খুঁজুন
বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ২৩ বৈশাখ, ১৪৩৩

সংকট কাটেনি, অর্থনীতি এখনো শ্বাসকষ্টে

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ১০:২৩ পূর্বাহ্ণ
সংকট কাটেনি, অর্থনীতি এখনো শ্বাসকষ্টে

দেশের রাজনীতি এখন গরম। দেশজুড়ে নির্বাচনী আবহ। সবাই অপেক্ষা করছে একটি রাজনৈতিক সরকারের। সবারই আশা, নতুন সরকার এলে সবার মধ্যে আস্থা ফিরবে।

ব্যবসায়ী-বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ কৌশল নিতে পারবেন।
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী সরকারের সময় থেকে বিপর্যস্ত অর্থনীতি বহু আকাঙ্ক্ষার অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও গতিশীল না হওয়ায় সার্বিক অর্থনীতি মন্দার কবলে পড়ে। ফলে অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যিক পরিস্থিতিকে অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তারা কখনো বলেন আইসিউতে আছে; কখনো বলেন (রপ্তানি ও রেমিট্যান্স ভালো থাকায়) ‘হৃৎপিণ্ড’ সচল, কিন্তু কিডনি ও লিভার (ব্যাংকিং খাত ভঙ্গুর ও রাজস্ব ঘাটতি) অকেজো। কর-জিডিপি অনুপাত কম থাকায় (১০ শতাংশের নিচে থাকলে) এমন অর্থনীতিকে কেউ কেউ ‘আর্থিক রক্তশূন্যতা’ও বলছেন।

সব মিলিয়ে বিনিয়োগ মন্দা, বড় রাজস্ব ঘাটতি, বেকারত্ব, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, উচ্চ সুদের হার, অদক্ষ এডিপি বাস্তবায়ন ও হতাশাজনক জিডিপি প্রবৃদ্ধি হারের কারণে একে অনেকে ‘মুমূর্ষু’ রোগীর সঙ্গেও তুলনা করছেন। তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ, ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদদের সঙ্গে কথা বলে দেশের অর্থনীতি সম্পর্কে এমন চিত্রই পাওয়া গেছে।

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় থেকেই অর্থনীতি বেশ চাপের মুখে। ৪৮ বিলিয়ন ডলারের ঘরে পৌঁছে যাওয়া রিজার্ভ কমতে কমতে ২১ বিলিয়নে এসে থামে।

৮৬ টাকার ডলার কিনতে হচ্ছে ১২৪-১২৫ টাকায়। মূল্যস্ফীতি দুই অঙ্কের ঘর ছাড়িয়ে যায়। সেটিকে অন্তর্বর্তী সরকার এসে কমানোর জন্য দফায় দফায় সুদের হার বাড়িয়ে ১৪-১৬ শতাংশে নিয়ে গেছে। মূল্যস্ফীতি সামান্য কমে এলেও তা অসহনীয় মাত্রায় রয়েছে। আর ডিসেম্বরে এসে তা আবারও বেড়ে ৮.৪৯ শতাংশে পৌঁছে।
অথচ মজুরি সে হারে বাড়ছে না। মজুরি বাড়ছে ৮.০৮ শতাংশ হারে। অথচ মজুরি বাড়ার কথা ছিল মূল্যস্ফীতির হারের চেয়ে বেশি হারে। এই মূল্যস্ফীতি সহনীয় করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হারকে অনেক উঁচুতে নিয়ে গেছে।

এর ফলে হয়েছে বিনিয়োগহীন মূল্যস্ফীতি। যাকে অর্থনীতির ভাষায় ‘স্ট্যাগফ্লেশন’ বা স্থবিরতা বলা হয়। এ সময় অর্থনীতি উচ্চমূল্যস্ফীতি থাকে। বিনিয়োগ থাকে না। আবার বেকারত্বও থাকে। এসবই এখন বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিদ্যমান।

বেসরকারি খাতে বর্তমানে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৬.৫৮ শতাংশ, যা অনেক কম। এর মানে হলো, কেন্দ্রীয় ব্যাংক বেশি সুদ আরোপ করে বাজারে টাকার প্রবাহ কমিয়ে রেখেছে। এর ফলে কেউ ঋণ নিতে পারছে না। কাঙ্ক্ষিত ঋণ না পাওয়ায় নতুন ব্যবসা বা কারখানা স্থাপন করা যাচ্ছে না। পুরনো ব্যবসারও সম্প্রসারণ থমকে আছে। এতে মানুষের কাজের সুযোগ কমে যাচ্ছে। আবার নতুন নতুন বেকারও হচ্ছে। বর্তমানে অর্থনীতিতে বেকারত্ব বাড়ছে। প্রতিদিনই কেউ না কেউ বেকার হচ্ছে। প্রতিদিনই কোনো না কোনো কারখানা বন্ধ হচ্ছে।

সর্বশেষ একটি তথ্য পর্যালোচনা করে জানা যায়, শুধু ঢাকার পার্শ্ববর্তী গাজীপুর ও সাভার শিল্পাঞ্চলে ৩২৭টি কারখানা বন্ধ হয়েছে। এখানে বেকার হয়েছে প্রায় দেড় লাখ মানুষ। একদিন আগে ইন্টারন্যাশনাল চেম্বারের একটি সেমিনারে রপ্তানিকারক ও ব্যবসায়ী নেতা এ কে আজাদ জানিয়েছে, ১২ লাখ মানুষ নতুন করে বেকার হয়েছে। আর আগামী ছয় মাসে আরো ১২ লাখ মানুষ বেকার হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এই চিত্র থেকেই বোঝা যাচ্ছে, বেসরকারি খাত কিভাবে ধুঁকছে। দেশি বিনিয়োগকারীরা তো বিনিয়োগ করতে পারছেনই না, বিদেশি বিনিয়োগও আসছে না। সরকারের সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরের হিসাবেও দেখা যাচ্ছে, বিদেশি বিনিয়োগ আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৫৮ শতাংশ কমেছে। বেসরকারি খাতে এমন অবস্থা চলছে অথচ সরকারি খাত ঠিকই ব্যাংকের টাকা নিয়ে খরচ মেটাচ্ছে। সরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি এখন ২৩ শতাংশ। যখন বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ হয় না, উল্টো সরকার ব্যাংকের টাকা নিজে নিয়ে খরচ করে, তখন মূল্যস্ফীতি কমানোর যে কিতাবি কথা সেটিও কাজ করে না।

অর্থনীতির ভাষায় এটিকে বলে ‘ক্রাউডিং আউট ইফেক্ট’। এর অর্থ হলো-একদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির কথা বলে বাজারে টাকার প্রবাহ কমাতে চায়, আবার বাজেট ঘাটতি মেটাতে ব্যাংকের টাকা ঋণ নিয়ে খরচ করছে। অর্থাৎ ব্যাংকের টাকা সরকার নিয়ে নেওয়ায় বেসরকারি খাত টাকা পাচ্ছে না।

বলা যায়, বিনিয়োগে স্থবিরতা। এটি যখন হয়, তখন অর্থনীতিতে নানামুখী সংকট দেখা দেয়। এর ফলে কম্পানি ও ব্যক্তির আয় কমে। এতে রাজস্ব আয়ও কমে। যেটি এখন দেখা যাচ্ছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে রাজস্ব ঘাটতি ৪৬ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। আদায় করার কথা ছিল দুই লাখ ৩১ হাজার ২০৫ কোটি টাকা। আদায় হয়েছে এক লাখ ৮৫ হাজার ২২৯ কোটি টাকা। সরকারের রাজস্ব আয়ে বড় ঘাটতি হওয়ার কারণেই সরকারকে ঋণ নিয়ে খরচ মেটাতে হচ্ছে। তহবিল সংকটে এডিপি বাস্তবায়নও থমকে আছে। প্রকল্পে অগ্রগতি নেই। বরাদ্দে কাটছাঁট চলছে। অর্থবছরের ছয় মাসে এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে ১৭.৫৪ শতাংশ, যা গত দুই দশকের মধ্যে সবনিম্ন। এডিপি ঠিকমতো বাস্তবায়ন না হলে প্রবৃদ্ধি থমকে যায়। এখন তাই চলছে। এডিপি বাস্তবায়ন না হলে সাধারণ মানুষেরও আয় কমে, সরকারেরও রাজস্ব আয় কমে।

সরকারের আয় মানে কর-জিডিপি অনুপাত কম হলে সরকারের বিনিয়োগও কমে। কর-জিডিপি ১০ শতাংশে থাকতে হয়। বাংলাদেশে আছে ৮ শতাংশের নিচে। এটির অর্থ হলো-সরকারের পক্ষে বড় উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া কিংবা সামাজিক নিরাপত্তায় বড় কোনো বিনিয়োগ সক্ষমতা কমে যাওয়া। সেটিই এখন ঘটছে বাংলাদেশে। এটিকেই অর্থনীতিবিদরা ‘রাজস্বের রক্তশূন্যতা’ বলছেন।

ব্যাংকিং খাতের ভঙ্গুরতা কাটানো যায়নি। এ খাতে খেলাপি ঋণকে ‘ক্যান্সার’ বলা হচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, খেলাপি ঋণ যখন ১৭-২০ শতাংশ হয় এবং কিছু ব্যাংক আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে পারে না, তখন সেই অর্থনীতিকে সুস্থ বলা কঠিন।

বাংলাদেশে টাকা না দিতে পারা পাঁচটি ব্যাংককে মার্জ করা হয়েছে। এর ভুল বার্তাও গেছে। বিদেশি ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, বাংলাদেশের ব্যাংক খাত শেষ। এখানে লেনদেন করা ঝুঁকিপূর্ণ। সামনে আরো কিছু আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে মার্জ করার কথা বলা হচ্ছে। এমনকি কয়েকটি রেখে সব ব্যাংক বন্ধ করে দেওয়ার মতো কথাও শোনা যাচ্ছে। এসবই ব্যাংকিং খাতের নাজুক অবস্থা নির্দেশ করছে। আর এটি ইমজে সংকট বাড়িয়ে দিচ্ছে।

ব্যবসায়ীদের কাছে তারল্য ও জ্বালানি হচ্ছে ‘অক্সিজেন’। এই দুটির সংকটকে তাঁরা ‘শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা’ বলছেন। এখন তারল্য ও জ্বালানি সংকট চলছে। ব্যবসায়ীদের মতে, একটি কারখানার জন্য বিদ্যুৎ ও গ্যাস হলো অক্সিজেন। বর্তমানে গ্যাসসংকটে অনেক শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা ৩০ থেকে ৪০ শতাংশে নেমে এসেছে। উৎপাদন না থাকলে ব্যাংকঋণ শোধ করা কঠিন হয়ে যায়। তখন অর্থনীতি নাজুক হয়ে যায়। যাকে তাঁদের কেউ কেউ ‘মুমূর্ষু’ অবস্থার সঙ্গে তুলনা করছেন।

গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘দেশের অর্থনীতি এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ব্যাংকিং খাতের ভঙ্গুরতা এবং বিনিয়োগ মন্দা মিলে একটি শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। এই সংকটের মূলে রয়েছে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা এবং রাজনৈতিক প্রশ্রয়ে গড়ে ওঠা লুটপাটের সংস্কৃতি। কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রা সরবরাহ কমানোর জন্য সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি গ্রহণ করলেও বাজার ব্যবস্থাপনার ত্রুটি ও শক্তিশালী সিন্ডিকেটের কারণে এর সুফল সাধারণ মানুষ পাচ্ছে না।

অন্যদিকে সুদের হার বৃদ্ধির ফলে ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তারা ঋণ নিতে হিমশিম খাচ্ছেন, যা বেসরকারি খাতের বিনিয়োগকে স্থবির করে দিয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্যের এই মন্দা অবস্থার কারণে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে না। ব্যবসায়ীরা এখন বিনিয়োগের চেয়ে টিকে থাকার লড়াই করছেন বেশি। কারণ জ্বালানি সংকটের কারণে কারখানার উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে এবং আমদানির ক্ষেত্রে ডলার সংকটের ধকল এখনো পুরোপুরি কাটেনি।’

কোনো কোনো ব্যবসায়ী অর্থনীতির এই পরিস্থিতিকে যেহেতু স্টাগফ্লেশন বা স্থবিরতার সঙ্গে তুলনা করছেন, তার মানে হলো—এটি অর্থনীতির সবচেয়ে খারাপ অবস্থাগুলোর একটি। এমন অবস্থায় মানুষ ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নেয়। শেয়ারবাজার থেকেও মুখ ফিরিয়ে নেয়। বর্তমানে শেয়ারবাজার একেবারে নড়বড়ে অবস্থায়। লেনদেন দুই হাজার কোটি থেকে ৫০০ কোটির ঘরে নেমে এসেছে। সূচক ৫৭০০ পয়েন্ট থেকে ৫০০০ পয়েন্টের নিচে চলে এসেছে। আর এ রকম একটি অবস্থাকেও ব্যবসায়ীরা ‘মুমূর্ষু’ অবস্থা বলছেন।

রপ্তানি খাতের উদ্যোক্তা ও নিট খাতের সংগঠন বিকেএমইএর সাবেক প্রেসিডেন্ট ফজলুল হক বলেন, ‘সরকারের কাজের কোনো যৌক্তিকতা খুঁজে পাই না। যখন দেখি ৪৫ বছরের মধ্যে রাজস্ব বাজেটে ঘাটতির সময় আমলাদের বেতন দ্বিগুণ বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হয়। এটা কিভাবে করেন তাঁরা? সমালোচনার পর সরে এসেছেন। কিন্তু চাপটা রেখে যাবেন পরের সরকারের জন্য। যদি পরের সরকারের ওপরই রেখে দেবেন, তাহলে মৌমাছির চাকে কেন ঢিল দিলেন? টাকাটা কোথা থেকে আসবে? সবকিছু অপরিকল্পিত। আশা করেছিলাম, এ সরকার অর্থনীতিটাকে ভালো করবে। কিছুই হলো না। রেমিট্যান্স ছাড়া সব খারাপ। কবে ভালো হবে জানি না। রপ্তানিও এখন চ্যালেঞ্জে। এর মধ্যে আবার সুতা আমদানিতে ৪০ শতাংশ বেশি শুল্ক আরোপের কথা বলা হচ্ছে। অদ্ভুত সব ব্যাপার!’

তথ্য-উপাত্ত বলছে, ২০২৬ সালে এসেও অর্থনীতি একটি জটিল পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সরকার অভ্যন্তরীণ ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে। রাজস্ব আয়ে মন্দার কারণে প্রচুর ঋণ করছে। বর্তমানে মোট সরকারি ঋণের পরিমাণ জিডিপির প্রায় ৩৭ শতাংশে পৌঁছেছে। রপ্তানি আয় ভালো অবস্থায় থাকলেও সেটিও গত তিন মাস ধরে টানা কমছে। ডিসেম্বরে প্রবৃদ্ধি কমেছে ১৪ শতাংশ। রপ্তানিকারকরা বলছেন, মার্কিন শুল্কের প্রভাব রয়েছে। এখন নতুন করে সুতা আমদানিতে ৪০ শতাংশ বেশি শুল্ক আরোপের কথা বলা হচ্ছে। এটি বাস্তবায়ন করলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে।

অর্থনীতির স্লথগতির প্রভাব পড়েছে শ্রমবাজারে। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে ২০২৩ সালের তুলনায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কর্মসংস্থান কমেছে প্রায় ২০ লাখ। বর্তমানে বেকারত্বের হার বৃদ্ধি পেয়ে ৪.৭ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশের ঘরে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে।

সাধারণ বিনিয়োগকারীরা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতেন। সেটিও এখন নাজুক। বিশেষ করে ফ্লোরপ্রাইস’ তুলে দেওয়ার পর থেকে অনেক শেয়ারের দর ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত পতন হয়েছে। যার ফলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা নিঃস্ব রয়েছেন। সাংঘর্ষিক নীতি, আস্থাহীনতা আর কারসাজির ভয়ে বিনিয়োগকারীরা পুঁজিবাজারের চেয়ে ব্যাংকে টাকা রেখে ১১ থেকে ১২ শতাংশ মুনাফা তুলবেন-সেটিকেই মন্দের ভালো বলে মেনে নিচ্ছেন।

অর্থনীতিবিদ ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, “বাংলাদেশের অর্থনীতিকে এই ‘সংকট’ অবস্থা থেকে টেনে তুলতে হলে আমূল এবং গুণগত সংস্কারের ওপর জোর দিতে হবে। রাজস্ব আদায়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি না পাওয়ায় সরকারকে বাজেট ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে হচ্ছে, যা বেসরকারি খাতের জন্য ঋণের প্রবাহ আরো কমিয়ে দিচ্ছে। এই দুষ্টচক্র থেকে বের হতে হলে ব্যাংকিং খাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, এনবিআরের আমূল সংস্কার এবং তথ্যের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। বাংলাদেশের অর্থনীতির হৃৎপিণ্ড এখনো সচল থাকলেও এর প্রধান অঙ্গগুলো অকেজো হয়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে, যার নিরাময় কেবল রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং আপসহীন সংস্কারের মাধ্যমেই সম্ভব।”

সূত্র: কালের কণ্ঠ

সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ভাঙ্গার প্রবাসী যুবকের মৃত্যু, ঈদের আগেই নিভে গেল স্বপ্ন

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৭:৫৩ পূর্বাহ্ণ
সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ভাঙ্গার প্রবাসী যুবকের মৃত্যু, ঈদের আগেই নিভে গেল স্বপ্ন

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার শাওন মির্জা নামে এক প্রবাসী যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তিনি ভাঙ্গা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের নওপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং সাবেক পুলিশ সদস্য মরহুম জাহিদ মির্জার একমাত্র ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (০৩ মে) রাতে কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে মোটরসাইকেল চালানোর সময় দুর্ঘটনার শিকার হন শাওন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে তাকে একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকালে তার মৃত্যু হয়।

শাওন মির্জা তিন বোনের মধ্যে একমাত্র ভাই ছিলেন। জীবিকার তাগিদে দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন তিনি। আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে তার দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু সেই প্রত্যাশা অপূর্ণ রেখেই তিনি চিরবিদায় নিলেন।
তার আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবার-পরিজন ও স্বজনদের মাঝে চলছে শোকের মাতম।

এদিকে, নিহতের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন পরিবার ও স্থানীয়রা।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভাঙ্গা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার জহুরুল হক মিঠু।

ভাঙ্গায় দুই অটোরিকশা সংঘর্ষে আহত যুবকের মৃত্যু

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৭:২৫ পূর্বাহ্ণ
ভাঙ্গায় দুই অটোরিকশা সংঘর্ষে আহত যুবকের মৃত্যু

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় দুই অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে গুরুতর আহত শাহ আলম ফকির (৩৫) অবশেষে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

দুর্ঘটনার তিনদিন পর মঙ্গলবার (৫ মে) রাত ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

নিহত শাহ আলম ফকির ভাঙ্গা উপজেলার আজিমনগর ইউনিয়নের আজিমনগর গ্রামের বাসিন্দা এবং মৃত আব্দুর রব ফকিরের ছেলে। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২ মে রাত আনুমানিক ৯টার দিকে বাড়ি ফেরার পথে আজিমনগর বাজার এলাকায় দুইটি অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে অন্তত পাঁচজন যাত্রী আহত হন। আহতদের মধ্যে শাহ আলমের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় প্রথমে তাকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

তিনদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে তিনি না ফেরার দেশে চলে যান। তার মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে আহাজারি, স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ।

এ বিষয়ে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়টি পুলিশ অবগত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে বিজেপির জয় নিয়ে কী ভাবছে বাংলাদেশের দলগুলো?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৭:০৯ পূর্বাহ্ণ
পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে বিজেপির জয় নিয়ে কী ভাবছে বাংলাদেশের দলগুলো?

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয় নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা ও নানামুখী বিশ্লেষণ চলছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরে।

বিশেষ করে প্রায় দেড় দশক পর মমতা ব্যানার্জীর রাজ্যের ক্ষমতা থেকে বিদায় এবং প্রথমবারের মতো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিজেপি পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় আসার প্রভাব কেমন হবে তা নিয়ে কৌতূহল আছে অনেকের মধ্যে।

একই সঙ্গে তিস্তা নদীর পানি বণ্টন, সীমান্ত ইস্যু ও পুশ-ইন কিংবা পুশ ব্যাক ইস্যুর মতো দ্বিপাক্ষিক ইস্যুগুলোতে এখন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের ভূমিকা কেমন হবে- তা নিয়েও আলোচনা, কৌতূহল ও উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন দলের মধ্যে।

নির্বাচনের আগে কিছু ভারতীয় নেতার বাংলাদেশ নিয়ে করা বিভিন্ন মন্তব্য নিয়ে উদ্বেগ আছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে। পাশাপাশি বাংলাদেশি তকমা দিয়ে ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা আরও বেড়ে যায় কি-না সেই উদ্বেগও আছে অনেকের মধ্যে।

কোনো কোনো দল বলছে, নির্বাচনের আগে বিজেপি নেতাদের কেউ কেউ বাংলাদেশ নিয়ে কিছু মন্তব্য করেছেন যেগুলো তাদের মতে দুই দেশের সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর।

বাংলাদেশ সরকারের দিক থেকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতায় যে-ই আসুক, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কে কোনো প্রভাব পড়বে না।

ওদিকে পশ্চিমবঙ্গের এই নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফলে বড় ব্যবধানে মমতা ব্যানার্জীর তৃণমূল কংগ্রেসকে হটিয়ে বিজয়ী হয়েছে বিজেপি। এমনকি বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে হেরে গেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী।

দলগুলো যা বলছে

বাংলাদেশে ২০২৪ সালের অগাস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ভারতের সাথে সম্পর্কে চরম টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, যা এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।

এর আগে থেকেই বাংলাদেশের কিছু রাজনৈতিক দল সবসময়ই ভারতের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ওপর কর্তৃত্ব তৈরির অভিযোগ করে আসছে।

এমনকি শেখ হাসিনা সরকার বিরুদ্ধে আন্দোলনেও এর প্রতিফলন দেখা গেছে। ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’-এমন শ্লোগানও শোনা গেছে ঢাকার রাস্তায়।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার বিভিন্ন ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের আরও অবনতি হয় এবং এর জের ধরে ভারতে বাংলাদেশ মিশনে হামলার ঘটনাও ঘটেছিল ।

ভারতের পণ্য বয়কটের ডাক, ঢাকায় ভারতীয় দূতাবাসের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে হামলা, বাংলাদেশে ভারতের ভিসা কার্যক্রম কার্যত বন্ধ করে দেওয়া, বিভিন্ন বাণিজ্য সুবিধা তুলে নেওয়া , ভারতে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের খেলতে না যাওয়া- এমন অনেক ঘটনায় দুই দেশের সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকেছিল অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে।

যদিও বাংলাদেশে ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনের পর সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য উভয় দেশের সরকারের দিক থেকেই দৃশ্যমান চেষ্টা দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান দিল্লি সফর করে এসেছেন।

ওই সফরের আগে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “এটা হচ্ছে একটা নিউ সম্পর্ক বিটুইন বাংলাদেশ অ্যান্ড ইন্ডিয়া”।

এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভারতের সাথে সবচেয়ে ভালো সম্পর্ক ছিল বলে মনে করা হলেও ওই সময়ে তিস্তা নদীর পানি ইস্যুটির সমাধান করা যায়নি মূলত পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর অবস্থানের কারণে। তিনি প্রকাশ্যেই এর বিরোধিতা করেছিলেন।

আবার এবারের নির্বাচনের আগে বিভিন্ন সময়ে ভারতের বেশ কয়েকজন বিজেপি নেতা বাংলাদেশ সম্পর্কে যেসব মন্তব্য করেছেন সেগুলোও এদেশে প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে বলে অনেকে মনে করেন।

এমন প্রেক্ষাপটে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের ফল কোন দিকে যায় সেদিকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোরও দৃষ্টি ছিল।

“নির্বাচনের আগে বিভিন্ন সময়ে সেখানকার কিছু নেতা বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের জনগণ নিয়ে উদ্বেগজনক মন্তব্য করেছেন, যা দুঃখজনক। পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে আমাদের বড় সীমান্ত আছে এবং সম্পর্কের মাত্রা বহুমাত্রিক। এর মধ্যে এ ধরনের মন্তব্য সামনেও আসতে থাকলে সেটি এদেশেও প্রভাব ফেলতে পারে,” বলছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ।

তিনি বলেন, “আমরা আগে থেকেই পর্যবেক্ষণ করছিলাম। নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসকে হারানোর জন্য বিজেপি অগণতান্ত্রিক চেষ্টা করছে এমন অভিযোগ ভারতীয় সংবাদমাধ্যমেই আমরা দেখেছি। ভোটার তালিকাকে টার্গেট করে তারা যা করেছে সেটিকেও গণতান্ত্রিক মনে হয়নি”।

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলছেন, বাংলাদেশের রাজনীতিকে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের প্রভাব পড়বে না এবং বাংলাদেশের উগ্রবাদীদের উৎসাহিত হবার আশঙ্কা তারাও খুব একটা দেখছে না।

“তবে তাদের হিন্দুত্ববাদীতা, সাম্প্রদায়িকতা ও উগ্রবাদীতা আমাদের উদ্বেগের বড় কারণ। তাদের রাষ্ট্রের যে আদর্শ ধর্মনিরপেক্ষতা সেটিই তারাই তো মানছে না। মুসলিমের ওপর যে নিগ্রহ সেটি তো সব দেখা যায় না। ভারত ধর্মনিরপেক্ষ থাকলে তো অন্য ধর্মের লোকেরা নিরাপদে থাকতো”।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “ভারতের রাষ্ট্র ও সরকারের সহায়তা নিয়েই তো আওয়ামী লীগ শক্তি সঞ্চয় করেছিল এবং শেখ হাসিনা তাদের প্রশ্রয়েই আছেন। বিজেপি সরকার তো তাকে সহায়তা করছে। এখন তারা আরও শেল্টার পেয়ে ষড়যন্ত্র বাড়াতে পারে”।

তবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়ার যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলছেন, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন একেবারেই ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং সেখানকার মানুষ ভোটের মাধ্যমে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকারের চর্চা করেছে।

“তবে নিকটতম প্রতিবেশী হিসেবে দুই দেশের সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা মনে করি যারাই ক্ষমতায় থাকুক দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে যাবে এবং এ থেকে মানুষ উপকৃত হবে। পারস্পারিক ন্যায়পরায়ণতার ভিত্তিতে নিশ্চয়ই দুই দেশ সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিবে,” বলেছেন তিনি।

কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলছেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের মধ্য দিয়ে একটি সাম্প্রদায়িক শক্তি ক্ষমতায় এলো এবং এটিও সত্যি যে একই ধরনের সাম্প্রদায়িক শক্তি বাংলাদেশেও আছে।

“বৈশ্বিক রাজনীতি বিশ্লেষণ করলে বোঝা যাবে ভারতবর্ষের রাজনীতিও একই সংকটে নিপতিত। সেখানে যারাই ক্ষমতায় আসুক বা থাকুক তাতে সংকটের সমাধান হবে না কারণ তারা সবাই বুর্জোয়া ও কর্পোরেট শক্তির ধারক বাহক। তবে আমি বিশ্বাস করি দুই দেশের সাধারণ মানুষ গণতন্ত্র ও অসাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতেই সমাজকে এগিয়ে নিবে,” বলেছেন তিনি।

ওদিকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারে যেই থাকুক না কেন, অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধানে বাংলাদেশে একই দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, যেই সরকার আসুক না কেন বা থাকুক না কেন, তাদের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে সমাধান করতে হবে।

“ভারতে যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক না কেন, আমাদের সাথে ইস্যুগুলা কিন্তু রয়েই যায়। ওগুলোতো আমাদের অবশ্যই ডিল করতে হবে,” বলেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।

সূত্র : বিবিসি বাংলা