খুঁজুন
, ,

মধ্যপ্রাচ্য নেতাদের চরম উপলব্ধির মুহূর্ত

মালিহা লোধি
প্রকাশিত: সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৪:১১ অপরাহ্ণ
মধ্যপ্রাচ্য নেতাদের চরম উপলব্ধির মুহূর্ত

কাতারে ইসরায়েল কর্তৃক আক্রমণ ছিল আরব এবং মুসলিম সরকারগুলোর জন্য একটা চরম সত্য উপলব্ধির মুহূর্ত। কাতারের রাজধানী দোহায় হামাস নেতাদের লক্ষ্য করে ইসরায়েলের আক্রমণ সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য এবং তার বাইরের দেশগুলোকেও কাঁপিয়ে দিয়েছিল।

কাতার ছিল এ অঞ্চলের ষষ্ঠ দেশ, যারা ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসনের মুখোমুখি হয়েছিল। শুধু সেপ্টেম্বর মাসেই ইসরায়েল লেবানন, ফিলিস্তিন, ইয়েমেন, সিরিয়া ও তিউনিসিয়ার বিরুদ্ধে হামলা চালিয়েছিল। কিন্তু কাতারের ওপর বিমান হামলা ছিল উপসাগরীয় রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রথম। কাতারকে বলা হয় যুক্তরাষ্ট্রের একটি অ-ন্যাটো বা সামরিক মিত্র। একাধারে প্রায় দুই বছর ধরে ইসরায়েল গাজায় যুদ্ধ এবং গণহত্যা চালিয়ে আসছে, যেখানে ৬৫ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করা হয়েছে।

দোহার ওপর হামলার পর আয়োজিত জরুরি আরব/ইসলামিক শীর্ষ সম্মেলনে ইসরায়েল যেভাবে এই অঞ্চলে হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে, তা থেকে দেশটিকে বিরত রাখার জন্য জোরালো প্রতিক্রিয়া দেওয়া হবে বলে প্রত্যাশা ছিল। আরব লিগ এবং ওআইসির অসাধারণ যৌথ অধিবেশনে বিশ্বের দুই বিলিয়ন মুসলিমের প্রতিনিধিত্বকারী প্রায় ৬০টি দেশের নেতা ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

শীর্ষ সম্মেলনের সুর ছিল গম্ভীর ও কঠোর। কাতারের সঙ্গে সংহতি ঘোষণা করে, ইসরায়েলি হামলার নিন্দা করে এবং গাজায় ইসরায়েলের ‘গণহত্যা, জাতিগত নির্মূল, অনাহার ও অবরোধের অপরাধ’ নিন্দা করে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নেয় তারা। এতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ের কাছেই একটি শক্তিশালী বার্তা পৌঁছেছে। কিন্তু শীর্ষ সম্মেলনে ব্যাপকভাবে প্রত্যাশিত কোনো সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ যৌথ বিবৃতিতে ‘ইসরায়েলকে ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে তাদের কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখতে বাধা দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রগুলোকে সম্ভাব্য সব আইনি এবং কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের’ আহ্বান জানানো হয়েছে। এর মধ্যে কিছু নির্দিষ্ট বিষয় ছিল, যেখানে ‘ইসরায়েলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা, অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং সামরিক উপকরণ সরবরাহ, স্থানান্তর বা ট্রানজিট স্থগিত করা, এর সঙ্গে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক পর্যালোচনা করা এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দায়িত্ব পৃথক দেশগুলোর ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’

এ ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের দায়িত্ব পৃথক দেশগুলোর ওপর ছেড়ে দিয়ে শীর্ষ সম্মেলনে কোনো সম্মিলিত পদক্ষেপে সম্মতি জানানো হয়নি, এমনকি যেসব দেশ এখনো ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে, তাদের সম্পর্ক স্থগিত করতে বা ইসরায়েলি বিমানের জন্য তাদের আকাশসীমা বন্ধ করতে বলা হয়নি। এমনকি সবচেয়ে ন্যূনতম রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক পদক্ষেপও নেওয়া হয়নি। বিশাল সম্পদ, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহের এক-চতুর্থাংশেরও বেশি নিয়ন্ত্রণ এবং ভূ-কৌশলগত গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও আরব রাষ্ট্রগুলো কূটনৈতিকভাবে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণে দ্বিধাগ্রস্ত ছিল।

কিছু নেতা বাস্তব পদক্ষেপের প্রস্তাব করেছিলেন, কিন্তু সেগুলোর কোনোটিই গৃহীত হয়নি। উদাহরণস্বরূপ, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধির পরামর্শ দিয়েছিলেন, স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন যে এটি অতীতে কাজ করেছিল।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ইসরায়েলি সম্প্রসারণবাদ পর্যবেক্ষণ এবং প্রতিরোধ করার জন্য একটি আরব/ইসলামিক টাস্কফোর্স তৈরির ধারণাটি সামনে রেখেছিলেন। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ‘কঠোর, শাস্তিমূলক পদক্ষেপ’ প্রস্তাব করেছিলেন। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ অন্যরা দেশগুলোকে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানিয়েছেন।

কিছু আরব বিশ্লেষকের মতে, উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের অর্থাৎ ওআইসির ‘একটি যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করার’ পরিকল্পনাই সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ হতো। জিসিসি সদস্যদের একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে, যার অধীনে একজন সদস্যের ওপর আক্রমণ সবার ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচিত হবে। তারা যৌথ নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য অনেক পদক্ষেপের পরিকল্পনা করে। এটি একটি কার্যকর যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করে কি না, তা এখনো দেখা যায়নি। তবে, শীর্ষ সম্মেলনের কয়েক দিন পর ঘোষিত পাকিস্তান-সৌদি প্রতিরক্ষা চুক্তির দ্বারা এর তাৎপর্য ম্লান হয়ে গেছে।

কাতারের ওপর ইসরায়েলি হামলার প্রতিক্রিয়া স্পষ্ট। এটি গাজায় যুদ্ধবিরতির সূক্ষ্মতম সম্ভাবনাকেও দূর করে দিয়েছে। হামাসের আলোচক দলের সদস্য, যারা যুদ্ধবিরতির জন্য একটি নতুন মার্কিন প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করতে জড়ো হয়েছিল। ইসরায়েল তাদের লক্ষ্যবস্তু করেছিল, যা তেল আবিবের শান্তি আলোচনায় আগ্রহের অভাব তুলে ধরে।

কাতারের শাসক শেখ তামিম আল থানি শীর্ষ সম্মেলনে যেমন বলেছিলেন, মধ্যস্থতাকারীদের ওপর হামলা প্রমাণ করে যে, ইসরায়েলের ‘শান্তিতে প্রকৃত আগ্রহ নেই’ এবং তারা ‘আলোচনা ব্যর্থ করতে’ চাইছে। যদিও ইসরায়েলি হামলায় হামাসের শীর্ষ নেতাদের হত্যা করা সম্ভব হয়নি, তবুও প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যেখানেই হামাস নেতাদের পাওয়া যাবে, সেখানে আরও হামলার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

তেল আবিব সফরের পর দোহা যাওয়ার পথে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ওয়াশিংটন চায় কাতার মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করে যাক কিন্তু যুদ্ধবিরতির জন্য সময় ফুরিয়ে আসছে। বিদ্রূপাত্মক বিষয় হলো, দোহায় হামলা বা হামলার নিন্দা করা থেকে ইসরায়েলকে থামাতে যুক্তরাষ্ট্র কিছুই করেনি। গাজা যুদ্ধবিরতির জন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্রই একমাত্র বাধা, যারা যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব ঠেকাতে ভেটো ব্যবহার করেছে। গত সপ্তাহে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এটি ছিল ষষ্ঠ ভেটো, যদিও কাউন্সিলের অন্য সব সদস্য শান্তির পক্ষে ভোট দিয়েছেন।

প্রকৃতপক্ষে, দোহায় ইসরায়েলি হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের কারণে মার্কিন বিশ্বাসযোগ্যতা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদি তাদের নিকটতম মিত্র এ অঞ্চলে বৃহত্তম আমেরিকান সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকারী এবং ট্রাম্প যার সঙ্গে বিশেষ সম্পর্ক দাবি করেন এমন অন্য কোনো রাষ্ট্রকে আক্রমণ করতে পারে, তবে এটি এ অঞ্চলে নিরাপত্তা প্রদানকারী হিসেবে মার্কিন ভূমিকার প্রতি আস্থা জাগায় না। যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে আটকাতে অক্ষম বা অনিচ্ছুক প্রমাণিত হওয়ায় মার্কিন প্রতিরক্ষা ছাতার ওপর নির্ভরশীল রাষ্ট্রগুলো এরই মধ্যে নিরাপত্তা অংশীদারত্বের মূল্য বা নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

কাতারের জন্য শিক্ষাটিও স্পষ্ট। ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি এবং তাকে একটি বোয়িং উপহার দিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করা তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে না। তোষামোদ কোনো নিরাপত্তা গ্যারান্টার নয়।

পাকিস্তান এবং সৌদি আরবের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিকে এমন প্রেক্ষাপটে বিবেচনা করতে হবে। এ চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে একটি মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার সময় এনেছে। কাতারে ইসরায়েলি হামলার কয়েক মাস আগে নিরাপত্তা চুক্তির জন্য আলোচনা হয়েছিল। পাকিস্তান-সৌদি আরব প্রতিরক্ষা চুক্তি তাই ভূরাজনৈতিক গতিশীলতা এবং জোট পরিবর্তনের আরেকটি লক্ষ্য। কিন্তু চুক্তির বিষয় ঘোষণার সময় ইঙ্গিত দেওয়া হয় যে, উপসাগরীয় দেশটির ওপর আক্রমণ এবং এ অঞ্চলে ইসরায়েলের অনিয়ন্ত্রিত আগ্রাসন চুক্তি স্বাক্ষরকে ত্বরান্বিত করেছে, রিয়াদ তার নিরাপত্তা অংশীদারত্বকে বৈচিত্র্যময় করতে চাইছে এবং পাকিস্তান তার বিকল্পগুলো প্রসারিত করছে। ঐতিহাসিক চুক্তির অধীনে উভয় দেশই একটির ওপর আক্রমণকে ‘উভয়ের বিরুদ্ধে আগ্রাসন’ হিসেবে বিবেচনা করবে।

যদিও চুক্তির সুদূরপ্রসারী প্রভাব মূল্যায়ন একটি পৃথক বিষয়, তথাপি উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, এই চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোর ক্ষয়িষ্ণু আস্থার প্রতিফলন, যা অপ্রত্যাশিত ছিল। ইসরায়েলের প্রতি অন্ধ সমর্থন তাদের নিরাপত্তা হুমকিকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

অতএব, সৌদিরা একটি কৌশল অনুসরণ করছে এবং ‘যে কোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যৌথ প্রতিরোধের’ জন্য পাকিস্তানের দিকে ঝুঁকছে। এটি ভূ-কৌশলগত গতিশীলতা ও পরিবর্তনশীল জোটের আরেকটি ইঙ্গিত, যা আজ আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক দৃশ্যপটকে মৌলিকভাবে পুনর্গঠিত করছে।

লেখক: পাকিস্তানি কূটনীতিক, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী এবং জাতিসংঘে পাকিস্তানের সাবেক প্রতিনিধি। লেখাটি পাকিস্তানের ইংরেজি সংবাদপত্র দ্য ডন-এর মতামত বিভাগ থেকে ভাষান্তর করেছেন মেজর (অব.) নাসির উদ্দিন আহাম্মেদ, পিএইচডি

ফরিদপুরে প্রথম বাণিজ্যিকভাবে আনারস চাষ, বদলে যেতে পারে কৃষির চিত্র

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর ও আবু নাসের হোসাইন, সালথা:
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ৭:৩২ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে প্রথম বাণিজ্যিকভাবে আনারস চাষ, বদলে যেতে পারে কৃষির চিত্র

কৃষিপ্রধান জেলা ফরিদপুরে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছেন এক তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা। প্রচলিত ধান, পাট, গম কিংবা সবজি চাষের গণ্ডি পেরিয়ে এবার প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে আনারস চাষ শুরু হয়েছে ফরিদপুরের সালথা উপজেলায়। উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের যদুনন্দী গ্রামের কৃষি উদ্যোক্তা মিলন ফকির ৮ বিঘা জমিতে আনারসের বাগান গড়ে তুলে এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছেন।

স্থানীয় কৃষক ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, ফরিদপুর অঞ্চলে এ ধরনের বৃহৎ পরিসরের আনারস চাষ আগে দেখা যায়নি। ফলে মিলন ফকিরের এই উদ্যোগ সফল হলে জেলার কৃষি অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি কৃষকদের জন্য বিকল্প ও লাভজনক ফলচাষের পথ উন্মুক্ত হবে।

সরেজমিনে দেখা যায়, যদুনন্দী গ্রামের দুটি পৃথক প্লটে বিস্তীর্ণ জমিজুড়ে সারিবদ্ধভাবে রোপণ করা হয়েছে হাজার হাজার আনারসের চারা। পরিচ্ছন্ন ও সুপরিকল্পিত বাগানজুড়ে চলছে নিয়মিত পরিচর্যা। দূর থেকে দেখলে সবুজের সমারোহে ভরা বাগানটি যে কারও দৃষ্টি কাড়ে। ইতোমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী উপজেলা থেকে কৃষকরা বাগান পরিদর্শনে আসছেন এবং আনারস চাষের খুঁটিনাটি বিষয়ে জানার আগ্রহ প্রকাশ করছেন।

জানা গেছে, মিলন ফকির দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের সবজি ও কৃষিপণ্য চাষের সঙ্গে যুক্ত। নতুন কিছু করার চিন্তা থেকেই দুই বছর আগে তিনি বাড়ির ছাদে পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকটি আনারস গাছ লাগান। আশাতীত ফলন ও সফলতা তাকে বাণিজ্যিকভাবে আনারস চাষে উদ্বুদ্ধ করে। এরপর তিনি পরিকল্পিতভাবে আনারস চাষের জন্য জমি নির্বাচন করেন এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও তথ্য সংগ্রহ শুরু করেন।

চলতি বছরে তিনি টাঙ্গাইলের মধুপুর অঞ্চল থেকে ক্যালেন্ডার ও জলডুগু জাতের প্রায় ৮০ হাজার আনারসের চারা সংগ্রহ করেন। পরবর্তীতে ৮ বিঘা জমিতে এসব চারা রোপণ করা হয়। বর্তমানে বাগানের গাছগুলো সুস্থভাবে বেড়ে উঠছে এবং আগামী বছর থেকে ফলন পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন তিনি।

কৃষি উদ্যোক্তা মিলন ফকির বলেন, “প্রথমে শখের বসে বাড়ির ছাদে কয়েকটি আনারস গাছ লাগিয়েছিলাম। গাছে ভালো ফল আসার পর আমার আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায়। তখন মনে হলো, বাণিজ্যিকভাবে আনারস চাষ করা সম্ভব। সেই চিন্তা থেকেই এবার বড় পরিসরে চাষ শুরু করেছি।”

তিনি আরও বলেন, “চারা সংগ্রহ, জমি প্রস্তুত, সেচ ব্যবস্থা, সার, শ্রমিক ও পরিচর্যাসহ এ পর্যন্ত প্রায় ১৬ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী হলে আগামী বছর ফল সংগ্রহ করা যাবে। তখন প্রায় ৮০ লাখ টাকার আনারস বিক্রি করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।”

মিলন ফকির জানান, শুধু ফল বিক্রিই নয়, ভবিষ্যতে আনারসের উন্নত জাতের চারা উৎপাদন ও বিক্রিরও পরিকল্পনা রয়েছে তার। এতে একদিকে যেমন অতিরিক্ত আয় হবে, অন্যদিকে স্থানীয় কৃষকরাও সহজে মানসম্পন্ন চারা সংগ্রহ করতে পারবেন।

তিনি বলেন, “আমার এই উদ্যোগ সফল হলে এলাকার অনেক কৃষক আনারস চাষে আগ্রহী হবেন। কৃষি বিভাগের সহযোগিতা ও পরামর্শ পেলে আগামীতে আরও বড় পরিসরে আনারসের আবাদ সম্প্রসারণ করবো।”

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সালথা এলাকায় এর আগে কখনো এভাবে বাণিজ্যিক আকারে আনারস চাষ হতে দেখা যায়নি। ফলে বাগানটি নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহও অনেক বেশি।

স্থানীয় কৃষক আব্দুর রহমান বলেন, “আমরা সাধারণত ধান, পাট ও সবজি চাষ করি। আনারস চাষের কথা কখনো ভাবিনি। মিলন ফকিরের বাগান দেখে মনে হচ্ছে এটি লাভজনক হতে পারে। ফলন ভালো হলে আমরাও এ ধরনের ফলচাষে আগ্রহী হবো।”

আরেক কৃষক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “বাগানটি দেখতে খুব সুন্দর। প্রতিদিন অনেক মানুষ দেখতে আসছে। সফল হলে এটি এলাকার কৃষকদের জন্য নতুন দৃষ্টান্ত হবে।”

কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আনারস একটি লাভজনক ফল হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে টাঙ্গাইলের মধুপুর, গাজীপুর, ময়মনসিংহ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে ব্যাপকভাবে আনারসের চাষ হয়। বর্তমানে বাজারে আনারসের চাহিদা বাড়ছে এবং ফলটি পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ। এতে রয়েছে ভিটামিন সি, ম্যাঙ্গানিজ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও হজম সহায়ক উপাদান। ফলে স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের কাছে আনারসের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে।

সালথা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, “সালথা উপজেলায় প্রথমবারের মতো ৮ বিঘা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে আনারস চাষ করা হয়েছে। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক ও আশাব্যঞ্জক উদ্যোগ। কৃষি অফিস থেকে নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে কৃষিতে বহুমুখীকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। লাভজনক ফল ও ফসলের আবাদ বৃদ্ধি পেলে কৃষকদের আয় বাড়বে এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হবে। মিলন ফকিরের এই উদ্যোগ সফল হলে জেলার অন্য কৃষকরাও উৎসাহিত হবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি।”

ফরিদপুরের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) মো. রইচ উদ্দিন বলেন, “ফরিদপুরে বাণিজ্যিকভাবে আনারস চাষের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। আমাদের জেলায় সাধারণত ধান, পাট, গম ও বিভিন্ন সবজি চাষের প্রচলন বেশি থাকলেও কৃষিতে বহুমুখীকরণের লক্ষ্যে নতুন নতুন ফল ও ফসলের আবাদ সম্প্রসারণ অত্যন্ত প্রয়োজন। মিলন ফকিরের মতো উদ্যোক্তারা নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিচ্ছেন।”

তিনি আরও বলেন, “প্রাথমিকভাবে আমরা বাগানের অবস্থা সন্তোষজনক দেখেছি এবং কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। যদি ফলন ও বাজারজাতকরণ সফল হয়, তাহলে ফরিদপুরের অনেক কৃষক আনারস চাষে আগ্রহী হবেন। এতে কৃষকদের আয় বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জেলার কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আমরা আশাবাদী।”

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা মনে করছেন, জলবায়ু ও মাটির উপযোগিতা বিবেচনায় ফরিদপুর অঞ্চলেও আনারস চাষের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। সঠিক পরিচর্যা, বাজার ব্যবস্থাপনা এবং কৃষি বিভাগের সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হতে পারে।

প্রচলিত ফসলের বাইরে গিয়ে নতুন সম্ভাবনার সন্ধানে মিলন ফকিরের এই সাহসী পদক্ষেপ ইতোমধ্যেই কৃষকদের মধ্যে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। তার স্বপ্ন সফল হলে শুধু একজন উদ্যোক্তার আর্থিক উন্নয়নই নয়, বরং ফরিদপুরে আনারস চাষের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে। একই সঙ্গে কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিতে যোগ হবে নতুন সম্ভাবনা, সৃষ্টি হবে কর্মসংস্থান এবং কৃষকদের জন্য উন্মুক্ত হবে আয়ের নতুন দিগন্ত।

কমলা নাকি কলা, রক্তে শর্করার জন্য কোনটি বেশি ভালো?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ৭:১৪ পূর্বাহ্ণ
কমলা নাকি কলা, রক্তে শর্করার জন্য কোনটি বেশি ভালো?

সুস্থ থাকতে ফলের কোনো বিকল্প নেই। তবে যখন প্রশ্ন আসে রক্তে শর্করার বা ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণের, তখন অনেকেই দ্বিধায় পড়ে যান যে কোন ফলটি বেছে নেবেন। বিশেষ করে জনপ্রিয় দুটি ফল কমলা এবং কলার মধ্যে কোনটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বা যারা চিনি নিয়ে সচেতন তাদের জন্য বেশি উপকারী, তা নিয়ে বিতর্ক অনেক দিনের।

যদিও উভয় ফলেই প্রাকৃতিক চিনি থাকে, কিন্তু পুষ্টিগত গঠন এবং গ্লাইসেমিক ইনডেক্সের (জিআই) পার্থক্যের কারণে শরীরের রক্তে শর্করার মাত্রায় এদের প্রভাব ভিন্ন হয়।

আজকের ফিচারে আমরা বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে খুঁজে দেখব, আপনার শরীরের জন্য এই দুটি ফলের মধ্যে কোনটি বেশি নিরাপদ এবং কীভাবে খেলে আপনার শর্করা থাকবে নিয়ন্ত্রণে।

গ্লাইসেমিক ইনডেক্সে কে এগিয়ে?

রক্তে শর্করার ব্যবস্থাপনায় কমলার পাল্লা কিছুটা ভারী বলে মনে করা হয়। কারণ কমলার গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (জিআই) মাত্র ৩৫, যা বেশ কম। অন্যদিকে, একটি পাকা কলার গ্লাইসেমিক ইনডেক্স সাধারণত ৪৮ এর কাছাকাছি থাকে। যেহেতু কমলার জিআই কম, তাই এটি রক্তে শর্করার মাত্রা কলার তুলনায় ধীরে বৃদ্ধি করে।

পুষ্টির তুলনা: একনজরে

একটি মাঝারি আকারের কলা (১১৮ গ্রাম) এবং একটি মাঝারি কমলার (১৩১ গ্রাম) পুষ্টিগুণ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়:

ক্যালরি: কলায় থাকে ১০৫ ক্যালরি, যেখানে কমলায় থাকে মাত্র ৬১.৬ ক্যালরি।

কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা: কলায় শর্করার পরিমাণ ২৬.৯ গ্রাম, অন্যদিকে কমলায় তা ১৫.৫ গ্রাম।

ভিটামিন সি: কমলায় প্রায় ৬৯ দশমিক ৭ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি থাকে (দৈনিক চাহিদার ৭৭%), যা কলার (১০.৩ মিলিগ্রাম) তুলনায় অনেক বেশি। শর্করার পরিমাণ কম এবং ভিটামিন সি-এর আধিক্যের কারণে কমলা রক্তে শর্করার ভারসাম্য রক্ষায় কিছুটা বেশি সুবিধাজনক।

কলার গুণাগুণ: পাকা নাকি আধাপাকা?

কলা খাওয়ার ক্ষেত্রে এর পরিপক্কতা বা কতটা পেকেছে তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কম পাকা বা কিছুটা সবুজ কলায় ‘রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ’ নামক এক ধরণের কার্বোহাইড্রেট থাকে, যা সহজে হজম হয় না এবং রক্তে শর্করার শোষণকে ধীর করে দেয়। গবেষণায় দেখা গেছে, এই ধরণের স্টার্চ ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়াতেও সাহায্য করতে পারে। তবে কলা যত বেশি পাকে, তার জিআই তত বাড়তে থাকে এবং তা দ্রুত রক্তে শর্করা বাড়িয়ে দিতে পারে।

কমলার বিশেষ বৈশিষ্ট্য

কমলায় থাকা সাইট্রাস পেকটিন নামক দ্রবণীয় ফাইবার হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয় এবং খাবারের পর রক্তে শর্করার শোষণ নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। এছাড়া এতে থাকা হেস্পেরিডিন এবং নারিঞ্জিনের মতো ফ্ল্যাভোনয়েডগুলি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে, যা বিপাকীয় স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়।

রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রেখে ফল খাওয়ার কিছু কৌশল

আপনি কলা বা কমলা যা-ই পছন্দ করুন না কেন, রক্তে শর্করার প্রভাব কমাতে নিচের নিয়মগুলো মেনে চলতে পারেন:

১. আস্ত ফল খান, রস নয়: ফলের রস করলে এর প্রয়োজনীয় ফাইবার নষ্ট হয়ে যায়, ফলে তা দ্রুত রক্তে শর্করা বাড়িয়ে দেয়। তাই সব সময় আস্ত ফল খাওয়ার চেষ্টা করুন।

২. প্রোটিন বা স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের সাথে খান: ফলের সাথে কিছু বাদাম, গ্রিক ইয়োগার্ট বা পনির মিশিয়ে খেলে হজম ধীর হয় এবং সুগার স্পাইক বা শর্করার হঠাৎ বৃদ্ধি কমে।

৩. পরিমিত মাত্রা: ফল যত উপকারীই হোক না কেন, পরিমাণে বেশি খেলে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ বেড়ে যায়। তাই সব সময় পরিমিত পরিমাণে খাওয়ার অভ্যাস করুন।

৪. কলা কিনুন কিছুটা কাঁচা: ডায়াবেটিস বা প্রি-ডায়াবেটিস থাকলে খুব বেশি পাকা কলার চেয়ে কিছুটা কম পাকা বা শক্ত কলা বেছে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

শেষকথা

কমলা এবং কলা উভয়ই স্বাস্থ্যকর ডায়েটের অংশ হতে পারে। তবে যাদের রক্তে শর্করার সমস্যা আছে, তাদের জন্য কম শর্করার কারণে কমলা কিছুটা এগিয়ে থাকলেও, নিয়ম মেনে পরিমিত পরিমাণে কলা খাওয়াও সম্পূর্ণ নিরাপদ।

তথ্যসূত্র: ভেরিওয়েল হেলথ

 

ফরিদপুরে সাপের কামড়ে ছটফট করছিল শিশু আব্দুল্লাহ, ফকিরের আশ্বাসেই হারিয়ে গেল প্রাণ

মুস্তাফিজুর রহমান শিমুল, চরভদ্রাসন:
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১০:২৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে সাপের কামড়ে ছটফট করছিল শিশু আব্দুল্লাহ, ফকিরের আশ্বাসেই হারিয়ে গেল প্রাণ

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় বিষাক্ত সাপের কামড়ে সেক আব্দুল্লাহ (৫) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) দুপুর ১২টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত আব্দুল্লাহ উপজেলার গাজিরটেক ইউনিয়নের চর অমরাপুর গ্রামের সেক শাহেদের ছেলে। দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সে ছিল পরিবারের সবার ছোট এবং অত্যন্ত আদরের সন্তান।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল ৯টার দিকে বাড়ির পেছনে খেলাধুলা করছিল আব্দুল্লাহ। এ সময় একটি কংক্রিটের স্ল্যাবের নিচে থাকা বিষাক্ত সাপ তার পায়ে কামড় দেয়। কামড় খাওয়ার পর শিশুটি বাড়িতে এসে মাকে জানায়, তাকে ‘ব্যাঙে কামড় দিয়েছে’। প্রথমে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে না নেওয়ায় পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছে নিয়ে যান, যিনি নিজেকে ঝাড়ফুঁক ও চিকিৎসাজ্ঞানসম্পন্ন বলে পরিচয় দেন।

শিশুটির চাচি আখি আক্তার জানান, স্থানীয় শহীদ ফকির নামে এক ব্যক্তির কাছে নেওয়ার পর তিনি কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বলেন, এটি সাপের কামড় নয়। তার কথায় আশ্বস্ত হয়ে কিছু সময় সেখানে কাটানো হয়। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই আব্দুল্লাহর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটতে শুরু করে।

পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালালেও দুপুরের দিকে শিশুটি মারা যায়।

গাজিরটেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলী শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “প্রথমে শিশুটিকে স্থানীয় এক ফকিরের কাছে নেওয়া হয়েছিল। পরে অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।”

আব্দুল্লাহর অকাল মৃত্যুতে পরিবারজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো চর অমরাপুর গ্রাম। প্রতিবেশীরাও এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।