খুঁজুন
, ,

ফরিদপুরে এক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ৬ জনের

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:০১ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে এক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ৬ জনের

চলন্ত অবস্থায় চাকা বিস্ফোরিত হয়ে মহাসড়কে উল্টে পড়ে বালুবাহী ট্রাক। মুহূর্তেই ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে একটি প্রাইভেটকার ও ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক। দুমড়েমুচড়ে যাওয়া প্রাইভেটকারে থাকা মা ও তাঁর শিশুসন্তানের মৃত্যু হয়। আর বালু ও ট্রাকের নিচে চাপা পড়া ইজিবাইকচালকের মরদেহ উদ্ধার করে উদ্ধারকর্মীরা।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ফরিদপুর জেলা সদরের কানাইপুরের তেঁতুলতলা এলাকায় এ দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত হন। এর মাত্র এক ঘণ্টা আগে একই মহাসড়কে বাসের সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হন আরো তিনজন। দুই দুর্ঘটনায় এক বিকেলেই ছয়জনের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের তেঁতুলতলা এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহতরা হলেন, মাগুরা জেলার মহম্মদপুর উপজেলার আলোকদিয়া গ্রামের সুমি বেগম (৩২), তাঁর ৭ বছরের ছেলে শাওন এবং অজ্ঞাতপরিচয় এক ইজিবাইকচালক। এ ঘটনায় সুমি বেগমের স্বামী পলাশ (৩৮) গুরুতর আহত অবস্থায় ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুর শহর থেকে একটি বালুবাহী ট্রাক কানাইপুরের দিকে যাচ্ছিল। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে ট্রাকটির সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর ট্রাকটির চাকা বিস্ফোরিত হয়ে সেটি মহাসড়কের ওপর উল্টে পড়ে। এ সময় সামনে থেকে আসা একটি প্রাইভেটকার ও ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ট্রাকটির নিচে চাপা পড়ে। দুর্ঘটনায় প্রাইভেটকারটির একাংশ দুমড়েমুচড়ে যায়।

অন্যদিকে ইজিবাইকটি বালু ও ট্রাকের নিচে পুরোপুরি চাপা পড়ে। খবর পেয়ে ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিস ও হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। বালু সরিয়ে ইজিবাইক থেকে আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করা হয়। ক্রেনের সাহায্যে ট্রাক সরিয়ে প্রাইভেটকার থেকে আরো একজনকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁদের ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসক সুমি বেগম ও তাঁর ছেলে শাওনকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে ট্রাক ও বালুর স্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা ইজিবাইকচালককে উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত থাকে। পরে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করেন ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর পরিচয় জানা যায়নি। এ ঘটনায় সুমি বেগমের স্বামী পলাশ গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দুর্ঘটনার পর মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করে কোতয়ালী থানা ও করিমপুর হাইওয়ে পুলিশ।

এর আগে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মধুখালী উপজেলার আড়কান্দি ব্রীজ সংলগ্ন এলাকায় ঢাকাগামী কিং ফিশার পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে মাগুরাগামী অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অ্যাম্বুলেন্সে থাকা তিনজন নিহত হন। আহত হন আরো কয়েকজন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অ্যাম্বুলেন্সে সাতজনের একটি দল ছিল। তাঁরা ‘ভলেন্টিয়ার বাংলাদেশ’ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সভায় অংশ নিতে মাগুরা থেকে ফরিদপুরে এসেছিলেন। সভা শেষে অ্যাম্বুলেন্সে করে মাগুরায় ফেরার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন তাঁরা।

নিহতদের মধ্যে রাব্বি (২১) নামের একজনের পরিচয় জানা গেছে। অন্য দুজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আহতদের মধ্যে সাগর বিশ্বাস (২২) ও রিয়া (২১) রয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তাঁরা মাগুরা সদর উপজেলার বাসিন্দা।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ হতাহতদের উদ্ধার করে মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ফরিদপুরের করিমপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সালাম জানান, ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে বাস ও অ্যাম্বুলেন্সের সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনার প্রায় এক ঘণ্টা পর একই সড়কের কানাইপুরের তেঁতুলতলা এলাকায় ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে মা-ছেলেসহ আরো তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ফরিদপুরে বাস-অ্যাম্বুলেন্স সংঘর্ষে নিহত ৩

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে বাস-অ্যাম্বুলেন্স সংঘর্ষে নিহত ৩

ফরিদপুরের মধুখালীতে বাস-অ্যাম্বুলেন্স সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকালে উপজেলার আড়কান্দি এলাকায় এ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতদের মধ্যে দুইজন পুরুষ ও একজন নারী রয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের নাম-পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

পুলিশ জানায়, ঢাকাগামী একটি বাসের সঙ্গে মাগুরাগামী একটি অ্যাম্বুলেন্সের সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনস্থলে তিনজন নিহত হয়।

ফরিদপুরের করিমপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সালাম ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, বাস-অ্যাম্বুলেন্স সংঘর্ষ তিনজন নিহত হয়েছেন। তাদের নাম-পরিচয় এখনও জানা সম্ভব হয়নি। আমরা উদ্ধার কাজ চালাচ্ছি। পরবর্তীতে বিস্তারিত জানানো যাবে।

সদরপুরে প্রকাশ্যেই সরকারি খাল থেকে ড্রেজারে দিয়ে বালু উত্তোলন, হুমকির মুখে কৃষিজমি

শিশির খাঁন
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:২৩ অপরাহ্ণ
সদরপুরে প্রকাশ্যেই সরকারি খাল থেকে ড্রেজারে দিয়ে বালু উত্তোলন, হুমকির মুখে কৃষিজমি

ফরিদপুরের সদরপুরে প্রকাশ্যেই সরকারি খাল থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এতে খালের পাড়, পাশের কৃষিজমি ও আশপাশের সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার আকোটের চর ইউনিয়নের কোকারাম সরকারের কান্দি গ্রামের রামনগর খালে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কাজল ও মুন্নাফ নামের দুই ব্যক্তি সেখানে ড্রেজার দিয়ে বালু তুলছেন বলে জানান তাঁরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এভাবে বালু উত্তোলনের ফলে খালের পাড় ভেঙে যাওয়া, কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং আশপাশের সড়ক ঝুঁকির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে খালের স্বাভাবিক পরিবেশ ও নাব্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, প্রকাশ্যে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এভাবে বালু উত্তোলন চলতে থাকলে এলাকার কৃষিজমি ও সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

কোকারাম সরকারের কান্দি এলাকার এক কৃষক বলেন, এ অঞ্চলের মানুষের প্রতিবছরই পদ্মা নদীর ভাঙনের শিকার হতে হয়। এর মধ্যে আবার প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে বালু তুলছেন। এতে খালের পাশের কৃষিজমি সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আমরা এসব বালু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

এ বিষয়ে ড্রেজার মালিক মুন্নাফ শেখের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এখান থেকে চুরি করে বালু উত্তোলন করছি। সরকারি কোনো অনুমোদন নেই।

ড্রেজার মালিক কাজল বলেন, এভাবে বালু উত্তোলনে কোনো অনুমোদন লাগে না। এটা সরকারি জায়গা নয়, ব্যক্তিগত জমি।

এ বিষয়ে সদরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. পলাশ উদ্দিন বলেন, সরকারি খাল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কোনো সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মন ভালো রাখার ১০টি সহজ উপায়

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩৯ পূর্বাহ্ণ
মন ভালো রাখার ১০টি সহজ উপায়

সুস্থ থাকতে সুষম খাবার ও নিয়মিত ব্যায়ামের পাশাপাশি মানসিক সুস্থতাও জরুরি। কিন্তু কাজের চাপ, ব্যক্তিগত সমস্যা কিংবা নানা কারণে অনেক সময় মন খারাপ থাকে।

কোনো কিছুতেই আনন্দ খুঁজে পাওয়া যায় না। এমন পরিস্থিতিতে হতাশ না হয়ে দৈনন্দিন জীবনে কিছু ছোট পরিবর্তন আনতে পারেন।

প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটানো, বাইরে হাঁটতে যাওয়া কিংবা পছন্দের কাজ করার মতো অভ্যাস মন ভালো রাখতে সহায়ক হতে পারে।

চলুন জেনে নেওয়া যাক, মন ভালো রাখতে কার্যকর হতে পারে এমন ১০টি সহজ উপায়।

১. প্রিয়জনদের সঙ্গে খেলুন

অবসর সময়ে পরিবারের সদস্য কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটান। সবাই মিলে বোর্ড গেম, লুডু বা অন্য কোনো মজার খেলা খেলতে পারেন।

এতে একঘেয়েমি কাটতে পারে, বাড়তে পারে পারস্পরিক যোগাযোগও। তবে চেষ্টা করুন, এ সময় যেন পুরো মনোযোগ থাকে সামনাসামনি আনন্দ ভাগাভাগি করার দিকে।

২. কিছুক্ষণ হাঁটুন

মন খারাপ লাগলে ঘরে বসে না থেকে বাইরে হাঁটতে বেরিয়ে পড়ুন। পার্কে কিংবা নিরিবিলি কোনো পথে কিছুক্ষণ হাঁটলে পরিবেশের পরিবর্তন আপনার ভালো লাগতে পারে। নিয়মিত হাঁটা শারীরিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতেও সহায়ক।

