খুঁজুন
শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২৩ মাঘ, ১৪৩২

আলফাডাঙ্গায় হাত দিয়ে টান দিলেই উঠে আসছে সড়কের কার্পেটিং

আলফাডাঙ্গা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৬ জুন, ২০২৫, ৭:৩৩ পিএম
আলফাডাঙ্গায় হাত দিয়ে টান দিলেই উঠে আসছে সড়কের কার্পেটিং

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার পাচুরিয়া ইউনিয়নে ভেন্নাতলা থেকে বেড়িরহাট পর্যন্ত সড়কের সংস্কার কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সড়কে কার্পেটিং করার পরদিনই হাত দিয়ে কার্পেটিং তুলে ফেলছেন স্থানীয়রা। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে স্থানীয়রা। তবে উপজেলা প্রকৌশলী বলছেন, সাধারণত কার্পেটিংয়ের পর ৭২ ঘণ্টা লাগে সময় লাগে স্থায়ী হতে। তারপরও বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

হাত দিয়ে টান দিলেই উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং, এমন চিত্র ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার পাচুরিয়া ইউনিয়নের ভেন্নাতলা থেকে বেড়িরহাট পর্যন্ত সড়কের। বিক্ষুব্ধ স্থানীয়দের অভিযোগ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাহমুদ এন্টারপ্রাইজ বিটুমিনসহ নিম্নমানের সামগ্রী গিয়ে সড়কের কার্পেটিং করায় এমন বেহাল দশা।

সূত্র জানায়, ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার পাচুরিয়া ইউনিয়নের ভেন্নাতলা থেকে বেড়িরহাট পর্যন্ত সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয় এলজিইডি। ৩ হাজার ৭০০ মিটার দীর্ঘ এ সড়ক উন্নয়নকাজে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা।

গত শনিবার (১৪ জুন) ভেন্নাতলা অংশে ১৫০ মিটার সড়কের কার্পেটিং করা হয়। পরদিন রোববার (১৫ জুন) দুপুরে ওই সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় এক মোটরসাইকেল আরোহী পরে যায়। পরে এলাকার লোকজন সড়কের বিভিন্ন স্থানে হাত দিয়ে টান দিলে কার্পেটিং উঠে আসে। এসময় সেখানে উপস্থিত থাকা সহকারী প্রকৌশলীসহ ঠিকাদারের লোকজনের কাছে বিষয়টি জানতে চায় স্থানীয়রা। এরপর একে একে শতাধিক মানুষ এসে তাদের অবরুদ্ধ করে রাখে এবং নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়। পরে সহকারী প্রকৌশলীসহ ঠিকাদারের লোকজন সেখান থেকে সরে যায়। এখন পর্যন্ত সড়কের নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শুরু থেকে নিম্নমানের কাজের প্রতিবাদ করলেও তা আমলে নেয়া হয়নি। প্রথম থেকেই ঠিকাদার নিম্নমানের কাজ করছেন। তারা সঠিকভাবে কাজ করার জন্য বললেও ঠিকাদার শোনেননি। এ সময় তারা সড়কের বিভিন্ন স্থানে হাত দিয়ে টেনে কার্পেটিং উঠে যাওয়ার দৃশ্য দেখান। তাদের দাবি পুনরায় সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করা হোক সড়কটি।

সরেজমিনে সোমবার (১৬ জুন) দুপুরে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার পাচুরিয়া ইউনিয়নের ভেন্নাতলা বাজারে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে গেছে। স্থানীয় এলাকাবাসী হাত দিয়ে চাপড়া চাপড়া কার্পেটিং তুলছেন। এসময় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী নিম্নমানের কাজ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ সময় তারা সড়কের বিভিন্ন স্থানে হাত দিয়ে টেনে কার্পেটিং উঠে যাওয়ার দৃশ্য দেখান।

স্থানীয় ভেন্নাতলা বাজারের মুদি দোকানি জুয়েল রানা বলেন, শুরু থেকে নিম্নমানের কাজ করা হচ্ছিল। বিভিন্ন সময় ঠিকাদারকে বিষয়টি বললেও সে কর্ণপাত করেনি। শনিবার বিকালে কার্পেটিং এর কাজ করে। রোববার দুপুরের দিকে সড়ক দিয়ে মোটরসাইকেল ও ইজিবাইক, ভ্যান চলাচল করলে বিভিন্ন জায়গায় দেবে যায়। পরে আমরা সড়কটির বিভিন্ন স্থানে হাত দিয়ে দেখি কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। টান দিলেই চাপড়া ধরে উঠে আসছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মেহেদি হাসান কাছেদ বলেন, কার্পেটিংয়ের একদিন পর রোববার দুপুরে বাজারে গিয়ে দেখি সড়কের কার্পেটিং হাত দিয়ে তুলছে কয়েকজন। হাত দিয়ে টান দিলেই চাপড়া ধরে উঠে আসছে। নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কার্পেটিং করায় এ অবস্থা।

তিনি আরো বলেন, ওই সময় সহকারী প্রকৌশলী ও ঠিকাদারের লোক ছিল, বিষয়টি তাদের কাছে জানতে গেলে তাদের সাথে স্থানীয়দের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে দুই তিন শত স্থানীয় এলাকাবাসী তাদের অবরুদ্ধ করে কাজ বন্ধ করে দেয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সহকারী প্রকৌশলীসহ ঠিকাদারের লোকজন দ্রুত ওই স্থান থেকে সটকে পরে। এখন পর্যন্ত কাজ বন্ধ রয়েছে। আমাদের দাবি সড়কটি পুনরায় সঠিকভাবে নির্মাণ করা হোক।

 

ভ্যানচালক সিরাজ বিশ্বাস বলেন, দীর্ঘদিন যাবৎ ভাঙ্গা চোরা সড়ক দিয়ে আমরা চলাচল করেছি। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার পর সড়কের কাজ শুরু হওয়ায় আমরা খুব খুশি ছিলাম। কিন্তু এভাবে নিম্নমানের কাজ করা হবে এটা ভাবতে পারি নাই। কার্পেটিংয়ের একদিন পরই তা চাপড়া ধরে উঠে যাচ্ছে। এর চেয়ে আগের রাস্তাই ভালো ছিল। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আমিনুর রহমান বলেন, সড়কের কার্পেটিংয়ের অধিকাংশ কাজ বাকি রয়েছে। শুরুতেই এমন নিম্নমানের কাজ করায় ক্ষুব্ধ হয়েছে স্থানীয় এলাকাবাসী। প্রকৌশলী ও ঠিকাদারের লোকজনের সাথে বাকবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটেছে। প্রত্যাশা করছি বাকি কাজ টুকু ভালোভাবে সম্পন্ন করবে কর্তৃপক্ষ।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাহমুদ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মাহমুদ জানান, শিডিউল অনুযায়ী সড়কের নির্মাণ কাজ করা হচ্ছে। নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ সত্য নয়। এলাকাবাসী বিষয়টি বুঝতে না পারায় আমাদের সাথে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছিল। মূলত রাস্তার কার্পেটিং করার ৭২ ঘণ্টা সময় অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত স্থায়ী হয় না। ২৪ ঘণ্টা পরেই তারা কার্পেটিং তুলে এধরনের অভিযোগ তুলেছে।

এলজিইডির আলফাডাঙ্গা উপজেলা প্রকৌশলী রাহাত ইসলাম জানান, গুণগতমান বজায় রেখেই কাজটি করা হচ্ছে। তবে স্থানীয় কিছু লোকজন গতকাল বিষয়টি বুঝতে না পেরে ক্ষুব্ধ হয়ে যায়। সাধারণত কার্পেটিংয়ের পর ৭২ ঘণ্টা সময় লাগে স্থায়ী হতে। তবে ঠিকাদারের গাফিলতি আছে কিনা বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, স্থানীয় এলাকাবাসীর বাধার মুখে সড়কের নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে দু-এক দিনের মধ্যে পুনরায় কাজ শুরু করা হবে।

বাংলাদেশে ২০২৬ নির্বাচন: ভোটের রাজনীতি ও গণতন্ত্রের কঠিন পরীক্ষা

রহমান মৃধা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২৪ এএম
বাংলাদেশে ২০২৬ নির্বাচন: ভোটের রাজনীতি ও গণতন্ত্রের কঠিন পরীক্ষা

