খুঁজুন
, ,

শুয়ে শুয়ে বই পড়েন? এতে কী কী ক্ষতি হচ্ছে জেনে নিন

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৮:১১ পূর্বাহ্ণ
শুয়ে শুয়ে বই পড়েন? এতে কী কী ক্ষতি হচ্ছে জেনে নিন

বইপ্রেমীদের কাছে বই যেন এক অন্য জগৎ। কারও দিনের শুরু হয় খবরের কাগজ হাতে নিয়ে, আবার কারও রাত শেষ হয় বিছানায় শুয়ে প্রিয় উপন্যাস পড়তে পড়তে। অনেকেই আরাম করে বালিশে হেলান দিয়ে কিংবা চিৎ হয়ে শুয়ে বই পড়তে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

বিশেষ করে রাতের নীরবতায় বই হাতে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়ার অভ্যাস বহু মানুষেরই আছে। ছোটদের মধ্যেও এই প্রবণতা কম নয়। তবে আরামদায়ক মনে হলেও শুয়ে শুয়ে বই পড়ার এই অভ্যাস ধীরে ধীরে চোখের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভুল ভঙ্গিতে দীর্ঘ সময় বই পড়লে চোখের পেশির ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। এতে শুধু চোখেই সমস্যা হয় না, মাথাব্যথা, অস্থিরতা, এমনকি ঘুমের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাই বই পড়ার অভ্যাস অবশ্যই ভালো, কিন্তু সেই অভ্যাসের ধরন ঠিক না হলে উপকারের বদলে ক্ষতিই বেশি হতে পারে।

কেন ক্ষতিকর শুয়ে বই পড়া?

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমরা সাধারণত বই পড়ার সময় চোখ থেকে প্রায় ১৫ ইঞ্চি দূরে বই ধরে পড়ি। এটাই স্বাভাবিক ও আরামদায়ক দূরত্ব। কিন্তু চিৎ হয়ে শুয়ে বই পড়ার সময় সেই দূরত্ব বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। কারণ অনেকক্ষণ হাত উঁচু করে বই ধরে রাখলে হাতে ব্যথা হতে পারে। তাই বেশিরভাগ মানুষ বই বুকের ওপর নামিয়ে এনে পড়েন।

এ অবস্থায় চোখকে স্বাভাবিক দৃষ্টিপথের বাইরে নিচের দিকে ঘুরিয়ে দীর্ঘ সময় তাকিয়ে থাকতে হয়। ফলে চোখের পেশির একটি নির্দিষ্ট অংশের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। ধীরে ধীরে এটি দৃষ্টিশক্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে শুরু করে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই সমস্যাকে বলা হয় ‘এসথেনোপিয়া’।

নিয়ম না মেনে বই পড়লে যেসব সমস্যা হতে পারে

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ভুল ভঙ্গিতে বই পড়লে নানা ধরনের শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে। যেমন—

বই সঠিক দূরত্বে রেখে না পড়লে চোখের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে, ফলে দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে যেতে পারে।

চোখের আশপাশে রক্ত চলাচল কমে যেতে পারে।

শিশুদের ক্ষেত্রে অল্প বয়সেই চোখের পাওয়ার দ্রুত বাড়তে বা পরিবর্তিত হতে পারে।

চোখের অশ্রুগ্রন্থির তরল শুকিয়ে যেতে পারে, যা চোখের পেশির স্বাভাবিক কাজে বাধা সৃষ্টি করে।

চোখের চাপ থেকে মাথার পেশিতেও প্রভাব পড়ে, ফলে মাথাব্যথা বাড়তে পারে।

ঘুমের পরিমাণ কমে যেতে পারে এবং ঘুমের মানও খারাপ হতে পারে।

দীর্ঘদিন এ অভ্যাস চলতে থাকলে অ্যাংজাইটি ও অস্থিরতাও বাড়তে পারে।

শিশুদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা

ছোটদের অনেকেই বিছানায় উপুড় হয়ে বা কাত হয়ে বই পড়ে। কিন্তু এ বয়সে চোখ খুব সংবেদনশীল থাকে। তাই ভুল ভঙ্গিতে দীর্ঘ সময় বই পড়লে চোখের পাওয়ার দ্রুত বদলে যেতে পারে। এজন্য শিশুদের বই পড়ার সময় সঠিক ভঙ্গিতে বসার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।

