খুঁজুন
, ,

বোয়ালমারীতে ভূমি অফিসে ঘুষ ছাড়া মিলছেনা সেবা, ঘুরতে হচ্ছে অফিসের বারান্দায়

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ১২ জুলাই, ২০২৫, ৭:১০ অপরাহ্ণ
বোয়ালমারীতে ভূমি অফিসে ঘুষ ছাড়া মিলছেনা সেবা, ঘুরতে হচ্ছে অফিসের বারান্দায়

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার চতুল ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ঘুষ ছাড়া মিলছে না কোনো সেবা—এমন অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় সেবাপ্রত্যাশীরা। অতিরিক্ত অর্থ না দিলে দিনের পর দিন অফিসের বারান্দায় ঘুরতে হচ্ছে অনেককেই।

জমির নামজারি, খতিয়ান দেখানো, তদন্ত প্রতিবেদন কিংবা খাজনা আদায়—প্রতিটি ধাপে টাকা না দিলে কাজ হয় না বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।

তহসিল অফিসের চার পাশে রয়েছে সেলিম মুন্সি, পান্নু শেখ, জাহিদ ঠাকুর, সাইফার হোসেন, রবিউল ইসলামের কম্পিউটারের দোকানে ভূমি সংশ্লিষ্ট অনলাইনে কাজ সম্পন্ন করা হয় দোকানগুলোতে । এ সকল দোকান থেকেই মক্কেল ধরে নিয়ে যাওয়া হয় তহসিলদারদের কাছে। যেখানে একটি মিউটেশনের সরকারি চার্জ ১১৭০ টাকা, অথচ সেবাগ্রহীতার কাজ থেকে নেওয়া হচ্ছে প্রকারভেদে দুই হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত। এই দালালদের প্রধান পছন্দ থাকে প্রবাসীদের।

মঙ্গলবার ও বুধবার এই তহসিল অফিসের সামনে কথা হয়, জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য আহসান হাবিব , চতুল নিচে বাইখীর গ্রামের নিয়ামুল হক ফয়সাল, বাইখীর চৌরাস্তার মিলন শেখের সাথে। এরা সকলেই জানান, ভূমি অফিসের অতিরিক্ত অর্থ ছাড়া কোন ফাইল এসিল্যান্ড অফিসে যায় না, তাদের কোন মিউটেশন ৪/৫ হাজার টাকার কমে কাজ সম্পন্ন হয়নি।

ভূমি অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত তহসিলদার জহিরুল হকের বিরুদ্ধে এসব অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। শুধু চতুল তহসিল অফিস নয় এমন চিত্র পুরো বোয়ালমারি ইউনিয়ন ভূমি অফিস জুড়ে।

চতুল ইউপির সেবাগ্রহীতাদের দাবি,জহিরুল হক নিজের নিয়ন্ত্রণে কয়েকজন দালাল রেখে সেবা গ্রহীতাদের সাথে কথা বলান। কোন কোন ক্ষেত্রে তিনি নিজেই অফিসের খরচের কথা বলে অতিরিক্ত অর্থ নেন।

এ প্রতিবেদকের সাথে কথা হয় ইতালি প্রবাসী শামিমা ইয়াসমিনের সঙ্গে। তিনি বলেন, জুলাই ১০ তারিখে আমার ফ্লাইট রয়েছে ইটালিতে যাওয়ার। যে কারণে চতুল ইউনিয়নের একটি জমির মিউটেশন খুবই জরুরি ছিল।

ভেবেছিলাম ভূমি ব্যবস্থাপনার ডিজিটালাইজেশন হয়েছে, আমার কাজটি ভোগান্তি ছাড়া দ্রুতই হয়ে যাবে। বাইরের দোকান থেকে অনলাইনে আবেদন করে প্রয়োজনীয় সব কাজপত্র নিয়ে আমি ভূমি অফিসে যাই। সমস্যা হয় সেখানেই। অতিরিক্ত টাকা ছাড়া তারা ফাইল ফরওয়ার্ড দেয় না এসিল্যান্ড অফিসে। পরে নিজের ভাইকে দিয়ে এক হাজার টাকা পাঠিয়ে কাজটি করতে হয়েছে।

একই রকম কথা বলেন প্রয়াত আশরাফুজ্জামান সাইফার মিয়ার ছেলে এহরামুজ্জামান। তিনি বলেন, বাবা মারা গেছে বেশ কিছুদিন হল। বাবার নামে রেকর্ডীয় সম্পত্তি নামজারি করার জন্য গিয়েছিলাম চতুল ভূমি অফিসে। ওই অফিসে ৩-৪ কার্যদিবস যাওয়ার পর তহসিলদার সাহেব বললেন অফিস খরচ না দিলে কিভাবে ফরওয়ার্ডিং হবে। বাধ্য হয়ে এক হাজার টাকা দিয়ে আমার কাজটা আমি করেছি। তারপরও খুশি আমার কাজতো হলো।

গুনবহা ইউনিয়নের চাপলডাঙ্গা থেকে মিউটেশন করতে এসেছেন নাজমুল হোসেন। তিনি সৌদি প্রবাসি, ৮ শতাংশ জমির নিউটেশন করতে সরকারি জমা টাকার বাইরে ১০ হাজার টাকা দিয়েন। তাকে বলা হয়েছে সাত দিনের মধ্যে কাজটি করে দেয়া হবে।

চতুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, আমার ইউনিয়নের অনেকের কাছ থেকেই উনার (তহসিলদার) সম্পর্কে বিভিন্ন রকম খবর পেয়েছি, তবে আমি নিজে কখনো যাইনি।

ভূমি ব্যবস্থাপনায় ডিজিটালাইজেশন হওয়ার পরেও মানুষের ভোগান্তি বা প্রতারনা মুক্ত কেন হয়নি এ প্রসঙ্গে ফরিদপুর সচেতন নাগরিক কমিটির টিআইবির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট শিপ্রা গোস্বামী বলেন, কেন্দ্র সরকার যেভাবে সংস্কারের মাধ্যমে মানুষের সেবা নিশ্চিত করতে চান, তৃণমূল পর্যায়ে আসলে সেই মেসেজটি এখনো সেভাবে পৌঁছায়নি। যে কারণেই শত চেষ্টার ফলেও ভূমি ব্যবস্থাপনায় সেবাগ্রহীতার হয়রানি রোধ করা যাচ্ছে না। এক্ষেত্রে জেলা প্রশাসন থেকে শুরু করে উপজেলা প্রশাসনেরও সদয় আন্তরিকতা ও কঠোর তদারকি দরকার। তবেই হয়তো আমরা ভূমি ব্যবস্থাপনায় দুর্নীতিমুক্ত করতে পারবো।

এ প্রসঙ্গে কথা হয় ফরিদপুরের বৈষ্ণম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব সোহেল রানার সাথে। তিনি জানান, বতর্মান সরকার তৃণমূল পর্যায়ে মানুষের সেবা দেয়ার জন্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন, তারপরেও এ কাজে যারা বাধা হয়ে দাঁড়াবে প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধে আমরা আন্দোলন গড়ে তুলবো।

ভূমি (তহসিল) অফিসের দুর্নীতি ও হয়রানির প্রসঙ্গে ফরিদপুর দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাসানউজ্জামান বলেন, ২৪ এর আন্দোলন একটি পরিবর্তনের জন্য হয়েছে, সেখানে যারা প্রতিবন্ধক হয়ে দাড়াবে তাদেরকে অবশ্যই আইনে আওতায় আনা উচিত এবং প্রশাসনের যে পর্যায় গুলোতে দুর্নীতির হওয়ার সম্ভাবনা বেশি সেখানে তদারকি হওয়া দরকার। আর এক্ষেত্রে স্থানীয় জনসাধারণেরও সক্রিয় হওয়া উচিত, সরকারের যেসব দপ্তরের দুর্নীতিবাজ লোক রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হইতে হবে সকলকেই ।

বোয়ালমারী সহকারি কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, ভূমি ব্যবস্থাপনায় অনলাইন সার্ভিস চালু হওয়ার ফলে অনেক ক্ষেত্রে দুর্নীতি কমেছে, তবে অনেকই এই বিষয়টি ভালোভাবে না বুঝতে পারায় দালালের খপ্পরে পড়ে। তখন তাদের অতিরিক্ত অর্থ নষ্ট হয়। আমরা বলবো সরাসরি এসি ল্যান্ড অফিসে আসুন, মিডিল ম্যানের কাছে না গিয়ে।

আলফাডাঙ্গায় মাদ্রাসায় অভিভাবক সমাবেশ ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পুরস্কার বিতরণ

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৫৬ অপরাহ্ণ
আলফাডাঙ্গায় মাদ্রাসায় অভিভাবক সমাবেশ ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পুরস্কার বিতরণ

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা পৌরসভার ইছাপাশা এলাকায় অবস্থিত ইছাপাশা কাদেরিয়া হাফেজিয়া নূরানী মাদ্রাসা ও এতিমখানায় অভিভাবক সমাবেশ ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণ, নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ, স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রতিষ্ঠানের সার্বিক উন্নয়নে অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ৯টায় মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

​মাদ্রাসার পরিচালনা পর্ষদের সেক্রেটারি ও পাশের কাশিয়ানী উপজেলার জয়নগর কলেজের সহকারী অধ্যাপক গোলাম মুর্তজার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. সুমন রায়।

​সমাবেশে ডা. সুমন রায় শিক্ষার্থীদের শারীরিক সুস্থতা, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও রোগ প্রতিরোধ বিষয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন। বিশেষ করে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, জমে থাকা পানি নিষ্কাশন এবং মশার বংশবিস্তার রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

​ডা. সুমন রায় বলেন, “শিশুদের সুস্থভাবে বেড়ে ওঠা ও পড়াশোনায় মনোযোগী হতে স্বাস্থ্যকর পরিবেশ অত্যন্ত জরুরি। ছোটবেলা থেকেই শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি মানায় অভ্যস্ত করতে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।”

​অনুষ্ঠানে মাদ্রাসার সহসভাপতি ও সমাজসেবক মুন্সী বেলাল হুসাইন বলেন, “শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য শুধু ভালো ফলাফল অর্জন নয়; বরং শিক্ষার্থীদের মাঝে নৈতিকতা, শৃঙ্খলা, মানবিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের বিকাশ ঘটানো। সন্তানদের প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষকদের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও নিয়মিত খোঁজখবর রাখতে হবে।”

​তিনি আরও বলেন, “শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অগ্রগতি নির্ভর করে শিক্ষক, অভিভাবক ও পরিচালনা পর্ষদের পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর। মেধাবীদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের প্রতিও বিশেষ যত্ন নিতে হবে, যাতে তাদের মাঝে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ ও সুস্থ প্রতিযোগিতার মনোভাব তৈরি হয়।”

​মাদ্রাসার মুহতামিম মুফতি আব্দুল্লাহ আল মামুনের সঞ্চালনায় সমাবেশের শেষ অংশে বিভিন্ন শ্রেণিতে কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনকারী মেধাবী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। উপস্থিত অভিভাবক ও অতিথিরা এ ধরনের উদ্যোগকে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আরও অনুপ্রাণিত করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ফরিদপুরে হামে আক্রান্ত সাড়ে ৬ হাজার ছাড়াল, মৃত্যু ২১

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪৬ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে হামে আক্রান্ত সাড়ে ৬ হাজার ছাড়াল, মৃত্যু ২১

ফরিদপুরে আশঙ্কাজনকহারে বাড়ছে সন্দেহভাজন হামে আক্রান্তের সংখ্যা। জেলায় এ পর্যন্ত মোট ৬ হাজার ৫৯২ জন সন্দেহজনক হামের রোগী চিহ্নিত করা হয়েছে। বর্তমানে জেলার দুটি প্রধান হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ৯৮ জন।

​শনিবার (১০ অক্টোবর) স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

​প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ১৪ জন হামের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ২৮ জন। তবে আশার কথা হলো, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত জেলায় হামে আক্রান্ত হয়ে মোট ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

​স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, বর্তমানে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ১৮ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় এখানে নতুন কোনো রোগী ভর্তি হননি কিংবা কেউ ছাড়পত্র পাননি। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ হাসপাতালে ১ হাজার ৯৮৬ জন সন্দেহজনক হামের রোগী নথিভুক্ত হয়েছেন।

​অন্যদিকে, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বর্তমানে ভর্তি রয়েছেন ৮০ জন রোগী। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি হয়েছেন ১৪ জন এবং আগে থেকেই ভর্তি ছিলেন ৬৬ জন। একই ২৪ ঘণ্টায় এখান থেকে ২৮ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত এই হাসপাতালে ৪ হাজার ৪৭৪ জন হামের রোগী নিবন্ধিত হয়েছেন।

​স্বাস্থ্য বিভাগের জেলাওয়ারি ও উপজেলাভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, বোয়ালমারীতে ২৮, ভাঙ্গায় ১২, চরভদ্রাসনে ১৭, নগরকান্দায় ২, মধুখালীতে ৬, সদরপুরে ১৪, সালথায় ২৩ এবং ফরিদপুর সদর উপজেলায় ৫ জন সন্দেহভাজন রোগী রয়েছেন।

​গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি হওয়া ১৪ জন রোগীর মধ্যে ১০ জন ফরিদপুর জেলার স্থানীয় এবং বাকি চারজন পার্শ্ববর্তী অন্যান্য জেলার বাসিন্দা বলে নিশ্চিত করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

ফরিদপুরে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস পালিত

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:২২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস পালিত

বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে সচেতনতামূলক র‍্যালি ও নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

​শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত কলেজ ক্যাম্পাসে এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

​কর্মসূচিতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আসিফ উল আলম, উপাধ্যক্ষ ও মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. খান মোহাম্মদ আরিফ এবং মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মৃধা মো. শাহিনুজ্জামান। এতে কলেজের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, চিকিৎসক ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

​অনুষ্ঠানে বক্তারা শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, মানসিক রোগ নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা ও সামাজিক কুসংস্কার দূর করা জরুরি। একইসঙ্গে মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতি সহমর্মিতাপূর্ণ আচরণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।

​চিকিৎসকরা জোর দিয়ে বলেন, মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যাকে কোনোভাবেই অবহেলা করা যাবে না। প্রয়োজনে শুরুতেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এছাড়া মানসিক রোগীদের প্রতি যেকোনো ধরনের বৈষম্য পরিহার করে, তাঁদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে একটি মানবিক সমাজ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।