খুঁজুন
সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ২৪ ফাল্গুন, ১৪৩২

ময়লাস্তুপ থেকে রঙিন সৌন্দর্য—স্বেচ্ছাসেবীদের উদ্যোগে নতুন রূপে ফরিদপুর শহর

হাসান মাতুব্বর (শ্রাবণ), ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯:২৩ পিএম
ময়লাস্তুপ থেকে রঙিন সৌন্দর্য—স্বেচ্ছাসেবীদের উদ্যোগে নতুন রূপে ফরিদপুর শহর

ফরিদপুর শহরের সৌন্দর্যবর্ধনে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন একঝাঁক তরুণ স্বেচ্ছাসেবী। দীর্ঘদিনের ময়লাস্তুপ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশকে রঙিন সজ্জা, নিখুঁত ক্যালিগ্রাফি ও সবুজ গাছপালায় রূপান্তর করে নজির গড়েছেন তাঁরা। বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বাংলাদেশ ইয়াংস্টার সোসিয়্যাল অর্গানাইজেশন–এর অক্লান্ত পরিশ্রমে যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে ফরিদপুর শহর। এ কাজে সার্বিক সহযোগিতা করছে ফরিদপুর পৌরসভা কর্তৃপক্ষ।

বুধবার (০৭ জানুয়ারি) দুপুরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় গিয়ে এমন ব্যতিক্রমী কর্মকাণ্ডের চিত্র দেখা যায়। হাসপাতালের পাশের সড়ক বিভাগের জায়গায় দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা দোকানগুলোর বর্জ্য, হাসপাতাল ও বেসরকারি ক্লিনিকের মেডিকেল বর্জ্যের কারণে এলাকাটি ভয়াবহ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও ময়লাস্তুপে পরিণত হয়েছিল। তীব্র দুর্গন্ধে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হতো স্থানীয় বাসিন্দা ও চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের। জমে থাকা ময়লাযুক্ত পানিতে জন্ম নিচ্ছিল এডিস মশাও।

স্বেচ্ছাসেবীদের উদ্যোগে গত দুই সপ্তাহ ধরে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালিয়ে পুরো এলাকাটি পরিষ্কার করা হয়। এরপর সেখানে খুঁটি স্থাপন করে রঙিন জাল টানানো হয়, যাতে ভবিষ্যতে কেউ ময়লা ফেলতে না পারে। পাশাপাশি সচেতনতামূলক বার্তা ও নান্দনিক ক্যালিগ্রাফি টানানো হয়েছে। সৌন্দর্যবর্ধনের অংশ হিসেবে বিভিন্ন প্রজাতির গাছও রোপণ করা হয়।

সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কের মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে বিএডিসি সেচ বিভাগ পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকা দীর্ঘদিন ধরে ময়লাস্তুপে পরিণত ছিল। বিষয়টি ফরিদপুর পৌরসভাকে অবগত করার পর পৌরসভার সহযোগিতায় গত ২১ ডিসেম্বর থেকে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু হয়।

বাংলাদেশ ইয়াংস্টার সোসিয়্যাল অর্গানাইজেশনের জ্যেষ্ঠ সদস্য ও ফরিদপুর জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র কাজী জেবা তাহসিন বলেন, “এখানে কিছুদিন আগেও শুধু ময়লা আর দুর্গন্ধ ছিল। পৌরসভার সহযোগিতায় আমরা পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু করি। এখন নেট ও খুঁটি দিয়ে এলাকা ঘিরে দেওয়া হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ ময়লা ফেলতে না পারে। পাশাপাশি ক্যালিগ্রাফি ও সতর্কবার্তা টানানো হয়েছে। শহরের অন্যান্য এলাকাতেও সৌন্দর্য ফেরাতে আমরা কাজ করে যাব।”

এ উদ্যোগে যুক্ত জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক কাজী রিয়াজ পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “আমরা প্রতিনিয়ত পরিবেশ দূষণ করছি। শুধু প্রযুক্তি দিয়ে পরিবেশ রক্ষা সম্ভব নয়, প্রয়োজন মানুষের সচেতনতা। আজ আমরা একটি জায়গা পরিষ্কার করেছি, কিন্তু অন্য কোথাও আবার দূষণ হচ্ছে। সবাই নিজ নিজ জায়গা থেকে সচেতন হলে পরিবেশগত উন্নয়নে বাংলাদেশকে অনেক দূর এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।”

স্বেচ্ছাসেবীদের এই উদ্যোগে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশংসা ও ইতিবাচক সাড়া পড়েছে। অনেকেই বলছেন, এমন উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে ফরিদপুর শহর আরও পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য হয়ে উঠবে।

ভাঙ্গায় হাইলাইট চক্ষু হাসপাতালের উদ্যোগে প্রশিক্ষণার্থীদের ইফতার ও দোয়া মাহফিল

সোহাগ মাতুব্বর, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৬:২৫ পিএম
ভাঙ্গায় হাইলাইট চক্ষু হাসপাতালের উদ্যোগে প্রশিক্ষণার্থীদের ইফতার ও দোয়া মাহফিল

পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় হাইলাইট চক্ষু হাসপাতাল কেয়ারগিভিং সেন্টারের উদ্যোগে প্রশিক্ষণার্থীদের নিয়ে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৯ মার্চ) সন্ধ্যায় ভাঙ্গা উপজেলার হাইলাইট চক্ষু হাসপাতাল কেয়ারগিভিং সেন্টারের মিলনায়তনে এ আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে হাসপাতালের চেয়ারম্যান সহিদুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, মানবসেবার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা। দক্ষ ও মানবিক মনোভাবসম্পন্ন সেবাকর্মী তৈরি করতে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধের চর্চাও প্রয়োজন। তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে ভবিষ্যতে মানুষের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করার আহ্বান জানান।

ইফতার মাহফিলে হাইলাইট চক্ষু হাসপাতাল কেয়ারগিভিং সেন্টারের বিভিন্ন ট্রেডের প্রশিক্ষক, প্রশিক্ষণার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন। ইফতারের আগে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে রমজানের তাৎপর্য, সংযম ও মানবিকতার শিক্ষা নিয়ে বক্তব্য রাখেন উপস্থিত অতিথিরা।

পরে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং হাসপাতালের সার্বিক উন্নতি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এ সময় বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের কল্যাণ এবং সকলের সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল কামনা করা হয়।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী প্রশিক্ষণার্থীরা জানান, এ ধরনের আয়োজন তাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে। একই সঙ্গে রমজানের পবিত্রতা ও সামাজিক মূল্যবোধ সম্পর্কে নতুন করে অনুপ্রাণিত হতে সহায়তা করে।

সর্বশেষে উপস্থিত সবাই একসঙ্গে ইফতার গ্রহণ করেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভবিষ্যতেও প্রশিক্ষণার্থীদের অংশগ্রহণে এ ধরনের সামাজিক ও ধর্মীয় আয়োজন অব্যাহত থাকবে।

‘দৃষ্টির চশমা’

গোলাম কিবরিয়া
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৬:১২ পিএম
‘দৃষ্টির চশমা’

নিশুতি রাত, থমথমে ভাব, পুকুর ঘাটের পাড়ে,
দুইটি মানুষ বসলো এসে খুব সাবধানে আড়ে।
এক পাড়ে এক পাকা চোর, অন্য পাড়ে মুমিন,
দুজনারই ব্যস্ততা আজ বেড়েছে অন্তহীন।

​চোর বেচারা হাত ধুয়ে নেয়, পোটলাটি তার পাশে,
ওপার পানে তাকিয়ে সে মুচকি মনে হাসে।
ভাবছে, “আহা! ওই বেটা তো মস্ত বড় চোর,
নিশ্চয় সেও সিঁধ কেটেছে ওস্তাদ বড় জোর!”

​মনেহয় সে কোনো বাড়ির সিন্দুক করেছে ফাঁকা,
আমার চেয়েও বেশি হয়তো মাল রয়েছে রাখা!
বড্ড সেয়ানা চোর তো ওটা, বসলো জলের ধারে,
কাজ সেরে আজ ফুরফুরে সে, শান্তি খোঁজে পাড়ে।

​ওপার পাড়ে ধার্মিক জন করছে ওযু ধীর,
ভাবছে, “আহা! ওই পাড়ে কে? বড্ড খোদাভীর!
আমার চেয়েও মস্ত বড় বুজুর্গ এক পীর,
ইবাদতে মত্ত হতে তাই তো হলেন স্থির।”

​তাহাজ্জুদের এই বেলাতে আমার সাথে জাগে,
খোদার প্রেমে মশগুল সে, মরণ কিসের আগে?
আহা! কপাল আমার ভালো, এমন সাথী পেলাম,
দূর থেকেই সেই বুজুর্গে জানাই হাজার সালাম!

লেখক: সহকারী অধ্যাপক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান,
বরগুনা সরকারি কলেজ

ফরিদপুরে ঈদের প্রধান জামাত কেন্দ্রীয় ঈদগাহে সকাল ৮ টায়

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৫:৪২ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের প্রধান জামাত কেন্দ্রীয় ঈদগাহে সকাল ৮ টায়

পবিত্র ঈদুল ফিতর ২০২৬ উদযাপনকে সামনে রেখে ফরিদপুর জেলায় সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণের লক্ষ্যে এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৯ মার্চ) দুপুর ১টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্যার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা অংশ নেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বাকাহীদ হোসেন, পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সুস্মিতা সাহা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রামানন্দ পালসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিরা।

সভায় আসন্ন ঈদুল ফিতর উদযাপন উপলক্ষে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফরিদপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল ৮টায় জেলার প্রধান ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। তবে আবহাওয়া প্রতিকূল হলে বিকল্প হিসেবে জেলার বিভিন্ন মসজিদে ঈদের জামাত আয়োজনের ব্যবস্থা রাখা হবে।

এছাড়া ঈদ উপলক্ষে অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা না করার বিষয়ে সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে ঈদকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও জনসমাগমস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে বলে জানানো হয়। বিশেষ করে ঈদে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।

সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয় যে, ঈদ যাত্রাকে স্বস্তিদায়ক করতে গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি বাস টার্মিনাল ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হবে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্যা সভায় বলেন, ঈদ মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। তাই এই উৎসবকে ঘিরে মানুষের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। তিনি সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন।

সভায় আরও জানানো হয়, ঈদের সময় হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ বিভাগসহ জরুরি সেবাগুলো চালু রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন।