খুঁজুন
শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১১ বৈশাখ, ১৪৩৩

শীতকালে বাংলাদেশের ভ্রমণের জন্য ৫ সেরা জায়গা

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:৩৯ অপরাহ্ণ
শীতকালে বাংলাদেশের ভ্রমণের জন্য ৫ সেরা জায়গা

আমাদের দেশের শীতকাল একদম জাদুর মতো। গরম বা আর্দ্র দিন শেষে ঠান্ডা, সতেজ বাতাস যেন সবাইকে আলিঙ্গন করে। নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ে সকালগুলো একদম সতেজ, সন্ধ্যাগুলো শান্ত এবং আউটডোর ভ্রমণ আনন্দময়।

ভ্রমণপিপাসুদের জন্য শীতকাল মানে হলো দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার এক আদর্শ সময়।

বাংলাদেশ তার ব্যস্ত শহর ও সমৃদ্ধ সংস্কৃতির জন্য পরিচিত হলেও, শীতকাল দেশের নরম, শান্ত এবং সুন্দর দিকটি দেখায়। কল্পনা করুন, অপরিসীম বালুকাময় সৈকতে হেঁটে যাচ্ছেন, নীল জলরাশি ঘিরে থাকা ছোট দ্বীপে বসে সূর্যাস্ত দেখছেন, বা টিলা ও সবুজ চা বাগান ঘুরে বেড়াচ্ছেন। শীতকালে বাংলাদেশ তার সব সুন্দরত্ব প্রদর্শন করে, যা প্রত্যেক ভ্রমণপিপাসুর মনে দীর্ঘস্থায়ী ছাপ ফেলে।

আপনি চাইলে সমুদ্রের কাছে বিশ্রাম নেবেন, শান্ত দ্বীপের সফর করবেন, পাহাড়ি এলাকা ঘুরবেন বা প্রকৃতির মাঝে কিছু অ্যাডভেঞ্চার উপভোগ করবেন—সবই সম্ভব। চলুন দেখা যাক শীতকালে ভ্রমণের জন্য বাংলাদেশের ৫টি সেরা জায়গা।

কক্সবাজার – বিশ্বের দীর্ঘতম সৈকতে হেঁটে চলা
কক্সবাজার বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক বালুকাময় সৈকতের জন্য বিখ্যাত। প্রায় ১২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সৈকত হেঁটে বেড়ানোর জন্য একেবারেই উপযুক্ত।

শীতকালে এখানে ভ্রমণ করা দারুণ, কারণ গরম এবং আর্দ্রতা কমে যায়। সকালে হেঁটে বেড়ানো, সন্ধ্যায় সূর্যাস্ত দেখা, আর সমুদ্রের হাওয়ায় বসে থাকা দারুণ আনন্দদায়ক। কক্সবাজারে শুধু সৈকত নয়, দেখার মতো আছে হিমচরি ন্যাশনাল পার্ক, লাবনী পয়েন্ট, এবং ইনানী সৈকত।

সফরের সাথে সঙ্গে স্থানীয় সামুদ্রিক খাবার খাওয়াও মিস করা যাবে না। পরিবার, বন্ধু বা একা ভ্রমণকারী—সবাই এখানে স্বাচ্ছন্দ্যে সময় কাটাতে পারে।

সেন্টমার্টিন – শান্ত দ্বীপে বিশ্রাম
যদি কক্সবাজার ব্যস্ত মনে হয়, সেন্টমার্টিন দ্বীপ হল শান্ত, স্বপ্নময় স্থান। ছোট্ট এই দ্বীপে নীল জলরাশি, বালুকাময় সৈকত এবং নারকেল গাছ দেখা যায়।

শীতকালে এখানে যাওয়া আরও আনন্দদায়ক হয়। সমুদ্র শান্ত থাকে, আবহাওয়া নরম হয়, আর বাইরে ঘোরার জন্য উপযুক্ত। এখানে জীবন একদম ধীরগতি। সাঁতার কাটতে পারেন, সৈকতে বসে পড়তে পারেন, বা শুধু সূর্যাস্ত উপভোগ করতে পারেন।

