খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

‘অর্থকষ্টে’ সরকার!

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৫৪ পূর্বাহ্ণ
‘অর্থকষ্টে’ সরকার!

কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আয় নেই। ফলে বাড়ছে ঘাটতির অঙ্ক।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল—আইএমফের ঋণের কিস্তিও সময়মতো পাওয়া যাচ্ছে না শর্ত পূরণে ব্যর্থতায়। সরকারের তহবিলে ‘হাতখুলে’ খরচের টাকা নেই।

 

তাই ধারকর্জই এখন ভরসা। এরই মধ্যে ব্যাংক থেকে রেকর্ড পরিমাণ ঋণ নেওয়া হয়ে গেছে।

উন্নয়ন সহযোগীদের কাছেও চাওয়া হয়েছে সোয়া তিন বিলিয়ন ডলারের ঋণ। এদিকে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম লাগামহীন বাড়তে থাকায় সরকারের পক্ষে বেশি দামে জ্বালানি কিনে কম দামে বিক্রির সুযোগ কমে আসায় বাধ্য হয়ে দেশের বাজারেও দাম বাড়াতে হয়েছে।

এরই মধ্যে আসছে নতুন অর্থবছরের জন্য উচ্চাভিলাষী বাজেটের পরিকল্পনা করা হয়েছে। কিন্তু আয় না থাকলেও ঠিকই সরকারকে খরচ চালিয়ে যেতে হচ্ছে। দেশি-বিদেশি ঋণের সুদও দিতে হচ্ছে কড়ায়গণ্ডায়। তথ্য-উপাত্ত বলছে, সব মিলিয়ে সরকার ‘মধ্যবিত্তের সংসার’ চালানোর মতো এখন অনেকটাই ‘অর্থকষ্টে’ আছে।

 

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড—এনবিআরের চলতি অর্থবছরের আট মাসের তথ্য বলছে, রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৭১ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা। এই সময়ে লক্ষ্যমাত্রা ছিল তিন লাখ ২৫ হাজার ৮০২ কোটি টাকা, কিন্তু আদায় হয়েছে মাত্র দুই লাখ ৫৪ হাজার ৩৩০ কোটি টাকা, অর্থাৎ প্রায় ২২ শতাংশ পিছিয়ে রয়েছে রাজস্ব আয়। বাকি চার মাসে প্রায় তিন লাখ কোটি টাকা আদায়ের প্রয়োজন হলেও বাস্তবতা ভিন্ন। এখন পর্যন্ত কোনো মাসেই ৪০ হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আদায় হয়নি। অথচ লক্ষ্য পূরণে প্রতি মাসে ৭৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি রাজস্ব আদায় করার কথা।

আয়কর, ভ্যাট ও আমদানি শুল্ক—তিনটি প্রধান খাতেই লক্ষ্য পূরণ হয়নি। বিশেষ করে আয়কর খাতে বড় ঘাটতি দেখা গেছে। করদাতাদের বড় অংশ এখনো কর নেটের বাইরে রয়েছে। প্রায় এক কোটি ২৮ লাখ টিআইএন-ধারীর মধ্যে মাত্র ৪৬ লাখ রিটার্ন জমা দিয়েছেন, যা কর ব্যবস্থার দুর্বলতাকেই স্পষ্ট করে। এর বাইরেও কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় আমদানি শুল্ক না পাওয়া, ব্যবসা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের স্লথগতির জন্য ভ্যাট আদায় কম হওয়ার কারণেও এর প্রভাব পড়েছে রাজস্ব আয়ে।

কিন্তু মধ্যবিত্ত পরিবারের মতো সরকারের আয় কমে গেলেও খরচ ঠিকই করতে হচ্ছে। রাষ্ট্রের কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, অবকাঠামো উন্নয়নসহ নানান খাতে কৃচ্ছ্রসাধনের পরও মোটা টাকাই খরচ হয়। যেহেতু রাজস্ব আয় ঠিকমতো হচ্ছে না, তাই সরকার বাধ্য হয়েই ব্যাংকব্যবস্থা থেকে ধার করছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ঘাটতি মেটাতে সরকার ক্রমেই ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। অর্থবছরের ৯ মাসেই ব্যাংকব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণ প্রায় এক লাখ ৯ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা পুরো অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে গেছে। শুধু জানুয়ারি থেকে মার্চ—এই তিন মাসেই নেওয়া হয়েছে প্রায় ৫৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে বেসরকারি খাত ঋণ পাবে না। বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানও হবে না। পরিণামে তা জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার আরো কমিয়ে দেবে।

