খুঁজুন
সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

অর্থনীতি কিছুটা মন্থর হলেও এগোচ্ছে

ড. এস এম জাহাঙ্গীর আলম
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১১:৫৩ পূর্বাহ্ণ
অর্থনীতি কিছুটা মন্থর হলেও এগোচ্ছে

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গৃহীত নানা পদক্ষেপের ফলে দেশের অর্থনীতি এগিয়ে যাচ্ছে। জিডিপির প্রবৃদ্ধির হারও বাড়তে শুরু করেছে। দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকা চড়া মূল্যস্ফীতির হার কমছে। ডলারের বিপরীতে বিনিময় হারেও স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে অর্থনীতি সামনে এগিয়ে যাওয়ারই কথা। অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পালে আরও জোরে হাওয়া লাগার কথা। কিন্তু এসব ক্ষেত্রে ঝুঁকি তৈরি করেছে আগামী জাতীয় নির্বাচন কেন্দ্র করে দেশের অভ্যন্তরে সৃষ্ট রাজনৈতিক ঘটনাবলি ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা। এ দুটি কারণে আগামীতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি কিছুটা স্তিমিত করে দিতে পারে। এতে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির হার অর্জনের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করতে পারে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে কিছুটা মন্থরতা দেখা দিয়েছে। ফলে প্রবৃদ্ধির হার গত অর্থবছরের মাঝামাঝি দুই প্রান্তিকের তুলনায় শেষ প্রান্তিকে কমেছে। গত অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রবৃদ্ধির হার ছিল একেবারে নিম্নে, অর্থাৎ ৩ শতাংশের ঘরে। অক্টোবর-ডিসেম্বরে তা কিছুটা বেড়ে ৪ শতাংশের ঘরে উঠে আসে। জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধির গতি আরও বেড়ে প্রায় ৫ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। গত এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে তা আবার কমে ৩ দশমিক ৩৫ শতাংশে নেমে যায়। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে স্থবিরতার কারণে প্রবৃদ্ধির হার কমেছে। সেবা ও শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধির হার হ্রাস পাওয়ার কারণে এ মন্থরতা দেখা দিয়েছে।

আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ লক্ষ্যে সরকার সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আসন্ন নির্বাচন নিয়ে মতবিরোধ প্রকট আকার ধারণ করেছে। এতে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তেজনাকর হয়ে উঠছে। সংকটের সমাধান না হলে উত্তপ্ত পরিস্থিতি রাজপথে গড়াতে পারে বলেও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আর রাজনীতির কারণে রাজপথ উত্তপ্ত হলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হবে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন বৈশ্বিক পরিস্থিতির সঙ্গে অতিমাত্রায় সম্পর্কিত। কারণ, নানা খাতে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং রপ্তানির কাঁচামাল আমদানি করতে হয়। পাশাপাশি বৈদেশিক খাতে ভারসাম্য রক্ষায় রেমিট্যান্স বড় ভূমিকা পালন করে। এ কারণে বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে উত্তেজনা তৈরি হলে এ দুটি খাতে সমস্যার সৃষ্টি হয়। এতে আমদানি পণ্যের দাম বেড়ে বা বাধাগ্রস্ত হয়ে যেমন মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, তেমনি রেমিট্যান্স বাধাগ্রস্ত হয়ে ডলার বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টির আশঙ্কা থাকে। এসব কারণে ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রভাব বিস্তার করে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত বাড়তি শুল্ক দেশটির বাজারে বাংলাদেশ থেকে পণ্য রপ্তানির সুযোগ তৈরি করেছে। কারণ, প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের শুল্ক কিছু ক্ষেত্রে কম, আবার কিছু ক্ষেত্রে সমপর্যায়ে রয়েছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাকের জন্য এ সুযোগ বাড়তে পারে। বাংলাদেশ নিম্নমূল্যের পোশাক রপ্তানি করে, যা এখন প্রতিযোগিতামূলকভাবে সুযোগ তৈরি করেছে।

চড়া মূল্যস্ফীতির হার নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক দীর্ঘ সময় ধরে সংকোচনমুখী মুদ্রানীতি অনুসরণ করছে। এতে ঋণের সুদের হার বেড়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকারের নেওয়া বহুমুখী পদক্ষেপের ফলে এখন মূল্যস্ফীতির হার কমতে শুরু করেছে। বর্তমানে বাজারে পণ্যমূল্য আরও কমছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি উপকরণের দামও কমেছে। ফলে আগামীতে এ হার আরও কমতে পারে। এতে করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আগামীতে নীতি সুদের হার কমানোর দিকে এগোবে। এ হার কমানোর মাধ্যমে বাজারে ঋণের সুদের হার কমানোর ইঙ্গিত দেওয়া হবে। ঋণের সুদের হার কমতে শুরু করলে দেশে বিনিয়োগ বাড়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের গতি বাড়বে। এতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশাবাদী কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংক সংস্কারের বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, ব্যাংক একীভূতকরণ এবং অধিগ্রহণসহ চলমান ব্যাংক খাতের সংস্কারগুলো এ খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে। তবে ব্যাংক খাতে মাত্রাতিরিক্ত খেলাপি ঋণ এ খাতটির দুর্বলতাগুলো তুলে ধরছে। সরকারের আর্থিক চাপ কমাতে উন্নয়ন ব্যয় আংশিকভাবে হ্রাস করার পাশাপাশি রাজস্ব আদায় জোরদার করার জন্য সরকার অনেক পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে প্রতিবেদনে এটিও বলা হয়েছে, আগের দুর্বলতাগুলো মোকাবিলা করে বাংলাদেশের অর্থনীতির সামগ্রিকভাবে সন্তোষজনকভাবে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এরই মধ্যে উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জগুলো অতিক্রম করেছে এবং স্থিতিশীল জিডিপি প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন করেছে। কিছু খাতে যেসব সমস্যা রয়েছে সেগুলো আগামীতে মোকাবিলা করার জন্য নানামুখী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুকে (ডিসেম্বর, ২০২৫) বলা হয়েছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সংস্থাটির আগের পূর্বাভাসের চেয়ে কম হবে। গত সেপ্টেম্বরে এডিবির একই প্রতিবেদনে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ছিল ৫ শতাংশ। ডিসেম্বরে এর চেয়ে কমবে বলে তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এডিবির প্রতিবেদনে সংশোধিত পূর্বাভাস কত শতাংশ, তার উল্লেখ নেই। এ বিষয়ে সংস্থাটির জনসংযোগ বিভাগে যোগাযোগ করে জানা যায়, বাংলাদেশের জন্য চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ধরা হয়েছে ৪ দশমিক ৭ শতাংশ। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুকের মূল প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয় এপ্রিল মাসে, যেখানে সব দেশের অর্থনীতির বর্তমান ও ভবিষ্যতের ওপর পর্যালোচনা থাকে। ওই প্রতিবেদনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির অনুমান করা হয়েছিল ৫ দশমিক ১ শতাংশ। এডিবির সংশোধিত পূর্বাভাস যদি বাস্তবের সঙ্গে মিলে যায়, তাহলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি গত অর্থবছরের (২০২৪-২৫) চেয়ে বাড়বে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে গত অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদন-জিডিপির আকার বেড়েছে ৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ।

এডিবির হালনাগাদ প্রতিবেদনে প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমানোর কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, রপ্তানি খাতের ধীরগতিসহ বিশ্বজনীন চাহিদায় দুর্বলতা। রপ্তানি, যা বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বৈশ্বিক চাহিদা কমে যাওয়ার কারণে রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে কম বৃদ্ধির দিকে এগোচ্ছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর পরিসংখ্যান অনুযায়ী চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত পাঁচ মাসের মধ্যে শেষের চার মাসে আগের বছরের একই মাসের তুলনায় রপ্তানি কমেছে। জুলাইয়ে বেড়েছিল ভিন্ন কারণে। গত বছর জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাসে রপ্তানি অনেক কম ছিল। এ কারণে চলতি বছর জুলাইয়ে রপ্তানি আয়ের পরিমাণ অনেক বেশি না হলেও দুর্বল ভিত্তির সঙ্গে তুলনার কারণে প্রবৃদ্ধি অনেক বেশি দেখায়। এডিবি বলেছে, বিনিয়োগে অনিশ্চয়তা এবং ব্যাংক ও আর্থিক খাতে দুর্বলতা প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমানোর আরেকটি কারণ। দেশের মোট বিনিয়োগের গতি কমে গেছে। একটি বড় কারণ হিসেবে জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও নীতিগত পরিবেশের পরিবর্তনের সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া উৎপাদন ও রপ্তানি কাজে সরবরাহ-শৃঙ্খলা বিঘ্ন ও গ্লোবাল সাপ্লাই চেইন বাধা প্রবৃদ্ধি হ্রাসে বড় ভূমিকা রেখেছে।

এডিবির সাম্প্রতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশে গড়ে মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশ থাকবে বলে অনুমান করা হয়েছে। পণ্যের দামের ওপর চাপ কিছুটা হালকা হলেও বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় উচ্চ অবস্থায় রয়েছে। শ্রীলঙ্কায় মূল্যস্ফীতি কমে এসেছে। নেপাল বা পাকিস্তানে তুলনামূলক কম দামের চাপ লক্ষ করা গেছে। দক্ষিণ এশিয়ার মোট প্রবৃদ্ধি গতিশীল অবস্থায় আছে। ভারতের বড় অর্থনীতির কারণে পুরো অঞ্চলের গড় প্রবৃদ্ধি ২০২৫ সালের জন্য প্রায় সাড়ে ৬ শতাংশ এবং ২০২৬ সালের জন্য ৬ শতাংশ প্রাক্কলন করা হয়েছে। তবে বড় ভোক্তা বাজার এবং উন্নত প্রযুক্তি-উৎপাদন ক্ষেত্রে পরীক্ষিত সক্ষমতা বাংলাদেশের মতো রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতির তুলনায় অনেক বেশি গতিশীলতা তৈরি করছে। পাকিস্তান, নেপাল বা শ্রীলঙ্কার মতো দেশের তুলনায় বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি কিছুটা বেশি থাকলেও মূল্যস্ফীতি ও বিনিয়োগের পরিস্থিতি তাদের থেকে কিছুটা কঠিন। বাংলাদেশ সরকারের বাজেটে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য মোট প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছিল ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। বাস্তব তথ্যের ভিত্তিতে প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে রেমিট্যান্সপ্রবাহ, ঘরোয়া ভোক্তা ব্যয়, খাদ্য ও সেবা খাতে স্থিতিশীলতা এবং বিশ্ববাজারে কিছু চাহিদা থাকায় আশা করা হচ্ছে পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতি মোকাবিলায় কিছুটা শক্তিশালী হতে পারবে বাংলাদেশ। বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে নীতিগত স্থিতিশীলতা ও রপ্তানি খাতের কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়িত হলে আগামী বছরগুলোতে প্রবৃদ্ধি বাড়তে পারে।

লেখক: সাবেক কর কমিশনার ও প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান-ন্যাশনাল এফএফ ফাউন্ডেশন

ফরিদপুরে গাছভর্তি ট্রাকে মাছের ট্রাকের ধাক্কা, নিহত ২

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬, ৭:৪৬ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে গাছভর্তি ট্রাকে মাছের ট্রাকের ধাক্কা, নিহত ২

ফরিদপুরের ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের আতাদি ফ্লাইওভারে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছেন।

সোমবার (১৮ মে) ভোর পাঁচটার দিকে ঢাকামুখী লেনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা দুজনই মাছবাহী ট্রাকের চালক ও হেলপার বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিহতদের মধ্যে একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তিনি হলেন যশোর কোতোয়ালি থানার চাচড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. শামিম (৩০)। তিনি মাছবাহী ট্রাকটির চালক ছিলেন। অপর নিহত হেলপারের বয়স আনুমানিক ২৮ বছর হলেও তার পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকাগামী গাছের চারা বোঝাই একটি ট্রাক আতাদি ফ্লাইওভারের ওপর ধীরগতিতে চলছিল। এ সময় পিছন দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা একটি মাছবাহী ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেটির পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় মাছের ট্রাকটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই চালক ও হেলপারের মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা উদ্ধার কাজে এগিয়ে আসে। পরে ভাঙ্গা হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং দুর্ঘটনাকবলিত দুটি ট্রাক জব্দ করে।

ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সোহেল খান জানান, “ভোর পাঁচটার দিকে আতাদি ফ্লাইওভারের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। গাছের চারা বোঝাই ট্রাকের পেছনে মাছবাহী ট্রাকটি দ্রুতগতিতে এসে ধাক্কা দেয়। এতে মাছের ট্রাকের চালক ও হেলপার নিহত হন। নিহত চালকের পরিচয় শনাক্ত করা গেলেও অপরজনের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”

তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার পরও এক্সপ্রেসওয়েতে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত তিন দিনেই ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের একই এলাকায় পৃথক দুর্ঘটনায় অন্তত ছয়জনের প্রাণহানি ঘটেছে। একের পর এক দুর্ঘটনায় নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

তারকা ফুটবলার মেসিকে নিয়ে যা বললেন চিত্রনায়িকা পরীমণি

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬, ৭:১৫ পূর্বাহ্ণ
তারকা ফুটবলার মেসিকে নিয়ে যা বললেন চিত্রনায়িকা পরীমণি

ঢালিউডের অন্যতম আলোচিত ও গ্ল্যামারাস চিত্রনায়িকা পরীমণির একটি সাক্ষাৎকার ভাইরাল হয়েছে। তাতে পরীমণিকে ফুটবল বিশ্বকাপ ও তার প্রিয় ফুটবল তারকাকে নিয়ে কথা বলতে শোনা যায়।

সাক্ষাৎকারে আর্জেন্টিনার প্রতি নিজের আকাশচুম্বী ভালোবাসার কথা অকপটে স্বীকার করেছেন এই তারকা।

ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসির প্রতি নিজের মুগ্ধতার কথা জানাতে গিয়ে পরীমণি বলেন, ‘আমি আর্জেন্টিনা। আমি আজীবনের আর্জেন্টিনা। আই লাভ মেসি।’

চিত্রনায়িকা আরও বলেন, ‘আমি মেসির জন্য বলতে পারেন, আমি ডাইহার্ড ফ্যান মেসির। আমার হার্টবিট বেড়ে গেছে।’

সাক্ষাৎকারের অংশটি ছড়িয়ে পড়লে নেটিজেনরা নানা মন্তব্য শুরু করেন। নিজের প্রিয় তারকা লিওনেল মেসিকে ঘিরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে আবারও খবরের শিরোনাম হলেন পরীমণি।

কোরবানির পশু জবাই করার নিয়ম ও দোয়া

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬, ৭:০৬ পূর্বাহ্ণ
কোরবানির পশু জবাই করার নিয়ম ও দোয়া

কোরবানি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। হাদিস শরিফে এ ইবাদতের প্রতি উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। রাসুল (সা.) হজরত ফাতেমা (রা.)-কে তাঁর কোরবানির নিকট উপস্থিত থাকতে বলেন এবং ইরশাদ করেন, ‘এই কোরবানির প্রথম রক্তবিন্দু প্রবাহিত হওয়ার সাথে সাথে আল্লাহ তায়ালা তোমার গোনাহসমূহ ক্ষমা করে দেবেন।’ তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, ‘ইয়া রাসুল (সা.)! এটা কি শুধু আহলে বায়তের জন্য, নাকি সকল মুসলিমের জন্য?’ উত্তরে রাসুল (সা.) বললেন, ‘এই ফজিলত সকল মুসলিমের জন্য।’ (মুসনাদে বাজযার-আত্তারগীব ওয়াত্তারহীব: ২/১৫৪)

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘অতএব তুমি তোমার রবের উদ্দেশে নামাজ আদায় করো এবং কোরবানি করো’ (সুরা কাওসার: ২)। তাই প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থমস্তিষ্ক সম্পন্ন প্রত্যেক মুসলিম নর-নারী, যে ১০ জিলহজ ফজর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে প্রয়োজন-অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হবে, তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব। (আলমুহিতুল বুরহানি: ৮/৪৫৫, ফাতাওয়া তাতারখানিয়া: ১৭/৪০৫)

এ ক্ষেত্রে যারা কোরবানি দিতে চান, তাদের অনেকেই কোরবানির পশু জবাইয়ের সঠিক নিয়ম জানেন না। তাই নিচে কালবেলার পাঠকদের জন্য পশু জবাই করার নিয়ম ও দোয়া তুলে ধরা হলো।

কোরবানির পশু জবাই করার নিয়ম ও দোয়া

ইসলামে খাদ্য গ্রহণ কেবল দৈহিক চাহিদা পূরণের বিষয় নয়; এটি ইবাদত ও তাকওয়ার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। একজন মুসলমান কী খাবে, কীভাবে খাবে—এমনকি সেই খাদ্য প্রস্তুতের প্রক্রিয়াও ইসলামি শরিয়তের অধীন। পশু জবাই করার নিয়ম এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কোরআন ও হাদিসে পশু জবাইয়ের পদ্ধতি সুস্পষ্টভাবে নির্ধারিত হয়েছে, যাতে মানবিকতা, পবিত্রতা ও আল্লাহভীতির সমন্বয় ঘটে।

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে মৃত জন্তু, রক্ত, শূকরের মাংস এবং যা আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে জবাই করা হয়েছে।’ (সুরা মায়িদা: ৩)

ইসলামি স্কলার শায়খ শামছুদ্দীন ‍দুর্লভপুরি বলেন, এই আয়াত স্পষ্ট করে দেয়, জবাইয়ের পদ্ধতি ও উদ্দেশ্য যদি আল্লাহর জন্য না হয়, তবে সেই খাদ্য হালাল নয়। তাই পশু জবাই কেবল ছুরি চালানোর কাজ নয়; এটি একটি ইবাদতসম আচরণ।

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে মৃত জন্তু, রক্ত, শূকরের মাংস এবং যা আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে জবাই করা হয়েছে।’ (সুরা মায়িদা: ৩)

ইসলামি স্কলার শায়খ শামছুদ্দীন ‍দুর্লভপুরি বলেন, এই আয়াত স্পষ্ট করে দেয়, জবাইয়ের পদ্ধতি ও উদ্দেশ্য যদি আল্লাহর জন্য না হয়, তবে সেই খাদ্য হালাল নয়। তাই পশু জবাই কেবল ছুরি চালানোর কাজ নয়; এটি একটি ইবাদতসম আচরণ।

পশু জবাইয়ের নিয়ম ও মৌলিক শর্ত

পশু-পাখির জবাই সহিহ হওয়ার জন্য শর্ত হচ্ছে, জবাইকারী মুসলমান কিংবা আহলে কিতাব তথা কোনো আসমানি কিতাবের অনুসারী এবং সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন বুঝমান ব্যক্তি হওয়া।

জবাইয়ের শুরুতে আল্লাহ তায়ালার নাম উচ্চারণ করা এবং কোনো ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলার দিক থেকে জবাই করা।

শ্বাসনালি, খাদ্যনালি ও দুই শাহরগের অন্তত একটি কেটে রক্ত প্রবাহিত করে জবাই সম্পন্ন করা।

এসব শর্তের কোনোটি না পাওয়া গেলে জবাই সহিহ হবে না এবং সে প্রাণী খাওয়াও জায়েজ হবে না। অবশ্য উপরিউক্ত শর্ত পাওয়া যায়, এমন কেউ যদি জবাইয়ের সময় আল্লাহ নাম উচ্চারণ করতে ভুলে যায় তাহলে জবাই সহিহ হবে। তবে কেউ যদি ইচ্ছাকৃত আল্লাহ নাম ছেড়ে দেয়, তাহলে জবাই সহিহ হবে না। (সুরা মায়েদা: ৩-৫, সুরা আনআম: ১২১, সহিহ বোখারি: ৫৫০৩, সহিহ ইবনে হিব্বান: ৫৮৮৮, মুসান্নাফে আব্দুর রাজযাক: ৮৫৭৮, ৮৫৪১ ও ৮৫৫৬, তাফসিরে তাবারি: ৪/৪৪০, আহকামুল কোরআন, জাসসাস: ৩/৭)

আর জবাইয়ের জন্য একাধিক ব্যক্তি হওয়া জরুরি নয়, একজনও জবাই করতে পারবে। এমনিভাবে আড়াই পোচে জবাই করাও জরুরি নয়। এটি একটি ভুল প্রচলন। মাসআলা হচ্ছে, রগ কেটে রক্ত প্রবাহিত করে দেওয়া, তা যত পোচেই হোক। তবে জবাইয়ের ক্ষেত্রে ধারালো অস্ত্র ব্যবহর করবে। যেন প্রাণীর অধিক কষ্ট না হয়।

উপরিউক্ত শর্ত ছাড়াও জবাইয়ের কিছু আদব ও মুস্তাহাব রয়েছে। সুন্নাহসম্মত ও উত্তমপন্থায় জবাই করতে চাইলে সে বিষয়গুলোর প্রতিও লক্ষ রাখা উচিত।

কোরবানির পশু জবাই করার দোয়া

إِنِّي وَجَّهْتُ وَجْهِيَ لِلَّذِي فَطَرَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضَ حَنِيفًا، وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ، إِنَّ صَلَاتِي، وَنُسُكِي، وَمَحْيَايَ، وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ، لَا شَرِيكَ لَهُ، وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ، وَأَنَا أَوَّلُ الْمُسْلِمِينَ، اللَّهُمَّ مِنْكَ، وَلَكَ….بِسْمِ اللهِ اَللهُ اَكْبَر

উচ্চারণ: ইন্নি ওয়াজ্জাহতু ওয়াজহিয়া লিল্লাজ ফাতারাস সামাওয়াতি ওয়ালআরদা হানিফাও ওয়ামা আনা মিনাল মুশরিকীন। ইন্না সালাতি ওয়ানুসুকি ওয়ামাহইয়ায়া ওয়ামামাতি লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন। লা-শারিকালাহু ওয়াবিজালিকা উমিরতু ওয়াআনা আওয়ালুল মুসলিমীন। আল্লাহুম্মা মিনকা ওয়ালাকা।…বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার। (সুনানে আবু দাউদ: ২৭৯৫, সুনানে ইবনে মাজাহ: -৩১২১)

অর্থ: নিশ্চয়ই আমি দৃঢ়ভাবে সেই মহান সত্তার অভিমুখী হলাম, যিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন। আমি মুশরিকদের অন্তর্গত নই। নিশ্চয়ই আমার নামাজ, আমার কোরবানি, আমার জীবন ও আমার মরণ—সবই বিশ্ব প্রতিপালক মহান আল্লাহর জন্য নিবেদিত। তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি এ কাজের জন্য আদিষ্ট হয়েছি। আর আমি আত্মসমর্পণকারীদের একজন। আল্লাহর নামে, আল্লাহ সবচেয়ে মহান।

ইসলামি স্কলার মুফতি রেজাউল করীম আবরার বলেন, পুরো দোয়া না পারলে অন্তত ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার’ বলে কোরবানি করলে চলবে। তবে আল্লাহর নাম ছাড়া কোনোভাবেই কোরবানি জায়েজ হবে না।

সূত্র : কালবেলা