খুঁজুন
বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২১ মাঘ, ১৪৩২

উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা

ওয়াহিদুদ্দিন মাহমুদ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৯:৫৮ এএম
উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) আয়োজিত বার্ষিক ডেভেলপমেন্ট কনফারেন্সের এবারের আলোচনার শিরোনাম ‘গণতন্ত্র ও উন্নয়ন’, যা অত্যন্ত সময়োপযোগী। আমরা সবাই এখন এ বিষয়টি নিয়েই ভাবছি। জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে আমরা যেখানে এসে দাঁড়িয়েছি, তাতে আমার মনে হয় তিনটি বিষয় এখানে প্রাসঙ্গিক। প্রথমত, একটি কার্যকর জনপ্রতিনিধিমূলক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় উত্তরণ; দ্বিতীয়ত, এমন একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যা অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করবে এবং তৃতীয়ত, সেই উন্নয়নের গুণগত মান কী হবে। অর্থাৎ, যে উন্নয়ন সংঘটিত হবে, তা একটি ন্যায্য সমাজ গঠন এবং আর্থসামাজিক বৈষম্য দূর করতে সহায়ক হবে কি না, সেটাই বিবেচ্য। এ তিনটি ভিন্ন ভিন্ন বিষয় এবং আমি বলব, এগুলো নিয়ে প্রচুর গবেষণার সুযোগ রয়েছে।

তবে লক্ষণীয় বিষয় হলো, আমাদের বর্তমান আলাপ-আলোচনা মূলত ওই প্রথম বিষয়টি অর্থাৎ গণতান্ত্রিক উত্তরণ নিয়েই আবর্তিত হচ্ছে। এই যে ঐকমত্য কমিশন কিংবা জুলাই সনদ—এগুলো সবই খুব ‘মডেস্ট’ বা সীমিত প্রত্যাশার বহিঃপ্রকাশ। এই মুহূর্তে আমাদের প্রত্যাশা—আমরা যেন অন্তত একটি কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে পারি। স্বাধীনতার প্রায় সাড়ে পাঁচ দশক পরও আমাদের এ লক্ষ্যটি আমার কাছে সীমিতই মনে হচ্ছে। কারণ, এটি মূলত দেশ শাসনের একটি কার্যকর বন্দোবস্ত তৈরি করা মাত্র। এতদিন পরও আমাদের লক্ষ্য এতটুকুতেই সীমাবদ্ধ থাকাটা দুঃখজনক। তবুও আমরা আশা করব, নতুন বাংলাদেশের যে স্বপ্ন দেখা হচ্ছে, সেখানে হয়তো আমরা আরও দীর্ঘস্থায়ী ও টেকসই বন্দোবস্তের দিকে এগোতে পারব।

গণতন্ত্র এবং উন্নয়ন নিয়ে প্রচুর গবেষণা ও লেখালেখি হয়; এটি অত্যন্ত বিস্তৃত একটি বিষয়। ফলে এটা নিয়ে কথা বলতে বেশ বিড়ম্বনায় পড়তে হয় যে, এই বিস্তৃত বিষয়ের কোনটা ছেড়ে কোনটা বলব। এ ছাড়া এতসব বিষয় নিয়ে সুস্থির মনে তাত্ত্বিক চিন্তাভাবনা করার মতো মানসিক অবস্থাও আমার নেই। সে কারণে আমি আমার লেখা ইদানীংকালের দুটো বইয়ের আলোকে কথা বলতে চাই। একটি বইয়ের নাম ‘উন্নয়নশীল দেশের গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্র’ এবং অন্যটি ‘মার্কেটস, মরালস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট: রি-থিংকিং ইকোনমিকস ফ্রম এ ডেভেলপিং কান্ট্রি পারসপেকটিভ’। সারা বিশ্বের বর্তমান প্রেক্ষাপটে মূল সমস্যাটি হলো—একটি গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা থাকবে, যেখানে অর্থনীতি হবে প্রধানত মুনাফাতাড়িত, ব্যক্তিনির্ভর এবং বাজারভিত্তিক; আবার তাতে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণও থাকবে। এমন একটি গণতান্ত্রিক বাজারভিত্তিক ব্যবস্থায় আমরা একই সঙ্গে একটি ন্যায্য সমাজ চাই এবং বৈষম্যও কমিয়ে রাখতে চাই। এটি কীভাবে সম্ভব? এ প্রশ্নের কোনো একক সমাধান নেই। আমি নিজে যা চিন্তা করেছি, তা ওপরে উল্লিখিত বই দুটিতে মোটামুটি লিখেছি। তবে এখন আরও নানা ধরনের চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।

আসলে এ প্রশ্নগুলোর উত্তর নির্ভর করে একটি দেশের আর্থসামাজিক অবস্থা, রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং পরিবেশের ওপর। এর কোনো একক সমাধান অন্য দেশ থেকে ধার করে আনা সম্ভব নয়। যেমন—আমরা যদি অর্থনৈতিক উন্নয়ন চাই, যা সুষম এবং দারিদ্র্য নিরসনকারী হবে; তবে দক্ষিণ কোরিয়ার মতো হতে হবে—বিষয়টি এমন নয়। ভালো ক্রিকেট খেলতে চাইলেই যেমন শচীন টেন্ডুলকারের মতো খেলা যায় না, ব্যাপারটা তেমনই। প্রতিটি দেশকেই তার নিজস্ব পথ খুঁজে বের করতে হয়।

আগেই বলেছি যে, খুব সুস্থিরভাবে নতুন কোনো একাডেমিক ভাবনা-চিন্তার অবকাশ আমি পাচ্ছি না। কারণ হলো, আমি একটি দৈবক্রমে গঠিত সরকারের দৈবক্রমে নিয়োগপ্রাপ্ত উপদেষ্টা। সেখানে গবেষণা বা লেখালেখির সুযোগ নেই। তবে একটা সুবিধা আছে—তা হলো, এতদিন যেসব গবেষণা বা লেখালেখি করেছি, সেগুলোর ধারণার সঙ্গে বাস্তবের কতটুকু মিল আছে, তা যাচাই করা। আমরা অনেকেই গবেষণায় বলি—কেন এটা করা হচ্ছে না, কেন ওটা আরও ভালো হচ্ছে না, কেন এদিকে দৃষ্টি দেওয়া হচ্ছে না। কিন্তু বাস্তবের অভিজ্ঞতার সঙ্গে যে এগুলোর অনেক সময় মিল থাকে না, সেটা এখন বোঝা যাচ্ছে।

আমি আগেই বলেছি, এই মুহূর্তে আমরা যেসব সংস্কারের কথা বলছি, তার লক্ষ্য হলো কার্যকর গণতন্ত্রের একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া। যেখানে একটি নির্বাচিত সংসদ থাকবে এবং সেই সংসদের মাধ্যমে সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহি করবে। সেইসঙ্গে কিছু অনির্বাচিত কিন্তু রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান থাকবে, যা যে কোনো দেশেই থাকে। যেমন—স্বাধীন বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন, স্বাধীন সংবাদমাধ্যম এবং নাগরিক সক্রিয়তা। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জবাবদিহির জন্য এগুলো অত্যন্ত প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা এবং ভালো গণতন্ত্রের পূর্বশর্ত। কিন্তু বাস্তবে এসব প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ঠিকঠাক থাকলেও গণতন্ত্রের গুণগত মান শেষ পর্যন্ত নির্ভর করে রাজনৈতিক আচার-আচরণ এবং সংস্কৃতির ওপর। এটাই আসল কথা এবং এ সংস্কৃতি এক দিনে গড়ে ওঠে না, ধীরে ধীরে তৈরি হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের অভিজ্ঞতা নিয়ে ‘টুয়েন্টি ইয়ার্স অব রিফর্মস’ নামে একটি বিখ্যাত বই আছে। বইটি মূলত দুই বিশ্বযুদ্ধের অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সংস্কার নিয়ে। প্রথম মহাযুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থা অনেকটা বাংলাদেশের মতোই ছিল—সার্কিট জাজ থেকে শুরু করে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা, সব জায়গাই ছিল দুর্নীতিগ্রস্ত। নিয়মনীতির বালাই ছিল না, ছিল মাফিয়াতন্ত্র। মাত্র বিশ বছরের মধ্যে সেই সংস্কৃতি বদলে আমেরিকা কীভাবে একটি নিয়মবদ্ধ, প্রাতিষ্ঠানিক ও সুসংগত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আসতে পারল, তা লক্ষণীয়। আমরা অতীতে যা দেখেছি, তা বদলাতে হবে। রাজনীতি যদি জনকল্যাণমুখী না হয়ে অন্যায় সুযোগ-সুবিধা বিতরণের হাতিয়ার হয়, যা আমরা এতদিন দেখে এসেছি—তাহলে যুবসমাজের একটি বড় অংশ ‘ক্যাডারভিত্তিক’ রাজনীতি বা চাঁদাবাজিকেই জীবিকা অর্জনের উপায় হিসেবে বেছে নেয়। শুধু তাই নয়, একটি সুবিধাভোগী ব্যবসায়ী গোষ্ঠী শুধু ব্যবসার পরিবেশই নষ্ট করে না (যাকে আমরা ‘ক্রোনি ক্যাপিটালিজম’ বলি), বরং তারা অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণকেও নিজেদের প্রভাব বলয়ের মধ্যে নিয়ে আসে। এর ফলে একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র তৈরি করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।

আমার মনে হয়, একটি বিষয় হয়তো কেউ সেভাবে তুলে ধরেননি—তা হলো আমাদের শিক্ষার নিম্নমান এবং বিদ্যালয় থেকে অকালে ঝরে পড়া। এর সঙ্গে যুব বেকারত্ব ও যুবসমাজের একাংশের রাজনৈতিক ক্যাডারভিত্তিক জীবিকার প্রতি ঝুঁকে পড়ার বিষয়টি পরস্পর সম্পর্কিত। এ সমস্যাগুলোর সমাধান পৃথকভাবে করা সম্ভব নয়। আমরা হয়তো এভাবে বিষয়টি ভেবে দেখিনি। তাই শুধু রাজনীতির ওপর দোষ চাপালেই চলবে না; আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও বেকার সমস্যার দিকেও নজর দিতে হবে।

ধরলাম, আমরা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা তৈরি করতে সক্ষম হলাম। কিন্তু দ্বিতীয় প্রশ্ন হলো—সেই ব্যবস্থায় অর্থনৈতিক উন্নয়ন কীভাবে নিশ্চিত হবে? শুধু গণতন্ত্র থাকলেই যে অর্থনৈতিক উন্নয়ন হবে, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। তা ছাড়া বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যের অনুকূল পরিবেশইবা কীভাবে তৈরি হবে? এটি তো শুধু সরকারের একার বিষয় নয়। বিনিয়োগ ও ব্যবসার পরিবেশ নিয়ে অনেক আন্তর্জাতিক সূচক রয়েছে, যেখানে বাংলাদেশ সবসময়ই পিছিয়ে। একটি সাধারণ ধারণা দেওয়া হয়—যদিও আমরা অনেকে তা পুরোপুরি বিশ্বাস করি না যে, আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতা কমালে বা লাইসেন্স পাওয়ার সময় কমিয়ে আনলেই ব্যবসার পরিবেশ ভালো হয়ে যাবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, শুধু আমলাতান্ত্রিক সমাধান দিয়ে এ পরিস্থিতির উন্নয়ন সম্ভব নয়।

আমাদের দেশে ব্যবসায়ী এবং আমলা বা সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে যদি একটি অশুভ লেনদেন বা আঁতাতের সংস্কৃতি গড়ে ওঠে, তবে তা শুধু প্রশাসনিক সংস্কার দিয়ে হঠাৎ করে ঠিক করা যায় না। এটি সত্য যে, আমরা নতুন আইনকানুন ও বিধিবিধান তৈরি করতে পারি, যা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়াবে এবং এতে কিছু সমস্যার সমাধানও হবে। উদাহরণস্বরূপ, আমরা সম্প্রতি অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেই এ বছর থেকে অনলাইনে আয়কর জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করেছি। এর ফলে কর কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ আর নেই, যা নিঃসন্দেহে সাধারণ করদাতাদের হয়রানি বন্ধ করবে। এটি অবশ্যই কার্যকর একটি পদক্ষেপ। কিন্তু বড় বড় কর ফাঁকির ঘটনাগুলো যে শুধু অনলাইনে কর ব্যবস্থার মাধ্যমেই সমাধান হবে, তা নিশ্চিত নয় বা আমি তা মনেও করি না। সেটির জন্য আরও বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন। মোদ্দাকথা হলো, আমরা আইনকানুন বা বিধিবিধান দিয়ে যা-ই করতে চাই না কেন, সেটার ফলাফল নির্ভর করবে ওই দেশের তৎকালীন ব্যবসায়িক-আমলাতান্ত্রিক সংস্কৃতি বা আচরণবিধির ওপর—যাকে আমরা বলি ‘সোশ্যাল সুপার স্ট্রাকচার’। আমরা যেসব নতুন বিধিবিধান দিচ্ছি, সেগুলো কী ধরনের প্রণোদনা বা ইনসেনটিভ তৈরি করছে, তা এ কাঠামোর ওপরই নির্ভর করে। আমি যদি ওই পরিবেশ বা আচরণকে ঠিকমতো বুঝতে না পেরে ভুলভাবে নতুন বিধিবিধান চাপিয়ে দিই, তবে তার ফলাফল অনির্দিষ্ট হতে পারে। যদি সেটি কার্যকর হয়, তবে হয়তো উৎপাদনশীল উদ্যোগকে উৎসাহিত করবে। কিন্তু কার্যকর না হলে তা উল্টো ‘রেন্ট সিকিং’ বা অবৈধ উপার্জনের দিকেই মানুষকে ঠেলে দেবে। তখন মনে হবে আমরা ভালো বিধিবিধান করছি, কিন্তু আদতে তা অবৈধ উপার্জনের নতুন নতুন সুযোগ সৃষ্টি করছে।

আশি ও নব্বইয়ের দশকে বিশ্বব্যাংকের কাঠামোগত সংস্কারের অধীনে বলা হতো—ঢালাওভাবে উদারীকরণ ও বেসরকারীকরণ করে যাও, তাহলেই অর্থনৈতিক উন্নয়ন হবে এবং সব সমস্যার সমাধান মিলবে। কিন্তু ২০০৫ সালে বিশ্বব্যাংক নিজেই একটি গবেষণা প্রতিবেদনে জানায় যে, তাদের এ উদারীকরণ ও সংস্কারের পরামর্শ একেক দেশে একেক রকম ফল দিয়েছে। কোনো দেশে ভালো ফল মিলেছে, আবার কোনো দেশে উল্টো ক্ষতি হয়েছে। এর কারণ হলো, একটি দেশের আচরণবিধি এবং ব্যবসায়-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সম্পর্ক, অর্থাৎ ‘রিলেশনশিপ অব ট্রাস্ট অ্যান্ড কো-অপারেশন’ কেমন, তার ওপর বিষয়টি নির্ভর করে। একে ‘সোশ্যাল ক্যাপিটাল’ বা সামাজিক মূলধনও বলা হয়। আমরা যখন নতুন বিধিবিধান চাপিয়ে দিই, তখন সেটির কার্যকারিতা কতটুকু হবে, তা মূলত এ সামাজিক মূলধনের ওপরই নির্ভর করে।

আমি দুয়েকটি উদাহরণ দিতে চাই। আগেই বলেছি, নতুন করে ভাবার সময় আমি পাইনি, তবে কিছু উদাহরণ আমি লক্ষ করেছি। যেমন—ভারতে ঘুষ নেওয়া যেমন ফৌজদারি অপরাধ (ক্রিমিনাল অফেন্স), তেমনি ঘুষ দেওয়াও অপরাধ। আমাদের অনেকের পরিচিত কৌশিক বসু, যিনি একসময় ভারত সরকারের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ছিলেন, তিনি একটি প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তার যুক্তি ছিল, ঘুষ দেওয়াও যদি অপরাধ হয়, তবে কেউ আর ‘হুইসেল ব্লোয়ার’ হবে না। অর্থাৎ, কেউ নিজের অপরাধ স্বীকার করে বলবে না যে, অমুক কর্মচারী আমার কাছ থেকে ঘুষ নিয়েছে। তাই তিনি প্রস্তাব করেছিলেন ঘুষ দেওয়াকে যেন অপরাধ হিসেবে গণ্য না করা হয়। কিন্তু তখন ভারতের গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজে এ নিয়ে তুমুল হৈচৈ পড়ে যায়। তারা মনে করেছিল, এটি একটি অনৈতিক প্রস্তাব, যা ঘুষ দেওয়াকে বৈধতা দিচ্ছে। শেষ পর্যন্ত তার প্রস্তাব গৃহীত হয়নি।

বিষয়টি নিয়ে ভেবে দেখলাম, বাংলাদেশে ঘুষ নেওয়া অপরাধ হলেও ঘুষ দেওয়াকে সবসময় সেভাবে অপরাধ হিসেবে দেখা হয় না। কিন্তু তারপরও তো খুব একটা লাভ হয়নি। এর কারণ হলো, যখন কোনো অবৈধ সুবিধা আদায়ের জন্য—যেমন কর ফাঁকি দেওয়ার জন্য ঘুষ দেওয়া হয়, তখন যিনি দিচ্ছেন তিনিও বিষয়টি প্রকাশ করবেন না। বাংলাদেশ বা আমাদের মতো দেশগুলোতে অনেক ঘুষ লেনদেন হয় ‘স্পিড মানি’ হিসেবে। এতে উভয়পক্ষেরই স্বার্থ থাকে, তাই কেউই এ নিয়ে কথা বলে না।

আরেকটি উদাহরণ দেওয়া যাক। আমাদের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ‘সরকারি ক্রয়নীতি সংশোধন ২০২৫’ পাস হয়েছে এবং এটি এখনই কার্যকর। সরকারি ব্যয়ের বিশাল অংশ উন্নয়ন বাজেট, পরিচালন বাজেট, রাজস্ব বাজেট—সবকিছুই এ ক্রয়নীতির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়, যা একদম উপজেলা পর্যায় থেকে শুরু করে সরকারের উচ্চতম পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত। এ সংশোধনীর উদ্দেশ্য হলো ঠিকাদারি খাতের একচেটিয়া প্রভাব ভাঙা। আমরা দেখেছি, রেলওয়ে বা সড়ক ও জনপথের মতো বিভিন্ন খাতে দু-তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বা একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী বছরের পর বছর ধরে কাজগুলো কুক্ষিগত করে রেখেছে। নতুন নীতিমালার অধীনে টেন্ডার মূল্যায়নের ক্ষেত্রে ব্যবসায়ের সম্পূর্ণ তথ্য প্রকাশ করতে হবে। ওই সেক্টরের অতীত অভিজ্ঞতাই এখন আর মূল্যায়নের একমাত্র মাপকাঠি নয়। বেনামে ঠিকাদারি নেওয়ার কোনো সুযোগ আর থাকছে না; অর্থাৎ, প্রভাব খাটিয়ে কাজ নিয়ে অন্যকে দিয়ে করানো যাবে না। এতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হবে। যারা হয়তো আগে কখনো টেন্ডারে অংশ নেয়নি কিন্তু ভালো ব্যবসায়ী, যাদের কর ও ব্যবসার নথিপত্র স্বচ্ছ—তাদের এখন পার্টনার হিসেবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হবে।

যাইহোক, এগুলো আমার মূল কথা নয়। আমি আসলে যেটা বলতে চেয়েছি তা হলো, টেন্ডারের মূল্যায়ন পদ্ধতিটি সম্পূর্ণ বদলে দেওয়া হয়েছে। কোনো একটি দেশে টেন্ডার মূল্যায়নের আদর্শ পদ্ধতি কী হবে, তার কোনো ধরাবাঁধা ফর্মুলা নেই। এটি মূলত নির্ভর করে যে সরকারি কর্তৃপক্ষ টেন্ডার আহ্বান করছে এবং যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আবেদন করছে—এ দুপক্ষের বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর। বিভিন্ন দেশে এ পরিস্থিতি ভিন্ন ভিন্ন হয়। যদি উভয়পক্ষকেই সন্দেহের চোখে দেখতে হয়—আমাদের ক্ষেত্রে যা দিয়েই শুরু করতে হচ্ছে, যেখানে টেন্ডার আহ্বানকারী কর্মকর্তাও সন্দেহের ঊর্ধ্বে নন এবং ঠিকাদার যে কুকর্ম করবেন না তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই—সে ক্ষেত্রে মূল্যায়ন পদ্ধতিকে একদম নিয়মবদ্ধ করে দিতে হয়। সেখানে কোনো ‘ডিসক্রিপশন’ বা নমনীয় মূল্যায়নের সুযোগ রাখা যায় না।

তবে এর একটি নেতিবাচক দিকও আছে। যদি আমি কর্তৃপক্ষ হিসেবে বিশ্বাসযোগ্য হতাম, তবে আমি নমনীয়ভাবে চাইতাম যেন সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানই কাজটা পায়; শুধু নিয়মনীতির ফর্মুলার মধ্যে আটকে না থেকে নিজের বিবেচনা ব্যবহার করতাম। কিন্তু এখানেই একটি ভারসাম্য রক্ষা করতে হয়—একদিকে কীভাবে দুর্নীতির সুযোগ কমানো যাবে আর অন্যদিকে কীভাবে প্রকৃত ভালো দরদাতা বাছাই করা যাবে। আমি এ কথাটি বললাম কারণ, এ ফর্মুলাটি কী হবে তা নির্ভর করে ওই দেশে এই দুপক্ষের মধ্যে বিশ্বাসযোগ্যতার সংস্কৃতি কতটা গড়ে উঠেছে তার ওপর। হয়তো ভবিষ্যতে এ ফর্মুলা বদলানো যাবে বা আরও নমনীয় করা যাবে, যখন আমরা দেখব যে সত্যিই ভালো ভালো ঠিকাদার এসেছে, তাদের বিশ্বাস করা যায় এবং কর্তৃপক্ষও আরও সৎ হয়েছে।

আরেকটি উদাহরণ দেওয়া যাক। সেটি হলো বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) উৎপাদিত পরিসংখ্যান, বিশেষ করে জাতীয় আয়ের প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির হিসাব। এসব পরিসংখ্যান বিবিএস নিজেরা সরাসরি প্রকাশ করে না; সরকারের মন্ত্রীকে তা অনুমোদন করতে হয়। এ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে নানা ধরনের সন্দেহ তৈরি হয়েছে। একটি হলো বিবিএসের সক্ষমতার বিষয়। যে কোনো উন্নয়নশীল দেশে তারা যেসব পরিসংখ্যান নিয়ে কাজ করে, সেগুলোর মধ্যে অনেক অসম্পূর্ণতা থাকে এবং গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন থাকে। আরেকটি হলো, সরকার প্রভাব বিস্তার করে মূল্যস্ফীতি কম দেখাতে চাচ্ছে কি না, কিংবা জিডিপির প্রবৃদ্ধি বাড়িয়ে দেখাতে চাচ্ছে কি না। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এমনটা প্রায়ই ঘটে। আসলে জিডিপি বা জিডিপির প্রবৃদ্ধি খুব ভালো একটি সূচক নয়। জিডিপি প্রবৃদ্ধি ভালো হলেই যে সবার কল্যাণ সাধিত হবে, এমন কোনো কথা নেই। ১৯৩০-এর দশকে বা ৪০-এর দশকের শুরুতে যখন সাইমন কুজনেট জিডিপি ধারণাটি তৈরি করেন, তখন তা মূলত যুদ্ধের সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সমরাস্ত্র সম্পর্কিত হিসাব-নিকাশ তৈরির জন্য করা হয়েছিল। পরবর্তীকালে ৫০-এর দশকে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্ট অব অ্যাপ্লাইড ইকোনমিকসের রিচার্ড স্টোন এবং কেইনসের ছাত্ররা মিলে ‘ইনপুট-আউটপুট টেবিল’ ব্যবহার করে জিডিপিকে আজকের কাঠামোতে রূপ দেন।

যাইহোক, আমি বলছিলাম যে বিবিএসের সংস্কার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং আমরা তা নিয়ে ভাবছি। হোসেন জিল্লুর রহমানের নেতৃত্বে একটি টাস্কফোর্স কমিটিও গঠন করা হয়েছে। এখানে প্রশ্ন উঠেছে—বিবিএসকে স্বাধীন করে দিলেই কি সমস্যার সমাধান হবে? স্বাধীন করলেও তো যে কোনো প্রতিষ্ঠান শেষ পর্যন্ত সরকারের অধীনেই থাকে এবং সক্ষমতার বিষয়টিও থেকে যায়। তার চেয়েও বড় কথা, আমার নিজের বিশ্বাস এবং এ কারণেই কিছু বিধিবিধান এরই মধ্যে করা হয়েছে এবং পরিসংখ্যান আইনে নতুন ধারা সংযুক্ত করার উদ্যোগ আমরা নিচ্ছি; তা হলো বিবিএসের স্বাধীনতার চেয়েও বেশি জরুরি হলো তাদের উৎপাদিত পরিসংখ্যান ও তথ্যের স্বচ্ছতা। (চলবে)

লেখক: অর্থনীতিবিদ ও অন্তর্বর্তী সরকারের পরিকল্পনা উপদেষ্টা।

তারেক রহমানের জনসভা ঘিরে ফরিদপুরে উৎসবের আমেজ, শহরজুড়ে মিছিল

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:০৯ পিএম
তারেক রহমানের জনসভা ঘিরে ফরিদপুরে উৎসবের আমেজ, শহরজুড়ে মিছিল

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও আশপাশের এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে জনসভাস্থলে আসতে শুরু করেন বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। দলীয় পতাকা, ব্যানার-ফেস্টুন হাতে নিয়ে ‘তারেক রহমান আসছে, গণতন্ত্র বাঁচছে’, ‘স্বাগতম তারেক রহমান’সহ নানা স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে শহরের প্রধান সড়কগুলো।

বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিতব্য বিভাগীয় জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে তারেক রহমানের। জনসভাকে ঘিরে মাঠ ও আশপাশের এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।

ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ কে এম কিবরিয়া স্বপন বলেন, “তারেক রহমানের এই জনসভা শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, এটি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ফরিদপুরবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে মানুষ পরিবর্তন চায়।”

তিনি আরও বলেন, শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে জনসভা সফল করতে দলীয় নেতাকর্মীরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।

মিছিল নিয়ে আসা বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী তাদের প্রত্যাশার কথা জানান। সদর উপজেলার বিএনপি কর্মী আব্দুল মালেক বলেন, “দীর্ঘদিন পর তারেক রহমানের এমন সরাসরি বার্তা শোনার সুযোগ পাচ্ছি। আমরা আশা করছি, তিনি দেশ ও দলের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা দেবেন।” একই কথা জানান ছাত্রদলের নেতা রুবেল হোসেন। তিনি বলেন, “তরুণদের জন্য তারেক রহমানের নেতৃত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজকের জনসভা আমাদের নতুন করে অনুপ্রাণিত করবে।”

এদিকে মহিলা দলের নেত্রী নাজমা বেগম বলেন, “নারীদের অধিকার ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিএনপির ভূমিকা নিয়ে আমরা আশাবাদী। তারেক রহমানের বক্তব্যে আমরা সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন দেখতে চাই।”

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জনসভায় ফরিদপুর, রাজবাড়ী, মাদারীপুর ও গোপালগঞ্জ জেলার বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নিচ্ছেন। জনসভাকে কেন্দ্র করে আশপাশের এলাকায় অস্থায়ী খাবার ও পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। মাঠে প্রবেশের জন্য একাধিক গেট নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

সব মিলিয়ে তারেক রহমানের এই জনসভাকে ঘিরে ফরিদপুরে রাজনৈতিক উত্তাপ ও উৎসাহ তুঙ্গে। নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, এই সমাবেশ বিএনপির রাজনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করবে এবং আগামীর আন্দোলনে দিকনির্দেশনা দেবে।

ফরিদপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি, শেষরক্ষা হলো না সাদ্দামের

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:০৯ এএম
ফরিদপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি, শেষরক্ষা হলো না সাদ্দামের

ফরিদপুরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সাজাপ্রাপ্ত ও দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-১০)। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম মো. সাদ্দাম শেখ (২৪)। তিনি ফরিদপুর শহরের খোদাবক্স রোড, কসাই বাড়ি সড়ক এলাকার বাসিন্দা এবং মো. শেখ শহিদের ছেলে।

র‌্যাব-১০, সিপিসি-৩, ফরিদপুর ক্যাম্প থেকে বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

এর আগে মঙ্গলবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ৮টা ৪৫ মিনিটে ফরিদপুর সদরের শিবরামপুর বাজার এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় র‌্যাব-১০-এর একটি চৌকস আভিযানিক দল এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে কোতয়ালী থানার জিআর মামলা নম্বর- ৫৫৬/১৪ এর আলোকে ১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৯(১) ধারার টেবিল ২২(গ) অনুযায়ী ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত সাজা পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি মো. সাদ্দাম শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত আসামি স্বীকার করেছে যে, সাজা এড়াতে সে দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে ছিল। র‌্যাবের নিয়মিত নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতার ফলে শেষ পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।

র‌্যাব-১০-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মাদক সংক্রান্ত অপরাধ দমনে র‌্যাবের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়।

র‌্যাব-১০, সিপিসি-৩, ফরিদপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লীডার তারিকুল ইসলাম ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “মাদকদ্রব্য সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের জন্য ভয়াবহ হুমকি। মাদকের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে র‌্যাব সর্বদা কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আমাদের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।”

 

রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু এখন ফরিদপুর: আজ তারেক রহমানের জনসভা, প্রস্তুত বিএনপি

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:৩৬ এএম
রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু এখন ফরিদপুর: আজ তারেক রহমানের জনসভা, প্রস্তুত বিএনপি

নির্বাচনী সফরের অংশ হিসেবে আজ বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) ফরিদপুরে আসছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ উপলক্ষে ফরিদপুর শহরজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। জনসভাকে ঘিরে জেলা ও মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মীরা ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, এই প্রথম ফরিদপুর সফরে আসছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দুপুরে তাকে বহনকারী হেলিকপ্টার ফরিদপুর স্টেডিয়ামে অবতরণ করবে। সেখান থেকে একটি সুসজ্জিত গাড়িবহর নিয়ে তিনি সরাসরি শহরের রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভাস্থলে যাবেন। আজ দুপুর ২টায় শুরু হতে যাওয়া এ জনসভায় বক্তব্য রাখবেন তিনি।

বিভাগীয় এ জনসভাকে কেন্দ্র করে রাজেন্দ্র কলেজ মাঠ ও আশপাশের এলাকায় তৈরি করা হয়েছে বিশাল মঞ্চ। মাঠজুড়ে বসানো হয়েছে ব্যানার, ফেস্টুন ও তোরণ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি। বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, ফরিদপুরসহ বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলা—ফরিদপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর থেকে নেতা–কর্মী ও সমর্থকদের ঢল নামবে এই জনসভায়। এতে লাখো মানুষের সমাগম হবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।

ফরিদপুর জেলা যুবদলের সভাপতি মো. রাজিব হোসেন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন,“তারেক রহমানের ফরিদপুর আগমন আমাদের জন্য ঐতিহাসিক ও প্রেরণাদায়ক একটি ঘটনা। তরুণ প্রজন্মের মাঝে বিএনপির রাজনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে এই জনসভা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। যুবদলসহ বিএনপির সব অঙ্গসংগঠনের নেতা–কর্মীরা দিনরাত পরিশ্রম করে জনসভা সফল করার জন্য কাজ করছে। আমরা আশা করছি, আজকের জনসভা ফরিদপুরের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, “এই জনসভা থেকে তারেক রহমান দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং জনগণের অধিকার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেবেন। তরুণ সমাজ তার বক্তব্য থেকে নতুন অনুপ্রেরণা পাবে।”

ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ কে এম কিবরিয়া স্বপন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি আজ নতুন উদ্যমে সংগঠিত হচ্ছে। ফরিদপুরের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে তারেক রহমানকে সরাসরি দেখার অপেক্ষায় ছিল। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটছে আজ। আমরা বিশ্বাস করি, এই জনসভা থেকে জনগণ গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও একটি জবাবদিহিমূলক সরকারের পক্ষে আরও ঐক্যবদ্ধ হবে।”

তিনি বলেন, “ফরিদপুর ঐতিহ্যগতভাবে গণতন্ত্রকামী মানুষের এলাকা। আজকের জনসভা প্রমাণ করবে, বিএনপি এখনো জনগণের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক শক্তি। আমরা শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে জনসভা আয়োজনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি।”

উল্লেখ্য, তারেক রহমানের এই সফরকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। জনসভা সফল করতে বিএনপির স্থানীয় ইউনিটগুলো একযোগে কাজ করছে। সব মিলিয়ে আজকের জনসভাকে ঘিরে ফরিদপুরে বিরাজ করছে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা।