খুঁজুন
বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ২৬ ফাল্গুন, ১৪৩২

মোসাব্বির হত্যার বিচারের দাবিতে ফরিদপুর মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের বিক্ষোভ

মানিক কুমার দাস, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ১০ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮:৪৫ পিএম
মোসাব্বির হত্যার বিচারের দাবিতে ফরিদপুর মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের বিক্ষোভ

জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মোসাব্বির হত্যার বিচার ও জড়িত খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে ফরিদপুর মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টায় ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জনতা ব্যাংকের মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে ফরিদপুর মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সৈকত হাসানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সদস্য সচিব মাহফুজুর রহমান সবুজ, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শিবলী সাদিক, যুগ্ম আহ্বায়ক মামুন ফরাজী ও নসরুল মাহমুদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা বলেন, আজিজুর রহমান মোসাব্বিরের হত্যাকাণ্ড একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড। একটি চিহ্নিত মহল দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে নির্বাচনকে বানচাল করার উদ্দেশ্যে একের পর এক অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। অবিলম্বে এই হত্যার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত খুনিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না করা হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

সমাবেশ শেষে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি শেষ হয়।

সালথায় সার ডিলার বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন, প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের দৃষ্টি আকর্ষণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ২:০৩ পিএম
সালথায় সার ডিলার বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন, প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের দৃষ্টি আকর্ষণ

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে সংশ্লিষ্ট ডিলারদের লাইসেন্স বাতিল এবং নতুন করে নিয়োগের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন উপজেলার সর্বস্তরের জনগণ। একই সঙ্গে বিষয়টি আমলে নিতে সালথা-নগরকান্দা আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকুর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।

বুধবার (১১ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে সালথা উপজেলা পরিষদের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত সাধারণ মানুষ, কৃষক, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সচেতন নাগরিকরা অংশ নেন। মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের কাছে তাদের দাবিসংবলিত একটি লিখিত স্মারকলিপি প্রদান করেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন- উপজেলা যুবদল নেতা এনায়েত হোসেন, সোনাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আজিজুর রহমান, ছাত্রদল নেতা সাইফুল আলমসহ আরও অনেকে।

বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, সালথা উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগ দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিটি ইউনিয়নে তিনজন করে সার ডিলার থাকার কথা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে তা মানা হয়নি বলে তারা দাবি করেন। এতে করে প্রকৃত কৃষকরা সময়মতো সার পাচ্ছেন না এবং বিভিন্ন ধরনের ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

বক্তারা আরও বলেন, এক পরিবারের একাধিক সদস্যের নামে সার ডিলার লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে, যা সরকারি নীতিমালার পরিপন্থি। এছাড়া কিছু ক্ষেত্রে সার ডিলারশিপ সমন্বয়ের নামে স্থানীয় ইউনিয়নের সাধারণ নাগরিকদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এতে করে সার বিতরণ ব্যবস্থায় অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে এবং কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

মানববন্ধন থেকে চার দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—এক পরিবারের একাধিক সার ডিলার লাইসেন্স বাতিল করা, সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ নীতিমালা-২০২৫ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা, প্রতিটি ইউনিয়নের নাগরিকদের অগ্রাধিকার দিয়ে সার ডিলার নিয়োগ নিশ্চিত করা এবং কৃষকদের সার প্রাপ্তিতে ভোগান্তি দূর করা।

এছাড়া বক্তারা আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত সব সার ডিলার বাতিল করে নতুন করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ডিলার নিয়োগের দাবি জানান।
মানববন্ধনকারীরা দ্রুত এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

চার বছরে একবার ছাপা হয়, তবু দুই লাখ কপি বিক্রি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ৯:৪৬ এএম
চার বছরে একবার ছাপা হয়, তবু দুই লাখ কপি বিক্রি

বিশ্বের একমাত্র চার বছরে একবার প্রকাশিত সংবাদপত্র ফ্রান্সের কিয়স্ক। এটি হলো ব্যঙ্গধর্মী সংবাদপত্র লা বুজি দ্যু সাপার। এই বিশ পৃষ্ঠার ট্যাবলয়েডের বিশেষত্ব হলো—এটি শুধু ২৯ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হয়, অর্থাৎ প্রতি লিপ ইয়ারে একবার।

এর প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৮০ সালে এবং বর্তমানে এটি দ্বাদশ সংখ্যা।

বন্ধুদের একদল যখন মজা করতে চেয়েছিল তখন এই সংবাদপত্রের ধারণা তৈরি হয়। লা বুজি দ্যু সাপারের মুদ্রণ সংখ্যা দুই লাখ কপি। প্রতি কপির দাম চার ইউরো পঁঞ্চান্ন সেন্ট।

সম্পাদক জান দইন্ডি বলেন, প্রথম সংখ্যাটি দুই দিনের মধ্যে বিক্রি হয়ে গেলে নিউজ এজেন্টরা আরও কপি চেয়েছিল। আমরা বলেছিলাম ঠিক আছে, তবে শুধু চার বছরের মধ্যে।

সংবাদপত্রটি এখনও কয়েকজন বন্ধুর মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তারা বার-এ মিলিত হয়ে পানীয়ের পাশে নতুন আইডিয়া নিয়ে আলোচনা করে। দইন্ডি বলেন, আমাদের অনেক মজা হয়, আর যদি পাঠকরা উপভোগ করে, সেটাই বড় কথা।

সংবাদপত্রের ধরন

লা বুজি নিজস্বভাবে রাজনৈতিকভাবে সঠিক নয় এবং একটি নিয়মিত সংবাদপত্রের মতোই সাজানো। এখানে রয়েছে রাজনীতি, ক্রীড়া, আন্তর্জাতিক ঘটনা, শিল্প, ধাঁধা এবং সেলিব্রিটি খবর।

তবে সবই হাস্যকর ব্যঙ্গধর্মী লেখা। এ সংখ্যার প্রধান শিরোনাম সবাই বুদ্ধিমান হবে, একটি প্রতিবেদনের উপর যেখানে বলা হয়েছে কিভাবে পরীক্ষা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক অর্জন এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে অপ্রয়োজনীয় হয়ে যাচ্ছে।

দ্বিতীয় প্রধান গল্পের শিরোনাম পুরুষদের কী জানা দরকার নারীতে রূপান্তর হওয়ার আগে, যেখানে ব্যঙ্গধর্মীভাবে পুরুষদের চ্যালেঞ্জ বর্ণনা করা হয়েছে।

দইন্ডি বলেন, এটি ফরাসি হাস্যরস। অন্য ভাষায় অনুবাদ করা কঠিন। আমরা হাস্যকর হতে চাই, কিন্তু নষ্টুপাতি নয়। ব্যঙ্গ করতে চাই, কিন্তু নিষ্ঠুরতা নয়।

আন্তর্জাতিক ও ক্রীড়া কভারের হাইলাইট

আন্তর্জাতিক পৃষ্ঠায় একটি ছোট লেখা আছে যা ফরাসিদের মনে করিয়ে দেয়—আধুনিক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীদের মধ্যে সবচেয়ে ভুলে যাওয়ার মতো কে ছিলেন লিজ ট্রাস।

ক্রীড়া বিভাগে সম্পাদকরা পরামর্শ দিয়েছেন যে, অলিম্পিক গেমসের প্রথম বাদ পড়া খেলোয়াড়কে উইনস্টন চার্চিল পুরস্কার দেওয়া হোক। সংবাদপত্র অনুযায়ী চার্চিলের আদর্শ ছিল কোনো ক্রীড়া নয়।

এছাড়া একটি ধারাবাহিক গল্পও প্রকাশিত হয়, নাম ড্রাউনিং ইন দ্য পুল, যার পরবর্তী অংশ প্রকাশিত হবে ২০২৮ সালে।

লা বুজি দ্যু সাপারের নাম এসেছে ফরাসির প্রাথমিক কার্টুন চরিত্র লে সাপার কামাম্বের থেকে। তিনি ছিলেন একজন সাধারণ সৈনিক, যাকে উনিশ শতকের নব্বই-এর দশকে সামরিক জীবনের ওপর আঁকা কার্টুনে দেখা যেত।

এই সংবাদপত্র অনলাইনে পাওয়া যায় না এবং কেবল নিউজ এজেন্ট বা সংবাদ কিয়স্কে কেনা যায়।

দইন্ডি বলেন, ‘আমি আশা করি আমরা প্রতি চার বছরে কিছুটা তাজা বাতাসের মতো অনুভূত হতে পারি। আজকাল মানুষদের হাসতে পারার দরকার আছে।’

