খুঁজুন
বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ২৩ বৈশাখ, ১৪৩৩

রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় বিনিয়োগ স্থবির, ব্যবসায় মন্দা, খাদে অর্থনীতি

গৌতম ঘোষ, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১২:৫৮ অপরাহ্ণ
রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় বিনিয়োগ স্থবির, ব্যবসায় মন্দা, খাদে অর্থনীতি

দেশের অর্থনীতি চাঙ্গা ও বেকারত্ব দূর করতে নতুন বিনিয়োগের বিকল্প নেই। সে কারণে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বিনিয়োগ বাড়াতে জোর দিয়েছে।

সরকারি প্রতিষ্ঠান ঢেলে সাজানোসহ দক্ষ ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীর নিয়ে বিনিয়োগ সামিট করা হয়েছে। কিন্তু আশানুরূপ সাফল্য আসেনি।  

 

কেন সাফল্য এলো না তা নিয়ে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, অর্থায়ন সংকট, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও ব্যাংক ঋণে উচ্চ সুদের হারের জন্য নতুন করে বিনিয়োগে আগ্রহী হচ্ছে না বিনিয়োগকারীরা। ফলে দেশের অর্থনীতি এখন এক বহুমুখী সংকটে, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থায় মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে।

দেশের অর্থনীতি চরম সংকটে থাকার কারণে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে অর্থায়নও ব্যাহত হচ্ছে। অর্থ উপদেষ্টার বক্তবেও তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সোমবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, এখন আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ সামাজিক নিরাপত্তা খাতে অর্থায়ন। সবাই বলছে, স্বাস্থ্য-শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো দরকার। কিন্তু সরকারের কাছে টাকা কোথায়?’

ব্যবসা ও অর্থনীতি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজনৈতিক ও রাজপথের স্থিতিশীলতা আনতে একটা নির্বাচিত সরকারের প্রয়োজন। যতক্ষণ পর্যন্ত একটা নির্বাচিত সরকার না আসছে, ততক্ষণ পর্যন্ত অনিশ্চয়তা বিনিয়োগের বিরুদ্ধে কাজ করবে। একই সঙ্গে আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়াতে হবে। বেসরকারি বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে ব্যাংকের ইন্টারেস্ট হার দ্রুত কমাতে হবে, যাতে বিনিয়োগকারীদের জন্য ব্যাবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ অনুকূল করা যায়। পাশাপাশি সরকার ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে একটা সংযোগ তৈরিসহ সরকারের অগ্রাধিকার খাতে অর্থনীতি ও বিনিয়োগ আনতে হবে।

জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মূলধনী যন্ত্রপাতির আমদানি এলসি ২৫ শতাংশের বেশি কমে গেছে। একই সময়ে বেসরকারি খাতে বার্ষিক ঋণ প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে সাড়ে ৬ শতাংশের নিচে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন। চলতি অর্থবছরে এ খাতে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা আরও কমিয়ে এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এছাড়া দেশের বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি আশঙ্কাজনক হারে কমে ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। চলতি বছরের জুন শেষে এ প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬ দশমিক ৪ শতাংশ, যা ২০০৩ সালের পর সর্বনিম্ন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ পরিসংখ্যান বলছে, বিনিয়োগ স্থবিরতা, রাজনৈতিক অস্থিরতা, উচ্চ সুদহার এবং খেলাপি ঋণের চাপ—এই চারটি প্রধান কারণেই ঋণ প্রবৃদ্ধিতে টানা ধস চলছে। গত বছরের জুলাইয়ে যেখানে প্রবৃদ্ধি ছিল ১০ দশমিক ১৩ শতাংশ, তা কমতে কমতে জুনে এসে দাঁড়ায় ৬ দশমিক ৪ শতাংশে। এর আগে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে একবার প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৮২ শতাংশে নেমেছিল। করোনার কঠিন সময়েও এ হার সাড়ে ৭ শতাংশের নিচে নামেনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুসারে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মূলধনী যন্ত্রপাতির এলসি খোলা হয়েছে মাত্র ১৭৪ কোটি ৫৫ লাখ ডলারের, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ২৫ দশমিক ৪১ শতাংশ কম। একই সময়ে এলসি নিষ্পত্তি হয়েছে ১৯৮ কোটি ৫১ লাখ ডলারের, যা ২৫ দশমিক ৪২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এর আগের বছরেও (২০২৩-২৪) এই খাতে এলসি খোলা কমেছিল ২৩ দশমিক ৪৬ শতাংশ। এছাড়া শিল্পের মধ্যবর্তী পণ্যের এলসি খোলা কমেছে ৬ দশমিক ২৬ শতাংশ এবং নিষ্পত্তি কমেছে ৮ দশমিক ৮৫ শতাংশ। যদিও শিল্পের কাঁচামালের এলসি খোলা সামান্য কমলেও নিষ্পত্তি বেড়েছে ৮ দশমিক ৩৭ শতাংশ।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, দেশের অর্থনৈতিক সূচকগুলোর বেশিরভাগই নিম্নমুখী। বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি তলানিতে, যা নতুন বিনিয়োগের স্থবিরতাকে স্পষ্ট করে। মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিতেও ধস নেমেছে। গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে দেশের ব্যবসা ও বিনিয়োগের পরিবেশে এক ধরনের স্থবিরতা দেখা যাচ্ছে। একদিকে যেমন অনেক শিল্প-কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে, অন্যদিকে সম্ভাবনাময় অনেক নতুন উদ্যোগ অর্থের অভাবে আটকে আছে। ফলে আগামী ছয় মাসে বেসরকারি বিনিয়োগে উল্লেখযোগ্য উন্নতি আশা করছেন না ব্যবসায়ী ও ব্যাংকাররা।

এ বিষয়ে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশিষ্ট ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমাদের বিনিয়োগ চাঙ্গা না হওয়ার নানা করণ রয়েছে। তারমধ্যে ডুয়িং বিজনেস, উচ্চ মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্য। এছাড়া সামগ্রিকভাবে আমরা বিনিয়োগ পরিবেশের বড় কোনো পরিবর্তন করতে পারিনি। ফলে নতুন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা কাজ করছে। যদিও ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের একটা তারিখ ঘোষিত হয়েছে।

তিনি বলেন, যারা বিনিয়োগ করবেন তারা দীর্ঘ ও মধ্য মেয়াদি একটা নিশ্চিত পরিবেশ চাইবেন। সে বিষয়টা বিনিয়োগকারীদের মনে কাজ করছে। তবে সরকার যে বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছেন, ওয়ানস্টপ সার্ভিস, অবকাঠামোগত সমস্যা দূর করার চেষ্টা করছে, এটার ফলে আমার ধারনা বিনিয়োগে কিছুটা চাঞ্চল্য আসবে। সেটা আমরা দেখতে পাচ্ছি ক্যাপিটাল মেশিনারি আমদানিতে কিছুটা ইতিবাচক পরিবর্তন হয়ছে। সেটাকে আমাদের কাজে লাগাতে হবে। বিনিয়োগ না হওযার ফলে আমাদের নতুন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হচ্ছে না। যেটা ছিলো গণঅভ্যুত্থানের বড় দাবি।

অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমাদের অনেক লোকজন আয়ের উৎস কম থাকায় দারিদ্র সীমার নিচে পড়ে যাচ্ছে। শিক্ষিতদের মধ্যে কর্মসংস্থানের সুযোগ কম। তো সব কিছু মিলিয়ে আমাদের বিনিয়োগকে চাঙ্গা করতে হবে। সেখানে যতক্ষণ পর্যন্ত একটা নির্বাচিত সরকার না আসছে, ততক্ষণ পর্যন্ত অনিশ্চয়তা বিনিয়োগের বিরুদ্ধে কাজ করবে।

তিনি বলেন, আমরা যদি মূল্যস্ফীতি কমাতে পারি তাহলে ব্যাংকের ইন্টারেস্ট হার কমাতে পারবো৷ তখন বেসরকারি খাত উৎসাহিত হবে বিনিয়োগে। একই সঙ্গে আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়াতে হবে, যাতে বিনিয়োগকারীদের জন্য ব্যাবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ অনুকূল করা যায়। পাশাপাশি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনতে একটা নির্বাচিত সরকার এসে পরিবেশটাকে স্বস্তির জায়গা নিয়ে যাবে।

বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, বিনিয়োগে মন্দা বাংলাদেশে অনেক দিন ধরে চলছে। এর কারণ হলো আমাদের কাঠামোগত সমস্যা। ব্যবসা বা বিনিয়োগ করতে গেলে হয়রানির শিকার হতে হয়। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে গত এক বছর ধরে রাজপথের অস্থিরতা। ভবিষ্যতে কী হবে! রাজপথের অস্থিরতা ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা দুইটাই মিলে গেছে। সে পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীরা অপেক্ষায় থাকে, আরেকটু দেখি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় কি না। ফলে ব্যবসায়ীরা অনিশ্চিয়তায় রয়েছে। আগামীতে কী হবে রাজনৈতিক পর্যায়ে সেটা পর্যবেক্ষণ করছে ব্যবসায়ী। যদিও বলা হয়েছে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে। সেটা নিয়েও জনমনে সংশয় আছে। তাই অনিশ্চিয়তা যে কেটে গেছে সেটা বলা যাবে না।

তিনি বলেন, সরকার অনেক উদ্যোগ নিয়েছে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে। অর্থনৈতিক অঞ্চল, বিনিয়োগ সামিট, এক ছাতায় সব কিছু নিয়ে আসা বা ওয়ানস্টপ সার্ভিস করার উদ্যোগ তো অনেক দিন ধরেই চলছে। নতুন বিডা সেটাকে বেগবান করেছে। তবে অনিশ্চয়তা না কাটলে কোনো লাভ নেই। একই সঙ্গে জ্বালানি সংকট রয়েছে। সেটার নিশ্চয়তা দেওয়া মুশকিল। এছাড়া ব্যাংকিং খাতে সমস্যা রয়েছে। কিছু কাজ চলছে কিন্তু পরিপূর্ণ পায়নি। মূল কথা হলো, একদিকে আমার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা অন্য দিকে কাঠামোগত সমস্যা আছে। সেগুলোর কিছু কিছু হয়েছে, কিছু কিছু আগামীতে হবে। সবগুলো বিষয় যদি এক সাথে না মেলে তাহলে ফলাফল পাবো না। সংস্কার এগিয়ে গেলেও অনিশ্চয়তা থেকে যাবে।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবীর বলেন, বিনিয়োগে খরার প্রথম কারণ হলো; বর্তমান সরকার যে সংকোচনমূলক মূদ্রানীতি চালু করেছে। সে কারণে অনেক ব্যবসায়ী বিনিয়োগ করছে না। কারণ এই নীতির ফলে উচ্চ সুদের হার। যেটা ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগে বাধা দিচ্ছে। দ্বিতীয়ত হচ্ছে, গণঅভ্যুত্থানের ফলে অনেক ব্যবসায়ী ভয়ে ব্যবসা বন্ধ করে দিয়েছে। এ পর্যন্ত বিজিএমইএ ১৬০টি কারখানা বন্ধ হয়েছে। অনেকে চাপের মুখে আছে। ফলে শিল্পাঞ্চলের পরিবেশ স্থিতিশীল হচ্ছে না।

তিনি বলেন, বিনিয়োগের জন্য সরকার ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে একটা সংযোগ থাকতে হয়। কিন্তু বর্তমান সরকারের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের যোগযোগ কম। সরকারের অগ্রাধিকার খাতগুলোর মধ্যে ব্যবসা বা অর্থনীতি নেই। সংস্কারকে প্রাধান্য দিয়েই কাজ করছে। এজন্য এতো বড় বিনিয়োগ সম্মেলন হলেও বিনিয়োগ আসছে না। কারণ ব্যবসায়ীদের আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। তারপর নির্বাচন নিয়ে আশঙ্কায় আছে যে পরবর্তী সরকারের পদক্ষেপ বা পলিসি কী হবে।

