খুঁজুন
শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১ ফাল্গুন, ১৪৩২

দীর্ঘ দুই দশক শেষে সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে বিএনপি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২৩ এএম
দীর্ঘ দুই দশক শেষে সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে বিএনপি

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের রাজনীতিতে যে আমূল পরিবর্তনের সূচনা হয়েছিল, তার দৃশ্যমান প্রতিফলন দেখা গেল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সংবিধান সংস্কারের লক্ষ্যে আয়োজিত গণভোটে।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দেশব্যাপী উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকেই কেন্দ্রগুলোতে ছিল ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি। নির্বাচন কমিশনের তথ্যানুযায়ী, প্রায় ৬০ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাওয়া বেসরকারি ফলাফলে দেখা গেছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীরাই অধিকাংশ আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের পথে এগিয়ে আছেন। বেসরকারি হিসেবে ২৯৯টি আসনের মধ্যে বিএনপি জোট ১৯৪টিতে, জামায়াতে ইসলামী ৫৬টিতে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৪টিতে এবং অন্যান্য প্রার্থীরা ৭টিতে বিজয়ী হয়েছেন।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ বৃহস্পতিবার দুপুরে জানান, বেলা ১২টা পর্যন্ত ৩২ হাজার ৭৮৯টি কেন্দ্রে ৩২.৮৮ শতাংশ ভোট পড়েছে। পরে দুপুর ২টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণের হার দাঁড়ায় ৪৭.৯১ শতাংশ।

রাত ৯টার দিকে নির্বাচন সচিবালয় জানায়, কয়েকটি কেন্দ্র বাদে গড়ে ৬০.৬৪ শতাংশ ভোট পড়েছে।

ভোটের আগের রাতে নানা আশঙ্কা ও উদ্বেগের কথা শোনা গেলেও ভোটের দিন বড় ধরনের সহিংসতা ছাড়াই দেশের ২৯৯টি আসনের ৪২ হাজার ৬৫১টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। কোথাও কোথাও হাতাহাতি বা উত্তেজনার বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তবে সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতি ছিল শান্তিপূর্ণ।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর গুলশান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট প্রদান শেষে বলেন, এটা আমার জীবনে মহা আনন্দের দিন।

বাংলাদেশের সবার মনে এটা মহা আনন্দের দিন, মুক্তির দিন। আমাদের দুঃস্বপ্নের অবসান, নতুন স্বপ্নের শুরু।

গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে সার্বিক সহযোগিতা করায় বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সব রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী, নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, পর্যবেক্ষক, গণমাধ্যমকর্মী, ভোটারসহ দেশবাসীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে। বাংলাদেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও উন্নতি কামনা করে শুক্রবার বাদ জুমা দেশের সব মসজিদে বিশেষ দোয়া এবং অন্যান্য উপাসনালয়ে সুবিধাজনক সময়ে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। গত রাতে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ আহ্বান জানানো হয়।

এর আগে সকালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেন হাই স্কুলে ভোট দিতে গিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, আগে তো আপনারা ভোটকেন্দ্রে অনেক কুকুর (ভোটারশূন্য অর্থে) দেখিয়েছেন টেলিভিশনে, আজ কেন্দ্রের ধারেকাছে তো কুকুর দেখছি না। এখন সব মানুষ আর মানুষ।

সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান সকালে রাজধানীর আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজে ভোট দেওয়ার পর সাংবাদিকদের বলেন, এই দিনটার অপেক্ষায় ছিলাম। অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন চলছে। আমি সম্মানিত ভোটারদের অনুরোধ করব, আপনারা নির্ভয়ে আপনাদের বাসা থেকে বের হয়ে পোলিং স্টেশনে যাবেন এবং ভোট দেবেন। এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন। একটা সুষ্ঠু নির্বাচন, আজ সেই নির্বাচন হতে যাচ্ছে।

নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোও ভোট চলাকালে নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে নিজেদের সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছে। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সকালে নিজ আসনে ভোট প্রদান এবং কয়েকটি কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে গুলশানে তাঁর কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলাপকালে বলেন, ভোটাররা যেন তাঁদের দেওয়া ভোটের ফল দ্রুত জানতে পারেন, সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ ভোটই গণতন্ত্রকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাবে। জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে পারলে কোনো ষড়যন্ত্র সফল হবে না।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিকেল ৪টার দিকে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ভোট এবার এতটা উৎসবমুখর হবে, এটা কেউ ভাবেনি। মানুষের যে আগ্রহ, যে উচ্ছ্বাস, সারা দিনে শতাধিক কেন্দ্র ঘুরে দেখেছি। এখন পর্যন্ত নির্বাচন অনেক সুন্দর হয়েছে।

তবে রাত সাড়ে ১১টায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, নির্দিষ্ট কিছু আসনে নির্দিষ্ট কিছু প্রার্থীকে বিজয়ী করে আনার জন্য একধরনের ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে, এটা বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে আমাদের কাছে।

মাহদী আমিন উদাহরণ হিসেবে বলেন, ঢাকা-৮, ঢাকা-১১, ঢাকা-১৩, ঢাকা-১৬ আসনসহ বেশ কিছু আসনে ভোট গণনায় এবং ফলাফল ঘোষণায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিলম্ব করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার পর সাংবাদিকদের বলেন, ভোট সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে সেই রায় আমরা মেনে নেব। অন্যদেরও তা মানতে হবে। এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।

এরপর রাত পৌনে ১২টায় মগবাজারে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “কিছু আসনে ইঁদুর-বিড়াল খেলা হচ্ছে। ঢাকা-৮ আসন এখনো ঝুলে থাকবে কেন, সেখানে কী হচ্ছে? এটা আপনারা জানেন। এই বিষয়গুলো সুস্থ ধারার রাজনীতির পরিচয় বহন করে না।”

বিদেশি সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের পর্যবেক্ষণ

বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকরাও নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে ভোট পরিদর্শনের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান ইভার্স ইজাবস বলেন, দুপুর পর্যন্ত আমরা ভোটারদের মধ্যে যথেষ্ট উদ্দীপনা দেখেছি।

বিবিসি-র দক্ষিণ এশিয়া ও আফগানিস্তান প্রতিনিধি যোগিতা লিমায়ে তাঁর প্রতিবেদনে বলেন, আমার মনে আছে, ২০১৮ সালে শেখ হাসিনা যখন ক্ষমতায় ছিলেন, তখন আমি বাংলাদেশে ছিলাম। পরিবেশ এখনকার চেয়ে অনেক আলাদা ছিল। ঢাকা ও বাংলাদেশের অন্যান্য অংশে ঘুরে বেড়ানোর সময় আমার মনে আছে, আমি শুধু একটি দলের (শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ) পোলিং এজেন্ট, প্রচারণার উপকরণ ও পোস্টার দেখেছি। একটা সীমাবদ্ধ পরিবেশ ছিল। আমরা যখন তাদের (সাধারণ মানুষ) সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করতাম, তখন লোকেরা খোলাখুলি কথা বলতে ভয় পেত। এখন বাতাসটা অন্য রকম লাগছে। আমরা যাদের সঙ্গে কথা বলেছি তাদের অনেকের মধ্যে স্পষ্ট উত্তেজনা রয়েছে। আপনি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পোস্টার দেখতে পাচ্ছেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ঢাকার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে দেখা গেছে অনেকেই প্রথম ঘণ্টার মধ্যেই তাদের ভোট দিয়েছেন। যাদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে, তাদের কেউ কেউ আশা প্রকাশ করেছেন যে আজকের নির্বাচনের পর দেশে সত্যিকারের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে।

সূত্র : বাংলানিউজ২৪

রুমিন ফারহানার সঙ্গে ছবি প্রকাশ, কী জানালেন অপু বিশ্বাস?

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:১৪ এএম
রুমিন ফারহানার সঙ্গে ছবি প্রকাশ, কী জানালেন অপু বিশ্বাস?

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) বিজয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা। বিএনপি জোট সমর্থিত প্রার্থীকে ৩৮ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে হারিয়েছেন তিনি।  

নির্বাচনী এই সাফল্যের পর শুভেচ্ছায় ভাসছেন সাবেক এই বিএনপির নেত্রী। দলীয় কর্মী থেকে শুরু করে নানা অঙ্গনের মানুষ তাকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন।

রাজনৈতিক অঙ্গনের পাশাপাশি সংস্কৃতি জগৎ থেকেও আসছে শুভেচ্ছা বার্তা।

ঢালিউডের চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস নিজের ফেসবুক স্টোরিতে রুমিন ফারহানার সঙ্গে একটি ছবি শেয়ার করে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

তার এই শুভেচ্ছা বার্তা সামাজিকমাধ্যমে ইতোমধ্যেই নজর কেড়েছে ভক্তদের।

বলা দরকার, ‘হাঁস’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে রুমিন ফারহানা এক লাখ ১৮ হাজার ৫৪৭টি ভোট পেয়েছেন।

তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি জোট সমর্থিত প্রার্থী জুনায়েদ আল হাবীব ‘খেজুর গাছ’ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৮০ হাজার ৪৩৪টি ভোট।

ভালোবাসা দিবস: ইসলামে বৈধ না বিদআত?

মুফতি নিজাম উদ্দিন আল আদনান
প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:৪৪ এএম
ভালোবাসা দিবস: ইসলামে বৈধ না বিদআত?

বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সময়ে হরেক রকম দিবস উদযাপন হয়ে থাকে। তার মধ্যে একটি হচ্ছে ‘ভ্যালেন্টাইনস ডে’ বা ‘ভালোবাসা দিবস’। প্রতি বছর ১৪ ফেব্রুয়ারি আসলে এক শ্রেণির লোকজন এ দিবস উদযাপন করে। তবে ইসলামে এই দিবসের কোনো ভিত্তি নেই।

তাহলে কীভাবে এলো ভালোবাসা দিবস?

ভ্যালেন্টাইনস ডে-এর উৎপত্তি সম্পর্কে বিভিন্ন মত রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রচলিত ইতিহাসটি হচ্ছে ধর্মযাজক সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের। তিনি ছিলেন শিশুপ্রেমিক, সামাজিক ও সদালাপি এবং খ্রিস্টধর্ম প্রচারক। আর রোম সম্রাট দ্বিতীয় ক্লডিয়াস ছিলেন বিভিন্ন দেব-দেবীর পূজায় বিশ্বাসী।

সম্রাটের পক্ষ থেকে তাকে দেব-দেবীর পূজা করতে বলা হলে, ভ্যালেন্টাইন তা অস্বীকার করায় তাকে কারারুদ্ধ করা হয়। সেন্ট ভ্যালেন্টাইন কারারুদ্ধ হওয়ার পর প্রেমাসক্ত যুবক-যুবতীদের অনেকেই প্রতিদিন তাকে কারাগারে দেখতে আসত এবং ফুল উপহার দিত। তারা বিভিন্ন উদ্দীপনামূলক কথা বলে সেন্ট ভ্যালেন্টাইনকে উদ্দীপ্ত রাখত। এক কারারক্ষীর এক অন্ধ মেয়েও ভ্যালেন্টাইনকে দেখতে যেত। অনেকক্ষণ ধরে তারা দুজন প্রাণ খুলে কথা বলত। একসময় ভ্যালেন্টাইন তার প্রেমে পড়ে যায়। সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের আধ্যাত্মিক চিকিৎসায় অন্ধ মেয়েটি দৃষ্টিশক্তি ফিরে পায়। ভ্যালেন্টাইনের ভালোবাসা ও তার প্রতি দেশের যুবক-যুবতীদের ভালোবাসার কথা সম্রাটের কানে গেলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ২৬৯ খ্রিস্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরে তার স্মরণে ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবস পালিত হতে থাকে। (সূত্র : দৈনিক ইত্তেফাক, ১৪ ফেব্রুয়ারি-২০১৪)

প্রচলিত ভালোবাসা দিবসে যা হয়

এই দিনে অনেক তরুণ-তরুণী ভালোবাসা আদান-প্রদানের নামে সাক্ষাৎ, কথোপকথন, মদ্যপান, কনসার্ট এবং যাবতীয় অবৈধ মেলামেশা করে থাকেন। বিশেষ করে রাজধানীর গুলশান, বনানী, বারিধারা, উত্তরা, টিএসসি প্রাঙ্গনসহ বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় এসব নোংরা চিত্র দেখা যায়।

ভালোবাসা দিবসের সমস্যা ও ইসলামি বিধান

১. বিজাতীয় সংস্কৃতি অনুসরণ করা হারাম

হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি যে জাতির অনুকরণ করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত হবে’ (আবু দাউদ : ৪০৩১) । তাই ইমানদারগণ ভালোবাসা দিবস পালন করতে পারবে না, কারণ তা খ্রিস্টানদের সংস্কৃতি।

২. অবৈধ সম্পর্ক ও ব্যভিচারের প্রসার

ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা ব্যভিচারের নিকটেও যেও না। নিশ্চয়ই এটা একটি অশ্লীল কাজ ও নিকৃষ্ট পথ’ (সুরা আল ইসরা : ৩২)। ১৪ ফেব্রুয়ারি অধিকাংশ মানুষ অবৈধ প্রেম, শারীরিক সম্পর্ক ও হারাম কাজের দিকে ধাবিত হয়।

৩. ফিতনার (পাপাচার) কারণ

এই দিনে তরুণ-তরুণীরা বেহায়াপনা ও অনৈতিক কাজের প্রতি আকৃষ্ট হয়।

৪. অপচয় ও অপ্রয়োজনীয় ব্যয়

ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই অপচয়কারী শয়তানের ভাই’ (সুরা আল ইসরা : ২৭)। ভালোবাসা দিবসে ফুল, কার্ড, উপহার ও ডিনারের নামে প্রচুর অর্থ অপচয় হয়, যা ইসলাম সমর্থন করে না।

৫. ইসলামিক সমাজ ও সংস্কৃতির ক্ষতি

মুসলমানদের মধ্যে পশ্চিমা সংস্কৃতির প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে ইসলামি মূল্যবোধ নষ্ট হয়।

ইসলামে ভালোবাসা দিবসের বিকল্প কী?

১. স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসা বৃদ্ধির জন্য যে কোনো দিন উপহার দেওয়া যেতে পারে।

২. মা-বাবা, আত্মীয়স্বজন ও গরিব-দুঃখীদের ভালোবাসা ও দয়া দেখানো উচিত।

৩. আল্লাহ ও রাসুলের ভালোবাসার প্রতি মনোযোগী হওয়া উচিত।

৪. হারাম সম্পর্কের পরিবর্তে ইসলামের বিধান অনুসারে বিবাহের মাধ্যমে পবিত্র সম্পর্ক স্থাপন করা উচিত।

লেখক : মুহতামিম, জামিয়াতুল কোরআন, ঢাকা

সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি, ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ

ফাগুন এলে শুধু প্রেম নয়, বদলায় সময়ও

মো. লিখন হোসেন
প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:০৮ এএম
ফাগুন এলে শুধু প্রেম নয়, বদলায় সময়ও

বাংলা বর্ষপঞ্জির সবচেয়ে রঙিন অধ্যায় ফাগুন। হলুদের ছোঁয়া, কোকিলের ডাক, বাতাসে নতুন পাতার গন্ধ-সব মিলিয়ে যেন নতুন এক আবেশ। এই আবেশের সঙ্গেই জড়িয়ে আছে প্রেমের গল্প, ভালোবাসার অনুভূতি আর সম্পর্কের নতুন সংজ্ঞা।

ফাগুন এলেই বাতাস বদলে যায়। শহরের ধুলো মেখে থাকা রাস্তাও যেন হঠাৎ করে কোমল হয়ে ওঠে, গাছের ডালে ডালে নতুন পাতার হাসি, আর মানুষের চোখে অদৃশ্য এক টান। বসন্তের এই ঋতু যেন প্রেমের জন্যই জন্মেছে- কারও প্রথম হাত ধরা, কারও চুপচাপ ভালো লাগা, আবার কারও বহুদিনের সম্পর্কের নতুন করে শুরু।

হলুদের শাড়ি, পাঞ্জাবির রঙিন ছোঁয়া আর চুলে গাঁদা ফুল-সবকিছু মিলিয়ে ফাগুন হয়ে ওঠে এক অনুচ্চারিত ভালোবাসার ভাষা। অনেকেই এদিন বলে থাকে ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি’ আবার কেউ শুধু চোখের ভাষায় লিখে দেয় জীবনের সবচেয়ে সুন্দর গল্প।

প্রেমের ঋতু কেন ফাগুন

শীতের নিস্তব্ধতা পেরিয়ে বসন্ত আসে উষ্ণতা নিয়ে। এই উষ্ণতা শুধু আবহাওয়ায় নয়, মানুষের ভেতরেও ছড়িয়ে পড়ে। দীর্ঘ একাকিত্বের পর মানুষ খুঁজে পায় কাছের মানুষকে, খুঁজে পায় নিজের মনের মানুষকে। তাই ফাগুন এলেই হৃদয়ে জন্ম নেয় নতুন অনুভূতি, নতুন স্বপ্ন।

এই সময়টাতে অনেকেই প্রথম প্রেমে পড়ে, কেউ পুরোনো ভালোবাসাকে নতুন করে আবিষ্কার করে। হাতের মুঠোয় হাত রেখে হেঁটে যাওয়া, একসাথে ছবি তোলা, কিংবা নিঃশব্দে পাশে বসে থাকা-সবকিছুতেই থাকে প্রেমের গভীরতা।

প্রেমের রঙিন শহর

ফাগুন এলেই শহরের দৃশ্য বদলে যায়। চারদিকে দেখা যায় যুগলদের হাসি, প্রেমিক-প্রেমিকা, আর রাস্তায় ফুল বিক্রেতাদের ব্যস্ততা। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভেসে ওঠে প্রেমের ছবি, ভালোবাসার স্ট্যাটাস, আর হৃদয়ের গল্প।

এই সময়টাতে শুধু নতুন প্রেম নয়- দীর্ঘদিনের সম্পর্কও পায় নতুন রঙ। পুরোনো অভিমান ভুলে আবার শুরু হয় নতুন পথচলা।

ছোট মুহূর্তেই বড় ভালোবাসা

ফাগুনের প্রেম সবসময় বড় আয়োজনের নয়। কখনও একগুচ্ছ ফুল, কখনও একটি চিঠি, কখনও শুধু এক কাপ চায়ের আড্ডা- এসব ছোট ছোট মুহূর্তেই তৈরি হয় বড় ভালোবাসার স্মৃতি। এই সময় মানুষ নিজের অনুভূতিকে প্রকাশ করতে ভয় পায় না, বরং হৃদয়ের কথা বলার সাহস পায়।

অনেকেই বলেন, বসন্তের বাতাসে এমন এক জাদু থাকে, যা মানুষকে আরও সংবেদনশীল করে তোলে। তাই এই ঋতুতে বলা ভালোবাসার কথা মনে থাকে সারা জীবন।

প্রেম মানে কি শুধু দুজন, না কি অনুভূতি

ফাগুনের প্রেম কেবল রোমান্টিক সম্পর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি এক গভীর আবেগ, যা মানুষকে আরও কোমল ও মানবিক করে তোলে। নিজের প্রতি ভালোবাসা, প্রিয় মানুষের প্রতি যত্ন, কিংবা জীবনকে নতুনভাবে গ্রহণ করার সাহস— সবকিছুতেই লুকিয়ে থাকে প্রেম।

তবে রোমান্টিক প্রেমই থাকে এই ঋতুর কেন্দ্রে— কারণ ফাগুন মানুষকে সাহসী করে তোলে, নিজের অনুভূতি প্রকাশের শক্তি দেয়।

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, বসন্তের উজ্জ্বল রং ও উষ্ণ আবহাওয়া মানুষের মধ্যে ইতিবাচক অনুভূতি তৈরি করে। এই অনুভূতি শুধু রোমান্টিক ভালোবাসায় সীমাবদ্ধ না থেকে আত্মপ্রেম, বন্ধুত্ব ও মানবিকতার দিকেও মানুষকে টানে।

প্রেমের অবিরাম গল্প

ফাগুন এলে মানুষ প্রেমে পড়ে- এ যেন এক অনিবার্য সত্য। কেউ নতুন ভালোবাসা খুঁজে পায়, কেউ পুরোনো ভালোবাসাকে নতুন করে অনুভব করে। বসন্তের রঙে, ফুলের গন্ধে আর বাতাসের মৃদু ছোঁয়ায় প্রেম হয়ে ওঠে জীবনের সবচেয়ে সুন্দর অনুভূতি।

তাই বলা যায় ফাগুন মানেই প্রেম। এক ঋতু, হাজার অনুভূতি, আর অসংখ্য ভালোবাসার গল্প।