বাংলাদেশ এখন একটি ঐতিহাসিক মোড়ে দাঁড়িয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেবল একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা যাবে না। এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভিত্তি, রাষ্ট্রীয় বিশ্বাস এবং ভবিষ্যৎ‑পরিকল্পনার প্রতি জাতির আত্মবিশ্বাসের পরীক্ষাও বটে।

এই নির্বাচনের স্বচ্ছতা, গ্রহণযোগ্যতা ও কার্যকারিতা নিয়ে দেশের মানুষের মনেই গভীর প্রশ্ন ও সংশয় রয়েছে। প্রশ্নগুলো কেবল একদলীয় দাবির নয়; বরং এগুলো বিস্তৃত রাজনৈতিক আলোচনার, গণমত ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের প্রতিফলন।

১. নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে কি?

এ প্রশ্ন এখন সবচেয়ে বড় এবং বাস্তব উদ্বেগ। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে ভোট পরিবেশ ‘এখন পর্যন্ত সন্তোষজনক’ এবং সবাই সহযোগিতা করলে ‘সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব’। তবু নির্বাচন গ্রহণযোগ্যতা শুধু সময়মতো আয়োজন দ্বারা নির্ধারিত হয় না; এটি নির্ভর করে সাধারণ জনগণের আস্থা, প্রতিদ্বন্দ্বী দলের অংশগ্রহণ, স্বচ্ছ প্রশাসন এবং ভোটারদের নিরাপত্তার ওপর।

হেট‑স্পিচের ঝুঁকি রয়েছে।

• রাজনৈতিক দল, নাগরিক সংগঠন ও মিডিয়ার দায়িত্ব হলো সতর্ক ও দায়িত্বশীল আচরণ করা।

• ভোটারদের সঠিক তথ্য প্রদান এবং শান্তিপূর্ণ অংশগ্রহণের পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

চূড়ান্ত মতামত

বাংলাদেশের ২০২৬ নির্বাচন কেবল একটি ভোট নয়; এটি দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, সামাজিক বিশ্বাস ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির এক অন্তর্দ্বন্দ্বময় পরীক্ষা।

সফল ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য প্রয়োজন:

১. স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী নির্বাচন প্রক্রিয়া।

২. প্রতিটি দলের সমান সুযোগ ও বিরোধী দলের অংশগ্রহণ।

৩. প্রশাসন ও ইসির নিরপেক্ষ ভূমিকা।

৪. ভোটার নিরাপত্তা, সংখ্যালঘু অধিকার ও সামাজিক স্থিতিশীলতা।

৫. আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক, স্বচ্ছ গণনা ও তথ্য পরিবেশ নিশ্চিত করা।

ফলাফল যাই হোক, যদি এই শর্তগুলো নিশ্চিত করা হয়, তবে নির্বাচন কেবল অনুষ্ঠিত হবে না; এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পুনরুজ্জীবন এবং জাতির ঐক্যের প্রতীক হিসেবে বিশ্বে স্বীকৃত হবে।

বাংলাদেশের জনগণ চায় নির্বাচন, বিশ্বাস ও স্থিরতার সমন্বয়। এটি আজকের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এবং দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।

লেখক: রহমান মৃধা, গবেষক ও লেখক, সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন

 

আধুনিক জীবনে রোজা: জরুরি ৩০টি মাসআলার সহজ ব্যাখ্যা

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:০৫ এএম
আধুনিক জীবনে রোজা: জরুরি ৩০টি মাসআলার সহজ ব্যাখ্যা

রমজান মাসে রোজা পালন করতে গিয়ে আধুনিক চিকিৎসা ও দৈনন্দিন জীবনের নানা বিষয়কে ঘিরে মানুষের মনে বহু প্রশ্ন দেখা দেয়। বিশেষ করে বর্তমান সময়ে চিকিৎসা পদ্ধতি ও পরীক্ষানিরীক্ষার ধরন বদলে যাওয়ায় ইনজেকশন, ইনহেলার, বিভিন্ন মেডিকেল টেস্ট, অপারেশন কিংবা ওষুধ ব্যবহারের ক্ষেত্রে রোজা ভঙ্গ হবে কি না—এ নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব তৈরি হয়।

ফিকহের কিতাব ও সমসাময়িক আলেমদের গবেষণায় দেখা যায়, রোজা ভঙ্গ হওয়ার মূলনীতি হলো, শরীরের স্বাভাবিক গ্রহণপথ দিয়ে কোনো বস্তু ভেতরে প্রবেশ করে পাকস্থলী বা অভ্যন্তরীণ খালি স্থানে পৌঁছানো। এ নীতির আলোকে আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলেমরা বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এবং সেসব মাসআলার সমাধান দিয়েছেন।

নিচে রোজা সম্পর্কিত ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ আধুনিক মাসআলা একনজরে তুলে ধরা হলো—

১. ইনজেকশন (Injection)

ইনজেকশন নিলে রোজা ভঙ্গ হবে না।

২. ইনহেলার (Inhaler)

শ্বাসকষ্ট দূর করার লক্ষ্যে তরলজাতীয় একটি ওষুধ স্প্রে করে মুখের ভিতর দিয়ে গলায় প্রবেশ করানো হয়। এভাবে ইনহেলার স্প্রে করার দ্বারা রোজা ভেঙ্গে যাবে।

৩. এনজিও গ্রাম (Angio Gram)

হার্ট ব্লক হয়ে গেলে উরুর গোড়া দিয়ে কেটে বিশেষ রগের ভিতর দিয়ে হার্ট পর্যন্ত যে ক্যাথেটার ঢুকিয়ে পরীক্ষা করা হয়, তার নাম এনজিও গ্রাম। এ যন্ত্রটিতে কোনো ধরনের ওষুধ লাগানো থাকলেও রোজা ভঙ্গ হবে না।

৪. এন্ডোস কপি (Endos Copy)

চিকন একটি পাইপ ; যার মাথায় বাল্ব জাতীয় একটি বস্তু থাকে। পাইপটি পাকস্থলিতে ঢুকানো হয় এবং বাইরে থাকা মনিটরের মাধ্যমে রোগীর পেটের অবস্থা নির্নয় করা হয়। এ নলে যদি কোনো ওষুধ ব্যবহার করা হয় বা পাইপের ভিতর দিয়ে পানি/ওষুধ ছিটানো হয়ে থাকে, তাহলে রোজা ভেঙ্গে যাবে। আর যদি কোনো ওষুধ লাগানো না থাকে তাহলে রোজা ভঙ্গ হবে না।

৫. নাইট্রোগ্লিসারিন (Nitro Glycerin)

এরোসলজাতীয় ওষুধ, যা হার্টের জন্য দুই-তিন ফোটা জিহ্বার নিচে দিয়ে মুখ বন্ধ করে রাখা হয়। ওষুধটি শিরার মাধ্যমে রক্তের সাথে মিশে যায়। এ ওষুধের কিছু অংশ গলায় প্রবেশ করার প্রবল সম্ভবনা রয়েছে। অতএব- এতে রোজা ভেঙে যাবে।

৬. লেপারোস কপি (Laparoscopy)

শিক্জাতীয় একটি যন্ত্র দ্বারা পেট ছিদ্র করে পেটের ভিতরের কোনো অংশ বা গোশত ইত্যাদি পরীক্ষা করার উদ্দেশ্যে বের করে নিয়ে আসার জন্য ব্যবহৃত যন্ত্র। এতে যদি ঔষধ লাগানো থাকে, তাহলে রোজা ভেঙে যাবে। অন্যথায় রোজা ভঙ্গ হবে না।

৭.অক্সিজেন (Oxygen)

রোজা অবস্থায় ওষুধ ব্যবহৃত অক্সিজেন ব্যবহার করলে রোজা ভেঙে যাবে। তবে শুধু বাতাসের অক্সিজেন নিলে রোজা ভঙ্গ হবে না।

৮. মস্তিস্ক অপারেশন (Brain Operation)

রোজা অবস্থায় মস্তিস্ক অপারেশন করলে (ওষুধ ব্যবহার করা হোক বা না হোক) রোজা ভঙ্গ হবে না।

৯. রক্ত নেওয়া বা দেওয়া

রোজা অবস্থায় রক্ত দিলে রোযা ভাঙ্গে না। তাই টেস্ট বা পরীক্ষার জন্য রক্ত দেওয়া যাবে। তবে এ পরিমাণ রক্ত দেওয়া মাকরুহ যার কারণে শরীর অধিক দুর্বল হয়ে পড়ে এবং রোজা রাখা কষ্টকর হয়ে যায়। তাই দুর্বল লোকদের জন্য (বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া) রোজা অবস্থায় অন্য রোগীকে রক্ত না দেওয়া উচিত। আর এমন সবল ব্যক্তি যে রোজা অবস্থায় অন্যকে রক্ত দিলে রোজা রাখা তার জন্য কষ্টকর হবে না, সে রক্ত দিতে পারবে। এতে কোনো অসুবিধা নেই।

১০. সিস্টোসকপি (cystoscopy)

প্রসাবের রাস্তা দিয়ে ক্যাথেটার প্রবেশ করিয়ে যে পরীক্ষা করা হয়, এর দ্বারা রোজা ভঙ্গ হবে না।

১১. প্রক্টোসকপি (proctoscopy)

পাইলস, পিসার, অর্শ, হারিশ, বুটি ও ফিস্টুলা ইত্যাদি রোগের পরীক্ষাকে প্রক্টোসকপি বলে। মলদ্বার দিয়ে নল প্রবেশ করিয়ে পরীক্ষাটি করা হয়। রোগী যাতে ব্যথা না পায়, সে জন্য নলের মধ্যে গ্লিসারিন জাতীয় পিচ্ছিল বস্তু ব্যবহার করা হয়। নলটি পুরোপুরী ভিতরে প্রবেশ করে না। চিকিৎসকদের মতানুসারে ওই পিচ্ছিল বস্তুটি নলের সাথে মিশে থাকে এবং নলের সাথেই বেরিয়ে আসে, ভেতরে থাকে না। আর থাকলেও তা পরবর্তীতে বেরিয়ে আসে। যদিও শরীর তা চোষে না কিন্তু ঐ বস্তুটি ভিজা হওয়ার কারণে রোজা ভেঙ্গে যাবে।

১২. কপার-টি (Coper-T)

যোনিদ্বারে প্লাস্টিক লাগানোকে কপার-টি বলা হয়। সহবাসের সময় বীর্যপাত হলে যেন বীর্য জরায়ুতে পৌঁছতে না পারে এজন্য এটি লাগানো হয়। এ কপার-টি লাগিয়েও সহবাস করলে রোজা ভেঙে যাবে। কাজা কাফফারা উভয়টি ওয়াজিব হবে।

১৩.সিরোদকার অপারেশন (Shirodkar Operation)

সিরোদকার অপারেশন হলো, অকাল গর্ভপাত হওয়ার আশঙ্কা থাকলে জরায়ুর মুখের চতুর্পার্শ্বে সেলাই করে মুখকে খিচিয়ে রাখা। এতে অকাল গর্ভপাত রোধ হয়। যেহেতু এতে কোনো ঔষধ বা বস্তু রোজা ভঙ্গ হওয়ার গ্রহণযোগ্য খালি স্থানে পৌঁছে না, তাই এর দ্বারা রোজা ভঙ্গ হবে না।

১৪. ডি এন্ড সি (Dilatation and Curettage)

ডি এন্ড সি হলো, আট থেকে দশ সপ্তাহের মধ্য Dilator এর মাধ্যমে জীবত কিংবা মৃত বাচ্চাকে মায়ের গর্ভ থেকে বের করে নিয়ে আসা। এতে রোজা ভেঙ্গে যাবে। অযথা এমন করলে কাজা ও কাফফারা উভয়টি দিতে হবে এবং তওবা করতে হবে।

১৫. এম.আর (M.R)

এম আর হলো, গর্ভ ধারণের পাঁচ থেকে আট সপ্তাহের মধ্যে যোনিদ্বার দিয়ে জরায়ুতে এম আর সিরঞ্জ প্রবেশ করিয়ে জীবত কিংবা মৃত ব্রুণ নিয়ে আসা। যারপর ঋতুস্রাব পুনরায় হয়। অতএব ঋতুস্রাব শুরু হওয়ার কারণে রোজা ভেঙ্গে যাবে এবং কাজা করতে হবে।

১৬. আলট্রাসনোগ্রাম (Ultrasongram)

আলট্রাসনোগ্রাম পরীক্ষায় যে ওষুধ বা যন্ত্র ব্যবহার করা হয়, সবই চামড়ার উপরে থাকে। তাই আলট্রাসনোগ্রাম করলে রোজা ভঙ্গ হবে না।

১৭. স্যালাইন (Saline)

স্যালাইন নেওয়া হয় রগে, আর রগ যেহেতু রোজা ভঙ্গ হওয়ার গ্রহণযোগ্য রাস্তা নয়, তাই স্যালাইন নিলে রোজা ভঙ্গ হবে না। তবে রোজার কষ্ট লাঘবের জন্য স্যালাইন নেওয়া মাকরূহ।

১৮. টিকা নেওয়া (Vaccine)

টিকা নিলে রোজা ভাঙবে না। কারণ, টিকা রোজা ভঙ্গ হওয়ার গ্রহণযোগ্য রাস্তায় দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করে না।

১৯. ঢুস লাগানো (Douche)

ঢুস মলদ্বারের মাধ্যমে দেহের ভেতরে প্রবেশ করে, তাই ঢুস নিলে রোজা ভেঙে যাবে।

২০. ইনসুলিন গ্রহণ করা (Insulin)

ইনসুলিন নিলে রোজা ভঙ্গ হবে না। কারণ, ইনসুলিন রোজা ভঙ্গ হওয়ার গ্রহণযোগ্য রাস্তা দিয়ে প্রবেশ করে না এবং গ্রহণযোগ্য খালি জায়গায়ও ( পাকস্থলি) প্রবেশ করে না।

২১. দাঁত তোলা

রোজা অবস্থায় একান্ত প্রয়োজন হলে দাঁত তোলা জায়েজ আছে। তবে অতি প্রয়োজন না হলে এমনটা করা মাকরূহ। দাঁত তোলার সময় ওষুধ যদি গলায় চলে যায় অথবা থুথু থেকে বেশি অথবা সমপরিমাণ রক্ত গলাধঃকরণ হয়, তাহলে রোজা ভেঙ্গে যাবে।

২২. পেস্ট, টুথ পাউডার ব্যবহার করা

রোজা অবস্থায় দিনের বেলায় টুথ পাউডার, পেস্ট, মাজন ইত্যাদি ব্যবহার করা মাকরূহ। কিন্তু গলাধঃকরণ হলে রোজা ভেঙে যাবে।

২৩. মিসওয়াক করা

শুকনা বা কাঁচা মিসওয়াক দিয়ে দাঁত মাজার দ্বারা রোজার কোনো ক্ষতি হয় না।

২৪. মুখে ওষুধ ব্যবহার করা

মুখে ওষুধ ব্যবহার করে তা গিলে ফেললে বা ওষুধের অংশ বিশেষ গলাধঃকরণ হলে রোজা ভেঙে যাবে। গলায় প্রবেশ না করলে রোজা ভঙ্গ হবে না।

২৫. রক্ত পরীক্ষার জন্য রক্ত দেওয়া

রক্ত পরীক্ষার জন্য রক্ত দিলে রোজার কোনো ক্ষতি হবে না। তবে খুব বেশি পরিমাণে রক্ত দেওয়া, যার দ্বারা শরীরে দুর্বলতা আসে, মাকরূহ।

২৬. ডায়াবেটিসের সুগার মাপা

ডায়াবেটিসের সুগার মাপার জন্য সুচ ঢুকিয়ে যে একফোটা রক্ত নেওয়া হয়, এতে রোজার কোনো ক্ষতি হবে না।

২৭. নাকে ওষুধ দেওয়া

নাকে পানি বা ওষুধ দিলে যদি তা খাদ্য নালীতে চলে যায়, তাহলে রোজা ভেঙে যাবে এবং কাজা করতে হবে।

২৮. চোখে ওষুধ বা সুরমা ব্যবহার করা

চোখে ওষুধ বা সুরমা ব্যবহার করার দ্বারা রোজা ভাঙবে না। যদিও এগুলোর স্বাদ গলায় অনুভব হয়।