এখানকার স্থানীয় জীবনও উপভোগ করতে পারেন। মাছ ধরার কাজ করছেন স্থানীয় মৎস্যজীবীরা, ছোট দোকানগুলোতে হস্তশিল্পের সামগ্রী পাওয়া যায়, আর প্রতিটি সূর্যাস্ত মনে হবে অনন্য। যারা শহরের হট্টগোল থেকে দূরে শান্তি খুঁজছেন, তাদের জন্য সেন্ট মার্টিন একদম আদর্শ।

সিলেট ও শ্রীমঙ্গল – চা বাগান ও সবুজ টিলা
উত্তর-পূর্বাঞ্চল, বিশেষ করে সিলেট ও শ্রীমঙ্গল, তার চা বাগান, পাহাড় ও নদীর জন্য বিখ্যাত। শীতকালে ঘুরে বেড়ানো আরও আনন্দদায়ক হয়। সকালবেলার কুয়াশা চা বাগানকে স্বপ্নের মতো করে তোলে।

শ্রীমঙ্গল-এ, যা ‘দুই পাতা এবং একটি কুঁড়ি’ অঞ্চলের নামে পরিচিত, চা বাগান ঘুরতে পারেন, পাতা তোলা দেখার সুযোগ পাবেন এবং সরাসরি চা চেখে দেখতে পারবেন। লাউয়াছড়া ন্যাশনাল পার্ক প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য অসাধারণ। এ ছাড়াও লালকল নদী ও জাফলং নদী ও পাহাড়ের দৃশ্য অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর।

শীতকালে স্থানীয় খাবারও উপভোগ করতে পারেন। সিলেটের বাজারে তাজা ফল, মিষ্টি এবং স্বাদযুক্ত খাবার পাওয়া যায়। যারা প্রকৃতি, ছবি বা শান্তি খুঁজছেন, তাদের জন্য সিলেট ও শ্রীমঙ্গল একদম নিখুঁত।

সুন্দরবন – ম্যানগ্রোভ বন অভিযান
সুন্দরবন বাংলাদেশের সবচেয়ে অনন্য প্রাকৃতিক সম্পদ। নদী, খাল এবং ঘন ম্যানগ্রোভ বন দিয়ে গঠিত। এটি বাঘসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল। শীতকালে সুন্দরবন ভ্রমণ সবচেয়ে উপযুক্ত, কারণ আবহাওয়া নরম এবং বোটে ভ্রমণ করা সহজ হয়।

সুন্দরবনে ভ্রমণ মানে এক নতুন ধরনের অ্যাডভেঞ্চার। ছোট নৌকায় নদী ভ্রমণ, পাশে দাঁড়ানো পাখি দেখা, আর জলজ বৃক্ষের মাঝে ছড়িয়ে থাকা প্রকৃতি দেখার অভিজ্ঞতা একেবারেই অন্যরকম।

যারা অ্যাডভেঞ্চার, বন্যপ্রাণী বা ফটোগ্রাফি ভালোবাসেন, তাদের জন্য সুন্দরবন শীতকালের অসাধারণ গন্তব্য।

রাঙামাটি ও সাজেক ভ্যালি – পাহাড়, হ্রদ ও উপত্যকা
যদি পাহাড়ি এলাকা ঘুরতে চান, রাঙামাটি এবং সাজেক ভ্যালি আদর্শ। পাহাড়, উপত্যকা ও হ্রদে ঘেরা এই অঞ্চল শীতকালে আরও সুন্দর হয়।

