খুঁজুন
রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৮ চৈত্র, ১৪৩২

কৃষক কীভাবে তাঁর পণ্যে বিএসটিআইয়ের সিল মারবেন

নাহিদ হাসান
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৩:৩৪ পিএম
কৃষক কীভাবে তাঁর পণ্যে বিএসটিআইয়ের সিল মারবেন

একটি দেশ আছে, যেখানে গরু আর ঘাস খায় না, চরে না চারণভূমিতে। সেখানে গরু, মাছ, মুরগি মূলত খায় ভুট্টা।  দেশটিতে মুরগি জন্মের পর কখনো সূর্যের আলোর মুখ দেখতে পায় না। একজন কৃষক নিজের খামারে জানালা রেখেছিলেন, যেন মুরগির কাছে আলো পৌঁছায়। তাঁর খামার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। দেশটিতে সবজির কোনো আলাদা ঋতু নেই। টমেটো পাওয়া যায় সারা বছর। টমেটো পাকানো হয় ইথিলিন ব্যবহার করে। দেশটিতে পেটেন্ট জিনের সয়াবিনবীজ সংরক্ষণ করলে সন্ধ্যায় পুলিশের মতো ব্যক্তিগত তদন্তকারীরা বাড়িতে হানা দেয়, যাঁদের নিয়োগ দিয়েছেন বীজ বিক্রেতারা। আর এসব ঘটনা যে দেশে ঘটে, তার নাম যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি ও খাদ্যপণ্য নিয়ে টানা ছয় বছর কাজ করে ২০০৮ সালে রবার্ট কেনার একটি তথ্যচিত্র নির্মাণ করেন। ওই তথ্যচিত্রের বাংলা নাম হতে পারে ‘খাদ্য কোম্পানি’। যখন তথ্যচিত্রটি বের হয়, তখন ঘটনাগুলো আমাদের কাছে ছিল অবাস্তব। কিন্তু আজ যুক্তরাষ্ট্র নয়, মনে হয় ওই তথ্যচিত্রের ঘটনাস্থল বাংলাদেশও।

যে ধরনের উদ্ভিদ বা বীজ বপন করলে পরিবেশে বিশেষ জীব, অণুজীবদের জীবন টেকা কঠিন, সেই ধরনের বীজ বা উদ্ভিদকে প্রবেশাধিকার দিলে পরিবেশের বারোটা বেজে যায়। বিজ্ঞানীরা এ ধরনের বীজ বা উদ্ভিদকে নাম দিয়েছেন আগন্তুক প্রজাতি।

বাংলাদেশে এখন আগন্তুক প্রজাতির বীজের ব্যবহার বেড়েছে। তবে হাইব্রিড বীজের উৎপাদনসক্ষমতা যাচাই, নজরদারি ও সার্টিফিকেটের ব্যবস্থা করেনি সরকার। কৃষক জমিতে কেমন বীজ লাগাচ্ছেন, তা দেখভালের কেউ নেই। কিন্তু কৃষক যা উৎপাদন করবেন, তা বিক্রি করতে গেলে সনদ নিতে হবে, এ কেমন কথা!

দুই.

উলিপুর উপজেলার দুই তরুণ ব্রহ্মপুত্রের একটি চরে কৃষি খামার দিয়েছেন। শর্ষের খেতে ফুল এলে তাঁরা মধু সংগ্রহ করেন। তারপর শর্ষেদানা এলে কাঠের ঘানিতে করেন তেল উৎপাদন। সেই তেল তাঁরা স্থানীয়দের মধ্যে বিক্রি করেন। কিন্তু বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন বা বিএসটিআইয়ের প্রত্যয়ন না থাকায় শহরের দোকানিরা সেই তেল রাখতে আগ্রহী হন না। তবে তাঁদের কাছে বিএসটিআইয়ের প্রত্যয়ন না থাকলেও স্থানীয় প্রত্যয়ন আছে।

আর প্রত্যয়ন দেয় কারা? ১. কৃষক নিজে, ২. সামাজিক প্রত্যয়ন। প্রথমত, কৃষক নিজের চাষকে প্রত্যয়ন দেন। তারপর আছে সামাজিক প্রত্যয়ন। সেটা দেন স্থানীয় ভোক্তারা। তবে এর বাইরেও একটা প্রত্যয়ন কোনো পণ্য বাজারজাত করতে গেলে জরুরি। সেটা হলো প্রতিষ্ঠানের কাছে থেকে প্রত্যয়ন। তবে কৃষকের পক্ষে প্রতিষ্ঠানের থেকে প্রত্যয়ন গ্রহণের রাস্তা নেই।

বাংলাদেশ সরকার যদি কোনো পণ্যকে মানের স্বীকৃতি দিতে চায়, তার জন্য কিছু নিয়ম আছে। বিএসটিআইয়ের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি পণ্য বানান, কোনো প্রক্রিয়া ব্যবহার করে বা কোনো পেটেন্ট, ট্রেডমার্ক বা ডিজাইন ব্যবহার করে স্ট্যান্ডার্ড মার্ক ব্যবহার করতে চান, তাঁকে লাইসেন্স নিতে হবে।

লাইসেন্স পেতে নির্ধারিত ফি দিতে হয় এবং নির্ধারিত ফরম পূরণ করে বিএসটিআইয়ে আবেদন করতে হয়। এরপর বিএসটিআই পণ্য পরীক্ষা করে সন্তুষ্ট হলে লাইসেন্স দেয়। কিন্তু এই পুরো প্রক্রিয়ায় অনেক ধাপ রয়েছে, যার ফলে অনুমোদন নিতে সময় লাগে এবং পণ্যের দাম বাড়ে।

উদাহরণস্বরূপ, চিলমারীর নারীরা হাতে মুড়ি বানান। যদি তাঁরা এই মুড়ি ঢাকা শহরে বিক্রি করতে চান, তাহলে তাঁরা বিএসটিআইয়ের সিল কীভাবে পাবেন? লাইসেন্স নেওয়া ও অনুমোদনের প্রক্রিয়ার চেয়ে তাঁর কাজটা তো অনেক সহজ।

ফলে স্থানীয় পর্যায়ের খাঁটি শর্ষের তেল, মধু বা মুড়ি উৎপাদনকারীদের যে কাজের সুযোগ হওয়ার কথা ছিল, তা আর হয় না। একজন কৃষক শর্ষে বিক্রি করে উৎপাদন খরচ তুলতে না পারলেও, বাড়তি শ্রম যুক্ত করে তেল বা মুড়ি বানিয়ে হয়তো আয়ে কিছুটা ভারসাম্য রাখতে পারতেন।

এখানে সামাজিক শক্তিকেই পণ্যের প্রত্যয়নের কাজে লাগানো যায়। যে মানুষেরা খাবেন, তাঁরাই সেই খাবারের মান যাচাই করবেন। যে কৃষক শহরে পণ্য বিক্রি করবেন, তিনিই এই সামাজিক প্রত্যয়ন গ্রহণ করবেন। পাড়াভিত্তিক ছোট কমিটি করা যেতে পারে। যেখানে হয়তো থাকবেন দুজন শিক্ষক, দুজন ইমাম বা অন্যান্য ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, দুজন গৃহিণীসহ মোট ২০ জন ভোক্তা। তাঁরাই প্রত্যয়ন দেবেন। উৎপাদক চাইলে সহজেই এই ভোক্তাদের কাছ থেকে এই প্রত্যয়ন সংগ্রহ করতে পারবেন। এই পদ্ধতি জবাবদিহিমূলক, সহজ ও গণমুখী।

  • নাহিদ হাসান লেখক ও সংগঠক। ই–মেইল: nahidknowledge1@gmail.com

চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৬:২১ এএম
চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

চৈত্র মাসের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ করেই শীতের আবহ ফিরে এসেছে ফরিদপুরে। রবিবার (২২ মার্চ) ভোর থেকেই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় পুরো জেলা। চারপাশে যেন শীতের সকালের সেই পরিচিত দৃশ্য—মাঠ-ঘাট, গাছপালা, রাস্তা সবই কুয়াশার আস্তরণে আচ্ছন্ন। মৃদু শীতল বাতাস আর হালকা ঠান্ডা আবহে প্রকৃতি যেন ভুলে গেছে ঋতুর নিয়ম।

ভোরের আলো ফুটলেও সূর্যের দেখা মেলেনি অনেকক্ষণ। কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেশি ছিল যে দূরের বস্তু স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল না। গ্রামীণ জনপদে দেখা গেছে চিরচেনা দৃশ্য—কৃষকরা গরু নিয়ে মাঠে যাচ্ছেন, আর গৃহস্থ বাড়িতে কৃষাণীরা ধান সিদ্ধ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সব মিলিয়ে চৈত্রের সকালে এমন দৃশ্য অনেকটাই অপ্রত্যাশিত হলেও প্রকৃতির এক ভিন্ন সৌন্দর্য উপভোগ করছেন স্থানীয়রা।

সালথা উপজেলার কৃষক শাহাজুদ্দিন মাতুব্বর বলেন, “চৈত্র মাসে এমন কুয়াশা আমরা খুব একটা দেখি না। সকালে মাঠে কাজ করতে গিয়ে ঠান্ডা অনুভব করছি। তবে এই কুয়াশা ফসলের জন্য ভালো না-ও হতে পারে।”

বিশেষ করে পেঁয়াজ চাষিদের মধ্যে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। এই সময়ে অতিরিক্ত কুয়াশা ও আর্দ্রতা পেঁয়াজের গাছের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। এতে করে গাছের পাতা পচে যাওয়া বা রোগবালাইয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে, যা উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

জেলা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, মৌসুম পরিবর্তনের এই সময়ে তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে এমন কুয়াশা দেখা দিতে পারে। রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমে যাওয়ায় এবং বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ভোরের দিকে কুয়াশা ঘনীভূত হচ্ছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা স্বাভাবিক হয়ে আসবে এবং কুয়াশা কেটে যাবে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

আবহাওয়াবিদরা আরও জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিন এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। তাই কৃষকদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পেঁয়াজসহ সংবেদনশীল ফসলের যত্নে বাড়তি নজর দিতে বলা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, চৈত্রের প্রখর রোদ আর গরমের বদলে হঠাৎ করে ফিরে আসা শীতের এই আমেজ একদিকে যেমন প্রকৃতিকে দিয়েছে ভিন্ন রূপ, অন্যদিকে কৃষকদের মনে তৈরি করেছে নতুন দুশ্চিন্তার ছায়া।

ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৫ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

ফরিদপুরের সদরপুরে ঈদের নামাজের পর একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। 

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুইটার দিকে স্থানীয়রা কুকুরটিকে মেরে ফেলে বলে জানা গেছে।

হাসপাতাল ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ঈদের নামাজের পর উপজেলা সদরে একটি পাগলা কুকুর যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই আকষ্মিকভাবে কামড়ে আহত করে। তবে প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগী এক রোগীর স্বজন মো. সোহাগ মুন্সি বলেন, একটি পাগলা কুকুর হঠাৎ করে যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই কামড়িয়ে আহত করে। আমার ভাতিজা আরাফাতকে(১৪) কামড়ে আহত করে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মোট ১৬ জন বিভিন্ন বয়সী মানুষকে কুকুরটি কামড়ে আহত করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মো: মমিনুর রহমান সরকার বলেন, আহতদের মধ্যে এগারো জনকে আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বাকি পাঁচ জন পার্শ্ববর্তী হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

 

ফরিদপুরে ঈদের নামাজ শেষেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৪:০৩ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের নামাজ শেষেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ঈদের নামাজ শেষে দুই দল গ্রামবাসী মধ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ১৫/২০ টি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট করা হয় বলে জানা গেছে।

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ৯ টা থেকে বেলা ১১ টা পর্যন্ত দুই ঘন্টা ব্যাপী দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে চলে এ সংঘর্ষ। দুই পক্ষ ঢাল, সরকি, রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে-অপরের ওপর ঝাপিয়ে পড়ে। এ সময় এলাকায় রণক্ষেত্রে পরিনত হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের ইসমাইল মুন্সি ও চুন্নু মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দিনগত রাত সাড়ে বারটার দিকে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মধ্যরাতে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় অন্তত ১২ জন আহত হন। এর জের ধরে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়টি নিশ্চিত করে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।