খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৪ আষাঢ়, ১৪৩৩

বিশ্বে ১০০ কোটির বেশি মানুষ মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:৪৮ অপরাহ্ণ
বিশ্বে ১০০ কোটির বেশি মানুষ মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রকাশিত নতুন তথ্য অনুসারে, ১ বিলিয়নেরও বেশি মানুষ মানসিক স্বাস্থ্য ব্যাধি নিয়ে বসবাস করছে, উদ্বেগ এবং বিষণ্ণতার মতো পরিস্থিতিগুলো প্রচুর মানবিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

সংস্থাটি জানায়, বিশ্বে প্রতি ১০০ মৃত্যুর মধ্যে একটি হলো আত্মহত্যাজনিত, যা মূলত তরুণদের মধ্যে বেড়ে চলা মানসিক স্বাস্থ্য সংকটের ভয়াবহ চিত্রকে তুলে ধরছে।

অনেক দেশ তাদের মানসিক স্বাস্থ্য নীতি এবং কর্মসূচিগুলোকে শক্তিশালী করেছে, তবুও মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং প্রচারের জন্য পরিসেবাগুলো বৃদ্ধির জন্য বিশ্বব্যাপী আরও বেশি বিনিয়োগ এবং পদক্ষেপের প্রয়োজন।

ডব্লিউএইচওর তথ্যমতে, ২০২১ সালে বিশ্বব্যাপী প্রায় ৭ লাখ ২৭ হাজার মানুষ আত্মহত্যা করেছে। সংস্থার অ-সংক্রামক রোগ ও মানসিক স্বাস্থ্য বিভাগের ভারপ্রাপ্ত প্রধান ডেভোরা কেস্টেল বলেন, বিশ্বব্যাপী প্রতিটি আত্মহত্যার বিপরীতে ২০টি আত্মহত্যার চেষ্টা ঘটে। এসব মৃত্যু শুধু জীবনকে শেষ করে না, অসংখ্য পরিবার, বন্ধু ও সহকর্মীকে অমানবিক কষ্টের মুখেও ফেলে।

আত্মহত্যার প্রবণতা বেশি নারীদের

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২১ সালে ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী নারীদের মৃত্যুর দ্বিতীয় প্রধান কারণ ছিল আত্মহত্যা, আর একই বয়সী পুরুষদের মৃত্যুর তৃতীয় প্রধান কারণ।

২০০০ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে বয়স-সমন্বিত আত্মহত্যার হার বিশ্বব্যাপী ৩৫ শতাংশ কমলেও নির্ধারিত লক্ষ্য থেকে এখনো পিছিয়ে রয়েছে বিশ্ব। ২০১৫ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে আত্মহত্যার হার এক-তৃতীয়াংশ কমানোর যে লক্ষ্য ছিল, তা বর্তমান প্রবণতায় মাত্র ১২ শতাংশ কমানো সম্ভব হবে।

অঞ্চলভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রে ২০০০ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত আত্মহত্যার হার বেড়েছে ১৭ শতাংশ। অন্য সব অঞ্চলে কিছুটা কমলেও প্রায় তিন-চতুর্থাংশ আত্মহত্যা ঘটছে নিম্ন-আয়ের দেশগুলোতে, যেখানে বিশ্বের অধিকাংশ মানুষ বসবাস করে।

উদ্বেগ-হতাশা বাড়ছে

ডব্লিউএইচও সতর্ক করে জানিয়েছে, আত্মহত্যার হার ধীরে ধীরে কমলেও মানসিক ব্যাধি, বিশেষ করে উদ্বেগ ও হতাশার প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে। ২০১১ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বিশ্ব জনসংখ্যার বৃদ্ধির চেয়েও দ্রুত বেড়েছে। বর্তমানে ১০০ কোটির বেশি মানুষ এসব ব্যাধিতে আক্রান্ত।

সংস্থাটি বলছে, তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য সংকট আরও গভীর হচ্ছে। এ বৃদ্ধির পেছনে প্রধান দুটি কারণ হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব এবং কোভিড-১৯ মহামারি উল্লেখ করেছেন ডব্লিউএইচওর মানসিক স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান মার্ক ভ্যান ওমেরেন।

সংস্থাটি উদ্বেগ জানিয়ে বলছে, বিশ্বব্যাপী মানসিক স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। ২০১৭ সালের পর থেকে স্বাস্থ্য বাজেটের মাত্র দুই শতাংশ মানসিক স্বাস্থ্যে ব্যয় হচ্ছে, যা পরিবর্তন হয়নি। হতাশায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে মাত্র ৯ শতাংশ চিকিৎসা পায়।

ডব্লিউএইচও মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গ্যাব্রিয়েসুস বলেছেন, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা পরিবর্তন করা এখন বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্যের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ।

ফরিদপুরে দুধ দিয়ে গোসল করে ব্রাজিল ছেড়ে ইরানের সমর্থক হলেন ২ তরুণ

ভাঙ্গা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ১০:০৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে দুধ দিয়ে গোসল করে ব্রাজিল ছেড়ে ইরানের সমর্থক হলেন ২ তরুণ

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় দুধ দিয়ে গোসল করে ব্রাজিল দল ছেড়ে এবার ইরানে সমর্থক হলেন ২ তরুণ।

বুধবার (১৭ জুন) সরকারি কে.এম কলেজ মাঠে এই ঘটনা ঘটে। এসময় তাদের ইরানের পতাকা দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। এরা হলেন ভাঙ্গা উপজেলার আলগি ইউনিয়নের সবুজ মাতুব্বর ও পৌরসদরের কাপুড়িয়া সদরদী এলাকার মো. ফরহাদ হোসেন।

এই বিষয়ে সবুজ মাতুব্বর বলেন, আমি ছোট সময় থেকে ব্রাজিলের সমর্থক ছিলাম। আমাদের দেখলেই সবাই সেভেন আপ বলে অপমান করে। আর ৬ আসরে ব্রাজিল দলের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স এতো বাজে যে কোথাও বুক ফুলিয়ে কথা বলতে পারি না। আর আমি দেখলাম একজন মুসলিম হয়ে মুসলিম দলকে সমর্থন করা উচিত তাই আমি এবার ইরানের সমর্থক হলাম।

এই বিষয় ফরহাদ হোসেন বলেন, আমি বাসা থেকেই বের হলে বলে সেভেন আপ, সেভেন আপ। চায়ের দোকানে চা চাইলে চা না দিয়ে বলে সেভেন আপ খান। আমি আর এই দলে থাকতে চাই না, তবে ভবিষ্যৎ দিনে কোন দলের সমর্থক হবো এখনও সিদ্ধান্ত নেই নি। এসময় আমি স্থানীয় সাংবাদিক সোহাগ মাতুব্বর ভাইয়ের কাছ থেকে শপথ বাক্য পাঠ করি।

ফরিদপুরে ১২০ পরিবার পেল ‘ফ্যামিলি কার্ড’

নুর ইসলাম, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৯:২৬ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ১২০ পরিবার পেল ‘ফ্যামিলি কার্ড’

নারীর ক্ষমতায়ন, খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবারের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে চালু হওয়া ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আওতায় ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় ১২০টি পরিবারের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে।

বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের কাদীরদি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর মধ্য দিয়ে ফরিদপুর জেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়।

দেশের ২০টি জেলার ২০টি উপজেলায় একযোগে পরিচালিত এ কর্মসূচির আওতায় বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ১২০ জন নারীকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রতীকীভাবে ১০ জন সুবিধাভোগীর হাতে কার্ড তুলে দেন অতিথিরা। বাকি কার্ডগুলো ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে বিতরণ করা হবে। তবে উদ্বোধনের দিন থেকেই সকল সুবিধাভোগী মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে কর্মসূচির আওতায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. মাজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হেলেনা জেরিন খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- জেলা পরিষদের প্রশাসক আফজাল হোসেন খান পলাশ, পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম, ফরিদপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি খন্দকার নাসিরুল ইসলাম, সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান এবং জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক রুবাইয়াত মো. ফেরদৌস।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন, বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম রকিবুল হাসান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিব্বির আহমেদ, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা কারিজুল ইসলাম, বোয়ালমারী থানার ওসি মো. আনোয়ার হোসেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় সাহা, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রাফিউল আলম মিন্টুসহ স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সুধীজন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে নারীকেন্দ্রিক সামাজিক সুরক্ষা, খাদ্য সহায়তা, স্বাস্থ্যসেবা এবং পরিবারভিত্তিক উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলো রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক বিভিন্ন সেবার আওতায় আরও সহজে যুক্ত হতে পারবে। পাশাপাশি নারীদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতায়নেও এ কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ফরিদপুরে ৩ দিন ধরে শিশু নিখোঁজ, ইমো বার্তায় তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৭:২৬ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ৩ দিন ধরে শিশু নিখোঁজ, ইমো বার্তায় তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় তিন দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে সামিউল মল্লিক (৯) নামের এক শিশু। বাড়ি থেকে বাইসাইকেল নিয়ে বের হওয়ার পর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। এদিকে নিখোঁজের একদিন পর স্বজনদের ইমো নাম্বরে ম্যাসেজ দিয়ে ৩ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

নিখোঁজ সামিউল মল্লিক সদরপুর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের নয়াকান্দি গ্রামের বাসিন্দা মিরাজুল মল্লিকের ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১৫ জুন) সকাল ৭টার দিকে সামিউল একটি বাইসাইকেল নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর থেকে সে আর বাড়িতে ফেরেনি। পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতজনদের বাড়িসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করলেও এখন পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান মেলেনি।

পরিবারের দাবি, মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকাল ১০টার দিকে সামিউলের চাচাতো চাচা রবিন মল্লিকের ইমো নম্বরে একটি বার্তা আসে। সেখানে সামিউলকে ফেরত পেতে ৩ লাখ টাকা দাবি করা হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দেয়।

নিখোঁজ শিশুর স্বজনরা জানান, সামিউলের সন্ধান পেতে তারা সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতাও কামনা করেছেন তারা।

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত সামিউলকে সুস্থ অবস্থায় ফিরে পাওয়ার আশায় দিন গুনছেন।

সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আল মামুন শাহ্ বলেন, শিশু নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তাকে উদ্ধারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং সম্ভাব্য সব দিক বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।