খুঁজুন
, ,

পরিচিত কেউ টাকা ধার চাচ্ছে? সম্পর্ক ঠিক রেখে ‘না’ বলার সহজ উপায়

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ৯:৪৭ পূর্বাহ্ণ
পরিচিত কেউ টাকা ধার চাচ্ছে? সম্পর্ক ঠিক রেখে ‘না’ বলার সহজ উপায়

মাসের শেষ দিকে এসে হাতের সঞ্চয় ফুরিয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা অনেকেরই আছে। তখন কেউ কেউ নির্দ্বিধায় বন্ধু-বান্ধব বা পরিবারের কাছ থেকে টাকা ধার নেন।

আবার অনেকেই ধার নিতে নিতে অভ্যাসে পরিণত করেন, কারও কাছে বিষয়টি লজ্জারও। উল্টো দিকে, পরিচিত কেউ বারবার টাকা চাইলে নিজের সামর্থ্যের কথা না ভেবেই অনেকেই ‘না’ বলতে না পেরে ধার দিয়ে বসেন। কিন্তু এই ছোট্ট ‘না’ বলতে না পারার অভ্যাসই কখনও কখনও বড় আর্থিক ও সম্পর্কের সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আর্থিক সেবা সংস্থা Bankrate-এর ২০২৪ সালের ‘আর্থিক ট্যাবু’ জরিপে দেখা গেছে, প্রায় এক-চতুর্থাংশ মানুষ এমন ভেবে টাকা ধার দিয়েছেন যে, পরে তা ফেরত পাবেন। কিন্তু বাস্তবে সেই টাকা আর ফিরে আসেনি। এর ফলে সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

অনেকেই আগে থেকেই ধরে নেন, ধার দিলে টাকা আর ফেরত পাওয়া যাবে না। তাই নিজের আর্থিক অবস্থার কথা ভেবে এ বিষয়ে সচেতন হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। না হলে নিজেই আর্থিক সংকটে পড়তে পারেন, এমনকি প্রয়োজনের সময় নিজের জন্য টাকা না-ও থাকতে পারে। এ সমস্যা থেকে বের হওয়ার সহজ উপায়, নিজের অবস্থান স্পষ্টভাবে জানানো।

তাহলে সম্পর্ক ঠিক রেখে ‘না’ বলবেন কীভাবে?

এ বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন আর্থিক থেরাপি বিশেষজ্ঞ এজা ইভান্স। তার মতে, প্রথমেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, কেউ টাকা চাইলে আপনি আদৌ ধার দিতে পারবেন কি না। যদি না পারেন, তাহলে সরাসরি জানাতে হবে যে আপনি সাহায্য করার অবস্থায় নেই। অন্যকে সাহায্য করতে গিয়ে নিজের আর্থিক অবস্থাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলা উচিত নয়।

তবে এই বিষয়টি নিয়ে কথা বলা সব সময় সহজ নয়। কারণ, ঘনিষ্ঠ মানুষরা আপনার জীবনযাপন সম্পর্কে অনেক কিছুই জানেন, কোথায় খরচ করছেন, কী কিনছেন ইত্যাদি। সেসব দেখে তারা আপনার আর্থিক অবস্থা নিয়ে ধারণা করে নিতে পারেন।

তাই নিজেকে মনে করিয়ে দিন, আপনার খরচের হিসাব আপনার চেয়ে ভালো কেউ জানে না। শুধু ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা আছে বলেই যে তা ধার দেওয়া সম্ভব, এমন নয়।

কেউ টাকা চাইলে সরাসরি ‘না’ বলা কঠিন হলে ছোট থেকে শুরু করতে পারেন। যেমন, কেউ যদি ৫ হাজার টাকা চান, কিন্তু তা দিলে আপনার বাজেটে চাপ পড়ে, তাহলে ৫০০ বা ১০০০ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিতে পারেন। অর্থাৎ নিজের সামর্থ্যের মধ্যে থেকে সহায়তা করুন। প্রয়োজনে নিজের বর্তমান আর্থিক অবস্থাও খোলাখুলি জানাতে পারেন, এতে উভয়ের জন্যই বিষয়টি সহজ হয়।

এভাবে আপনি হয়তো পুরো চাহিদা পূরণ করতে পারবেন না, কিন্তু নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী পাশে দাঁড়াতে পারবেন।

অন্যদিকে, কাউকে ‘না’ বলার পর অপরাধবোধ হওয়াটা খুব স্বাভাবিক। মনে হতে পারে, সে কী ভাবল, সম্পর্ক খারাপ হলো কি না। তবে নিজের বাস্তবতা মনে রাখুন। কারণ, ভবিষ্যতে আর্থিক সংকটে পড়লে সেই চাপ আপনাকেই নিতে হবে।

ধরা যাক, আপনি ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় করতে চান, বেতনের একটি অংশ নিয়মিত জমাতে চান। এমন লক্ষ্য থাকলে সেটি লিখে রাখুন। এতে কাউকে ‘না’ বলার পর অপরাধবোধ কিছুটা কমবে। নিজেকে বারবার মনে করিয়ে দিন, আপনি কী অর্জন করতে চান এবং কেন।

প্রয়োজনে মানসিক চাপ কমাতে পছন্দের কাজেও সময় দিতে পারেন। এতে নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ে এবং সিদ্ধান্তে স্থির থাকা সহজ হয়।

সবশেষে, নিজের আর্থিক সীমা নির্ধারণ করা এবং তা মেনে চলা শুরুতে কঠিন মনে হলেও দীর্ঘমেয়াদে এর সুফল পাওয়া যায়। এতে আপনি যেমন নিজের আর্থিক লক্ষ্য পূরণ করতে পারবেন, তেমনি সম্পর্কও অপ্রয়োজনীয় চাপ থেকে রক্ষা পাবে।

তথ্যসূত্র : সিএনবিসি

‘১৭ বছরের রাজমিস্ত্রী পেশা ছেড়ে রিকশায় শাহজাহান’

হারুন-অর-রশীদ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৫৫ পূর্বাহ্ণ
‘১৭ বছরের রাজমিস্ত্রী পেশা ছেড়ে রিকশায় শাহজাহান’

দুপুরের ভাপসা গরম। শহরের ব্যস্ত সড়কে রোদের তাপে যেন পুড়ছে পিচঢালা পথ। মানুষের শরীর দরদর করে ঘামে ভিজে যাচ্ছে। প্রকৃতির গায়ে আজ দখিনা হাওয়ার কোনো ছোঁয়া নেই বললেই চলে।

এমনই এক দুপুরে একটি কাজে ফরিদপুর পুলিশ লাইন্স থেকে সোনালী ব্যাংকের কর্পোরেট শাখায় যাওয়ার জন্য একটি রিকশায় উঠলাম। রিকশার চালকের নাম শাহজাহান।

বয়স ৫০ ছুঁইছুঁই। প্যাডেলে চাপ দিতে দিতে ঘামে ভিজে যাচ্ছে তার শার্ট। তবুও মুখে ক্লান্তির কোনো অভিযোগ নেই। পথ চলতে চলতেই শুরু হলো গল্প।

শাহজাহানের বাড়ি ফরিদপুর শহরের মুন্সিবাজার এলাকায়। সংসারে রয়েছে চার বছরের একটি ছেলে আর দুই বছরের একটি মেয়ে। ছোট্ট দুটি সন্তানকে ঘিরেই এখন তার সব স্বপ্ন। তাদের পড়ালেখা, ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠা—এসব ভাবনাই যেন প্রতিদিন তাকে নতুন করে রিকশার প্যাডেলে শক্তি দেয়।

তবে শাহজাহানের জীবন এতটা সহজ ছিল না।

অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় বাবাকে হারান তিনি। বাবার মৃত্যুতে শুধু একজন অভিভাবকই হারাননি, হারিয়ে যায় তার পড়ালেখার স্বপ্নও। সংসারের হাল ধরতে বই-খাতা তুলে রাখতে হয়। খুব অল্প বয়সেই নামতে হয় জীবিকার কঠিন লড়াইয়ে।

শুরু করেন রাজমিস্ত্রীর সহকারী হিসেবে।

ইট টানা, বালু তোলা, সিমেন্ট মেশানো—অন্যের নির্দেশে দিনের পর দিন কাজ করেছেন। ধীরে ধীরে শিখেছেন নির্মাণকাজের নানা খুঁটিনাটি। একসময় সহকারী থেকে হয়ে ওঠেন পূর্ণাঙ্গ রাজমিস্ত্রি।

কেটে যায় দীর্ঘ ১৭ বছর।

কিন্তু একসময় সেই পেশার ভেতরের কিছু বাস্তবতা তাকে ভীষণভাবে নাড়া দেয়। কাজের জায়গায় ইট, বালু, সিমেন্ট কিংবা শ্রমিকের হিসাব নিয়ে নানা ধরনের অসততা দেখতে দেখতে তার ভেতরে জন্ম নেয় অস্বস্তি।

শেষ পর্যন্ত তিন বছর আগে ছেড়ে দেন ১৭ বছরের পরিচিত পেশা।

তারপর হাতে নেন রিকশার হ্যান্ডেল।

শাহজাহান বললেন, “রাজমিস্ত্রীর কাজ করতে হলে সেখানে বালু, ইট, সিমেন্ট আর শ্রমিকের কাজে চলে কৌশলী শুভঙ্করের ফাঁকি। এটা যখন বুঝতে পারলাম, তখন পেশাটি ছেড়ে দিলাম। এখন রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছি। কষ্ট হচ্ছে, তবুও আমার টাকাটা হালাল। এটাই আমার শান্তি।”

কথাগুলো বলতে বলতে প্যাডেলে চাপ বাড়ান তিনি।

রিকশাটি এগিয়ে চলে ব্যস্ত শহরের পথে। চারপাশে মানুষের ছুটে চলা, গাড়ির হর্ন, দোকানের ব্যস্ততা। আর সেই ভিড়ের মধ্যেই একজন মানুষ ঘাম ঝরিয়ে চলেছেন নিজের ছোট্ট সংসারটাকে টিকিয়ে রাখতে।

হয়তো এই রিকশার আয় খুব বেশি নয়। প্রতিদিনের আয় দিয়ে চাল, ডাল, সন্তানের দুধ, বাসাভাড়া—সব সামলাতে হিমশিম খেতে হয়। অসুস্থ হলে আয় বন্ধ। বৃষ্টি হলে যাত্রী কমে যায়। প্রচণ্ড গরমে প্যাডেল ঘোরানোও কষ্টকর হয়ে ওঠে।

তারপরও শাহজাহান ফিরে যেতে চান না আগের পেশায়।

কারণ তার কাছে জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি শুধু বেশি টাকা নয়। তার চেয়েও বড় প্রাপ্তি—স্বচ্ছ বিবেক।

ফরিদপুরের সেই ভাপসা দুপুরে রিকশা থেকে নেমে মনে হলো, শহরের রাস্তায় প্রতিদিন কত মানুষকে আমরা পাশ কাটিয়ে যাই। কারও হাতে রিকশার হ্যান্ডেল, কারও কাঁধে বোঝা, কেউ রোদে দাঁড়িয়ে দিনমজুরি করেন।

তাদের অনেকেরই হয়তো আছে শাহজাহানের মতো না বলা গল্প।

শাহজাহানের গল্পটাও হয়তো খুব সাধারণ। কিন্তু তার কথাগুলো অসাধারণ—

“কষ্ট হচ্ছে, তবুও আমার টাকাটা হালাল। এটাই আমার শান্তি।”

হয়তো জীবন তাকে বড় কোনো সম্পদ দিতে পারেনি। কিন্তু ৫০ ছুঁইছুঁই বয়সে শাহজাহান বুঝে গেছেন—ঘামে ভেজা শরীর নিয়ে ঘরে ফেরা যায়, কিন্তু অসততার বোঝা নিয়ে শান্তিতে ঘুমানো যায় না।

আর তাই দুপুরের প্রচণ্ড রোদে, ঘামে ভেজা শরীর নিয়ে ফরিদপুরের পথে পথে প্যাডেল ঘোরানো এই মানুষটির সবচেয়ে বড় পরিচয়—তিনি শুধু একজন রিকশাচালক নন।

তিনি একজন সৎ উপার্জনের যোদ্ধা।

লেখক: সংবাদকর্মী, ফরিদপুর।

খালি পেটে অফিসে যাচ্ছেন? হতে পারে স্বাস্থ্যের যেসব মারাত্মক ক্ষতি

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৩৩ পূর্বাহ্ণ
খালি পেটে অফিসে যাচ্ছেন? হতে পারে স্বাস্থ্যের যেসব মারাত্মক ক্ষতি

