খুঁজুন
, ,

ভাইরালে আক্রান্ত লোভী সমাজ, প্রতিরোধের উপায় কী?

ইলিয়াস হোসেন
প্রকাশিত: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ৮:৩২ পূর্বাহ্ণ
ভাইরালে আক্রান্ত লোভী সমাজ, প্রতিরোধের উপায় কী?

উগ্র শাসক আর অপশক্তির উত্থানে বিশ্বজুড়ে দিন দিন গণমাধ্যমের ঝুঁকি বাড়ছে। যুদ্ধবাজ নেতা, সুযোগসন্ধানী বণিক শ্রেণি ও অপরাধ সংগঠনের হোতাদের নিষ্ঠুর টার্গেট হচ্ছেন সংবাদকর্মীরা। প্যাশন থেকে যুক্ত হওয়া অনিশ্চিত এ পেশায় টিকে থাকা সবসময়ই চ্যালেঞ্জের।

তথ্যপ্রযুক্তির অভূতপূর্ব উন্নতিতে মাধ্যমটি সহজলভ্য হওয়ায় দিন দিন আরও কঠিনের মুখোমুখি হচ্ছে মূলধারার গণমাধ্যম। একসময় দেশের জনপ্রিয় কয়েকটি গণমাধ্যম সভ্য দেশের অনুকরণে বাংলাদেশে ‘সিটিজেন জার্নালিজম’ বা ‘নাগরিক সাংবাদিকতা’ আমদানি করে। সেই উৎসাহ আর সহজলভ্য তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহারে এখন ঘরে ঘরে সাংবাদিক আর হাতে হাতে গণমাধ্যম ঘুরছে।

এদের দৌরাত্ম্যে সাংবাদিককে ‘সাংঘাতিক’ আর গণমাধ্যমকে ‘ঘনমাধ্যম’ বলে ভয় পাচ্ছে ভুক্তভোগীরা। রাজনীতি, রাজনীতিবিদ ও দেশ-জনতার সংকট নিয়ে মনগড়া গল্প ফেঁদে সাংবাদিকতার নামে ডলারে অখাদ্য বিক্রি করছে।

‘অমুককে বোনের স্বীকৃতি দিলেন তমুক’, ‘মানবতার ফেরিওয়ালার একি হাল’, ‘প্রয়াত মন্ত্রীর গোপন প্রেমিকার সন্ধান’ ‘তার সঙ্গে চিপা গলিতে হাঁটলেন তিনি’—এরকম হাজারো বেখবর ঘুরছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। সাংবাদিকতার নীতিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে জনপ্রিয় ফেসবুককে ‘চটি বই’ বানিয়ে ফেলছে ভিউ শিকারিরা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে অসামাজিক করে তোলায় ভদ্রলোকদের বিব্রত হতে হচ্ছে। ইচ্ছা না থাকলেও সাধারণ মানুষ দেখতে বাধ্য হচ্ছে লগ্নি করা রিলস। নিজ নিজ ইউটিউব চ্যানেল বা ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রতিনিয়ত বিতর্কিত আইটেম তুলছে অতর্কিত ডলার আসার লোভে। অধুনা ‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ নামের এ লোকগুলো বেশিরভাগই অশিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত, বেপরোয়া ও আনস্মার্ট। ভুল বানান, অশুদ্ধ উচ্চারণ, আপত্তিকর ছবিতে সয়লাব তাদের পরিবেশনা।

ডলারের লোভে স্বামী-স্ত্রী-সন্তান নিয়েও অনেকে নেমেছ এ প্ল্যাটফর্মে। কুকুর-বেড়ালের প্রতি মায়া দেখানো থেকে পিতা-মাতার বিরুদ্ধে নিষ্ঠুরতার নাটকও করে তারা। এমনকি বৃদ্ধা শাশুড়ির একাশিতম জন্মদিন উদযাপনের নামে একসিরা রোগী শ্বশুরকে নিয়ে ‘কাটা লাগা’ গানের সঙ্গে উদ্দাম নৃত্য করে কনটেন্ট ক্রিয়েটর পুত্রবধূ।

এসব নিয়ন্ত্রণের কথা বললে তারা মূলধারার গণমাধ্যমের ভুল ধরে। সরকারের তোষামোদ, রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তি ও মালিকদের স্বার্থসিদ্ধির অভিযোগে জাতীয় গণমাধ্যমগুলোও প্রশ্নবিদ্ধ। প্রথম শ্রেণির টিভি টকশোতে জ্ঞানগর্ভ, মার্জিত আলোচনায় ভিউ হচ্ছে না। ঘাড়ের রগ ফুলিয়ে অসংযত ভাষায় কিলিয়ে দিতে পারলে শো ভাইরাল হয়। তাতে ডলার আসে। কাজেই ঘোমটার আড়ালে ক্ষ্যামটা নাচে নাম লেখাচ্ছে প্রায় সবাই। জনরুচি তৈরির ঝুঁকি না নিয়ে গণস্রোতে গা ভাসাচ্ছে।

ভাইরাস থেকে ভাইরাল শব্দটি এসেছে। উইকিপিডিয়া বলছে, ভাইরাল (Viral) বলতে সাধারণত এমন সংক্রমণ বা তথ্যকে বোঝায়, যা খুব দ্রুত এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তি বা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। এটি কোনো ভাইরাসজনিত রোগ

(যেমন—ফ্লু, কভিড-১৯) বা ইন্টারনেটে জনপ্রিয় হওয়া কোনো কনটেন্ট (ভিডিও, পোস্ট) হতে পারে। ভাইরাল রোগ সাধারণত হাঁচি-কাশি, সরাসরি স্পর্শ, বা দূষিত খাবার বা পানির মাধ্যমে ছড়ায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো ভিডিও, ছবি বা পোস্ট যখন অল্প সময়ে প্রচুর মানুষ শেয়ার করে এবং মুহূর্তের মধ্যে তা হাজারো-লাখো মানুষের কাছে পৌঁছে যায়, তখন তাকে ভাইরাল বলা হয়।

ভাইরাল রোগ সংক্রমণ প্রতিরোধে নিয়মিত সাবানপানি দিয়ে হাত ধোয়া, হাঁচি-কাশি দেওয়ার সময় মুখ ঢেকে রাখা, অসুস্থ ব্যক্তি থেকে দূরত্ব বজায় রাখা ও জনাকীর্ণ স্থানে মাস্ক ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ভাইরাল রোগের ঠিক উল্টো হচ্ছে ভাইরাল ভোগ। রোগে যা বর্জনীয়, ভোগে তাই অর্জনীয়।

সম্প্রতি এক কর্মশালায় শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, ‘আজকের তরুণ প্রজন্ম; এমনকি যারা ইউনিফর্ম পরে, তারাও তাদের শিক্ষক কিংবা মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে যে কোনো ধরনের অশালীন মন্তব্য করতে দ্বিধা করে না।’ সেইসঙ্গে শিক্ষার্থীরা ভাইরাল হতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। সত্য প্রকাশের বদলে একটি চক্র সোশ্যাল মিডিয়াকে তাদের চাঁদাবাজি, মানুষের চরিত্রহনন, মিথ্যাচার, হিংস্রতা প্রচারের বড় কেন্দ্রে পরিণত করছে।

মিথ্যা ও ভিত্তিহীন গুজব ছড়িয়ে কেউ কেউ রাষ্ট্র ও সরকারকে রীতিমতো চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছে। অনেকটাই যেন প্যারালাল সরকার হয়ে উঠছে এরা! যখন যাকে খুশি অপরাধী বানিয়ে দিচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণের আগেই তাদের গ্রেপ্তার করতে বাধ্য করা হচ্ছে। বিচারকও ‘ভিউ ব্যবসায়ীদের’ কুৎসিত নোংরা আক্রমণের ভয়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিতে হিমশিম খাচ্ছেন। সরকারের ভালো কাজও ট্রল করা হচ্ছে।

এই গুজব ভাইরাল বাহিনী যেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। আইন ও বিচারের ঊর্ধ্বে! আরও ভয়ের ব্যাপার হচ্ছে, মানুষ বুঝে না বুঝে ভুয়া ফটোকার্ডসহ নানা রকম গুজব শেয়ার করে দিচ্ছে। এতে করে সাধারণ মানুষ নিজের অজান্তেই ভাইরাল বাহিনীর রাজনীতি ও বাণিজ্যে সহযোগিতা করছে। ‘শেষে মজা আছে’, ‘চোখের পানি ধরে রাখতে পারবেন না’, ‘জীবনে এমন দৃশ্য দেখিনি’—এ রকম চটকদার ও ইঙ্গিতপূর্ণ ক্যাপশন দিয়ে মানুষকে প্রতিনিয়ত বিভ্রান্ত করছে।

বাংলাদেশে এটা এখন নিয়ন্ত্রণহীন মহামারির আকার ধারণ করেছে। সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্য সন্ত্রাস প্রতিরোধ করতে হলে এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে। বিশ্বব্যাপী এ অপতথ্য বন্ধে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তাদের দায়িত্বজ্ঞানহীন বেপরোয়া কাজকর্মের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হচ্ছে। ইউটিউব দাবি করে, তাদের সাইটে কোনো আপত্তিকর কনটেন্ট তারা থাকতে দেয় না।

কিন্তু বাংলাদেশের মতো দেশগুলোয় ফেসবুক বা ইউটিউবের এ নজরদারি অনেক কম। এ রকম হাজারো কনটেন্ট আছে, যেগুলো হিংসাত্মক, ভুয়া। তবু ফেসবুক বা ইউটিউব সেগুলো বন্ধ করেনি। কোম্পানিগুলোকে বিচারের আওতায় আনার জন্য অনেক দেশ এখন আইন করেছে। সম্প্রতি ব্রিটিশ সরকার নিয়ম ভঙ্গকারী সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে বিপুল অঙ্কের জরিমানা থেকে শুরু করে তাদের সেবা পুরোপুরি বন্ধ বা ব্লক করে দেওয়ার পদক্ষেপ নিয়েছে।

জার্মানিতে ২০১৮ সালের শুরু থেকে সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যাপারে এক নতুন আইন কার্যকর হয়। যেসব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের ২০ লাখের বেশি ব্যবহারকারী আছে, তারা সবাই এ আইনের আওতায় পড়বে। কোনো কনটেন্ট সম্পর্কে অভিযোগ আসার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তা তদন্ত ও পর্যালোচনা করতে হবে। আইনবিরোধী কোনো কনটেন্ট শেয়ার করলে ৫০ লাখ ইউরো পর্যন্ত জরিমানা করা যাবে। আর ওই কোম্পানিকে জরিমানা করা যাবে ৫ কোটি ইউরো পর্যন্ত।

এ আইনের ফলে সেখানে সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব ও উসকানিমূলক পোস্ট উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন সোশ্যাল মিডিয়ায় আপত্তিকর কনটেন্টের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বিবেচনা করছে। বিশেষ করে জঙ্গিবাদে উৎসাহ জোগায় এমন ভিডিও দিলেই ব্যবস্থা। ইউরোপীয় ইউনিয়নে জেনারেল ডাটা প্রোটেকশন রেগুলেশন (জিডিপিআর) নামে এক নতুন আইন ২০১৮ সালেই কার্যকর হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ায় এক কঠোর আইন চালু করা হয়েছে। যাতে সহিংস ও জঘন্য কোনো কিছু অনলাইনে শেয়ার করা না যায়। এ আইন লঙ্ঘন করলে সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ এনে জেল-জরিমানার বিধানও রাখা হয়েছে। জরিমানার অঙ্কটি বেশ বড়। অর্থাৎ, ওই কোম্পানির গ্লোবাল টার্নওভারের ১০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা করা যাবে।

রাশিয়ায় ২০১৫ সালের ডাটা আইন অনুযায়ী, সব সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিকেই রুশ নাগরিকদের সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য রাশিয়াতেই কোনো সার্ভারে সংরক্ষণ করতে হয়। টুইটার, গুগল বা হোয়াটসঅ্যাপ চীনে নিষিদ্ধ। তবে সেখানে একই ধরনের কিছু চীনা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম আছে। যেমন—ওয়াইবো, বাইডু, উইচ্যাট। চীনে কিছু ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক আছে। কিন্তু চীনা কর্তৃপক্ষ সেগুলোর ব্যবহারও সীমিত করে দিতে সক্ষম হয়েছে।

তবে, বাংলাদেশের অনেক আইনপ্রণেতা, বুদ্ধিজীবী, সৃষ্টিশীল ব্যক্তি এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও ভাইরাল বাণিজ্যে জড়িত। এমনকি, সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার সময়ও কেউ কেউ ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে লাইভে ছিলেন। নিজেদের পোস্টে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থেকে নিজস্ব বৈষয়িক এবং পারিবারিক বিষয় তুলে দেন।

তাদের অনুসারীরা হাজার হাজার শেয়ার দিয়ে লাখ লাখ সম্মতি উৎপাদন করে। হুজুগে জাতি তা দেখে আনন্দে কাঁদে, ক্ষোভে হিংসা ছড়ায় এবং তর্কে মেতে ওঠে। দিন শেষে অ্যাকাউন্টওয়ালা ডলার গোনে। ভুয়া স্ট্যাটাস, ফটোকার্ড দেখে সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনাও ঘটছে। রাজনীতিতে অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম।

ভাইরাল প্রবণতা দিন দিন অবক্ষয়ের নতুন অস্ত্র হিসেবে সমাজে আঘাত হানছে। অধিক রিচ অর্জনে কাউকেই ছাড় দিচ্ছে না তারা। সর্বজন শ্রদ্ধেয় মৃত ব্যক্তিও রেহাই পাচ্ছে না নাদান ভিউ শিকারির হাত থেকে। ইতিহাসে প্রতিষ্ঠিত বিষয়কেও বিতর্কিত করছে ভিউ লোভে। অসংখ্য স্বঘোষিত বুদ্ধিজীবী ও বিশ্লেষক দেশপ্রেমিক মুখোশের আড়ালে মেরে কেটে খাচ্ছে। নিজেদের রক্ষায় এ ব্যাপারে এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে দায়িত্বশীলদের। কেননা, দায়িত্বে থাকার সময় এবং ছাড়ার পরও ভাইরাল আইটেম তারা।

লেখক: হেড অব নিউজ, আরটিভি

 

সালথায় বরাদ্দকৃত সার অন্যত্র বিক্রি, ডিলারকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা

সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১০ অপরাহ্ণ
সালথায় বরাদ্দকৃত সার অন্যত্র বিক্রি, ডিলারকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা

ফরিদপুরের সালথায় কৃষকদের মাঝে বিতরণের জন্য বরাদ্দ করা ২০০ বস্তা ইউরিয়া সার গুদামে মজুত না রেখে অন্যত্র বিক্রির দায়ে এক সার ডিলারকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

রবিবার (১১ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার বল্লভদী ইউনিয়নের ফুলবাড়িয়া বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। জরিমানাপ্রাপ্ত ডিলার হলেন মেসার্স খান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মোমরেজ খান।

উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, নিয়মিত তদারকির অংশ হিসেবে সার সরবরাহের আগমনী বার্তা (অ্যারাইভাল রিপোর্ট) পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ডিলারের গুদাম পরিদর্শন করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা। এ সময় দেখা যায়, অক্টোবর মাসে ডিলারের অনুকূলে বরাদ্দ করা ৪০০ বস্তা ইউরিয়া সার গুদামে মজুত রাখার কথা থাকলেও সেখানে পাওয়া গেছে মাত্র ২০০ বস্তা। বাকি ২০০ বস্তা সার অন্যত্র বিক্রি করা হয়েছে বলে যাচাইয়ে উঠে আসে।

পরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিজভী আহমেদ সবুজের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। এ সময় ডিলার মোমরেজ খান বরাদ্দের ২০০ বস্তা ইউরিয়া সার অন্যত্র বিক্রির বিষয়টি স্বীকার করেন। পরে সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬ অনুযায়ী তাঁকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযান পরিচালনাকালে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আহসানুল হাবীব আল আজাদ জনি।

উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নির্ধারিত নিয়মের বাইরে সার বিক্রি করে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি কিংবা কৃষকদের ভোগান্তিতে ফেলার কোনো সুযোগ নেই। কৃষকদের জন্য বরাদ্দ করা সার যথাযথভাবে বিতরণ নিশ্চিত করা এবং সারের বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ ধরনের নজরদারি ও তদারকিমূলক অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিজভী আহমেদ সবুজ বলেন, কৃষকদের জন্য বরাদ্দ করা সার নির্ধারিত নিয়মে গুদামে মজুত রাখা ও কৃষকদের কাছে সরবরাহ করা নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। বরাদ্দের সার অন্যত্র বিক্রি করে অনিয়মের আশ্রয় নিলে সংশ্লিষ্ট ডিলারের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবসে ফরিদপুরের মাঠে নন্দিতা সুরক্ষা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৪৫ অপরাহ্ণ
আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবসে ফরিদপুরের মাঠে নন্দিতা সুরক্ষা

সাম্প্রতিক সময়ে ১৩ বছর বয়সী কন্যা শিশু তাজনিমের হত্যা ও ধর্ষণের ঘটনা কন্যা শিশুর নিরাপত্তা, অধিকার এবং সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এই প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক কন্যা শিশু দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ ও কন্যা শিশুর অধিকার সুরক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে নারী উন্নয়ন সংস্থা- নন্দিতা সুরক্ষা।

রবিবার (১১ অক্টোবর) ফরিদপুর সদর উপজেলার ডিক্রিচর ইউনিয়নের মোতলেব হোসেন হাই স্কুলে  আলোচনা সভা ও সচেতনতামূলক র‍্যালির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচিতে ১০০ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক অংশগ্রহণ করেন। গ্লোবাল এফেয়ার্স কানাডা ও মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন এর সহায়তায় নন্দিতা সুরক্ষার RWVL-B প্রকল্পের আওতায় করা হয় ওই আয়োজন।

আলোচনা সভা শেষে শিক্ষার্থীরা হাতে সচেতনতামূলক প্ল্যাকার্ড নিয়ে র‍্যালিতে অংশ নেয়। “বাল্যবিবাহ বন্ধ করো! শিশুর অধিকার রক্ষা করো!”—এমন স্লোগান দিতে দিতে তারা ডিক্রিরচর ইউনিয়নের ভাঙ্গী ডাঙ্গী ও কাজেম মাতুব্বরের ডাঙ্গী গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে এবং বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করে। এর মাধ্যমে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে পরিবার ও সমাজের সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।

নন্দিতা সুরক্ষা বিশ্বাস করে, কন্যাশিশুর নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করার দায়িত্ব শুধু পরিবার নয়; শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সমাজ এবং সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত দায়িত্ব রয়েছে। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের পাশাপাশি কন্যা শিশুর প্রতি সহিংসতা রোধ, নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা এবং তাদের মতামত ও স্বাধীনতাকে সম্মান করার মাধ্যমে একটি নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব।

আলোচনা সভায় বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর প্রভাব, কন্যাশিশুর শিক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করা এবং তাদের জন্য নিরাপদ ও বৈষম্যহীন পরিবেশ গড়ে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। বাল্যবিবাহ কীভাবে কন্যাশিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশ, শিক্ষাজীবন এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে বাধাগ্রস্ত করে, সে বিষয়ে অংশগ্রহণকারীদের সচেতন করা হয়। পাশাপাশি কিশোরীদের নিরাপদ চলাচল, তাদের প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ এবং কন্যা শিশুর সুরক্ষায় অভিভাবকদের সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

আয়োজক প্রকল্পের প্রজেক্ট ম্যানেজার জান্নাতুল ফেরদৌসী জানান, বাল্যবিবাহ ও সহিংসতা মুক্ত সমাজ গড়ে উঠুক – এই প্রত্যয়ে নন্দিতা সুরক্ষা সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

নন্দিতা সুরক্ষার নির্বাহী পরিচালক তাহিয়াতুল জান্নাত রেমি বলেন, “প্রতিটি কন্যাশিশুর নিরাপদে বেঁচে থাকা, শিক্ষা গ্রহণ এবং মর্যাদার সঙ্গে বেড়ে ওঠার অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি । তাজমিনের মতো শিশুদের ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনাকে জাস্টিফাই করার চেষ্টা করছেন অনেকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পোস্ট ও কমেন্ট দেখলেই বোঝা যায়, কীভাবে ভুক্তভোগী শিশুর প্রতি সহিংসতাকে স্বাভাবিক করার এবং অপরাধের পক্ষে যুক্তি দাঁড় করানোর চেষ্টা চলছে। একটি শিশুর পোশাক, চলাফেরা, আচরণ কিংবা বয়স- কোনোটিই তার প্রতি যৌন সহিংসতা বা হত্যাকে ন্যায্যতা দিতে পারে না। তাই আমরাও এই মানসিকতার পরিবর্তন ও কন্যাশিশুর অধিকার ও নিরাপত্তার দাবি আদায়ে কাজ করে যাচ্ছি।”

ফরিদপুরে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, বাতিলের দাবি

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৪০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, বাতিলের দাবি

Oplus_131072

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও অবৈধ অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। নিয়োগপ্রক্রিয়া বাতিল করে নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রকৃত ব্যবসায়ীদের ডিলারশিপ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বিএনপির একাংশের নেতারা।

​রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে আলফাডাঙ্গা সদর বাজারে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়।

​সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আলফাডাঙ্গা পৌর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি বাশারুল বারী ও উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শাহিন মোল্লা।

​লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, বিসিআইসি ও খুচরা সার ডিলারশিপ বরাদ্দের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং অনৈতিক লেনদেনের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের সুবিধাভোগী ব্যক্তি ও তাদের স্বজনদের নতুন করে ডিলারশিপ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।

​তারা বলেন, ডিলার নিয়োগে স্বচ্ছতা না থাকলে সাধারণ কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তাই পুরো নিয়োগপ্রক্রিয়া নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে অনিয়মে জড়িতদের চিহ্নিত করা প্রয়োজন।

​সংবাদ সম্মেলন থেকে চার দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো—

১. অভিযোগ তদন্ত করে অনিয়ম প্রমাণিত হলে নিয়োগপ্রক্রিয়া বাতিল করা।

২. সরকারি বিধি অনুযায়ী স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে ডিলার নিয়োগ দেওয়া।

৩. অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া।

৪. কৃষকদের মাঝে সরকার নির্ধারিত মূল্যে সারের সরবরাহ নিশ্চিত করা।

​সংবাদ সম্মেলনে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, কৃষি মন্ত্রণালয় ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারকদের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়। প্রতিকার না পেলে কৃষক ও সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনের হুমকি দেন তারা।

​এ সময় পৌর শ্রমিক দলের সভাপতি কাইয়ুম সিকদার ও সাবেক পৌর বিএনপির আহ্বায়ক তারিকুল ইসলামসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

​এদিকে অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তুষার সাহা জানান, নীতিমালা অনুযায়ী উপজেলা তদন্ত কমিটির মাধ্যমে প্রতি ইউনিয়নে তিনজন যোগ্য আবেদনকারীর তালিকা জেলা কমিটিতে পাঠানো হয়। সেখান থেকে অধিকতর যাচাই-বাছাই শেষে কৃষি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলে চূড়ান্ত নিয়োগ অনুমোদন দেওয়া হয়।

​অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান আব্বাস অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “সরকারি বিধি-বিধান মেনেই সারের ডিলারদের তালিকা করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি।”