সালথায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ : বাড়িঘর ভাংচুর


ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ দিন আগামী ৩১ মার্চ। তবে নির্ধারিত সময়ের আগে আবেদন করলে করদাতারা অতিরিক্ত তিন মাস পর্যন্ত সময় পাবেন বলে জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
রবিবার (২২ মার্চ) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এনবিআরের জনসংযোগ কর্মকর্তা শেখ মো. আল-আমিন।
তিনি জানান, নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই লিখিতভাবে আবেদন করলে সংশ্লিষ্ট কর কমিশনার রিটার্ন দাখিলের জন্য অতিরিক্ত সর্বোচ্চ ৯০ দিন সময় বাড়ানোর অনুমোদন দিতে পারেন।
করদাতারা অনলাইনে এনবিআরের ই-রিটার্ন সিস্টেমে লগইন করে “Time Extension” মেন্যু ব্যবহার করে সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন করতে পারবেন। পরে সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চলের কর কমিশনার অনলাইনে সেই আবেদন অনুমোদন বা নামঞ্জুর করবেন।
এনবিআর জানিয়েছে, সময় বৃদ্ধির আবেদন মঞ্জুর হলে করদাতারা বর্ধিত সময়ের মধ্যে কোনো জরিমানা বা অতিরিক্ত কর ছাড়াই অনলাইনে রিটার্ন জমা দিতে পারবেন।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ করবর্ষে ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ লাখ ব্যক্তি শ্রেণির করদাতা ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধন করেছেন।
এর মধ্যে প্রায় ৪১ লাখ করদাতা ইতোমধ্যে রিটার্ন জমা দিয়েছেন। অর্থাৎ এখনো প্রায় ৯ লাখ করদাতা রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
এই পরিস্থিতি বিবেচনায় শর্তসাপেক্ষে করদাতাদের জন্য আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে এনবিআর।
সূত্র: বাংলানিউজ২৪

পবিত্র ঈদকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন ও স্বস্তিদায়ক করতে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় ঢাকাগামী বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় রোধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছে প্রশাসন।
রবিবার (২২ মার্চ) উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সঙ্গীয় পুলিশ ফোর্সসহ এ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযান চলাকালে ভাঙ্গা উপজেলা থেকে ঢাকাগামী বিভিন্ন বাসে ওঠে যাত্রীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। যাত্রীদের কাছে কোনো অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ আছে কি না তা জানতে চাওয়া হয়। পাশাপাশি বাসের টিকিট যাচাই-বাছাই করা হয়। এ সময় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভাড়া সরকারি নির্ধারিত হারের মধ্যেই রয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া যায়, যা যাত্রীদের মাঝে স্বস্তি এনে দেয়।
এছাড়া বাস কাউন্টারগুলোতেও তদারকি করা হয়। কাউন্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও সুপারভাইজারদের সঙ্গে কথা বলে তাদের কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়, যাতে ঈদের চাপকে পুঁজি করে কোনোভাবেই অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা না হয়। অন্যথায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
অভিযানের অংশ হিসেবে ভাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন ফুয়েল পাম্পও পরিদর্শন করা হয়। পাম্পগুলোতে পেট্রোল, ডিজেল ও অকটেনের মজুত পরিস্থিতি সরেজমিনে যাচাই করা হয়। পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত থাকা সত্ত্বেও যেন কোনো পাম্প অযৌক্তিকভাবে বন্ধ না রাখা হয়, সে বিষয়ে মালিক ও কর্মচারীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এদিকে, ভাঙ্গা গোলচত্বর এলাকায় ‘সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮’ লঙ্ঘনের দায়ে কয়েকজন মোটরসাইকেল আরোহীকে জরিমানা করা হয়। ট্রাফিক নিয়ম অমান্য, কাগজপত্রে ত্রুটি ও নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের কারণে এসব জরিমানা আদায় করা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে অর্থ আদায় করা হয়।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঈদকে ঘিরে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে এবং সড়ক পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। যাত্রীদের স্বার্থ সুরক্ষায় প্রশাসন সর্বদা তৎপর রয়েছে বলেও জানানো হয়।

ফরিদপুরে কোতোয়ালি থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে মাদকদ্রব্যসহ কলিন্স রায় ওরফে রাফসান (৩২) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এসময় তার ভাড়াবাসা থেকে বিপুল পরিমাণ ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আগ্নেয়াস্ত্রের ম্যাগাজিন ও গুলিও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কোতোয়ালি থানার মামলা নং-৫৮, তারিখ ২০ মার্চ ২০২৬ অনুযায়ী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়েরকৃত মামলার আসামি রাফসানকে জিজ্ঞাসাবাদের পর তার দেখানো মতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় ফরিদপুর শহরের টেপাখোলা এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে ৬ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি বোতলে ১০০ মিলিলিটার করে মোট ৬০০ মিলিলিটার ফেন্সিডিল ছিল, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৮ হাজার টাকা।
অভিযানটি পরিচালনা করেন কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জ্যোতির্ময় মল্লিকসহ পুলিশের একটি দল। উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে রাত আনুমানিক ১০টা ৩৫ মিনিটে জব্দ তালিকা প্রস্তুত করে আলামত জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত রাফসান স্বীকার করেন, তিনি দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ফেন্সিডিল সংগ্রহ করে ফরিদপুর শহরের তার বাসায় মজুদ রাখতেন এবং পরে তা খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতাদের কাছে সরবরাহ করতেন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এদিকে, ২১ মার্চ দিবাগত রাত ২টা ৪৫ মিনিটে রাফসানের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে তরিকুল ইসলাম জনি নামে আরেক ব্যক্তির দেখানো মতে একটি ম্যাগাজিন ও তিন রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জনি ও রনি নামে আরও দুইজনকে আসামি করে অস্ত্র আইনে পৃথক একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
রবিবার (২২ মার্চ) বিকালে কোতোয়ালি থানার এসআই হিরামন বিশ্বাস বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, “গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তাকে রিমান্ডে এনে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে এবং পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

আপনার মতামত লিখুন
Array