খুঁজুন
, ,

রাজপথে শক্তিশালী, কিন্তু কোথায় আটকে যাচ্ছে বিএনপি-জামায়াত?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:১৩ পূর্বাহ্ণ
রাজপথে শক্তিশালী, কিন্তু কোথায় আটকে যাচ্ছে বিএনপি-জামায়াত?

এবারের নির্বাচনে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে বিএনপির জয় সহজ হতে পারে, এমন একটা ধারণা ছিল প্রথম দিকে। কিন্তু যত দিন গড়াচ্ছে, নানামুখী চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে দলটির সামনে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে বিএনপির পুরোনো মিত্র জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গেই তাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়ছে। এই দুই দলেই বাড়ছে অস্থিরতা-উত্তেজনা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, নির্বাচনী প্রচারণায় দল দুটির শীর্ষ নেতৃত্বের কথায়ও প্রকাশ পাচ্ছে সেই অস্থিরতা। তারা জড়িয়ে পড়ছেন বাকযুদ্ধে; কখনো কখনো বিতর্কের জন্ম দিচ্ছেন।

ত্রয়োদশ এই জাতীয় সংসদ নির্বাচন হচ্ছে ভিন্ন এক বাস্তবতায়।

বিএনপির চির প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করায় দলটি মাঠে নেই। ফলে রাজনীতিতে এক ধরনের শূন্যতা তৈরি হয় বলে বিএনপিসহ বর্তমানে সক্রিয় দলগুলোর নেতাদেরই অনেকে মনে করেন।

তারা বলছেন, এই শূন্যতার মধ্যে বিএনপির পুরোনো মিত্র জামায়াতে ইসলামী তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে দাঁড়িয়েছে; মেরুকরণ হয়েছে রাজনীতিতে।

জামায়াত ১১টি দল নিয়ে নির্বাচনী ঐক্য গঠন করে ভোটের মাঠে এখন বিএনপির মূল প্রতিদ্বন্দ্বী।

এই জোটে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি রয়েছে। এছাড়া জোটের বেশিরভাগই ইসলামী দল।

জামায়াতসহ এসব ইসলামী দল বিএনপির দীর্ঘদিনের মিত্র ছিল। এখন তাদেরই জোট ক্ষমতায় যাওয়ার টার্গেট নিয়ে ভোটের লড়াইয়ে বিএনপির মুখোমুখি।

নির্বাচনে সর্বশক্তি নিয়ে নেমেছে জামায়াত জোট। বিএনপিরও শীর্ষ নেতা তারেক রহমান লন্ডনে ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে দেশে ফিরে চষে বেড়াচ্ছেন ভোটের মাঠ।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, মি. রহমানের সরাসরি নেতৃত্ব দেওয়ার বিষয়টি এবার নির্বাচনে বিএনপির নেতাকর্মীদের জন্য শক্তির জায়গা হয়েছে। কিন্তু ভিন্ন রাজনৈতিক মেরুকরণে, ভিন্ন বাস্তবতায় নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে দলটির জন্য; অনেক ক্ষেত্রে দলটির দুর্বলতাও দৃশ্যমান হচ্ছে।

জামায়াতের সামনেও আসছে অনেক চ্যালেঞ্জ। তাদেরও শক্তি ও দুর্বলতার জায়গাগুলো প্রকাশ পাচ্ছে।

বিএনপির সাত চ্যালেঞ্জ

দলটির দুর্বলতা, চ্যালেঞ্জের জায়গা অনেক। তবে বিএনপির নেতা-কর্মীরা যে বিষয়গুলোকে সমস্যা হিসেবে দেখছেন, সেখানে বড় সাতটি চ্যালেঞ্জ হচ্ছে:

১. দলের বিদ্রোহী প্রার্থী।

২. রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর গত ১৮ মাসে সারাদেশে বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি-দখলের অভিযোগ।

৩. তরুণ ভোটারদের বিএনপির পক্ষে টানার ক্ষেত্রে প্রচারণায় ঘাটতি।

৪. সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রচারণা থেকে পিছিয়ে থাকা।