রাঙামাটিতে কাপ্তাই হ্রদে নৌকাভ্রমণ অত্যন্ত আনন্দদায়ক। হ্রদের শান্ত জল পাহাড় ও বনকে প্রতিফলিত করে, যা চমৎকার ছবি তোলার সুযোগ দেয়। সাজেক ভ্যালি-তে ধোঁয়াটে পাহাড়ি দৃশ্য, বাঁকা রাস্তা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর হস্তশিল্প উপভোগ করতে পারেন। শীতকালে সকালে হাওয়া ঠান্ডা ও সতেজ থাকে, যা হাইকিং বা দর্শনীয় স্থানে ঘোরার জন্য একদম উপযুক্ত।

শীতকালের ভ্রমণ
ভ্রমণের সেরা সময়: নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি

পরিবহন: ঢাকা থেকে বাস, ট্রেন বা উড়োজাহাজে যাতায়াত সহজ

প্যাকিং: হালকা জ্যাকেট, হাঁটার জন্য আরামদায়ক জুতো, সৈকতের জন্য সানস্ক্রিন

স্থানীয় সংস্কৃতি: উপজাতি এলাকা বা ধর্মীয় স্থান পরিদর্শনের সময় শিষ্টাচার মেনে চলা

শীতকালে বাংলাদেশে ভ্রমণ মানে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ, স্থানীয় সংস্কৃতি জানা, আর স্মরণীয় মুহূর্ত তৈরি করা। কক্সবাজারের দীর্ঘ সৈকত হোক বা শ্রীমঙ্গল-এর সবুজ চা বাগান, সেন্টমার্টিনের শান্ত দ্বীপ হোক বা সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী, রাঙামাটি ও সাজেকের পাহাড় হোক—বাংলাদেশের শীতকাল আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছে। তাই ব্যাগ বানান, ক্যামেরা নিন, এবং বাংলাদেশের শীতকালীন সৌন্দর্য আবিষ্কার করুন।

ফরিদপুরে বাগানের গাছে ঝুলছিল বৃদ্ধের লাশ

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:০৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে বাগানের গাছে ঝুলছিল বৃদ্ধের লাশ

ফরিদপুর সদর উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের পরমানন্দপুর, বিষ্ণুদিয়া ও ভবানীপুর তিন গ্রামের সীমানা সংলগ্ন একটি বিলের মাঝখানে বাগান থেকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় এক বৃদ্ধের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

নিহত ব্যক্তির নাম রঞ্জিত সরকার (৬০)। তিনি কোতোয়ালি থানার বিষ্ণুদিয়া গ্রামের মৃত রবীন্দ্রনাথ সরকারের ছেলে। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ এপ্রিল সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে তিনি কাজের সন্ধানে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর থেকে তিনি আর বাড়ি ফিরে আসেননি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি।

পরবর্তীতে শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটের দিকে ভবানীপুর গ্রামের এক কৃষক জমিতে কাজ করার সময় বাগানের ভেতরে একটি মেহগনি গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় একটি মরদেহ দেখতে পান। পরে তিনি বিষয়টি স্থানীয়দের জানান। খবর পেয়ে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে মরদেহটি রঞ্জিত সরকারের বলে শনাক্ত করেন এবং সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি তার পরিবারকে অবহিত করা হয়।

ঘটনার খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নূর হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিষয়টি ক্রাইম সিন ইউনিটকে অবহিত করেন। পরে ক্রাইম সিন টিমের উপস্থিতিতে মরদেহটি গাছ থেকে নামানো হয় এবং প্রাথমিকভাবে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়।

পুলিশ জানায়, মরদেহের প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ের জন্য লাশটি ময়নাতদন্তের উদ্দেশ্যে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

কোতোয়ালি থানার এসআই নূর হোসেন বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। এটি আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও তিনি জানান।

ফরিদপুরে সংস্কৃতি মন্ত্রীর উদ্বোধনে শুরু খাল পুনঃখনন, জলাবদ্ধতা নিরসনে আশাবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৫৬ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে সংস্কৃতি মন্ত্রীর উদ্বোধনে শুরু খাল পুনঃখনন, জলাবদ্ধতা নিরসনে আশাবাদ

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার গুনবহা ইউনিয়নে মধুমতি নদী থেকে কামারগ্রাম স্লুইচগেট পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ খাল পুনঃখনন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে প্রকল্পটি পরিচালিত হচ্ছে। দেশব্যাপী নদী-নালা, খাল ও জলাধার খনন এবং পুনঃখনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে পলি জমে খালটির পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছিল। এতে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছিল এবং বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ বাড়ছিল স্থানীয়দের। খালটি পুনঃখনন করা হলে পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক হবে, সেচ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটবে এবং কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমে ফলন বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি এলাকাটির পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায়ও প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

উদ্বোধন উপলক্ষে গুনবহা ইউনিয়নের নদীয়ারচাঁদ এলাকায় আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, “খাল পুনঃখননের মাধ্যমে গ্রামীণ জনপদের পানি চলাচল স্বাভাবিক হবে এবং কৃষকরা সহজে সেচ সুবিধা পাবেন। সরকারের এ ধরনের উদ্যোগ দেশের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।”

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় কৃষকদলের সহসভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য খন্দকার নাসিরুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও গুনবহা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সঞ্জায় সাহা এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক, আমিনা মামুন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান খন্দকার আশরাফুল আলম মামুন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বোয়ালমারী-মধুখালী-আলফাডাঙ্গা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. আজম খান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম রকিবুল হাসান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিব্বির আহমেদ এবং বোয়ালমারী থানার অফিসার ইনচার্জ আনোয়ার হোসেনসহ স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, খালটি পুনঃখনন সম্পন্ন হলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা কমবে এবং শুকনো মৌসুমে কৃষিজমিতে পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ নিশ্চিত হবে, যা এলাকার সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও বঞ্চিত জনগণ: ফরিদপুরে জামায়াতে ইসলামী

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:১৫ অপরাহ্ণ
স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও বঞ্চিত জনগণ: ফরিদপুরে জামায়াতে ইসলামী

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ফরিদপুর অঞ্চলের উদ্যোগে উপজেলা ও থানা পর্যায়ের শীর্ষ নেতাদের অংশগ্রহণে এক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে ফরিদপুর শহরের মুসলিম মিশন প্রাঙ্গণে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন জেলা আমির মোহাম্মদ বদর উদ্দিন। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও অঞ্চল পরিচালক ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ। এসময় ফরিদপুরসহ আশপাশের পাঁচ জেলার নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও দেশের সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত অধিকার ও ন্যায্য প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত। দীর্ঘদিন ধরে দেশে বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে এবং মানুষের মানবিক মর্যাদা ও অধিকার যথাযথভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি বলে তারা দাবি করেন।

তারা আরও অভিযোগ করেন, গত এক যুগের বেশি সময় ধরে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত ছিল। অনেকেই স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারেননি; সত্য কথা বলায় অনেকে হয়রানি, গ্রেপ্তার কিংবা আত্মগোপনে থাকতে বাধ্য হয়েছেন। কেউ কেউ দীর্ঘদিন বিনা বিচারে কারাগারে ছিলেন বলেও বক্তারা উল্লেখ করেন।

বক্তারা বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশে রাজনৈতিক পরিবর্তন আসে এবং পরবর্তীতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচন ও গণভোট প্রসঙ্গে তারা দাবি করেন, জনগণের মতামত যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি।

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তারা দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, আইনশৃঙ্খলার অবনতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও দখলদারিত্ব বন্ধের দাবি জানান। পাশাপাশি জ্বালানি সংকটের কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কথাও উল্লেখ করেন বক্তারা।

সম্মেলনে দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে দুর্নীতি, বিদ্যুৎ সংকট ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সূরা সদস্য প্রফেসর আবদুত তাওয়াব, অঞ্চল প্রধান শামসুল ইসলাম আল বরাটি, জেলা সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুল ওহাব এবং জেলা নায়েবে আমির ইমতিয়াজ উদ্দিন আহমেদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।