খুঁজুন
মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬, ২৫ ফাল্গুন, ১৪৩২

“কীভাবে ট্রাম্পবাদ বিশ্বব্যাপী রাজনৈতিক বিপর্যয় সৃষ্টি করছে”

সাইমন টিসডাল
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ১০:১২ এএম
“কীভাবে ট্রাম্পবাদ বিশ্বব্যাপী রাজনৈতিক বিপর্যয় সৃষ্টি করছে”

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পত্রিকা ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’ ২০২১ সালে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে জানায়, ডোনাল্ড ট্রাম্প তার শাসনামলের প্রথম মেয়াদকালে মোট ৩০ হাজার ৫৭৩টি ‘মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর’ বক্তব্য দিয়েছিলেন। অর্থাৎ, প্রেসিডেন্ট থাকাকালে টানা চার বছর নিজ দেশের নাগরিক এবং বিশ্ববাসীর কাছে প্রতিদিন গড়ে ২১টি করে মিথ্যা কথা বলতেন তিনি। দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় ফিরে এসেও তিনি সেই অভ্যাসে একচুলও ছেদ টানেননি। এখনো নিয়মমাফিক তিনি আমেরিকান জনগণকে এবং গোটা বিশ্বকে বিভ্রান্ত করে চলেছেন।

জনজীবনে সত্য ও সততার প্রতি এ প্রেসিডেন্টের নির্লজ্জ অবহেলার দেখা মিলছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা রাজ্যের মিনিয়াপোলিস শহরে প্রাণঘাতী গুলিবর্ষণের ঘটনায় তার ঘৃণ্য প্রতিক্রিয়ায় আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে এ আচরণ। এ ঘটনা কেন্দ্র করে তিনি যে বক্তব্য দিয়েছিলেন, তা শুধু অশোভন নয়; বরং একই সঙ্গে বিপজ্জনকভাবে অনৈতিকও। নিরাপত্তা বাহিনীর বন্দুকের গুলিতে আমেরিকান নাগরিক নিহত হলেও, তিনি নাগরিকের পক্ষ না নিয়ে বরং ক্ষমতার অপব্যবহারকারী নিরাপত্তাকর্মীর পক্ষ নিয়েছেন।

গত সপ্তাহে ট্রাম্প ঘোষণা করে বলেন, ‘আমার ক্ষমতার ওপর একমাত্র নিয়ন্ত্রণ হলো আমার নিজের নৈতিকতা এবং আমার নিজের মন।’ এ বক্তব্য থেকেই তার কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়। তার কাছে ন্যায়-অন্যায় কোনো সর্বজনীন মানদণ্ডে আবদ্ধ নয়; বরং সেটা সম্পূর্ণরূপে ব্যক্তিনির্ভর। তিনি নিজেই নিজের নৈতিক উপদেষ্টা, নিজেই নিজের আইনজ্ঞ, নিজেই নিজের যাজক। তার স্বীকারোক্তি শুধু নিজের কাছে; কোনো রাষ্ট্রীয় বা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের কাছে কিংবা নিজ দেশের জনগণের কাছে নয়। নিজেকে একক ব্যক্তিনির্ভর একটি গির্জা হিসেবে দেখতে শুরু করেছেন তিনি।

দুশ্চিন্তার ব্যাপার হলো, ট্রাম্প অন্যদের পাশাপাশি নিজেকেও মিথ্যা বলেন। আর এ আত্মপ্রবঞ্চনার পরিণতি ভয়াবহ। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের পক্ষে এমন আচরণ সাধারণ মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয়, বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আস্থার ভিত ভেঙে দেয়। মার্কিন ভোটারদের মতো বিদেশি নেতারাও ধীরে ধীরে এ প্রেসিডেন্টের দীর্ঘস্থায়ী মিথ্যাচারের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছেন। কিন্তু এ অভ্যাসকে প্রশ্রয় দেওয়ার মূল্য তাকে প্রশ্ন না করার, প্রতিবাদ না তোলার, শক্ত অবস্থান না নেওয়ার মূল্য দিন দিন গুণোত্তর হারে বাড়ছে। এ সুবাদে তার আচরণ হয়ে উঠছে আরও স্বৈরাচারী ও খামখেয়ালি।

ট্রাম্পের মিথ্যা ও প্রতারণা আজকের তিনটি জটিল ও অমীমাংসিত আন্তর্জাতিক সংকটে একটি সাধারণ, উত্তেজনাবর্ধক উপাদান হিসেবে কাজ করছে। উদাহরণস্বরূপ, তিনি ভিত্তিহীনভাবে দাবি করেছেন, চীনা ও রুশ যুদ্ধজাহাজ গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে রেখেছে, যার ফলে নাকি যুক্তরাষ্ট্রের সেখানে হস্তক্ষেপ করা জরুরি। অথচ ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন, যিনি ডেনমার্কের অধীন এই স্বায়ত্তশাসিত দ্বীপটির বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে ট্রাম্পের চেয়ে অনেক বেশি অবগত, তিনি ব্যঙ্গাত্মকভাবে প্রশ্ন তোলেন, ‘কোথায় এসব জাহাজ? অমাদের চোখে তো পড়ে না।’ গ্রিনল্যান্ডবাসীর কাছে ট্রাম্পের মন্তব্য নিছক প্রলাপ।

ডেনমার্ক স্মরণ করিয়ে দেয় যে, তারা গ্রিনল্যান্ডে প্রতি বছর বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করে এবং তথাকথিত ‘চীনা বিনিয়োগের বন্যা’ আরেকটি হোয়াইট হাউস-উৎপাদিত কল্পকাহিনি মাত্র। জরিপে দেখা গেছে, গ্রিনল্যান্ডবাসী যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত হওয়া কিংবা ট্রাম্পের কাছে বিক্রি হওয়ার ঘোরবিরোধী। বস্তুত তারা স্বাধীনতা চায়। রাজা তৃতীয় জর্জের বাহিনীকে ২৫০ বছর আগে আমেরিকান ভূখণ্ড থেকে বিতাড়িত করে যেই দেশের জন্ম হয়েছিল, তার পক্ষে অন্তত এ স্বাধীনতার মর্ম বোঝা উচিত। ট্রাম্প বলেন, তিনি গ্রিনল্যান্ডকে ‘নিরাপদ’ করতে চান। কিন্তু বাস্তবে তিনি চান এ ভূখণ্ডের খনিজ সম্পদ কবজা করতে আর আমেরিকার সীমানা বৃদ্ধি করতে।

গত সপ্তাহে ভেনেজুয়েলার ঘটনা ঘটানোর আগে মিথ্যার এক প্রলয়ংকরী স্রোত বইয়ে দেওয়া হয়। কোনো প্রমাণ ছাড়াই ট্রাম্প দেশটির নেতা নিকোলাস মাদুরোকে ‘মাদক-সন্ত্রাসী’ গোত্রের প্রধান বলে দাগিয়ে দেন। তার প্রশাসনে আমেরিকান নৌবাহিনী ক্যারিবীয় সাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরে শতাধিক মানুষকে হত্যা করেছে। কোনো প্রকার প্রমাণ ছাড়া শুধু মাদক পাচারে জড়িত থাকার সন্দেহের বশে আমেরিকানদের কাছে প্রাণ হারিয়েছে এ নাবিকরা। বেআইনিভাবে কংগ্রেসের সাংবিধানিক ক্ষমতা দখল করে যুক্তরাষ্ট্রের ‘যুদ্ধরত অবস্থা’ ঘোষণা করেন ট্রাম্প।

বাস্তবতা হলো, ২০১৮ সালে ভেনেজুয়েলায় ট্রাম্পের ক্ষমতা-পরিবর্তনের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হওয়ার পর থেকেই মাদুরোর বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা লালন করে আসছেন তিনি। এখন তিনি নিজেই স্বীকার করছেন, এ অপারেশনের মূল লক্ষ্য গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার নয়; লক্ষ্য ভেনেজুয়েলার জনগণকে ‘উদ্ধার’ করা বা যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও নয়। লক্ষ্য একটাই—তেল। তাই অনিচ্ছা সত্ত্বেও তিনি ভেনেজুয়েলার বিরোধী দলের নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদোর সঙ্গে সাক্ষাতে সম্মত হন। ট্রাম্প নির্লজ্জ ও নির্মমভাবে দেশটির সম্পদ লুণ্ঠন করছেন। একই সঙ্গে হুমকি দিচ্ছেন মেক্সিকো, কিউবা ও কলম্বিয়াকে।

সম্প্রতি ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভেনেজুয়েলাকে অনির্দিষ্টকাল শাসন করার জন্য তার একটি ‘পরিকল্পনা’ আছে। এটিও আরেকটি নিরেট মিথ্যা। ভেনেজুয়েলার সশস্ত্র বাহিনী ও মিলিশিয়া এখনো অক্ষত অবস্থায় আছে। মাদুরো নিজে ভেনেজুয়েলায় না থাকলেও তার স্বৈরতান্ত্রিক সরকার এখনো দেশটিতে টিকে আছে। আর ক্ষমতা দখলে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এক সাহসী গণতান্ত্রিক বিরোধী জোটের মুখে দেশটি অনিবার্য সংঘাতের দিকে এগোচ্ছে। গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপ ব্যতীত ওয়াশিংটন ডিসি থেকে এ বিশৃঙ্খলার ঢাল থামানো সম্ভব নয়।

অন্যদিকে ইউক্রেনের কথা ভুলে গেলেও চলবে না। এটি তৃতীয় একটি সংঘাতক্ষেত্র, যাকে ঘিরে ট্রাম্পের সত্য-মিথ্যার খেলা রয়েছে চলমান। বৃহত্তর আন্তর্জাতিক প্রেক্ষিতে কোন পদক্ষেপটি সঠিক ও ন্যায় এবং কোনটি বেঠিক ও অন্যায়—ট্রাম্পের পক্ষে সেটা চিহ্নিত করতে পারার অক্ষমতা ইউরোপের ক্ষতি ডেকে আনছে। নির্বাচনী প্রচারণার দরুন তিনি মিথ্যা বলেছিলেন যে, ক্ষমতায় এলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামিয়ে দেবেন। সে ব্যাপারে ব্যর্থ হয়ে তিনি বারবার ভ্লাদিমির পুতিনের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কিন্তু পুতিন বিদ্রূপাত্মক হাসি হেসে তাকে সাময়িকভাবে তুষ্ট করে বরাবরই বোমাবর্ষণ চালিয়ে গেছেন। আর প্রতিবারই ট্রাম্প দুর্বলভাবে পিছু হটেছেন, দোষ চাপিয়েছেন ইউক্রেনীয় নেতা ভলোদিমির জেলেনস্কির ওপর।

ট্রাম্পের এ দ্বিচারিতা কিয়েভকে সমর্থন দেওয়ার ক্ষেত্রে ইউরোপের মিত্রদের প্রচেষ্টাকে দুর্বল করে দিয়েছে। একদিন তিনি ন্যাটো নেতাদের তেলচিটে প্রশংসা সগর্বে গ্রহণ করেন, তো পরদিনই জোটটিকে উপহাস এবং অবজ্ঞা করে বলেন, ইউরোপ সভ্যতার বিলুপ্তির মুখে পৌঁছে গেছে। গত সপ্তাহে তিনি দাবি করেন, সংকটের সময়ে ন্যাটো যুক্তরাষ্ট্রকে সাহায্য করবে না। এটিও ডাহা মিথ্যা কথা। কারণ, ৯/১১ সন্ত্রাসী হামলার পর এবং আফগানিস্তানে ২০ বছরের ব্যর্থ অভিযানের দরুন ন্যাটো যুক্তরাষ্ট্রকে প্রয়োজনীয় সমর্থন দিয়ে প্রমাণ করেছে যে, ইউরোপীয় দেশগুলো এ চুক্তিকে সম্মান করতে জানে।

গ্রিনল্যান্ড, ভেনেজুয়েলা ও ইউক্রেন সমসাময়িক সংকটগুলোর মধ্যে ট্রাম্পের অসততার বাইরেও আরও কিছু ব্যাপারে মিল রয়েছে। তিন ক্ষেত্রেই উদ্বেগজনকভাবে প্রকাশ পেয়েছে ইউরোপের নেতাদের দুর্বলতা, বিভাজন এবং একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অক্ষমতা। এখন নিশ্চয়ই ইউরোপকে মেনে নিতে হবে, এ প্রেসিডেন্টের ওপর তারা আর আস্থা রাখতে পারে না। আর এ ভীতিকর ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মনে হচ্ছে যে, ব্রেক্সিট ছিল চরম ভুল একটি সিদ্ধান্ত। যুক্তরাজ্যের পক্ষে ইউরোপীয় ইউনিয়নের জোট ত্যাগ করার সিদ্ধান্তটা আত্মঘাতী বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি অবজ্ঞা, সার্বভৌম অধিকার ও ভৌগোলিক স্বাধীনতার প্রকাশ্য লঙ্ঘন ঘটিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। জাতিসংঘ-সমর্থিত নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থার জায়গায় নব্য-সাম্রাজ্যবাদী প্রভাববলয় প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালাচ্ছে বর্তমান প্রশাসন, যা এ তিন আন্তর্জাতিক সংকটেই স্পষ্ট। একই সঙ্গে স্পষ্ট সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় ব্যর্থতা। অহংকারবশত ও বেআইনিভাবে ভেনেজুয়েলার সর্বশেষ নির্বাচনকে বাতিল ও অবৈধ বলে ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইউক্রেনের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ধ্বংস করতে লেগেছে রাশিয়া। গ্রিনল্যান্ডবাসীরা বলছে, তারা তাদের নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার চায়। অথচ এসব ক্ষেত্রেই অন্যায়ভাবে জয়ী হচ্ছে অধিক ক্ষমতাধর পক্ষ।

এ প্রবণতাগুলোর মধ্যে অনেকগুলোই আগে থেকেই বিদ্যমান ছিল। তবে ২০২৫ সালে এগুলোকে নিঃসন্দেহে ত্বরান্বিত করেছে ট্রাম্পের অস্থিতিশীল, নীতিহীন, আইনবহির্ভূত, বিশৃঙ্খল এবং মৌলিকভাবে অনৈতিক আচরণ। এসব অনিষ্টের মধ্যে তার নৈতিক অবক্ষয়ই সবচেয়ে ভয়ংকর। এ নতুন যুগে দেখা দিচ্ছে ‘ট্রাম্পবাদ’ নামক এক বিধ্বংসী রোগ, যা বিশ্বমানবতার ওপর কলুষ ছড়ায়, তাকে বিপর্যস্ত করে, অন্ধকারে ঢেকে দেয় ও বিষাক্ত করে তোলে। এর শিকার শুধু আমেরিকান নাগরিকরা নয়, বরং বিশ্বব্যাপী সবাই।

মার্ক টোয়েন বলেছিলেন, ‘মিথ্যা তিন প্রকার—সাধারণ মিথ্যা, অসাধারণ মিথ্যা আর পরিসংখ্যানগত মিথ্যা।’ আমি তার কথাটিকে বর্তমান প্রেক্ষাপটে একটু পরিবর্তন করে বলব যে, রাজনীতির প্রাঙ্গণে মিথ্যা তিন প্রকার—সাধারণ মিথ্যা, অসাধারণ মিথ্যা এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের মিথ্যা। এখন সময় এসেছে, অন্যায় ক্ষমতা চর্চার বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেওয়ার। ক্ষমতার অপব্যবহার রুখতে আমেরিকা, ব্রিটেন ও ইউরোপের মিত্রশক্তিদের আরও দৃঢ় হতে হবে। নচেৎ, ইতিহাসের অদক্ষ, স্বার্থপর ও স্বেচ্ছাচারী রাজা-বাদশাহদের মতো ট্রাম্পও হয়তো এমন কিছু করে বসবেন, যা আর ফেরানো যাবে না।

লেখক: দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকার সহকারী সম্পাদক, আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক বিশেষজ্ঞ এবং যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসে নিয়োজিত স্থায়ী প্রতিবেদক। নিবন্ধটি ব্রিটিশ পত্রিকা দ্য গার্ডিয়ানের মতামত বিভাগ থেকে অনুবাদ করেছেন অ্যালেক্স শেখ

ফরিদপুরে তুচ্ছ ঘটনায় জুয়েল হত্যা, রাজধানী থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করল র‌্যাব

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬, ৮:৫৯ পিএম
ফরিদপুরে তুচ্ছ ঘটনায় জুয়েল হত্যা, রাজধানী থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করল র‌্যাব

ফরিদপুর জেলা শহরে বাড়ির পাশের রাস্তায় কাপড় শুকানোর রশি টানানোকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার জেরে সংঘবদ্ধ হামলায় নিহত হন জুয়েল (৪৫) নামে এক ব্যক্তি। এ ঘটনার প্রায় দুই সপ্তাহ পর রাজধানীর উত্তরা এলাকা থেকে এই চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ভোররাতে র‌্যাব-১০ ও র‌্যাব-১ এর যৌথ অভিযানে ঢাকা মহানগরের উত্তরা পূর্ব থানা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মো. শাহনেওয়াজ (২৩), মো. সিফাত শেখ (১৯) এবং মো. কামাল শেখ (৪৫)। তাদের সবার বাড়ি ফরিদপুর জেলার কোতয়ালী থানার গোয়ালচামট এলাকায়।

র‌্যাব সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট এলাকায় নিজ বাড়ির পাশের রাস্তায় কাপড় শুকানোর রশি টানানোকে কেন্দ্র করে জুয়েলের সঙ্গে প্রতিবেশী মনি বেগমের বাকবিতণ্ডা হয়। প্রথমে বিষয়টি তর্কাতর্কির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলেও এক পর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে দুই পরিবারের মধ্যে।

তাদের তর্কাতর্কিতে কিছুক্ষণের মধ্যেই গ্রেপ্তারকৃত শাহনেওয়াজসহ কয়েকজন সংঘবদ্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে জুয়েলের বাড়িতে প্রবেশ করে। তারা বাড়ির ভেতরে ঢুকে গালিগালাজ শুরু করলে জুয়েল ও তার পরিবারের সদস্যরা প্রতিবাদ জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে হামলাকারীরা জুয়েল ও তার ভাই সোহেলকে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর আহত করে।

স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জুয়েলকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তার ভাই সোহেলকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এই ঘটনার পরেরদিন গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নিহত জুয়েলের ভাই বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-৫৯)।

মামলা দায়েরের পর অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে যায় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করতেছিল। পরে তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে র‌্যাব-১০ গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার শুরু করে।

তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার ভোররাতে র‌্যাব-১০ ও র‌্যাব-১ এর একটি বিশেষ যৌথ অভিযানে রাজধানীর উত্তরা পূর্ব থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে পলাতক তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কোতয়ালী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

র‌্যাব-১০ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার তাপস কর্মকার বলেন, দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র‌্যাব নিয়মিতভাবে সন্ত্রাস, হত্যা ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে কাজ করে যাচ্ছে। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে পলাতক আসামিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অপরাধ দমনে র‌্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সকালে মোবাইল কোর্টে জরিমানা, বিকেলে সেই দোকানের দই ইফতারে!

মধুখালী প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬, ৮:৩৬ পিএম
সকালে মোবাইল কোর্টে জরিমানা, বিকেলে সেই দোকানের দই ইফতারে!

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানার কয়েক ঘণ্টা পরই একই দোকান থেকে উপজেলা প্রশাসনের ইফতার মাহফিলের জন্য দই কেনার ঘটনায় জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার (০৯ মার্চ) উপজেলার বাগাট এলাকায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মধুখালী উপজেলার বাগাট বাজারে অবস্থিত রাজকুমার মিষ্টান্ন ভান্ডারের কারখানায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরফানুর রহমান। অভিযানের সময় কারখানায় ব্যবহৃত তেলে ময়লা, পুরোনো মিষ্টির সিরা সংরক্ষণ এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য প্রস্তুতের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটিকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযান শেষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে খাদ্য প্রস্তুত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

তবে ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পরই বিকেল ৩টার দিকে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার মাহফিলের জন্য একই প্রতিষ্ঠান থেকে দই সংগ্রহ করা হয় বলে জানা গেছে। রাজকুমার মিষ্টান্ন ভান্ডার থেকে প্রায় ১৩৫ কাপ দই উপজেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের সহকারীরা কিনে নিয়ে যান। পরে ওই দই উপজেলা প্রশাসনের ইফতার মাহফিলে অন্যান্য খাবারের সঙ্গে পরিবেশন করা হয়।

এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—যে প্রতিষ্ঠানের খাদ্য প্রস্তুত প্রক্রিয়ায় অনিয়ম পেয়ে জরিমানা করা হলো, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেই প্রতিষ্ঠান থেকে খাবার কেনা কতটা যৌক্তিক।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মধুখালী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. এরফানুর রহমান বলেন, “আমি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছি। সেখানে অনিয়ম পাওয়ায় আইন অনুযায়ী জরিমানা করা হয়েছে। ইফতার মাহফিলের খাবার কেনার বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের অন্য দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।”

অন্যদিকে, রাজকুমার মিষ্টান্ন ভান্ডারের স্বত্বাধিকারী সুকুমার ঘোষ দাবি করেন, কারখানায় থাকা তেলের ব্যারেলটি নতুন ছিল এবং সেটি খোলা হয়নি। ভ্রাম্যমাণ আদালতের কর্মকর্তারাই সেটি খুলে দেখেন এবং তাতে ময়লা পাওয়ার কথা বলেন। তিনি আরও জানান, উপজেলা প্রশাসনের অফিস থেকে লোক এসে ১৩৫ কাপ দই নিয়ে গেছে এবং তার মূল্যও পরিশোধ করেছে।

এ বিষয়ে মধুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রওশনা জাহান বলেন, “একটি প্রতিষ্ঠানের সবকিছুই খারাপ নয়। যেসব বিষয়ে অনিয়ম পাওয়া গেছে সেগুলোর জন্য জরিমানা করা হয়েছে। সবকিছু খারাপ হলে দোকানটি সিলগালা করা হতো।”

এদিকে বিষয়টি নিয়ে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান মোল্যা বলেন, “দুপুরে জরিমানা করা প্রতিষ্ঠানের পণ্য বিকেলে ইফতারে নেওয়া হয়েছে—এটি কিছুটা সাংঘর্ষিক। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্ন তুলেছেন।

সালথায় সাড়ুকদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, ইউএনও’র কাছে লিখিত আবেদন

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬, ৩:৫২ পিএম
সালথায় সাড়ুকদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, ইউএনও’র কাছে লিখিত আবেদন

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার সাড়ুকদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জয়ন্ত কুমারের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন দিয়েছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির কাছে এই অভিযোগ দাখিল করা হয়। অভিযোগপত্রে প্রধান শিক্ষক জয়ন্ত কুমারের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, দায়িত্বে অবহেলা, শিক্ষার মান অবনতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রধান শিক্ষক জয়ন্ত কুমার বিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বেশি সময় ব্যয় করেন। অভিযোগকারীরা দাবি করেন, তিনি পাশের বোয়ালমারি উপজেলার দাতপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হওয়ায় সেই প্রভাব খাটিয়ে বিদ্যালয়ে এক ধরনের স্বেচ্ছাচারী পরিবেশ তৈরি করেছেন।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, তিনি প্রায়ই শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করতেন। ফলে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকসহ অন্য কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস পেতেন না। এর প্রভাব পড়েছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশে। স্থানীয়দের মতে, এক সময় এলাকার অন্যতম সুনামধন্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত সাড়ুকদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান দিন দিন নিম্নমুখী হয়ে পড়ছে।

অভিযোগকারীরা জানান, প্রধান শিক্ষক দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিদ্যালয়ের আয়-ব্যয়ের সঠিক কোনো হিসাব সংরক্ষণ করা হয়নি। ব্যাংক থেকে উত্তোলিত অর্থের যথাযথ ব্যয়ের কোনো স্বচ্ছতা নেই বলেও দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে বিদ্যালয়ের ব্যাংক হিসাব থেকে বকেয়া বেতনসহ মোট ১০ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়। এর মধ্যে ৭ লাখ ২২ হাজার ৮০২ টাকা শিক্ষক-কর্মচারীদের বকেয়া বেতন হিসেবে বিতরণ করা হলেও অবশিষ্ট ২ লাখ ৭৭ হাজার ১৯৮ টাকা বিদ্যালয়ের রাস্তা সংস্কার ও সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কথা বলা হয়। কিন্তু বাস্তবে এসব কাজের কোনো দৃশ্যমান প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

এছাড়া ২০২৪ সালে অডিট বাবদ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে, যা একটি স্কুলের জন্য অস্বাভাবিক বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা। তাদের প্রশ্ন, একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অডিট খরচ কীভাবে এত বেশি হতে পারে।

একই বছরের আরেকটি ঘটনায় বিজ্ঞানাগারের জন্য বিভিন্ন উপকরণ কেনার কথা বলে ৫৭ হাজার টাকা উত্তোলন করা হলেও বাস্তবে কোনো সরঞ্জাম কেনা হয়নি বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রধান শিক্ষক জয়ন্ত কুমার ২০২৪ সালে সাময়িক বরখাস্ত থাকা অবস্থায়ও বেতন উত্তোলন করেছেন।

অভিযোগকারীদের দাবি, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সেই বেতন তিন মাসের মধ্যে উত্তোলন না করায় তা ফেরত যাওয়ার কথা থাকলেও পরে স্কুলের তহবিল থেকে তিনি প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা তুলে নেন, যা সম্পূর্ণ বেআইনি।

অভিযোগকারীরা আরও বলেন, ২০২১ সালে মাত্র ছয় মাস দায়িত্ব পালন করা এক সাবেক সভাপতির ব্যাংক স্বাক্ষর এখনও ব্যবহৃত হচ্ছে, যা প্রশাসনিক নিয়মের পরিপন্থী। এছাড়া প্রতি বছর এসএসসি পরীক্ষার সময় টেস্ট পরীক্ষায় অকৃতকার্য কিছু শিক্ষার্থীকে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক-অভিভাবকদের দাবি, প্রধান শিক্ষক নিয়মিত স্কুলে উপস্থিত থাকেন না। সপ্তাহে মাত্র দুই দিন এসে তিনি পুরো সপ্তাহের হাজিরা দেখিয়ে দেন। এতে করে বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

অভিযোগকারীরা জানান, এর আগে বিভিন্ন সময় শিক্ষা কর্মকর্তাদের বিষয়টি অবহিত করা হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এমনকি আগের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনিসুর রহমান বালি বিদ্যালয়ের সভাপতি থাকা অবস্থায় বিষয়টি সমাধানের জন্য নির্দেশনা দিলেও প্রধান শিক্ষক তা আমলে নেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘কে বলেন, “বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগে যেসব বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলো যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সব অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক জয়ন্ত কুমার ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে তার বেশিরভাগই ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কিছু ব্যক্তি ব্যক্তিগত কারণে আমাকে হয়রানি করার জন্য এসব অভিযোগ করছেন। তদন্ত হলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।”

অভিযোগকারীদের পক্ষে আবেদনকারী মো. মাহফুজ খান বলেন, “আমরা চাই একটি সুষ্ঠু তদন্ত হোক। বিদ্যালয়ের অর্থ কোথায় গেল, কেন শিক্ষার মান কমে যাচ্ছে—এসব বিষয় খতিয়ে দেখে প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিক।”