‘জিকের পাড়ের কদম ফুল’
জিকের পাড়ে একটি কদমগাছ দেখলাম বটে। কিন্তু গাছে কোনো ফুল নেই। মাটিতে পড়ে আছে কয়েকটি কদমফুলের অবশেষ—তবে তাতে নেই পুংকেশর, নেই পরাগধানী; শুধু পড়ে আছে নিঃসঙ্গ পুষ্পাধার। মনে হলো, যেন কেউ ফুলের সমস্ত সৌন্দর্য তুলে নিয়ে গেছে, রেখে গেছে শুধু স্মৃতি।
না, সেটি তোমার জন্য মানানসই নয়-
এদিকে আষাঢ়ের প্রায় অর্ধেক পেরিয়ে গেছে। প্রতিদিন অপরাহ্ণ নামলেই আকাশজুড়ে জমে কালো মেঘ। দূর দিগন্ত থেকে ভেসে আসে শীতল হাওয়া, কখনও মেঘের গম্ভীর গর্জন। জিকের পাড়ের সেই মায়াময় পথ ধরে হাঁটি আমি—প্রতিদিন, একই রকম অপেক্ষা বুকে নিয়ে।
তুমি হয়তো ভেবেছো, কিংবা পণ করেছো—কদমফুলের কথা আর মুখেও আনবে না। হয়তো আমাকে পরখ করে দেখছো। পরিচয়ের শুরুতে যে ‘মেঘাগমপ্রিয়’ হওয়ার কথা বলেছিলাম, সে কথা আমি ভুলে যাই কি না, সেটাই হয়তো দেখতে চাও।
না, আমি ভুলিনি।
বরং কদমফুলের গাছ খুঁজতে খুঁজতে কতবার যে জিকের পাড়ে হোঁচট খেতে খেতে চলেছি, তার হিসাব নেই। কত বিকেল, কত মেঘলা আকাশ, কত অকারণ পথচলা—সবই যেন একটিমাত্র প্রতিশ্রুতির কাছে ঋণী।
তবে এবার যখন কদমফুল আনব—
যদি আকাশে মেঘ না-ও থাকে, যদি সজল পবন না-ও বয়, যদি এই আষাঢ় হঠাৎ চৈত্রের রূপ ধারণ করে,
তবুও তোমার নিঃশ্বাস আর আমার নিঃশ্বাসের মাঝখানে একটি কদমফুলের ক্যারোলা টিউব রেখে একটি ছবি তুলব।
সেই ছবিতে হয়তো থাকবে না বর্ষার আবহ, থাকবে না মেঘের গর্জন কিংবা বৃষ্টির ছোঁয়া। তবু থাকবে অপেক্ষার ইতিহাস, প্রতিশ্রুতির সুবাস এবং দুটি মানুষের নীরব বোঝাপড়া।
আর যদি হঠাৎ ঝঞ্ঝাবায়ু আসে, যদি আকাশ ভেঙে নামে বর্ষণ, তবে চার হাত এক করে কদমের পুষ্পমঞ্জরি বাতাসে উড়িয়ে দেব। উড়ে যাক ফুলের পাপড়ি, ছড়িয়ে পড়ুক আষাঢ়ের গোপন আনন্দ।
কথা দিলাম—
এই বর্ষায়, এই আষাঢ়ে, একদিন তোমাকে আমি জিকের পাড়ের কদমফুল দেব।
শুধু একটি ফুল নয়, দেব মেঘমাখা বিকেল, জিকের পাড়ের মায়াপথ, আর অপেক্ষায় ভেজা আমার সমস্ত হৃদয়।

আপনার মতামত লিখুন
Array