সূত্র : বিবিসি

মুখের দুর্গন্ধ কেন হয়? জানুন সমাধান

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ৭:৫৫ এএম
মুখের দুর্গন্ধ কেন হয়? জানুন সমাধান

মুখ থেকে দুর্গন্ধ ছড়ালে আত্মবিশ্বাসে বড় ধরনের প্রভাব পড়ে। অনেকেই তখন খোলামেলা কথা বলতে বা বন্ধুদের আড্ডায় অংশ নিতে সংকোচ বোধ করেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, মুখের দুর্গন্ধের অন্যতম প্রধান কারণ হলো অপরিচ্ছন্নতা।

মানুষের মুখে স্বাভাবিকভাবেই অসংখ্য জীবাণু থাকে।

নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় না রাখলে এসব জীবাণু থেকে সংক্রমণ তৈরি হতে পারে এবং সেখান থেকেই দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়। তাই মুখের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে নিয়মিত যত্ন নেওয়া জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, মুখের দুর্গন্ধ থেকে রেহাই পেতে দিনে অন্তত দুইবার দাঁত ব্রাশ করা উচিত। প্রতিবার ব্রাশ করার জন্য অন্তত দুই মিনিট সময় দেওয়া প্রয়োজন।

জীবাণুরোধী টুথপেস্ট ব্যবহার করা ভালো এবং সকালে ও রাতে খাবারের পর দাঁত ব্রাশ করা উচিত। ব্রাশ করার সময় খুব বেশি চাপ দেওয়া ঠিক নয়।

দুপুরে বা অন্য সময়ে খাবার খাওয়ার পর ভালোভাবে কুলকুচি করাও গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজনে জীবাণুরোধী মাউথওয়াশ ব্যবহার করা যেতে পারে।

অনেকেই কর্মস্থলে বা ব্যাগে ছোট একটি মাউথওয়াশের বোতল রাখেন, যা মুখের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে সহায়ক।

দাঁতের ফাঁকে আটকে থাকা খাবার পরিষ্কার করতে ডেন্টাল ফ্লস ব্যবহার করা দরকার। দিনে অন্তত একবার দাঁতের ফাঁক পরিষ্কার করা উচিত। একই সঙ্গে দিনে একবার জিভ পরিষ্কার করাও জরুরি। বর্তমানে অনেক টুথব্রাশেই জিভ পরিষ্কারের আলাদা ব্যবস্থা থাকে।

বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, কোনো টুথব্রাশ তিন মাসের বেশি ব্যবহার করা উচিত নয়। যারা নকল দাঁত ব্যবহার করেন, তাদেরও নিয়মিত তা পরিষ্কার করতে হবে এবং রাতে খুলে রাখা ভালো। দাঁত বা মাড়িতে কোনো সমস্যা দেখা দিলে দন্তচিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। এমনকি কোনো সমস্যা না থাকলেও বছরে অন্তত একবার দাঁত পরীক্ষা করানো উচিত।

দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলেও মুখে দুর্গন্ধ হতে পারে। তাই রোজা বা উপবাসের সময় মুখের পরিচ্ছন্নতার প্রতি বাড়তি নজর দেওয়া দরকার।

খাবারের ধরনও মুখের গন্ধের ওপর প্রভাব ফেলে। পেঁয়াজ, রসুন, মিষ্টিজাতীয় খাবার বা পানীয় বেশি খেলে মুখে দুর্গন্ধ হতে পারে। এসব খাবার কম খাওয়ার পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি, যাতে মুখ শুষ্ক না হয়। কফি, কোমল পানীয় ও অ্যালকোহল মুখ শুষ্ক করে দিতে পারে। এ ক্ষেত্রে চিনিহীন চুইংগাম ব্যবহার কিছুটা সহায়ক হতে পারে।

ধূমপানের কারণেও মুখ থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াতে পারে। ধূমপানের পর লজেন্স বা চুইংগাম খেয়ে গন্ধ ঢাকার চেষ্টা খুব একটা কার্যকর হয় না।

চিকিৎসকদের মতে, কিছু রোগ বা ওষুধের কারণেও মুখ থেকে দুর্গন্ধ হতে পারে। বিশেষ করে ফুসফুস বা শ্বাসনালির সংক্রমণ এ সমস্যার জন্য দায়ী হতে পারে। নিয়মিত যত্ন নেওয়ার পরও যদি মুখের দুর্গন্ধ না কমে বা কফ-কাশির সমস্যা থাকে, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।