খুঁজুন
বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ১৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

বৃষ্টির সময় এসি কত তাপমাত্রায় চালালে বিল কমবে? জানুন

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৭:০০ পূর্বাহ্ণ
বৃষ্টির সময় এসি কত তাপমাত্রায় চালালে বিল কমবে? জানুন

তপ্ত গরমের পর বৃষ্টির ঝাপটা জনজীবনে স্বস্তি নিয়ে এলেও, বর্ষাকালে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেড়ে যায় অনেকটাই। ফলে আবহাওয়া কিছুটা শীতল মনে হলেও ঘরের ভেতরে ভ্যাপসা গরমে অস্বস্তি থেকেই যায়। এই অস্বস্তি থেকে মুক্তি পেতে অনেকেই এসি চালান, কিন্তু মাস শেষে বিদ্যুৎ বিলের চিন্তায় কপালে ভাঁজ পড়ে অনেকেরই। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৃষ্টির দিনগুলোতে এসির ব্যবহারে কিছুটা কৌশল অবলম্বন করলে ঘরও থাকবে ঠান্ডা, আবার বিদ্যুৎ বিলও থাকবে সাধ্যের মধ্যে।

আদর্শ তাপমাত্রা কত হওয়া উচিত?

বৃষ্টির সময় বাইরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকভাবেই তপ্ত দুপুরের তুলনায় কম থাকে। তাই এসময় এসি ১৬ বা ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে চালানোর কোনো প্রয়োজন নেই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষাকালে এসি ২৪ থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে চালানো সবচেয়ে উপযোগী। এই তাপমাত্রা যেমন শরীরের জন্য আরামদায়ক, তেমনি কম্প্রেসরের ওপর চাপ কমিয়ে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে বড় ভূমিকা রাখে। মনে রাখা জরুরি, তাপমাত্রা প্রতি ১ ডিগ্রি কমালে বিদ্যুৎ খরচ প্রায় ৬ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।

আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণে ‘ড্রাই মোড’-এর ব্যবহার

বর্ষার অন্যতম প্রধান সমস্যা হলো অতিরিক্ত আর্দ্রতা। বর্তমানের অনেক আধুনিক এসিতে ‘ড্রাই মোড’ সুবিধা থাকে। বৃষ্টির সময় সাধারণ কুলিং মোডের বদলে এই মোড ব্যবহার করলে ঘরের অতিরিক্ত আর্দ্রতা দ্রুত কমে যায়। ফলে ঘর খুব অল্প সময়েই আরামদায়ক হয়ে ওঠে এবং বিদ্যুৎ খরচও সাধারণ মোডের তুলনায় কম হয়।

সাশ্রয়ী হওয়ার কিছু কার্যকর টিপস

বিদ্যুৎ বিল নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং এসির স্থায়িত্ব বাড়াতে নিচের বিষয়গুলো খেয়াল রাখা জরুরি:

দরজা-জানালা বন্ধ রাখা: এসি চালানোর সময় ঘরের দরজা ও জানালা ভালোমতো বন্ধ রাখতে হবে যাতে বাইরের আর্দ্র বাতাস ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে।

ফিল্টার পরিষ্কার: এসির ফিল্টার নিয়মিত পরিষ্কার করা জরুরি। এতে বাতাস চলাচলে বাধা পায় না এবং এসি দ্রুত ঘর ঠান্ডা করতে পারে।

টাইমার ও ফ্যানের ব্যবহার: রাতে ঘুমানোর সময় এসির টাইমার ব্যবহার করা ভালো অভ্যাস। এতে নির্দিষ্ট সময় পর এসি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে এবং অপ্রয়োজনীয় বিল বাঁচবে। এছাড়া এসির সাথে হালকা গতিতে সিলিং ফ্যান চালালে ঠান্ডা বাতাস দ্রুত সারা ঘরে ছড়িয়ে পড়ে।

প্রযুক্তির গুরুত্ব

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের ক্ষেত্রে ইনভার্টার এসি সাধারণ এসির চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর। ইনভার্টার প্রযুক্তি প্রয়োজন অনুযায়ী কম্প্রেসরের গতি নিয়ন্ত্রণ করে, ফলে এসি বারবার অন-অফ হওয়ার ঝামেলা থাকে না এবং বিদ্যুৎ খরচ অনেক কমে আসে। অন্যদিকে, দীর্ঘ সময় ধরে ২০ ডিগ্রির নিচে এসি চালিয়ে রাখা মোটেও বুদ্ধিমানের কাজ নয়, কারণ এটি বিদ্যুৎ বিল কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। তাই সঠিক তাপমাত্রা নির্ধারণ এবং সচেতন ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে বর্ষার এই দিনগুলোতেও আপনি উপভোগ করতে পারেন আরামদায়ক পরিবেশ, কোনো বাড়তি বিদ্যুৎ বিলের চিন্তা ছাড়াই।

সূত্র: এনার্জি সেভার গাইড

তাকবিরে তাশরিক কার ওপর ওয়াজিব, কখন পড়বেন?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৭:০৯ পূর্বাহ্ণ
তাকবিরে তাশরিক কার ওপর ওয়াজিব, কখন পড়বেন?

তাকবিরে তাশরিক হলো আল্লাহর বড়ত্ব ও মহত্ত্বের বর্ণনা। পরিভাষায়, হিজরি বর্ষের সর্বশেষ মাস জিলহজের সুনির্দিষ্ট দিনগুলোতে নির্দিষ্ট বাক্যের মাধ্যমে আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা করাকে তাকবিরে তাশরিক বলে।

জিলহজ মাসের ১১, ১২ ও ১৩—এই তিনদিনকে বলা হয় আইয়ামে তাশরিক। আল্লাহ তাআলা সুরা বাকারাহর ২০৩ নম্বর আয়াতে এ-দিনগুলোর দিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন, ‘তোমরা নির্দিষ্ট দিনগুলোতে আল্লাহকে স্মরণ করো।’ হাদিসে এসেছে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আইয়ামে তাশরিক হলো, পানাহার ও আল্লাহর জিকিরের সময়। (মুসনাদে আহমাদ: ২০৭২২; সহিহ মুসলিম: ১১৪১)

তাকবিরে তাশরিক হলো—

اَللّٰهُ أَكْبَرُ، اَللّٰهُ أَكْبَرُ، لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ، وَاللّٰهُ أَكْبَرُ، اَللّٰهُ أَكْبَرُ، وَلِلّٰهِ الْحَمْدُ

বাংলা উচ্চারণ: আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়ালিল্লাহিল হামদ।

কখন পড়তে হয় তাকবিরে তাশরিক?

জিলহজ মাস শুরু হতেই বেশি-বেশি তাকবির পড়া সুন্নত। এ-মাসের প্রথম দশকের দিনগুলোতে সাহাবায়ে কেরাম অধিক পরিমাণে আল্লাহর জিকির করতেন, তাকবির উচ্চারণ করতেন। পথ-ঘাটে কিবা হাট-বাজারে—সবখানেই শোনা যেত তাকবিরের সুর-লহরী।

হজরত ইবনে উমর (রা.) ও আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-এর তাকবিরের আওয়াজ শোনে, তাদের সঙ্গে কণ্ঠ মেলাতো বাজারের অন্যরাও। মিনার দিনগুলোতে তাকবিরের সুরে মুখরিত হতো চারপাশ! মহিলারাও বলতো অনুচ্চ স্বরে। (সহিহ বোখারি, ফাতহুল বারি: ২/৫৩০-৫৩৬)

তবে জিলহজের ৯ তারিখ ফজর থেকে ১৩ আসর পর্যন্ত—মোট ২৩ ফরজ নামাজের পর প্রত্যেক মুসল্লির জন্য ন্যূনতম একবার বড় আওয়াজে তাকবিরে তাশরিক পড়া ওয়াজিব। (ফতওয়াতে শামি: ২/১৭৯-৮০; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদিস: ৫৬৭৭, ৫৬৭৮, ৫৬৯২; সুনানে দারাকুতনি, হাদিস: ২৫-২৯)

তাছাড়া ঈদগাহে যাওয়ার পথে উচ্চস্বরে তাকবির বলতে বলতে যাওয়া ঈদুল আজহার বিশেষ সুন্নত। (মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বা: ৪/১৯২-১৯৪; সুনানে দারাকুতনি: ২/৪৪-৪৫)

কারা পড়বেন তাকবিরে তাশরিক?

প্রাপ্তবয়সী নারী-পুরুষ নির্বিশেষে প্রত্যেক মুসলমানের ওপর এটি পাঠ করা ওয়াজিব। চাই সে, মুকিম হোক বা মুসাফির, পুরুষ হোক কিবা নারী—অবশ্য নারীরা তাকবির বলবে অনুচ্চ স্বরে। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ১/১৫২; রদ্দুর মুহতার: ২/১৭৮)

ইমাম আবু হানিফার (রহ.)-এর অভিমত অনুযায়ী, একাকী নামাজ আদায়কারী ও মুসাফির এবং নারীদের ওপর তাকবিরে তাশরিক যদিও ওয়াজিব নয়, তবে সাহেবাইন তথা ইমাম আবু ইউসুফ ও মুহাম্মদ (রহ.)-এর অভিমত অনুযায়ী সবার ওপরই ‘ওয়াজিব’।

উল্লেখ্য, এক্ষেত্রে সাহেবাইনের কথার ওপরই ফতওয়া। (মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বা: ৪/২৪০-২৪১, ২৫১, রদ্দুল মুহতার: ২/১৮০)

তবে সুন্নত, নফল, বিতর নামাজ আদায়কারীর জন্য তাকবির ওয়াজিব নয়। (বাদায়েউস সানায়ে: ১/৪৬২; ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ১/১৫২)

লেখক: গণমাধ্যমকর্মী

সুস্থ ও রোগমুক্ত থাকতে চান? জেনে নিন রাতে ঠিক কতক্ষণ ঘুম জরুরি

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৬:৫৩ পূর্বাহ্ণ
সুস্থ ও রোগমুক্ত থাকতে চান? জেনে নিন রাতে ঠিক কতক্ষণ ঘুম জরুরি

আমরা কত বছর বেঁচে আছি তা আমাদের ক্যালেন্ডারের বয়স বা ক্রোনোলজিক্যাল বয়স দিয়ে মাপা হয়। কিন্তু আমাদের শরীরের কোষ এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো আসলে কত দ্রুত বুড়িয়ে যাচ্ছে, তা নির্ধারণ করে ‘জৈবিক বয়স’। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, ঘুমের মেয়াদের ওপর ভিত্তি করে এই জৈবিক বয়স বাড়ার গতি কম বা বেশি হতে পারে।

গবেষণার চমকপ্রদ তথ্য

‘নেচার’ সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যারা রাতে ৬.৪ থেকে ৭.৮ ঘণ্টা ঘুমান, তাদের শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো অন্যদের তুলনায় ধীরগতিতে বুড়িয়ে যায়। অন্যদিকে, খুব কম (৬ ঘণ্টার কম) বা খুব বেশি (৮ ঘণ্টার বেশি) ঘুম মস্তিষ্কসহ শরীরের প্রায় প্রতিটি অঙ্গের বার্ধক্য ত্বরান্বিত করতে পারে।

কম ঘুমের বিপদ

গবেষকদের মতে, অপর্যাপ্ত ঘুম শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং প্রদাহ (inflammation) বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে টিস্যু মেরামত এবং বিপাকীয় ভারসাম্য ব্যাহত হয়। এছাড়া কম ঘুম সরাসরি নিচের সমস্যাগুলোর সাথে যুক্ত:

উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগ: পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে রক্তচাপ ও কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়।

ডায়াবেটিস ও স্থূলতা: এটি গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ এবং শক্তির ভারসাম্যে বিঘ্ন ঘটায়।

মানসিক স্বাস্থ্য: কম ঘুম বিষণ্ণতা এবং উদ্বেগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

বেশি ঘুম কি ভালো?

অনেকে মনে করেন বেশি ঘুমানো স্বাস্থ্যের জন্য ভালো, কিন্তু গবেষণা বলছে ভিন্ন কথা [৯]। অতিরিক্ত ঘুম অনেক সময় শরীরের ভেতরে লুকিয়ে থাকা কোনো রোগের লক্ষণ হতে পারে। যারা ৮ ঘণ্টার বেশি ঘুমান, তাদের ক্ষেত্রে বিষণ্ণতা এবং দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতার ঝুঁকি বেশি থাকে।

বয়সভিত্তিক ঘুমের চাহিদা

যুক্তরাষ্ট্রের সিডিসি (CDC)-এর তথ্যমতে, সুস্থ থাকার জন্য ঘুমের প্রয়োজন বয়স ভেদে ভিন্ন হয়:

১৮ থেকে ৬০ বছর: অন্তত ৭ ঘণ্টা।

৬১ থেকে ৬৪ বছর: ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা।

৬৫ বছরের বেশি: ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা।

ভালো ঘুমের কিছু সহজ উপায়

বিশেষজ্ঞরা তারুণ্য ও সুস্থতা ধরে রাখতে কিছু পরামর্শ দিয়েছেন:

লক্ষ্য স্থির করুন: রাতে অন্তত ৮ ঘণ্টা বিছানায় থাকার পরিকল্পনা করুন, যাতে অন্তত ৭ ঘণ্টা মানসম্মত ঘুম নিশ্চিত হয়।

রুটিন মেনে চলুন: প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করুন।

ডিজিটাল ডিটক্স: ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে সব ধরনের স্ক্রিন (মোবাইল, ল্যাপটপ) বন্ধ করে দিন।

খাবার দাবার: রাতের খাবার দ্রুত সেরে ফেলুন, যা শরীরকে শান্ত হতে সাহায্য করবে।

পর্যাপ্ত এবং সঠিক সময়ের ঘুম কেবল আপনাকে সতেজই রাখে না, বরং আপনার শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়িকে সচল রেখে বার্ধক্যকে দূরে সরিয়ে দেয়। তাই আজ রাত থেকেই আপনার ঘুমের অভ্যাসে পরিবর্তন আনুন।

তথ্যসূত্র: হেলথ লাইন

গরুর মাংস কার জন্য কতটুকু খাওয়া নিরাপদ?

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৬:৪৪ পূর্বাহ্ণ
গরুর মাংস কার জন্য কতটুকু খাওয়া নিরাপদ?

অনেকেরই ধারণা গরুর মাংস মানেই স্বাস্থ্যের জন্য চরম ক্ষতিকর। প্রচুর কোলেস্টেরল থাকায় অনেকেই এটি এড়িয়ে চলেন। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, গরুর মাংসের যেমন কিছু ক্ষতিকর দিক আছে, তেমনি এতে এমন কিছু পুষ্টিগুণ রয়েছে যা অন্য অনেক খাবার থেকে পাওয়া কঠিন। তাই এই মাংস আপনার জন্য আশীর্বাদ হবে না কি ভয়ের কারণ, তা নির্ভর করবে আপনি কতটা নিয়ম মেনে এবং কী পরিমাণে খাচ্ছেন তার ওপর।

পুষ্টিগুণে অনন্য গরুর মাংস আমাদের শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন, ভিটামিন বি২, বি৩, বি৬, বি১২ এবং জিংক, সেলেনিয়াম, ফসফরাস ও আয়রনের মতো খনিজের বড় উৎস হলো গরুর মাংস।

এই উপাদানগুলো শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, পেশি, দাঁত ও হাড়ের গঠনে ভূমিকা রাখে, ত্বক, চুল ও নখের স্বাস্থ্য ভালো রাখে, রক্তস্বল্পতা ও ডায়রিয়া প্রতিরোধ করে এবং ক্ষত নিরাময়ে সাহায্য করে। পাশাপাশি মানসিক অবসাদ ও ক্লান্তি দূর করে শরীরে কর্মোদ্যম বজায় রাখে।

কার জন্য কতটা প্রোটিন?

একজনের প্রতিদিন কতটা প্রোটিন প্রয়োজন তা নির্ভর করে তার ওজনের ওপর। সাধারণত সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে প্রতি কেজি ওজনের জন্য ১ গ্রাম প্রোটিন দরকার। যেমন: কারো ওজন ৫০ কেজি হলে তিনি দৈনিক ৫০ গ্রাম প্রোটিন খেতে পারেন।

বিশেষ ক্ষেত্রে: গর্ভবতী বা মাসিক চলাকালীন নারীদের জন্য এই চাহিদা দ্বিগুণ হতে পারে।

সতর্কতা: তবে যাদের কিডনিতে সমস্যা আছে, তাদের প্রোটিন গ্রহণের পরিমাণ হতে হবে স্বাভাবিকের অর্ধেক (প্রতি কেজি ওজনের জন্য ০.৫ গ্রাম)। ব্রিটেনের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের তথ্যমতে, সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রেও দিনে ৭০ গ্রামের বেশি এবং সপ্তাহে ৫০০ গ্রামের বেশি প্রোটিন খাওয়া উচিত নয়।

কতটুকু খাওয়া নিরাপদ?

পুষ্টিবিদ তাসনিম হাসিনের মতে, সপ্তাহে দুই দিন এবং সর্বোচ্চ তিন থেকে পাঁচ বেলা গরুর মাংস খাওয়া নিরাপদ। এই দুই দিনে মোট ১৫৪ গ্রাম মাংস খাওয়া যেতে পারে। সহজ হিসেবে, প্রতি বেলায় ঘরে রান্না করা মাঝারি আকারের ২ থেকে ৩ টুকরার (১৬-২৬ গ্রাম) বেশি মাংস খাওয়া উচিত নয়।

অসুস্থ রোগীদের জন্য পরামর্শ

ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ বা কিডনি রোগে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া জরুরি। সাধারণত তারা সপ্তাহে এক-দুই বেলা চর্বি ছাড়া মাংস খেলে বড় ঝুঁকি থাকে না, তবে চিকিৎসক সম্পূর্ণ নিষেধ করলে তা এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।

রান্নায় সতর্কতা

ঝুঁকি কমানোর উপায় রান্নার কৌশলের ওপর মাংসের গুণাগুণ ও নিরাপত্তা অনেকটা নির্ভর করে:

চর্বি ছেঁটে ফেলা: রান্নার আগে মাংসের গায়ে লেগে থাকা দৃশ্যমান চর্বি কেটে বাদ দিলে কোলেস্টেরল অনেক কমে যায়।

ছোট টুকরো: মাংস যত ছোট টুকরো করে কাটা হবে, চর্বির পরিমাণ তত কমবে। কিমা বা বাটা মাংসে চর্বি সবচেয়ে কম থাকে।

সেদ্ধ করে পানি ফেলা: মাংস কিছুক্ষণ ফুটিয়ে উপরের তেলের স্তরসহ পানি ফেলে দিলে চর্বি অনেকাংশেই দূর হয়।

তেল ও মসলা নিয়ন্ত্রণ: অতিরিক্ত তেল-মসলায় কষিয়ে ভুনা না করে ঝোল রান্না করা ভালো এবং খাওয়ার সময় ঝোল এড়িয়ে চলা উচিত। ভিনেগার, লেবুর রস বা টক দই দিলেও চর্বি কমে।

সবজি মেশানো: মাংসের পরিমাণ কমাতে এর সাথে পেঁপে, মিষ্টি কুমড়া, লাউ বা ফুলকপি মিশিয়ে রান্না করা একটি স্বাস্থ্যকর অভ্যাস।

ঝলসানো মাংস: শিক কাবাব বা গ্রিল করে খেলে মাংসের অধিকাংশ চর্বি পুড়ে যায়, যা স্বাস্থ্যের জন্য কম ঝুঁকিপূর্ণ।

অতিরিক্ত মাংস খাওয়ার ঝুঁকি অতিরিক্ত গরুর মাংস রক্তচাপ বাড়িয়ে হৃদরোগ, স্ট্রোক ও কিডনি জটিলতার ঝুঁকি তৈরি করে। এর কোলেস্টেরল ধমনীতে রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি করতে পারে, যা হার্ট অ্যাটাকের কারণ হতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত রেড মিট খেলে ক্যানসার, টাইপ-টু ডায়াবেটিস এবং আরথ্রাইটিসের ঝুঁকিও বেড়ে যায়।

পরিশেষে, গরুর মাংস মানেই উচ্চ ক্যালোরি বা ক্ষতিকর কোলেস্টেরল নয়। সঠিক পদ্ধতিতে রান্না এবং পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করলে এটি আপনার সুস্বাস্থ্যের সহায়ক হতে পারে। তাই মাংস খাওয়ার আগে নিজের শারীরিক অবস্থা বুঝে পরিমাণ নির্ধারণ করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।

তথ্যসূত্র: বিবিসি