খুঁজুন
, ,

ফরিদপুরে হামের উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২১

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ৬:১৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে হামের উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২১

ফরিদপুরে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তানহা (১৮ মাস) নামে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় হামের উপসর্গে মৃত শিশুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১ জনে। একই সঙ্গে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৬২ জন রোগী জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (০৪ জুন) হামের উপসর্গ নিয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তানহাকে। সে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার হাসানদিয়া গ্রামের দ্বীন ইসলামের মেয়ে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার তার মৃত্যু হয়।

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ৬২ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪১ জন। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে হামের উপসর্গে আক্রান্ত ১৭৮ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু।

তিনি আরও বলেন, হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় অভিভাবকদের শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করার পাশাপাশি জ্বর, সর্দি, কাশি ও শরীরে লালচে দাগ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ফরিদপুরের একই পরিবারের মা-ছেলে-মেয়েসহ নিহত ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ১০:৩৬ অপরাহ্ণ
সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ফরিদপুরের একই পরিবারের মা-ছেলে-মেয়েসহ নিহত ৩

ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবের রিয়াদ থেকে মক্কায় যাওয়ার পথে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ফরিদপুরের সালথার এক পরিবারের মা, ছেলে ও মেয়েসহ তিন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পরিবারের কর্তা ও অপর এক ছেলে গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টার দিকে সৌদি আরবের রিয়াদ থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন তানিয়া তাহমিনা রিনা (৪৫), তার ছেলে তাসবিক (২০) এবং মেয়ে জারা (১৫)। আহত হয়েছেন তানিয়ার স্বামী শফিকুল ইসলাম খোকন ও বড় ছেলে নাবিল।

তানিয়া তাহমিনা রিনা ফরিদপুরের সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম নাজিমুদ্দিন মোল্লার সেজো মেয়ে। তবে তার স্বামীর বাড়ি কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলায়। দীর্ঘদিন ধরে পরিবারটি সৌদি আরবে বসবাস করছিল বলে স্বজনরা জানিয়েছেন।

নিহত তানিয়া তাহমিনা রিনার মামাতো ভাই নাসিম আহমেদ কবীর জানান, বৃহস্পতিবার সকালে পরিবারের পাঁচ সদস্য একটি প্রাইভেটকারে করে রিয়াদ থেকে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে মক্কার পথে রওনা হন। যাত্রাপথে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার অতিক্রম করার পর তাদের গাড়িটি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। ঘটনাস্থলেই তানিয়া, তার ছেলে তাসবিক ও মেয়ে জারা মারা যান। আহত দুইজনকে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়।

নিহতের ভাই তৌহিদ মোহাম্মাদ মুরাদ বলেন, “রিয়াদ থেকে মক্কায় যাওয়ার পথে তাদের বহনকারী প্রাইভেটকারের পেছনে একটি বড় যানবাহন সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই আমার বোন, ছোট ভাগ্নে ও ভাগ্নির মৃত্যু হয়। আমার ভগ্নিপতি ও বড় ভাগ্নে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ চলছে।”

তিনি আরও জানান, নিহতদের মরদেহ দেশে আনা হবে নাকি সৌদি আরবেই দাফন করা হবে—এ বিষয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এদিকে একই পরিবারের তিন সদস্যের আকস্মিক মৃত্যুর খবরে সালথার আটঘর ইউনিয়নসহ পুরো এলাকায় শোকের আবহ সৃষ্টি হয়েছে। আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয়রা নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন।

ইউসুফ ফকির হত্যার বিচার দাবিতে ফরিদপুরে মানববন্ধন, ডিসি-এসপিকে স্মারকলিপি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ৫:৩৬ অপরাহ্ণ
ইউসুফ ফকির হত্যার বিচার দাবিতে ফরিদপুরে মানববন্ধন, ডিসি-এসপিকে স্মারকলিপি

ফরিদপুরে ব্যবসায়ী ইউসুফ ফকিরকে নির্মমভাবে নির্যাতনের পর হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল এবং স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি পালন করেছেন চরাঞ্চলবাসী।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে চরাঞ্চলবাসীর ব্যানারে আয়োজিত এ মানববন্ধনে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। তারা হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ইউসুফ ফকির হত্যাকাণ্ড শুধু একটি পরিবারের জন্য নয়, পুরো সমাজের জন্য উদ্বেগজনক। অপরাধীরা যদি দ্রুত আইনের আওতায় না আসে, তাহলে সমাজে অপরাধ প্রবণতা আরও বাড়বে। তাই তদন্তে কোনো ধরনের গাফিলতি না করে প্রকৃত ঘটনার রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

এ সময় বক্তব্য দেন প্রফেসর আবদুত তাওয়াব, এবি সিদ্দিকী মিতুল, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সেলিম, প্রিন্স আলী, মৃধা প্রিন্স আলী, নিহত ইউসুফ ফকিরের ভাই মোহাম্মদ নাজমুল বেপারী, স্ত্রী বেদানা বেগম এবং ছেলে শাহাদাত হোসেন।

নিহতের স্বজনরা আবেগঘন বক্তব্যে বলেন, ইউসুফ ফকিরকে পরিকল্পিতভাবে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। পরে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

স্মারকলিপিতে ইউসুফ ফকির হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলার বিচার সম্পন্ন এবং নিহতের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

বিক্ষোভকারীরা বলেন, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ সংঘটন কমে আসবে এবং সাধারণ মানুষের আইনের প্রতি আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।

ফরিদপুরে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে যুবকের যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ১:৩৫ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে যুবকের যাবজ্জীবন

ফরিদপুরের সালথায় ৯ বছর বয়সী ৩য় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে শওকত মিয়া (৩৮) নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে তাকে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

​বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফরিদপুরের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) আবুল বাসার আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পর কড়া পুলিশ পাহারায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

​দণ্ডপ্রাপ্ত শওকত মিয়া ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বড় বাংরাইল গ্রামের সিরাজ মিয়ার ছেলে।

মামলার বিবরণ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ২২ মে বিকেলে সালথা উপজেলার বড় বাংরাইল গ্রামের ৩য় শ্রেণিতে পড়ুয়া ৯ বছরের ওই শিশুটি বাড়ির পাশে নিজেদের শাক-সবজির (ডাটা) ক্ষেত দেখতে গিয়েছিল। এসময় আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা প্রতিবেশী শওকত মিয়া শিশুটিকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে পাশের একটি নির্জন পাটক্ষেতে নিয়ে ধর্ষণ করে।

​শিশুটির রক্তাক্ত ও মুমূর্ষু অবস্থা দেখে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ‘ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার’ (ওসিএসি)-এ ভর্তি করায়। ঘটনার পরদিনই নির্যাতিতা শিশুটির বাবা বাদী হয়ে সালথা থানায় শওকত মিয়াকে একমাত্র আসামি করে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।

​ঘটনা তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ৫ অক্টোবর সালথা থানা পুলিশ আসামি শওকত মিয়াকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া, প্রয়োজনীয় সাক্ষী গ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে দীর্ঘ ৬ বছর পর আদালত আজ এ রায় প্রদান করেন।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট অর্চনা দাস বলেন, “একটি অবুঝ শিশুকে নির্যাতন করে যে নৃশংসতা চালানো হয়েছিল, আজকের এই রায়ের মাধ্যমে তার ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলো। এই শাস্তি সমাজে অপরাধীদের মনে ভীতি সঞ্চার করবে এবং শিশু সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আমরা এ রায়ে অত্যন্ত সন্তুষ্ট।”