এছড়া ২০২৬ সালে আমরা এলডিসি বা গ্রাজুয়েশন উত্তরণে যাব। সেখানে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ব্যবসায়ীরা এই উত্তরণ তিন বছর পিছিয়ে দিতে বলেছে। কিন্তু সরকার সে কথা শুনছে না। সেটা নিয়ে ব্যবসায়ীরা দ্বিধায় আছে। ফলে সার্বিক বিবেচনায় বিনিয়োগে মন্দা দেখা দিয়েছে।

এজন্য সরকারকে ব্যবসায়ীদের নিয়ে বৈঠক করতে হবে। প্রয়োজনে অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে একটি কমিটি করতে হবে, যারা প্রতি মাসে ব্যবসায়ীদের নিয়ে বসবে। সরকারের অগ্রাধিকার খাতে অর্থনীতি ও বিনিয়োগকে আনতে হবে। বিদেশি বিনিয়োগকে আকৃষ্ট করতে হবে। সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তাহলে ব্যবসায়ীরা উৎসাহিত হবে।

অর্থনীতিবিদ ও ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) সাবেক চেয়ারম্যান ড. আবু আহমেদ বলেন, বিনিয়োগ না হওয়ার অন্যতম কারণ হলো বর্তমান সরকার কতোদিনের সরকার সেটা বিনিয়োগকারীরা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বিনিয়োগ করবে না। সাধারণত বিনিয়োগকারীরা নির্বাচিত সরকারের সাথে কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। বর্তমান সরকার অনেক ক্ষেত্রে ভালো করেছে রিজার্ভ বৃদ্ধি করেছে, ফরেন এক্সচেঞ্জ রেট কমিয়েছে, রপ্তানি বাড়ছে। তবে নতুন বিনিয়োগ হচ্ছে না। কারণ ব্যাংক ঋণের সুদের হার বেশি। যেটা সরকার কমাচ্ছে না। এটা করতে পারলে বিনিয়োগকারীরা উৎসাহিত হবে।

তিনি বলেন, সরকারের আয়ের উৎস হলো রাজস্ব। সেখান থেকে যেটা আয় হয় সেটা বেতন ভাতা দিতেই ব্যয় হয়ে যাচ্ছে। এর বাইরে সরকার দাতা সংস্থা থেকে কিছু পায়। এখন তারাও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে যে নির্বাচনের পর যদি রাজনৈতিক সরকার আসে, তাহলে দীর্ঘ মেয়াদে তারা বিনিয়োগের চিন্তা করবে। ফলে আমরা আশা করছি, রাজনৈতিক সরকার এলে বিনিয়োগ বাড়বে। এজন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে সুদের হার কমাতে হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনতে হবে।

এদিকে ব্যবসায়ীরা বলেছেন, দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন আবার অস্থির হয়ে উঠছে। নির্বাচনের রাজনৈতিক সহিংসতার আশঙ্কায় উৎকণ্ঠায় রয়েছে ব্যবসী ও শিল্পোদ্যোক্তারা। ফলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা না আসা পর্যন্ত উদ্যোক্তারা বিনিয়োগে আস্থা পাচ্ছেন না। প্রস্তুতি নিয়েও অনেকে বিনিয়োগ করছেন না।

এ বিষয়ে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি ও ইফাদ গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান তাসকীন আহমেদ বলেন, দেশে ব্যবসা-বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে হলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত ও দীর্ঘ মেয়াদে পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য একটি স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ অপরিহার্য। যে কোনো বিনিয়োগকারী, দেশি হোক বা বিদেশি- আগে নিরাপদ ও পূর্বানুমেয় পরিবেশ খোঁজ করেন।

তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির স্বার্থে সব মহলের উচিত রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করে একটি সহনশীল ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা। এছাড়া শিল্প-বিনিয়োগের অনেক বাধা এখনো দূর হয়নি। এসব বাধার মধ্যেও অনেক বিনিয়োগকারী বিনিয়োগের প্রস্তুতি নিয়েছেন। অনেকে বিনিয়োগ নিবন্ধনও করেছেন। কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতায় সব স্থবির হয়ে আছে।

তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি ও রাইজিং ফ্যাশনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাহমুদ হাসান খান বলেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা না থাকলে ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তারা বিনিয়োগ করতে আস্থা পান না। দেশি বিনিয়োগকারীরা দেশের পরিস্থিতি ভালোভাবে জানেন। তারা অস্থির রাজনৈতিক পরিবেশে বিনিয়োগে আগ্রহী হন না। দেশি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগে না এলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও আগ্রহী হন না। নিরাপদ পরিবেশ ছাড়া কেউ বিনিয়োগের ঝুঁকি নিতে চান না। তাই বিনিয়োগ বাড়াতে হলে স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ জরুরি।

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক সচিব মো. হাফিজুর রহমান বলেছেন, অনিশ্চিত রাজনৈতিক পরিস্থিতি দীর্ঘদিন বিনিয়োগকারীদের দ্বিধায় ফেলেছিল এবং বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল। তবে নির্বাচন ঘোষণার ফলে সেই অনিশ্চয়তা কিছুটা কেটেছে। বিশ্ব অর্থনীতি চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে—এ সময় দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ধরে রাখা জরুরি। ব্যবসায়ীসমাজ সব সময় চায়, একটি নির্বাচিত সরকার স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও স্থিতিশীলতার মাধ্যমে অর্থনীতিকে এগিয়ে নিক। তাই এফবিসিসিআই মনে করে, এই নির্বাচন শুধু রাজনৈতিক নয়, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারেরও সুযোগ। অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন ব্যবসাবান্ধব পরিবেশকে সুসংহত করবে।

বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বলেন, একটি নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় না আসা পর্যন্ত দেশে বিনিয়োগে স্বস্তি ফিরবে না। অন্তত নির্বাচনের তারিখ জানা থাকলেও উদ্যোক্তাদের জন্য কিছুটা সুবিধা হয়। নির্বাচনের তারিখ জানা না থাকলে অনেক উদ্যোক্তা বিনিয়োগ করবেন না।

উল্লেখ্য, রাজনৈতিক অস্থিরতা, গ্যাস-বিদ্যুতের সংকটসহ বিভিন্ন কারণে দীর্ঘদিন ধরেই দেশে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগে (এফডিআই) মন্দাভাব চলছিল। গত বছরের শেষ ছয় মাসে তা ৭১ শতাংশ কমে যায়। তবে চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে (জানুয়ারি-মার্চ) এফডিআই আসার হার বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে দেশে মোট ১৫৮ কোটি ডলারের এফডিআই আসে। এর মধ্যে ৭১ কোটি ডলার আবার ফেরত নিয়ে গিয়েছেন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা।

সালথায় যে কারণে থামছে না সংঘর্ষ? —কারণ ও প্রতিরোধের উপায়

হারুন-অর-রশীদ
প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ১০:২০ অপরাহ্ণ
সালথায় যে কারণে থামছে না সংঘর্ষ? —কারণ ও প্রতিরোধের উপায়

ফরিদপুরের সালথা উপজেলা মারামারি ও সংঘর্ষ প্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। এখানকার স্থানীয় অশিক্ষিত ও অর্ধশিক্ষিত মোড়ল কিংবা মাতুব্বররা এখানে লিড দিয়ে থাকেন। তারা তাদের দলে লোকজন ভিড়িয়ে আধিপত্য বিস্তার আর ক্ষমতার বলয় বৃদ্ধি করে থাকেন।

এরপর চলে এলাকায় আধিপত্য, দরবার-সালিশ, মামলা-হামলাসহ নানা কাহিনী। এভাবেই বৃদ্ধি পেয়েছে এ উপজেলার কাইজা, সংঘর্ষ আর বাড়ি-ঘর ভাংচুরের ঘটনা। এভাবেই কারো যাচ্ছে প্রাণ, কেউ হচ্ছেন বাড়ি হারা, কেউবা বরণ করছেন পঙ্গুত্ব।

