খুঁজুন
শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২৩ মাঘ, ১৪৩২

তাহিয়্যাতুল মসজিদ আদায়ে রাসূল (ছা.) এর নির্দেশনা

মো. বাকী বিল্লাহ খান পলাশ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৫, ৪:০২ পিএম
তাহিয়্যাতুল মসজিদ আদায়ে রাসূল (ছা.) এর নির্দেশনা

মসজিদে প্রবেশ করে দুই রাক‘আত ছালাত আদায় করাই হচ্ছে তাহিয়্যাতুল মসজিদ। যা আদায় করা অত্যাবশ্যক। কেননা মসজিদ মহান আল্লাহ তা’য়ালার ঘর। সুতরাং এর প্রতি হক আদায়ে যে কোন সময়ে মসজিদে প্রবেশ করলেই দুই রাক‘আত ছালাত আদায় করে মসজিদে বসা আবশ্যক।

এ সম্পর্কে আবু ক্বাতাদা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (ছা.) বলেন, যখন তোমাদের কেউ মসজিদে প্রবেশ করবে, তখন সে যেন বসার পূর্বে দুই রাক‘আত ছালাত আদায় করে (ছহীহ বুখারী, হাদীস : ৪৪৪, ইফাবা হা. ৪৩১)।১
এ সম্পর্কে আরো বর্ণিত হয়েছে, আবু ক্বাতাদা (রা.) বলেন, রাসূল (ছা.) বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ মসজিদে প্রবেশ করবে তখন সে যেন না বসে, যতক্ষণ দুই রাক‘আত ছালাত না পড়বে (ছহীহ বুখারী, হাদীস : ১১৬৩)।

মসজিদে প্রবেশ করে দুই রাক‘আত ছালাত আদায়কে এতটাই গুরুপ্ত দেয়া হয়েছে যে, আবু ক্বাতাদা (রা.) বলেন, আমি একদা মসজিদে প্রবেশ করলাম। তখন রাসূল (ছা.) লোকদের মাঝে বসেছিলেন। আমি গিয়ে বসে গেলাম। রাসূল (ছা.) আমাকে বললেন, বসার আগে দুই রাক‘আত ছালাত আদায় করতে তোমাকে কিসে বাধা দিল? আমি বললাম, আপনাকে এবং জনগণকে বসে থাকতে দেখলাম তাই। তখন তিনি বললেন, তোমাদের কেউ যখন মসজিদে প্রবেশ করবে তখন সে যেন দুই রাক‘আত ছালাত আদায় না করা পর্যন্ত না বসে (ছহীহ মুসলিম, হাদীস : ১৬৮৮, ইফাবা, হা. ১৫২৫)।

এমনকি জুম‘আর খুৎবা চলাকালীন সময়েও কেউ যদি মসজিদে প্রবেশ করে তবুও তাকে দুই রাক‘আত ছালাত আদায় করে বসতে হবে। বর্ণিত হয়েছে, জাবের (রা.) বলেন, নবী করীম (ছা.) জুম‘আর দিনে খুৎবা দিচ্ছিলেন। এমতাবস্থায় জনৈক ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করে। রাসূল (ছা.) তখন তাকে বললেন, তুমি কি ছালাত আদায় করেছ? সে বলল, না। তখন তিনি বললেন, তুমি দাঁড়াও দুই রাক‘আত ছালাত আদায় কর (ছহীহ বুখারী, হাদীস : ৯৩০, ৯৩১, ইফাবা, হা. ৮৮৩, ৮৮৪)।২

যে সকল সময়ে ছালাত আদায় নিষিদ্ধ। সে সকল সময়েও কেউ যদি মসজিদে প্রবেশ করে তবে তাকেও ছালাত আদায় না করে বসা যাবে না। কেননা ্আবু ক্বাতাদা (রা.) বলেন, রাসূল (ছা.) বলেছেন, তোমাদের কেউ যখন মসজিদে প্রবেশ করে, তখন সে যেন দুই রাক‘আত ছালাত আদায় না করা পর্যন্ত না বসে (ছহীহ মুসলিম, হাদীস : ৭১৪, রিয়াযুছ ছালেহীন, হাদীস : ১১৪৪)।৩

তবে ফজরের ওয়াক্তে ফজরের ছালাত আদায়ে মসজিদে প্রবেশের পর ফজরের দুই রাক‘আত সুন্নত আদায় ব্যতিত তাহিয়্যাতুল মসজিদ আদায় করা যায় না মর্মে উল্লেখ করা হয়েছে জাগো নিউজ, ইসলাম ডেস্ক, ০৮ আগস্ট ২০২৪ খ্রি. প্রকাশিত ‘ফজরের ওয়াক্তে তাহিয়্যাতুল মসজিদ আদায়ের বিধান’ প্রবন্ধে। সেখানে বলা হয়েছে হাফসা (রা.) বলেন, যখন সুবহে সাদিক হয়ে যেত, তখন রাসূল(ছা.) শুধু ফজরের দুই রাক‘আত সুন্নত সংক্ষেপে পড়তেন (সহীহ মুসলিম, হাদীস ৭২৩)।

আরো বর্ণিত হয়েছে, আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) বলেন, রাসূল (ছা.) বলেছেন, সুবহে সাদিক হওয়ার পর দুই রাক‘আত সুন্নত ছাড়া কোন ছালাত নেই (মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক)।৪

উল্লেখ্য যে, মসজিদে প্রবেশ করে ফরয কিংবা সুন্নাত অথবা ওয়াক্তের ছালাতের পূর্বের সুন্নাত আদায় করলে মসজিদের হক্ব আদায় হয়ে যাবে বিধায় তাকে আর তাহিয়্যাতুল মসজিদ আদায় করতে হবে না মর্মে উল্লেখিত হয়েছে আব্দুর রাযযাক বিন ইউসুফ রচিত ‘রাসূল (ছা.)-এর ছালাত বনাম প্রচলিত ছালাত’ গ্রন্থের ২৩৭ পৃষ্ঠায়।
মাগরিবের আযানের পূর্বে মসজিদে প্রবেশ করলে তাহিয়্যাতুল মসজিদ আদায় করতে হবে কি মর্মে প্রশ্নের জবাবে মাসিক আত-তাহরীক, আগস্ট ২০১৫ খ্রি. সংখ্যার প্রশ্নোত্তর পর্বে বুখারী হাদীস : ৪৪৪ এর উদৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, আযানের পূর্বে মসজিদে প্রবেশ করার পর যদি দু‘রাকআত ছালাত আদায় করার মত সময় থাকে তবে তা আদায় করে বসবে। তবে সময় না থাকলে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করবে। অতঃপর মাগরিবের পূর্বের দু‘রাকআত নফল ছালাত আদয় করবে (সহীহ বুখারি, হাদীস : ১১৮৩, ইফাবা, হা. ১১১২)।৫

সাম্প্রতিক সময়ে কোন কোন মসজিদে মাগরিরের আযানের পর ইমাম কর্র্তৃক ছোট ছোট হাদীস বর্ণনা করতে দেখা যায়। যা নিয়মিত করা যাবেনা মর্মে উল্লেখ করা হয়েছে মাসিক আত-তাহরীক এর অক্টোরব ২০২২ খ্রি. এর প্রশ্নোত্তর পর্বে। উল্লেখিত হয়েছে রাসূল (ছা.) মাগরিরের আযানের পর ও ফরয ছালাতের পূর্বে দুই রাক‘আত ছালাত আদায় করতে উৎসাহ দিতেন। রাসূল (ছা.) একদিন তিনবার নির্দেশনা দিয়ে বলেন, তোমরা মাগরিবের পূর্বে দু‘রাকআত ছালাত আদায় কর। তবে যে ব্যক্তি ইচ্ছা করে (মুত্তাফাক্ক আলাইহ মিশকাত, হাদীস : ১১৬৫)। আনাস ইবনে মালেক (রা.) বলেন, আমরা রাসূল (ছা.) এর যুগে মাগরিবের ছালাতের পূর্বে সূর্য ডোবার পর দু‘রাকআত ছালাত আদায় করতাম। তাঁকে বলা হল তিনি কি সেই দুই রাক‘আত পড়তেন? আনাস (রা.) বলেন, তিনি আমাদেরকে দু‘রাকআত ছালাত আদায় করতে দেখতেন, তিনি আদেশ করতেন না, নিষেধও করতেন না (মুসলিম, হাদীস : ৩০৩)।৬

মহান আল্লাহ‘তায়ালা আমাদের সঠিকটি জানার ও তা মানার তৌফিক দান করুন। আমিন।

সহায়ক গ্রন্থ ও উৎসসমূহ :
স্বালাতে মুবাশ্শির (ছা.), আব্দুল হামীদ ফাইযী আল-মাদানী, পৃষ্ঠা : ১১১
জাল হাদীছের কবলে রাসূলুল্লাহ (ছা.)-এর ছালাত, ড. মুযাফফর বিন মুহসিন, পৃষ্ঠা : ১১৫, ১১৬।
রাসূল (ছা.)-এর ছালাত বনাম প্রচলিত ছালাত, আব্দুর রাযযাক বিন ইউসুফ, পৃষ্ঠা : ২৩৯, ২৪০।
ফজরের ওয়াক্তে তাহিয়্যাতুল মসজিদ আদায়ের বিধান, জাগো নিউজ, ইসলাম ডেস্ক, ০৮ আগস্ট ২০২৪ খ্রি.্
মাসিক আত-তাহরীক, প্রশ্নোত্তর, আগস্ট ২০১৫ খ্রি.
মাসিক আত-তাহরীক, প্রশ্নোত্তর, অক্টোবর ২০২২ খ্রি.

ডিম খাওয়ার সঠিক উপায়: সকালে সেদ্ধ ভালো, না ভাজা?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:২৩ এএম
ডিম খাওয়ার সঠিক উপায়: সকালে সেদ্ধ ভালো, না ভাজা?

ডিম একটি পুষ্টিকর ও জনপ্রিয় খাবার, বিশেষ করে সকালের নাশতায়। ডিমে রয়েছে প্রায় ৬ গ্রাম প্রোটিন, ৫ গ্রাম স্বাস্থ্যকর চর্বি, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং মোট ৭২ ক্যালরি। ভিটামিন ডি, বি১২, রিবোফ্লাবিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ ডিম শক্তি জোগায় এবং চোখের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

আমরা সবাই কম বেশি ডিম খেয়ে থাকি। কেউ ডিম সেদ্ধ কেউবা আবার ডিম ভাজি পছন্দ করেন। তবে প্রশ্ন থেকেই যায়, স্বাস্থ্যের জন্য ডিম সেদ্ধ নাকি ভাজি করে খাওয়া উচিত? টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে পুষ্টিবিদরা এ বিষয়ে মতামত দিয়েছেন।

পুষ্টি পেতে কীভাবে ডিম খাবেন

সকালে অনেকেই সেদ্ধ ডিম খেয়ে থাকেন। পুষ্টিবিদরা এটিকে স্বাস্থ্যকর বলছেন। পুষ্টিবিদদের মতে, সেদ্ধ ডিমে অতিরিক্ত চর্বি বা উপাদান যোগ না হওয়ায় এর প্রাকৃতিক পুষ্টিগুণ অক্ষুণ্ন থাকে। এতে ক্যালরি কম, তবু প্রয়োজনীয় পুষ্টি বজায় থাকে। সেদ্ধ ডিম শরীরে শক্তি জোগায় এবং এর কোলিন মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ও বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ ছাড়া এটি কোলেস্টেরল কমাতেও সহায়ক।

অন্যদিকে, ডিম ভাজার সময় স্বাদ বাড়াতে পেঁয়াজ, মরিচ, ধনেপাতা, টমেটো, মাখনের মতো উপকরণ যোগ করা হয়। এই উপকরণগুলো স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী, বিশেষ করে শিশু ও কিশোরদের জন্য। ভাজা ডিমে ফসফরাস বেশি থাকে, যা হাড় মজবুত করতে সাহায্য করে। তবে প্রোটিন ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের পরিমাণ সেদ্ধ ও ভাজা ডিমে প্রায় একই রকম।

ডিম প্রায়ই সয়াবিন তেলে ভাজা হয়। যাতে থাকা ট্রান্সফ্যাট হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এবং হৃদ্‌রোগ ঝুঁকি বাড়ায়। তবে শাকসবজি ও পনির মিশিয়ে ভাজলে ডিমের পুষ্টিগুণ বাড়ে। মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টের (ভিটামিন ও খনিজ) দিক থেকে সেদ্ধ ও ভাজা ডিমের পুষ্টিমান প্রায় একই।

সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া

ফরিদপুর-২ : ইশতেহার প্রকাশ করল বিএনপির শামা ওবায়েদ, অগ্রাধিকার পেল যে ১৯ ইস্যু?

ফরিদপুর ও সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:২৯ পিএম
ফরিদপুর-২ : ইশতেহার প্রকাশ করল বিএনপির শামা ওবায়েদ, অগ্রাধিকার পেল যে ১৯ ইস্যু?

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষনা করেছেন ফরিদপুর-২ (সালথা-নগরকান্দা) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু। বিভিন্ন শ্রেণি, পেশা ও সাধারণ মানুষের মতামত নিয়ে তৈরি করা ইশতেহারে ১৯টি বিষয়টি অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (০৫ জানুয়ারি) বিকেলে নগরকান্দা উপজেলার লস্কারদিয়া ইউনিয়নের লস্কারদিয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ইশতেহার ঘোষণা করেন শামা ওবায়েদ।

লিখিত ইশতেহার ঘোষণা করে শামা ওবায়েদ বলেন, সালথা ও নগরকান্দা উপজেলার জন্য সম্পূর্ণ পরিকল্পনাভিত্তিক দুটি পৃথক মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন ও পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। উভয় উপজেলার প্রতিটি গ্রামকে ধাপে ধাপে আদর্শ গ্রাম হিসেবে গড়ে তোলা হবে। গ্রামগুলোতে পরিকল্পিত বসতি, নিরাপদ সড়ক, ড্রেনেজ, সবুজায়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ক্রীড়া সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। প্রতিটি বাজার এলাকায় পাট প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এর মাধ্যমে ৫০ ভাগের বেশি বেকার মহিলা ও যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

তিনি বলেন, বিদ্যমান অপরিকল্পিত ৪০ টি বাজারকে পুনঃনকশা করে একটি টেকসই ও আধুনিক বাজার ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি গড়ে তোলা হবে। পাটনির্ভর কুটির শিল্প সম্প্রসারণের ভিত্তিতে গ্রামীণ নারী ও যুবকদের প্রশিক্ষণ প্রদানপূর্বক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। পারিবারিক কুটির শিল্পকে প্রণোদনার মাধ্যমে উৎসাহিত করে ঘরে ঘরে কুটির শিল্প স্থাপন করা হবে। মসজিদ-মাদ্রাসা, সকল মন্দিরের ও সংস্থার আধুনিকায়নে কাজ করা হবে। ইলেকট্রনিক ভিত্তিক কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গ্রামীণ উদ্যোক্তা তৈরি করা হবে। তরুণ সমাজের জন্য সহজ শর্তে ঋণের মাধ্যমে ২০ হাজার কম্পিউটার বিতরণ করা হবে।

শামা ওবায়েদ বলেন, প্রযুক্তি নির্ভর ও রপ্তানি ভিত্তিক কলকারখানা স্থাপন করা হবে এবং কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। স্থানীয় কৃষকদের বিনামূল্যে সমযোপযোগী আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সহায়তা এবং গবেষণালব্ধ সর্বাধুনিক জ্ঞানের প্রযোগের মাধ্যমে উৎকর্ষ সাধনের লক্ষে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। খামারিদের জন্য আধুনিক খামার ব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামোগত সহায়তা প্রদান করা হবে। কৃষকের উৎপাদিত ফসল সংরক্ষন ও বিপনন সু-ব্যবস্থা করা হবে।

তিনি বলেন, সালথার ৩৫০ কিমি ও নগরকান্দার ৫৩৮ কিমি সড়ক পুনঃসংস্কার ও আধুনিকায়ন করা হবে। পাশাপাশি সালথার ৫৪ কিলোমিটার এবং নগরকান্দার ৩৩৯ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক পাকাকরণ করা হবে। এছাড়াও নতুনভাবে দুই উপজেলায় মোট ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করা হবে। ক্ষতিগ্রস্ত ও ভরাট হয়ে যাওয়া কুমার নদী সংলগ্ন সকল উপনদী, খাল, বিল, তথা প্রাকৃতিক জলাশয় পুনরুদ্ধার করে পুনঃখননের মাধ্যমে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ নিশ্চিত করা হবে। পারিবারিক বাগান, সড়কের পাশে বৃক্ষরোপণ এবং প্রকল্পভিত্তিক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রাকৃতিক বনায়ন গড়ে তুলে পরিবেশের তাপমাত্রা হ্রাস করা হবে। একই সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সবুজায়ন নিশ্চিত করা হবে।

শামা ওবায়েদ বলেন, গ্রাম, শহর ও নগর এলাকায় সমন্বিত পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি পরিচালনার মাধ্যমে একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলা হবে। বাজার ভিত্তিক পাবলিক টয়লেট স্থাপন করা হবে। দুই উপজেলায় বিদ্যমান ৩১০ টি স্কুল, ১ টি কলেজ ও ২৪ টি মাদ্রাসা আধুনিকায়ন করা হবে এবং নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের মাধ্যমে শিক্ষার মানোন্নয়ন করা হবে। যার মাধ্যমে প্রতিটি ঘরে সুশিক্ষিত পরিবার নিশ্চিত করা হবে। পর্যাপ্ত সুবিধাদি ও স্বাস্থ্যসেবা সহ শিশু বান্ধব বিদ্যালয়, যুগোপযোগী আইসিটি ভিত্তিক শিক্ষা ও মাদ্রাসা শিক্ষার আধুনিকায়ন নিশ্চিত করা হবে।

প্রতিটি ইউনিয়নে কমিউনিটি ক্লিনিক শক্তিশালী করন, বর্ধিত জনসংখ্যার অনুপাতে স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে প্রযোজনীয় নার্সিং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আনুপাতিক হারে নার্স প্র্যাকটিশনার নিযোগ করা হবে। উপজেলা পর্যায়ে আধুনিক ক্লিনিক স্থাপন ও বিদ্যমান ক্লিনিকের সক্ষমতা বৃদ্ধি পূর্বক মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হবে। প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠির জন্য বিশেষ শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবার ব্যবস্থা করা হবে। যুব সমাজের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের লক্ষ্যে খেলার মাঠ, ক্রীড়া সুবিধা এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করা হবে। ছাত্র সমাজ ও যুব সমাজের জন্য এলাকার বিভিন্ন উপযুক্ত জায়গায় খেলার মাঠ তৈরী করা হবে।

শামা ওবায়েদ আরো বলেন, নারী সমাজের শিক্ষা, নিরাপত্তা, এবং তাদের বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা নিরশনে প্রয়াশে দুই উপজেলায় দুটি সেল গঠন করা হবে। সেলটি নারী আইনজীবী, মানবাধিকার কর্মীদের দ্বারা গঠিত হবে। নগরকান্দা ও সালথায় প্রবাসীদের সমস্যা গুলো সার্বিক ভাবে দেখার প্রতিশ্রুতি। প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় ছেলে-মেয়েদের জন্য লাইব্রেরী ব্যবস্থা করা হবে। শতভাগ বিদ্যুৎ সংযোগ ও সোলার বিদ্যুৎ সংযোগ। উপজেলা ভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে।

ফরিদপুর-৪ আসনে নাটকীয় সিদ্ধান্ত: খেলাফত প্রার্থী প্রত্যাহার, জামায়াতের পক্ষে সমর্থন

ফরিদপুর ও ভাঙ্গা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২৭ পিএম
ফরিদপুর-৪ আসনে নাটকীয় সিদ্ধান্ত: খেলাফত প্রার্থী প্রত্যাহার, জামায়াতের পক্ষে সমর্থন

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন) আসনে ইসলামী দলগুলোর মধ্যে ঐক্যের নতুন বার্তা পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মাওলানা মিজানুর রহমান মোল্লা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়ে ১১ দলীয় ইসলামী জোটের প্রার্থী ও জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মাওলানা সরোয়ার হোসেনকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন দিয়েছেন।

খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মাওলানা মিজানুর রহমান মোল্লা রিকশা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্বাচনী মাঠ ছাড়ার ঘোষণা দেন। বৃহস্পতিবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এ প্রসঙ্গে মাওলানা মিজানুর রহমান মোল্লা বলেন, “সারাদেশে ১১ দলীয় ইসলামী জোট ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। কিন্তু ফরিদপুর-৪ আসনে শুরুতে উন্মুক্ত থাকায় জোটভুক্ত দুই দলের দুইজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিলেন। এতে জোটের বিজয় ও ইসলামের পক্ষে ফলাফল অনিশ্চিত হয়ে পড়ছিল। সেই বাস্তবতা উপলব্ধি করেই আমি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়ে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা সরোয়ার হোসেনকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

তিনি আরও জানান, দলের আমির আল্লামা মামুনুল হকের সঙ্গে পরামর্শ করে এবং দলীয় সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। “আমি প্রায় দুই বছর ধরে ফরিদপুর-৪ আসনের তিনটি থানায় গণসংযোগ ও নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছি। শেষ পর্যন্ত জোটের সম্মান ও ইসলামী ঐক্যের স্বার্থে এই ত্যাগ স্বীকার করেছি। ইনশাআল্লাহ, এখন এই আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীই বিজয়ী হবেন,”—যোগ করেন তিনি।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা সরোয়ার হোসেন খেলাফত মজলিসের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, “ফরিদপুর-৪ আসনে ১১ দলীয় জোটের দুইজন প্রার্থী ছিলেন। আমার জোটের ছোট ভাই মাওলানা মিজানুর রহমান মোল্লা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়ে আমাকে সমর্থন জানিয়েছেন। এটি ইসলামী ঐক্যের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এখন আমাদের বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না, ইনশাআল্লাহ।”

তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত হলে ন্যায়, ইনসাফ ও ইসলামী মূল্যবোধের ভিত্তিতে জনগণের কল্যাণে কাজ করবেন। এই ঐক্যের ফলে ফরিদপুর-৪ আসনে নির্বাচনী সমীকরণ নতুনভাবে সাজানো হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।