খুঁজুন
শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১ ফাল্গুন, ১৪৩২

ভালোবাসা দিবস: ইসলামে বৈধ না বিদআত?

মুফতি নিজাম উদ্দিন আল আদনান
প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:৪৪ এএম
ভালোবাসা দিবস: ইসলামে বৈধ না বিদআত?

বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সময়ে হরেক রকম দিবস উদযাপন হয়ে থাকে। তার মধ্যে একটি হচ্ছে ‘ভ্যালেন্টাইনস ডে’ বা ‘ভালোবাসা দিবস’। প্রতি বছর ১৪ ফেব্রুয়ারি আসলে এক শ্রেণির লোকজন এ দিবস উদযাপন করে। তবে ইসলামে এই দিবসের কোনো ভিত্তি নেই।

তাহলে কীভাবে এলো ভালোবাসা দিবস?

ভ্যালেন্টাইনস ডে-এর উৎপত্তি সম্পর্কে বিভিন্ন মত রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রচলিত ইতিহাসটি হচ্ছে ধর্মযাজক সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের। তিনি ছিলেন শিশুপ্রেমিক, সামাজিক ও সদালাপি এবং খ্রিস্টধর্ম প্রচারক। আর রোম সম্রাট দ্বিতীয় ক্লডিয়াস ছিলেন বিভিন্ন দেব-দেবীর পূজায় বিশ্বাসী।

সম্রাটের পক্ষ থেকে তাকে দেব-দেবীর পূজা করতে বলা হলে, ভ্যালেন্টাইন তা অস্বীকার করায় তাকে কারারুদ্ধ করা হয়। সেন্ট ভ্যালেন্টাইন কারারুদ্ধ হওয়ার পর প্রেমাসক্ত যুবক-যুবতীদের অনেকেই প্রতিদিন তাকে কারাগারে দেখতে আসত এবং ফুল উপহার দিত। তারা বিভিন্ন উদ্দীপনামূলক কথা বলে সেন্ট ভ্যালেন্টাইনকে উদ্দীপ্ত রাখত। এক কারারক্ষীর এক অন্ধ মেয়েও ভ্যালেন্টাইনকে দেখতে যেত। অনেকক্ষণ ধরে তারা দুজন প্রাণ খুলে কথা বলত। একসময় ভ্যালেন্টাইন তার প্রেমে পড়ে যায়। সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের আধ্যাত্মিক চিকিৎসায় অন্ধ মেয়েটি দৃষ্টিশক্তি ফিরে পায়। ভ্যালেন্টাইনের ভালোবাসা ও তার প্রতি দেশের যুবক-যুবতীদের ভালোবাসার কথা সম্রাটের কানে গেলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ২৬৯ খ্রিস্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরে তার স্মরণে ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবস পালিত হতে থাকে। (সূত্র : দৈনিক ইত্তেফাক, ১৪ ফেব্রুয়ারি-২০১৪)

প্রচলিত ভালোবাসা দিবসে যা হয়

এই দিনে অনেক তরুণ-তরুণী ভালোবাসা আদান-প্রদানের নামে সাক্ষাৎ, কথোপকথন, মদ্যপান, কনসার্ট এবং যাবতীয় অবৈধ মেলামেশা করে থাকেন। বিশেষ করে রাজধানীর গুলশান, বনানী, বারিধারা, উত্তরা, টিএসসি প্রাঙ্গনসহ বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় এসব নোংরা চিত্র দেখা যায়।

ভালোবাসা দিবসের সমস্যা ও ইসলামি বিধান

১. বিজাতীয় সংস্কৃতি অনুসরণ করা হারাম

হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি যে জাতির অনুকরণ করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত হবে’ (আবু দাউদ : ৪০৩১) । তাই ইমানদারগণ ভালোবাসা দিবস পালন করতে পারবে না, কারণ তা খ্রিস্টানদের সংস্কৃতি।

২. অবৈধ সম্পর্ক ও ব্যভিচারের প্রসার

ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা ব্যভিচারের নিকটেও যেও না। নিশ্চয়ই এটা একটি অশ্লীল কাজ ও নিকৃষ্ট পথ’ (সুরা আল ইসরা : ৩২)। ১৪ ফেব্রুয়ারি অধিকাংশ মানুষ অবৈধ প্রেম, শারীরিক সম্পর্ক ও হারাম কাজের দিকে ধাবিত হয়।

৩. ফিতনার (পাপাচার) কারণ

এই দিনে তরুণ-তরুণীরা বেহায়াপনা ও অনৈতিক কাজের প্রতি আকৃষ্ট হয়।

৪. অপচয় ও অপ্রয়োজনীয় ব্যয়

ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই অপচয়কারী শয়তানের ভাই’ (সুরা আল ইসরা : ২৭)। ভালোবাসা দিবসে ফুল, কার্ড, উপহার ও ডিনারের নামে প্রচুর অর্থ অপচয় হয়, যা ইসলাম সমর্থন করে না।

৫. ইসলামিক সমাজ ও সংস্কৃতির ক্ষতি

মুসলমানদের মধ্যে পশ্চিমা সংস্কৃতির প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে ইসলামি মূল্যবোধ নষ্ট হয়।

ইসলামে ভালোবাসা দিবসের বিকল্প কী?

১. স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসা বৃদ্ধির জন্য যে কোনো দিন উপহার দেওয়া যেতে পারে।

২. মা-বাবা, আত্মীয়স্বজন ও গরিব-দুঃখীদের ভালোবাসা ও দয়া দেখানো উচিত।

৩. আল্লাহ ও রাসুলের ভালোবাসার প্রতি মনোযোগী হওয়া উচিত।

৪. হারাম সম্পর্কের পরিবর্তে ইসলামের বিধান অনুসারে বিবাহের মাধ্যমে পবিত্র সম্পর্ক স্থাপন করা উচিত।

লেখক : মুহতামিম, জামিয়াতুল কোরআন, ঢাকা

সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি, ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ২০২৬: যে চার কারণে ব্যর্থ ১১ দলীয় জোট?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:২৯ এএম
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ২০২৬: যে চার কারণে ব্যর্থ ১১ দলীয় জোট?

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়লাভের মধ্য দিয়ে সরকার গঠনে আশাবাদী ছিল জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ডাকসু, জাকসু, রাকসুসহ পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংসদ নির্বাচনে ছাত্রশিবিরের নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর জামায়াতে ইসলামী সংসদ নির্বাচনে বেশি আশাবাদী হয়েছিল।

তবে জামায়াত ও তার মিত্ররা ৮০টি আসনে (৭১টি এককভাবে জামায়াত) জয়লাভ করেছে। এতে জোটের ভেতরে-বাইরে অস্বস্তি ও ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। জামায়াত ও ১১ দলের নেতারা তাদের ত্রুটি চিহ্নিত করছেন। গতকাল রাতে মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জামায়াতের আমিরের সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরে সেখানে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের বৈঠক হয়।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জামায়াত জোটের এই চমকপ্রদ সাফল্য বাংলাদেশের সমসাময়িক রাজনীতিতে একটি নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। তবে প্রধানত চারটি কারণে ১১ দলের প্রার্থীরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। পাশাপাশি ভোটগ্রহণ শেষে ফল ঘোষণা ও প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি তোলে জামায়াতে ইসলামী। জামায়াতে ইসলামী ও জোটের নেতারা জানান, এই কারণগুলো হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বী ভোটার থেকে প্রত্যাশিত ভোট না পাওয়া, আওয়ামী লীগের বিরাট অংশ বিএনপিকে সমর্থন দেওয়া, হেফাজতে ইসলামসহ আলেমদের একটি পক্ষ জামায়াতের বিরোধিতা করা এবং ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ ইস্যু। তার ওপর সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স অ্যাকাউন্টে একটি বিতর্কিত ‘পোস্ট’ নিয়েও ব্যাপক বিতর্ক ১১ দলীয় জোটকে অনেকটাই চাপে ফেলেছিল বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লিখেছেন, শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দেওয়ার জন্য আপনাদের সবাইকে জানাই আমাদের আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ। তবে নির্বাচনের ফল তৈরি ও ঘোষণার ধরন আমাদের কাছে পরিষ্কার নয়। অনেক জায়গায় আমাদের প্রার্থীরা অল্প ভোটে রহস্যজনকভাবে হেরে গেছেন। ফলাফলে বারবার গরমিল ও সাজানো দেখা যাচ্ছে এবং প্রশাসনও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করেনি বলে মনে হচ্ছে। এসব কারণে নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আমাদের ন্যায়ের লড়াই চলবেই, ইনশাআল্লাহ।

নির্বাচন কমিশনের বেসরকারি ফল অনুযায়ী, জামায়াতে ইসলামী তাদের আগের সব রেকর্ড ভেঙে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আসনে জয়লাভ করেছে। দলটি এককভাবে ৭১টি আসনে জয় পেয়েছে। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট মোট ৮০টি আসনে জয়লাভ করেছে। তার মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৬টি এবং মাওলানা মামুনুল হকের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুটি ও খেলাফত মজলিস একটি আসনে বিজয়ী হয়েছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চল, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল এবং সীমান্তবর্তী ও উপকূলীয় জেলাগুলোতে দলটির প্রার্থীরা বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। পাশাপাশি চট্টগ্রাম বিভাগের কয়েকটি আসনে ভালো ফল করেছেন জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থীরা। এক কথায়, গত কয়েকটি নির্বাচনের তুলনায় ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে আসন সংখ্যা কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে জামায়াতের। অন্যদিকে, খুলনা-৫ আসনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ অন্তত ১০ জন হেভিওয়েট নেতা পরাজিত হয়েছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একক দল হিসেবে জামায়াতের প্রাপ্ত ভোটের শতাংশ আগের চেয়ে অনেক বেশি, যা মূলত নারী, তরুণ ও নতুন ভোটারদের সমর্থনের বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। রংপুর ও খুলনা বিভাগের কয়েকটি জেলায় জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীরা নিরঙ্কুশ আধিপত্য বিস্তার করেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতের এই অভাবনীয় সাফল্যের পেছনে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট কারণ কাজ করেছে। দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষা এবং তৃণমূল পর্যায়ে কর্মীদের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। ভোটারের একটি বড় অংশ বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝে জামায়াতের কার্যক্রমের ওপর আস্থা রেখেছেন। সেইসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জামায়াতে ইসলামীর জোর ক্যাম্পেইন এবং আধুনিক ও কর্মমুখী রাজনীতির প্রতিশ্রুতি তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে পেরেছে। এ ছাড়া দেশের ইসলামপন্থি দলগুলোর মধ্যকার অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসন করে তাদের নিয়ে জোটবদ্ধ হওয়া এবং নিরপেক্ষ ভোটারদের সমর্থন নিজেদের বাক্সে টানতে সক্ষম হয়েছে দলটি।

জামায়াতে ইসলামীর কয়েকজন দায়িত্বশীল নেতা জানান, যেভাবেই হোক ফল ঘোষণা করা হয়েছে। এখন আমরা না মানলে দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি হবে। সুতরাং দেশ ও জাতির বৃহৎ স্বার্থে আমাদের ফল মেনে সংসদে গিয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার অভাব-অভিযোগ সংসদে তুলে ধরতে হবে।

সূত্র বলছে, বহু বছর কোণঠাসা থাকা জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতিতে পুনরুত্থান বা ফিরে আসা কেবল আকস্মিক নয়, বরং এটি ছিল দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির ফসল। জামায়াত এবার এককভাবে না লড়ে সমমনা ১১টি দলের সঙ্গে একটি শক্তিশালী নির্বাচনী ঐক্য গড়ে তোলে। শুরুর দিকে চরমোনাই পীর নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এ জোটে থাকার কথা বললেও শেষ মুহূর্তে থাকেনি। ফলে নির্বাচনে ইসলামপন্থিদের ভোট একটি বাক্সে আনার বিষয়টি কিছুটা ধাক্কা খায়। যে কারণে জোটেও অস্বস্তি তৈরি হয়। কওমি ও আলিয়া ঘরানার ভোটের যে দীর্ঘদিনের বিভাজন ছিল, তা আরও স্পষ্ট হয়ে যায়। একপর্যায়ে জোটবদ্ধ হওয়ায় জামায়াত তার একক দলীয় পরিচয়ের বাইরে একটি ‘ইসলামী মোর্চা’ হিসেবে ভোটারদের কাছে হাজির হতে পেরেছে।

বিশ্লেষকরা বলেছেন, এবারের নির্বাচনের ঠিক আগেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ডাকসু) ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ (চাকসু) বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র শিবিরের বড় জয় দলটির জন্য ‘ক্যাটালিস্ট’ হিসেবে কাজ করেছে। ক্যাম্পাসে শিবিরের জয় সাধারণ তরুণ ও প্রথমবার ভোট দেওয়া ভোটারদের মধ্যে এ বার্তা দিয়েছে যে, জামায়াত এখন একটি ‘স্মার্ট’ ও ‘সুসংগঠিত’ শক্তি। শিবিরের দক্ষ ও সুশৃঙ্খল কর্মীবাহিনী নির্বাচনী মাঠ দখলে রাখতে এবং ভোটারদের কেন্দ্রে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর যখন অনেক দলের বিরুদ্ধে দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠছিল, তখন জামায়াত কৌশলগতভাবে নিজেকে এসব থেকে দূরে রেখেছে। তারা জনসভায় ‘বিএনপিও দুর্নীতির পুরোনো ধারায় ফিরছে’ এমন একটি বয়ান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।

১১ দলীয় জোটের শরিক খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল জলিল বলেন, দীর্ঘ আওয়ামী ফ্যাসিবাদী যুগের অবসান ঘটিয়ে ২৪-এর গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে কাঙ্ক্ষিত জাতীয় নির্বাচন অবশেষে অনুষ্ঠিত হলো। বিচ্ছিন্ন কিছু সহিংস ঘটনা ছাড়া সারা দেশে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও ফল ঘোষণায় বেশ কিছু অনিয়ম পরিলক্ষিত হয়েছে। যা একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে সংশয় সৃষ্টি করে এবং গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে তা আর কাম্য নয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক স ম আলী রেজা বলেন, আমি মনে করি, এ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলাম জোট ভালো করেছে। তাদের আসন ও ভোট অনেক বেড়েছে। তারা একটা বিকল্প ঢেউ তৈরি করতে পেরেছে। আমার ধারণা, এনসিপি তার স্বাতন্ত্র্য ধরে রাখতে পারলে আরও ভালো করতো। আশা করি, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ একটি দায়িত্বশীল সরকার ও গঠনমূলক বিরোধী দল উপহার দেবে।

আরেকজন বিশ্লেষক বলেন, এ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী অতীতের তুলনায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। আগের বছরগুলোয় তাদের নেতাকর্মীরা ব্যাপক দমন-পীড়নের মুখে পড়েছিলেন। যুদ্ধাপরাধ সংশ্লিষ্ট মামলায় কয়েকজন শীর্ষ নেতার দণ্ড কার্যকর হওয়ার ঘটনাও দলটির সাংগঠনিক কাঠামোতে প্রভাব ফেলেছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তারা নিজেদের নতুনভাবে উপস্থাপন করে এবং দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানকে জোরালোভাবে প্রচার করে। এই কৌশল ও মাঠপর্যায়ের সংগঠনের সক্রিয়তা তাদের ভোট বাড়াতে সহায়তা করেছে। এনসিপি একটি নবগঠিত রাজনৈতিক দল হিসেবে সীমিত পরিসরে অংশ নিয়েও ৬টি আসনে জয়লাভ করেছে। নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে তাদের ফলাফল তাৎপর্যপূর্ণ। বৃহত্তর জোটভিত্তিক সমর্থন ও সাম্প্রতিক আন্দোলনকেন্দ্রিক পরিচিতি তাদের প্রাথমিক সাফল্যে ভূমিকা রেখেছে।

সূত্র : কালবেলা

“ভালোবাসা দিবসে আজও খুঁজি তোমায়”

হারুন-অর-রশীদ
প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:০১ এএম
“ভালোবাসা দিবসে আজও খুঁজি তোমায়”

ভালোবাসা দিবসে আজও খুঁজি তোমায়,
ফাগুনের রঙে ভেজা বিকেলের হাওয়ায়।
শিমুল-পলাশের আগুনরাঙা ডালে
তোমার নাম লিখি নিঃশব্দ কালের খাতায়।

রোদ্দুর নেমে আসে নরম হলুদ চাদরে,
তোমার স্মৃতি জাগে মনের অন্দরমহলে।
চেনা সেই পথ, কাঁকরভরা মোড়,
আজও কি তোমার পায়ের শব্দে দোলে?

অপরাহ্নের আকাশে তুলোর মতো মেঘ,
তাদের ফাঁকে দেখি তোমার মুখরেখ।
দূরের কোকিল ডাকে অবিরাম সুরে,
আমার বুকের ভেতর বাজে অদৃশ্য এক বাঁশি।

শহরের ভিড়ে হাজার মানুষের মাঝে
তোমার অনুপস্থিতি সবচেয়ে বেশি বাজে।
হাতছানি দেয় স্মৃতিরা, নরম তুলোর মতো,
ছুঁতে গেলেই উড়ে যায় অনন্ত বাতাসে।

গোলাপের পাপড়িতে জমে থাকা শিশির
আমার না-বলা কথার মতোই অধীর।
চিঠির খামে ভাঁজ করা দীর্ঘশ্বাস
আজও পাঠাই নীল আকাশের ঠিকানায়।

তুমি কি শুনতে পাও এই হৃদয়ের ডাক?
নাকি হারিয়ে গেছ সময়ের ফাঁক?
ভালোবাসা কি শুধুই একদিনের উৎসব,
নাকি সারাবছর জেগে থাকা নীরব আগুন?

ফাগুন এলে তাই মনটা আরও বাউল,
তোমার স্মৃতিতে হয় অকারণ আকুল।
ভালোবাসা দিবসে আজও খুঁজি তোমায়—
নিজের ভেতর, স্বপ্নে, কিংবা নিঃসঙ্গ আয়নায়।

যদি কোনোদিন হঠাৎ দেখা হয়ে যায়,
জেনে নিও—ভালোবাসা আজও ফুরায়নি, থেমে যায়নি কায়।

বিশ্ব ভালোবাসা দিবস আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:৪০ এএম
বিশ্ব ভালোবাসা দিবস আজ

আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি—বসন্তের প্রথম দিন পহেলা ফাল্গুন। শীতের জড়তা কাটিয়ে প্রকৃতিতে নেমেছে রঙিন উচ্ছ্বাস, বাতাসে ভাসছে নতুন ঋতুর গন্ধ। কোকিলের ডাক আর ফুলের সুবাসে মুখরিত এই দিনে বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস, যা পরিচিত Valentine’s Day নামে। ফলে দিনটি যেন একসঙ্গে প্রকৃতি ও হৃদয়ের উৎসব।

প্রতি বছর ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে নানা আয়োজন দেখা যায় দেশে-বিদেশে। বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের মধ্যে দিনটি ঘিরে থাকে বাড়তি উচ্ছ্বাস। কেউ প্রিয়জনকে নিয়ে ঘুরতে যান, কেউ বা উপহার, ফুল, চকলেট কিংবা কার্ডের মাধ্যমে মনের অনুভূতি প্রকাশ করেন। লাল গোলাপ, রজনীগন্ধা বা গাঁদা ফুলের চাহিদা বেড়ে যায় কয়েকগুণ। নগরীর রেস্তোরাঁ, পার্ক ও বিনোদনকেন্দ্রগুলোতেও দেখা যায় ভিড়।

তবে শুধু প্রেমিক-প্রেমিকার সম্পর্কেই নয়, ভালোবাসা দিবস এখন পরিবার, বন্ধু কিংবা সহকর্মীদের প্রতিও ভালোবাসা প্রকাশের উপলক্ষ হয়ে উঠেছে। অনেকেই বাবা-মা, সন্তান বা প্রিয় বন্ধুকে ছোট উপহার দিয়ে কিংবা একসঙ্গে সময় কাটিয়ে দিনটিকে বিশেষ করে তোলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শুভেচ্ছা বার্তা, ছবি ও ভিডিও শেয়ার করার প্রবণতা বেড়ে যায় এদিন।

ভালোবাসা দিবসের ইতিহাস ঘিরে রয়েছে নানা কাহিনি। প্রচলিত মতে, খ্রিস্টীয় তৃতীয় শতকে ইতালির রোমে Saint Valentine নামে এক খ্রিস্টান পাদ্রী গোপনে তরুণ-তরুণীদের বিয়ে দিতেন। সে সময়ের শাসক Claudius II সৈন্যদের অবিবাহিত রাখতে চেয়েছিলেন। এই আদেশ অমান্য করায় ২৬৯ খ্রিস্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি ভ্যালেন্টাইনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তাঁর স্মরণেই দিনটি ভালোবাসা দিবস হিসেবে পরিচিতি পায়। যদিও ইতিহাসবিদদের মতে, দিবসটির উৎপত্তি নিয়ে একাধিক মত রয়েছে এবং এটি ধীরে ধীরে পাশ্চাত্য সংস্কৃতি থেকে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।

বাংলাদেশেও গত কয়েক দশকে ভালোবাসা দিবস জনপ্রিয়তা পেয়েছে। একই দিনে পহেলা ফাল্গুন হওয়ায় এ দেশের মানুষ দ্বিগুণ আনন্দে দিনটি উদযাপন করেন। হলুদ-লাল পোশাকে সাজসজ্জা, ফুলের মালা, কপালে ফাল্গুনের টিপ—সব মিলিয়ে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।

তবে অনেকে মনে করেন, ভালোবাসা প্রকাশের জন্য নির্দিষ্ট কোনো দিনের প্রয়োজন নেই। তাদের মতে, প্রতিদিনের ছোট ছোট যত্ন ও সম্মানই প্রকৃত ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। তবু বিশেষ একটি দিন মানুষকে অনুভূতি প্রকাশের সাহস ও সুযোগ করে দেয়—এ কথা অস্বীকার করা যায় না।

বসন্তের রঙিন সকালে তাই বলা যায়, আজ শুধু একটি দিবস নয়; এটি হৃদয়ের ভাষা জানানোর দিন। প্রিয়জনের হাত ধরে কিছুটা সময় কাটানো, একটি আন্তরিক চিঠি কিংবা একটি লাল গোলাপ—এসব ছোট আয়োজনই হয়তো দিনটিকে করে তুলতে পারে স্মরণীয়।