সালথায় হচ্ছে সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় একটি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অগ্রগতি প্রতিবেদন পাঠাতে বলা হয়েছে।
সোমবার (৬ জুলাই) বিকেলে সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ইউএনও দবির উদ্দিন বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়ে নির্দেশনা এসেছে। এখন সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য উপযুক্ত স্থান নির্বাচন, প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহসহ অন্যান্য আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম ধাপে ধাপে এগিয়ে নেওয়া হবে। সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে উপজেলা প্রশাসন সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।”
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রটোকল অফিসার-১ মো. উজ্জল হোসেন স্বাক্ষরিত ১৮ জুন ২০২৬ তারিখের এক পত্রে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, ফরিদপুর-২ (সালথা-নগরকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম তাঁর নির্বাচনী এলাকায় একটি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেন।
প্রতিমন্ত্রীর পাঠানো আধা-সরকারি (ডিও) পত্রের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বিষয়টি বিবেচনা করে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবকে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অগ্রগতি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রতিবেদন পাঠানোরও অনুরোধ জানানো হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সালথা উপজেলায় সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় না থাকায় এলাকার বিপুলসংখ্যক ছাত্রীকে দূরবর্তী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে লেখাপড়া করতে হয়। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াতের কারণে তারা নিরাপত্তা ঝুঁকি, অতিরিক্ত যাতায়াত ব্যয় এবং বিভিন্ন সামাজিক প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হয়। এসব কারণে অনেক শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। তাই স্থানীয় শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনার অনুলিপি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, অর্থ মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে সালথায় একটি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দাবি ছিল। বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হলে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মেয়েদের উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষার সুযোগ আরও সহজ হবে। পাশাপাশি ঝরে পড়ার হার কমবে এবং নারী শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেছেন।
এদিকে, সরকারি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর বিদ্যালয়টির স্থান নির্ধারণ, অবকাঠামো নির্মাণ এবং শিক্ষা কার্যক্রম চালুর বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। বিদ্যালয়টি বাস্তবায়িত হলে সালথার শিক্ষা খাতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হবে।

আপনার মতামত লিখুন
Array