খুঁজুন
বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ২৩ বৈশাখ, ১৪৩৩

ডিম ছোড়া কেন বিশ্ব রাজনীতিতে প্রতিবাদের শক্তিশালী প্রতীক?

জান্নাতুল তানভী
প্রকাশিত: সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:৫৬ পূর্বাহ্ণ
ডিম ছোড়া কেন বিশ্ব রাজনীতিতে প্রতিবাদের শক্তিশালী প্রতীক?

কোনো ব্যক্তির ওপর ডিম নিক্ষেপ করে ক্ষোভ প্রকাশের বা প্রতিবাদ জানানোর উদাহরণ কেবল বাংলাদেশেই নয়, বরং বিশ্বের বহু দেশেই রয়েছে।

বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার সময় ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী ও এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপের ঘটনা নিয়ে বেশ আলোচনা চলছে।

ডিম নিক্ষেপের মতো কাজকে অনেকে অশোভন বা অন্যায় আচরণ মনে করলেও এর পেছনে রয়েছে অনেক পুরোনো বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাস।

প্রতিবাদের এই রূপ, যা ‘এগিং’ নামেও পরিচিত, তা কেবল ক্ষোভ প্রকাশ নয়, বরং কখনো কখনো রাজনীতিতে বার্তা পৌঁছে দিতেও ব্যবহৃত হয়।

ভিন্নমত প্রদর্শন এবং কাউকে অপমান, অবমাননা, অশ্রদ্ধা, অসম্মান করার হাতিয়ার হিসেবেও ডিম নিক্ষেপের মতো পদক্ষেপ বিশ্বব্যাপী ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

রাজপরিবারের সদস্য থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতা, মন্ত্রী বা মন্ত্রী হতে যাচ্ছেন, এমন ব্যক্তিদের কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করতেও ডিম ছোঁড়ার ইতিহাস রয়েছে।

আর কেবল ডিমই নয়, বরং পচনশীল খাদ্যদ্রব্য ছোঁড়ার প্রচলনও মধ্যযুগ থেকেই।

প্রতিবাদ করতে কোনো ব্যক্তির মুখে বা গায়ে ডিম ছাড়াও শালগম বা টমেটোর মতো সবজি, কেক বা চকলেটও ছুঁড়ে মারার ইতিহাস রয়েছে।

ডিম ছোঁড়া ঠিক কবে থেকে প্রতিবাদের অংশ?

প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে ডিম বা যে কোনো সবজি বা পচনশীল বস্তু ছুঁড়ে মারার যে ইতিহাস পাওয়া যায় সেটা বেশ পুরোনো।

প্রাচীন যুগে শাসকদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করা হতো বা প্রতিবাদ জানানো হতো বিভিন্ন খাবার ছুঁড়ে।

রোমান শাসক ভেসপাসিয়ানের কঠোর নীতির কারণে ৬৩ খ্রিস্টাব্দে ক্ষুব্ধ জনগণ তার ওপর শালগম ছুঁড়ে মেরেছিল বলে ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মধ্যযুগে ঘৃণা ও শাস্তির অংশ হিসেবে কারাবন্দিদের ওপর ডিম ছুঁড়ে মারার নজির রয়েছে। বন্দিদের একটি নির্দিষ্ট কাঠের ফ্রেমে বেঁধে রাখা হতো এবং বিক্ষুব্ধ জনগণ তাদের ওপর ডিম ছুঁড়ে মারতো।

ক্ষোভ, ঘৃণা বা প্রতিবাদের এই রীতি একপর্যায়ে থিয়েটার জগতেও ছড়িয়ে পড়ে। এলিজাবেথীয় যুগে থিয়েটারে অভিনেতাদের অভিনয়ে সন্তুষ্ট না হলে বা খারাপ অভিনয়ের প্রতিবাদে তাদের ওপর পঁচা ডিম ছুঁড়তো দর্শকরা।

ইংরেজ লেখিকা জর্জ এলিয়ট ১৮৩০ এর দশকের পটভূমিতে লেখা উপন্যাস ‘মিডলমার্চ’ এও ডিম ছোঁড়ার ঘটনা রয়েছে।

এই উপন্যাসের চরিত্র মি. ব্রুক নির্বাচনী ভাষণের সময় ‘অপমানকর’ এই ঘটনার শিকার হন।

“অপ্রত্যাশিতভাবে একটি ডিম এসে মি. ব্রুকের কাঁধে ভাঙলো…. এরপর যেন ডিমের শিলাবৃষ্টি নামলো। মূলত তার ছবিকে লক্ষ্য করেই ছোঁড়া হচ্ছিলো। কিন্তু মাঝে মাঝে অনেকটা কাকতালীয়ভাবে যেন আসল ব্যক্তিকেও আঘাত করা হচ্ছিলো,” মি. ব্রুককে ডিম নিক্ষেপ করে কীভাবে অপমান করা হয়েছিলো তা মিজ এলিয়টের বইয়ে ঠিক এভাবেই বর্ণনা করা হয়েছে।

রাজা থেকে রাজনৈতিক কর্মী, বাদ নেই কেউ

ব্রিটেনে প্রতিবাদ জানাতে ডিম ছুঁড়ে মারার ইতিহাস দীর্ঘ।

ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লস এবং কুইন কনসর্ট ক্যামিলা ২০২২ সালের নয়ই নভেম্বর ইয়র্কের মিকলগেট বারে এক রাজ সফরের সময় ডিম ছুঁড়ে মারার মতো ক্ষোভের মুখে পড়েন।

প্যাট্রিক থেলওয়েল নামে ২৩ বছর বয়সী এক যুবক রাজাকে লক্ষ্য করে পাঁচটি ডিম ছুঁড়ে মারেন। সেসময় তিনি ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

তবে একটি ডিমও রাজার গায়ে লাগেনি। সবগুলো ডিমই তার আশেপাশে পড়েছিলো অর্থাৎ লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছিলো।

পরে ইয়র্কের এক ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে মি. থেলওয়েলের বিচার হয়।

রাজার দিকে ডিম ছুঁড়ে মারার কথা স্বীকার করে তিনি দাবি করেছিলেন, এটা ছিল “লফুল ভায়োলেন্স বা আইনি সহিংসতা”।

পরে জনশৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন মি. থেলওয়েল।

যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচার ১৯৯০ সালের নির্বাচনে এবং তার আগে ছাত্র আন্দোলনের সময় ডিম হামলার শিকার হয়েছিলেন।

যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জন মেজর ১৯৯২ সালের মে মাসে সাউদাম্পটনে একটি নির্বাচনী প্রচারণার সময় এমন ঘটনার শিকার হন।

ক্ষুব্ধ একজন ব্যক্তির ছোঁড়া ডিম সরাসরি তার মুখে এসে লাগে।

২০০১ সালে নর্থ ওয়েলসে ব্রিটেনের তৎকালীন ডেপুটি প্রাইম মিনিস্টার জন প্রেসকটকে লক্ষ্য করে ডিম ছোঁড়েন একজন খামার শ্রমিক।

একেবারেই নিখুঁত ছিল ওই শ্রমিকের নিশানা। এই ঘটনায় মি. প্রেসকটও সরাসরি ওই শ্রমিকের মুখে ঘুষি মারেন।

ব্রিটিশ ন্যাশনাল পার্টির নেতা নিক গ্রিফিন ২০০৯ সালের নয়ই জুন সংসদের বাইরে এক সংবাদ সম্মেলন করার সময় ডিম হামলার শিকার হন। পরে ওই সংবাদ সম্মেলনটি আর করেননি তিনি।

২০১০ সালের ২১শে এপ্রিল বিবিসি নিউজে প্রকাশিত এক খবরে দেখা যায়, কনজারভেটিভ নেতা ডেভিড ক্যামেরনও ডিম হামলার শিকার হয়েছিলেন।

সেসময় একজন কিশোর নির্মাণ শ্রমিকের ছোঁড়া ডিম তার কাঁধে লেগেছিলো।

ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ এবং লেবার পার্টির নেতা এড মিলিব্যান্ডও এমন ক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন।২০১৩ সালে সাউথ লন্ডনের ওয়ালওয়ার্থ মার্কেটে হাঁটার সময় ডিম হামলার শিকার হয়েছিলেন।

যুক্তরাজ্যের ইনডিপেনডেন্স পার্টির নেতা নাইজেল ফারাজ নটিংহামে নির্বাচনী এক সমাবেশে ২০১৪ সালে এমন ডিম হামলার শিকার হন।

যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশের নজির

অন্যান্য দেশেও ডিম ছুড়ে প্রতিবাদের নজির আছে অনেক।

যুক্তরাষ্ট্রে হলিউড তারকা থেকে রাজনীতিবিদ বনে যাওয়া আর্নল্ড শোয়ার্জনেগার ২০০৩ সালে এমন প্রতিবাদের শিকার হন। ক্যালিফোর্নিয়ায় গভর্নর পদে নির্বাচনের প্রচারণার সময় এক জনসভায় এক ব্যক্তি তার ওপর ডিম ছুঁড়ে মারেন।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণার সময় ২০০৪ সালে ভিক্টর ইয়ানুকোভিচ এমন আক্রমণের শিকার হয়েছিলেন। প্রথমে অনেকেই ইট ছোঁড়া হয়েছে ভেবে তাকে আঘাত পাওয়ার সাথে সাথে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো। কিন্তু পরে দেখা যায় সেটা ডিম ছিল।

অস্ট্রেলিয়ার সাধারণ নির্বাচনের আগে প্রচারণা চলাকালীন সময়ে ২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসনকে লক্ষ্য করে ডিম ছুঁড়েছিলেন এক ব্যক্তি। ডিমটি মি. মরিসনের মাথায় লাগলেও সেটি ভাঙেনি।

বিবিসির সেসময়ের এক খবরে দেখা যাচ্ছে, পুলিশ ২৫ বছর বয়সী এক নারীকে এ ঘটনায় গ্রেফতার করেছিলো।

২০২২ সালে উত্তর ফ্রান্সে প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনী প্রচারণার সময় ক্ষোভের মুখে পড়েন অতি ডানপন্থি দল ন্যাশনাল র‍্যালির নেতা মেরিন লে পেন। ডিমটি মিজ পেনের গায়ে পড়ার আগেই দেহরক্ষী তা ধরে ফেলেন।

হুদাকে ঢাকায় তার বাসা থেকে ধরে নিয়ে হেনস্তা করে একদল লোক।

ওই সময় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, নানাভাবে হেনস্তাসহ কেউ কেউ নূরুল হুদার দিকে ডিম ছুড়ে মারছে। পরে মি. হুদাকে পুলিশের হাতেও তুলে দেওয়া হয়েছিল।

এই প্রতিবাদের অর্থ কী?

লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ জানান, বিশ্বব্যাপী প্রতিবাদ বা ক্ষোভ প্রকাশের এই ভাষা দেহে বা শারীরিকভাবে আঘাতের উদ্দেশ্যে নয়, বরং সামাজিকভাবে হেয় করার জন্য করা হয়।

এটা মূলত অহিংস প্রতিবাদ বলে উল্লেখ করেন মি. আহমদ।

“যার ওপর ডিম ছুঁড়ে মারা হয় এটাকে একটা অপমান হিসেবে দেখা হয়। এখানে ব্যাপারটা দেহে আঘাত পাওয়ার চাইতে ইজ্জতে আঘাত পাওয়াটা বেশি প্রমিনেন্ট হয়। তাকে সামাজিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে করা হয়,” বলেন মি. আহমদ।

মি. আহমদ বলছিলেন, একটা সময় ক্ষোভ প্রকাশ করতে বাংলাদেশে পঁচা ডিম ছুঁড়ে মারা হতো। এখন আর সেটা শোনা যায় না।

এসবই এই প্রতিবাদের ভাষার প্রতীকী তাৎপর্য বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মি. আহমদ বলেন, “সবসময় যে রাজনৈতিক প্রতিবাদের অংশ হিসেবে ডিম ছোঁড়া হয় বিষয়টি এমন নয়। অনেক সময় মানুষ কেবল অপরের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করতেই এটা করে।”

সূত্র : বিবিসি বাংলা

সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ভাঙ্গার প্রবাসী যুবকের মৃত্যু, ঈদের আগেই নিভে গেল স্বপ্ন

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৭:৫৩ পূর্বাহ্ণ
সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ভাঙ্গার প্রবাসী যুবকের মৃত্যু, ঈদের আগেই নিভে গেল স্বপ্ন

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার শাওন মির্জা নামে এক প্রবাসী যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তিনি ভাঙ্গা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের নওপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং সাবেক পুলিশ সদস্য মরহুম জাহিদ মির্জার একমাত্র ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (০৩ মে) রাতে কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে মোটরসাইকেল চালানোর সময় দুর্ঘটনার শিকার হন শাওন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে তাকে একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকালে তার মৃত্যু হয়।

শাওন মির্জা তিন বোনের মধ্যে একমাত্র ভাই ছিলেন। জীবিকার তাগিদে দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন তিনি। আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে তার দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু সেই প্রত্যাশা অপূর্ণ রেখেই তিনি চিরবিদায় নিলেন।
তার আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবার-পরিজন ও স্বজনদের মাঝে চলছে শোকের মাতম।

এদিকে, নিহতের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন পরিবার ও স্থানীয়রা।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভাঙ্গা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার জহুরুল হক মিঠু।

ভাঙ্গায় দুই অটোরিকশা সংঘর্ষে আহত যুবকের মৃত্যু

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৭:২৫ পূর্বাহ্ণ
ভাঙ্গায় দুই অটোরিকশা সংঘর্ষে আহত যুবকের মৃত্যু

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় দুই অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে গুরুতর আহত শাহ আলম ফকির (৩৫) অবশেষে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

দুর্ঘটনার তিনদিন পর মঙ্গলবার (৫ মে) রাত ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

নিহত শাহ আলম ফকির ভাঙ্গা উপজেলার আজিমনগর ইউনিয়নের আজিমনগর গ্রামের বাসিন্দা এবং মৃত আব্দুর রব ফকিরের ছেলে। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২ মে রাত আনুমানিক ৯টার দিকে বাড়ি ফেরার পথে আজিমনগর বাজার এলাকায় দুইটি অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে অন্তত পাঁচজন যাত্রী আহত হন। আহতদের মধ্যে শাহ আলমের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় প্রথমে তাকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

তিনদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে তিনি না ফেরার দেশে চলে যান। তার মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে আহাজারি, স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ।

এ বিষয়ে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়টি পুলিশ অবগত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে বিজেপির জয় নিয়ে কী ভাবছে বাংলাদেশের দলগুলো?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৭:০৯ পূর্বাহ্ণ
পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে বিজেপির জয় নিয়ে কী ভাবছে বাংলাদেশের দলগুলো?

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয় নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা ও নানামুখী বিশ্লেষণ চলছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরে।

বিশেষ করে প্রায় দেড় দশক পর মমতা ব্যানার্জীর রাজ্যের ক্ষমতা থেকে বিদায় এবং প্রথমবারের মতো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিজেপি পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় আসার প্রভাব কেমন হবে তা নিয়ে কৌতূহল আছে অনেকের মধ্যে।

একই সঙ্গে তিস্তা নদীর পানি বণ্টন, সীমান্ত ইস্যু ও পুশ-ইন কিংবা পুশ ব্যাক ইস্যুর মতো দ্বিপাক্ষিক ইস্যুগুলোতে এখন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের ভূমিকা কেমন হবে- তা নিয়েও আলোচনা, কৌতূহল ও উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন দলের মধ্যে।

নির্বাচনের আগে কিছু ভারতীয় নেতার বাংলাদেশ নিয়ে করা বিভিন্ন মন্তব্য নিয়ে উদ্বেগ আছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে। পাশাপাশি বাংলাদেশি তকমা দিয়ে ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা আরও বেড়ে যায় কি-না সেই উদ্বেগও আছে অনেকের মধ্যে।

কোনো কোনো দল বলছে, নির্বাচনের আগে বিজেপি নেতাদের কেউ কেউ বাংলাদেশ নিয়ে কিছু মন্তব্য করেছেন যেগুলো তাদের মতে দুই দেশের সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর।

বাংলাদেশ সরকারের দিক থেকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতায় যে-ই আসুক, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কে কোনো প্রভাব পড়বে না।

ওদিকে পশ্চিমবঙ্গের এই নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফলে বড় ব্যবধানে মমতা ব্যানার্জীর তৃণমূল কংগ্রেসকে হটিয়ে বিজয়ী হয়েছে বিজেপি। এমনকি বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে হেরে গেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী।

দলগুলো যা বলছে

বাংলাদেশে ২০২৪ সালের অগাস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ভারতের সাথে সম্পর্কে চরম টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, যা এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।

এর আগে থেকেই বাংলাদেশের কিছু রাজনৈতিক দল সবসময়ই ভারতের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ওপর কর্তৃত্ব তৈরির অভিযোগ করে আসছে।

এমনকি শেখ হাসিনা সরকার বিরুদ্ধে আন্দোলনেও এর প্রতিফলন দেখা গেছে। ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’-এমন শ্লোগানও শোনা গেছে ঢাকার রাস্তায়।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার বিভিন্ন ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের আরও অবনতি হয় এবং এর জের ধরে ভারতে বাংলাদেশ মিশনে হামলার ঘটনাও ঘটেছিল ।

ভারতের পণ্য বয়কটের ডাক, ঢাকায় ভারতীয় দূতাবাসের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে হামলা, বাংলাদেশে ভারতের ভিসা কার্যক্রম কার্যত বন্ধ করে দেওয়া, বিভিন্ন বাণিজ্য সুবিধা তুলে নেওয়া , ভারতে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের খেলতে না যাওয়া- এমন অনেক ঘটনায় দুই দেশের সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকেছিল অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে।

যদিও বাংলাদেশে ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনের পর সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য উভয় দেশের সরকারের দিক থেকেই দৃশ্যমান চেষ্টা দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান দিল্লি সফর করে এসেছেন।

ওই সফরের আগে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “এটা হচ্ছে একটা নিউ সম্পর্ক বিটুইন বাংলাদেশ অ্যান্ড ইন্ডিয়া”।

এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভারতের সাথে সবচেয়ে ভালো সম্পর্ক ছিল বলে মনে করা হলেও ওই সময়ে তিস্তা নদীর পানি ইস্যুটির সমাধান করা যায়নি মূলত পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর অবস্থানের কারণে। তিনি প্রকাশ্যেই এর বিরোধিতা করেছিলেন।

আবার এবারের নির্বাচনের আগে বিভিন্ন সময়ে ভারতের বেশ কয়েকজন বিজেপি নেতা বাংলাদেশ সম্পর্কে যেসব মন্তব্য করেছেন সেগুলোও এদেশে প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে বলে অনেকে মনে করেন।

এমন প্রেক্ষাপটে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের ফল কোন দিকে যায় সেদিকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোরও দৃষ্টি ছিল।

“নির্বাচনের আগে বিভিন্ন সময়ে সেখানকার কিছু নেতা বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের জনগণ নিয়ে উদ্বেগজনক মন্তব্য করেছেন, যা দুঃখজনক। পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে আমাদের বড় সীমান্ত আছে এবং সম্পর্কের মাত্রা বহুমাত্রিক। এর মধ্যে এ ধরনের মন্তব্য সামনেও আসতে থাকলে সেটি এদেশেও প্রভাব ফেলতে পারে,” বলছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ।

তিনি বলেন, “আমরা আগে থেকেই পর্যবেক্ষণ করছিলাম। নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসকে হারানোর জন্য বিজেপি অগণতান্ত্রিক চেষ্টা করছে এমন অভিযোগ ভারতীয় সংবাদমাধ্যমেই আমরা দেখেছি। ভোটার তালিকাকে টার্গেট করে তারা যা করেছে সেটিকেও গণতান্ত্রিক মনে হয়নি”।

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলছেন, বাংলাদেশের রাজনীতিকে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের প্রভাব পড়বে না এবং বাংলাদেশের উগ্রবাদীদের উৎসাহিত হবার আশঙ্কা তারাও খুব একটা দেখছে না।

“তবে তাদের হিন্দুত্ববাদীতা, সাম্প্রদায়িকতা ও উগ্রবাদীতা আমাদের উদ্বেগের বড় কারণ। তাদের রাষ্ট্রের যে আদর্শ ধর্মনিরপেক্ষতা সেটিই তারাই তো মানছে না। মুসলিমের ওপর যে নিগ্রহ সেটি তো সব দেখা যায় না। ভারত ধর্মনিরপেক্ষ থাকলে তো অন্য ধর্মের লোকেরা নিরাপদে থাকতো”।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “ভারতের রাষ্ট্র ও সরকারের সহায়তা নিয়েই তো আওয়ামী লীগ শক্তি সঞ্চয় করেছিল এবং শেখ হাসিনা তাদের প্রশ্রয়েই আছেন। বিজেপি সরকার তো তাকে সহায়তা করছে। এখন তারা আরও শেল্টার পেয়ে ষড়যন্ত্র বাড়াতে পারে”।

তবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়ার যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলছেন, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন একেবারেই ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং সেখানকার মানুষ ভোটের মাধ্যমে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকারের চর্চা করেছে।

“তবে নিকটতম প্রতিবেশী হিসেবে দুই দেশের সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা মনে করি যারাই ক্ষমতায় থাকুক দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে যাবে এবং এ থেকে মানুষ উপকৃত হবে। পারস্পারিক ন্যায়পরায়ণতার ভিত্তিতে নিশ্চয়ই দুই দেশ সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিবে,” বলেছেন তিনি।

কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলছেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের মধ্য দিয়ে একটি সাম্প্রদায়িক শক্তি ক্ষমতায় এলো এবং এটিও সত্যি যে একই ধরনের সাম্প্রদায়িক শক্তি বাংলাদেশেও আছে।

“বৈশ্বিক রাজনীতি বিশ্লেষণ করলে বোঝা যাবে ভারতবর্ষের রাজনীতিও একই সংকটে নিপতিত। সেখানে যারাই ক্ষমতায় আসুক বা থাকুক তাতে সংকটের সমাধান হবে না কারণ তারা সবাই বুর্জোয়া ও কর্পোরেট শক্তির ধারক বাহক। তবে আমি বিশ্বাস করি দুই দেশের সাধারণ মানুষ গণতন্ত্র ও অসাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতেই সমাজকে এগিয়ে নিবে,” বলেছেন তিনি।

ওদিকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারে যেই থাকুক না কেন, অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধানে বাংলাদেশে একই দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, যেই সরকার আসুক না কেন বা থাকুক না কেন, তাদের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে সমাধান করতে হবে।

“ভারতে যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক না কেন, আমাদের সাথে ইস্যুগুলা কিন্তু রয়েই যায়। ওগুলোতো আমাদের অবশ্যই ডিল করতে হবে,” বলেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।

সূত্র : বিবিসি বাংলা