খুঁজুন
, ,

এই ৭ জিনিস কখনোই চুলার পাশে রাখবেন না

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৭:১৯ পূর্বাহ্ণ
এই ৭ জিনিস কখনোই চুলার পাশে রাখবেন না

বাংলাদেশি পরিবারে রান্নাঘরের প্রাণকেন্দ্রই হলো চুলা। ভোরের চা থেকে শুরু করে রাতের গরম ভাত; দিনের বেশিভাগ সময়ই এই জায়গাটিকে ঘিরে ব্যস্ততা চলে। তবে যে জায়গা পরিবারের খাবার তৈরি করে, অসাবধানতায় সেটিই হয়ে উঠতে পারে দুর্ঘটনার কারণ। কারণ চুলা শুধু রান্নার স্থান নয়, এটি আগুন ও তাপের উৎস। আর আগুনের পাশে অগোছালো জিনিসপত্র মানেই ঝুঁকি।

একটি প্লাস্টিকের বোতল গলে যেতে পারে, তোয়ালে মুহূর্তেই আগুন ধরে যেতে পারে, আবার সামান্য তেল ছিটকে বড় দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে। সবচেয়ে বড় কথা, এসব অভ্যাস এতটাই পরিচিত ও দৈনন্দিন যে অনেকেই এগুলোকে ঝুঁকি বলে মনে করেন না। অথচ ছোট কিছু সতর্কতাই রান্নাঘরকে অনেক বেশি নিরাপদ রাখতে পারে।

চলুন জেনে নেওয়া যাক, কোন ৭টি জিনিস কখনোই চুলার পাশে রাখা উচিত নয়।

১. ডিশ তোয়ালে ও ন্যাপকিন

রান্নাঘরে হাত মুছতে তোয়ালে বা ন্যাপকিন খুব প্রয়োজনীয়। তাই অনেকেই চুলার পাশেই ঝুলিয়ে রাখেন বা হাতের কাছে রেখে দেন। কিন্তু কাপড়জাতীয় এসব জিনিস আগুনের খুব কাছাকাছি থাকলে মুহূর্তেই বিপদ ঘটতে পারে। অসাবধানতায় কাপড়ের অংশ আগুন বা গরম পাত্রে লেগে গেলে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়তে পারে।

২. রান্নার তেলের বোতল

তেল রান্নাঘরের অপরিহার্য উপকরণ হলেও চুলার একদম পাশে রাখা ঠিক নয়। বেশি তাপে প্লাস্টিক বোতল নরম হয়ে যেতে পারে। আবার রান্নার সময় তেল পড়ে গেলে খোলা আগুনের সংস্পর্শে তা ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। তাই তেল হাতের কাছে রাখুন, তবে নিরাপদ দূরত্বে।

৩. কাগজের প্যাকেট ও বাজারের ব্যাগ

অনেক রান্নাঘরের কাউন্টারে বাজারের ব্যাগ, মসলার খালি প্যাকেট বা কাগজের মোড়ক পড়ে থাকতে দেখা যায়। কিন্তু কাগজ খুব দ্রুত আগুন ধরে। রান্নার সময় গরম কড়াই ঘোরানো বা গ্যাস জ্বালানোর মুহূর্তে সামান্য অসাবধানতাই বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।

৪. ম্যাচ ও লাইটার

অনেকে সুবিধার জন্য ম্যাচ বা লাইটার চুলার পাশেই রেখে দেন। কিন্তু এটিই সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অভ্যাসগুলোর একটি। বিশেষ করে বাসায় শিশু থাকলে বিপদের আশঙ্কা আরও বাড়ে। আগুন জ্বালানোর সরঞ্জাম কখনোই আগুনের একদম পাশে রাখা উচিত নয়।

৫. কাঠের খুন্তি ও কাটিং বোর্ড

কাঠের তৈরি খুন্তি, চামচ বা কাটিং বোর্ড রান্নাঘরে খুবই জনপ্রিয়। কিন্তু অতিরিক্ত তাপের কাছে রাখলে কাঠ কালচে হয়ে যেতে পারে, ফেটে যেতে পারে, এমনকি আগুনও ধরে যেতে পারে। এছাড়া চুলার পাশে থাকলে এগুলোতে তেল-চিটচিটে ভাব জমে রান্নাঘর আরও অস্বাস্থ্যকর হয়ে ওঠে।

৬. লবণ, চিনি ও মসলার বয়াম

প্রতিদিন ব্যবহারের কারণে অনেকেই লবণ, চিনি বা মসলার বয়াম চুলার পাশেই সাজিয়ে রাখেন। কিন্তু চুলার তাপ, বাষ্প ও তেলের ছিটায় এসব দ্রুত নষ্ট হতে শুরু করে। মসলায় দলা বাঁধে, বয়াম চিটচিটে হয়ে যায় এবং ভেতরের উপকরণের স্বাদ-গন্ধও কমে যায়।

বাংলাদেশি ও ভারতীয় রান্নাঘরে খোলা মসলার বক্স বা ঢিলেঢালা ঢাকনার বয়াম ব্যবহারের প্রবণতাও বেশি। কিন্তু এগুলো চুলার কাছাকাছি থাকলে অজান্তেই ভেতরে আর্দ্রতা ঢুকে পড়ে। ফলে হলুদ, ধনিয়া বা গরম মসলার মতো গুঁড়া মসলা দ্রুত গন্ধ হারিয়ে ফেলে এবং মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই স্বাদ নষ্ট হয়ে যায়।

এ ছাড়া একটানা তাপে প্লাস্টিকের বয়াম বেঁকে যেতে পারে, ধাতব ঢাকনায় তেল জমে আঠালো ভাব তৈরি হতে পারে। বারবার পরিষ্কার করতে গিয়ে রান্নাঘর আরও অগোছালো হয়ে ওঠে।

৭. অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের স্তূপ

চুলার আশপাশে অকারণে জিনিস জমিয়ে রাখার অভ্যাসও ঝুঁকিপূর্ণ। অপ্রয়োজনীয় বোতল, খালি কৌটা বা রান্নার সরঞ্জামের ভিড় শুধু জায়গা নষ্টই করে না, দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ায়। রান্নাঘর যত পরিষ্কার, শুকনো ও গোছানো থাকবে, ততই নিরাপদ থাকবে পুরো পরিবার।

রান্নাঘরের সৌন্দর্য শুধু সাজসজ্জায় নয়, নিরাপত্তাতেও। বিশেষ করে যেখানে প্রতিদিন ব্যস্ততার মধ্যে রান্না হয়, সেখানে চুলার আশপাশ পরিষ্কার ও খালি রাখা খুবই জরুরি। কারণ সবচেয়ে নিরাপদ রান্নাঘর সেটিই, যেখানে প্রতিটি জিনিস তার সঠিক জায়গায় থাকে; আর আগুনের খুব কাছে অপ্রয়োজনীয় কিছুই থাকে না।

তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

অল্প বয়সে হার্ট অ্যাটাকের যে ৪ কারণ? এক পলকে দেখে নিন

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৫৮ পূর্বাহ্ণ
অল্প বয়সে হার্ট অ্যাটাকের যে ৪ কারণ? এক পলকে দেখে নিন

একটা সময় পর্যন্ত হার্ট অ্যাটাককে ভাবা হতো বয়স্কদের সমস্যা। কিন্তু এখন তরুণ বয়সেই হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে। এই কারণে প্রাণ হারানোর সংখ্যাও কম নয়।

তাই শুধু বয়স্করা নয়, হার্টের অসুখের ক্ষেত্রে সতর্ক হতে হবে অল্প বয়সীদেরও। এই যে অল্প বয়সেই হার্ট অ্যাটাক, এর পেছনে কারণ কী?

হার্ট অ্যাটাক যে কারণে হয়

কোনো কারণে আমাদের শরীরের শিরা-উপশিরায় রক্ত ​​চলাচল ঠিকমতো না হলে রক্ত ​​জমাট বাঁধার সমস্যা সৃষ্টি হয়। যে কারণে হতে পারে হার্ট অ্যাটাক হয়। আমাদের হৃৎপিণ্ডে যখন রক্ত ​​ঠিকমতো পৌঁছাতে পারে না, তখন শিরায় চাপ পড়ে। এর ফলে তখন হার্ট অ্যাটাক হয়।

জীবনযাপনে অনিয়ম

আমাদের বেশিরভাগ অসুখ-বিসুখের কারণ হলো জীবনযাপনের বিভিন্ন অনিয়ম। বর্তমানে বাইরের খাবার বেশি খাওয়া, রাতে দীর্ঘ সময় জেগে থাকসহ নানা অনিয়মত করে থাকে তরুণেরা। জীবনযাপনের এসব বদ অভ্যাসের প্রভাব পড়ে শরীরে। বর্তমানে বিভিন্ন দিকে খেয়াল দিতে গিয়ে নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি নজর রাখার কথা ভুলে যান বেশিরভাগই। যে কারণে ধীরে ধীরে তৈরি হয় হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্র।

ধূমপান ও অ্যালকোহল গ্রহণ

অনেকে না বুঝেই সিগারেট এবং অ্যালকোহলের প্রতি আসক্ত হয়ে যাচ্ছে। এ ধরনের আসক্তি একবার পেয়ে বসলে তা থেকে মুক্তি পাওয়া কঠিন হয়ে ওঠে। কিন্তু সিগারেট এবং অ্যালকোহল স্বাস্থ্যের জন্য ভীষণ ক্ষতিকর। এ ধরনের অভ্যাস সরাসরি ধমনীতে প্রভাব ফেলে। হৃৎপিণ্ড দ্রুত পাম্প করার কারণে এটি পরিণত হয় আক্রমণে।

স্থূলতা

সঠিক খাদ্যাভ্যাস পারে আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং সুস্থতায় সাহায্য করতে। কিন্তু বর্তমানে ভুলভাল খাদ্যাভ্যাসের কারণে অল্প বয়সে হার্ট অ্যাটাকের শিকার হচ্ছেন অনেকে। শরীরে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার কারণে হার্ট অ্যাটাক, করোনারি আর্টারি ডিজিজ, ট্রিপল ভেসেল ডিজিজ ইত্যাদি দেখা দিতে পারে। যে কারণে বাড়ে বিপদ।

উত্তেজনা

আমাদের দেশে শারীরিক বিভিন্ন সমস্যায়ই অনেকে পাত্তা দিতে চান না, সেখানে মানসিক স্বাস্থ্যের চিকিৎসার কথা অনেকে চিন্তাও করতে চান না। এদিকে মানসিক স্বাস্থ্যের বিভিন্ন সমস্যা হতে পারে মারাত্মক সব রোগের কারণ। বর্তমানে তরুণেরা পড়াশোনা, চাকরি, পরিবারের প্রতি দায়িত্ব ইত্যাদি নানা দুশ্চিন্তায় থাকে। যে কারণে হতে পারে হার্ট অ্যাটাক।

সূত্র : ঢাকা পোস্ট

পেটের মেদ কমাতে যে ৪টি স্বাস্থ্যকর পানীয়?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৪২ পূর্বাহ্ণ
পেটের মেদ কমাতে যে ৪টি স্বাস্থ্যকর পানীয়?

আধুনিক জীবনযাত্রায় অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস আর কায়িক শ্রমের অভাবে পেটের মেদ বা ‘বেলি ফ্যাট’ জমানো এখন অনেকের জন্যই নিত্যনৈমিত্তিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে পেটের এই বাড়তি মেদ কেবল আপনার বাহ্যিক সৌন্দর্যই নষ্ট করে না; বরং এটি শরীরের অভ্যন্তরীণ স্বাস্থ্যের জন্য এক বড় হুমকি।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়, পেটের মেদ মূলত দুই ধরনের হয়—চামড়ার নিচে থাকা ‘সাবকিউটেনিয়াস ফ্যাট’ এবং শরীরের ভেতরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মধ্যে জমে থাকা ‘ভিসারাল ফ্যাট’। এর মধ্যে ভিসারাল ফ্যাট অত্যন্ত বিপজ্জনক, যা হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এমনকি ক্যানসারের মতো মরণব্যাধির ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। সুস্থতার মাপকাঠি হিসেবে আমরা সাধারণত বিএমআই-এর ওপর নির্ভর করলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোমর ও নিতম্বের অনুপাত জানা এখন অনেক বেশি জরুরি। যদি পুরুষদের ক্ষেত্রে এই অনুপাত ০.৯ এবং নারীদের ক্ষেত্রে ০.৮৫-এর বেশি হয়, তবে বুঝতে হবে আপনার পেটে ক্ষতিকর মেদ জমছে। এই জেদি মেদ ঝরানো বেশ কষ্টসাধ্য হলেও কিছু নির্দিষ্ট প্রাকৃতিক পানীয় বিপাক প্রক্রিয়া বাড়িয়ে মেদ কমানোর এই সংগ্রামকে সহজ করতে পারে। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরামর্শ দিয়েছেন এনডিটিভি ফুড-এর কনসালট্যান্ট নিউট্রিশনিস্ট ড. রূপালী দত্ত।

ড. রূপালী দত্তের পরামর্শ অনুযায়ী পেটের মেদ কমাতে কার্যকরী ৪টি পানীয় নিচে দেওয়া হলো:

১. গ্রিন টি

সামগ্রিক ওজন কমাতে গ্রিন টি-র কার্যকারিতা এখন বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত। এতে থাকা শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ‘ক্যাটেচিন’ এবং বিশেষ করে ‘EGCG’ বিশ্রামের সময়ও শরীরের ফ্যাট অক্সিডেশনে সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত গ্রিন টি পান করলে তা সরাসরি পেটের ভেতরের ভিসারাল ফ্যাট কমাতে ভূমিকা রাখে। এ ছাড়া এটি দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে, যা বাড়তি ক্যালরি গ্রহণের প্রবণতা কমিয়ে দেয়।

২. দারুচিনি চা

দারুচিনি কেবল মসলা হিসেবেই নয়; বরং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কমাতেও অনন্য। উল্লেখ্য যে, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স পেটের মেদ জমার অন্যতম প্রধান কারণ। দারুচিনি শরীরে স্ট্রেস হরমোন ‘কর্টিসল’-এর মাত্রা কমিয়ে আনে, যা চিনিযুক্ত খাবার ও চর্বিযুক্ত খাবারের প্রতি আসক্তি কমায়। এর বিপাক বৃদ্ধিকারী গুণাগুণ পেটের চর্বি পোড়াতে অত্যন্ত সহায়ক।

৩. ব্ল্যাক কফি

সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, দিনে পরিমিত (২-৩ কাপ) ব্ল্যাক কফি পান করলে শরীরের সামগ্রিক মেদ, বিশেষ করে ভিসারাল ফ্যাট উল্লেখযোগ্য হারে কমে। কফিতে থাকা পলিফেনল এবং ক্লোরোজেনিক অ্যাসিড পেটের চর্বি কমাতে কাজ করে। কফিতে থাকা ক্যাফেইন প্রাকৃতিক এনার্জি বুস্টার হিসেবে কাজ করলেও এটি চিনি ছাড়া পান করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

৪. মধু মিশ্রিত পানীয়

পেটের মেদ বা ভিসারাল ওবেসিটি কমাতে মধু একটি চমৎকার উপাদান। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, মধু শরীরের অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি রোধ করতে এবং মেদ কমাতে সাহায্য করে। মধু একটি শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে, যা ভিসারাল ফ্যাট কোষের কারণে তৈরি হওয়া অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে শরীরকে রক্ষা করে। এটি শরীরে দ্রুত শক্তি যোগায় এবং বারবার খিদে পাওয়ার সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করে।

সতর্কতা

যদিও এই পানীয়গুলো ওজন কমাতে এবং বিপাক প্রক্রিয়া বাড়াতে সহায়ক, তবে মনে রাখতে হবে মেদ কমানোর কোনো ‘শর্টকাট’ বা জাদুকরী উপায় নেই। পেটের মেদ পুরোপুরি ঝরাতে এই পানীয়গুলোর পাশাপাশি একটি সুশৃঙ্খল জীবনযাত্রা এবং নিয়মিত শরীরচর্চা বজায় রাখা অপরিহার্য। যে কোনো ডায়েট শুরু করার আগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বাঞ্ছনীয়।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি ফুড

ফরিদপুরে ট্রাক্টরের ধাক্কায় প্রাণ গেল মোটরসাইকেল আরোহীর

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৪০ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে ট্রাক্টরের ধাক্কায় প্রাণ গেল মোটরসাইকেল আরোহীর

ফরিদপুরে ট্রাক্টরের ধাক্কায় সুজন মণ্ডল (৩৫) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী যুবক নিহত হয়েছেন।

​মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকেলে ফরিদপুর সদর উপজেলার হোগলাকান্দি এলাকার পাকা রাস্তার ওপর এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

​নিহত সুজন মণ্ডল সদর উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের বিষ্ণুদিয়া গ্রামের মন্টু লাল মণ্ডলের ছেলে।

​থানায় দায়ের করা লিখিত আবেদন ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে সুজন মণ্ডল নিজের মোটরসাইকেল চালিয়ে কানাইপুর বাজার থেকে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথিমধ্যে হোগলাকান্দি এলাকায় পৌঁছালে একটি অজ্ঞাতনামা ট্রাক্টরের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সজোরে ধাক্কা লাগে। এতে তিনি মাথায়সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত পান।

​পরে স্থানীয় লোকজন তাকে সংকটাপন্ন অবস্থায় উদ্ধার করে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মারা যান সুজন। বর্তমানে তার মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা রয়েছে।

​ঘটনার পর নিহত যুবকের বাবা মন্টু লাল মণ্ডল পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা শেষে থানায় হাজির হয়ে বিষয়টি লিখিতভাবে অবহিত করেন এবং আইনানুগ ব্যবস্থার আবেদন জানান।

​এ বিষয়ে ফরিদপুরের কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় এক যুবকের মৃত্যুর বিষয়টি লিখিতভাবে জানা গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং নিহতের পরিবারের লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।