খুঁজুন
, ,

ইসরায়েলে টানা বেজে চলছে সাইরেন, একের পর এক শোনা যাচ্ছে বিস্ফোরণের শব্দ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৩ জুন, ২০২৫, ৩:৪২ অপরাহ্ণ
ইসরায়েলে টানা বেজে চলছে সাইরেন, একের পর এক শোনা যাচ্ছে বিস্ফোরণের শব্দ

ইসরায়েলে টানা বেজে চলছে সাইরেন। আর একের পর এক শোনা যাচ্ছে বিস্ফোরণের শব্দ। ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে।

এর জেরে সেন্ট্রাল ও দক্ষিণ ইসরায়েলের অনেক এলাকায় বিমান হামলার সতর্কতা হিসেবে সাইরেন বেজে উঠেছে। বিশেষ করে আসদোদ ও লাচিস শহরে এবং পশ্চিম জেরুজালেমের কাছাকাছি কয়েকটি জায়গায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে।

টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, জেরুজালেমে সাইরেন বাজা মাত্রই ইসরায়েলি সংসদ (নেসেট)-এর সদস্যরা দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান।

ইসরায়েল ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে সোমবার (২৩ জুন) সাংবাদিকদের রিপোর্ট করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাই অনেকে পাশের দেশ জর্ডান থেকে খবর সংগ্রহ করছেন। এসব তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ইসরায়েলে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান। এ হামলায় এ পর্যন্ত প্রায় ৪৫০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে তারা। এর মধ্যে অন্তত ৪টি ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত হেনেছে।

সেখানকার মানুষজন জানিয়েছেন, টানা ৩৫ মিনিট ধরে সাইরেনের আওয়াজ শোনা যায় এবং সেই সঙ্গে প্রবল বিস্ফোরণের শব্দ।

তবে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। কারণ, ইসরায়েলের সেনাবাহিনী কোনো ভিডিও বা তথ্য প্রকাশে কড়া নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। তাই বাইরের দুনিয়া সঠিকভাবে জানতে পারছে না আসলে কী ঘটছে।

গত ১০ দিনে ইরানের হামলায় ইসরায়েল বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে সেন্ট্রাল ইসরায়েলে। তবে হাইফার মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরেও বারবার হামলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গতকাল ইরান আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ফাঁকি দিয়ে এক হামলা চালায়। সেই সময় কোনো সাইরেন বাজেনি। পরে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী নিশ্চিত করে যে এটি একটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ছিল—এটি ভুল করে ছোড়া নিজের প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ছিল না।

১৩ জুন ইসরায়েল ইরানে একটি বড় ধরনের হামলা চালায়। এতে দেশটির পরমাণু স্থাপনা, সামরিক ঘাঁটি ও আবাসিক এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। মারা যান ৪০০-র বেশি মানুষ। নিহতদের মধ্যে উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা, পরমাণু বিজ্ঞানী এবং সাধারণ নাগরিকও রয়েছেন।

এই হামলার পর ইরান দ্রুত প্রতিক্রিয়ায় নামে। ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস থ্রি’ নামে এক অভিযানের অধীনে ২৩ জুন পর্যন্ত তারা ইসরায়েলের ওপর ২১ দফা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। পরিস্থিতি এখনো উত্তপ্ত।

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৪৬ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ১১০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও নগদ ৩০ হাজার টাকাসহ বাশার মিয়া ওরফে চোরা বাশার (৫৫) নামে এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে ফরিদপুর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।

বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুর ১২ টার দিকে ভাঙ্গা উপজেলার পূর্ব বাকপুরা গ্রামে ফরিদপুর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি চৌকস দল এ অভিযান পরিচালনা করেন। গ্রেপ্তার বাশার মিয়া পূর্ব বাকপুরা গ্রামের শাহজাহান মিয়ার ছেলে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, অভিযানকালে বাশারের পরিহিত লুঙ্গির সামনের ডান দিকে গোজা একটি টিস্যু ব্যাগের ভেতর থেকে জীপারযুক্ত নীল রঙের পলিপ্যাকেটে রাখা কমলা বর্ণের মেথামফেটামিন (ইয়াবা) ১১০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ইয়াবার মোট ওজন ১১ গ্রাম। এ সময় মাদক বিক্রির ৩০ হাজার টাকা নগদ উদ্ধার করা হয়।

ফরিদপুর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শিরীন আক্তার বলেন, এ ঘটনায় ফরিদপুর জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক বেলায়েত হোসেন বাদী হয়ে বাশার মিয়ার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ (সংশোধিত) অনুযায়ী ভাঙ্গা থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন ও আসামীকে কোর্ট হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের এই কঠোর অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

চরভদ্রাসনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্পেন প্রবাসীর ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ

শিশির খাঁন
প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ৯:১৯ অপরাহ্ণ
চরভদ্রাসনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্পেন প্রবাসীর ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ

লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলায় শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশের লক্ষ্যে চরভদ্রাসন উপজেলার সদর ইউনিয়নে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সামগ্রী বিতরণ করেছে স্পেন প্রবাসী ল স্পেন বিএনপির সহ-সভাপতি আলী ইউনুছ আলী প্রামানিক।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) উপজেলার সদর ইউনিয়নের বিশ্বাস বাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের নিকট ২ সেট জার্সি ও একটি ফুটবল উপহার হিসেবে বিতরন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বিশ্বাস বাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমান বিশ্বাস জানান, এসব ক্রীড়া সরঞ্জাম হাতে পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার সুযোগ বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে, যা তাদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

স্পেন বিএনপির সহ-সভাপতি ইউনুছ আলী প্রামানিক বলেন, অর্থের অভাবে যেন কোনো অসচ্ছল শিক্ষার্থীর পড়াশোনা বিঘ্নিত না হয়, সে ভাবনা থেকেই তিনি ব্যক্তিগতভাবে শিক্ষার্থীদের পাশে দাড়িয়েছি। আগামীতে আরও কয়েকটি বিদ্যালয়ে পর্যায়ক্রমে ক্রিয়া সামগ্রী বিতরণ করা হবে বলে জানান তিনি।

শিক্ষানুরাগী ও সংশ্লিষ্টদের মতে, উপহার হিসেবে পাওয়া এসব সামগ্রী শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রাতিষ্ঠানিক পাঠদানের পাশাপাশি খেলাধুলা ও শিক্ষার প্রতি গভীর আগ্রহ তৈরি করবে।

ফরিদপুরে মাদ্রাসাছাত্র অপহরণ মামলায় যুবকের ৫ বছরের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৫৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে মাদ্রাসাছাত্র অপহরণ মামলায় যুবকের ৫ বছরের কারাদণ্ড

ফরিদপুরের নগরকান্দায় মাদ্রাসাছাত্র অপহরণ মামলায় রুবেল খন্দকার (২০) নামে এক যুবককে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরো তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ মামলার অপর আসামি সোহেল মোল্লাকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (১২ আগস্ট) ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। এ সময় আসামি পলাতক থাকায় তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মামলার এজাহার ও অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, নগরকান্দা থানাধীন একটি মাদ্রাসায় প্রায় ছয় মাস ধরে আবাসিক থেকে পড়াশোনা করছিল ১০ বছর বয়সী মাদ্রাসাছাত্র হেদায়েত উল্লাহ। ২০১৬ সালের ১৪ জানুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মাদ্রাসার সামনের পশ্চিম পাশে জুরদী বাসস্ট্যান্ডে যাওয়ার কথা বলে সহপাঠীদের সঙ্গে মাদ্রাসা থেকে বের হয় সে। এরপর আর মাদ্রাসায় ফিরে আসেনি।

শিশুটিকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও না পেয়ে মাদ্রাসার শিক্ষক ক্বারী মো. ইউনুস আলী তার পরিবারকে বিষয়টি জানান। পরে শিশুটির বাবা মো. কামাল খন্দকার নগরকান্দা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

এজাহারে বলা হয়, শিশুটি নিখোঁজের পরদিন ১৫ জানুয়ারি দুপুরে একটি মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করে তার বাবার কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে শিশুটিকে হত্যা করে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। একই দিন রাতে আবার ফোন করে মুক্তিপণ দাবি করা হয় এবং শিশুটির সঙ্গে কথা বলিয়ে দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় শিশুটির বাবা নগরকান্দা থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে একই মাদ্রাসার ছাত্র রুবেল খন্দকার ও সোহেল মোল্লার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। মামলার নথিতে রুবেলকে পলাতক আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

দীর্ঘ বিচারিক কার্যক্রম শেষে বুধবার আদালত রুবেল খন্দকারকে দোষী সাব্যস্ত করে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাঁকে আরো তিন মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অপর আসামি সোহেল মোল্লাকে খালাস দেওয়া হয়।

রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী বলেন, শিশু অপহরণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত রুবেল খন্দকারকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন।