খুঁজুন
বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২১ মাঘ, ১৪৩২

ফরিদপুর-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে চাওয়ায় খুন হওয়ার আশঙ্কা দোলনের!

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:২৫ পিএম
ফরিদপুর-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে চাওয়ায় খুন হওয়ার আশঙ্কা দোলনের!

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর ফরিদপুর-১ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আগ্রহ প্রকাশ করায় নিজের জীবন ও সমর্থকদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন দৈনিক ঢাকা টাইমস সম্পাদক, সমাজসেবামূলক সংস্থা কাঞ্চন মুন্সি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী আরিফুর রহমান দোলন।

শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে আরিফুর রহমান দোলন বলেন, “সবে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পরে সাধারণ মানুষের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষার প্রশ্নে পরম করুণাময় আল্লাহপাকের হুকুমে এবং আমার মায়ের নির্দেশে ফরিদপুর-১ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছি। আর তাতেই তেলেবেগুনে জ্বলে উঠেছে কেউ কেউ।”

তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলাম চান না তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুন। দোলনের দাবি, “নাসির ভাই ইতোমধ্যে একটি গোপন পরিকল্পনা করেছেন, যা আমি একাধিক সূত্রে নিশ্চিত হয়েছি। তিনি তার দুষ্টু অনুসারীদের বলেছেন, একটি নাশকতা ঘটিয়ে সেই ঘটনায় আমাকে ও আমার কিছু শুভাকাঙ্ক্ষীর নামে মামলা করবেন।”

আরিফুর রহমান দোলন আরও বলেন, “আমাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা এবং খুন করার পরিকল্পনাও রয়েছে।” এ প্রেক্ষিতে তিনি সরকার, নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সব গোয়েন্দা সংস্থার দৃষ্টি আকর্ষণ করে ফরিদপুর-১ আসনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর সর্বোচ্চ নজরদারি, সতর্কতা ও পর্যাপ্ত গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের অনুরোধ জানান।

নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “আমি একজন পেশাদার সাংবাদিক ও সম্পাদক। সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সব সময় শতভাগ অহিংস নীতি অবলম্বন করি। কিন্তু আমি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারি—এটা শোনার পর বিএনপির ঘোষিত প্রার্থী ও তার কতিপয় সমর্থক বহুমুখী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন।”

আরিফুর রহমান দোলন বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর খন্দকার নাসিরুল ইসলাম আমার কোনো আমন্ত্রণ ছাড়াই একাধিকবার ঢাকা টাইমস অফিসে এসেছেন এবং আমাকে তার দলে যোগ দেওয়ার অনুরোধ করেছেন। আমি বিনয়ের সঙ্গে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছি।”

তিনি আরও বলেন, “এখন যেভাবে নাসির ভাই আমাকে রাজনৈতিক ট্যাগ দিতে উঠেপড়ে লেগেছেন, সেটার একমাত্র কারণ আমি তার সঙ্গে কাজ করতে চাইনি।”

২০২৪ সালের নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে দোলন বলেন, “আমি যখন স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলাম, তখন খন্দকার নাসিরুল ইসলাম নিজেই উপযাজক হয়ে আমাকে খুঁজে বের করেন এবং একাধিক বিএনপি নেতাকে নিয়ে আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সে সময় তিনি আমার ঈগল প্রতীকের পক্ষে কাজ করার বিষয়ে নিজ থেকেই অঙ্গীকার করেছিলেন।”

তিনি জানান, কাশিয়ানী উপজেলার সাম্পান রেস্টুরেন্ট ও ফরিদপুরের লাজ ফার্মায় নাসিরুল ইসলামের সঙ্গে তার একাধিক বৈঠক হয়েছে। নির্বাচনকালীন সময়ে বোয়ালমারী উপজেলা বিএনপি নেতা সঞ্জয় সাহাকে প্রতিদিন তার বাড়িতে পাঠানো হতো বলেও দাবি করেন তিনি।

আরিফুর রহমান দোলন প্রশ্ন তুলে বলেন, “২০২৪ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়ে আমি যদি অন্যায় করে থাকি, তাহলে নাসির ভাই এবং যারা আমার আহ্বান ছাড়া ঈগল মার্কার প্রচার করেছেন, তারা কী?”

গণতন্ত্র প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “গণতন্ত্রে কি এমন আছে—নির্বাচনে দাঁড়াতে চাইলে প্রতিদ্বন্দ্বীকে একটি বড় দলের প্রার্থী মেরে-কুটে আগেই ময়দান ছাড়তে বাধ্য করবে?”

আরিফুর রহমান দোলন অভিযোগ করেন, খন্দকার নাসিরুল ইসলাম তার অনুসারীদের বলেছেন যে তিনি স্থানীয় প্রশাসন ‘সামলাবেন’ এবং ‘ফেভার নেবেন’। দোলন বলেন, “আমি বিশ্বাস করতে চাই না, তবে তিনি কারণে-অকারণে ফোন করে প্রশাসনে নিজের অবস্থান শক্ত—এটা বোঝাতে চাইছেন।”

তিনি আরও দাবি করেন, “খুবই উদ্বেগের বিষয় হলো—নাসিরুল ইসলাম সরকারের কিছু কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন, দেখা করছেন এবং কীভাবে প্রতিদ্বন্দ্বীকে হেনস্থা করা যায়, সে সহযোগিতা চাইছেন। আমি বিশ্বাস করি, সংশ্লিষ্টরা তার এই অন্যায় আবদারে প্রশ্রয় দেবেন না।”

দোলনের অভিযোগ অনুযায়ী, “মুখে আওয়ামী লীগ বিরোধিতা আর ফ্যাসিস্ট শব্দ ব্যবহার করলেও নাসির ভাই রাতের আঁধারে আওয়ামী লীগের অনেক নেতার সঙ্গে বৈঠক করছেন। এমনকি ৫ আগস্টের পর যারা মামলা খেয়েছেন এবং পুলিশ যাদের খুঁজছে, তাদের সঙ্গেও তার সাক্ষাৎ হয়েছে। কোনো এক সময় ওইসব ছবিও প্রকাশ হবে।”

শেষে আরিফুর রহমান দোলন বলেন, “আমি প্রার্থী হলে নাসির ভাইয়ের রোষানলে পড়ে খুন হয়ে যেতে পারি। রাষ্ট্র, সরকার এবং সর্বোপরি ফরিদপুর-১ আসনের জনগণকে জানিয়ে রাখলাম—মানুষের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষার স্বার্থে আমি ফরিদপুর-১ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যাচ্ছি। বাকিটা আল্লাহর ইচ্ছা।”

এ বিষয়ে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

তারেক রহমানের জনসভা ঘিরে ফরিদপুরে উৎসবের আমেজ, শহরজুড়ে মিছিল

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:০৯ পিএম
তারেক রহমানের জনসভা ঘিরে ফরিদপুরে উৎসবের আমেজ, শহরজুড়ে মিছিল

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও আশপাশের এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে জনসভাস্থলে আসতে শুরু করেন বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। দলীয় পতাকা, ব্যানার-ফেস্টুন হাতে নিয়ে ‘তারেক রহমান আসছে, গণতন্ত্র বাঁচছে’, ‘স্বাগতম তারেক রহমান’সহ নানা স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে শহরের প্রধান সড়কগুলো।

বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিতব্য বিভাগীয় জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে তারেক রহমানের। জনসভাকে ঘিরে মাঠ ও আশপাশের এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।

ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ কে এম কিবরিয়া স্বপন বলেন, “তারেক রহমানের এই জনসভা শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, এটি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ফরিদপুরবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে মানুষ পরিবর্তন চায়।”

তিনি আরও বলেন, শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে জনসভা সফল করতে দলীয় নেতাকর্মীরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।

মিছিল নিয়ে আসা বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী তাদের প্রত্যাশার কথা জানান। সদর উপজেলার বিএনপি কর্মী আব্দুল মালেক বলেন, “দীর্ঘদিন পর তারেক রহমানের এমন সরাসরি বার্তা শোনার সুযোগ পাচ্ছি। আমরা আশা করছি, তিনি দেশ ও দলের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা দেবেন।” একই কথা জানান ছাত্রদলের নেতা রুবেল হোসেন। তিনি বলেন, “তরুণদের জন্য তারেক রহমানের নেতৃত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজকের জনসভা আমাদের নতুন করে অনুপ্রাণিত করবে।”

এদিকে মহিলা দলের নেত্রী নাজমা বেগম বলেন, “নারীদের অধিকার ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিএনপির ভূমিকা নিয়ে আমরা আশাবাদী। তারেক রহমানের বক্তব্যে আমরা সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন দেখতে চাই।”

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জনসভায় ফরিদপুর, রাজবাড়ী, মাদারীপুর ও গোপালগঞ্জ জেলার বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নিচ্ছেন। জনসভাকে কেন্দ্র করে আশপাশের এলাকায় অস্থায়ী খাবার ও পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। মাঠে প্রবেশের জন্য একাধিক গেট নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

সব মিলিয়ে তারেক রহমানের এই জনসভাকে ঘিরে ফরিদপুরে রাজনৈতিক উত্তাপ ও উৎসাহ তুঙ্গে। নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, এই সমাবেশ বিএনপির রাজনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করবে এবং আগামীর আন্দোলনে দিকনির্দেশনা দেবে।

ফরিদপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি, শেষরক্ষা হলো না সাদ্দামের

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:০৯ এএম
ফরিদপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি, শেষরক্ষা হলো না সাদ্দামের

ফরিদপুরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সাজাপ্রাপ্ত ও দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-১০)। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম মো. সাদ্দাম শেখ (২৪)। তিনি ফরিদপুর শহরের খোদাবক্স রোড, কসাই বাড়ি সড়ক এলাকার বাসিন্দা এবং মো. শেখ শহিদের ছেলে।

র‌্যাব-১০, সিপিসি-৩, ফরিদপুর ক্যাম্প থেকে বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

এর আগে মঙ্গলবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ৮টা ৪৫ মিনিটে ফরিদপুর সদরের শিবরামপুর বাজার এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় র‌্যাব-১০-এর একটি চৌকস আভিযানিক দল এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে কোতয়ালী থানার জিআর মামলা নম্বর- ৫৫৬/১৪ এর আলোকে ১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৯(১) ধারার টেবিল ২২(গ) অনুযায়ী ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত সাজা পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি মো. সাদ্দাম শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত আসামি স্বীকার করেছে যে, সাজা এড়াতে সে দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে ছিল। র‌্যাবের নিয়মিত নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতার ফলে শেষ পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।

র‌্যাব-১০-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মাদক সংক্রান্ত অপরাধ দমনে র‌্যাবের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়।

র‌্যাব-১০, সিপিসি-৩, ফরিদপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লীডার তারিকুল ইসলাম ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “মাদকদ্রব্য সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের জন্য ভয়াবহ হুমকি। মাদকের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে র‌্যাব সর্বদা কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আমাদের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।”

 

রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু এখন ফরিদপুর: আজ তারেক রহমানের জনসভা, প্রস্তুত বিএনপি

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:৩৬ এএম
রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু এখন ফরিদপুর: আজ তারেক রহমানের জনসভা, প্রস্তুত বিএনপি

নির্বাচনী সফরের অংশ হিসেবে আজ বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) ফরিদপুরে আসছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ উপলক্ষে ফরিদপুর শহরজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। জনসভাকে ঘিরে জেলা ও মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মীরা ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, এই প্রথম ফরিদপুর সফরে আসছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দুপুরে তাকে বহনকারী হেলিকপ্টার ফরিদপুর স্টেডিয়ামে অবতরণ করবে। সেখান থেকে একটি সুসজ্জিত গাড়িবহর নিয়ে তিনি সরাসরি শহরের রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভাস্থলে যাবেন। আজ দুপুর ২টায় শুরু হতে যাওয়া এ জনসভায় বক্তব্য রাখবেন তিনি।

বিভাগীয় এ জনসভাকে কেন্দ্র করে রাজেন্দ্র কলেজ মাঠ ও আশপাশের এলাকায় তৈরি করা হয়েছে বিশাল মঞ্চ। মাঠজুড়ে বসানো হয়েছে ব্যানার, ফেস্টুন ও তোরণ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি। বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, ফরিদপুরসহ বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলা—ফরিদপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর থেকে নেতা–কর্মী ও সমর্থকদের ঢল নামবে এই জনসভায়। এতে লাখো মানুষের সমাগম হবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।

ফরিদপুর জেলা যুবদলের সভাপতি মো. রাজিব হোসেন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন,“তারেক রহমানের ফরিদপুর আগমন আমাদের জন্য ঐতিহাসিক ও প্রেরণাদায়ক একটি ঘটনা। তরুণ প্রজন্মের মাঝে বিএনপির রাজনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে এই জনসভা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। যুবদলসহ বিএনপির সব অঙ্গসংগঠনের নেতা–কর্মীরা দিনরাত পরিশ্রম করে জনসভা সফল করার জন্য কাজ করছে। আমরা আশা করছি, আজকের জনসভা ফরিদপুরের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, “এই জনসভা থেকে তারেক রহমান দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং জনগণের অধিকার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেবেন। তরুণ সমাজ তার বক্তব্য থেকে নতুন অনুপ্রেরণা পাবে।”

ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ কে এম কিবরিয়া স্বপন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি আজ নতুন উদ্যমে সংগঠিত হচ্ছে। ফরিদপুরের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে তারেক রহমানকে সরাসরি দেখার অপেক্ষায় ছিল। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটছে আজ। আমরা বিশ্বাস করি, এই জনসভা থেকে জনগণ গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও একটি জবাবদিহিমূলক সরকারের পক্ষে আরও ঐক্যবদ্ধ হবে।”

তিনি বলেন, “ফরিদপুর ঐতিহ্যগতভাবে গণতন্ত্রকামী মানুষের এলাকা। আজকের জনসভা প্রমাণ করবে, বিএনপি এখনো জনগণের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক শক্তি। আমরা শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে জনসভা আয়োজনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি।”

উল্লেখ্য, তারেক রহমানের এই সফরকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। জনসভা সফল করতে বিএনপির স্থানীয় ইউনিটগুলো একযোগে কাজ করছে। সব মিলিয়ে আজকের জনসভাকে ঘিরে ফরিদপুরে বিরাজ করছে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা।