খুঁজুন
বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২১ মাঘ, ১৪৩২

ডিম ছোড়া কেন বিশ্ব রাজনীতিতে প্রতিবাদের শক্তিশালী প্রতীক?

জান্নাতুল তানভী
প্রকাশিত: সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:৫৬ এএম
ডিম ছোড়া কেন বিশ্ব রাজনীতিতে প্রতিবাদের শক্তিশালী প্রতীক?

কোনো ব্যক্তির ওপর ডিম নিক্ষেপ করে ক্ষোভ প্রকাশের বা প্রতিবাদ জানানোর উদাহরণ কেবল বাংলাদেশেই নয়, বরং বিশ্বের বহু দেশেই রয়েছে।

বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার সময় ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী ও এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপের ঘটনা নিয়ে বেশ আলোচনা চলছে।

ডিম নিক্ষেপের মতো কাজকে অনেকে অশোভন বা অন্যায় আচরণ মনে করলেও এর পেছনে রয়েছে অনেক পুরোনো বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাস।

প্রতিবাদের এই রূপ, যা ‘এগিং’ নামেও পরিচিত, তা কেবল ক্ষোভ প্রকাশ নয়, বরং কখনো কখনো রাজনীতিতে বার্তা পৌঁছে দিতেও ব্যবহৃত হয়।

ভিন্নমত প্রদর্শন এবং কাউকে অপমান, অবমাননা, অশ্রদ্ধা, অসম্মান করার হাতিয়ার হিসেবেও ডিম নিক্ষেপের মতো পদক্ষেপ বিশ্বব্যাপী ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

রাজপরিবারের সদস্য থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতা, মন্ত্রী বা মন্ত্রী হতে যাচ্ছেন, এমন ব্যক্তিদের কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করতেও ডিম ছোঁড়ার ইতিহাস রয়েছে।

আর কেবল ডিমই নয়, বরং পচনশীল খাদ্যদ্রব্য ছোঁড়ার প্রচলনও মধ্যযুগ থেকেই।

প্রতিবাদ করতে কোনো ব্যক্তির মুখে বা গায়ে ডিম ছাড়াও শালগম বা টমেটোর মতো সবজি, কেক বা চকলেটও ছুঁড়ে মারার ইতিহাস রয়েছে।

ডিম ছোঁড়া ঠিক কবে থেকে প্রতিবাদের অংশ?

প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে ডিম বা যে কোনো সবজি বা পচনশীল বস্তু ছুঁড়ে মারার যে ইতিহাস পাওয়া যায় সেটা বেশ পুরোনো।

প্রাচীন যুগে শাসকদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করা হতো বা প্রতিবাদ জানানো হতো বিভিন্ন খাবার ছুঁড়ে।

রোমান শাসক ভেসপাসিয়ানের কঠোর নীতির কারণে ৬৩ খ্রিস্টাব্দে ক্ষুব্ধ জনগণ তার ওপর শালগম ছুঁড়ে মেরেছিল বলে ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মধ্যযুগে ঘৃণা ও শাস্তির অংশ হিসেবে কারাবন্দিদের ওপর ডিম ছুঁড়ে মারার নজির রয়েছে। বন্দিদের একটি নির্দিষ্ট কাঠের ফ্রেমে বেঁধে রাখা হতো এবং বিক্ষুব্ধ জনগণ তাদের ওপর ডিম ছুঁড়ে মারতো।

ক্ষোভ, ঘৃণা বা প্রতিবাদের এই রীতি একপর্যায়ে থিয়েটার জগতেও ছড়িয়ে পড়ে। এলিজাবেথীয় যুগে থিয়েটারে অভিনেতাদের অভিনয়ে সন্তুষ্ট না হলে বা খারাপ অভিনয়ের প্রতিবাদে তাদের ওপর পঁচা ডিম ছুঁড়তো দর্শকরা।

ইংরেজ লেখিকা জর্জ এলিয়ট ১৮৩০ এর দশকের পটভূমিতে লেখা উপন্যাস ‘মিডলমার্চ’ এও ডিম ছোঁড়ার ঘটনা রয়েছে।

এই উপন্যাসের চরিত্র মি. ব্রুক নির্বাচনী ভাষণের সময় ‘অপমানকর’ এই ঘটনার শিকার হন।

“অপ্রত্যাশিতভাবে একটি ডিম এসে মি. ব্রুকের কাঁধে ভাঙলো…. এরপর যেন ডিমের শিলাবৃষ্টি নামলো। মূলত তার ছবিকে লক্ষ্য করেই ছোঁড়া হচ্ছিলো। কিন্তু মাঝে মাঝে অনেকটা কাকতালীয়ভাবে যেন আসল ব্যক্তিকেও আঘাত করা হচ্ছিলো,” মি. ব্রুককে ডিম নিক্ষেপ করে কীভাবে অপমান করা হয়েছিলো তা মিজ এলিয়টের বইয়ে ঠিক এভাবেই বর্ণনা করা হয়েছে।

রাজা থেকে রাজনৈতিক কর্মী, বাদ নেই কেউ

ব্রিটেনে প্রতিবাদ জানাতে ডিম ছুঁড়ে মারার ইতিহাস দীর্ঘ।

ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লস এবং কুইন কনসর্ট ক্যামিলা ২০২২ সালের নয়ই নভেম্বর ইয়র্কের মিকলগেট বারে এক রাজ সফরের সময় ডিম ছুঁড়ে মারার মতো ক্ষোভের মুখে পড়েন।

প্যাট্রিক থেলওয়েল নামে ২৩ বছর বয়সী এক যুবক রাজাকে লক্ষ্য করে পাঁচটি ডিম ছুঁড়ে মারেন। সেসময় তিনি ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

তবে একটি ডিমও রাজার গায়ে লাগেনি। সবগুলো ডিমই তার আশেপাশে পড়েছিলো অর্থাৎ লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছিলো।

পরে ইয়র্কের এক ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে মি. থেলওয়েলের বিচার হয়।

রাজার দিকে ডিম ছুঁড়ে মারার কথা স্বীকার করে তিনি দাবি করেছিলেন, এটা ছিল “লফুল ভায়োলেন্স বা আইনি সহিংসতা”।

পরে জনশৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন মি. থেলওয়েল।

যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচার ১৯৯০ সালের নির্বাচনে এবং তার আগে ছাত্র আন্দোলনের সময় ডিম হামলার শিকার হয়েছিলেন।

যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জন মেজর ১৯৯২ সালের মে মাসে সাউদাম্পটনে একটি নির্বাচনী প্রচারণার সময় এমন ঘটনার শিকার হন।

ক্ষুব্ধ একজন ব্যক্তির ছোঁড়া ডিম সরাসরি তার মুখে এসে লাগে।

২০০১ সালে নর্থ ওয়েলসে ব্রিটেনের তৎকালীন ডেপুটি প্রাইম মিনিস্টার জন প্রেসকটকে লক্ষ্য করে ডিম ছোঁড়েন একজন খামার শ্রমিক।

একেবারেই নিখুঁত ছিল ওই শ্রমিকের নিশানা। এই ঘটনায় মি. প্রেসকটও সরাসরি ওই শ্রমিকের মুখে ঘুষি মারেন।

ব্রিটিশ ন্যাশনাল পার্টির নেতা নিক গ্রিফিন ২০০৯ সালের নয়ই জুন সংসদের বাইরে এক সংবাদ সম্মেলন করার সময় ডিম হামলার শিকার হন। পরে ওই সংবাদ সম্মেলনটি আর করেননি তিনি।

২০১০ সালের ২১শে এপ্রিল বিবিসি নিউজে প্রকাশিত এক খবরে দেখা যায়, কনজারভেটিভ নেতা ডেভিড ক্যামেরনও ডিম হামলার শিকার হয়েছিলেন।

সেসময় একজন কিশোর নির্মাণ শ্রমিকের ছোঁড়া ডিম তার কাঁধে লেগেছিলো।

ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ এবং লেবার পার্টির নেতা এড মিলিব্যান্ডও এমন ক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন।২০১৩ সালে সাউথ লন্ডনের ওয়ালওয়ার্থ মার্কেটে হাঁটার সময় ডিম হামলার শিকার হয়েছিলেন।

যুক্তরাজ্যের ইনডিপেনডেন্স পার্টির নেতা নাইজেল ফারাজ নটিংহামে নির্বাচনী এক সমাবেশে ২০১৪ সালে এমন ডিম হামলার শিকার হন।

যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশের নজির

অন্যান্য দেশেও ডিম ছুড়ে প্রতিবাদের নজির আছে অনেক।

যুক্তরাষ্ট্রে হলিউড তারকা থেকে রাজনীতিবিদ বনে যাওয়া আর্নল্ড শোয়ার্জনেগার ২০০৩ সালে এমন প্রতিবাদের শিকার হন। ক্যালিফোর্নিয়ায় গভর্নর পদে নির্বাচনের প্রচারণার সময় এক জনসভায় এক ব্যক্তি তার ওপর ডিম ছুঁড়ে মারেন।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণার সময় ২০০৪ সালে ভিক্টর ইয়ানুকোভিচ এমন আক্রমণের শিকার হয়েছিলেন। প্রথমে অনেকেই ইট ছোঁড়া হয়েছে ভেবে তাকে আঘাত পাওয়ার সাথে সাথে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো। কিন্তু পরে দেখা যায় সেটা ডিম ছিল।

অস্ট্রেলিয়ার সাধারণ নির্বাচনের আগে প্রচারণা চলাকালীন সময়ে ২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসনকে লক্ষ্য করে ডিম ছুঁড়েছিলেন এক ব্যক্তি। ডিমটি মি. মরিসনের মাথায় লাগলেও সেটি ভাঙেনি।

বিবিসির সেসময়ের এক খবরে দেখা যাচ্ছে, পুলিশ ২৫ বছর বয়সী এক নারীকে এ ঘটনায় গ্রেফতার করেছিলো।

২০২২ সালে উত্তর ফ্রান্সে প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনী প্রচারণার সময় ক্ষোভের মুখে পড়েন অতি ডানপন্থি দল ন্যাশনাল র‍্যালির নেতা মেরিন লে পেন। ডিমটি মিজ পেনের গায়ে পড়ার আগেই দেহরক্ষী তা ধরে ফেলেন।

হুদাকে ঢাকায় তার বাসা থেকে ধরে নিয়ে হেনস্তা করে একদল লোক।

ওই সময় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, নানাভাবে হেনস্তাসহ কেউ কেউ নূরুল হুদার দিকে ডিম ছুড়ে মারছে। পরে মি. হুদাকে পুলিশের হাতেও তুলে দেওয়া হয়েছিল।

এই প্রতিবাদের অর্থ কী?

লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ জানান, বিশ্বব্যাপী প্রতিবাদ বা ক্ষোভ প্রকাশের এই ভাষা দেহে বা শারীরিকভাবে আঘাতের উদ্দেশ্যে নয়, বরং সামাজিকভাবে হেয় করার জন্য করা হয়।

এটা মূলত অহিংস প্রতিবাদ বলে উল্লেখ করেন মি. আহমদ।

“যার ওপর ডিম ছুঁড়ে মারা হয় এটাকে একটা অপমান হিসেবে দেখা হয়। এখানে ব্যাপারটা দেহে আঘাত পাওয়ার চাইতে ইজ্জতে আঘাত পাওয়াটা বেশি প্রমিনেন্ট হয়। তাকে সামাজিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে করা হয়,” বলেন মি. আহমদ।

মি. আহমদ বলছিলেন, একটা সময় ক্ষোভ প্রকাশ করতে বাংলাদেশে পঁচা ডিম ছুঁড়ে মারা হতো। এখন আর সেটা শোনা যায় না।

এসবই এই প্রতিবাদের ভাষার প্রতীকী তাৎপর্য বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মি. আহমদ বলেন, “সবসময় যে রাজনৈতিক প্রতিবাদের অংশ হিসেবে ডিম ছোঁড়া হয় বিষয়টি এমন নয়। অনেক সময় মানুষ কেবল অপরের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করতেই এটা করে।”

সূত্র : বিবিসি বাংলা

রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু এখন ফরিদপুর: আজ তারেক রহমানের জনসভা, প্রস্তুত বিএনপি

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:৩৬ এএম
রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু এখন ফরিদপুর: আজ তারেক রহমানের জনসভা, প্রস্তুত বিএনপি

নির্বাচনী সফরের অংশ হিসেবে আজ বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) ফরিদপুরে আসছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ উপলক্ষে ফরিদপুর শহরজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। জনসভাকে ঘিরে জেলা ও মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মীরা ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, এই প্রথম ফরিদপুর সফরে আসছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দুপুরে তাকে বহনকারী হেলিকপ্টার ফরিদপুর স্টেডিয়ামে অবতরণ করবে। সেখান থেকে একটি সুসজ্জিত গাড়িবহর নিয়ে তিনি সরাসরি শহরের রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভাস্থলে যাবেন। আজ দুপুর ২টায় শুরু হতে যাওয়া এ জনসভায় বক্তব্য রাখবেন তিনি।

বিভাগীয় এ জনসভাকে কেন্দ্র করে রাজেন্দ্র কলেজ মাঠ ও আশপাশের এলাকায় তৈরি করা হয়েছে বিশাল মঞ্চ। মাঠজুড়ে বসানো হয়েছে ব্যানার, ফেস্টুন ও তোরণ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি। বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, ফরিদপুরসহ বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলা—ফরিদপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর থেকে নেতা–কর্মী ও সমর্থকদের ঢল নামবে এই জনসভায়। এতে লাখো মানুষের সমাগম হবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।

ফরিদপুর জেলা যুবদলের সভাপতি মো. রাজিব হোসেন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন,“তারেক রহমানের ফরিদপুর আগমন আমাদের জন্য ঐতিহাসিক ও প্রেরণাদায়ক একটি ঘটনা। তরুণ প্রজন্মের মাঝে বিএনপির রাজনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে এই জনসভা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। যুবদলসহ বিএনপির সব অঙ্গসংগঠনের নেতা–কর্মীরা দিনরাত পরিশ্রম করে জনসভা সফল করার জন্য কাজ করছে। আমরা আশা করছি, আজকের জনসভা ফরিদপুরের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, “এই জনসভা থেকে তারেক রহমান দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং জনগণের অধিকার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেবেন। তরুণ সমাজ তার বক্তব্য থেকে নতুন অনুপ্রেরণা পাবে।”

ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ কে এম কিবরিয়া স্বপন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি আজ নতুন উদ্যমে সংগঠিত হচ্ছে। ফরিদপুরের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে তারেক রহমানকে সরাসরি দেখার অপেক্ষায় ছিল। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটছে আজ। আমরা বিশ্বাস করি, এই জনসভা থেকে জনগণ গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও একটি জবাবদিহিমূলক সরকারের পক্ষে আরও ঐক্যবদ্ধ হবে।”

তিনি বলেন, “ফরিদপুর ঐতিহ্যগতভাবে গণতন্ত্রকামী মানুষের এলাকা। আজকের জনসভা প্রমাণ করবে, বিএনপি এখনো জনগণের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক শক্তি। আমরা শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে জনসভা আয়োজনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি।”

উল্লেখ্য, তারেক রহমানের এই সফরকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। জনসভা সফল করতে বিএনপির স্থানীয় ইউনিটগুলো একযোগে কাজ করছে। সব মিলিয়ে আজকের জনসভাকে ঘিরে ফরিদপুরে বিরাজ করছে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা।

‘ইনসাফের কথা’

মামুন সিকদার
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২৩ এএম
‘ইনসাফের কথা’

মোরা ঊষার পথের তরুণের দল
ইনসাফের কথা বলিবো সচল,
এক হাদি’কে গুলিবিদ্ধ করে
ক্ষান্ত করিতে পারিবে না বল।

মোরা শত শত হাদি আছি বাংলা জুড়ে
ক’টা গুলি আছে বল? হায়েনার দল,
মোরা ঊষার পথের তরুণের দল
ইনসাফের কথা বলিবো সচল।

মোরা থামবো না, মোরা থামবো না
ইনসাফের পথে করিবো সংগ্রাম,
বাংলা জুড়ে যারা করে ছল
অপশক্তি বিনাশ করিবো, আমরা আছি যারা।

তবু থামবো না, তবু থামবো না
আসুক যত ঝড় ও তুফান,
মোরা ঊষার পথের তরুণের দল
ইনসাফের কথা বলিবো সচল।

হেপাটাইটিস বি ভাইরাস সম্পর্কে যা জানা জরুরি: ছড়ায় কীভাবে, লক্ষণ ও প্রতিকার?

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:০১ এএম
হেপাটাইটিস বি ভাইরাস সম্পর্কে যা জানা জরুরি: ছড়ায় কীভাবে, লক্ষণ ও প্রতিকার?

হেপাটাইটিস বি একটি মারাত্মক কিন্তু প্রতিরোধযোগ্য লিভারজনিত ভাইরাস সংক্রমণ। হেপাটাইটিস বি ভাইরাস (HBV) থেকে এ রোগ হয়, যা স্বল্পমেয়াদি (একিউট) কিংবা দীর্ঘস্থায়ী (ক্রনিক) আকার ধারণ করতে পারে। উপসর্গ অনেক সময় দেরিতে প্রকাশ পাওয়ায় একে চিকিৎসা বিজ্ঞানে ‘নীরব ঘাতক’ও বলা হয়। বাংলাদেশে এ রোগের প্রাদুর্ভাব তুলনামূলক বেশি।

চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রায় ২০০ কোটি মানুষ জীবনের কোনো এক সময়ে হেপাটাইটিস বি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এবং প্রায় ৩০ কোটি মানুষ দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণ নিয়ে বসবাস করছেন। প্রতি বছর প্রায় ১০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয় এ রোগের জটিলতায়।

কীভাবে ছড়ায় হেপাটাইটিস বি

হেপাটাইটিস বি ভাইরাস মূলত আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত ও শরীরের অন্যান্য তরলের মাধ্যমে ছড়ায়। যেমন—

সংক্রমিত রক্তের সংস্পর্শ

একই সুচ বা সিরিঞ্জ একাধিকবার ব্যবহার (বিশেষ করে মাদক গ্রহণকারীদের মধ্যে)

অরক্ষিত যৌন সম্পর্ক

প্রসবের সময় মা থেকে শিশুর মধ্যে সংক্রমণ

অনিরাপদ রক্ত সঞ্চালন (বর্তমানে অনেক কম)

ট্যাটু, বডি পিয়ার্সিং বা অনিরাপদ চিকিৎসা ও সার্জিক্যাল যন্ত্র ব্যবহার

টুথব্রাশ, রেজারসহ ব্যক্তিগত সামগ্রী ভাগাভাগি

অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দান

স্বাস্থ্যসেবা কর্মীরাও সংক্রমিত রক্তের সংস্পর্শে এলে ঝুঁকিতে থাকেন।

হেপাটাইটিস বি-এর লক্ষণ

অনেক ক্ষেত্রেই সংক্রমণের পর প্রথম ১–৪ মাস কোনো লক্ষণ বোঝা যায় না। শিশুদের ক্ষেত্রে উপসর্গ একেবারেই নাও থাকতে পারে। তবে সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—

অতিরিক্ত ক্লান্তি ও দুর্বলতা

জ্বর

ক্ষুধামান্দ্য

বমি বমি ভাব বা বমি

পেটে ব্যথা

গাঢ় রঙের প্রস্রাব

সন্ধি বা অস্থিসন্ধিতে ব্যথা

ত্বক ও চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যাওয়া (জন্ডিস)

রোগ গুরুতর হলে লিভার বিকল হলে মৃত্যুঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

কীভাবে রোগ নির্ণয় করা হয়

হেপাটাইটিস বি সনাক্ত করতে চিকিৎসকেরা কয়েকটি পরীক্ষার পরামর্শ দেন—

রক্ত পরীক্ষা (HBsAg, অ্যান্টিবডি)

লিভার ফাংশন টেস্ট

পিসিআর টেস্ট (ভাইরাসের পরিমাণ নির্ণয়)

আল্ট্রাসাউন্ড

প্রয়োজনে লিভার বায়োপসি

দ্রুত রোগ সনাক্ত হলে জটিলতা এড়ানো সম্ভব।

চিকিৎসা কীভাবে হয়

একিউট হেপাটাইটিস বি:

অধিকাংশ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল ওষুধের প্রয়োজন হয় না। বিশ্রাম, পুষ্টিকর খাবার ও পর্যাপ্ত পানি গ্রহণই যথেষ্ট।

ক্রনিক হেপাটাইটিস বি:

অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ প্রয়োজন হয়। মুখে খাওয়ার ও ইনজেকশন—দুই ধরনের চিকিৎসাই রয়েছে। মুখে খাওয়ার ওষুধ সাধারণত দীর্ঘদিন বা আজীবন চালিয়ে যেতে হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করলে লিভারের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। বর্তমানে ব্যবহৃত ওষুধ ভাইরাস পুরোপুরি নির্মূল করতে না পারলেও নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তুলনামূলক কম।

চিকিৎসার পর সুস্থ থাকতে করণীয়

চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা

পুষ্টিকর ও ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্য গ্রহণ

পর্যাপ্ত পানি পান

অ্যালকোহল পরিহার

নিয়মিত হালকা ব্যায়াম

পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম

উপসর্গ বাড়লে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া

হেপাটাইটিস বি প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়

হেপাটাইটিস বি একটি নিরাপদ ও কার্যকর টিকার মাধ্যমে প্রায় ১০০ শতাংশ প্রতিরোধযোগ্য।

বাংলাদেশে ২০০৩–২০০৫ সাল থেকে ইপিআই কর্মসূচির আওতায় শিশুদের জন্মের পর বিনামূল্যে এ টিকা দেওয়া হচ্ছে। পূর্ণবয়স্করাও যেকোনো বয়সে ০, ১ ও ৬ মাসে মোট ৩ ডোজ টিকা নিয়ে সুরক্ষা পেতে পারেন।

তবে টিকা নেওয়ার আগে রক্ত পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে হয়—আগে ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন কি না বা শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে কি না। একবার সংক্রমিত হলে টিকা আর কার্যকর নয়।

সম্ভাব্য জটিলতা

দীর্ঘস্থায়ী লিভার রোগ

সিরোসিস

লিভার ক্যান্সার

লিভার ফেইলিওর

অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া

বিশেষজ্ঞদের মতে, হেপাটাইটিস বি ভয়ংকর হলেও সময়মতো সচেতনতা, টিকা ও চিকিৎসার মাধ্যমে একে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। নিয়মিত পরীক্ষা ও স্বাস্থ্যবিধি মানাই এ রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে বড় অস্ত্র।

সূত্র : যুগান্তর