যাহোক, এবার আসি কেন সালথা উপজেলায় মারামারি ও সংঘর্ষ বন্ধ হয় না—

এই উপজেলার মানুষ ধর্মপরায়ণ। তাইতো মাদ্রাসার সংখ্যাও বেশি, যেমন— বাহিরদিয়া মাদ্রাসা, পুরুরা মাদ্রাসা উল্লেখযোগ্য। মসজিদের সংখ্যাও অসংখ্য।

তবুও কেন থামছে না সংঘর্ষ—

‌> আধিপত্য বিস্তারের লড়াই:

মাতুব্বর তার আধিপত্য বিস্তার করতে এবং একক বলয় তৈরি করতে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে সংঘর্ষ করে থাকেন। এরপর ঢাল, সরকি, রামদা, লাঠিসোঁটা আর ইটপাটকেল দিয়ে চলে সংঘর্ষ। এই সংঘর্ষে যদি নিজের পক্ষের কোনো লোকজন না যায় তবে তাকে হুমকি-ধমকি দিয়ে থাকেন মাতুব্বর ও তার অনুসারীরা। এরপরও কাইজা বা সংঘর্ষে না গেলে যিনি কাইজায় না যান তার বাড়িতে হামলা-ভাংচুর করা, এছাড়া তাদের মারধর করা হয়। এ কারণে একজন নিরীহ মানুষ কাইজা বা সংঘর্ষে না যেতে চাইলেও বাধ্য করা হয়।

> জোর করে দলভুক্ত করা:

বিপীরত বা বিরোধী পক্ষের মাতুব্বরের লোকজনকে মারধর ও বাড়ি-ঘর ভাংচুর ও হুমকি-ধমকি দিয়ে নিজের পক্ষে নিয়ে নেন অপেক্ষাকৃত ক্ষমতাসীন মাতুব্বর কিংবা মোড়লরা। অতঃপর দলে ভিড়িয়ে তাদের দিয়েও কাইজা করান। না করলে হুমকি-ধামকি আর ভাংচুর চালায় তাদের বাড়িঘরেও।

> প্রতিবাদের পথ বন্ধ:

কেউ যদি মাতুব্বরের অপকর্ম নিয়ে কথা বলে কিংবা প্রতিবাদ করে তবে তাকে মারধর সহ মিথ্যা মামলায় জড়ান ওই মাতুব্বর ও তার অনুসারীরা। তাই ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করেনা।

> একপাক্ষিক সালিশ ব্যবস্থা:

এলাকায় কোনো ঘটনা ঘটলেই এই অশিক্ষিত ও অর্ধশিক্ষিত মোড়ল সালিশ ডেকে যে রায় দেন সেটাই মানতে হয়! ভয়ে কেউ সঠিক কথা বলতে পারেন না।

> সালিশকে আয়ের উৎস বানানো:

এরপর এই মোড়ল বা মাতুব্বররা এলাকায় যে কোনো ঘটনা মিমাংসার নামে সালিশ বসিয়ে উভয় পক্ষের কাছে থেকে বা যে কোনো এক পক্ষের কাছে থেকে টাকা বা জরিমানা আদায় করেন। অতঃপর সেখানে ভাগ বসানোর অভিযোগ রয়েছে অহঃরহ। কেউ প্রতিবাদ করলে হয়রানির শিকার হন সে ব্যক্তি।

> অসৎ যোগসাজশের অভিযোগ:

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মুষ্টিমেয় কিছু অসৎ কর্মকর্তার সঙ্গে এই মাতুব্বররা যোগসাজশ করে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে বিধায় অনেক নিরীহ মানুষ থানা কিংবা প্রশাসনে অভিযোগ করলে উল্টো নিজেই অপরাধী ও মামলা হামলার শিকার হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তাইতো, ভয়ে কেউ কথা বলতে চায় না।

> শিক্ষিত সমাজের নীরবতা:

এ উপজেলার উচ্চ শিক্ষিত ও ভালো চাকরিজীবী, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিল্পপতি আর ব্যবসায়ীরা এলাকায় থাকেন না। হয়রানি ও সম্মানহানির ভয়ে এ এলাকার মোড়ল কিংবা মাতুব্বরের বিরুদ্ধে কিছু বলেন না। সামাজিক প্রতিরোধও গড়ে তুলতে দেখা যায় না। তারা মনে করেন মাতুব্বরদের কিছু বললে উল্টো তারা নাজেহাল হবেন, পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় থাকবে। তাই অযথা ঝামেলায় জড়াতে চায় না।

এ উপজেলায় সংঘর্ষ ও মারামারি এড়াতে বা প্রতিরোধের উপায়-

> . ‘গ্রাম্য শান্তি কমিটি’ গঠন:

এ উপজেলায় মোড়ল কিংবা মাতুব্বর প্রথা বিলুপ্তি করে এলাকার সুশীল সমাজের লোক— যেমন নিরপেক্ষ স্কুল-কলেজের শিক্ষক, ব্যবসায়ী, মসজিদের ইমাম, চাকরিজীবী ও উচ্চ শিক্ষিত ছেলে-মেয়ে কিংবা নিরপেক্ষ একজন মানুষকে প্রধান করে নিরপেক্ষভাবে গ্রামের যেকোনো বিরোধ কিংবা সমস্যা সমাধান কিংবা পরিচালনা করার জন্য ‘গ্রাম্য শান্তি কমিটি’ নামক একটি কমিটি করে দেওয়া যেতে পারে। তারা গ্রামের যেকোনো বিরোধ মিমাংসা করবেন। না পারলে আইনগত সহায়তা নিবেন বা সুপারিশ করবেন।

> মাদকবিরোধী কমিটি:

প্রতিটি এলাকার গ্রামে গ্রামে মাদক নির্মূল ও প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা যেতে পারে। যারা এলাকার মাদক নির্মূল বা বন্ধে প্রশাসনের সহায়তা নিয়ে কাজ করবে।

> সংঘর্ষ প্রতিরোধ টিম:

এ ছাড়া প্রতিটি গ্রামে সুশীল সমাজের লোকজন দিয়ে কাইজ্যা কিংবা সংঘর্ষ প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা যেতে পারে। যারা সংঘর্ষ বন্ধে ভূমিকা পালন করবেন।

> নিরপেক্ষ আইন প্রয়োগ:

স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনকে নিরপেক্ষ থেকে স্থানীয় মোড়ল কিংবা মাতুব্বর অথবা যারা মারামারিতে উস্কানি দেয় তাকে অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। কোনো পক্ষপাতিত্ব করা যাবেনা।

> প্রশাসন ও জনগণের সমন্বয়:

থানা পুলিশ ও প্রশাসন স্থানীয় প্রতিটি গ্রামে গঠন করা শান্তি কমিটির কিংবা সুশীল সমাজের সঙ্গে সমন্বয় করে আইনশৃঙ্খলা ভালো রাখতে কাজ করতে পারেন।

> জরুরি হেল্পলাইন চালু:

সংঘর্ষ ও কাইজা বন্ধে দ্রুত রেসপন্স করার জন্য থানা কিংবা উপজেলা প্রশাসনে হেল্পলাইন নম্বর চালু করা যেতে পারে। যাতে যেকোনো সহিংসতা বন্ধে দ্রুত রেসপন্স করতে পারে প্রশাসন।

> দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার অভিযান:

প্রশাসনের দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার নিয়মিত অভিযান পরিচালনা অব্যাহত রাখা। যাতে নতুন দেশীয় অস্ত্র তৈরি করতে না পারা ও মানুষের ভয় এবং আতঙ্ক তৈরি হয় কাইজের বিরুদ্ধে।

> সচেতনতামূলক কার্যক্রম:

প্রশাসনের সহযোগিতায় একটি উপজেলায় সংশ্লিষ্ট এমপি, ইউএনও কিংবা ওসিকে প্রধান করে সুশীল সমাজ, চাকরিজীবী, শিক্ষিত ছেলে-মেয়ে, সম্মানি ব্যক্তির দ্বারা কয়েকটি কমিটি গঠন করা যেতে পারে। যে কমিটির কাজ হবে একেকদিন এক একটি স্কুল-কলেজে গিয়ে এভাবে প্রতিটি স্কুল-কলেজে পৌঁছে কাইজা বা সংঘর্ষের কুফল ও খারাপ দিকগুলো বিস্তর আলোচনা করতে পারে শিক্ষার্থীদের মাঝে। যাতে নতুন প্রজন্ম এই কাইজা করতে নিরুৎসাহিত হয়।

> নিয়মিত গণসভার আয়োজন:

থানার ওসি ও ইউনওর অন্তত মাসে এলাকার লোকজন নিয়ে এক একটি ইউনিয়নে গিয়ে কাইজা বন্ধে সভা-সমাবেশ করতে পারেন।

এইভাবেই সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে সালথা উপজেলায় সংঘর্ষ ও সহিংসতা কমিয়ে আনা সম্ভব।

লেখক:

হারুন-অর-রশীদ, বিবিএ (অনার্স), এমবিএ (ব্যবস্থাপনা)।

– ফরিদপুর প্রতিনিধি: বাংলানিউজ২৪ ও দৈনিক আজকালের খবর।

– সিনিয়র সহ-সভাপতি : সালথা প্রেসক্লাব

সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ভাঙ্গার প্রবাসী যুবকের মৃত্যু, ঈদের আগেই নিভে গেল স্বপ্ন

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৭:৫৩ পূর্বাহ্ণ
সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ভাঙ্গার প্রবাসী যুবকের মৃত্যু, ঈদের আগেই নিভে গেল স্বপ্ন

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার শাওন মির্জা নামে এক প্রবাসী যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তিনি ভাঙ্গা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের নওপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং সাবেক পুলিশ সদস্য মরহুম জাহিদ মির্জার একমাত্র ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (০৩ মে) রাতে কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে মোটরসাইকেল চালানোর সময় দুর্ঘটনার শিকার হন শাওন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে তাকে একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকালে তার মৃত্যু হয়।

শাওন মির্জা তিন বোনের মধ্যে একমাত্র ভাই ছিলেন। জীবিকার তাগিদে দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন তিনি। আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে তার দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু সেই প্রত্যাশা অপূর্ণ রেখেই তিনি চিরবিদায় নিলেন।
তার আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবার-পরিজন ও স্বজনদের মাঝে চলছে শোকের মাতম।

এদিকে, নিহতের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন পরিবার ও স্থানীয়রা।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভাঙ্গা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার জহুরুল হক মিঠু।

ভাঙ্গায় দুই অটোরিকশা সংঘর্ষে আহত যুবকের মৃত্যু

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৭:২৫ পূর্বাহ্ণ
ভাঙ্গায় দুই অটোরিকশা সংঘর্ষে আহত যুবকের মৃত্যু

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় দুই অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে গুরুতর আহত শাহ আলম ফকির (৩৫) অবশেষে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

দুর্ঘটনার তিনদিন পর মঙ্গলবার (৫ মে) রাত ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

নিহত শাহ আলম ফকির ভাঙ্গা উপজেলার আজিমনগর ইউনিয়নের আজিমনগর গ্রামের বাসিন্দা এবং মৃত আব্দুর রব ফকিরের ছেলে। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২ মে রাত আনুমানিক ৯টার দিকে বাড়ি ফেরার পথে আজিমনগর বাজার এলাকায় দুইটি অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে অন্তত পাঁচজন যাত্রী আহত হন। আহতদের মধ্যে শাহ আলমের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় প্রথমে তাকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

তিনদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে তিনি না ফেরার দেশে চলে যান। তার মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে আহাজারি, স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ।

এ বিষয়ে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়টি পুলিশ অবগত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।