৩. বন্ধুর সঙ্গে কথা বলুন

মনের কষ্ট নিজের মধ্যে চেপে না রেখে বিশ্বস্ত কোনো বন্ধু বা কাছের মানুষের সঙ্গে কথা বলুন। চাইলে ফোন করেই নিজের অনুভূতির কথা জানাতে পারেন। অনেক সময় প্রিয়জনের কথা শোনা, নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়া কিংবা প্রয়োজনের সময় পরামর্শ পাওয়া মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।

৪. নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করুন

একই ধরনের কাজ করতে করতে একঘেয়েমি তৈরি হতে পারে। তাই নতুন কিছু শেখার উদ্যোগ নিন। রান্না, ছবি আঁকা, বাগান করা কিংবা ব্যায়ামের মতো কোনো কাজে যুক্ত হতে পারেন। ছোট একটি লক্ষ্য নির্ধারণ করে তা পূরণের চেষ্টা করলেও নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস বাড়তে পারে।

৫. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে বিরতি নিন

দীর্ঘ সময় ফোনে থাকা কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের জীবনযাপনের সঙ্গে নিজের তুলনা করা মন খারাপের কারণ হতে পারে। তাই কিছুক্ষণের জন্য ফোন সরিয়ে রাখুন। এ সময় বই পড়তে পারেন, পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে পারেন কিংবা নিজের পছন্দের কোনো কাজে মনোযোগ দিতে পারেন।

৬. পছন্দের গান শুনুন বা গাইুন

গান অনেকের মন ভালো করতে সাহায্য করে। মন খারাপ থাকলে প্রিয় কোনো গান শুনুন কিংবা গুনগুন করে গেয়ে উঠুন। চাইলে হালকা সুরের গান শুনতে পারেন। তবে সবার ক্ষেত্রে গানের প্রভাব এক রকম নয়। তাই যে গান বা সুর আপনার ভালো লাগে, সেটিই বেছে নিন।

৭. অন্যের উপকার করুন

অন্যের জন্য ছোট কোনো ভালো কাজও নিজের মনে তৃপ্তি এনে দিতে পারে। পরিবারের কাজে সাহায্য করা, বন্ধুর বিপদে পাশে দাঁড়ানো কিংবা অসহায় কাউকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করুন। মানুষের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং সামাজিকভাবে যুক্ত থাকা মানসিক সুস্থতার জন্য উপকারী হতে পারে।

৮. পছন্দের খাবার রান্না করুন

রান্না করতে ভালো লাগলে অবসর সময়ে নতুন কোনো পদ তৈরি করতে পারেন। পছন্দের খাবার রান্না করা কিংবা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খাবার ভাগ করে নেওয়া আনন্দের উপলক্ষ হতে পারে। তবে মন ভালো করার জন্য খাবারের ওপর নির্ভর না করে সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখুন।

৯. হাসি ও আনন্দের উপলক্ষ খুঁজুন

প্রিয়জনের সঙ্গে মজার স্মৃতি নিয়ে কথা বলুন, হাস্যরসাত্মক কিছু দেখুন কিংবা আনন্দদায়ক কোনো কাজে অংশ নিন। হাসি ও ইতিবাচক অভিজ্ঞতা সাময়িকভাবে চাপ কমাতে এবং মন ভালো করতে সহায়তা করতে পারে। তবে মন খারাপ থাকলে জোর করে হাসার প্রয়োজন নেই। নিজের অনুভূতিকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করাও গুরুত্বপূর্ণ।

১০. আশাবাদী থাকুন, নিজেকে সময় দিন

কঠিন সময় এলে মনে হতে পারে, পরিস্থিতি আর ভালো হবে না। কিন্তু মনে রাখুন, অনুভূতি ও পরিস্থিতি পরিবর্তিত হতে পারে। নিজের প্রতি সদয় থাকুন, ছোট ছোট অর্জনকে গুরুত্ব দিন এবং প্রতিদিনের জন্য বাস্তবসম্মত লক্ষ্য ঠিক করুন। সব সমস্যা একসঙ্গে সমাধান করতে হবে-এমন চাপ নিজেকে দেবেন না।

মন খারাপ দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে, দৈনন্দিন কাজে আগ্রহ কমে গেলে কিংবা ঘুম, খাওয়া ও স্বাভাবিক জীবনযাপনে সমস্যা দেখা দিলে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো। প্রয়োজন হলে সহায়তা চাওয়াও নিজের যত্ন নেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

মনে রাখবেন, মন ভালো রাখার কোনো একক কৌশল সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে কাজ করে না। নিজের জন্য উপযোগী অভ্যাস খুঁজে নিন, পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন এবং কাছের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখুন।