাকার একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ডেভিড শিকদারের টাকার কুমির হয়ে বনে যাওয়ার কাহিনী নিয়ে বিশদভাবে বর্ণনা করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, ৫ আগস্ট পরবর্তী প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগ নেতাদের অনুপস্থিতিতে তিনি এই টাকার জোড়েই নিজের রাজনৈতিক পরিচয় আড়াল করে এলাকায় তৎপরতা শুরু করতে যাচ্ছেন। আর সেখানে কিছু বিএনপি ঘরোনার রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকেও তিনি হাত করে ফেলেছেন।

বোয়ালমারী সরকারি ডিগ্রী কলেজের ছাত্রদলের সাবেক এজিএস ও জিএস এবং উপজেলা বিএনপির সম্মেলন প্রস্তুত আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো: রোকনুজ্জামান মিয়া বকুল বলেন, তেলজুড়ির নৌকাবাইচ ও মেলার যেই মাইকিং শুনছি, সেখানে দেখতে পাচ্ছি ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ডেভিড শিকদারকে প্রধান অতিথি করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতা লিয়াকত শিকদারের চাচাতো ভাই ডেভিড শিকদার গত ১৭ বছর আওয়ামী লীগকে ব্যবহার করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, আয়োজক কমিটির সভাপতি রইসুল ইসলাম পলাশ এর আগে উপজেলা নির্বাচনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোশাররফ হোসেন মুসা মিয়ার নির্বাচন করেছেন। এখন তাদের টাকা দিয়ে ডেভিড শিকদার ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হয়ে কার্যত আওয়ামী লীগকেই পুনর্বাসন করার চেষ্টা করছেন। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। বোয়ালমারী উপজেলা প্রশাসনের কাছে অনুরোধ, তারা যেনো এই অপচেষ্টার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন।

শেখর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল আহমেদ বলেন, আমি এই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হওয়া সত্ত্বেও ওই মেলা কারা মেলাচ্ছে, কিভাবে মেলাচ্ছে তার কিছুই জানিনা। শুধু এটুকু জেনেছি যে, সাবেক এক ছাত্রলীগ নেতা ও আওয়ামী লীগ নেতাদের দিয়ে ওই অনুষ্ঠানের প্রচারণা চালানো হচ্ছে। পোস্টারে একই পরিবারের দুই ভাইয়ের নাম আছে। ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে আমার নাম পোস্টারে থাকাতো দুরের কথা, দাওয়াতও পাই নাই। এটা খুবই দুঃখজনক। তারা শেখর ইউনিয়নে একটা রাজত্ব কায়েমের চেষ্টা করছে। আমিতো কোন বিশেষ গোষ্ঠী বা দলের চেয়ারম্যান না। অথচ একজন চেয়ারম্যান হিসেবে আমি এবিষয়ে অবগত না।

তিনি বলেন, গত বছরেও মেলায় অনেক অনিয়ম হয়েছে। সকলেই জানেন কিভাবে বিভিন্ন দোকান থেকে চাঁদা তোলা হচ্ছে। তবে এসব নিয়ে বলার কোন জায়গা নেই।

এ বিষয়ে তেলজুড়ী নৌকা বাইচ ও মেলার আয়োজক কমিটির সভাপতি রইসুল ইসলাম পলাশ ১৯ বছর বোয়ালমারী উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন উল্লেখ করে বলেন, এটা আমাদের দুইশো বছরের ঐতিহ্যবাহী মেলা। এর আগে যখন আওয়ামী লীগের আমলেও মেলা হয়েছে তখনো আমি সভাপতিত্ব করছি। আমরাই নেতৃত্ব দিয়েছি। এখন আমরা ক্ষমতায় আসতে পারলাম না, তার আগেই যদি এলাকার লোকজনকে বাদ দিয়ে মেলা করি সেটা কেমন দেখায়। এজন্যই আমরা এলাকার সকলকে সাথে নিয়ে তাদের সাথে আলাপ-আলোচনা করেই সব সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এমনকি কোন রাজনীতিবিদকেও রাখিনি। তাছাড়া পোস্টারে আমাদের কারো রাজনৈতিক পরিচয় বা পদপদবিও উল্লেখ করা হয় নাই।

রইসুল ইসলাম পলাশ বলেন, আগামী শুক্রবার ২৬ সেপ্টেম্বর এ নৌকা বাইচের পাশাপাশি গ্রামীণ মেলায় ইলিশ মাছ, গ্যান্ডারি কুশর, আমিত্তি জাতীয় মিষ্টি সহ সাধারণ গ্রাম্য মেলার মতো নানান পণ্য ও শিশুদের মনোরঞ্জনের বিভিন্ন সমাহার হবে মেলায়। আমরা আশা করছি সবাইকে সাথে নিয়ে এলাকার ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই মেলা শেষ করতে পারবো।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে আজিজুল আকিল ডেভিড শিকদারের মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে নাম্বারটা বন্ধ পাওয়া যায়।

“পরিবারতন্ত্র না, গোষ্ঠীতন্ত্র না—চাই জনগণের সরকার” – ফরিদপুরে জামায়াত আমীর

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:১৯ পিএম
“পরিবারতন্ত্র না, গোষ্ঠীতন্ত্র না—চাই জনগণের সরকার” – ফরিদপুরে জামায়াত আমীর

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আসমান থেকে নেমে আসতে পারে কালো চিল, ছোঁ মেরে ভোট নিয়ে নেওয়ার জন্য। জমিন থেকেও শুরু হয়ে যেতে পারে কোনো ধরনের অপতৎপরতা। মহান আল্লাহতায়ালার দরবারে আশ্রয় চাই এই দুই ত্রাস থেকে। তিনি বলেন, আমার ভোট আমি দিবো, তোমারটাও আমি দিবো এই স্লোগান শেষ। আমার ভোট আমিই দিবো, এই ভোটের উপর হাত দেয়, কালো চিল হয়ে আসে ডানা খুলে ফেলতে হবে, রুখে দিতে হবে।’

শুক্রবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭ টার দিকে ফরিদপুরের বোয়ালমারী স্টেডিয়াম মাঠে ফরিদপুর-১ (বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা ও মধুখালি উপজেলা) আসনে জামায়াতের মনোনীত ও ১১ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী ডা. ইলিয়াস মোল্লার নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমি কোনো দলের সরকার চাই না। কোনো পরিবারতান্ত্রিক সরকার চাই না। কোনো গোষ্ঠীতান্ত্রিক সরকার আমি চাই না। আমি চাই জনগণের সরকার। আমি চাই ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ। আর ধর্মে, বর্ণে, জাতিতে বিভক্ত করার সুযোগ আমরা কাউকে দেব না, ইনশাআল্লাহ। এই বাংলাদেশকে সকল ধর্মের, বর্ণের মানুষকেই ফুলের বাগানের মতো, ইনশাআল্লাহ, আমরা সাজাবো।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একটা ধ্বংসস্তূপের উপর দাঁড়িয়ে আগামী ১২ তারিখ আমাদেরকে মুক্তির হাতছানি দিচ্ছে। ৫৪ বছরে যারা রাজনীতি করেছেন, অনেকেই চেষ্টা করেছেন। আমরা কারও আন্তরিকতার উপর কোনো প্রশ্ন উত্থাপন করতে চাই না। তারা তাদের যোগ্যতা ও আন্তরিকতা দিয়ে যেটুকু পেরেছেন, বাংলাদেশ এবং তার জনগণকে দিয়েছেন। কী দিয়েছেন, কী দিতে পারেননি—তার সবকিছুর সাক্ষী এ দেশের ১৮ কোটি মানুষ।

তিনি বলেন, এখন আমরা চাই অতীতে যা হয়েছে হয়েছে—নতুন একটা বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলতে চাই। যে বাংলাদেশের মানচিত্রে আমরা বসবাস করছি—এই মানচিত্র বদলে যাবে না, মানচিত্র বদলাবে না, তার খাসলত বদলাবে। আমরা আর চাই না দেশের মাটিতে শুধু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হওয়ার কারণে দমন-পীড়নের শিকার হয়ে তাকে খুন করা হোক, গুম করা হোক, আয়নাঘরে পাঠানো হোক, মিথ্যা মামলা দিয়ে কাউকে নাজেহাল করা হোক। এই বাংলাদেশ আমরা আর চাই না।

জামায়াতের আমীর বলেন, ওই বাংলাদেশটাও চাই না যেখানে বিভিন্ন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভাই-বোনদের উপর নির্যাতন করা হয়। আমরা ওই বাংলাদেশটাও চাই না যেখানে হাজার হাজার, লাখ লাখ শিক্ষিত বেকার যুবকের মিছিল হয়। ওই বাংলাদেশ আমরা চাই না, যে বাংলাদেশে বিচার অর্থের বিনিময়ে বিক্রি হয়। ওই বাংলাদেশ আমরা চাই না—যার পকেটের জোর নেই, যার বাহুতে বল নেই, যার গুষ্টির জোর নাই অথবা দলীয় শক্তি নাই—তার কোনো বিচার নাই। ওই বাংলাদেশ চাই না।

তিনি আরও বলেন, শিশু জন্ম নেওয়ার পরে শুধু গরিবের ঘরে জন্ম নিয়েছে—এই কারণে তার শিক্ষার কোনো ব্যবস্থা হবে না—সেই বাংলাদেশ চাই না। আমরা বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো একটা বাংলাদেশ চাই। ওই বাংলাদেশটা চাই, যে বাংলাদেশে আমার মায়ের সম্পদ, ইজ্জত এবং জীবনের উপর আর কেউ কোনো হামলা করার দুঃসাহস দেখাবে না।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের দেশে এটা একটা অদ্ভুত কালচার—নেতা হওয়ার আগে, নির্বাচিত হওয়ার আগে তেমন কোনো সম্পদ থাকে না; যেই নেতা নির্বাচিত হলো, লাফিয়ে লাফিয়ে তার শ্বশুরবাড়ির সম্পদ বাড়ে।

জনসভায় প্রধান অতিথি ডা. শফিকুর রহমান ওই আসনের জামায়াতের প্রার্থী ডা. ইলিয়াস মোল্লাকে ভাই বলে সম্বোধন করে তার হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক ধরিয়ে দিয়ে ভোট চান। পরে ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে জেলা জামায়াত আয়োজিত সভায় বক্তব্য রাখেন ডা. শফিকুর রহমান।

ফরিদপুর প্রতিদিনের রিপোর্টে টনক নড়ল প্রশাসনের, গাছ থেকে খুলে নেওয়া হলো পোস্টার

ফরিদপুর ও সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৩৮ পিএম
ফরিদপুর প্রতিদিনের রিপোর্টে টনক নড়ল প্রশাসনের, গাছ থেকে খুলে নেওয়া হলো পোস্টার

অনলাইন নিউজ পোর্টাল ফরিদপুর প্রতিদিন-এ সংবাদ প্রকাশের এক ঘণ্টার মধ্যেই তৎপর হলো সালথা উপজেলা প্রশাসন। ফরিদপুর-২ (সালথা-নগরকান্দা) আসনে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে গাছে গাছে পোস্টার ও ব্যানার টাঙানোর ঘটনায় তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে সেগুলো অপসারণ করেছে প্রশাসন।

শুক্রবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ‘নির্বাচনী আচরণবিধি উপেক্ষা করে ফরিদপুর-২ আসনে গাছে গাছে পোস্টার, নীরব প্রশাসন?’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পরপরই বিকেলে ঘটনাস্থলে যান সালথার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মামুন সরকার।

সরেজমিনে গিয়ে তিনি সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের খোয়াড় গ্রামের পশ্চিম পাড়া এলাকায় সড়কের পাশে মেহগনি গাছসহ বিভিন্ন গাছে টাঙানো নির্বাচনী পোস্টার ও ব্যানার অপসারণের নির্দেশ দেন। প্রশাসনের উপস্থিতিতেই গাছ থেকে সব পোস্টার ও ব্যানার খুলে ফেলা হয়।

ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মামুন সরকার বলেন, “ফরিদপুর প্রতিদিনে সংবাদ প্রকাশের পরপরই আমরা ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে গিয়ে আচরণবিধি লঙ্ঘন করে টাঙানো পোস্টার ও ব্যানার অপসারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সতর্ক করা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন কাজ আর না করে।”

এর আগে প্রকাশিত সংবাদে উল্লেখ করা হয়, নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী গাছ, বৈদ্যুতিক খুঁটি কিংবা সরকারি-বেসরকারি কোনো স্থাপনায় পোস্টার-ব্যানার লাগানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও ফরিদপুর-২ আসনে তা প্রকাশ্যে লঙ্ঘিত হচ্ছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, দীর্ঘ সময় ধরে এসব পোস্টার ঝুলে থাকলেও প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছিল না।

ফলোআপ অভিযানের পর স্থানীয় বাসিন্দারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। খোয়াড় গ্রামের এক বাসিন্দা বলেন,
“সংবাদ প্রকাশ না হলে হয়তো এগুলো অপসারণ হতো না। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় প্রশাসন ও গণমাধ্যম দু’পক্ষকেই ধন্যবাদ।”

সচেতন মহলের মতে, নির্বাচনের আগে এ ধরনের দ্রুত পদক্ষেপ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটের পরিবেশ তৈরিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে প্রশাসনের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির বাস্তব প্রয়োগ এখন আরও জোরদার করা জরুরি।

প্রসঙ্গত, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬কে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন ঘোষিত আচরণবিধি বাস্তবায়নে মাঠে একাধিক ভ্রাম্যমাণ ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

ফরিদপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় ছাত্রদল নেতাসহ প্রাণ গেল দু’জনের

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:১৪ পিএম
ফরিদপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় ছাত্রদল নেতাসহ প্রাণ গেল দু’জনের

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় এক ছাত্রদল নেতাসহ দুইজনের প্রাণহানি হয়েছে। এ ঘটনায় আরও দুইজন আহত হয়েছেন।

নিহত ছাত্রদল নেতার নাম আবিদ হাসান মুন্না (২০)। তিনি সরকারি আইনউদ্দিন কলেজ শাখা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। মুন্না মধুখালী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম গাড়াখোলা এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয় ব্যবসায়ী আরিফ বিশ্বাসের একমাত্র সন্তান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে ফরিদপুর চিনিকলের সামনে মোটরসাইকেলযোগে চলাচলের সময় দুর্ঘটনার শিকার হন মুন্না। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ দুর্ঘটনায় আরও দুইজন আহত হন।

এর আগে একই দিন সন্ধ্যা প্রায় ৭টার দিকে ঢাকা–খুলনা মহাসড়কের মধুখালী উপজেলার ব্রাহ্মণকান্দা বাজার এলাকায় আরেকটি দুর্ঘটনা ঘটে। রাস্তা পারাপারের সময় দ্রুতগতির একটি কাভার্ড ভ্যানের চাপায় জয়নাল মোল্লা (৬৫) নামে এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত জয়নাল মোল্লা রায়পুর ইউনিয়ন বিএনপির ৬ নম্বর ওয়ার্ড নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব লুৎফর মোল্লার পিতা।

করিমপুর হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাজ্জাদ হোসেন জানান, দুর্ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাভার্ড ভ্যানটি জব্দ করেছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।