খুঁজুন
বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২১ মাঘ, ১৪৩২

রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় বিনিয়োগ স্থবির, ব্যবসায় মন্দা, খাদে অর্থনীতি

গৌতম ঘোষ, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১২:৫৮ পিএম
রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় বিনিয়োগ স্থবির, ব্যবসায় মন্দা, খাদে অর্থনীতি

দেশের অর্থনীতি চাঙ্গা ও বেকারত্ব দূর করতে নতুন বিনিয়োগের বিকল্প নেই। সে কারণে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বিনিয়োগ বাড়াতে জোর দিয়েছে।

সরকারি প্রতিষ্ঠান ঢেলে সাজানোসহ দক্ষ ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীর নিয়ে বিনিয়োগ সামিট করা হয়েছে। কিন্তু আশানুরূপ সাফল্য আসেনি।  

 

কেন সাফল্য এলো না তা নিয়ে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, অর্থায়ন সংকট, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও ব্যাংক ঋণে উচ্চ সুদের হারের জন্য নতুন করে বিনিয়োগে আগ্রহী হচ্ছে না বিনিয়োগকারীরা। ফলে দেশের অর্থনীতি এখন এক বহুমুখী সংকটে, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থায় মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে।

দেশের অর্থনীতি চরম সংকটে থাকার কারণে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে অর্থায়নও ব্যাহত হচ্ছে। অর্থ উপদেষ্টার বক্তবেও তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সোমবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, এখন আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ সামাজিক নিরাপত্তা খাতে অর্থায়ন। সবাই বলছে, স্বাস্থ্য-শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো দরকার। কিন্তু সরকারের কাছে টাকা কোথায়?’

ব্যবসা ও অর্থনীতি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজনৈতিক ও রাজপথের স্থিতিশীলতা আনতে একটা নির্বাচিত সরকারের প্রয়োজন। যতক্ষণ পর্যন্ত একটা নির্বাচিত সরকার না আসছে, ততক্ষণ পর্যন্ত অনিশ্চয়তা বিনিয়োগের বিরুদ্ধে কাজ করবে। একই সঙ্গে আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়াতে হবে। বেসরকারি বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে ব্যাংকের ইন্টারেস্ট হার দ্রুত কমাতে হবে, যাতে বিনিয়োগকারীদের জন্য ব্যাবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ অনুকূল করা যায়। পাশাপাশি সরকার ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে একটা সংযোগ তৈরিসহ সরকারের অগ্রাধিকার খাতে অর্থনীতি ও বিনিয়োগ আনতে হবে।

জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মূলধনী যন্ত্রপাতির আমদানি এলসি ২৫ শতাংশের বেশি কমে গেছে। একই সময়ে বেসরকারি খাতে বার্ষিক ঋণ প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে সাড়ে ৬ শতাংশের নিচে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন। চলতি অর্থবছরে এ খাতে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা আরও কমিয়ে এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এছাড়া দেশের বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি আশঙ্কাজনক হারে কমে ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। চলতি বছরের জুন শেষে এ প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬ দশমিক ৪ শতাংশ, যা ২০০৩ সালের পর সর্বনিম্ন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ পরিসংখ্যান বলছে, বিনিয়োগ স্থবিরতা, রাজনৈতিক অস্থিরতা, উচ্চ সুদহার এবং খেলাপি ঋণের চাপ—এই চারটি প্রধান কারণেই ঋণ প্রবৃদ্ধিতে টানা ধস চলছে। গত বছরের জুলাইয়ে যেখানে প্রবৃদ্ধি ছিল ১০ দশমিক ১৩ শতাংশ, তা কমতে কমতে জুনে এসে দাঁড়ায় ৬ দশমিক ৪ শতাংশে। এর আগে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে একবার প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৮২ শতাংশে নেমেছিল। করোনার কঠিন সময়েও এ হার সাড়ে ৭ শতাংশের নিচে নামেনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুসারে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মূলধনী যন্ত্রপাতির এলসি খোলা হয়েছে মাত্র ১৭৪ কোটি ৫৫ লাখ ডলারের, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ২৫ দশমিক ৪১ শতাংশ কম। একই সময়ে এলসি নিষ্পত্তি হয়েছে ১৯৮ কোটি ৫১ লাখ ডলারের, যা ২৫ দশমিক ৪২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এর আগের বছরেও (২০২৩-২৪) এই খাতে এলসি খোলা কমেছিল ২৩ দশমিক ৪৬ শতাংশ। এছাড়া শিল্পের মধ্যবর্তী পণ্যের এলসি খোলা কমেছে ৬ দশমিক ২৬ শতাংশ এবং নিষ্পত্তি কমেছে ৮ দশমিক ৮৫ শতাংশ। যদিও শিল্পের কাঁচামালের এলসি খোলা সামান্য কমলেও নিষ্পত্তি বেড়েছে ৮ দশমিক ৩৭ শতাংশ।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, দেশের অর্থনৈতিক সূচকগুলোর বেশিরভাগই নিম্নমুখী। বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি তলানিতে, যা নতুন বিনিয়োগের স্থবিরতাকে স্পষ্ট করে। মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিতেও ধস নেমেছে। গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে দেশের ব্যবসা ও বিনিয়োগের পরিবেশে এক ধরনের স্থবিরতা দেখা যাচ্ছে। একদিকে যেমন অনেক শিল্প-কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে, অন্যদিকে সম্ভাবনাময় অনেক নতুন উদ্যোগ অর্থের অভাবে আটকে আছে। ফলে আগামী ছয় মাসে বেসরকারি বিনিয়োগে উল্লেখযোগ্য উন্নতি আশা করছেন না ব্যবসায়ী ও ব্যাংকাররা।