২৯. কানে ওষুধ প্রদান করা

কানে ওষুধ, তেল ইত্যাদি ঢুকালে রোজা ভঙ্গ হবে না। তবে কারো কানের পর্দা ছিদ্র হলে ভিন্ন কথা।

৩০. নকল দাঁত মুখে রাখা

রোজা রেখে নকল দাঁত মুখে স্থাপন করে রাখলে রোজার কোনো ক্ষতি হয় না।

বিস্তারিত জানতে দেখুন

الإسلام والطب الحديث لفقيه الإسلا الشيخ العلامة دلاور حسين ، ضابط المفطرات من الأدوية ونحوها في الصيام للفقيه العلامة رفيع العثماني ، جديد فقهي مسائل للفقيه العلامة خالد سيف الله الرحماني.

সমাধান জানিয়েছেন

মুফতি আবদুর রহমান হোসাইনী

উস্তাজুল ফিকহ, আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া বায়তুস সালাম, মিরপুর, ঢাকা

রোজা রেখে রক্তদান: রোজা কি ভেঙে যায়?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:৪৬ এএম
রোজা রেখে রক্তদান: রোজা কি ভেঙে যায়?

রমজান মাসে রোজা পালন করতে গিয়ে দৈনন্দিন প্রয়োজন ও মানবিক দায়িত্ব সম্পর্কিত নানা মাসআলা সামনে আসে। বিশেষ করে অসুস্থ রোগীর জন্য রক্ত দেওয়ার প্রয়োজন হলে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, রোজা অবস্থায় রক্ত দিলে কি রোজা নষ্ট হয়ে যায়?

কারণ, রোজা অবস্থায় শরীর থেকে রক্ত বের হওয়া, দুর্বলতা সৃষ্টি হওয়া কিংবা চিকিৎসাজনিত প্রয়োজনে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা—এসব বিষয়ে শরিয়তের বিধান সম্পর্কে অনেকেই স্পষ্ট ধারণা রাখেন না।

হাদিস ও ফিকহের কিতাবে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট আলোচনা রয়েছে। আলেমরা ব্যাখ্যা করেছেন, রোজা ভঙ্গ হওয়ার মূল কারণ শরীরের ভেতরে কোনো কিছু প্রবেশ করা; শরীর থেকে কিছু বের হলে সাধারণত রোজা নষ্ট হয় না, তবে অতিরিক্ত রক্ত দিলে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকায় সে বিষয়ে সতর্কতার নির্দেশনা রয়েছে।

তাই রোজা অবস্থায় রক্ত দেওয়া যাবে কি না, কার জন্য তা মাকরূহ হতে পারে এবং কোন অবস্থায় দেওয়া বৈধ—এসব বিষয় জানা রোজাদারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, যাতে মানবিক দায়িত্ব পালন ও ইবাদত—দুটিই শরিয়তের বিধান অনুযায়ী করা যায়।

রোজা অবস্থায় রক্ত দিলে কি রোজা নষ্ট হয়ে যাবে?

ফুক্বাহায়ে কেরামরা বলছেন, রোজা অবস্থায় রক্ত দিলে রোজা ভাঙ্গে না। তাই টেস্ট বা পরীক্ষার জন্য রক্ত দেওয়া যাবে। তবে এ পরিমাণ রক্ত দেওয়া মাকরুহ, যার কারণে শরীর অধিক দুর্বল হয়ে পড়ে এবং রোজা রাখা কষ্টকর হয়ে যাবে। তাই দুর্বল লোকদের জন্য রোজা অবস্থায় অন্য রোগীকে রক্ত দেওয়া ঠিক নয়। আর এমন সবল ব্যক্তি যে রোজা অবস্থায় অন্যকে রক্ত দিলে রোজা রাখা তার জন্য কষ্টকর হবে না, সে রক্ত দিতে পারবে। এতে কোন অসুবিধা নেই।

(বোখারি : ১৯৩৬-১৯৪০, আলবাহরুর রায়েক : ২/২৭৩, কিতাবুল আসল : ২/১৬৮, মাজমাউল আনহুর : ১/৩৬০)