খুঁজুন
বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২৮ মাঘ, ১৪৩২

নির্বাচনী প্রচারে গণমাধ্যম নিরপেক্ষতা দেখায়নি: মিডিয়া ওয়াচ বাংলাদেশ 

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩:৫১ পিএম
নির্বাচনী প্রচারে গণমাধ্যম নিরপেক্ষতা দেখায়নি: মিডিয়া ওয়াচ বাংলাদেশ 

নির্বাচনী প্রচারণায় বেশিরভাগ গণমাধ্যম নিরপেক্ষতা দেখাতে পারেনি এবং বিএনপিকে জামায়াতের চেয়ে কাভারেজ বেশি দিয়েছে বলে জানিয়েছে মিডিয়া ওয়াচ বাংলাদেশ নামের একটি প্লাটফর্ম।

বুধবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে মিডিয়া ওয়াচ বাংলাদেশের প্রথম সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, সংবাদ প্রচারে কোনো কোনো গণমাধ্যম, কোনো কোনো সাংবাদিক পেশাদারী হওয়ার পরিবর্তে অ্যক্টিভিজম চর্চা করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে প্লাটফর্মটির প্রতিনিধি ও একতা বাংলাদেশ নামের একটি সংগঠনের আহ্বায়ক প্লাবন তারিক বলেন, ‘অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে যা করার কথা ছিল, তা করা যায়নি। আজকে গণমাধ্যমের ওপর হামলা হচ্ছে। গণমাধ্যমের নিরপেক্ষ থাকার কথা থাকলেও তা হয়নি। কোনো না কোনো দলের পক্ষে কাজ করছে গণমাধ্যমগুলো। নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে না।’

‘গণমাধ্যমসহ সবার কাছে যে নিরপেক্ষতার প্রত্যাশা ছিল তা তারা পালন করতে পারেনি।’ বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

প্লাবন তারিক বলেন, ‘নির্বাচনের প্রচারণার ১৮ দিনের তথ্য দিয়ে গণমাধ্যমের পক্ষপাতিত্ব তুলে ধরেছে মিডিয়া ওয়াচ।’

গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করে প্লাবন তারিক বলেন, ‘প্লাটফর্মটি কোনো মিডিয়া পুলিশিং করছে না।’

প্লাবন তারিক জানান, ‘১৯৭৫ সালে ২৯টি দৈনিক ও ১৩৮টি সাপ্তাহিক পত্রিকা বন্ধ করে দেওয়া হয়। শেখ হাসিনার আমলে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের মতো নিবর্তনমূলক আইন করে গণমাধ্যমকে, গণমাধ্যমকর্মীকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হতো।’

মিডিয়া ওয়াচ বাংলাদেশের প্রতিনিধি প্লাবন তারিক বলেন, ‘শেখ হাসিনা আমলের পর গণমাধ্যম একটা বড় সংস্কারের মধ্য দিয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও তার কিছুই হয়নি। মালিকানা পরিবর্তন হলেও এডিটোরিয়াল পলিসিতে কোনো পরিবর্তন হয়নি। তারা ভয়ে আছে যদি বিএনপি আসে, যদি জামায়াত আসে এসব ভেবে। তারা পক্ষপাতমূলক সংবাদ প্রকাশ করে যাচ্ছে।’

প্লাবন তারিক বলেন, ‘সবাইকে সমান কাভার দেওয়ার কথা বলা হলেও তা পরিলক্ষিত হয়নি। বিএনপি ও জামায়াতের সংবাদ প্রচারের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে দেখা যায়। মিডিয়াগুলো কীভাবে কাজ করছে তা তুলে ধরার জন্যই এ প্রতিবেদন, অন্য কোনো উদ্দেশ্যে নয়।’

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২২ জানুয়ারি থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি সময়ে দিনভিত্তিক ও প্রতিবেদনের সংখ্যাভিত্তিক বিএনপি ও জামাতকে কাভারেজ দেওয়ার তুলনামূলক চিত্রে ৫টি অনলাইন, ৫টি দৈনিক পত্রিকা ও ৫টি টেলিভিশনের প্রচারিত সংবাদ নিয়ে এ প্রতিবেদন। প্রতিবেদনের চিত্রে জামায়াতের থেকে বিএনপিকে গড়ে কাভারেজ বেশি দেওয়া হয়েছে বলে উঠে এসেছে।

প্লাবন তারিক বলেন, ‘বিটিভি বিএনপি ও জামায়াতকে সমান কাভারেজ দিয়েছে। তবে বাকি টেলিভিশনগুলো বিএনপিকে বেশি দিয়েছে।’

ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনকে এ প্রতিবেদনে রাখা হয়নি। সময়, যমুনা, চ্যানেল টুয়েন্টি ফোর ও বাংলা ভিশনকে রাখা হয়েছে। অন্যান্য সব গণমাধ্যমের খবর নেওয়া হলেও সময়ের বিবেচনায় প্রতিবেদনে রাখা হয়নি।

প্লাবন তারিক বলেন, ‘মিডিয়া ওয়াচ বলতে চায় গণমাধ্যম যেন নিরপেক্ষতা বজায় রাখে। ফ্যাক্ট চ্যাকিংকে গুজব প্রতিরোধে আরও শক্তিশালী করতে হবে। সাংবাদিকদের পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে হবে। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। সাংবাদিকতার এথিক্স মেনে চলতে হবে। টকশোগুলোর চ্যাক অ্যান্ড ব্যালেন্স বজায় রাখতে হবে। সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমকে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। গণমাধ্যমের মালিকদের সততার পরিচয় দিতে হবে। এসব প্রতিপালিত না হলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে না, কর্তৃত্ববাদী শাসনই প্রতিষ্ঠিত হবে।’

সূত্র : ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন 

কড়া নিরাপত্তায় প্রস্তুত ফরিদপুর: ৬৫৭ কেন্দ্রে ভোট, ঝুঁকিপূর্ণ ২৫০

হারুন-অর-রশীদ ও মো. শরিফুল ইসলাম, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:৫৮ পিএম
কড়া নিরাপত্তায় প্রস্তুত ফরিদপুর: ৬৫৭ কেন্দ্রে ভোট, ঝুঁকিপূর্ণ ২৫০

আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সারা দেশের মতো ফরিদপুর জেলাতেও উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনকে ঘিরে জেলার প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।

কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মোতায়েন এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ নজরদারির মধ্য দিয়ে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

কেন্দ্র ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি:

ফরিদপুর জেলায় মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ৬৫৭টি। এর মধ্যে ২৫০টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশেষ করে চরাঞ্চল ও দুর্গম এলাকাভিত্তিক ২৪টি কেন্দ্রকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে প্রশাসন। এসব কেন্দ্রে বাড়তি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন এবং নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

নির্বাচন উপলক্ষে মাঠে রয়েছে বিজিবির ১৩ প্লাটুন। প্রতিটি প্লাটুনের সঙ্গে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া জেলার ৯টি উপজেলায় ৯ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্বে রয়েছেন। নির্বাচনী অনিয়ম ও সহিংসতার অভিযোগ দ্রুত তদন্তের জন্য চারজন সিভিল জজ নিয়ে গঠিত হয়েছে নির্বাচনী ইনকোয়ারি টিম। জেলায় সার্বিক তদারকির জন্য দায়িত্ব পালন করছেন ৩৬ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে জানিয়েছেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জেলা পুলিশ ব্যাপক নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। পুরো জেলায় প্রায় ১,৮০০ পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া র‌্যাব, বিজিবি, আনসার ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।

তিনি বলেন, জেলার সব ভোটকেন্দ্রকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ও ‘সাধারণ’—এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। অতি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে দুইজন পুলিশ সদস্য এবং সাধারণ কেন্দ্রে একজন করে পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি প্রতিটি উপজেলায় ২০ সদস্যের একটি বিশেষ টিম সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে, যাতে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।

আসনভিত্তিক তথ্য ও প্রার্থী সংখ্যা:

জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুর জেলায় মোট চারটি সংসদীয় আসন রয়েছে। আসনগুলো হলো—

ফরিদপুর-১: মধুখালী, বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা উপজেলা

ফরিদপুর-২: নগরকান্দা ও সালথা উপজেলা

ফরিদপুর-৩: ফরিদপুর সদর উপজেলা

ফরিদপুর-৪: ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন উপজেলা

এই চারটি আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ১৭ লাখ ৭১ হাজার ৯০৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৯ লাখ ২ হাজার ৯১০ জন, মহিলা ভোটার ৮ লাখ ৬৮ হাজার ৯৯০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৮ জন।

