খুঁজুন
, ,

খালি পায়ের ভবঘুরে, কণ্ঠে নজরুলের গান—ভাইরাল ফরিদপুরের লাইলি খালা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৪:৫৪ অপরাহ্ণ
খালি পায়ের ভবঘুরে, কণ্ঠে নজরুলের গান—ভাইরাল ফরিদপুরের লাইলি খালা

খালি পায়ে শহরের অলিগলি, হাট-বাজার আর জনসমাগমের ভিড়ে ঘুরে বেড়ানো এক নারী। জীর্ণ শাড়ি, কাঁধে ছোট্ট ব্যাগ, এলোমেলো চুল—দেখলে অনেকেই তাকে ভবঘুরে ভাবেন। কিন্তু সেই নারীই যখন মঞ্চে উঠে গেয়ে ওঠেন নজরুলের গান, তখন মুহূর্তেই থমকে যায় পুরো আয়োজন। কণ্ঠের জাদুতে মুগ্ধ হন উপস্থিত অতিথি, সংস্কৃতিকর্মী, এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের লাখো দর্শকও।

ফরিদপুর শহরে তিনি পরিচিত ‘লাইলি খালা’ নামে। রবিবার (২৫ মে) বিকেলে নজরুল জয়ন্তী উপলক্ষে ফরিদপুর সাহিত্য পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে হঠাৎ করেই মঞ্চে উঠে গান পরিবেশন করেন তিনি। আমন্ত্রিত শিল্পীদের বাইরেও তার গান যেন হয়ে ওঠে পুরো অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আলোচিত অংশ।

জীর্ণ পোশাকে, বিন্দুমাত্র জড়তা ছাড়া তিনি গেয়ে ওঠেন কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত গান—
“নয়নভরা জল গো তোমার…”
তার কণ্ঠে ছিল না কোনো কৃত্রিমতা, ছিল না মঞ্চসুলভ চাকচিক্য। কিন্তু ছিল এক ধরনের গভীর আবেগ, যা মুহূর্তেই ছুঁয়ে যায় দর্শকদের হৃদয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনেকে মোবাইল ফোনে তার গান ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। এরপর থেকেই ফেসবুকজুড়ে শুরু হয় আলোচনা। অসংখ্য মানুষ ভিডিওটি শেয়ার করে লিখেছেন নিজেদের মুগ্ধতার কথা। কেউ বলেছেন, “এমন কণ্ঠ অবহেলায় হারিয়ে যেতে বসেছে।” আবার কেউ লিখেছেন, “এই নারী প্রমাণ করে দিলেন, শিল্প কখনও পোশাক বা পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।”

ফরিদপুর সাহিত্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মফিজ ইমাম মিলন জানান, লাইলি খালার সঙ্গে তার পরিচয় আজকের নয়। ২০০০ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত তিনি যখন শিল্পকলা একাডেমির সেক্রেটারি ছিলেন, তখন প্রায়ই এই নারীকে সেখানে আসতে দেখতেন।

তিনি বলেন, “লাইলি খালা সাহায্যের জন্য আসতেন। কিন্তু একদিন তার গান শুনে আমি অবাক হয়ে যাই। অসাধারণ সুর আর কণ্ঠ ছিল তার মধ্যে। পরে শিল্পকলায় যারা গান শেখাতেন, তাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিই। তিনি খুব অল্প সময়েই হারমোনিয়াম বাজানোও শিখে ফেলেন।”

মফিজ ইমাম মিলন আরও বলেন, “তিনি নিয়মিত শিল্পকলায় এসে চুপচাপ বসে থাকতেন। গান শুনতেন। কখনও কখনও নিজেও গাইতেন। নূরজাহান, লতা মঙ্গেশকর কিংবা মেহেদী হাসানের গান এমন আবেগ দিয়ে গাইতেন যে, না শুনলে বিশ্বাস করা কঠিন।”

লাইলি খালার জীবন নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে রয়েছে নানা গল্প। জানা যায়, এক ছেলে ও এক মেয়ের জননী হলেও বহু বছর আগে সংসার ছেড়ে বেরিয়ে পড়েন তিনি। সন্তানদের সংসার হয়েছে, তারা নিজেদের মতো জীবনযাপন করছেন। কিন্তু লাইলি আর ফেরেননি সংসারে।

ফরিদপুর শহরের মানুষ জানান, তাকে প্রায়ই দেখা যায় একা একা হাঁটতে। কখনও রেলস্টেশন, কখনও বাজার, কখনও নদীর ঘাট—যেখানে মানুষ, সেখানেই যেন তার গন্তব্য।

কেন এভাবে ঘুরে বেড়ান—এ প্রশ্নের জবাবে একদিন মফিজ ইমাম মিলনকে লাইলি খালা বলেছিলেন, “আমি মানুষ দেখি। দুনিয়ায় কত রকমের মানুষ। কারও সঙ্গে কারও মিল নাই। মানুষ দেখতে আমার খুব ভাল্লাগে।”

স্থানীয়দের দাবি, লাইলি খালার জীবনযাপন রহস্যে ঘেরা। অনেকে বলেন, তিনি মাঝেমধ্যেই হঠাৎ করে উধাও হয়ে যান। পরে আবার ফিরে আসেন। এমনও কথিত আছে, কোনো পাসপোর্ট বা ভিসা ছাড়াই তিনি নাকি হেঁটে হেঁটে আজমীর শরীফ পর্যন্ত চলে যান। যদিও এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি, তবুও তার জীবন নিয়ে মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই।

সম্প্রতি ফরিদপুরের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজনে তাকে নিয়মিত দেখা যাচ্ছে। চলতি বছরের ২ এপ্রিল “ফরিদপুর হেরিটেজ” শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে গান গেয়ে ব্যাপক প্রশংসা কুড়ান তিনি। ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহসহ বিভিন্ন পর্যায়ের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। সেদিনও তার গানের আবেগে মুগ্ধ হয়েছিলেন অতিথিরা।

এর ধারাবাহিকতায় নজরুল জয়ন্তীর আয়োজনেও বিশেষভাবে ডাক পান তিনি।

অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় ফরিদপুরের ঐতিহাসিক “ময়েজ মঞ্জিল”-এ। উপমহাদেশের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ এই ভবনে একসময় এসেছিলেন বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামও। সেই ঐতিহাসিক পরিবেশেই নজরুলের দুটি গান পরিবেশন করেন লাইলি খালা। তার কণ্ঠে যেন ফিরে আসে পুরনো বাংলার আবেগ আর হারিয়ে যাওয়া সংস্কৃতির গন্ধ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওর নিচে শত শত মন্তব্য জমা পড়েছে। একজন লিখেছেন, “দারিদ্র্য মানুষকে সুযোগ থেকে বঞ্চিত করেছে, কিন্তু প্রতিভাকে মুছে দিতে পারেনি।”

আরেকজন লিখেছেন, “এই কণ্ঠে শুধু গান নেই, আছে জীবনবোধ, আছে দীর্ঘ কষ্টের ইতিহাস।”

সংস্কৃতিকর্মীদের অনেকে মনে করছেন, সমাজের অগোচরে এমন বহু প্রতিভা ছড়িয়ে আছে, যাদের সামনে আনার উদ্যোগ খুব কম। লাইলি খালার ভাইরাল হওয়া ঘটনা হয়তো সেই অবহেলিত শিল্পীদের নতুনভাবে ভাবতে শেখাবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য নায়াব ইউসুফ আহমেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ফাতেমা ইসলাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক আফজাল হোসেন খান পলাশ, নাট্যকার ও শিক্ষক ড. অনুপম হায়াৎ, প্রবীণ সাংবাদিক ও ইতিহাসবিদ বদিউজ্জামান চৌধুরী, ফরিদপুর ফাউন্ডেশনের গোলাম মহিউদ্দিন মুন্না এবং জেলা জিয়ামঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুস সালাম।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমাজসেবক প্রফেসর এম এ সামাদ।

ফরিদপুরবাসীর কাছে লাইলি খালা নতুন কেউ নন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তাকে নতুনভাবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে সারা দেশের মানুষের কাছে। জীবনের সমস্ত অভাব, অবহেলা আর অগোছালো বাস্তবতার মাঝেও তিনি যেন প্রমাণ করলেন—শিল্প কখনও হারিয়ে যায় না। সুযোগ না পেলেও সত্যিকারের প্রতিভা একদিন না একদিন ঠিকই মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেয়।

ভাঙ্গায় অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

ভাঙ্গা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৪১ অপরাহ্ণ
ভাঙ্গায় অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে অজ্ঞাতনামা গাড়ির ধাক্কায় সালাউদ্দিন মোল্লা (২২) নামের এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন তাঁর সঙ্গে থাকা আরও দুই আরোহী।

​সোমবার (২৪ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার মালিগ্রাম এলাকায় এক্সপ্রেসওয়েতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

​নিহত সালাউদ্দিন ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার কুমারদিয়া গ্রামের আদম মোল্লার ছেলে। দুর্ঘটনায় আহতরা হলেন একই এলাকার সাব্বির শেখ (১৮) ও তামিম হোসেন (২৮)। তাঁরা নিহত সালাউদ্দিনের বন্ধু।

​স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নগরকান্দা থেকে এক মোটরসাইকেলে তিন বন্ধু ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের ঢাকাগামী লেন দিয়ে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে মালিগ্রাম এলাকায় পৌঁছালে পেছন থেকে একটি দ্রুতগতির অজ্ঞাত গাড়ি তাঁদের মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই সালাউদ্দিনের মৃত্যু হয় এবং অপর দুই বন্ধু মারাত্মক আহত হন।

​পরে ফায়ার সার্ভিস ও হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহত সালাউদ্দিনের লাশ উদ্ধার করে এবং গুরুতর আহত সাব্বির ও তামিমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

​বিষয়টি নিশ্চিত করে শিবচর হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মামুন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দুর্ঘটনাকবলিত মোটরসাইকেল ও লাশ উদ্ধার করেছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। ঘাতক গাড়িটি শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

ফরিদপুরের মিলিটারি কলেজিয়েট স্কুল পরিদর্শনে পরিকল্পনা কমিশনের দুই সচিব

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ১০:০৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের মিলিটারি কলেজিয়েট স্কুল পরিদর্শনে পরিকল্পনা কমিশনের দুই সচিব

মিলিটারি কলেজিয়েট স্কুল ফরিদপুর (এমসিএসএফ) পরিদর্শন করেছেন পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক বিভাগের সদস্য (সচিব) নাসরিন জাহান এবং আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের প্রধান (অতিরিক্ত সচিব) ড. শাহ মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।

​রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে তারা প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শনে আসেন। এসময় তাদের ফুলেল অভ্যর্থনা জানানো হয়।

​পরিদর্শনকালে সচিব নাসরিন জাহান, অতিরিক্ত সচিব ড. শাহ মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এবং সচিবের একান্ত সচিব (উপসচিব) মো. মাসজানুল ইসলাম তৌহিদ মিলিটারি কলেজিয়েট স্কুল ফরিদপুরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এসময় সামরিক বাহিনীর কর্নেল এডমিনসহ অন্যান্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

​সফরকালে অতিথিরা ক্যাডেটদের কাছ থেকে সালাম গ্রহণ করেন এবং স্কুল প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখেন। পরিদর্শন শেষে তারা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত সুবিধা, সুসংহত শিক্ষার মান ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন। পরে সফররত অতিথিদের প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

​উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সূচনা লগ্ন থেকেই মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার মাধ্যমে সুশিক্ষিত, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক নাগরিক গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সেই ধারাবাহিকতায় জ্ঞান, শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম ও নেতৃত্বগুণসম্পন্ন নাগরিক গড়ার লক্ষ্যে ‘মিলিটারি কলেজিয়েট স্কুল খুলনা (এমসিএসকে)’-এর আদলে ফরিদপুরে এই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলা হয়েছে।

​এর আগে রোববার সকালেই সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান আনুষ্ঠানিকভাবে মিলিটারি কলেজিয়েট স্কুল ফরিদপুর (এমসিএসএফ) এবং সেনা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ রাজবাড়ী (এসপিএসসি)-এর উদ্বোধন করেন।

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে আগুনে পুড়ল ৭টি ছাগল

শিশির খাঁন
প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৪৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে আগুনে পুড়ল ৭টি ছাগল

রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন বাড়ির সবাই। এদিকে ছাগল রাখার ছাপড়া ঘরে কয়েল থেকে আগুন ধরে পুড়ে গেল সাতটি ছাগল। এমনকি পাড়া প্রতিবেশীরাও টের পায়নি। যখন সবাই টের পেল তখন সব পুড়ে শেষ। এমন একটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায়।

রবিবার (২৩ আগস্ট) ভোর রাতে উপজেলার সদর ইউনিয়নের টিলারচর গ্রামের বাসিন্দা শেখ আদেল (৬১) এর বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।

আগুনে ছাপড়া ঘরটি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয় এবং রান্নাঘরের অর্ধেক অংশ পুড়ে যায়। এতে প্রায় দেড় লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে পরিবারটি।

অগ্নিকান্ডের বিষয়ে দিনমুজুর আদেল জানায়, ঘটনার রাতে প্রতিদিনের মতন ছাগল থাকার ঘরে মশার কয়েল জ্বালিয়ে রেখে তিনি ও তার স্ত্রী রাত এগারোটার দিকে পাশের ঘরে ঘুমিয়ে পরেন। পুড়ে যাওয়া ঘরটি তাদের বসত ঘরের পাশে ছাপড়া ঘর ছিল। ওই ঘরে তারা সাতটি ছাগল রাখত। রাত আনুমানিক একটার দিকে তারা অগ্নিকান্ডের বিষটি বুঝতে পেরে ঘরের দরজা খুলে বাহিরে বের হন। পরে তাদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে আগুন নেভায়। মশার কয়েল থেকে এই অগ্নিকান্ড ঘটেছে বলে ধারনা করছে ওই পরিবার।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জুলহাস হোসেন সৌরভ বলেন, অগ্নিকান্ডের খবর পেয়ে সকালে ঘটনাস্থলে লোক পাঠানো হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমান যাচাই বাছাইয়ের পরে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে সহযোগিতা করা হবে।