৫. নারীদের মধ্যে তালিমের নামে জামায়াতের প্রচারণার মুখেও পিছিয়ে থাকা।

৬. প্রচারণায় প্রতিপক্ষের ধর্মের ব্যবহার।

৭. প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের প্রশ্নে বিএনপির অবস্থানের অস্পষ্টতার অভিযোগ।

আসলে কতটা চ্যালেঞ্জে বিএনপি

“দলের বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় আমাদের আসনে নেতাকর্মীরা বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। এর প্রভাব ভোটারদের মধ্যেও পড়তে পারে। এটা আমাদের দলীয় প্রার্থীর জন্য বড় সংকট।”

বিবিসি বাংলার কাছে এই বক্তব্য দিয়েছেন নেত্রকোনা-৩ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর প্রচারণায় যুক্ত থাকা স্থানীয় একজন নেতা।

সংসদীয় যে ৭৯টি আসনে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে এবং বিএনপি থেকে বহিষ্কার হওয়ার পরও প্রার্থী হয়েছেন, এসব আসনেই নেত্রকোনা-৩ আসনের মতো একই চিত্র বলে দলটির নেতা-কর্মীদের অনেকে বলছেন।

বিএনপির একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা জানিয়েছেন, দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে আসা তথ্য ও তাদের নিজস্ব জরিপ অনুযায়ী ৭৯টি আসনে বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে ৪৬ জন শক্ত অবস্থানে আছেন।

বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় তাদের বিএনপি থেকে বহিষ্কার করার পরও তারা ভোটে রয়েছেন এবং বেশিরভাগ আসনেই তারাই দলীয় প্রার্থীর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হচ্ছেন

বিএনপি শীর্ষ পর্যায়ের একজন নেতা বলেছেন, বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে এটিকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন তারা।

বিদ্রোহী প্রার্থীর বিষয়টি বিএনপির সাংগঠনিক বা অভ্যন্তরীণ সমস্যা, যা সামলাতে পারেনি দলটি।

চাঁদাবাজি, দখলের অভিযোগ নিয়েও বিএনপির বিরুদ্ধে নেতিবাচক আলোচনা রয়েছে। এটিকে নির্বাচনি প্রচারণায় বিএনপির বিরুদ্ধে বড় ইস্যু হিসেবে সামনে আনছেন তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের শীর্ষ নেতারা।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে পট পরিবর্তনের পর থেকে সারাদেশে একেবারে গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত হাট-বাজারে, বাস টার্মিনাল-নৌঘাটে চাঁদাবাজি এবং জমি-বাড়ি, এমনকি ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের অনেক নেতা-কর্মীর ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, দোকান দখলের ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে। এর বেশিরভাগ অভিযোগই বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।

যদিও বিএনপি প্রায় দশ হাজার নেতাকর্মীকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে। কিন্তু থামানো যায়নি চাঁদাবাজি-দখল।

লেখক ও বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ মনে করেন, দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব দল থেকে বহিষ্কার বা সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলে এর দায় এড়াতে পারেন না।

তিনি বলেন, “বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরে চাঁদাবাজি-দখলের মতো অপরাধ করা থেকে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন-এমন ধারণা ছিল। কিন্তু নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি”

“দলের বিদ্রোহী প্রার্থীও থামানো যায়নি। এখানে নেতৃত্বের দুর্বলতার বিষয় আলোচনায় আসছে” বলে মনে করেন মি. আহমদ।

যদিও বিএনপি নেতারা বলছেন, ওই দুটি বিষয় বিরোধীপক্ষ প্রচারণায় ব্যবহার করলেও তাদের ভোটে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না।

কিন্তু সন্দেহ রয়েছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।

বিএনপির প্রচারণায় ঘাটতি

যদিও তারেক রহমান মাঠে দলের নির্বাচনী প্রচারণায় সশরীরে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এরপরও প্রচারণায় কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিএনপি পিছিয়ে রয়েছে বলে দলটির ভেতরে আলোচনা আছে।

নেত্রকোনা, বগুড়া, রংপুরসহ কয়েকটি জেলার বিএনপির তৃণমূলের কয়েকজন নেতা বলছিলেন, তরুণদের মাঝে প্রচারণায় বা যোগাযোগে দলের ঘাটতি আছে।

কারণ আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন তরুণরা।

এবার নির্বাচনের ভোটারদের এক তৃতীয়াংশ, অর্থাৎ চার কোটির বেশি তরুণ ভোটার রয়েছেন।

তাদের একটা বড় অংশ আওয়ামী লীগ আমলে দেড় দশকে বিগত তিনটি বিতর্কিত নির্বাচনে ভোট দিতে পারেননি। ফলে এবার ভোটের প্রতি তাদের আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ বিবিসি বাংলাকে বলেন, তরুণদের মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকে অনেক পরিবর্তন হয়েছে। এখন গতানুগতিক প্রচারে তাদের আকৃষ্ট করা যাবে না।

অবশ্য তরুণ ও নারী ভোটারদের সমর্থন পেতে তারেক রহমান তার মেয়ে জাইমা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি নিচ্ছেন।

কিন্তু এরপরও বিএনপির প্রচারণায় দুর্বলতা বা ঘাটতির অভিযোগ আলোচনায় রয়েছে।

অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ মনে করেন, “তরুণদের কানেক্ট করার ক্ষেত্রে বিএনপির ঘাটতি আছে। তরুণ ভোটের জন্য তাদের আরও চিন্তাশীল কিছু করা প্রয়োজন।”

আরেকটি বড় অংশ নারী ভোট। তাদের মাঝে বিএনপির প্রচারণা শুরু হয়েছে বিলম্বে।

জামায়াতের নারী বিভাগের নেতা-কর্মীরা সারাদেশে বিভিন্ন এলাকা বা মহল্লায় নারীদের নিয়ে ধর্মীয় বিষয়ে নিয়মিত আলোচনা বা বৈঠক করে আসছিলেন কয়েক বছর ধরে। সেটিকে ‘তালিম’ বলে পরিচিত করে আসছে জামায়াত।

এই তালিমের নামে অনেক আগে থেকেই নারী ভোটারদের ঘরে ঘরে গিয়ে জামায়াতের নারী কর্মীরা প্রচারণা চালাচ্ছেন। এতে ধর্মকে ব্যবহারের অভিযোগ করছে বিএনপি।

জামায়াতের তালিমের পাল্টা উঠান বৈঠক নাম দিয়ে নারীদের কাছে প্রচারণা চালাচ্ছে বিএনপি।

কিন্তু দলটির এই কৌশলে বিলম্ব হয়েছে অনেকটা সময়। সে কারণে নারী ভোটারের বড় অংশের কাছে বিএনপির প্রার্থীরা সরাসরি পৌঁছুতে পারবেন কিনা, এনিয়ে বিএনপি নেতাদের অনেকের সন্দেহ আছে।

ফেসবুকসহ সামাজিক মাধ্যমেও প্রচারণায় বিএনপির পিছিয়ে থাকার কথা বলছেন বিশ্লেষকেরা।

তারা মনে করেন, সামাজিক মাধ্যমের একটা প্রভাব তৈরি হয়েছে সমাজে। কিন্তু এই মাধ্যমে বিএনপির তুলানায় জামায়াত অনেক এগিয়ে রয়েছে। বিএনপিকে ঘায়েল করতে জামায়াতের প্রচারণা পরিকল্পিত এবং সংগঠিতভাবে হচ্ছে।

বিএনপিও জামায়াতের বিরুদ্ধে সামাজিক মাধ্যমে ‘বট বাহিনী’ ব্যবহারের অভিযোগ করছে।

এবার সামাজিক মাধ্যমে এবং মাঠের প্রচারণায় ধর্মের ব্যবহার বেশি হচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের কেউ কেউ বলছেন।

তারা মনে করেন, পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জামায়াতসহ ইসলামী দলগুলোর শক্তি ও প্রভাব বেড়েছে। সেকারণে প্রচারণায় ধর্মের ব্যবহার বেশি চোখে পড়ছে।

‘জামায়াতের প্রার্থীকে ভোট দিলে জান্নাতে যাবে’ দলটির বিরুদ্ধে এ ধরনের প্রচারণা চালানোর অভিযোগও তুলেছে বিএনপি।

দলটির নেতারা বলছেন, “জান্নাতের টিকেট বিক্রি করাসহ ধর্মকে ব্যবহার করে প্রচারণা চালাচ্ছে জামায়াত। ফলে বিএনপিকেও সতর্কভাবে অনেক সময় ধর্মের বিষয় আনতে হচ্ছে।”

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নির্বাচনে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ থাকবে। সেগুলো মোকাবিলা করেই তারা এগোচ্ছেন এবং ভোটারদের স্বতস্ফূর্ত সমর্থন পাচ্ছেন।

তবে দলটির অন্য একাধিক নেতার অভিযোগ হচ্ছে, “স্বতস্ফূর্ত জনসমর্থন না পেয়ে জামায়াত নানারকম মেকানিজমের দিকে নজর দিচ্ছে, সেটিই বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।”

জামায়াতের চ্যালেঞ্জ

যদিও দলটির নেতা-কর্মীরা এমন একটা ধারণা তৈরি করছেন যে, ক্ষমতার প্রশ্নে এবারের ভোট জামায়াতের জন্য বড় সুযোগ হিসেবে এসেছে।

কিন্তু তারপরও ভোটের মাঠে তাদের জন্য চ্যালেঞ্জ রয়েছে অনেক।

১. জামায়াতের পক্ষে স্বতস্ফূর্ত জনসমর্থনে ঘাটতি আছে।

২. ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন।

৩. নারী অধিকার প্রশ্নে জামায়াতের অবস্থানে অস্পষ্টতার অভিযোগ।

৪. সরকার বা দেশ পরিচালানায় অভিজ্ঞতা নেই।

৫. প্রচারণায় প্রতিশ্রুতি ও কাজের মিল থাকবে কি না-এ প্রশ্নে অনেকের সন্দেহ।

৬. ভূ-রাজনীতিতে দলটির অবস্থান কী হবে, সেই প্রশ্নে অস্পষ্টতার অভিযোগ।

জনসমর্থনে ঘাটতির অভিযোগ কেন

জামায়াত সংগঠিত দল এবং তাদের শক্তি বেড়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করেন।

ভোটের মাঠেও দলটির সংগঠিত ও পরিকল্পিত প্রচারণা সবার চোখে পড়ছে। ঢাকাসহ বিভিন্ন নির্বাচনি এলাকায় জামায়াত জমায়েত করছে এবং মাঠে ও সামাজিক মাধ্যমে দলটির নেতা-কর্মীরা সর্ব শক্তি দিয়ে নেমেছেন।

এমন তৎপরতার কারণে জামায়াত অন্যতম প্রধান দল বিএনপির মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে এসেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

কিন্তু তারা বলছেন, বড় দল হিসেবে বিএনপির যেমন সারাদেশে বিস্তৃত সাংগঠনিক শক্তি ও জনসমর্থন আছে। জামায়াত সংগঠিত হলেও বিস্তৃত স্বতস্ফূর্ত জনসমর্থনের ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়েছে।

এছাড়াও দেশের সব এলাকায় জামায়াতের সাংগঠনিক অবস্থা শক্তিশালী বা বিস্তৃত নয়।

ফলে ভোটে এই বিষয়টি জামায়াতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বলে বিশ্লেষকেরা বলছেন।

যদিও অনেক ভোটারের কাছে জামায়াত একটি বিষয় পৌঁছিয়ে দিয়েছে যে, মানুষ আওয়ামী লীগ-বিএনপির শাসন দেখেছে। এবার তারা নতুন কাউকে দেখতে চায়।

তাদের এমন ‘ন্যারেটিভ’ বিএনপির জন্য কিছুটা চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে বলেও রাজনীতিকদের অনেকে মনে করেন।

তবে বাংলাদেশে জামায়াতের রাষ্ট্র পরিচালনার কোনো অভিজ্ঞতা নেই- এই ইস্যুকে সামনে আনছে বিএনপি তাদের প্রচারণায়।

বিএনপির এই প্রচারণাও জামায়াতের জন্য চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে।

নারী অধিকার প্রশ্নেও জামায়াতের অবস্থান নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। বিশেষ করে একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে জামায়াতের আমির একটি বক্তব্য এসেছে যে, নারীরা কখনো তাদের দলের আমির হতে বা নেতৃত্বে আসতে পারবেন না।

এই বক্তব্য নিয়ে ভোটের মাঠে চলছে নানা বিতর্ক।

যদিও দলটি বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের উদারনীতি নেওয়ার কথা বলছে, কিন্তু সমাজে এক ধরনের সন্দেহ কাজ করছে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করেন।

তারা বলছেন, উদারনীতির কথা বললেও ক্ষমতায় গেলে জামায়াত তা কতটা বাস্তবায়ন করবে বা ভোটের প্রতিশ্রুতি ও কাজের মিল কতটা থাকবে-এই সন্দেহটাই আসছে আলোচনায়।

এ বিষয়টিও জামায়াতের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এখনো ৭১

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল জামায়াত।

সেই যুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দলটির শীর্ষ নেতাদের বিচার হয়েছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের আমলে।

কিন্তু ১৯৭১ সালের ভূমিকার জন্য ৫৪ বছরেও জামায়াত কখনো অনুষ্ঠানিক ভুল স্বীকার বা দুঃখ প্রকাশ করেনি, ক্ষমা চায়নি।

ফলে এ নিয়ে এখনো জনগোষ্ঠীর বড় অংশের মধ্যে জামায়াতের ব্যাপারে নেতিবাচক মনোভাব আছে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করেন।

জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেন, অতীত তাদের নির্বাচনে কোনো প্রভাব ফেলবে না। তাদের দলের ভবিষ্যত পরিকল্পনা ভোটারদের আকৃষ্ট করছে।

তবে একাত্তর ইস্যু এবারের ভোটেও সামনে এসেছে। তাদের পুরোনো মিত্র বিএনপির প্রচারণাতেও জামায়তের বিরুদ্ধে একাত্তরে দলটির ভূমিকার সেই অতীতকে বিশেষভাবে তুলে ধরা হচ্ছে।

ভূ-রাজনীতির প্রভাব কতটা

বিশ্লেষকেরা বলছেন, বাংলাদেশের রাজনীতি ঘিরে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের তৎপরতা বিভিন্ন সময় দৃশ্যমান হয়েছে।

তবে আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় বাংলাদেশের এবারের নির্বাচনের দিকে অনেক বেশি নজর রাখছে বিভিন্ন দেশ। এদের মধ্যে আছে, যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্ব এবং চীন, প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তান।

প্রতিদ্বন্দ্বী দুই দল বিএনপি ও জামায়াতের বর্তমান ও ভবিষ্যত অবস্থান কী-সেটা জানার আগ্রহ দেখা যাচ্ছে ওই দেশগুলোর কূটনীতিকদের মধ্যে।

ঢাকায় কর্মরত ওই দেশগুলোর কূটনীতিকেরা বিএনপি-জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করছেন।

দল দুটোর দিক থেকেও বিভিন্ন বিষয়ে তাদের উদারনীতি তুলে ধরার চেষ্টা রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

জুলাই গণ-অভ্যত্থানের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের টানাপোড়েন একবারে তলানি গিয়ে ঠেকেছে।

অন্যদিকে, এ সময়ে আওয়ামী লীগ ও তার মিত্রদের অনুপস্থিতিতে যে দলগুলো সক্রিয় রয়েছে, তাদের বেশিরভাগেরই ভারতবিরোধী অবস্থান।

ফলে দেশের রাজনীতিতে এবং ভোটের প্রচারণাতেও ভারতবিরোধিতার বিষয়কে কার্ড হিসেবে আনছে কোনো কোনো দল।

জামায়াতসহ ইসলামী বিভিন্ন দলের নেতাদের অনেকে অভিযোগ তুলেছেন যে, বিএনপির সঙ্গে ভারতের এক ধরনের সমঝোতা হয়ে থাকতে পারে। সেকারণে বিএনপি তাদের প্রচারণায় এবার ভারত বিরোধী কোনো বক্তব্য দিচ্ছে না।

ভারত প্রশ্নে বিএনপির অবস্থান স্পষ্ট নয়, এটিই অভিযোগ ইসলামী বিভিন্ন দলের।

এ বিষয়টি বিএনপির জন্য এক ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। দলটির নেতাদের অনেকে বলছেন, এমন পরিস্থিতির কারণে সীমান্তে মানুষ হত্য বন্ধ করা এবং অভিন্ন নদীর পানির হিস্যা আদায়সহ দুই দেশের অমীমাংসিত ইস্যু নিয়ে তাদের বক্তব্য তুলে ধরতে হয়েছে।

জামায়াতের বিরুদ্ধেও ভূরাজনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপটে অবস্থানের অস্পষ্টতার পাল্টা অভিযোগ তোলা হয়েছে তাদের প্রতিপক্ষ থেকে।

কূটনীতির বিশ্লেষকেরা বলছেন, দলগুলো ভোটে অন্যান্য চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি ভূ-রাজনীতির বিষয়ও বিবেচনায় নিচ্ছে বলে তাদের ধারণা।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

ফরিদপুরে ‎মাদক কারবারিকে ধরিয়ে দিতে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬, ৮:৫৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ‎মাদক কারবারিকে ধরিয়ে দিতে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা

ফরিদপুরের সালথা মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে মাদক কারবারিকে ধরিয়ে দিতে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিষ্ণুদী যুব উন্নয়ন সংগঠন।

‎শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে সংগঠনটির আয়োজনে উপজেলার বল্লভদী ইউনিয়নের বিষ্ণুদী গ্রামে বিষ্ণুদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত মাদকবিরোধী সমাবেশে সংগঠনের পক্ষ থেকে অধ্যাপক কামরুল ইসলাম এ ঘোষণা দেন।

‎তিনি বলেন, এই গ্রামের কোনো মাদক কারবারিকে প্রমাণসহ ধরিয়ে দিতে পারলে তাকে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে।

‎’মাদককে না বলুন, জীবনকে হ্যাঁ বলুন’এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত সমাবেশে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

‎সংগঠনের সভাপতি মো. রবিউল মুন্সী বলেন,
‎নতুন প্রজন্মকে রক্ষায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, একটি পরিবার ও পুরো সমাজকে ধ্বংস করে। তাই মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

‎উপস্থিত বক্তারা বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে শুধু প্রশাসনের ওপর নির্ভর করলে হবে না। সাধারণ মানুষকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। এলাকার তরুণদের সুরক্ষা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে মাদকের বিস্তার রোধ এখন সময়ের দাবি।

‎সমাবেশ থেকে রাত বেরাতে অকারণে এলাকায় ঘোরাফেরা না করার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি সন্দেহজনক কোনো কার্যকলাপ চোখে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে এলাকাবাসীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

‎বক্তারা আরও বলেন, মাদকাসক্তরা টাকার অভাবে একসময় চুরি-ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। তাই প্রত্যেক অভিভাবককে নিজ নিজ সন্তানদের প্রতি নজর রাখতে হবে। এলাকার মাদক বিক্রেতা ও মাদকসেবীদের বিষয়ে সবাই কমবেশি অবগত এখন প্রয়োজন তাদের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে সোচ্চার হওয়া।

‎উপস্থিত এলাকাবাসী অঙ্গীকার করে বলেন, মাদক বিক্রেতা বা সেবনকারী আটক হলে সে নিজের সন্তান হলেও তাকে ছাড়িয়ে আনতে যাব না।

‎এছাড়া সমাবেশ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, রাত ১০টার পর গ্রামের দোকানপাট খোলা রাখা যাবে না এবং ছেলে-মেয়েরা যেন অকারণে গভীর রাতে বাইরে ঘোরাফেরা না করে, সেদিকে অভিভাবকদের বিশেষ নজর রাখতে হবে।

‎মাদকবিরোধী সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ফুলবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ কে এম মহিউদ্দিন, প্রবীণ আলেম মেজবাহ উদ্দিন, হাফিজুর মাতুব্বর, হবি মোল্যা, ইউপি সদস্য উজ্জ্বল শেখ, সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ দুই শতাধিক গ্রামবাসী উপস্থিত ছিলেন।

‘এবারের বাজেটে স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে’ : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬, ৫:৫০ অপরাহ্ণ
‘এবারের বাজেটে স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে’ : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, এবারের বাজেট স্বাস্থ্য খাতের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের বাজেট। বর্তমান এই ভঙ্গুর অর্থনীতিতে স্বাস্থ্য সেবায় এবং স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ কি পরিমাণে বরাদ্দ দেওয়া যেতে পারে এটি সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রীর সব সেক্টরে সমানভাবে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে চলছেন। যার মধ্যে অগ্রাধিকার রয়েছে স্বাস্থ্য খাত।

শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সভাপতি নির্বাচিত করায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামকে সংবর্ধনা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় তিনি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নিয়ে বলেন, ভৌগলিক কারণে এই অঞ্চলের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এই মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেসব অনিয়ম রয়েছে সবকিছু আমাদেরকে ঠিক করতে হবে। সর্বোপরি আমরা চাই আমাদের রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে। রোগী হাসপাতাল এসে যদি সেবা না পাই এবং চিকিৎসা না পাওয়ার কারণে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয় তাহলে এটা হাসপাতালের অদক্ষতায় মধ্যে পড়ে। হাসপাতালে দুর্নীতি বন্ধ করা, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা আমার প্রধান লক্ষ্য থাকবে। আমরা যদি এগুলো বন্ধ করতে পারি তাহলে হাসপাতাল অনেক ভালোভাবে চলবে। আর এ জন্য কোন আপোষ আমি করব না। কারণ এটা আমার দায়বদ্ধতার ভিতর পরে।

শামা ওবায়েদ বলেন, বিগত দিনের মতো রাজনৈতিক দলের পরিচয় ধরে কেউ যাতে হাসপাতালের অনৈতিক কাজ বা পরিবেশ নষ্ট না করতে পারে সেটা দেখতে হবে। এক্ষেত্রে সম্মিলিত ভাবে কাজ করতে হবে সবাইকে।

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. হুমায়ূন কবিরের সভাপতিত্বে এসময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জেলা প্রশাসক মো. মাজাহারুল ইসলাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. আফজাল হোসেন খান পলাশ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেছ আলী ইছা, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. দিলরুবা জেবা, বিএমএ এর সাধারণ সম্পাদক ডা. আলী আকবর, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ জুলফিকার হোসেন জুয়েল প্রমুখ। এ সময় হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধানসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

ফরিদপুরে বিষপানে যুবকের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬, ৫:২৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে বিষপানে যুবকের মৃত্যু

ফরিদপুরে বিষপানে সোহেল শেখ ওরফে সাইদুল (৩৮) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। ছয় দিন ধরে চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে তিনি মারা যান।

নিহত সোহেল শেখ ফরিদপুর পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের রঘুনন্দনপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি হানিফ শেখের ছেলে।

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ জুন বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে সোহেল শেখ বিষপান করেন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে কয়েকদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মৃত্যুর খবর পেয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালী থানার পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে প্রয়োজনীয় সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

ফরিদপুরের কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে গিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।”

পুলিশ জানিয়েছে, কী কারণে সোহেল শেখ বিষপান করেছিলেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।