আসনভিত্তিক ভোটার সংখ্যা হলো

ফরিদপুর-১: ৫ লাখ ১০ হাজার ৫৪০ জন

ফরিদপুর-২: ৩ লাখ ৩২ হাজার ৪১ জন

ফরিদপুর-৩: ৪ লাখ ৩২ হাজার ৪১ জন

ফরিদপুর-৪: ৪ লাখ ৯৬ হাজার ৭০৬ জন

জেলার চারটি আসনে মোট ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে ফরিদপুর-১ আসনে ৮ জন, ফরিদপুর-২ আসনে ৬ জন, ফরিদপুর-৩ আসনে ৬ জন এবং ফরিদপুর-৪ আসনে ৮ জন প্রার্থী নির্বাচনী লড়াইয়ে রয়েছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ব্যাপক প্রচারণায় ইতোমধ্যে জমে উঠেছে নির্বাচনী পরিবেশ।

নির্বাচনী সরঞ্জাম বিতরণ:

ফরিদপুরের জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্যা ‘ফরিদপুর প্রতিদিন’-কে জানিয়েছেন, বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে নির্বাচনী সরঞ্জাম সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোতে পাঠানো শুরু করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সন্ধ্যার আগেই সব কেন্দ্রে ব্যালট পেপার, ব্যালট বাক্স, সিল, স্ট্যাম্পসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পৌঁছে যাবে।

তিনি বলেন, “নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে আমাদের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রয়েছে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে। ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেটিই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”

বিশেষ নজর চরাঞ্চল ও দুর্গম এলাকায়:

জেলার চরাঞ্চল ও নদীবেষ্টিত কিছু এলাকায় যাতায়াতের অসুবিধা ও অতীতের কিছু নির্বাচনে সহিংসতার ঘটনার কারণে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, এসব এলাকায় নৌ-পেট্রোলিং, মোবাইল টিম ও অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন থাকবে।

দুর্গম এলাকার কেন্দ্রগুলোতে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা সদস্যদের আগেভাগেই পাঠানো হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের বিলম্ব না হয়। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সার্বক্ষণিক নজরদারি ও টহল জোরদার থাকবে।

ভোটারদের প্রত্যাশা:

নির্বাচনকে ঘিরে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। বিভিন্ন এলাকায় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিতে চান। বিশেষ করে নতুন ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে।

প্রশাসন জানিয়েছে, ভোটগ্রহণের দিন সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত ভোটারদের লাইনে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নারী ভোটারদের সুবিধার্থে আলাদা লাইন ও পর্যাপ্ত নারী পুলিশ সদস্য রাখা হয়েছে।

কঠোর অবস্থানে প্রশাসন:

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। নির্বাচন চলাকালীন কোনো ধরনের অনিয়ম, জাল ভোট, কেন্দ্র দখল বা সহিংসতা সহ্য করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। অভিযোগ পাওয়া মাত্রই দ্রুত তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “আমরা চাই ভোটাররা নির্ভয়ে কেন্দ্রে এসে ভোটাধিকার প্রয়োগ করুন। যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা রোধে আমাদের টিম প্রস্তুত রয়েছে।”

শান্তিপূর্ণ ভোটের প্রত্যাশা:

সব মিলিয়ে ফরিদপুর জেলায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে প্রশাসনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। নিরাপত্তা, বিচারিক তদারকি, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতি এবং বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের ফলে একটি অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আশাবাদী সংশ্লিষ্টরা।

এখন অপেক্ষা ভোটারদের রায়ের। জেলার প্রায় ১৮ লাখ ভোটার আগামীকাল তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে নির্ধারণ করবেন আগামী পাঁচ বছরের জন্য তাদের জনপ্রতিনিধি। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হলে ফরিদপুরে গণতান্ত্রিক চর্চার আরেকটি অধ্যায় যুক্ত হবে—এমনটাই প্রত্যাশা।

ফরিদপুরে যাত্রীবাহী বাস উল্টে প্রাণ গেল দু’জনের, আহত ২০

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২:৩২ পিএম
ফরিদপুরে যাত্রীবাহী বাস উল্টে প্রাণ গেল দু’জনের, আহত ২০

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় যাত্রীবাহী বাস উল্টে ঘটনাস্থলেই দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় বাসের অন্তত ২০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা গুরুতর।

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১ টার দিকে উপজেলার ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে সুয়াদি এলাকার সিসিপিএল পেট্রোল পাম্পের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, ঢাকা থেকে নড়াইলগামী নড়াইল এক্সপ্রেস নামের বাসটি পেট্রোল পাম্পে তেল নিতে প্রবেশ করতে ছিল। এমন সময় সামনে থেকে আরেকটি গাড়ি চলে আসলে সেই গাড়ির সাইট দিতে গিয়ে বাসটি উল্টে যায়। এ সময় ঘটনাস্থলে দু’জনের মৃত্যু হয়। আহতদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে।

নিহতের মধ্যে একজন বাসের সুপারভাইজার শরিফুল ইসলাম। তাৎক্ষণিকভাবে অপর নিহতের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন জানান, খবর পেয়ে ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিস ও ভাঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ উদ্ধার অভিযান চালান। ঘটনাস্থলে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে ১০জন গুরুতর আহত হয়েছেন। গাড়িটি উদ্ধার করে ভাঙ্গা হাইওয়ে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। আহতদের ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা পক্রিয়াধীন।

ফরিদপুর-২ আসনে দ্বিমুখী লড়াইয়ের আভাস, জটিল সমীকরণে ভোটের হিসাব

এহসানুল হক, ফরিদপুর ও মিজানুর রহমান বাবু, নগরকান্দা:
প্রকাশিত: বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:৫৩ পিএম
ফরিদপুর-২ আসনে দ্বিমুখী লড়াইয়ের আভাস, জটিল সমীকরণে ভোটের হিসাব

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা ও সালথা) আসনে জমে উঠেছে রাজনৈতিক মাঠ। এ আসনে মোট ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও স্থানীয় ভোটারদের বিশ্লেষণ বলছে, চূড়ান্ত লড়াই মূলত দুই প্রার্থীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। নির্বাচনী প্রচারণা, সংগঠনিক শক্তি ও ভোটের সম্ভাব্য সমীকরণ—সবকিছু মিলিয়ে দ্বিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

এবারের নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী, দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওয়ায়েদ ইসলাম রিংকু মাঠে সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস (১১ দলীয় জোট) মনোনীত রিকশা প্রতীকের প্রার্থী আল্লামা শাহ মো. আকরাম আলী ধলা হুজুর। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাংগঠনিক কাঠামো, ব্যক্তিগত প্রভাব এবং ভোটের সম্ভাব্য স্থানান্তর—এসব বিবেচনায় এই দুই প্রার্থীর মধ্য থেকেই আগামী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

তবে কেবল এই দুই প্রার্থীই নন, আরও চারজন প্রার্থী রয়েছেন নির্বাচনী দৌড়ে। তারা হলেন—গণঅধিকার পরিষদ মনোনীত ট্রাক প্রতীকের ফারুক ফকির, বাংলাদেশ কংগ্রেসের ডাব প্রতীকের মো. নাজমুল হাসান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের শাহ মো. জামাল উদ্দীন এবং ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের আপেল প্রতীকের মো. আকরামুজ্জামান মিয়া। যদিও স্থানীয়ভাবে তাদের প্রচারণা তুলনামূলকভাবে সীমিত এবং সাংগঠনিক উপস্থিতিও কম চোখে পড়ছে।

ভোটার ও কেন্দ্রের পরিসংখ্যান:

ফরিদপুর-২ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩২ হাজার ৪১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭২ হাজার ৯০৪ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৫৯ হাজার ১৩৭ জন। আসনটিতে মোট ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা রয়েছে। ভোটগ্রহণের জন্য নির্ধারিত কেন্দ্রের সংখ্যা ১১৭টি। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি জোরদার করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

জটিল সমীকরণে ভোটের হিসাব:

স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক সচেতন মহলের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এবারের নির্বাচনে ভোটের সমীকরণ অত্যন্ত জটিল। দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি—এই দুই দলই এ আসনে শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে। কিন্তু এবার আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করায় তাদের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের একটি বড় অংশ বিএনপিসহ বিভিন্ন দলে সক্রিয় হয়েছেন। ফলে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ভোট কোনদিকে যাবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নগরকান্দা উপজেলার এক ব্যবসায়ী আব্দুল কাদের বলেন, “আওয়ামী লীগের ভোট এবার ছড়িয়ে যেতে পারে। কেউ বিএনপিতে গেছে, কেউ আবার নিরপেক্ষ আছে। শেষ মুহূর্তে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে।”

সালথা উপজেলার এক তরুণ ভোটার সুমাইয়া আক্তার বলেন, “আমরা উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান চাই। শুধু দল নয়, প্রার্থীর ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতাও এবার বড় ফ্যাক্টর।”

ধর্মভিত্তিক ভোটের প্রভাব:

ফরিদপুর-২ আসনে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কওমি মাদরাসা ও ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ফলে আলেম-ওলামা ও ধর্মভিত্তিক ভোটারদের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। খেলাফত মজলিস প্রার্থীর পক্ষে ধর্মীয় নেতাদের একটি অংশ সক্রিয় রয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে বিএনপিও স্থানীয় পর্যায়ে মসজিদ-মাদরাসা সংশ্লিষ্ট ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার করেছে।

নগরকান্দার এক মাদরাসা শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা চাই শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হোক। প্রার্থীদের মধ্যে যারা ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সামাজিক উন্নয়নকে গুরুত্ব দেবে, তাকেই সমর্থন দেব।”

প্রচারণায় কারা এগিয়ে?

মাঠ পর্যায়ে দেখা গেছে, বিএনপি প্রার্থী শামা ওয়ায়েদ ইসলাম রিংকু দলীয় কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে নিয়মিত গণসংযোগ, পথসভা ও উঠান বৈঠক করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার প্রচারণা বেশ সক্রিয়। অন্যদিকে খেলাফত মজলিস প্রার্থী আকরাম আলী ধলা হুজুরও ধর্মীয় সমাবেশ ও গণসংযোগের মাধ্যমে নিজের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাংগঠনিকভাবে বিএনপি তুলনামূলকভাবে এগিয়ে থাকলেও ধর্মভিত্তিক ভোটের একীভূত সমর্থন খেলাফত মজলিস প্রার্থীর পক্ষে গেলে লড়াই হাড্ডাহাড্ডি হতে পারে।

সংঘর্ষের আশঙ্কা ও নিরাপত্তা প্রস্তুতি:

স্থানীয়দের মধ্যে নির্বাচনী সহিংসতার আশঙ্কাও রয়েছে। অতীতে বিভিন্ন নির্বাচনে নগরকান্দা ও সালথা উপজেলায় বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। এবারও প্রচারণাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকে।
সালথার এক প্রবীণ ভোটার হাবিবুর রহমান বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিতে চাই। প্রশাসনকে নিরপেক্ষ থাকতে হবে।”

জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনী এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও মোবাইল টিম প্রস্তুত রাখা হবে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ নজরদারি থাকবে।

শেষ মুহূর্তের কৌশল:

ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই জোরদার হচ্ছে কৌশল নির্ধারণ। প্রার্থীরা ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সমর্থন চেয়েছেন। স্থানীয় ইস্যু যেমন—রাস্তা সংস্কার, কৃষি সহায়তা, বেকারত্ব, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন—এসব বিষয় নিয়ে প্রতিশ্রুতির ঝড় তুলেছিলেন তারা।

বিশ্লেষকদের মতে, শেষ পর্যন্ত কে জিতবেন তা নির্ভর করবে—আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ভোটের গতিপথ, ধর্মভিত্তিক ভোটের সংহতি এবং নির্বাচনের দিন ভোটার উপস্থিতির উপর।

সব মিলিয়ে ফরিদপুর-২ আসনে এবারের নির্বাচন কেবল সংখ্যার লড়াই নয়, বরং কৌশল, জনপ্রিয়তা ও জোট রাজনীতির এক জটিল সমীকরণ। এখন দেখার বিষয়, ৩ লাখের বেশি ভোটারের রায়ে কার কপালে জোটে সংসদ সদস্যের আসন।