শুধু সরকার অভ্যন্তরীণ উৎস্য থেকেই ঋণ নিচ্ছে তা নয়; ইআরডি বলছে, বর্তমানে দেশের মোট বিদেশি ঋণের পরিমাণ ২৩ লাখ কোটি টাকার বেশি। এমন অবস্থায়ও নতুন করে প্রায় ৩০০ কোটি ডলারেরও বেশি বিদেশি ঋণ চাওয়া হয়েছে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে।

অথচ আয় না থাকলেও এসব ঋণ সময়মতোই শোধ করতে হচ্ছে সরকারকে। সূত্র জানায়, আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ২৬ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করতে হবে, যা অতীতের তুলনায় অনেক বেশি।

আইএমএফ থেকে সরকার ৪.৭৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ নিলেও এখন সংস্থাটি শর্ত পূরণের ব্যর্থতাকে ইঙ্গিত করে পরবর্তী কিস্তি নিয়ে টালবাহানা করছে। ওয়াশিংটনে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে সংস্থাটি নিশ্চয়তা দেয়নি নতুন কিস্তি ছাড়ের। এর ফলে বাজেট বাস্তবায়নে আরো ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এমন প্রেক্ষাপটে তড়িঘড়ি করে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করা হলো। যদিও সরকার বারবারই বলছে, আপাতত জ্বালানির দাম বাড়াবে না। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। ক্রমাগত বাড়তি দামে জ্বালানি কিনে দাম কম দামে ভোক্তার কাছে বিক্রির কারণে সরকারকে বড় ধরনের লোকসান গুনতে হচ্ছিল। এটিই কমিয়ে আনতে চাপ দিচ্ছিল আইএমএফ। এখন সরকারের যেহেতু বাজেট বাস্তবায়ন ঝুঁকিতে এবং দেশ চালাতে টাকার প্রয়োজন। তাই সাতপাঁচ না ভেবে জ্বালানি তেলের দাম বাড়াতে হয়েছে। এটি কিছুটা হলেও সরকারকে আর্থিকভাবে স্বস্তি দেবে। তবে তা সার্বিকভাবে অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতি উসকে দিতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা, যা পরিণামে সরকারের আরেক মাথাব্যথার কারণ হতে পারে বলে তাঁরা আশঙ্কা করছেন।

এ অবস্থায় সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য সোয়া ৯ লাখ কোটি টাকার বেশি আকারের বাজেট প্রণয়নের পরিকল্পনা করছে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণ, নতুন বেতন-কাঠামো এবং ভর্তুকি ব্যয় বৃদ্ধির কারণে বাজেটের আকার বড় হচ্ছে। তবে রাজস্ব আয় সেই হারে না বাড়ায় বাজেট ঘাটতি জিডিপির প্রায় ৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে, যা অর্থনীতির জন্য উদ্বেগজনক।

ব্যয়ের বড় অংশই এখন ঋণের সুদ ও ভর্তুকিতে চলে যাচ্ছে। চলতি অর্থবছরে সুদ পরিশোধে বরাদ্দ ছিল প্রায় এক লাখ ২২ হাজার কোটি টাকা, যা আগামী বছর আরো বাড়তে পারে। জ্বালানি খাতে ভর্তুকিও বাড়ছে আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ঊর্ধ্বগতির কারণে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে উন্নয়ন ব্যয় বৃদ্ধি, যা সামগ্রিক ব্যয়চাপকে আরো তীব্র করছে।

ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলছেন, এই পরিস্থিতিতে সঠিক নীতি গ্রহণ না করলে দেশ ঋণের ফাঁদে পড়ার ঝুঁকিতে থাকবে। তারা রাজস্ব আয় বাড়ানো, করব্যবস্থার আধুনিকীকরণ, কর ফাঁকি রোধ ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। একই সঙ্গে উন্নয়ন প্রকল্প বাছাইয়ে সতর্কতা এবং ব্যয়ের অগ্রাধিকার নির্ধারণের ওপর জোর দিচ্ছেন।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, সরকার যদি এ রকম ব্যাংক থেকে ঋণ বেশি নেয়, সেটা কিন্তু আলটিমেটলি রাষ্ট্রের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এত যে ঋণ নিচ্ছে, তা পরিশোধ করা নিয়েও দেখা যাবে যে সরকার সংকটে পড়ে গেছে।

এ বিষয়ে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমরা যাতে একটা ঋণ ফাঁদের মধ্যে না পড়ি, এটা মূল টার্গেট হতে হবে এই সরকারের। বোঝলাম যে এখন তাদের জ্বালানিসহ বিভিন্ন কারণে ঋণ নিতে হচ্ছে। বিভিন্ন কিছু সামাল দিতে হচ্ছে। তাদের ইলেকশনে দেওয়া আশ্বাস যেগুলো আছে, সেগুলো বাস্তবায়নে তাদের একটা বাধ্যবাধকতা আছে। কিন্তু আমাদের সবচেয়ে বেশি জোর দিতে হবে সম্পদ আহরণ, রাজস্ব কিভাবে আমরা বৃদ্ধি করতে পারি, সেদিকে।’

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রদান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক চাপে স্বল্পসুদে দীর্ঘমেয়াদি ঋণের চাহিদা বাড়লেও শুধু ঋণ নিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। এ জন্য ব্যালান্স অব পেমেন্টসহ সামষ্টিক অর্থনীতির ওপর কোথায় কী চাপ তৈরি হচ্ছে, তার স্পষ্ট মূল্যায়ন জরুরি। তিনি জানান, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, রপ্তানি আয় কমা ও রেমিট্যান্স ঝুঁকির কারণে চাপ বাড়ছে। একই সঙ্গে রাজস্ব ঘাটতি, ভর্তুকি বৃদ্ধি ও সামাজিক ব্যয়ও বাড়বে। এসব মোকাবেলায় সমন্বিত সংকট ব্যবস্থাপনা, সংস্কার অব্যাহত রাখা এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিত সহায়তা প্রয়োজন।

সৌজন্যে: কালের কণ্ঠ

সালথায় রক্তপাতের পথ ছেড়ে শান্তির পথে, অস্ত্র জমাদানকারীদের ফুল দিল প্রশাসন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর ও সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৯:১৩ অপরাহ্ণ
সালথায় রক্তপাতের পথ ছেড়ে শান্তির পথে, অস্ত্র জমাদানকারীদের ফুল দিল প্রশাসন

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নে শান্তি, সম্প্রীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব-সংঘাত ও সহিংসতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনের প্রত্যয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা স্বেচ্ছায় তাদের কাছে থাকা দেশীয় অস্ত্র প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করেছেন।

বুধবার (১০ জুন) বিকেলে মাঝারদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে দেশীয় অস্ত্র জমা দেন। পরে অস্ত্র হস্তান্তরকারীদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও সংবর্ধনা জানিয়ে মানবিক ও ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করে প্রশাসন।

অনুষ্ঠানে অস্ত্র জমাদানকারীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয় এবং সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় তাদের ইতিবাচক ভূমিকার জন্য ধন্যবাদ জানানো হয়। উপস্থিত বক্তারা বলেন, ভয়ভীতি বা শাস্তির পরিবর্তে সম্মান ও সামাজিক স্বীকৃতির মাধ্যমে মানুষকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল করে তোলা সম্ভব। এই উদ্যোগ সেই বিশ্বাসেরই বাস্তব প্রতিফলন।

সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ফাতেমা ইসলাম।

বিশেষ অতিথি ছিলেন সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন, সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা সার্কেল) মুহম্মদ আল ফাহাদ, পুলিশ পরিদর্শক ইন্দ্রজিৎ মল্লিক এবং সালথা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম।

এছাড়া মাঝারদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আফসার মাতুব্বর, সাবেক চেয়ারম্যান শাহিদুজ্জামান শাহিদ, সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আ. রাজ্জাক মোল্লা, মাঝারদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবি, সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম মাতুব্বর, যুবদল নেতা ইমরান হোসেন, সজিব মাতুব্বরসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাতেমা ইসলাম বলেন, “শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে জনগণের অংশগ্রহণ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যারা স্বেচ্ছায় অস্ত্র জমা দিয়ে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেছেন, তারা সমাজের জন্য ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।”

বক্তারা আরও বলেন, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার সমাজে সহিংসতা, অপরাধ ও অস্থিরতা বাড়ায়। তাই অস্ত্রমুক্ত ও নিরাপদ সমাজ গঠনে প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। স্বেচ্ছায় অস্ত্র জমা দেওয়ার এই উদ্যোগ অন্যদের জন্যও অনুকরণীয় উদাহরণ হয়ে থাকবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শাস্তিমূলক ব্যবস্থার পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক স্বীকৃতি মানুষের আচরণ পরিবর্তনে কার্যকর ভূমিকা রাখে। অস্ত্র জমাদানকারীদের সম্মান জানানোর মাধ্যমে প্রশাসন একটি ইতিবাচক, মানবিক ও দূরদর্শী বার্তা দিয়েছে, যা এলাকায় শান্তির পরিবেশ আরও সুদৃঢ় করবে।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে শান্তি, সম্প্রীতি ও অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করে উপস্থিত সবাই ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনসম্পৃক্ত ও সচেতনতামূলক উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। মাঝারদিয়া ইউনিয়নের এই ব্যতিক্রমী আয়োজন ইতোমধ্যে স্থানীয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এবং সামাজিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি অনুসরণযোগ্য মডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আলফাডাঙ্গায় টিটা বাঁওড়ে ৬৮০ কেজি মাছের পোনা অবমুক্ত, বাড়বে দেশীয় মাছের উৎপাদন

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৭:৪০ অপরাহ্ণ
আলফাডাঙ্গায় টিটা বাঁওড়ে ৬৮০ কেজি মাছের পোনা অবমুক্ত, বাড়বে দেশীয় মাছের উৎপাদন

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার টিটা বাঁওড়ে দেশীয় প্রজাতির মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং প্রাকৃতিক জলাশয়ের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার লক্ষ্যে ৬৮০ কেজি মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে।

বুধবার (১০ জুন) সকাল ১১টার দিকে উপজেলা মৎস্য দপ্তরের আয়োজনে এবং ‘দেশীয় প্রজাতির মাছ ও শামুক সংরক্ষণ ও উন্নয়ন প্রকল্প’-এর অর্থায়নে পাবদা, গুলশা, টেংরা ও শিং জাতের মাছের পোনা টিটা বাঁওড়ে অবমুক্ত করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত নূর মৌসুমি। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাসরিন জাহান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রকল্পের সিনিয়র সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ ফারুক ময়েদুজ্জামান।

এসময় বক্তারা বলেন, দেশীয় প্রজাতির মাছ বাংলাদেশের জলজ জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নানা কারণে এসব মাছের প্রাকৃতিক উৎপাদন কমে যাওয়ায় সরকার বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে দেশীয় মাছ সংরক্ষণ ও উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে। টিটা বাঁওড়ে মাছের পোনা অবমুক্তকরণের ফলে ভবিষ্যতে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং স্থানীয় জেলেরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তরুণ বসু, টগরবন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মিয়া আসাদুজ্জামান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান আব্বাস, জামায়াতে ইসলামী আলফাডাঙ্গা উপজেলা শাখার সেক্রেটারি এস. এম. হাফিজুর রহমান, উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মাওলানা এস. এম. রিদওয়ানুন্নবী, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুল ইসলাম দাউদ, উপজেলা মৎস্য অফিসের সহকারী রিফাত মিয়াসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তরুণ বসু জানান, দেশীয় মাছের প্রজাতি রক্ষা ও প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছের প্রজনন বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিয়মিতভাবে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে জলাশয়ের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের পুষ্টি চাহিদা পূরণেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

ফরিদপুরে পদ্মায় স্পিডবোট থামিয়ে দুঃসাহসিক ডাকাতি, যাত্রীকে কুপিয়ে ইঞ্জিন লুট

মো. মোস্তাফিজুর রহমান শিমুল, চরভদ্রাসন:
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৭:২১ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে পদ্মায় স্পিডবোট থামিয়ে দুঃসাহসিক ডাকাতি, যাত্রীকে কুপিয়ে ইঞ্জিন লুট

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার পদ্মা নদীতে যাত্রীবাহী একটি স্পিডবোটে দুঃসাহসিক ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাতরা এক যাত্রীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করে তার কাছে থাকা নগদ অর্থ, মোবাইল ফোন এবং স্পিডবোটের ইঞ্জিন লুট করে নিয়ে যায়। নদীপথে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এ ঘটনা।

মঙ্গলবার (৯ জুন) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার চর ঝাউকান্দা ইউনিয়নের পদ্মা নদীর বালুরটেক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পর খবর পেয়ে চরভদ্রাসন থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে নদীর মাঝের একটি চরসংলগ্ন এলাকা থেকে ইঞ্জিনবিহীন স্পিডবোট ও এর চালককে উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া চালক সঞ্জিব (২২) সদর ইউনিয়নের খালাশিডাঙ্গী গ্রামের অভিমান্যুর ছেলে।

স্পিডবোট চালক সঞ্জিব জানান, সন্ধ্যার আগে তিনি গোপালপুর ঘাট থেকে যাত্রী নিয়ে দোহার উপজেলার মৈনট ঘাটে যান। পরে একজন যাত্রী নিয়ে ফের গোপালপুর ঘাটের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। কিছুদূর অগ্রসর হওয়ার পর পদ্মার বালুরটেক এলাকায় মাওয়ার দিক থেকে আসা ১০ থেকে ১৫ জন লোক বহনকারী একটি বড় স্পিডবোট তাদের ধাওয়া করে।

পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে তিনি দ্রুত একটি চরে স্পিডবোট ভিড়িয়ে যাত্রীকে রেখে নিজের প্রাণ রক্ষার্থে চরের ভেতরে আশ্রয় নেন। পরে ডাকাতরা স্পিডবোটটি দখলে নিয়ে যাত্রীর ওপর হামলা চালায়।

আহত যাত্রী মো. লিটন (৩৫) জানান, বিদেশ যাওয়ার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ঢাকায় প্রয়োজনীয় কাজ শেষে তিনি বাড়ি ফিরছিলেন। সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় গোপালপুর ঘাট থেকে একটি ফিরতি স্পিডবোটে ওঠেন। কিছুদূর যাওয়ার পর একটি স্পিডবোট তাদের ধাওয়া করে। চালক নেমে যাওয়ার পর ডাকাতরা তাকে ঘিরে ফেলে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে।

তিনি আরও জানান, ডাকাতরা তার কাছে থাকা নগদ ১২ হাজার টাকা, একটি মোবাইল ফোন এবং স্পিডবোটের প্রায় ৪ লাখ টাকা মূল্যের ইঞ্জিন খুলে নিয়ে যায়। হামলায় তার বাম হাতের কনুইয়ের ওপর গুরুতর জখম হয়। পরে ডাকাতদের অনুরোধ করলে তারা তাকে একটি জেলে নৌকায় তুলে দেয়। সেখান থেকে তিনি মৈনট ঘাটে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন এবং দোহার নৌ পুলিশ ফাঁড়িতে আশ্রয় গ্রহণ করেন।

তবে এ ঘটনায় তিনি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করবেন কি না, সে বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নেননি বলে জানান।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চরভদ্রাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, “সন্ধ্যার পর পদ্মা নদীতে ডাকাতির খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। পরে নদীর মাঝের একটি চরসংলগ্ন এলাকা থেকে ইঞ্জিনবিহীন স্পিডবোট ও চালককে উদ্ধার করা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট নৌ পুলিশ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।”

ফরিদপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক নাসিম আহাম্মেদ জানান, খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।