খুঁজুন
সোমবার, ৪ মে, ২০২৬, ২১ বৈশাখ, ১৪৩৩

বিজ্ঞানীদের বিস্ময়: পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের কণা যাচ্ছে চাঁদের দিকে

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:৫২ পূর্বাহ্ণ
বিজ্ঞানীদের বিস্ময়: পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের কণা যাচ্ছে চাঁদের দিকে

নতুন এক গবেষণায় জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল থেকে ছিটকে যাওয়া কণা কোটি কোটি বছর ধরে মহাশূন্য পেরিয়ে চাঁদের ওপর গিয়ে জমা হচ্ছে। সূর্যের শক্তিশালী কণাপ্রবাহ বা সোলার উইন্ড এই কণাগুলোকে বহন করে নিয়ে যাচ্ছে এবং চাঁদের মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিচ্ছে।

এই গবেষণা চাঁদ নিয়ে দীর্ঘদিনের একটি রহস্যের নতুন ব্যাখ্যা দিচ্ছে। অ্যাপোলো মিশনের সময় চাঁদ থেকে আনা মাটির নমুনায় পানি, কার্বন ডাইঅক্সাইড, হিলিয়াম ও নাইট্রোজেনের মতো নানা উপাদানের অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছিল। এতদিন বিজ্ঞানীরা মনে করতেন, এসব উপাদানের বড় একটি অংশ সূর্য থেকেই এসেছে।

তবে ২০০৫ সালে টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা ধারণা দেন, চাঁদের এসব উপাদানের কিছু অংশ প্রাচীন পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল থেকেও আসতে পারে। তখন পৃথিবীর নিজস্ব চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি হয়নি, ফলে বায়ুমণ্ডলের কণা সহজেই মহাশূন্যে ছড়িয়ে পড়ত। ধারণা ছিল, প্রায় ৩৭০ কোটি বছর আগে পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি হওয়ার পর এই প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়।

কিন্তু নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র কণার এই যাত্রা থামানোর বদলে বরং তা সহজ করেছে এবং এই প্রক্রিয়া আজও চলছে।

নিউইয়র্কের রচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যা ও জ্যোতির্বিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক এরিক ব্ল্যাকম্যান বলেন, পৃথিবী দীর্ঘ সময় ধরে অক্সিজেন ও নাইট্রোজেনের মতো গ্যাস চাঁদের মাটিতে সরবরাহ করে আসছে। তার ভাষায়, পৃথিবী ও চাঁদের মধ্যে কেবল শুরুতে নয়, কোটি কোটি বছর ধরেই উপাদান আদান-প্রদান চলছে।

চাঁদের পৃষ্ঠে অক্সিজেন ও হাইড্রোজেনের মতো উপাদানের উপস্থিতি ভবিষ্যতের চন্দ্র অভিযানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বিজ্ঞানীদের মতে, ভবিষ্যতে যদি চাঁদে স্থায়ী বসতি গড়ে ওঠে, তবে সেখানকার মানুষকে পৃথিবী থেকে সবকিছু নিয়ে যেতে হবে না। চাঁদের মাটি থেকেই পানি বিশ্লেষণ করে জ্বালানি তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান সংগ্রহ করা সম্ভব হতে পারে। নাইট্রোজেন ব্যবহার করে বিকল্প জ্বালানির ধারণাও গবেষণায় আলোচিত হয়েছে।

এই গবেষণার জন্য বিজ্ঞানীরা কম্পিউটার সিমুলেশনের মাধ্যমে দুটি পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করেন। একটি ছিল প্রাচীন পৃথিবী, যেখানে সোলার উইন্ড ছিল শক্তিশালী এবং চৌম্বক ক্ষেত্র ছিল দুর্বল। অন্যটি বর্তমান পৃথিবীর মতো, যেখানে সোলার উইন্ড তুলনামূলক দুর্বল কিন্তু চৌম্বক ক্ষেত্র শক্তিশালী। গবেষণায় দেখা গেছে, আধুনিক পৃথিবীর পরিস্থিতিতেই সবচেয়ে বেশি বায়ুমণ্ডলীয় কণা চাঁদের দিকে যায়।

গবেষকরা অ্যাপোলো ১৪ ও ১৭ মিশনে আনা চাঁদের মাটির নমুনার তথ্যের সঙ্গে তাদের ফলাফল মিলিয়ে দেখেছেন। এতে নিশ্চিত হওয়া গেছে, চাঁদের মাটিতে থাকা কিছু কণা সূর্য থেকে নয়, সরাসরি পৃথিবী থেকেই এসেছে।

পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি হয় গ্রহটির তরল বাহ্যিক কেন্দ্রে গলিত লোহা ও নিকেলের চলাচলের ফলে। এই ক্ষেত্র মহাশূন্যে অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে সূর্যের ক্ষতিকর কণাপ্রবাহ থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করে। একই সঙ্গে এটি এক ধরনের লেজের মতো গঠন তৈরি করে, যাকে ম্যাগনেটোটেইল বলা হয়।

পূর্ণিমার সময় চাঁদ কয়েকদিনের জন্য এই ম্যাগনেটোটেইলের ভেতর দিয়ে যায়। তখন পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল থেকে ছিটকে যাওয়া কণা সরাসরি চাঁদের দিকে যাওয়ার সুযোগ পায়। চাঁদের নিজস্ব বায়ুমণ্ডল না থাকায় এসব কণা সেখানে গিয়ে সহজেই মাটির সঙ্গে মিশে যায়।

গবেষকদের মতে, এই প্রক্রিয়া শুধু চাঁদ সম্পর্কে নয়, পৃথিবীর অতীত সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয়। চাঁদের মাটিতে জমে থাকা কণাগুলো পৃথিবীর প্রাচীন বায়ুমণ্ডলের এক ধরনের রাসায়নিক নথি হিসেবে কাজ করতে পারে। পৃথিবীতে জীবনের বিকাশের ইতিহাস বুঝতে এই তথ্য অত্যন্ত মূল্যবান।

জাপানের ওসাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কেনতারো তেরাদা বলেন, পৃথিবী ও চাঁদ শুধু ভৌতভাবে নয়, রাসায়নিকভাবেও একে অপরকে প্রভাবিত করেছে। তার মতে, এই গবেষণা পৃথিবীর ইতিহাস বোঝার ক্ষেত্রে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি যোগ করেছে।

নতুন এই গবেষণা দেখাচ্ছে, পৃথিবী ও চাঁদের সম্পর্ক কেবল মহাজাগতিক দূরত্বের নয়, বরং দীর্ঘ সময়ের এক গভীর উপাদান বিনিময়ের ইতিহাস। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের কণা আজও চাঁদের মাটিতে গিয়ে জমা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে চাঁদে গবেষণা ও মানব বসতির সম্ভাবনাকে আরও বাস্তবসম্মত করে তুলতে পারে। একই সঙ্গে চাঁদের মাটি হয়ে উঠতে পারে পৃথিবীর প্রাচীন পরিবেশ ও জীবনের বিকাশ বোঝার এক অনন্য দলিল।

সূত্র : CNN

ফরিদপুরে হামের উপসর্গ নিয়ে আরেক শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ৩ মে, ২০২৬, ১০:৩০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে হামের উপসর্গ নিয়ে আরেক শিশুর মৃত্যু

ফরিদপুরে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া আরেক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মারা যাওয়া শিশুটির নাম ওজিহা। তার বয়স সাত মাস। সে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার দিগনগর এলাকার বাসিন্দা সবুজ মাতুব্বরের মেয়ে।

শিশুটিকে হামের উপসর্গ নিয়ে শনিবার (০২ মে) রাত সাড়ে আটটার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার (০৩ মে) ভোররাত পাঁচটার দিকে তার মৃত্যু।

ফরিদপুর সিভিল সার্জনের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুরে হামের উপসর্গ নিয়ে এ পর্যন্ত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ১ জানুয়ারি থেকে ৩ মে পর্যন্ত চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোট নয়জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ ও মাদারীপুরে দুইজন করে ছয়জন এবং রাজবাড়ী, যশোর ও মাগুরার একজন করে মোট তিনজন রয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুরের সিভিল সার্জন মাহমুদুল হাসান জানান, ৭ মাস বয়সী শিশু ওজিহা ভর্তির সময়ই তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। তার নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকার মহাখালীর রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে (আইইডিসিআর) পাঠানো হলেও ফলাফল আসার আগেই শিশুটি মারা যায়।

গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল শনিবার সকাল ৮টা থেকে আজ রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত) নতুন করে ২৬ জন রোগী হামের উপসর্গ নিয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে নতুন ২৬ রোগীসহ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৮০ জন এবং ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ১২ জন শিশুসহ মোট ৩০ শিশুর চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গত ১ জানুয়ারি থেকে আজ রোববার পর্যন্ত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫৫২ জন শিশু ও ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ২০২ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে।

মুক্ত গণমাধ্যম দিবসেই ফরিদপুর মেডিকেলে সাংবাদিকদের সংবাদ সংগ্রহের কাজে বাধা!

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ৩ মে, ২০২৬, ১০:০২ অপরাহ্ণ
মুক্ত গণমাধ্যম দিবসেই ফরিদপুর মেডিকেলে সাংবাদিকদের সংবাদ সংগ্রহের কাজে বাধা!

মুক্ত গণমাধ্যম দিবসের দিনই ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ফমেক)-এ সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে বাধার মুখে পড়েছেন দুই সাংবাদিক। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণ ও ছবি তোলা যাবে না—এমন দাবি তুলে তাদের কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়। তবে এ সংক্রান্ত কোনো লিখিত নির্দেশনা বা নোটিশ দেখাতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক মহল, সচেতন নাগরিক সমাজ ও বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা ছড়িয়ে পড়েছে।

রোববার (৩ মে) দুপুর ২টার দিকে হাসপাতালের নতুন ভবনের ক্যাজুয়ালটি ও নিউরোসার্জারি ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা হলেন—দৈনিক আজকের পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি হাসান মাতুব্বর (শ্রাবণ) এবং একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের ক্যামেরাপারসন।

সাংবাদিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ফরিদপুর সদর উপজেলার একটি ঘটনার ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে তারা হাসপাতালে যান। আহত ব্যক্তির ভিডিও ও ছবি ধারণ করতে গেলে এক আনসার সদস্য তাদের বাধা দেন এবং দায়িত্বরত এক চিকিৎসককে ডেকে আনেন। পরে নিজেকে রেজিস্ট্রার পরিচয় দিয়ে ডা. তোফাজ্জেল হোসেন জানান, হাসপাতাল এলাকায় কোনো ভিডিও ধারণ করতে হলে কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি নিতে হবে।

সাংবাদিকরা জানান, তারা কর্তৃপক্ষের অনুমতির বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালের পরিচালক ঢাকায় অবস্থান করছেন বলে জানানো হয়। পরে উপপরিচালক ডা. মানব কৃষ্ণ কুন্ডুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনিও অনুমতি দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন এবং পরিচালক ছাড়া এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানান।

একজন সাংবাদিক বলেন, “আমরা রোগীর পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয়। এমনকি আমাদের বলা হয়—কর্তৃপক্ষ না থাকলে এসে কাজ করতে। এতে আমাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে গুরুতর বাধার সৃষ্টি হয়।”

এ বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক ডা. হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অন্যদিকে, সরকারি হাসপাতালে সাংবাদিকদের কাজের ক্ষেত্রে কোনো বাধ্যতামূলক অনুমতির নিয়ম আছে কি না জানতে চাইলে ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহামুদুল হাসান বলেন, “আমার জানা মতে সংবাদ সংগ্রহের ক্ষেত্রে এমন কোনো নির্দেশনা নেই। তবে গবেষণা বা তথ্য সংগ্রহের জন্য আলাদা অনুমতির প্রয়োজন হতে পারে।”

ঘটনার পরপরই সাংবাদিক সমাজে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি ও জিটিভির জেলা প্রতিনিধি শেখ মনির হোসেন বলেন, “এভাবে অনুমতির নামে বাধা সৃষ্টি করলে সংবাদ সংগ্রহ ব্যাহত হবে। হাসপাতাল কোনো গোপনীয় প্রতিষ্ঠান নয়—এটি জনসেবামূলক একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা, যেখানে প্রতিনিয়ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে।”

ফরিদপুর নাগরিক মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক প্রবীর কান্তি বালা বলেন, “সাংবাদিকতা একটি স্বাধীন পেশা। যেখানে অন্যায়, অনিয়ম বা দুর্নীতি—সেখানেই আলোকপাত করা সাংবাদিকদের দায়িত্ব। হাসপাতালে সাংবাদিকদের কাজ করতে না দেওয়া সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।”

সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) ফরিদপুরের সভাপতি অধ্যাপিকা শিপ্রা রায়ও এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত না হলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ব্যাহত হবে। এমন বাধা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।”

ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. কবিরুল ইসলাম সিদ্দিকী অবিলম্বে এ ধরনের অনানুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বলেন, “এটি মুক্ত সাংবাদিকতার পথে স্পষ্ট বাধা। কোনো প্রকার ‘অঘোষিত আইন’ করে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করা যাবে না।”

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে সংবিধান অনুযায়ী মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা স্বীকৃত। জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে তথ্য সংগ্রহ ও প্রচার সাংবাদিকদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে রোগীর গোপনীয়তা ও মানবিক দিক বিবেচনায় সতর্কতা অবলম্বনের কথাও বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন।

এ ঘটনায় দ্রুত তদন্ত ও সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের বিভ্রান্তি ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয়।

১৬ বছর পর ফিরল চ্যানেল ওয়ান, প্রস্তুতিতে আরও তিন চ্যানেল

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩ মে, ২০২৬, ৭:৩৬ অপরাহ্ণ
১৬ বছর পর ফিরল চ্যানেল ওয়ান, প্রস্তুতিতে আরও তিন চ্যানেল

১৬ বছর পর পুনঃসম্প্রচারে এসেছে চ্যানেল ওয়ান। আবারও ফেরার প্রস্তুতি চলছে বন্ধ হওয়া বাকি তিন চ্যানেল- সিএসবি নিউজ, দিগন্ত টিভি ও ইসলামিক টিভির। এর মধ্যে প্রস্তুতিতে সবচেয়ে এগিয়ে ইসলামিক টিভি। তবে, তিনটি প্রতিষ্ঠানেরই শিগগির ফেরার আশা।

এর আগে, ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে তৈরি হওয়া উত্তেজনায় তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের নির্দেশে মধ্যরাতে অ্যাকশনে যায় প্রশাসন। মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের হিসাবে এতে নিহত হন অন্তত ৬১ জন। আর ২০২৫ সালের ৪ মে ৯৩ জনের তালিকা দেয় হেফাজতে ইসলাম।

ওই রাতে একসঙ্গে দিগন্ত ও ইসলামিক টেলিভিশনের সম্প্রচার বন্ধ করে দেয় শেখ হাসিনার সরকার। এতে বেকার হয়ে পড়েন হাজারও কর্মী, যাদের অনেকেই আর কোথাও চাকরি পাননি।

ইসলামিক টিভির হেড অব অপারেশন শাহজানুল ইসলাম পলাশ বলেন, ‘আমার চৌকশ ক্যামেরা ম্যান আমাকে ফোন দিয়ে বলেছে, স্যার কোথাও চাকরি তো হলো না, তাই কারওয়ান বাজার থেকে কলা কিনে ফুটপাতে বিক্রি করছি।’

তারও আগে ২০০৭ সালের ৬ সেপ্টেম্বর দেশের প্রথম সংবাদ ভিত্তিক টিভি সিএসবি নিউজ বন্ধ করে দেয় সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার। ২০১০ সালের ২৭ এপ্রিল চ্যানেল ওয়ানের সম্প্রচার বন্ধ করে আওয়ামী লীগ সরকার।

তবে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর বন্ধ চ্যানেল চারটির স্থগিতাদেশ তুলে নেয় ড. ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। যেই তারিখে বন্ধ হয়েছিল চ্যানেল ওয়ান, সেই ২৭ এপ্রিলেই ফেরত আসে তারা।

চ্যানেল ওয়ান নিউজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গিয়াসউদ্দিন আল মামুন বলেন, ‘ছাইভস্ম থেকে আবার তৈরি করতে হয়েছে। চেষ্টা করেছি, কষ্ট হয়েছে। সবকিছু মিলে সবচেয়ে বড় অবদান হলো আমাদের টিমের। শুধু সংবাদমাধ্যম নয়, যেকোনো প্রতিষ্ঠানের ওপরে কখনই এমন খড়গ চালানো উচিত নয়। কারণ প্রত্যেকটা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেই প্রচুর মানুষ জড়িয়ে থাকে।’

সিএসবি নিউজের কর্ণধার ফাইয়াজ কাদের চৌধুরী জানান, তারাও সম্প্রচার বন্ধের দিনই ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অর্থাৎ, ৬ সেপ্টেম্বরকে টার্গেট করে এগুচ্ছেন তারা।

ইসলামিক টিভির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুনঃসম্প্রচারের জন্য প্রস্তুতি শুরু করেছেন তারা। ইতোমধ্যে ৩০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

ইসলামিক টিভির হেড অব অপারেশন শাহজানুল ইসলাম পলাশ বলেন, ‘গত রমজানে অর্থাৎ ফেব্রুয়ারিতে প্রথম রমজানে আমরা সফট লঞ্জে অন এয়ারে চলে এসেছি। আমাদের ডিস্ট্রিবিউশনটা খুব একটা স্ট্রংভাবে করা হয়নি। তারপরেও অলমোস্ট বাংলাদেশের ৪০-৪৫% জায়গায় এখন ইসলামি টিভি দেখা যায়। আমরা এখন খুব বেশি মনোযোগ দিচ্ছি আমাদের কনটেন্টে।’

আগামী ৬ মাসের মধ্যে দিগন্ত টিভি পুনঃসম্প্রচার আসছে, এই লক্ষ্যে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন দিগন্ত মিডিয়া করপোরেশনের চেয়ারম্যান।

দিগন্ত মিডিয়া করপোরেশনের চেয়ারম্যান শিব্বির আহমেদ বলেন, ‘আমি বলবো না যে এটা বন্ধ আছে, খুলবে না। আবার বলতে পারিনা যে কালকে খুলবে। তবে ইন প্রসেস। সবাই চায় এটা ওপেন হোক।’

যদিও এই শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, দিগন্তের নীতিনির্ধারকদের মাঝে এখনও বেশকিছু জটিলতা রয়ে গেছে।

সূত্র : স্টার নিউজ