খুঁজুন
, ,

ফরিদপুরে ভেজাল গুড়ের কারখানায় অভিযান, সাড়ে ৬ হাজার কেজি গুড় ধ্বংস

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৯:৪১ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ভেজাল গুড়ের কারখানায় অভিযান, সাড়ে ৬ হাজার কেজি গুড় ধ্বংস

জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দার (এনএসআই) দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফরিদপুরে একটি ভেজাল গুড়ের কারখানায় যৌথ অভিযান চালিয়েছে প্রশাসন ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। এসময় সাড়ে ৬ হাজার কেজি ভেজাল গুড় এবং কেমিক্যাল জব্দ করে তা জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়। এছাড়া কারখানাটি সিলগালাও করা হয়।

মঙ্গলবার (০২ ডিসেম্বর) দুপুর ১ টা থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত ফরিদপুর সদরের শিবরামপুরের ছোট বটতলা এলাকায় স্বপন কুমার শীল নামের এক ব্যাক্তির ভেজাল গুড়ের কারখানায় এ অভিযান চালানো হয়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন ফরিদপুর জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. আতিকুর রহমান।

অভিযানে ফরিদপুরের নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ মো. আজমুল ফুয়াদ, ফরিদপুরের ভোক্তা অধিকার ও সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক, জেলা নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক এবং বাংলাদেশ আনসারের একটি চৌকস দল অভিযানে সহযোগিতা করেন।

অভিযান সূত্রে জানা যায়, কারখানাটি অত্যন্ত নোংরা, স্যাঁতস্যাঁতে, অপরিষ্কার-অপরিচ্ছন্ন। এছাড়া নির্ধারিত স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ সংরক্ষণ না করেই ভারত থেকে আমদানিকৃত নিম্নমানের টিনজাত চিটাগুড় (যা গো-খাদ্যে ব্যবহৃত হয়) এর সাথে নিষিদ্ধ হাইড্রোজ, ফিটকিরি, ননফুড গ্রেড ক্ষতিকর রঙ ও ফ্লেভার,পঁচা মিষ্টি, মিষ্টির নষ্ট গাদ, ময়দা, সোডা, চিনি ব্যবহার করে খেজুর ও আখের গুড় তৈরী করা হয়। কারখানাটি সাধারণত রাতের অন্ধকারে ভেজাল গুড় উৎপাদন করে বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলসহ ঢাকা ও রাজশাহীর বাজারে সরবরাহ করে থাকে।

কারখানায় মালিক পক্ষের কেউ উপস্থিত না থাকায় সাড়ে ৬ হাজার কেজি ভেজাল গুড় এবং শিল্পে ব্যবহার্য কেমিক্যাল জব্দ ও জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়। এছাড়া কারখানাটি সিলগালা করার পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতে মামলা দায়েরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে ‘ফরিদপুর প্রতিদিন’কে জানিয়েছেন অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া ফরিদপুর জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. আতিকুর রহমান।

ফরিদপুরে নদীভাঙনের গুজবে সড়ক থেকে তোলা ইট ফেরত দিল অভিযুক্তরা

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২৬ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে নদীভাঙনের গুজবে সড়ক থেকে তোলা ইট ফেরত দিল অভিযুক্তরা

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় নদীভাঙনের অজুহাত দিয়ে রাতের আঁধারে গ্রামীণ সড়কের তুলে নেওয়া ইট শেষ পর্যন্ত ফেরত দিতে বাধ্য হয়েছে অভিযুক্তরা। বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ ও উপজেলা প্রশাসনের কঠোর বার্তার পর তুলে নেওয়া ইট স্বস্থানে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

​রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে অভিযুক্ত জামায়াত সমর্থক গোলাম কুদ্দুসের ভাতিজা মাসুদ মোল্যাসহ সংশ্লিষ্টরা ওই সড়কে গিয়ে ইটগুলো পুনরায় বসানোর জন্য ফেরত দিয়ে যান।

​বিষয়টি নিশ্চিত করে বুড়াইচ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাব পান্নু মিয়া বলেন, গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসনের কঠোর নির্দেশে অভিযুক্তরা তুলে নিয়ে যাওয়া ইটগুলো ফেরত দিয়ে গেছে।

​এর আগে গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে বুড়াইচ ইউনিয়নের চর খোলাবাড়িয়া গ্রামের আলহেরা দাখিল মাদ্রাসা সংলগ্ন সড়কের প্রায় ৩০০ মিটার অংশের ইট নদীভাঙনের অজুহাতে তুলে নেওয়া হয়। এতে রাস্তাটিতে খানাখন্দ ও কাদামাটির সৃষ্টি হয়ে চর খোলাবাড়িয়া ও দিগনগর গ্রামের কয়েকশ মানুষের চলাচলা বন্ধ হয়ে পড়ে।

​পরদিন শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। ওই দিনই আলফাডাঙ্গা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রতন কুমার মন্ডল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে অভিযুক্তদের বাড়ি থেকেই তুলে নেওয়া ইট উদ্ধারের সত্যতা মেলে। এসময় পুলিশের পক্ষ থেকে তিন দিনের মধ্যে ইটগুলো আগের জায়গায় ফিরিয়ে দেওয়ার আলটিমেটাম দেওয়া হয়।

​একই দিন ঘটনার প্রতিকার ও বিচার চেয়ে ভুক্তভোগীদের পক্ষে বাবুল শেখ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দেন।

​প্রশাসনের এমন শক্ত অবস্থান ও গণমাধ্যমের তৎপরতায় শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ের আগেই তুলে নেওয়া ইট স্বস্থানে ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হন অভিযুক্তরা।

ফরিদপুরের আলোচিত সেই এমপি প্রার্থী রায়হান জামিলের বিরুদ্ধে মামলা

শিশির খাঁন
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:০৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের আলোচিত সেই এমপি প্রার্থী রায়হান জামিলের বিরুদ্ধে মামলা

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় সড়ক অবরোধ, ভাঙচুর ও নাশকতার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চরভদ্রাসন উপজেলা শাখার সভাপতি ও সমাজসেবক মুফতি রায়হান জামিলকে আসামি করা হয়েছে। তবে তিনি দাবি করছেন ঘটনার দিন সে ঢাকায় অবস্থান করছিলেন ও মামলাটিতে তাকে হায়রানি করার জন্য আসামি করা হয়েছে।

রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রায়হান জামিল তার নিজস্ব ফেসবুক পেজ থেকে এসব কথা উল্লেখ করে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৮ সেপ্টেম্বর সকাল ৬টা ১০ মিনিটের দিকে ভাঙ্গা থানার মানিকদহ ইউনিয়নের পুখুরিয়া ব্রিজ এলাকায় সড়ক অবরোধ ও চলন্ত যানবাহনে ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় মো. কাইয়ুম সিকদার বাদী হয়ে ১৫ সেপ্টেম্বর ভাঙ্গা থানায় মামলা করেন। মামলায় মোট ১৯২ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এজাহারে ভাঙা গাড়ির কাচের অংশ, ইটের খোয়া, পাথরের খোয়া ও বাঁশের লাঠি জব্দের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার ১৯১ নম্বর আসামি হিসেবে মুফতি রায়হান জামিলের নাম রয়েছে। তবে তিনি দাবি করছেন, ঘটনার দিন তিনি ঢাকায় ছিলেন এবং তার অবস্থানের পক্ষে একাধিক প্রমাণ রয়েছে। তিনি বলেন, ‘মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে আমাকে জনসেবা ও অন্যায়ের প্রতিবাদ থেকে বিরত রাখা যাবে না।’

মুফতি রায়হান জামিল আরও দাবি করেন, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে মামলা থেকে তার নাম প্রত্যাহার করা না হলে ফরিদপুর-৪ আসনে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন বড় ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য-প্রমাণ জনসম্মুখে প্রকাশ করতে বাধ্য হবেন। তিনি বলেন, ‘যতই হামলা-মামলা হোক, ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসনের মানুষের পাশে ছিলাম, আছি এবং থাকবো।’

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে ফরিদপুর-৪ আসনে সমাজসেবা ও মানবিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মুফতি রায়হান জামিল ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছেন। গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর ১০ টাকায় ইলিশ মাছ, ৩০ নভেম্বর ১ টাকা কেজি দরে গরুর মাংস এবং ১১ জুলাই ২ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণের মতো ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এছাড়া গভীর রাতে অসহায় মানুষের বাড়ি বাড়ি এক বস্তা চাল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার মানবিক উদ্যোগও সাধারণ মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

সালথায় বিলে নেমে প্রাণ গেল মৃগী রোগীর, ভেসে উঠল বালতি-জুতা

সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২৬ অপরাহ্ণ
সালথায় বিলে নেমে প্রাণ গেল মৃগী রোগীর, ভেসে উঠল বালতি-জুতা

ফরিদপুরের সালথাস উপজেলায় গোসল করতে গিয়ে পানিতে ডুবে মৌসুমি মন্ডল (২৫) নামের দুই সন্তানের এক জননীর মৃত্যু হয়েছে।

​রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের আগুলদিয়া পূর্বপাড়া গ্রামে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

​নিহত মৌসুমি মন্ডল স্থানীয় পাপন সরকারের স্ত্রী ও সদরপুর উপজেলার উজিরখা কান্দি গ্রামের বিভূতি মন্ডলের মেয়ে।

​স্থানীয় সূত্র জানায়, সকালে বাড়ির কাজ শেষ করে পাশের বিলে গোসল করতে যান মৌসুমি। দীর্ঘ সময় পরও তিনি ঘরে না ফেরায় পরিবারের লোকজন তাঁর খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বিলের ধারে তাঁর জুতা এবং পানিতে বালতি ভাসতে দেখা যায়। পরে তল্লাশি চালিয়ে বিলের পানি থেকে মৌসুমির মরদেহ উদ্ধার করেন স্বজনেরা।

​পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মৌসুমি দীর্ঘদিন ধরে মৃগীরোগে ভুগছিলেন। তিনি প্রায়ই হঠাৎ এ রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে যেতেন। শনিবারও পড়ে গিয়ে মুখে আঘাত পেয়েছিলেন তিনি। স্বজনদের ধারণা, বিলে গোসল করার সময় তিনি মৃগীরোগে আক্রান্ত হয়ে পানিতে ডুবে মারা গেছেন।

​বিষয়টি নিশ্চিত করে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবুলুর রহমান খান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

হারুন-অর-রশীদ, ​ফরিদপুর প্রতিনিধি:

ফরিদপুরের সালথাস উপজেলায় গোসল করতে গিয়ে পানিতে ডুবে মৌসুমি মন্ডল (২৫) নামের দুই সন্তানের এক জননীর মৃত্যু হয়েছে।

​রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের আগুলদিয়া পূর্বপাড়া গ্রামে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

​নিহত মৌসুমি মন্ডল স্থানীয় পাপন সরকারের স্ত্রী ও সদরপুর উপজেলার উজিরখা কান্দি গ্রামের বিভূতি মন্ডলের মেয়ে।

​স্থানীয় সূত্র জানায়, সকালে বাড়ির কাজ শেষ করে পাশের বিলে গোসল করতে যান মৌসুমি। দীর্ঘ সময় পরও তিনি ঘরে না ফেরায় পরিবারের লোকজন তাঁর খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বিলের ধারে তাঁর জুতা এবং পানিতে বালতি ভাসতে দেখা যায়। পরে তল্লাশি চালিয়ে বিলের পানি থেকে মৌসুমির মরদেহ উদ্ধার করেন স্বজনেরা।

​পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মৌসুমি দীর্ঘদিন ধরে মৃগীরোগে ভুগছিলেন। তিনি প্রায়ই হঠাৎ এ রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে যেতেন। শনিবারও পড়ে গিয়ে মুখে আঘাত পেয়েছিলেন তিনি। স্বজনদের ধারণা, বিলে গোসল করার সময় তিনি মৃগীরোগে আক্রান্ত হয়ে পানিতে ডুবে মারা গেছেন।

​বিষয়টি নিশ্চিত করে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবুলুর রহমান খান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।