খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬, ১৯ চৈত্র, ১৪৩২

ফরিদপুরে শীতের রাতে যখন কষ্ট বাড়ে, তখন মানবতার হাত বাড়াল পুনাক

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৪:৪০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে শীতের রাতে যখন কষ্ট বাড়ে, তখন মানবতার হাত বাড়াল পুনাক

হাড় কাঁপানো শীতে অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়াল বাংলাদেশ পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক)।

শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকাল ১১টার দিকে ফরিদপুর পুলিশ লাইন্সের ড্রিল শেডে পুনাক ফরিদপুর জেলা শাখার উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক) ফরিদপুর জেলার সভানেত্রী কামরুন নাহার পপি। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. নজরুল ইসলাম।

সভাপতির বক্তব্যে কামরুন নাহার পপি বলেন, “শীতের কষ্ট সবচেয়ে বেশি ভোগ করেন সমাজের অবহেলিত মানুষগুলো। তাদের মুখে একটু হাসি ফোটাতে পারলেই আমাদের এই আয়োজন সার্থক হবে। পুনাক সবসময় মানবিক কাজের পাশে থাকতে চায়।”

তিনি আরও বলেন, শীতবস্ত্র বিতরণ শুধু দান নয়, বরং এটি মানবিক দায়িত্ব ও সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “পুলিশ শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নয়, মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানোও আমাদের দায়িত্ব। পুনাকের এই উদ্যোগ সমাজে মানবিকতার বার্তা ছড়িয়ে দেবে।”
তিনি এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আবেগে আপ্লুত হয়ে কয়েকজন উপকারভোগী বলেন, “এই শীতে কম্বল পাওয়াটা আমাদের জন্য অনেক বড় সহায়তা। অনেক কষ্টে দিন কাটাচ্ছিলাম। পুলিশ আর পুনাক আমাদের কথা ভেবেছে—এটাই বড় প্রাপ্তি।”

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. শামছুল আজম, পুনাকের সহ-সভানেত্রী তাসনিয়া তানজিম, মাহিশা আক্তারসহ পুনাকের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ ও পুলিশ কর্মকর্তারা।

শীতের সকালে এমন মানবিক উদ্যোগে উষ্ণতা ছড়িয়েছে ফরিদপুর পুলিশ লাইন্স চত্বরে। পুনাকের এই শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

মুড়ি না চিড়া—কোন খাবারটি বেশি স্বাস্থ্যকর?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৫২ পূর্বাহ্ণ
মুড়ি না চিড়া—কোন খাবারটি বেশি স্বাস্থ্যকর?

সকালের হালকা নাশতা বা গল্প-আড্ডার সময় চিড়া ও মুড়ি দুটোই বেশ জনপ্রিয়। কেউ চিড়া বেশি পছন্দ করেন, কেউ মুড়ি। দুটিই চাল থেকে তৈরি হলেও প্রস্তুতি ও পুষ্টিগুণে পার্থক্য রয়েছে।

চিড়া ও মুড়ির প্রস্তুতি:

মুড়ি তৈরি হয় চালকে উচ্চ তাপে ফুলিয়ে, এতে পানি খুব কম থাকে। চিড়া তৈরি হয় ভিজিয়ে, চাপ দিয়ে ও শুকিয়ে; এতে প্রাকৃতিক কার্বোহাইড্রেট বেশি থাকে। দু’টিই মূলত কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ, তবে চিড়ায় ফাইবার ও খনিজ বেশি থাকতে পারে।

মুড়ি:

ওজন কমানোর জন্য মুড়ি বেশ জনপ্রিয়। এতে ক্যালোরি কম, হজম সহজ এবং ফ্যাটও কম। তবে হজমের পর তা দ্রুত ক্ষুধা বাড়ায়, ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা হতে পারে।

চিড়া:

চিড়া তুলনামূলকভাবে ভারী ও দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে। দই, বাদাম বা ফল মিশালে এটি পুষ্টিকর নাশতা হিসেবে আদর্শ। এতে প্রোটিন ও ফাইবার থাকলে রক্তে শর্করার হঠাৎ বৃদ্ধি কম হয়।

হজমের দিক:

মুড়ি হালকা ও সহজে হজম হয়। অ্যাসিডিটি থাকলে খালি পেটে মুড়ি অসুবিধা সৃষ্টি করতে পারে। চিড়া ভিজিয়ে খেলে তা পেটের জন্য আরামদায়ক হয়।

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য:

চিড়া-মুড়ি উচ্চ গ্লাইসেমিক ইনডেক্সযুক্ত হতে পারে। তাই পরিমিত খাওয়া জরুরি। প্রোটিন বা ফাইবার সঙ্গে মিশালে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ।

শিশু ও বয়স্কদের জন্য:

উভয়ই শিশুর ও বয়স্কদের জন্য উপকারী। মুড়ির সঙ্গে সেদ্ধ ছোলা, শসা বা সামান্য সরিষার তেল মেশানো হলে পুষ্টিকর হয়। চিড়া দুধ বা দইয়ের সঙ্গে খেলে শক্তির উৎস হিসেবে কার্যকর।

 

মুখে দুর্গন্ধ কেন হয়? সহজ সমাধান জানুন

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৪৬ পূর্বাহ্ণ
মুখে দুর্গন্ধ কেন হয়? সহজ সমাধান জানুন

মুখের দুর্গন্ধ কিংবা হ্যালিটোসিসের প্রধান কারণ হলো— মুখের ভেতরে জমে থাকা ব্যাকটেরিয়া, যা দাঁত, মাড়ি ও জিহ্বায় খাদ্যকণা পচিয়ে সালফার গ্যাস তৈরি করে থাকে। অপরিষ্কার মুখগহ্বর, দাঁতের প্লাক, মাড়ির রোগ, শুষ্ক মুখ, ধূমপান এবং পেঁয়াজ-রসুনজাতীয় খাবার এ সমস্যা বাড়িয়ে তোলে। এ ছাড়া গ্যাস্ট্রিক, সাইনাস কিংবা টনসিলের সমস্যাও এর কারণ হতে পারে।

সাধারণত মুখের দুর্গন্ধের মূল কারণ হচ্ছে— মুখের ভেতরের মাইক্রোবায়োম বা ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য নষ্ট হওয়া। মুখে দুর্গন্ধ বা হ্যালিটোসিস একটি খুব সাধারণ সমস্যা। মুখ থেকে দুর্গন্ধ বেরোলে তা অত্যন্ত অস্বস্তিকরও বটে। এর পেছনে থাকা কারণগুলো অনেকেই ঠিকভাবে জানেন না। চলুন জেনে নেওয়া যাক, কোন কারণে মুখে দুর্গন্ধ হয়।

ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য নষ্ট

আমাদের মুখের ভেতরে স্বাভাবিকভাবে অনেক ধরনের ভালো কিংবা খারাপ ব্যাকটেরিয়া থাকে। যখন এই ব্যালান্স ঠিক থাকে, তখনই মুখে কোনো সমস্যা হয় না। আর কিছু কারণে এই ভারসাম্য নষ্ট হলে খারাপ ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বাড়তে থাকে এবং তারা সালফারজাতীয় যৌগ তৈরি করে, যার ফলে মুখে দুর্গন্ধ হয়।

ডায়েট নিয়ন্ত্রণ

আমাদের প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পেঁয়াজ, রসুন, মসলাদার খাবার খাওয়ার পর মুখে দুর্গন্ধ হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে যদি দুর্গন্ধ থাকে, তাহলে তা শরীরের অন্য সমস্যার ইঙ্গিতও হতে পারে। এই যেমন মাড়ির রোগ, সংক্রমণ কিংবা হজমের সমস্যা।

মুখ শুকিয়ে যাওয়া

মুখ শুকিয়ে যাওয়াও এ সমস্যার একটি বড় কারণ। লালা বা স্যালাইভা মুখের ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে থাকে। কিন্তু যখন লালা কম তৈরি হয়, তখন ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং দুর্গন্ধ বাড়ে। দীর্ঘ সময় না খাওয়া, কম পানি পান করা কিংবা কিছু ওষুধের কারণে এ সমস্যা হতে পারে।

দাঁত পরিষ্কার করা

মুখে দুর্গন্ধের অন্যতম বড় একটি কারণ হচ্ছে— সঠিকভাবে দাঁত পরিষ্কার না করা। অনেক সময় আমরা শুধু দাঁত ব্রাশ করি, কিন্তু জিহ্বা পরিষ্কার করি না। জিহ্বার ওপর জমে থাকা ব্যাকটেরিয়া থেকেই দুর্গন্ধ বেশি হয়ে থাকে। এ ছাড়া দাঁতের ফাঁকে খাবার আটকে থাকলেও তা পচে গিয়ে বাজে গন্ধ তৈরি হয়।

সুতরাং সমস্যা এড়াতে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ সমস্যা এড়াতে প্রতিদিন অন্তত দুবার দাঁত ব্রাশ করা, জিহ্বা পরিষ্কার করা, নিয়মিত ফ্লস ব্যবহার করা এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা ভীষণ জরুরি। এর পাশাপাশি নিয়মিত ডেন্টিস্টের কাছে চেক-আপ করানোও প্রয়োজন বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

সূত্র : যুগান্তর

 

দায়িত্ব নিয়েই মাঠে সালথার ইউএনও দবির উদ্দিন, সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রথম মতবিনিময়

সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:০০ অপরাহ্ণ
দায়িত্ব নিয়েই মাঠে সালথার ইউএনও দবির উদ্দিন, সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রথম মতবিনিময়

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. দবির উদ্দিনের সঙ্গে কর্মরত সাংবাদিকদের এক সৌহার্দ্যপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সভা স্থানীয় প্রশাসন ও গণমাধ্যমের মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই আয়োজন করা হয়।

বুধবার (০১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সভায় উপজেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা অংশ নেন। সভার শুরুতে সালথা প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে নবাগত ইউএনওকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়, যা অনুষ্ঠানে একটি আন্তরিক পরিবেশ তৈরি করে।
মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন সালথা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. নুরুল ইসলাম নাহিদ।

এতে উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি মো. সেলিম মোল্যা, সিনিয়র সাংবাদিক আবু নাছের হুসাইন, মজিবুর রহমান ও মনির মোল্যা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সহ-সভাপতি মিঞা লিয়াকত হুসাইন, সহ-সভাপতি আজিজুর রহমান আজিজ, যুগ্ম সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক মোশাররফ মাসুদ, দপ্তর সম্পাদক লাভলু মিয়া, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আকাশ সাহা, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সম্পাদক পারভেজ মিয়া, সাহিত্য ও পাঠাগার সম্পাদক নিজাম তালুকদার, কার্যনির্বাহী সদস্য জাকির হোসেন, সদস্য সাইফুল ইসলাম মারুফ এবং সাংবাদিক মামুন মিয়াসহ অন্যান্য গণমাধ্যমকর্মীরা।

সভায় ইউএনও মো. দবির উদ্দিন বলেন, উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন ও জনসেবামূলক কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি সাংবাদিকদের কাছে বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানান এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

তিনি আরও বলেন, জনগণের সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরতে সাংবাদিকদের ভূমিকা অপরিসীম। প্রশাসন ও গণমাধ্যম একসঙ্গে কাজ করলে একটি উন্নয়নমুখী ও স্বচ্ছ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

উল্লেখ্য, গত ২৫ মার্চ ২০২৬ সালে মো. দবির উদ্দিন সালথা উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কার্যক্রম গতিশীল করতে নানা উদ্যোগ গ্রহণের কথা জানিয়েছেন।