খুঁজুন
রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৮ চৈত্র, ১৪৩২

ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত

রাশেদ হোসাইন
প্রকাশিত: সোমবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৫, ১১:৪০ এএম
ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত

দেশের ক্ষুদ্র থেকে বৃহৎ অনেক ব্যবসায়ীর পণ্য এক আগুনেই ছাই হয়ে গেছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজের আগুনের উত্তাপ থেকে বাদ যায়নি পোশাক থেকে শুরু করে ওষুধ শিল্পের কাঁচামাল, আন্তর্জাতিক কুরিয়ার সার্ভিসের মালামাল ও ই-কমার্সের উদ্যোক্তাদের পণ্য।

কার্গো ভিলেজে রাখা সব পণ্যই এক থেকে দুই দিনের মধ্যে ছাড় হওয়ার কথা ছিল। সেই আশা এখন ছাইতে রূপান্তরিত হলো। এতে ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত পড়েছে। মালামালের খোঁজে ক্লিয়ারিং এবং ফরওয়ার্ডিং এজেন্টের কাছে পণ্যের খবর নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ আশঙ্কা করছে বিমানবন্দরে ২৫০ কারখানার পণ্য পুড়েছে।

 

গতকাল ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজের ৮ নম্বর গেটের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ক্ষতিগ্রস্ত উত্তরায় গার্মেন্ট পণ্য আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘ফার্স্ট অ্যান্ড সেফ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক মো. বেনজির বলেন, হংকং ও চীন থেকে দুটি শিপমেন্টের রেডিমেড গার্মেন্টের পণ্যগুলো পুড়ে গেছে। স্যাম্পল প্রোডাক্টও ছিল। তিনি আরও বলেন, আমি ছোট ব্যবসায়ী, লাখ পাঁচেক টাকার মালামাল পুড়লেও এটা অনেক ক্ষতি। আজ আমার মালামাল খালাস করার কথা ছিল।

জেমটেক্স লিংকেজ ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ইমরান আহমেদ বলেন, ভারত থেকে আমদানি করা প্রায় ৪০ কেজি লেইচ (অ্যাক্সেসরিজ) ছিল কার্গো ভিলেজে। দাম প্রায় দুই কোটি টাকা। সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট জানিয়েছে, ওই মালামাল পুড়ে যাওয়ার আশঙ্কা ৯৯ ভাগ। তিনি বলেন, দ্রুত প্রয়োজন হওয়ায় আকাশপথে এই অ্যাক্সেসরিজ আমদানি করেছিলাম। যার মাধ্যমে ১ লাখ ৬২ হাজার ডলারের রপ্তানি হওয়ার কথা। সম্ভবত এ রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাবে। কারণ এর আগে আমার রপ্তানির ডেট ফেল করেছি। এ মাসের শেষ পর্যন্ত পণ্য দিতে পারলে ক্রেতা নিতেন।

সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট শাওন এন্টারপ্রাইজের মো. শাহিনুর ইসলাম বলেন, আগুনে চট্টগ্রাম হাসপাতালের কিছু যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়েছে। যার মূল্য ৩৬০০ ডলারের মতো। আজকে আমাদের পণ্য বুঝে নেওয়ার কথা ছিল। এখন পর্যন্ত এ পণ্যের কোনো খোঁজ পাইনি। ধারণা করছি আগুনে পুড়ে গেছে।

তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সিনিয়র সহসভাপতি ইনামুল হক খানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল গতকাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পরে নিট পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ নিট পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বাংলাদেশ গার্মেন্ট অ্যাক্সেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএপিএমইএ) সভাপতি মো. শাহরিয়ার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সামনে লিখিত বক্তব্যে ইনামুল হক বলেন, সাধারণত উচ্চ মূল্যের পণ্য এবং জরুরি শিপমেন্টের ক্ষেত্রে আকাশপথে জাহাজিকরণ করা হয়। আগুনে তৈরি পোশাক, মূল্যবান কাঁচামাল এবং নতুন ব্যবসার জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্যাম্পল পণ্য পুড়ে গেছে। প্রতিদিন ২০০-২৫০টি কারখানার পণ্য আকাশপথে রপ্তানি হয় জানিয়ে ইনামুল হক খান বলেন, ক্ষতির পরিমাণ অনেক হতে পারে। সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে শিগগিরই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, কাস্টমসসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে একটি সমন্বয় সভা করবে বিজিএমইএ। এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিজিএমইএ পরিচালক ফয়সাল সামাদ বলেন, ‘আমরা ভিতরে গিয়ে ভয়াবহ চিত্র দেখেছি। পুরো আমদানি বিভাগ পুড়ে গেছে। তিনি জানান, ঘটনাস্থলে বাণিজ্য উপদেষ্টা উপস্থিত ছিলেন। উপদেষ্টা তাৎক্ষণিকভাবে নতুন পণ্যের আমদানি কার্যক্রমে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। আপাতত টার্মিনাল-৩-এ নতুন স্থানে আমদানি পণ্য রাখার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন উপদেষ্টা। এ ছাড়া ৭২ ঘণ্টার পরিবর্তে ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে দ্রুত পণ্য খালাসের নির্দেশনা দিয়েছেন উপদেষ্টা।

বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘দেশের রপ্তানি খাত সবচেয়ে বড় ক্ষতিগ্রস্ত। যে পণ্য এখানে ছিল সেটা পুড়ে  গেছে। কয়েক হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হবে। পুড়ে যাওয়া পণ্যের চেয়েও বহুগুণ ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এ ধরনের একটা পরিস্থিতিতে সরকারের সহযোগিতা ছাড়া কোনোভাবেই আমাদের আগানো সম্ভব নয়। আমরা কি এটা প্রশ্ন করতে পারি বা আমরা কি ভেবে নিতে পারি যে, এর আগেও বিগত বছরগুলোতে আমরা এরকম দেখেছি। প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও আগুন লাগত। এটা ষড়যন্ত্রমূলক ও পরিকল্পিত কি না তা সরকারকে ভেবে দেখা উচিত। ’

বিজিএপিএমইএ সভাপতি মো. শাহরিয়ার বলেন, আমাদের সদস্যদের ১০০ কোটি টাকার বেশি পণ্য আগুনে পুড়ে নষ্ট হয়েছে। তবে বেশির ভাগ পণ্য বিমার আওতার মধ্যে আছে। ইন্স্যুরেন্স কাভারেজ ঠিকমতো পেলে ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।

আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের প্রতি এফবিসিসিআই সমবেদনা জানায় এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পর্যাপ্ত সহায়তা প্রদানের জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে।

এদিকে, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ বিবৃতিতে বলেন, দেশের প্রধান এই বিমানবন্দরসহ অন্য বন্দরগুলোর সব স্তরে অগ্নিনিরাপত্তাসহ সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দীন গতকাল কার্গো ভিলেজ পরিদর্শন শেষে বলেন, আমদানি করা যত পণ্য ছিল সব আগুনে পুড়ে ধ্বংস হয়েছে। অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কত সেটা আমরা খাতভিত্তিক নির্দিষ্ট করার চেষ্টা করছি। গতকাল রাতেও বাণিজ্যিক কার্গো এসেছে। আমাদের বাণিজ্যিক সহায়তার স্বার্থে এসব কার্যক্রম বন্ধ রাখা সম্ভব নয়। তৃতীয় টার্মিনাল এলাকায় বিকল্প জায়গা দেওয়া হয়েছে, যাতে পণ্য পরিবহন চালু থাকে। তিনি বলেন, বর্তমানে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে ড্যামেজ অ্যাসেসমেন্টের কাজ চলছে। ধ্বংসের আর্থিক ক্ষতি ও ক্ষতিগ্রস্ত পণ্যের ওজন নির্ধারণের পাশাপাশি খাতভিত্তিক বিশ্লেষণের কাজও করা হচ্ছে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নাশকতাসহ কোনো কিছু উড়িয়ে দেব না।

এদিকে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বিশেষ ব্যবস্থায় চালু রাখার কথা জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এনবিআর জানায়, সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ আপাতত জিএসই মেনটেন্যান্স নামক স্থানে পণ্য রাখার জন্য স্থান নির্ধারণ করেছে। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ওই স্থানে পণ্যের কায়িক পরীক্ষা সম্পন্ন করছে, ৯ নম্বর গেটে অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ডের সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। ওই গেট দিয়ে পণ্যের খালাস প্রক্রিয়া সম্পাদন করা হচ্ছে।

ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া: কী বলে ইসলাম?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৭:১১ এএম
ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া: কী বলে ইসলাম?