কীভাবে বই পড়া নিরাপদ করবেন?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বই পড়ার সময় সোজা হয়ে বসা সবচেয়ে ভালো। পর্যাপ্ত আলো থাকতে হবে এবং বই চোখ থেকে নির্দিষ্ট দূরত্বে রাখতে হবে। দীর্ঘ সময় একটানা বই না পড়ে মাঝেমধ্যে চোখকে বিশ্রাম দেওয়াও জরুরি।

চোখ আমাদের শরীরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর একটি। এই চোখের মাধ্যমেই আমরা পৃথিবীকে রঙিন ও সুন্দরভাবে দেখি। তাই বই পড়ার অভ্যাস বজায় রাখুন, তবে শুয়ে শুয়ে বই পড়ার অভ্যাস যত দ্রুত সম্ভব বদলে ফেলুন।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

ফরিদপুরে দুই যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ, আহত ২০

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ৬:২৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে দুই যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ, আহত ২০

ফরিদপুরের ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের করিমপুর এলাকায় দুটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেল ৪টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঢাকাগামী রয়েল পরিবহন এবং মাগুরাগামী আপন পরিবহনের দুটি বাস করিমপুর এলাকায় মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের ফলে উভয় বাসের অন্তত ২০ জন যাত্রী আহত হন।

স্থানীয় লোকজন, কোতোয়ালি থানা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। আহতদের উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

ফরিদপুর কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুর রহমান জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কোতোয়ালী থানা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়।

তিনি বলেন, দুর্ঘটনার কারণে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের উভয় পাশে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে দুর্ঘটনাকবলিত বাস দুটি মহাসড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়ার পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

ফরিদপুর ডায়াবেটিক সমিতির নির্বাচন স্থগিত

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ৪:৩৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুর ডায়াবেটিক সমিতির নির্বাচন স্থগিত

আগামী ৪ জুলাই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল ফরিদপুর ডায়াবেটিক সমিতির ২০২৬-২০২৯ মেয়াদের নির্বাচন। তবে আদালতের আদেশে আপাতত সেই নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেলে ফরিদপুরের বিজ্ঞ সিভিল জজ আদালতের বিচারক রুমানা আক্তার এ সংক্রান্ত স্থগিতাদেশ প্রদান করেন।

বিষয়টি ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে নিশ্চিত করেছেন ফরিদপুর জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শাহ মো. আবু জাফর।

জানা গেছে, আসন্ন নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট বিশ্বজিৎ গাঙ্গুলী নির্বাচন স্থগিত চেয়ে আদালতে একটি দেওয়ানি মামলা দায়ের করেন। মামলাটির নম্বর ৩৯৪/২০২৬। মামলার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি শেষে আদালত আগামী ৪ জুলাই নির্ধারিত ফরিদপুর ডায়াবেটিক সমিতির নির্বাচন স্থগিতের আদেশ দেন।

তবে মামলার আবেদনে কী কী বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে এবং পরবর্তী শুনানির তারিখ কবে নির্ধারণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।

এদিকে আদালতের এ আদেশের ফলে নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আদালতের পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

ফ্রিজের আয়ু বাড়ানোর সহজ উপায়, এক পলকে দেখে নিন

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ৮:২৩ পূর্বাহ্ণ
ফ্রিজের আয়ু বাড়ানোর সহজ উপায়, এক পলকে দেখে নিন

একটা ভালো মানের ফ্রিজ সঠিকভাবে ব্যবহার করলে ১২ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত সার্ভিস দেয়। কিন্তু বাংলাদেশে অনেক পরিবারে দেখা যায় সাত-আট বছরেই ফ্রিজ ঘন ঘন সমস্যা করতে শুরু করে। এর পেছনে যন্ত্রের দোষ কম, ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভ্যাসের দোষ বেশি।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ফ্রিজের বাড়তি চাপ:

ইউরোপ বা আমেরিকার তুলনায় বাংলাদেশে ফ্রিজের উপর চাপ অনেক বেশি। গরমের মাসগুলোতে তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠে যায়। বাইরের তাপমাত্রা বেশি হলে ফ্রিজের কম্প্রেসরকে বেশি কাজ করতে হয়। এর সাথে যোগ হয় লোডশেডিংয়ের সমস্যা। বিদ্যুৎ চলে গিয়ে ফিরে আসার সময় ভোল্টেজের ওঠানামা কম্প্রেসরের জন্য সবচেয়ে বড় ক্ষতির কারণ। এই চাপ কমাতে সহজ কিছু অভ্যাস মেনে চললে ফ্রিজের আয়ু উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব।

ভোল্টেজ স্ট্যাবিলাইজার ব্যবহার করুন:

লোডশেডিংয়ের পর বিদ্যুৎ ফিরলে প্রায়ই ভোল্টেজ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বা কম থাকে। এই অবস্থায় কম্প্রেসর চালু হলে মোটরে অতিরিক্ত চাপ পড়ে এবং ধীরে ধীরে ক্ষতি হয়। ভালো মানের ভোল্টেজ স্ট্যাবিলাইজার ব্যবহার করলে এই ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।

গরম খাবার সরাসরি ফ্রিজে রাখবেন না:

রান্নার পরপরই গরম খাবার ফ্রিজে রাখলে ফ্রিজের ভেতরের তাপমাত্রা হঠাৎ বেড়ে যায়। স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ফিরিয়ে আনতে কম্প্রেসরকে অনেক বেশি কাজ করতে হয়। খাবার ঘরের তাপমাত্রায় ঠান্ডা হওয়ার পর ফ্রিজে রাখুন।

পেছনের কয়েল পরিষ্কার রাখুন:

ফ্রিজের পেছনে বা নিচে কালো রঙের কুণ্ডলী পাকানো যে অংশটা থাকে সেটা কনডেন্সার কয়েল। এই কয়েলে ধুলো জমলে তাপ ছাড়তে পারে না, ফলে কম্প্রেসর বেশি চলতে হয়। প্রতি ছয় মাসে একবার নরম ব্রাশ দিয়ে এই কয়েল পরিষ্কার করুন।

দরজার রাবার সিল পরীক্ষা করুন:

ফ্রিজের দরজার চারপাশে রাবারের সিল থাকে যেটা ঠান্ডা বাতাস বের হতে দেয় না। এই সিল নষ্ট হলে বা আলগা হলে ঠান্ডা বাতাস বের হয়ে যায় এবং কম্প্রেসর সারাক্ষণ চলতে থাকে। একটা সহজ পরীক্ষা হলো দরজায় একটা কাগজ রেখে বন্ধ করুন, সহজেই টেনে বের করতে পারলে সিল দুর্বল হয়ে গেছে।

ফ্রিজের চারপাশে বাতাস চলাচলের জায়গা রাখুন:

দেয়াল বা আসবাবপত্রের একদম সাথে লাগিয়ে ফ্রিজ রাখলে কনডেন্সারের তাপ বের হতে পারে না। ফ্রিজের পেছনে এবং দুই পাশে কমপক্ষে চার থেকে পাঁচ সেন্টিমিটার ফাঁকা রাখুন।

অতিরিক্ত ঠেসে ভরবেন না:

ফ্রিজের ভেতর বায়ু চলাচল না হলে সব জায়গায় সমান ঠান্ডা পৌঁছায় না। কম্প্রেসর তখন বেশি কাজ করে। খাবার গুছিয়ে রাখুন যাতে ঠান্ডা বাতাস সব দিকে ছড়াতে পারে।

কখন বুঝবেন মেরামত নয়, বদলানোর সময় হয়েছে:

ফ্রিজের বয়স ১০ বছরের বেশি হলে এবং ঘন ঘন কম্প্রেসর বা কুলিং সমস্যা হলে মেরামতে টাকা ঢালা সবসময় বুদ্ধিমানের কাজ নয়। পুরনো ফ্রিজ বিদ্যুৎও বেশি খরচ করে। সেক্ষেত্রে *বাজারে নতুন ফ্রিজের মডেল ও দাম* [https://www.bdstall.com/refrigerator/] অনলাইনে দেখে তুলনা করে নেওয়াটা সময় ও অর্থ দুটোই বাঁচায়।

ফ্রিজ একটা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ। একটু সচেতন থাকলে এবং সহজ কিছু অভ্যাস মেনে চললে একই ফ্রিজ অনেক বেশি সময় ধরে ভালো সার্ভিস দেবে।