এ বিষয়ে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশিষ্ট ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমাদের বিনিয়োগ চাঙ্গা না হওয়ার নানা করণ রয়েছে। তারমধ্যে ডুয়িং বিজনেস, উচ্চ মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্য। এছাড়া সামগ্রিকভাবে আমরা বিনিয়োগ পরিবেশের বড় কোনো পরিবর্তন করতে পারিনি। ফলে নতুন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা কাজ করছে। যদিও ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের একটা তারিখ ঘোষিত হয়েছে।

তিনি বলেন, যারা বিনিয়োগ করবেন তারা দীর্ঘ ও মধ্য মেয়াদি একটা নিশ্চিত পরিবেশ চাইবেন। সে বিষয়টা বিনিয়োগকারীদের মনে কাজ করছে। তবে সরকার যে বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছেন, ওয়ানস্টপ সার্ভিস, অবকাঠামোগত সমস্যা দূর করার চেষ্টা করছে, এটার ফলে আমার ধারনা বিনিয়োগে কিছুটা চাঞ্চল্য আসবে। সেটা আমরা দেখতে পাচ্ছি ক্যাপিটাল মেশিনারি আমদানিতে কিছুটা ইতিবাচক পরিবর্তন হয়ছে। সেটাকে আমাদের কাজে লাগাতে হবে। বিনিয়োগ না হওযার ফলে আমাদের নতুন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হচ্ছে না। যেটা ছিলো গণঅভ্যুত্থানের বড় দাবি।

অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমাদের অনেক লোকজন আয়ের উৎস কম থাকায় দারিদ্র সীমার নিচে পড়ে যাচ্ছে। শিক্ষিতদের মধ্যে কর্মসংস্থানের সুযোগ কম। তো সব কিছু মিলিয়ে আমাদের বিনিয়োগকে চাঙ্গা করতে হবে। সেখানে যতক্ষণ পর্যন্ত একটা নির্বাচিত সরকার না আসছে, ততক্ষণ পর্যন্ত অনিশ্চয়তা বিনিয়োগের বিরুদ্ধে কাজ করবে।

তিনি বলেন, আমরা যদি মূল্যস্ফীতি কমাতে পারি তাহলে ব্যাংকের ইন্টারেস্ট হার কমাতে পারবো৷ তখন বেসরকারি খাত উৎসাহিত হবে বিনিয়োগে। একই সঙ্গে আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়াতে হবে, যাতে বিনিয়োগকারীদের জন্য ব্যাবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ অনুকূল করা যায়। পাশাপাশি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনতে একটা নির্বাচিত সরকার এসে পরিবেশটাকে স্বস্তির জায়গা নিয়ে যাবে।

বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, বিনিয়োগে মন্দা বাংলাদেশে অনেক দিন ধরে চলছে। এর কারণ হলো আমাদের কাঠামোগত সমস্যা। ব্যবসা বা বিনিয়োগ করতে গেলে হয়রানির শিকার হতে হয়। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে গত এক বছর ধরে রাজপথের অস্থিরতা। ভবিষ্যতে কী হবে! রাজপথের অস্থিরতা ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা দুইটাই মিলে গেছে। সে পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীরা অপেক্ষায় থাকে, আরেকটু দেখি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় কি না। ফলে ব্যবসায়ীরা অনিশ্চিয়তায় রয়েছে। আগামীতে কী হবে রাজনৈতিক পর্যায়ে সেটা পর্যবেক্ষণ করছে ব্যবসায়ী। যদিও বলা হয়েছে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে। সেটা নিয়েও জনমনে সংশয় আছে। তাই অনিশ্চিয়তা যে কেটে গেছে সেটা বলা যাবে না।

তিনি বলেন, সরকার অনেক উদ্যোগ নিয়েছে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে। অর্থনৈতিক অঞ্চল, বিনিয়োগ সামিট, এক ছাতায় সব কিছু নিয়ে আসা বা ওয়ানস্টপ সার্ভিস করার উদ্যোগ তো অনেক দিন ধরেই চলছে। নতুন বিডা সেটাকে বেগবান করেছে। তবে অনিশ্চয়তা না কাটলে কোনো লাভ নেই। একই সঙ্গে জ্বালানি সংকট রয়েছে। সেটার নিশ্চয়তা দেওয়া মুশকিল। এছাড়া ব্যাংকিং খাতে সমস্যা রয়েছে। কিছু কাজ চলছে কিন্তু পরিপূর্ণ পায়নি। মূল কথা হলো, একদিকে আমার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা অন্য দিকে কাঠামোগত সমস্যা আছে। সেগুলোর কিছু কিছু হয়েছে, কিছু কিছু আগামীতে হবে। সবগুলো বিষয় যদি এক সাথে না মেলে তাহলে ফলাফল পাবো না। সংস্কার এগিয়ে গেলেও অনিশ্চয়তা থেকে যাবে।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবীর বলেন, বিনিয়োগে খরার প্রথম কারণ হলো; বর্তমান সরকার যে সংকোচনমূলক মূদ্রানীতি চালু করেছে। সে কারণে অনেক ব্যবসায়ী বিনিয়োগ করছে না। কারণ এই নীতির ফলে উচ্চ সুদের হার। যেটা ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগে বাধা দিচ্ছে। দ্বিতীয়ত হচ্ছে, গণঅভ্যুত্থানের ফলে অনেক ব্যবসায়ী ভয়ে ব্যবসা বন্ধ করে দিয়েছে। এ পর্যন্ত বিজিএমইএ ১৬০টি কারখানা বন্ধ হয়েছে। অনেকে চাপের মুখে আছে। ফলে শিল্পাঞ্চলের পরিবেশ স্থিতিশীল হচ্ছে না।

তিনি বলেন, বিনিয়োগের জন্য সরকার ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে একটা সংযোগ থাকতে হয়। কিন্তু বর্তমান সরকারের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের যোগযোগ কম। সরকারের অগ্রাধিকার খাতগুলোর মধ্যে ব্যবসা বা অর্থনীতি নেই। সংস্কারকে প্রাধান্য দিয়েই কাজ করছে। এজন্য এতো বড় বিনিয়োগ সম্মেলন হলেও বিনিয়োগ আসছে না। কারণ ব্যবসায়ীদের আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। তারপর নির্বাচন নিয়ে আশঙ্কায় আছে যে পরবর্তী সরকারের পদক্ষেপ বা পলিসি কী হবে।

এছড়া ২০২৬ সালে আমরা এলডিসি বা গ্রাজুয়েশন উত্তরণে যাব। সেখানে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ব্যবসায়ীরা এই উত্তরণ তিন বছর পিছিয়ে দিতে বলেছে। কিন্তু সরকার সে কথা শুনছে না। সেটা নিয়ে ব্যবসায়ীরা দ্বিধায় আছে। ফলে সার্বিক বিবেচনায় বিনিয়োগে মন্দা দেখা দিয়েছে।

এজন্য সরকারকে ব্যবসায়ীদের নিয়ে বৈঠক করতে হবে। প্রয়োজনে অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে একটি কমিটি করতে হবে, যারা প্রতি মাসে ব্যবসায়ীদের নিয়ে বসবে। সরকারের অগ্রাধিকার খাতে অর্থনীতি ও বিনিয়োগকে আনতে হবে। বিদেশি বিনিয়োগকে আকৃষ্ট করতে হবে। সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তাহলে ব্যবসায়ীরা উৎসাহিত হবে।

অর্থনীতিবিদ ও ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) সাবেক চেয়ারম্যান ড. আবু আহমেদ বলেন, বিনিয়োগ না হওয়ার অন্যতম কারণ হলো বর্তমান সরকার কতোদিনের সরকার সেটা বিনিয়োগকারীরা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বিনিয়োগ করবে না। সাধারণত বিনিয়োগকারীরা নির্বাচিত সরকারের সাথে কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। বর্তমান সরকার অনেক ক্ষেত্রে ভালো করেছে রিজার্ভ বৃদ্ধি করেছে, ফরেন এক্সচেঞ্জ রেট কমিয়েছে, রপ্তানি বাড়ছে। তবে নতুন বিনিয়োগ হচ্ছে না। কারণ ব্যাংক ঋণের সুদের হার বেশি। যেটা সরকার কমাচ্ছে না। এটা করতে পারলে বিনিয়োগকারীরা উৎসাহিত হবে।

তিনি বলেন, সরকারের আয়ের উৎস হলো রাজস্ব। সেখান থেকে যেটা আয় হয় সেটা বেতন ভাতা দিতেই ব্যয় হয়ে যাচ্ছে। এর বাইরে সরকার দাতা সংস্থা থেকে কিছু পায়। এখন তারাও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে যে নির্বাচনের পর যদি রাজনৈতিক সরকার আসে, তাহলে দীর্ঘ মেয়াদে তারা বিনিয়োগের চিন্তা করবে। ফলে আমরা আশা করছি, রাজনৈতিক সরকার এলে বিনিয়োগ বাড়বে। এজন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে সুদের হার কমাতে হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনতে হবে।

এদিকে ব্যবসায়ীরা বলেছেন, দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন আবার অস্থির হয়ে উঠছে। নির্বাচনের রাজনৈতিক সহিংসতার আশঙ্কায় উৎকণ্ঠায় রয়েছে ব্যবসী ও শিল্পোদ্যোক্তারা। ফলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা না আসা পর্যন্ত উদ্যোক্তারা বিনিয়োগে আস্থা পাচ্ছেন না। প্রস্তুতি নিয়েও অনেকে বিনিয়োগ করছেন না।

এ বিষয়ে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি ও ইফাদ গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান তাসকীন আহমেদ বলেন, দেশে ব্যবসা-বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে হলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত ও দীর্ঘ মেয়াদে পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য একটি স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ অপরিহার্য। যে কোনো বিনিয়োগকারী, দেশি হোক বা বিদেশি- আগে নিরাপদ ও পূর্বানুমেয় পরিবেশ খোঁজ করেন।

তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির স্বার্থে সব মহলের উচিত রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করে একটি সহনশীল ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা। এছাড়া শিল্প-বিনিয়োগের অনেক বাধা এখনো দূর হয়নি। এসব বাধার মধ্যেও অনেক বিনিয়োগকারী বিনিয়োগের প্রস্তুতি নিয়েছেন। অনেকে বিনিয়োগ নিবন্ধনও করেছেন। কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতায় সব স্থবির হয়ে আছে।

তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি ও রাইজিং ফ্যাশনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাহমুদ হাসান খান বলেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা না থাকলে ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তারা বিনিয়োগ করতে আস্থা পান না। দেশি বিনিয়োগকারীরা দেশের পরিস্থিতি ভালোভাবে জানেন। তারা অস্থির রাজনৈতিক পরিবেশে বিনিয়োগে আগ্রহী হন না। দেশি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগে না এলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও আগ্রহী হন না। নিরাপদ পরিবেশ ছাড়া কেউ বিনিয়োগের ঝুঁকি নিতে চান না। তাই বিনিয়োগ বাড়াতে হলে স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ জরুরি।

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক সচিব মো. হাফিজুর রহমান বলেছেন, অনিশ্চিত রাজনৈতিক পরিস্থিতি দীর্ঘদিন বিনিয়োগকারীদের দ্বিধায় ফেলেছিল এবং বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল। তবে নির্বাচন ঘোষণার ফলে সেই অনিশ্চয়তা কিছুটা কেটেছে। বিশ্ব অর্থনীতি চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে—এ সময় দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ধরে রাখা জরুরি। ব্যবসায়ীসমাজ সব সময় চায়, একটি নির্বাচিত সরকার স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও স্থিতিশীলতার মাধ্যমে অর্থনীতিকে এগিয়ে নিক। তাই এফবিসিসিআই মনে করে, এই নির্বাচন শুধু রাজনৈতিক নয়, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারেরও সুযোগ। অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন ব্যবসাবান্ধব পরিবেশকে সুসংহত করবে।

বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বলেন, একটি নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় না আসা পর্যন্ত দেশে বিনিয়োগে স্বস্তি ফিরবে না। অন্তত নির্বাচনের তারিখ জানা থাকলেও উদ্যোক্তাদের জন্য কিছুটা সুবিধা হয়। নির্বাচনের তারিখ জানা না থাকলে অনেক উদ্যোক্তা বিনিয়োগ করবেন না।

উল্লেখ্য, রাজনৈতিক অস্থিরতা, গ্যাস-বিদ্যুতের সংকটসহ বিভিন্ন কারণে দীর্ঘদিন ধরেই দেশে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগে (এফডিআই) মন্দাভাব চলছিল। গত বছরের শেষ ছয় মাসে তা ৭১ শতাংশ কমে যায়। তবে চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে (জানুয়ারি-মার্চ) এফডিআই আসার হার বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে দেশে মোট ১৫৮ কোটি ডলারের এফডিআই আসে। এর মধ্যে ৭১ কোটি ডলার আবার ফেরত নিয়ে গিয়েছেন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা।

রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু এখন ফরিদপুর: আজ তারেক রহমানের জনসভা, প্রস্তুত বিএনপি

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:৩৬ এএম
রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু এখন ফরিদপুর: আজ তারেক রহমানের জনসভা, প্রস্তুত বিএনপি

নির্বাচনী সফরের অংশ হিসেবে আজ বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) ফরিদপুরে আসছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ উপলক্ষে ফরিদপুর শহরজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। জনসভাকে ঘিরে জেলা ও মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মীরা ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, এই প্রথম ফরিদপুর সফরে আসছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দুপুরে তাকে বহনকারী হেলিকপ্টার ফরিদপুর স্টেডিয়ামে অবতরণ করবে। সেখান থেকে একটি সুসজ্জিত গাড়িবহর নিয়ে তিনি সরাসরি শহরের রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভাস্থলে যাবেন। আজ দুপুর ২টায় শুরু হতে যাওয়া এ জনসভায় বক্তব্য রাখবেন তিনি।

বিভাগীয় এ জনসভাকে কেন্দ্র করে রাজেন্দ্র কলেজ মাঠ ও আশপাশের এলাকায় তৈরি করা হয়েছে বিশাল মঞ্চ। মাঠজুড়ে বসানো হয়েছে ব্যানার, ফেস্টুন ও তোরণ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি। বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, ফরিদপুরসহ বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলা—ফরিদপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর থেকে নেতা–কর্মী ও সমর্থকদের ঢল নামবে এই জনসভায়। এতে লাখো মানুষের সমাগম হবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।

ফরিদপুর জেলা যুবদলের সভাপতি মো. রাজিব হোসেন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন,“তারেক রহমানের ফরিদপুর আগমন আমাদের জন্য ঐতিহাসিক ও প্রেরণাদায়ক একটি ঘটনা। তরুণ প্রজন্মের মাঝে বিএনপির রাজনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে এই জনসভা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। যুবদলসহ বিএনপির সব অঙ্গসংগঠনের নেতা–কর্মীরা দিনরাত পরিশ্রম করে জনসভা সফল করার জন্য কাজ করছে। আমরা আশা করছি, আজকের জনসভা ফরিদপুরের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, “এই জনসভা থেকে তারেক রহমান দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং জনগণের অধিকার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেবেন। তরুণ সমাজ তার বক্তব্য থেকে নতুন অনুপ্রেরণা পাবে।”

ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ কে এম কিবরিয়া স্বপন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি আজ নতুন উদ্যমে সংগঠিত হচ্ছে। ফরিদপুরের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে তারেক রহমানকে সরাসরি দেখার অপেক্ষায় ছিল। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটছে আজ। আমরা বিশ্বাস করি, এই জনসভা থেকে জনগণ গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও একটি জবাবদিহিমূলক সরকারের পক্ষে আরও ঐক্যবদ্ধ হবে।”

তিনি বলেন, “ফরিদপুর ঐতিহ্যগতভাবে গণতন্ত্রকামী মানুষের এলাকা। আজকের জনসভা প্রমাণ করবে, বিএনপি এখনো জনগণের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক শক্তি। আমরা শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে জনসভা আয়োজনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি।”

উল্লেখ্য, তারেক রহমানের এই সফরকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। জনসভা সফল করতে বিএনপির স্থানীয় ইউনিটগুলো একযোগে কাজ করছে। সব মিলিয়ে আজকের জনসভাকে ঘিরে ফরিদপুরে বিরাজ করছে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা।

‘ইনসাফের কথা’

মামুন সিকদার
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২৩ এএম
‘ইনসাফের কথা’

মোরা ঊষার পথের তরুণের দল
ইনসাফের কথা বলিবো সচল,
এক হাদি’কে গুলিবিদ্ধ করে
ক্ষান্ত করিতে পারিবে না বল।

মোরা শত শত হাদি আছি বাংলা জুড়ে
ক’টা গুলি আছে বল? হায়েনার দল,
মোরা ঊষার পথের তরুণের দল
ইনসাফের কথা বলিবো সচল।

মোরা থামবো না, মোরা থামবো না
ইনসাফের পথে করিবো সংগ্রাম,
বাংলা জুড়ে যারা করে ছল
অপশক্তি বিনাশ করিবো, আমরা আছি যারা।

তবু থামবো না, তবু থামবো না
আসুক যত ঝড় ও তুফান,
মোরা ঊষার পথের তরুণের দল
ইনসাফের কথা বলিবো সচল।

হেপাটাইটিস বি ভাইরাস সম্পর্কে যা জানা জরুরি: ছড়ায় কীভাবে, লক্ষণ ও প্রতিকার?

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:০১ এএম
হেপাটাইটিস বি ভাইরাস সম্পর্কে যা জানা জরুরি: ছড়ায় কীভাবে, লক্ষণ ও প্রতিকার?

হেপাটাইটিস বি একটি মারাত্মক কিন্তু প্রতিরোধযোগ্য লিভারজনিত ভাইরাস সংক্রমণ। হেপাটাইটিস বি ভাইরাস (HBV) থেকে এ রোগ হয়, যা স্বল্পমেয়াদি (একিউট) কিংবা দীর্ঘস্থায়ী (ক্রনিক) আকার ধারণ করতে পারে। উপসর্গ অনেক সময় দেরিতে প্রকাশ পাওয়ায় একে চিকিৎসা বিজ্ঞানে ‘নীরব ঘাতক’ও বলা হয়। বাংলাদেশে এ রোগের প্রাদুর্ভাব তুলনামূলক বেশি।

চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রায় ২০০ কোটি মানুষ জীবনের কোনো এক সময়ে হেপাটাইটিস বি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এবং প্রায় ৩০ কোটি মানুষ দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণ নিয়ে বসবাস করছেন। প্রতি বছর প্রায় ১০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয় এ রোগের জটিলতায়।

কীভাবে ছড়ায় হেপাটাইটিস বি

হেপাটাইটিস বি ভাইরাস মূলত আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত ও শরীরের অন্যান্য তরলের মাধ্যমে ছড়ায়। যেমন—

সংক্রমিত রক্তের সংস্পর্শ

একই সুচ বা সিরিঞ্জ একাধিকবার ব্যবহার (বিশেষ করে মাদক গ্রহণকারীদের মধ্যে)

অরক্ষিত যৌন সম্পর্ক

প্রসবের সময় মা থেকে শিশুর মধ্যে সংক্রমণ

অনিরাপদ রক্ত সঞ্চালন (বর্তমানে অনেক কম)

ট্যাটু, বডি পিয়ার্সিং বা অনিরাপদ চিকিৎসা ও সার্জিক্যাল যন্ত্র ব্যবহার

টুথব্রাশ, রেজারসহ ব্যক্তিগত সামগ্রী ভাগাভাগি

অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দান

স্বাস্থ্যসেবা কর্মীরাও সংক্রমিত রক্তের সংস্পর্শে এলে ঝুঁকিতে থাকেন।

হেপাটাইটিস বি-এর লক্ষণ

অনেক ক্ষেত্রেই সংক্রমণের পর প্রথম ১–৪ মাস কোনো লক্ষণ বোঝা যায় না। শিশুদের ক্ষেত্রে উপসর্গ একেবারেই নাও থাকতে পারে। তবে সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—

অতিরিক্ত ক্লান্তি ও দুর্বলতা

জ্বর

ক্ষুধামান্দ্য

বমি বমি ভাব বা বমি

পেটে ব্যথা

গাঢ় রঙের প্রস্রাব

সন্ধি বা অস্থিসন্ধিতে ব্যথা

ত্বক ও চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যাওয়া (জন্ডিস)

রোগ গুরুতর হলে লিভার বিকল হলে মৃত্যুঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

কীভাবে রোগ নির্ণয় করা হয়

হেপাটাইটিস বি সনাক্ত করতে চিকিৎসকেরা কয়েকটি পরীক্ষার পরামর্শ দেন—

রক্ত পরীক্ষা (HBsAg, অ্যান্টিবডি)

লিভার ফাংশন টেস্ট

পিসিআর টেস্ট (ভাইরাসের পরিমাণ নির্ণয়)

আল্ট্রাসাউন্ড

প্রয়োজনে লিভার বায়োপসি

দ্রুত রোগ সনাক্ত হলে জটিলতা এড়ানো সম্ভব।

চিকিৎসা কীভাবে হয়

একিউট হেপাটাইটিস বি:

অধিকাংশ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল ওষুধের প্রয়োজন হয় না। বিশ্রাম, পুষ্টিকর খাবার ও পর্যাপ্ত পানি গ্রহণই যথেষ্ট।

ক্রনিক হেপাটাইটিস বি:

অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ প্রয়োজন হয়। মুখে খাওয়ার ও ইনজেকশন—দুই ধরনের চিকিৎসাই রয়েছে। মুখে খাওয়ার ওষুধ সাধারণত দীর্ঘদিন বা আজীবন চালিয়ে যেতে হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করলে লিভারের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। বর্তমানে ব্যবহৃত ওষুধ ভাইরাস পুরোপুরি নির্মূল করতে না পারলেও নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তুলনামূলক কম।

চিকিৎসার পর সুস্থ থাকতে করণীয়

চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা

পুষ্টিকর ও ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্য গ্রহণ

পর্যাপ্ত পানি পান

অ্যালকোহল পরিহার

নিয়মিত হালকা ব্যায়াম

পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম

উপসর্গ বাড়লে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া

হেপাটাইটিস বি প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়

হেপাটাইটিস বি একটি নিরাপদ ও কার্যকর টিকার মাধ্যমে প্রায় ১০০ শতাংশ প্রতিরোধযোগ্য।

বাংলাদেশে ২০০৩–২০০৫ সাল থেকে ইপিআই কর্মসূচির আওতায় শিশুদের জন্মের পর বিনামূল্যে এ টিকা দেওয়া হচ্ছে। পূর্ণবয়স্করাও যেকোনো বয়সে ০, ১ ও ৬ মাসে মোট ৩ ডোজ টিকা নিয়ে সুরক্ষা পেতে পারেন।

তবে টিকা নেওয়ার আগে রক্ত পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে হয়—আগে ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন কি না বা শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে কি না। একবার সংক্রমিত হলে টিকা আর কার্যকর নয়।

সম্ভাব্য জটিলতা

দীর্ঘস্থায়ী লিভার রোগ

সিরোসিস

লিভার ক্যান্সার

লিভার ফেইলিওর

অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া

বিশেষজ্ঞদের মতে, হেপাটাইটিস বি ভয়ংকর হলেও সময়মতো সচেতনতা, টিকা ও চিকিৎসার মাধ্যমে একে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। নিয়মিত পরীক্ষা ও স্বাস্থ্যবিধি মানাই এ রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে বড় অস্ত্র।

সূত্র : যুগান্তর