পবিত্র ঈদুল ফিতর মানেই আনন্দ, ভালোবাসা আর পারস্পরিক সম্পর্কের বন্ধনকে নতুন করে দৃঢ় করার এক মহিমান্বিত উপলক্ষ। এদিন ছোটদের মুখে হাসি ফোটাতে এবং আপনজনদের সঙ্গে হৃদ্যতার সম্পর্ক আরও গভীর করতে আমাদের সমাজে ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়ার একটি সুন্দর প্রচলন রয়েছে।

তবে এই প্রথার ধর্মীয় অবস্থান কী, এটি কি ইবাদত, নাকি কেবল সামাজিক রীতি? শরিয়তের দৃষ্টিতে বিষয়টি বোঝা জরুরি, যেন আমরা আনন্দ উদযাপনের পাশাপাশি ইসলামের সঠিক নির্দেশনাও মেনে চলতে পারি।

রাজধানীর জামিয়াতুল ইসলামিয়া বায়তুস সালামের ফতোয়া বিভাগীয় প্রধান মুফতি আবদুর রহমান হোসাইনী বলেন, ইসলামের মূলনীতি হলো, যে কোনো কাজ ততক্ষণ বৈধ, যতক্ষণ না তা শরিয়তের কোনো স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পড়ে। এ দৃষ্টিকোণ থেকে ঈদের দিনে কাউকে খুশি করার উদ্দেশে অর্থ বা উপহার দেওয়া নিঃসন্দেহে বৈধ। বরং হাদিসে উপহার আদান-প্রদানের মাধ্যমে ভালোবাসা বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। তাই ছোটদের আনন্দ দেওয়া, আত্মীয়তার সম্পর্ক দৃঢ় করা এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য বাড়ানোর নিয়তে ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া একটি সুন্দর ও প্রশংসনীয় আমল হতে পারে।

তবে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে মনে রাখতে হবে, ঈদ সালামি কোনো ইবাদত নয় এবং এটি ইসলামের নির্ধারিত কোনো বিধানও নয়। এটি একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রথা মাত্র। সুতরাং একে বাধ্যতামূলক মনে করা বা না দিলে দোষারোপ করা ঠিক নয়।

আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ তার ইউটিউব চ্যানেলে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘ইসলামে সালামের পরিভাষা রয়েছে। কোরআনে আছে, ‘তোমাদেরকে কেউ যদি কোনো অভিবাদন জানায় বা সালাম পেশ করে, তাহলে সে যে ভাষায় তোমাকে সালাম দিয়েছে, সে ভাষায় তুমি জবাব দাও। অথবা এর চেয়ে উত্তম শব্দ ব্যবহার করে সালাম দাও।’ হজরত মুহাম্মদ (সা.) আমাদেরকে সালাম দিতে নির্দেশ করেছেন। মুখ দিয়ে উচ্চারণ করে পরস্পরের শান্তি কামনা করা হলো সালাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঈদের সালামি পেতে বাচ্চারা বড়দের সালাম দিলে তারা সালামের উত্তর দেবেন। সালামের জবাব দিয়ে তাদের কিছু হাদিয়া দেবেন, এটা আমাদের দেশের সংস্কৃতি। এতে কোনো অসুবিধা নেই। কোরআন-হাদিসের সঙ্গে এর কোনো সংঘর্ষ নেই। পা ছুঁয়ে সালাম করলে সালামি দিতে হবে, এটা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। সে সালাম দিলে জবাব দিয়ে তাকে সালামি দিয়ে দেওয়া উচিত। পা ছুঁয়ে সালাম করতে তাকে বাধ্য করা উচিত নয়।’

সূত্র : কালবেলা

চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৬:২১ এএম
চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

চৈত্র মাসের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ করেই শীতের আবহ ফিরে এসেছে ফরিদপুরে। রবিবার (২২ মার্চ) ভোর থেকেই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় পুরো জেলা। চারপাশে যেন শীতের সকালের সেই পরিচিত দৃশ্য—মাঠ-ঘাট, গাছপালা, রাস্তা সবই কুয়াশার আস্তরণে আচ্ছন্ন। মৃদু শীতল বাতাস আর হালকা ঠান্ডা আবহে প্রকৃতি যেন ভুলে গেছে ঋতুর নিয়ম।

ভোরের আলো ফুটলেও সূর্যের দেখা মেলেনি অনেকক্ষণ। কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেশি ছিল যে দূরের বস্তু স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল না। গ্রামীণ জনপদে দেখা গেছে চিরচেনা দৃশ্য—কৃষকরা গরু নিয়ে মাঠে যাচ্ছেন, আর গৃহস্থ বাড়িতে কৃষাণীরা ধান সিদ্ধ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সব মিলিয়ে চৈত্রের সকালে এমন দৃশ্য অনেকটাই অপ্রত্যাশিত হলেও প্রকৃতির এক ভিন্ন সৌন্দর্য উপভোগ করছেন স্থানীয়রা।

সালথা উপজেলার কৃষক শাহাজুদ্দিন মাতুব্বর বলেন, “চৈত্র মাসে এমন কুয়াশা আমরা খুব একটা দেখি না। সকালে মাঠে কাজ করতে গিয়ে ঠান্ডা অনুভব করছি। তবে এই কুয়াশা ফসলের জন্য ভালো না-ও হতে পারে।”

বিশেষ করে পেঁয়াজ চাষিদের মধ্যে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। এই সময়ে অতিরিক্ত কুয়াশা ও আর্দ্রতা পেঁয়াজের গাছের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। এতে করে গাছের পাতা পচে যাওয়া বা রোগবালাইয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে, যা উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

জেলা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, মৌসুম পরিবর্তনের এই সময়ে তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে এমন কুয়াশা দেখা দিতে পারে। রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমে যাওয়ায় এবং বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ভোরের দিকে কুয়াশা ঘনীভূত হচ্ছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা স্বাভাবিক হয়ে আসবে এবং কুয়াশা কেটে যাবে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

আবহাওয়াবিদরা আরও জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিন এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। তাই কৃষকদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পেঁয়াজসহ সংবেদনশীল ফসলের যত্নে বাড়তি নজর দিতে বলা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, চৈত্রের প্রখর রোদ আর গরমের বদলে হঠাৎ করে ফিরে আসা শীতের এই আমেজ একদিকে যেমন প্রকৃতিকে দিয়েছে ভিন্ন রূপ, অন্যদিকে কৃষকদের মনে তৈরি করেছে নতুন দুশ্চিন্তার ছায়া।

ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৫ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

ফরিদপুরের সদরপুরে ঈদের নামাজের পর একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। 

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুইটার দিকে স্থানীয়রা কুকুরটিকে মেরে ফেলে বলে জানা গেছে।

হাসপাতাল ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ঈদের নামাজের পর উপজেলা সদরে একটি পাগলা কুকুর যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই আকষ্মিকভাবে কামড়ে আহত করে। তবে প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগী এক রোগীর স্বজন মো. সোহাগ মুন্সি বলেন, একটি পাগলা কুকুর হঠাৎ করে যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই কামড়িয়ে আহত করে। আমার ভাতিজা আরাফাতকে(১৪) কামড়ে আহত করে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মোট ১৬ জন বিভিন্ন বয়সী মানুষকে কুকুরটি কামড়ে আহত করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মো: মমিনুর রহমান সরকার বলেন, আহতদের মধ্যে এগারো জনকে আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বাকি পাঁচ জন পার্শ্ববর্তী হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।