খুঁজুন
, ,

তাহিয়্যাতুল মসজিদ আদায়ে রাসূল (ছা.) এর নির্দেশনা

মো. বাকী বিল্লাহ খান পলাশ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৫, ৪:০২ অপরাহ্ণ
তাহিয়্যাতুল মসজিদ আদায়ে রাসূল (ছা.) এর নির্দেশনা

মসজিদে প্রবেশ করে দুই রাক‘আত ছালাত আদায় করাই হচ্ছে তাহিয়্যাতুল মসজিদ। যা আদায় করা অত্যাবশ্যক। কেননা মসজিদ মহান আল্লাহ তা’য়ালার ঘর। সুতরাং এর প্রতি হক আদায়ে যে কোন সময়ে মসজিদে প্রবেশ করলেই দুই রাক‘আত ছালাত আদায় করে মসজিদে বসা আবশ্যক।

এ সম্পর্কে আবু ক্বাতাদা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (ছা.) বলেন, যখন তোমাদের কেউ মসজিদে প্রবেশ করবে, তখন সে যেন বসার পূর্বে দুই রাক‘আত ছালাত আদায় করে (ছহীহ বুখারী, হাদীস : ৪৪৪, ইফাবা হা. ৪৩১)।১
এ সম্পর্কে আরো বর্ণিত হয়েছে, আবু ক্বাতাদা (রা.) বলেন, রাসূল (ছা.) বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ মসজিদে প্রবেশ করবে তখন সে যেন না বসে, যতক্ষণ দুই রাক‘আত ছালাত না পড়বে (ছহীহ বুখারী, হাদীস : ১১৬৩)।

মসজিদে প্রবেশ করে দুই রাক‘আত ছালাত আদায়কে এতটাই গুরুপ্ত দেয়া হয়েছে যে, আবু ক্বাতাদা (রা.) বলেন, আমি একদা মসজিদে প্রবেশ করলাম। তখন রাসূল (ছা.) লোকদের মাঝে বসেছিলেন। আমি গিয়ে বসে গেলাম। রাসূল (ছা.) আমাকে বললেন, বসার আগে দুই রাক‘আত ছালাত আদায় করতে তোমাকে কিসে বাধা দিল? আমি বললাম, আপনাকে এবং জনগণকে বসে থাকতে দেখলাম তাই। তখন তিনি বললেন, তোমাদের কেউ যখন মসজিদে প্রবেশ করবে তখন সে যেন দুই রাক‘আত ছালাত আদায় না করা পর্যন্ত না বসে (ছহীহ মুসলিম, হাদীস : ১৬৮৮, ইফাবা, হা. ১৫২৫)।

এমনকি জুম‘আর খুৎবা চলাকালীন সময়েও কেউ যদি মসজিদে প্রবেশ করে তবুও তাকে দুই রাক‘আত ছালাত আদায় করে বসতে হবে। বর্ণিত হয়েছে, জাবের (রা.) বলেন, নবী করীম (ছা.) জুম‘আর দিনে খুৎবা দিচ্ছিলেন। এমতাবস্থায় জনৈক ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করে। রাসূল (ছা.) তখন তাকে বললেন, তুমি কি ছালাত আদায় করেছ? সে বলল, না। তখন তিনি বললেন, তুমি দাঁড়াও দুই রাক‘আত ছালাত আদায় কর (ছহীহ বুখারী, হাদীস : ৯৩০, ৯৩১, ইফাবা, হা. ৮৮৩, ৮৮৪)।২

যে সকল সময়ে ছালাত আদায় নিষিদ্ধ। সে সকল সময়েও কেউ যদি মসজিদে প্রবেশ করে তবে তাকেও ছালাত আদায় না করে বসা যাবে না। কেননা ্আবু ক্বাতাদা (রা.) বলেন, রাসূল (ছা.) বলেছেন, তোমাদের কেউ যখন মসজিদে প্রবেশ করে, তখন সে যেন দুই রাক‘আত ছালাত আদায় না করা পর্যন্ত না বসে (ছহীহ মুসলিম, হাদীস : ৭১৪, রিয়াযুছ ছালেহীন, হাদীস : ১১৪৪)।৩

তবে ফজরের ওয়াক্তে ফজরের ছালাত আদায়ে মসজিদে প্রবেশের পর ফজরের দুই রাক‘আত সুন্নত আদায় ব্যতিত তাহিয়্যাতুল মসজিদ আদায় করা যায় না মর্মে উল্লেখ করা হয়েছে জাগো নিউজ, ইসলাম ডেস্ক, ০৮ আগস্ট ২০২৪ খ্রি. প্রকাশিত ‘ফজরের ওয়াক্তে তাহিয়্যাতুল মসজিদ আদায়ের বিধান’ প্রবন্ধে। সেখানে বলা হয়েছে হাফসা (রা.) বলেন, যখন সুবহে সাদিক হয়ে যেত, তখন রাসূল(ছা.) শুধু ফজরের দুই রাক‘আত সুন্নত সংক্ষেপে পড়তেন (সহীহ মুসলিম, হাদীস ৭২৩)।

আরো বর্ণিত হয়েছে, আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) বলেন, রাসূল (ছা.) বলেছেন, সুবহে সাদিক হওয়ার পর দুই রাক‘আত সুন্নত ছাড়া কোন ছালাত নেই (মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক)।৪

উল্লেখ্য যে, মসজিদে প্রবেশ করে ফরয কিংবা সুন্নাত অথবা ওয়াক্তের ছালাতের পূর্বের সুন্নাত আদায় করলে মসজিদের হক্ব আদায় হয়ে যাবে বিধায় তাকে আর তাহিয়্যাতুল মসজিদ আদায় করতে হবে না মর্মে উল্লেখিত হয়েছে আব্দুর রাযযাক বিন ইউসুফ রচিত ‘রাসূল (ছা.)-এর ছালাত বনাম প্রচলিত ছালাত’ গ্রন্থের ২৩৭ পৃষ্ঠায়।
মাগরিবের আযানের পূর্বে মসজিদে প্রবেশ করলে তাহিয়্যাতুল মসজিদ আদায় করতে হবে কি মর্মে প্রশ্নের জবাবে মাসিক আত-তাহরীক, আগস্ট ২০১৫ খ্রি. সংখ্যার প্রশ্নোত্তর পর্বে বুখারী হাদীস : ৪৪৪ এর উদৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, আযানের পূর্বে মসজিদে প্রবেশ করার পর যদি দু‘রাকআত ছালাত আদায় করার মত সময় থাকে তবে তা আদায় করে বসবে। তবে সময় না থাকলে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করবে। অতঃপর মাগরিবের পূর্বের দু‘রাকআত নফল ছালাত আদয় করবে (সহীহ বুখারি, হাদীস : ১১৮৩, ইফাবা, হা. ১১১২)।৫

সাম্প্রতিক সময়ে কোন কোন মসজিদে মাগরিরের আযানের পর ইমাম কর্র্তৃক ছোট ছোট হাদীস বর্ণনা করতে দেখা যায়। যা নিয়মিত করা যাবেনা মর্মে উল্লেখ করা হয়েছে মাসিক আত-তাহরীক এর অক্টোরব ২০২২ খ্রি. এর প্রশ্নোত্তর পর্বে। উল্লেখিত হয়েছে রাসূল (ছা.) মাগরিরের আযানের পর ও ফরয ছালাতের পূর্বে দুই রাক‘আত ছালাত আদায় করতে উৎসাহ দিতেন। রাসূল (ছা.) একদিন তিনবার নির্দেশনা দিয়ে বলেন, তোমরা মাগরিবের পূর্বে দু‘রাকআত ছালাত আদায় কর। তবে যে ব্যক্তি ইচ্ছা করে (মুত্তাফাক্ক আলাইহ মিশকাত, হাদীস : ১১৬৫)। আনাস ইবনে মালেক (রা.) বলেন, আমরা রাসূল (ছা.) এর যুগে মাগরিবের ছালাতের পূর্বে সূর্য ডোবার পর দু‘রাকআত ছালাত আদায় করতাম। তাঁকে বলা হল তিনি কি সেই দুই রাক‘আত পড়তেন? আনাস (রা.) বলেন, তিনি আমাদেরকে দু‘রাকআত ছালাত আদায় করতে দেখতেন, তিনি আদেশ করতেন না, নিষেধও করতেন না (মুসলিম, হাদীস : ৩০৩)।৬

মহান আল্লাহ‘তায়ালা আমাদের সঠিকটি জানার ও তা মানার তৌফিক দান করুন। আমিন।

সহায়ক গ্রন্থ ও উৎসসমূহ :
স্বালাতে মুবাশ্শির (ছা.), আব্দুল হামীদ ফাইযী আল-মাদানী, পৃষ্ঠা : ১১১
জাল হাদীছের কবলে রাসূলুল্লাহ (ছা.)-এর ছালাত, ড. মুযাফফর বিন মুহসিন, পৃষ্ঠা : ১১৫, ১১৬।
রাসূল (ছা.)-এর ছালাত বনাম প্রচলিত ছালাত, আব্দুর রাযযাক বিন ইউসুফ, পৃষ্ঠা : ২৩৯, ২৪০।
ফজরের ওয়াক্তে তাহিয়্যাতুল মসজিদ আদায়ের বিধান, জাগো নিউজ, ইসলাম ডেস্ক, ০৮ আগস্ট ২০২৪ খ্রি.্
মাসিক আত-তাহরীক, প্রশ্নোত্তর, আগস্ট ২০১৫ খ্রি.
মাসিক আত-তাহরীক, প্রশ্নোত্তর, অক্টোবর ২০২২ খ্রি.

ফরিদপুরে শেষ মুহূর্তে ইলিশের তীব্র সংকট, খালি হাতে ফিরছেন ক্রেতারা

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:২৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে শেষ মুহূর্তে ইলিশের তীব্র সংকট, খালি হাতে ফিরছেন ক্রেতারা

Oplus_131072

ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম রক্ষায় সরকারের ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু হওয়ার শেষ সময়ে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় দেখা দিয়েছে তীব্র ইলিশ সংকট। বাজারে ইলিশের আশায় ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় থাকলেও মাছ না পেয়ে অনেককেই হতাশ হয়ে খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে।

​বুধবার (৮ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে আলফাডাঙ্গা সদর বাজারে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নিষেধাজ্ঞার ঠিক আগের মুহূর্তে ইলিশ কেনার জন্য বাজারে প্রচুর ক্রেতার সমাগম ঘটে। তবে অধিকাংশ মাছের দোকানেই পর্যাপ্ত ইলিশের জোগান নেই।

​শেষ মুহূর্তে বাজারে আসা ক্রেতারা এক দোকান থেকে আরেক দোকানে ঘুরেও তাদের পছন্দমতো ইলিশ পাননি। দু-একটি দোকানে অল্প কিছু ইলিশ থাকলেও তার দাম ছিল মাত্রাতিরিক্ত। ফলে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অতিরিক্ত দাম ও ঘাটতির কারণে অনেকে মাছ না কিনে ফিরতে বাধ্য হন।

​তবে অনেক খোঁজাখুঁজির পর দু-একজন ক্রেতা ইলিশ কিনতে পেরে কিছুটা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় ওষুধ ব্যবসায়ী কাজী রায়হান বলেন, “নিষেধাজ্ঞার আগে পরিবারের জন্য একটা ইলিশ কেনার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু বাজারে এসে দেখি মাছ নেই বললেই চলে। বেশ কয়েকটি দোকান ঘোরার পর শেষ পর্যন্ত একটা মাছ পেয়েছি।”

​একই অভিজ্ঞতার কথা জানান বস্ত্র ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, “ইলিশ কিনতে এসে প্রথম দিকে কোনো মাছ পাচ্ছিলাম না। অনেক ঘুরে শেষ পর্যন্ত পেয়েছি, তবে বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ খুবই কম।”

​মাছ না পেয়ে ফিরে যাওয়া একাধিক ক্রেতা জানান, রাত ১২টার পর থেকে টানা ২২ দিন ইলিশ কেনাবেচা বন্ধ থাকবে, তাই শেষবারের মতো মাছ কিনতে এসেছিলেন। কিন্তু সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে সরবরাহ আরও কমে যায়, যা হতাশাজনক।

​বাজারের স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ীরা জানান, নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগের শেষ সময়ে হঠাৎ ইলিশের চাহিদা বহুগুণ বেড়ে যায়। সেই তুলনায় আড়ত থেকে সরবরাহ কম থাকায় বাজারে এই সংকট তৈরি হয়েছে। যে সামান্য পরিমাণ ইলিশ এসেছে, তা আসা মাত্রই চড়া দামে বিক্রি হয়ে গেছে।

​উল্লেখ্য, ইলিশের প্রজনন সুরক্ষায় বুধবার (৮ অক্টোবর) রাত ১২টার পর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২২ দিন সারাদেশে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত, ক্রয়-বিক্রয় ও প্রদর্শনীর ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।

ফরিদপুরে সিজারের পর পেটে গজ রেখেই সেলাই, চার মাস পর নার্স বীথির মৃত্যু

ফরিদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে সিজারের পর পেটে গজ রেখেই সেলাই, চার মাস পর নার্স বীথির মৃত্যু

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় পেটে গজ রেখে সেলাই করার দীর্ঘ ছয় মাস পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের বিথী আক্তার (২৫) নামের এক ডিপ্লোমা মিডওয়াইফ নার্স।

​বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

​নিহত বিথী আক্তার গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের তমিজ উদ্দিন মৃধার পাড়া এলাকার বাসিন্দা। তার স্বামী রাকিবুল ইসলাম মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

​পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৬ মে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিথী আক্তারের সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন করেন ডা. তামান্না ও ইন্টার্ন চিকিৎসক অরবিন্দ। অপারেশনের মাধ্যমে এক কন্যাসন্তানের জন্ম হলেও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের অবহেলায় বিথীর পেটের ভেতরে গজ রেখেই সেলাই দিয়ে দেওয়া হয়।

​অপারেশনের পর থেকেই তীব্র পেটে ব্যথা ও শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগতে থাকেন বিথী। দিন দিন তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় জন্ম দেওয়া নবজাতক সন্তানকেও বুকে জড়িয়ে ধরতে পারেননি তিনি। শারীরিক অবস্থার আশঙ্কাজনক অবনতি হলে প্রথম অপারেশনের প্রায় দুই মাস পর, গত ১৫ জুলাই আবারও তার পেটে বড় ধরনের অস্ত্রোপচার করা হয়।

​পরবর্তীতে অবস্থার কোনো উন্নতি না হলে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়। একপর্যায়ে গত ৪ অক্টোবর উন্নত চিকিৎসার জন্য বিথীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ তার মৃত্যু হয়।

​নিহতের স্বামী রাকিবুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “চিকিৎসকদের চরম অবহেলায় আমার স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এখন এই দুধের শিশুকে নিয়ে আমি কোথায় যাব? আর যেন কোনো মায়ের কোল খালি না হয় বা কেউ এমন অবহেলার শিকার না হন, তাই দোষী চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে মামলা করব এবং তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি।”

​ঘটনার বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল হুদা বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। কিছুদিন আগে আমি নিজে এবং গত বুধবার জেলা প্রশাসক মহোদয় বিথীর সন্তানকে দেখতে গিয়েছিলাম। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।”

ফরিদপুরে ইয়াবা সেবন ও বিক্রির অপরাধে দু’জনের ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদণ্ড

মুস্তাফিজুর রহমান শিমুল, চরভদ্রাসন:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৩১ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ইয়াবা সেবন ও বিক্রির অপরাধে দু’জনের ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদণ্ড

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় মাদক (ইয়াবা) সেবন ও বিক্রির অপরাধে দুইজনকে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

​বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এ দণ্ডাদেশ দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুলহাস হোসেন সৌরভ।

​দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— উপজেলার গাজিরটেক ইউনিয়নের বিন্দুডাঙ্গী গ্রামের শেখ মোকলেসের মেয়ে রিমা আক্তার (২০) এবং একই ইউনিয়নের ব্যাপারিডাঙ্গী গ্রামের আবুল মৃধার ছেলে রাশেদ মৃধা (২৮)।

​আদালত সূত্রে জানা যায়, রিমাকে ৬ মাসের ও রাশেদকে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া উভয়কে ১০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮ এর ৩৬(৫) ধারা অনুযায়ী এ জরিমানা ও সাজা ঘোষণা করা হয়।

​অভিযান পরিচালনকারী কর্মকর্তা ফরিদপুর জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো. বেলায়েত হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে রিমা ও রাশেদের বাড়িতে পৃথক অভিযান পরিচালনা করা হয়। হাতেনাতে ইয়াবা সেবনরত অবস্থায় তাদের আটক করা হয়। এ সময় রিমার কাছ থেকে ৪টি এবং রাশেদের কাছ থেকে ২টি ইয়াবাসহ সেবনের সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।

​তিনি আরও জানান, আটক দুইজনের মধ্যে রিমা আক্তার দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা সেবনের পাশাপাশি কেনাবেচার সঙ্গেও জড়িত।