খুঁজুন
বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬, ১১ চৈত্র, ১৪৩২

ভাঙ্গায় বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল চালক নিহত

ভাঙ্গা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ৬ আগস্ট, ২০২৫, ১০:২৭ পিএম
ভাঙ্গায় বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল চালক নিহত

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের এক্সপ্রেসওয়ে মডেল মসজিদে সামনে বাসের ধাক্কায় বিল্লাল খাঁন (৩৫) নামের এক মোটরসাইকেল চালক নিহত হয়েছেন। এসময় আহত হয়েছে আরো ২ আরোহী।

বুধবার (০৬ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতের বাড়ি ভাঙ্গা উপজেলার তুজারপুর ইউনিয়নের জান্দি গ্রামে। সে ওই গ্রামের দেলোয়ার খানেঁর পুত্র ।

আহত হয়েছেন হাফিজুর রহমান (৩২) ও মাহবুব মিয়া (২৫) নামের দুই যুবক।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, দ্রুতগামী স্টার ডিলাক্স নামের একটি পরিবহন পিছন থেকে একটি মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেলটি বাসের সামনে নিচে চলে যায়। এতে ঘটনাস্থলে মোটরসাইকেলের চালক নিহত ও দুই জন গুরুতর আহত হয়। আহত দুই জনকে ভাঙ্গা থেকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মামুন জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা স্টার ডিলাক্স নামের একটি বাস ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে মডেল মসজিদের সামনে পৌঁছালে তিন হোন্ডা আরোহীকে চাঁপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই একজন হোন্ডা চালক ও দুই আরোহী আহত হয়েছেন। আহতদেরকে ভাঙ্গা থেকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাসটি জব্দ করা হয়েছে। বাসের চালক পালিয়ে গেছেন। আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এছাড়া বুধবার সকালে ভাঙ্গা উপজেলার সলিলদিয়া নামক স্থানে ঢাকাগামী একটি অ্যাম্বুলেন্স নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে হাইওয়ে এক্সপ্রেসওয়ে উপর উল্টে যায়। এ সময় অ্যাম্বুলেন্সে থাকা ড্রাইভার সহ তিনজন গুরুতর আহত হয়।

আদালতে ভুয়া তথ্য, বাইরে হামলা—গণপূর্ত কর্মকর্তাদের ঘিরে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ, ২০২৬, ১০:০৭ পিএম
আদালতে ভুয়া তথ্য, বাইরে হামলা—গণপূর্ত কর্মকর্তাদের ঘিরে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

ফরিদপুর ও যশোর জুড়ে আলোচিত একাধিক অভিযোগে গণপূর্ত বিভাগের দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়ম, মিথ্যা তথ্য প্রদান এবং বাদীকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী মো. রকি হাসান এ বিষয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।

অভিযোগে জানা যায়, গণপূর্ত বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আব্দুর রহমান এবং শিরিনা পারভীন আদালতে দায়েরকৃত দুটি মামলায় (পি-৫৭১/২৩ ও পি-৯২৭/২৪) মিথ্যা প্রত্যয়নপত্র দাখিল করেন।

প্রত্যয়নপত্রে উল্লেখ করা হয়, ঘটনার দিন তারা কর্মস্থলে উপস্থিত ছিলেন, যা বাদীর দাবি অনুযায়ী সম্পূর্ণ অসত্য। এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে আদালতকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

রকি হাসান জানান, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ করলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এমনকি সরকারি অভিযোগ নিষ্পত্তি প্ল্যাটফর্ম (GRS)-এ অভিযোগ দিয়েও সন্তোষজনক প্রতিকার পাননি তিনি।

এদিকে, একই বিরোধের জেরে চলতি বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি যশোর শহরে বাদীর ওপর হামলা ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, সাবেক স্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যরা সংঘবদ্ধভাবে রিকশা থামিয়ে রকি হাসান ও তার সঙ্গীদের মারধর করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে প্রায় ৩৫ হাজার টাকা, মোবাইল ফোন এবং এক ভরি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। স্থানীয়দের উপস্থিতিতে কিছু জিনিস ফেরত দেওয়া হলেও টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা।

ঘটনার তদন্তে যশোর সিআইডি প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধভাবে পথরোধ, মারধর, ছিনতাই এবং প্রাণনাশের হুমকির অপরাধে দণ্ডবিধির ৩৪১, ৩২৩, ৩৭৯ ও ৫০৬(২) ধারায় অভিযুক্ত।

বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে এবং সমন জারি হয়েছে। ভুক্তভোগী রকি হাসান সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

এ ঘটনায় প্রশাসনিক ও আইনগত মহলে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।

তবে অভিযোগের ব্যাপারে শিরিনা পারভীন বলেন, রকি হাসানের করা অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। আমাদের হয়রানি করার জন্য তিনি এ অভিযোগ করেছেন।

‘যক্ষ্মা মুক্ত বাংলাদেশ’ গড়ার অঙ্গীকারে ফরিদপুরে বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস পালিত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ, ২০২৬, ৫:১৯ পিএম
‘যক্ষ্মা মুক্ত বাংলাদেশ’ গড়ার অঙ্গীকারে ফরিদপুরে বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস পালিত

ফরিদপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস ২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে। “দেশের নেতৃত্বে ও জনগণের শক্তিতে আমরা যক্ষ্মা নির্মূল করতে পারি”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

দিবসটি উপলক্ষে সকালে ফরিদপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের উদ্যোগে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় সিভিল সার্জন কার্যালয় প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। এতে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সচেতন নাগরিকরা অংশগ্রহণ করেন।

র‍্যালি শেষে কার্যালয় প্রাঙ্গণে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান। সভায় বক্তারা যক্ষ্মা প্রতিরোধ, সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় এবং নিয়মিত চিকিৎসার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

বক্তারা জানান, ১৮৮২ সালের ২৪ মার্চ জার্মান বিজ্ঞানী রবার্ট কখ যক্ষ্মার জীবাণু মাইকোব্যাকটেরিয়াম টিউবারকুলোসিস আবিষ্কার করেন। এ আবিষ্কারের শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে ১৯৮২ সাল থেকে প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। এর মূল লক্ষ্য হচ্ছে যক্ষ্মা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং রোগটি নির্মূলে সবাইকে সম্পৃক্ত করা।

আলোচনা সভায় আরও জানানো হয়, বাংলাদেশে যক্ষ্মা এখনও একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে বিদ্যমান। তবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীনে পরিচালিত জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির মাধ্যমে রোগটি প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। দেশের প্রতিটি সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বিনামূল্যে যক্ষ্মা পরীক্ষা ও ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে।

বক্তারা বলেন, যক্ষ্মা একটি সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য রোগ। তবে রোগটি সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা ও সামাজিক কুসংস্কার দূর না হলে নির্মূল সম্ভব নয়। এজন্য জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।

অনুষ্ঠানে যক্ষ্মা প্রতিরোধে সম্মিলিত উদ্যোগ জোরদার করার আহ্বান জানানো হয় এবং ভবিষ্যতে রোগমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

হোটেলের আড়ালে অনৈতিক বাণিজ্য! ফরিদপুরে চলছে রমরমা দেহব্যবসা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ, ২০২৬, ৩:৩১ পিএম
হোটেলের আড়ালে অনৈতিক বাণিজ্য! ফরিদপুরে চলছে রমরমা দেহব্যবসা

ফরিদপুর শহরের বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে দীর্ঘদিন ধরে দেহব্যবসা চলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, শহরের একাধিক হোটেলে বাইরে থেকে নারী এনে এই অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে, যদিও প্রশাসন এ ধরনের অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শহরের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত কিছু আবাসিক হোটেলে প্রতিদিনই এই ধরনের কার্যক্রম চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রতি গ্রাহকের কাছ থেকে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয় বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। এছাড়া পুরো রাতের জন্য ২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে শহরের হেলিপোর্ট বাজার এলাকার একটি আবাসিক হোটেল, ব্রেইলি ব্রিজ সংলগ্ন কয়েকটি হোটেল এবং হাজী শরীয়তুল্লাহ বাজার এলাকার কয়েকটি হোটেলসহ অন্তত ৮ থেকে ১০টি স্থানে সন্দেহজনক কার্যক্রম লক্ষ্য করা গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, এসব হোটেলের আশপাশে কিছু নারীকে প্রকাশ্যে ক্রেতা ডাকতে দেখা যায়, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।

এ বিষয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহযোগিতায় এই অবৈধ ব্যবসা টিকে আছে। তাদের দাবি, অনেক সময় অভিযানের আগেই সংশ্লিষ্ট হোটেলগুলোকে সতর্ক করে দেওয়া হয়। ফলে অভিযান পরিচালনার সময় কাউকে পাওয়া যায় না, এবং অভিযানের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে, প্রশাসন সেটা অস্বীকার করেছে।

এদিকে, অনুসন্ধানে কিছু রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও সামনে এসেছে। গোয়ালচামট এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে গিয়ে একজন ম্যানেজার নিজেকে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে দাবি করেন এবং একটি ভিজিটিং কার্ড প্রদর্শন করেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্) মো. শামছুল আজম বলেন, “দেহব্যবসার মতো অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে পুলিশ সবসময় কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আমরা নিয়মিতভাবে বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে অভিযান পরিচালনা করছি। কেউ যদি সুনির্দিষ্ট তথ্য দেন, তাহলে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারব। কোনো অসাধু ব্যক্তি প্রশাসনের নাম ব্যবহার করলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অন্যদিকে, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মিন্টু বিশ্বাস বলেন, “প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত—এমন অভিযোগ সত্য নয়। বরং কিছু অসাধু চক্র প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছে। আমরা নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছি এবং যেখানে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে অভিযান চালানো হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, “আইনের বাইরে গিয়ে কোনো ধরনের অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ নেই। কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে যেই হোক না কেন। মাদক ও নারী আর হোটেলে দেহ ব্যবসার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করা হয়েছে।”

সচেতন মহল মনে করছে, অভিযোগগুলোর সঠিক তদন্ত এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। একইসঙ্গে নিয়মিত ও কার্যকর অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে এ ধরনের অনৈতিক কার্যক্রম বন্ধে প্রশাসনকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।