খুঁজুন
সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

তালার নিচে এই ছোট ছিদ্র থাকার রহস্য কী?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ৭:৫০ পূর্বাহ্ণ
তালার নিচে এই ছোট ছিদ্র থাকার রহস্য কী?

খ্রিস্টপূর্ব চার হাজার বছর আগে মানবসভ্যতার শুরু থেকেই নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা বজায় রাখতে তালা-চাবির ব্যবহার চলে আসছে। প্রাচীন মিশর ও মেসোপটেমিয়ায় কাঠের তৈরি পিন-লক দিয়ে এর যাত্রা।

পরে গ্রিক ও রোমানদের হাত ধরে এর প্রযুক্তি আরও উন্নত হয় এবং ধাতুর ব্যবহার শুরু হয়। প্রথম কাঠের তৈরি ‘পিন টাম্বলার’ লক ব্যবহৃত হতো। এতে ভারি কাঠের দরজার ভেতরের পিনগুলো চাবি দিয়ে সরাতে হতো।

রোমানরাই প্রথম খাঁজকাটা চাবি আবিষ্কার করেন, যা বহন করা খুব সহজ ছিল। নকশা ও আকারে নানা পরিবর্তন এলেও এর মূল কাঠামো প্রায় একই রয়ে গেছে। আর তালার নিচের ছোট ছিদ্রটিও সেই গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোর একটি। আর তালার নিচের ছোট ছিদ্রটি দেখতে তুচ্ছ মনে হলেও এর কার্যকারিতা বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

মূলত এটি তালার ভেতরে জমে থাকা পানি বের করতে সাহায্য করে। ফলে মরিচা ও ক্ষয় হওয়ার ঝুঁকি কমে যায়। এর পাশাপাশি প্রয়োজনে লুব্রিকেন্ট ব্যবহার করাও সহজ হয়। তাই দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত অনেক তালাতেই নিচের দিকে এই ছোট কার্যকর ছিদ্রটি রাখা হয়।

তালা মূলত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এতে দুটি প্রধান অংশ থাকে। একটি শ্যাকল বা ধাতব বাঁকানো অংশ, অন্যটি বডি বা মূল অংশ। আবার কিছু তালা নির্দিষ্ট সংখ্যা বা কম্বিনেশন মিলিয়ে খোলা হয়। যেগুলোকে ‘কম্বিনেশন প্যাডল’ বলা হয়। তবে তালার ধরন যাই হোক না কেন, অনেক তালার নিচের দিকে একটি ছোট ছিদ্র থাকে। অনেকের মনে প্রশ্ন— এই ছোট ছিদ্রটির আসলে কাজ কি?

চলুন জেনে নেওয়া যাক, এর মূল কারণ—

১. পানি ও ময়লা নিষ্কাশন 

তালা সাধারণত ঘরের বাইরে রোদ-বৃষ্টির মধ্যে বেশি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। বৃষ্টির সময় তালার ভেতরে পানি ঢুকে গেলে তা ভেতরেই জমে থাকে। এ ছিদ্রটি থাকার কারণে জমানো পানি এবং ধুলাবালি সহজেই নিচ দিয়ে বের হয়ে যেতে পারে। এতে মরিচা ও ক্ষয়ের ঝুঁকিও অনেকটাই কমে যায়।

২. মরিচা প্রতিরোধ 

তালার ভেতরে স্প্রিং ও বিভিন্ন সূক্ষ্ম ধাতব যন্ত্রাংশ থাকে। পানি জমে থাকলে সেগুলোতে দ্রুত মরিচা ধরে তালা জ্যাম বা নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে বেশি। ছিদ্রটি পানি বের করে দিয়ে তালাকে মরিচা পড়া থেকে রক্ষা করে।

৩. তেল বা লুব্রিকেন্ট দেওয়া 

অনেক সময় পুরোনো তালা চাবি দিয়ে সহজে খুলতে চায় না বা শক্ত হয়ে যায়। তালার কার্যকারিতা মসৃণ রাখতে এই ছোট ছিদ্রটি দিয়ে সহজেই ইঞ্জিন অয়েল, নারিকেল তেল বা লুব্রিকেটিং স্প্রে ভেতরে প্রবেশ করানো যায়।

৪. বরফ জমা রোধ করা 

অতিরিক্ত শীতের দেশে তালার ভেতরে পানি জমে বরফ হয়ে গেলে তালা লক হয়ে যায় এবং চাবি ঘোরে না। এ ছিদ্রটি পানি জমতে দেয় না বলে তীব্র শীতেও তালা সচল থাকে।

৫. তালা মেরামত

তালা কোনো কারণে পুরোপুরি জ্যাম বা নষ্ট হয়ে গেলে মেকানিকরা অনেক সময় এ ছিদ্রটি দিয়ে চিকন তার বা বিশেষ টুলস ঢুকিয়ে লকটি খোলার বা মেরামতের চেষ্টা করেন।

সূত্র : যুগান্তর

ঈদ সামনে রেখে ফরিদপুরে জমজমাট অস্থায়ী খাসি-ছাগলের হাট

মানিক কুমার দাস, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ৮:০০ অপরাহ্ণ
ঈদ সামনে রেখে ফরিদপুরে জমজমাট অস্থায়ী খাসি-ছাগলের হাট

পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে ফরিদপুর পৌর এলাকার বিসর্জন ঘাটে বসেছে অস্থায়ী খাসি ও ছাগলের জমজমাট হাট।

রোববার (২৪ মে) সকাল থেকে শুরু হওয়া এ হাটে দিনভর চলে ব্যাপক বেচাকেনা। জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো হাট এলাকা। ঈদকে ঘিরে কোরবানির পশু কেনাবেচায় যেন উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে সেখানে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল ৯টা থেকেই একে একে খাসি, ছাগল ও ভেড়া নিয়ে হাটে আসতে থাকেন বিক্রেতারা। দুপুরের পর ক্রেতাদের ভিড় বাড়তে শুরু করলে জমে ওঠে দরদাম ও কেনাবেচা। সন্ধ্যা পর্যন্ত হাটে ছিল উপচেপড়া ভিড়। কেউ পরিবার নিয়ে পশু কিনতে এসেছেন, আবার কেউ ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে একাধিক পশু কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

হাটে ফরিদপুর শহর ছাড়াও সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন, ভাঙ্গা, নগরকান্দা, বোয়ালমারী, মধুখালী ও রাজবাড়ী জেলার কিছু এলাকা থেকেও বিক্রেতারা পশু নিয়ে এসেছেন। স্থানীয় খামারিদের পাশাপাশি ছোট ব্যবসায়ীরাও তাদের পালিত খাসি ও ছাগল নিয়ে অংশ নেন এ হাটে।

বিক্রেতারা জানান, অন্যান্য বড় পশুর হাটের তুলনায় এখানে হাসিল তুলনামূলক কম হওয়ায় তারা স্বাচ্ছন্দ্যে পশু নিয়ে আসতে পারছেন। একই সঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ভালো থাকায় চুরি বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার ভয় কম। ফলে ক্রেতা ও বিক্রেতা—দুই পক্ষই সন্তুষ্ট।

হাটে বিভিন্ন জাত ও আকারের খাসি, ছাগল ও ভেড়া বিক্রি হতে দেখা গেছে। ছোট আকারের খাসির দাম শুরু হয়েছে ৮ হাজার টাকা থেকে। মাঝারি আকারের খাসি ১৫ থেকে ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বড় ও উন্নত জাতের খাসির দাম উঠেছে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত। এছাড়া ভেড়ার দাম ৮ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকার মধ্যে ওঠানামা করতে দেখা গেছে। অনেক ক্রেতা দরদাম করে পছন্দের পশু কিনে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।

ক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, “এখানে পশুর দাম মোটামুটি সহনীয়। তাছাড়া পরিবেশ ভালো হওয়ায় পরিবার নিয়ে এসে স্বাচ্ছন্দ্যে পশু দেখা যাচ্ছে।”

আরেক বিক্রেতা আব্দুল কাদের জানান, “সকাল থেকেই ভালো বেচাকেনা হচ্ছে। আশা করছি আগামী হাটে আরও বেশি ক্রেতা আসবে।”

হাটের ইজারাদার জয়নাল আবেদীন চৌধুরী জানান, ঈদ উপলক্ষে আয়োজিত এ অস্থায়ী হাটে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নিজস্ব ভলান্টিয়ার টিম সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে। এছাড়া পুরো হাট এলাকায় সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি রাখা হচ্ছে, যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।

তিনি আরও জানান, আগামী বুধবার ঈদুল আযহাকে কেন্দ্র করে আরও একটি বড় হাট অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে আরও বেশি পশু আসবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।

স্থানীয়রা মনে করছেন, ঈদ যত ঘনিয়ে আসবে, ততই জমে উঠবে ফরিদপুরের এসব অস্থায়ী পশুর হাট। এতে একদিকে যেমন খামারিরা লাভবান হবেন, অন্যদিকে সাধারণ ক্রেতারাও তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী কোরবানির পশু কিনতে পারবেন।

রামিসা হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ফরিদপুরে আইনজীবীদের মানববন্ধন, দ্রুত বিচারের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ৭:০৮ অপরাহ্ণ
রামিসা হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ফরিদপুরে আইনজীবীদের মানববন্ধন, দ্রুত বিচারের দাবি

শিশু রামিসা ধর্ষণ ও নির্মম হত্যাকাণ্ডসহ দেশব্যাপী নারী ও শিশু হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন ও বলাৎকারের ঘটনার প্রতিবাদে ফরিদপুরে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন সাধারণ আইনজীবীরা। এ সময় তারা নারী ও শিশু নির্যাতনের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার, সুষ্ঠু তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

রোববার (২৪ মে) দুপুরে ফরিদপুর শহরের স্বাধীনতা চত্বরে এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সাধারণ আইনজীবীদের ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিতে ফরিদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যসহ বিভিন্ন মানবাধিকারকর্মী ও সচেতন নাগরিকরা অংশ নেন।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন অ্যাডভোকেট মেহেরুন্নেসা স্বপ্না। প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন ফরিদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট লিয়াকত হোসেন খান বুলু।

এসময় বক্তব্য রাখেন ফরিদপুর বারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট বিশ্বজিৎ গাঙ্গুলী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. হাবিবুর রহমান হাফিজ, মানবাধিকার সংগঠন ব্লাস্টের সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শিপ্রা গোস্বামী, অ্যাডভোকেট লতা আক্তার, অ্যাডভোকেট সোহানুর রহমান সোহেল ও অ্যাডভোকেট ফারজানা প্রমূখ।

বক্তারা বলেন, দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ধর্ষণ, হত্যা ও সহিংসতার মতো বর্বর ঘটনাগুলো সমাজকে গভীরভাবে নাড়া দিচ্ছে। এসব অপরাধের বিচার দীর্ঘসূত্রতায় আটকে গেলে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। তাই দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দোষীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

তারা আরও বলেন, শুধু আইন প্রয়োগ করলেই হবে না, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে সচেতনতা ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সবাইকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া আইনজীবীরা হাতে বিভিন্ন প্রতিবাদী প্ল্যাকার্ড বহন করেন। এসময় “নারী ও শিশু নির্যাতনের বিচার চাই”, “ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে” এবং “নিরাপদ সমাজ গড়তে ঐক্যবদ্ধ হোন” — এমন নানা স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে স্বাধীনতা চত্বর।

ইসলামী ব্যাংকের পাচারকৃত অর্থ ফেরতের দাবিতে ফরিদপুরের মধুখালীতে মানববন্ধন

মো. ইনামুল খন্দকার, মধুখালী:
প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ৩:৪২ অপরাহ্ণ
ইসলামী ব্যাংকের পাচারকৃত অর্থ ফেরতের দাবিতে ফরিদপুরের মধুখালীতে মানববন্ধন

ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থা ধ্বংসের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ এবং এস আলমকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার ও পাচারকৃত অর্থ ফেরতের দাবিতে ফরিদপুরের মধুখালীতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। 

রোববার (২৪ মে) বিকাল ৩ টার দিকে মধুখালী বাজারস্থ চার রাস্তার মোড়ে  ইসলামী ব্যাংকের কার্যালয়ের সামনে ‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’-এর উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

ব্যবসায়ী ইমরান খাঁন এর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন- ব্যাংকের গ্রাহক আশাপুর আলীম মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক জিলান ফকির , প্রবীণ গ্রাহক ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো.কামালউদ্দিন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, শিক্ষক মাওলানা রেজাউল করিম,  ব্যাংকের গ্রাহক ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম , শিক্ষক খলিলুর রহমান, ব্যবসায়ী লিয়াকত বিশ্বাস, ব্যবসায়ী আতিয়ার রহমান প্রমুখ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে দেশের ইসলামী ব্যাংকিং খাতকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিচ্ছে। তারা অবিলম্বে এস আলমকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করা এবং বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার জোর দাবি জানান।