অনেকেই সকালে নাশতা না করে বা দীর্ঘসময় না খেয়ে কাজে বের হন বা অফিসে যান। ব্যস্ততার কারণে বিষয়টি স্বাভাবিক মনে হলেও দীর্ঘসময় খালি পেটে থাকা শরীর ও কর্মক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এতে দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, মনোযোগ কমে যাওয়া এবং অ্যাসিডিটির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। আবার কেউ কেউ সকালে খালি পেটে চা বা কফি খান, এটাও স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।

শরীরের যেসব সমস্যা হতে পারে

খালি পেটে দীর্ঘসময় থাকলে শরীরে পর্যাপ্ত শক্তির ঘাটতি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমে গেলে দুর্বলতা, ক্লান্তি ও মাথা ঘোরার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে কাজের মনোযোগ ও কর্মক্ষমতার ওপরও।

এ ছাড়া দীর্ঘসময় না খেয়ে থাকলে অনেকের পেটে অস্বস্তি, জ্বালাপোড়া বা অ্যাসিডিটির সমস্যা বাড়তে পারে। এমনকি পেটের আলসার হতে পারে। তবে খালি পেটে থাকলেই যে আলসার হবে তা বলা ঠিক না। আলসারের পেছনে অন্য অনেক কারণ থাকতে পারে।
অন্যদিকে সকালে না খেয়ে বের হলে খাবারের ঘাটতি ও ক্ষুধার কারণে মেজাজ খিটখিটে হতে পারে। এতে কাজে মনোযোগ দিতে সমস্যাসহ ভুল হওয়ার প্রবণতাও বাড়তে পারে।

তাছাড়া সকালের নাশতা এড়িয়ে গেলে শরীরে প্রোটিনের মাত্রা মারাত্মক মাত্রায় কমে যায়, যা কেরাটিনের মাত্রায় প্রভাব ফেলে। কেরাটিন কমে গেলে চুলের বৃদ্ধি কমে যায়। ফলে চুল পড়তে শুরু করে। আর দিনের পর দিন সকালের নাশতা না করলে হৃদরোগে আক্রান্ত হতে পারেন। এক গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব পুরুষ সকালে নাস্তা এড়িয়ে যান তাদের মধ্যে ২৭ শতাংশের বেশি হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। স্বাস্থ্যকর নাস্তা হৃদরোগের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়।

কী করা উচিত

বাসা থেকে বের হওয়ার আগে অল্প হলেও পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস করা ভালো। নাশতার জন্য ফল, দই, ডিম, বাদাম বা অন্য কোনো সহজপাচ্য খাবার বেছে নেওয়া যেতে পারে। দীর্ঘসময় বাইরে থাকতে হলে সঙ্গে হালকা স্বাস্থ্যকর নাশতা রাখা যেতে পারে।

পাশাপাশি শরীরের পানিশূন্যতা এড়াতে পর্যাপ্ত পানি পান করাও জরুরি। বিশেষ করে গরমের সময় শরীরের চাহিদা অনুযায়ী পানি পান করতে হবে। নিয়মিত খাবার খাওয়ার পরও যদি বারবার মাথা ঘোরা, অতিরিক্ত দুর্বলতা, পেটে ব্যথা বা তীব্র অ্যাসিডিটির সমস্যা হয়, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সূত্র : কালবেলা

ফরিদপুরে এক পরিবারকে সমাজচ্যুত ও মসজিদে প্রার্থনায় নিষেধাজ্ঞা!

মিয়া রাকিবুল
প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৪৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে এক পরিবারকে সমাজচ্যুত ও মসজিদে প্রার্থনায় নিষেধাজ্ঞা!

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের শালিস বৈঠকে গ্রামের বাইরের লোক নিয়ে আসার অজুহাতে একটি পরিবারকে সমাজচ্যুত (একঘরে) করে রাখার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় মাতুব্বরদের বিরুদ্ধে। কেবল একঘরে করাই নয়, ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের স্থানীয় মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায়ের ওপরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। আধুনিক ও গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার যুগে এমন সিদ্ধান্তকে মানবাধিকারের স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে দেখছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

​ঘটনাটি ঘটেছে আলফাডাঙ্গা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চর নওয়াপাড়া গ্রামে। ভুক্তভোগী পরিবারটি ওই গ্রামের প্রয়াত আব্দুর রফিক শেখের। তার তিন ছেলে—তারেক শেখ, ওবায়দুর শেখ ও খালিদ শেখ বর্তমানে চরম নিরাপত্তা ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আব্দুর রফিক শেখের পরিবারের সঙ্গে প্রতিবেশী ওসমান গণির দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত ২৪ জুলাই গ্রামে প্রথম দফা শালিস বসে। সেদিন কোনো সুরাহা না হওয়ায় ৩০ জুলাই দ্বিতীয় দফায় শালিসের মাধ্যমে বিরোধটি নিষ্পত্তি করা হয়। তবে দুই দিনের শালিসেই নিজেদের পক্ষের বক্তব্য তুলে ধরতে রফিক শেখের ছেলেরা গ্রামের বাইরের কিছু আত্মীয়-স্বজনকে উপস্থিত করেন।

​গ্রামের শালিসে বহিরাগত লোক আনার বিষয়টি সহজভাবে নেননি স্থানীয় মাতুব্বররা। এর জের ধরে মাতুব্বর আবুল সরকার ও তাজ মোহাম্মদের নেতৃত্বে ৩১ জুলাই প্রথম একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে ২১ আগস্ট সন্ধ্যায় চর নওয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে পুনরায় সভা ডেকে রফিক শেখের পুরো পরিবারকে সমাজচ্যুত করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন তারা। ওই দিন রাতেই আব্দুর রফিক শেখের ছোট ছেলে খালিদ শেখকে সামাজিক সিদ্ধান্তটি জানিয়ে দেওয়া হয়। পরদিন সভার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে উপজেলা জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

​ভুক্তভোগী খালিদ শেখ বলেন, “শালিসে আমরা আমাদের আত্মীয়-স্বজনদের এনেছিলাম। শুধু এই অপরাধে আমাদের পরিবারকে সমাজচ্যুত করা হয়েছে। মাতুব্বররা সমাজের কাউকে আমাদের সাথে কথা বলতে নিষেধ করেছেন। গ্রামে কোনো অনুষ্ঠানে তো দূরের কথা, মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়তেও বাধা দেওয়া হচ্ছে। বাধ্য হয়ে আমরা অন্য গ্রামে গিয়ে নামাজ পড়ছি।”

​অশ্রুসজল চোখে প্রয়াত আব্দুর রফিক শেখের স্ত্রী শিমুল বেগম বলেন, “আমাদের একঘরে করে রাখা হয়েছে। কারও সাথে কথা বলতে পারছি না। আমার ছেলেরা চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন পার করছে।”

​অভিযোগ স্বীকার করে সমাজপতি আবুল সরকার বলেন, “গ্রামের বিষয় নিয়ে শালিস, অথচ তারা কাউকে না জানিয়ে ৩০-৪০ জন বহিরাগত লোক নিয়ে আসে। তাই মহল্লার সবাই মিলে তাদের সাথে সামাজিক সম্পর্ক না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা পরে আমার কাছে এসেছিল, আমি গ্রামে সবার কাছে ভুল স্বীকার করতে বলেছিলাম, কিন্তু তারা তা করেনি।”

​এ বিষয়ে পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আজিজুল তালুকদার জানান, জমি পরিমাপের সময় তিনি শালিসে থাকলেও পরবর্তী সময়ে সমাজচ্যুত করার সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তাকে কিছু জানানো হয়নি।

​ঘটনাটিকে সম্পূন্ন বেআইনি আখ্যা দিয়ে আলফাডাঙ্গা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হাসান হাসিব বলেন, “বর্তমান যুগে এভাবে কাউকে একঘরে করা বেআইনি ও মানবাধিকার বিরোধী। বিষয়টির সত্যতা জেনে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

​আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) দায়িত্বে থাকা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আল-আমিন জানান, “বিষয়টি এখনো বিস্তারিত জানা নেই। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দেশের প্রচলিত আইনের বাইরে গিয়ে বিচার করার অধিকার কারও নেই।”