খুঁজুন
শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ২৮ চৈত্র, ১৪৩২

এবার নগরকান্দায় আ.লীগের দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন

এহসানুল হক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২:৪২ অপরাহ্ণ
এবার নগরকান্দায় আ.লীগের দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক।

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে এ ঘটনাটি ঘটেছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে নগরকান্দা উপজেলার একটি দলীয় কার্যালয়ে কয়েকজন নেতাকর্মী একত্রিত হয়ে জাতীয় পতাকা এবং দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন। এসময় তারা ‘জয় বাংলা’সহ বিভিন্ন দলীয় স্লোগান দেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন নগরকান্দা শহর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আজাদ হোসেন, তালমা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি রাকিব লস্কর এবং পৌর যুবলীগ নেতা তরুণ পোদ্দারসহ আরও কয়েকজন।

পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তালমা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি রাকিব লস্করকে বলতে শোনা যায়, মহান একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে নগরকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রধান কার্যালয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়েছে।

তিনি আরও দাবি করেন, তাদের প্রিয় নেতা শাহাদাব আকবর চৌধুরী লাবুর দিকনির্দেশনায় উপজেলা যুবলীগের উদ্যোগে জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

তবে এ বিষয়ে ভিন্ন তথ্য দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ ‘ফরিদপুর প্রতিদিন’-কে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও সেখানে কোনো পতাকা উত্তোলন বা পুষ্পস্তবক অর্পণের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, “আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কিছুই পাইনি। বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে।”

এদিকে, ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ একে রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের চেষ্টা হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকে বলছেন, এটি সম্পূর্ণ প্রতীকী কর্মসূচি।

এর আগে শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে ফরিদপুর জেলা আ.লীগ কার্যালয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছিল।

হারাম উপার্জনকারীর ইবাদত কী কবুল হয়?

মুহাম্মদ শফিকুর রহমান
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৩১ পূর্বাহ্ণ
হারাম উপার্জনকারীর ইবাদত কী কবুল হয়?

নশ্বর পৃথিবীতে জীবিকানির্বাহের জন্য উপার্জন করতে হয়। চাকরি-বাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্য কিংবা কৃষি উৎপাদন ইত্যাদি মাধ্যমে মানুষ অর্থ ও খাদ্য উপার্জন করে থাকে। মানুষের উপার্জনকে উৎসাহিত করা হয়েছে ইসলামে।

তবে সে উপার্জন হতে হবে হালাল ও বৈধ পন্থায়। হালাল বিষয় হালাল উপায়ে উপার্জন করলে আল্লাহও খুশি হন। পক্ষান্তরে হারাম জিনিস উপার্জন করলে কিংবা হালাল জিনিস অবৈধ উপায়ে উপার্জন করলে আল্লাহ নারাজ হন। হারাম সম্পদ ভক্ষণ করলে আল্লাহ ইবাদত ও দোয়া কবুল করেন না। অনেকে নামাজ রোজা হজ করছেন, আল্লাহর নিকট দোয়া করছেন; কিন্তু জীবনে কোনো বরকত নেই।

অশান্তি লেগেই আছে। দোয়া কবুল হয় না। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন, ‘হে মানবজাতি। পৃথিবীতে যা কিছু বৈধ ও পবিত্র খাদ্যবস্তু রয়েছে, তা থেকে তোমরা আহার কর এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না, নিশ্চয় সে তোমাদের প্রকাশ্যে শত্রু।’ (সুরা বাকারা : ১৬৮)। পবিত্র খাদ্য বস্তু মানে হালাল খাবার। সৎভাবে উপার্জিত অর্থের কেনা খাবার।

আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন, ‘হে ইমানদাররা, তোমাদেরকে আমি যে সব পবিত্র বস্তু দিয়েছি, তা থেকে আহার করো এবং আল্লাহর নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো, যদি তোমরা শুধু তারই ইবাদাত করে থাকো।’ (সুরা বাকারা : ১৭২)। আল্লাহ তায়ালা আরও ইরশাদ করেন, ‘নামাজ সমাপ্ত হলে তোমরা পৃথিবীতে (হালাল উপার্জনের জন্য) ছড়িয়ে পড়ো এবং আল্লাহর অনুগ্রহ তালাশ কর ও আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও।’ (সুরা জুমআ : ১০)।

নামাজের পরই আল্লাহ তায়ালা হালাল জীবিকার সন্ধানে বের হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। অসৎ ও অবৈধ উপায়ে অর্জিত সম্পদের দান-সদকাও কবুল হয় না। হারাম ব্যবসা-বাণিজ্যের অর্থ-সম্পদের দ্বারা আল্লাহর নৈকট্য প্রত্যাশা করা যায় না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘পবিত্রতা ছাড়া নামাজ আর চুরি ও আত্মসাতের সম্পদের সদকা কবুল হয় না।’ (মুসলিম)

দেহের যে অংশ হারাম মাল দ্বারা পালিত হয়েছে, তা জান্নাতে প্রবেশ করবে না। হারাম পথের উপার্জন জাহান্নামে যাওয়ার পথকে সহজ করে দেবে। রাসুল (সা.) এরশাদ করেন, ‘যে বান্দা হারাম সম্পদ উপার্জন করে, যদিও সে সদকা করে, তা কবুল হবে না। আর যদি ব্যয় করে, তবে তাতে ও কোনো বরকত হবে না। আর যদি রেখে মারা যায়, তা জাহান্নামে যাওয়ার পাথেয় হবে। আল্লাহ তায়ালা মন্দ (কাজ) দ্বারা মন্দকে মিঠিয়ে দেন না, হ্যাঁ ভালো কাজ দ্বারা মন্দকে মিঠিয়ে দেন, নিঃসন্দেহে নাপাকীকে নাপাকী দূরীভূত করতে পারে না।’ (মুসনাদে আহমদ : ৩৬৭২)।

হারাম খাদ্য শরীরের প্রতিটি শিরা-উপশিরায় ঢুকে যায়। যার কারণে হারাম কিছু খেলে তার দোয়া আল্লাহর দরবারে কবুল হয় না। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘একজন মানুষ লম্বা পথ সফর করেছে, ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত। এরপর সে না ঘুমিয়ে রাতে নামাজ পড়ে এবং আল্লাহকে ডেকে ডেকে দোয়া করে—হে আল্লাহ! তুমি আমার গুনাহ মাফ করো। কিন্তু তার খাদ্য হারাম, পানীয় হারাম, কাপড়-চোপড় হারাম। তার সবকিছুই হারাম। সুতরাং ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত শরীরে, না ঘুমিয়ে সে যত মনোযোগ সহকারেই দোয়া করুক না কেন, আল্লাহর দরবারে তা কবুল হবে না।’ (মেশকাত)। তাই উপার্জনের ক্ষেত্রে আমাদের সাবধান হতে হবে। হারাম থেকে বিরত থাকতে হবে।

লেখক: মাদ্রাসা শিক্ষক

ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে নিহত ফরিদপুরের দিপালি, বাড়িতে শোকের মাতম

মুস্তাফিজুর রহমান শিমুল, চরভদ্রাসন:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:০৫ অপরাহ্ণ
ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে নিহত ফরিদপুরের দিপালি, বাড়িতে শোকের মাতম

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা ও সংঘাতের প্রেক্ষাপটে লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইসরায়েলের বোমা হামলায় ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার এক প্রবাসী নারী নিহত হয়েছেন। নিহত দিপালী (৩৪) উপজেলার পূর্ব চর শালেপুর গ্রামের বাসিন্দা সেক মুকার মেয়ে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (০৮ এপ্রিল) দিবাগত রাতে বৈরুতের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। দুই ভাই ও তিন বোনের মধ্যে দিপালী ছিলেন চতুর্থ। পরিবারের অভাব-অনটন দূর করতে প্রায় দুই বছর আগে তিনি লেবাননে পাড়ি জমান এবং সেখানে গৃহকর্মীর কাজ করছিলেন।

দিপালীর ছোট বোন লাইজু বেগম জানান, প্রতিদিনের মতো বুধবার বিকেলেও ইমুতে তার সঙ্গে কথা হয়। তখনও দিপালী স্বাভাবিকভাবেই কথা বলছিলেন। তবে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার কারণে প্রায় এক মাস আগে তিনি কর্মস্থল পরিবর্তন করে তার গৃহকর্তার পরিবারের সঙ্গে বৈরুতে আশ্রয় নেন।

লাইজু বেগম বলেন, “পরদিন বৃহস্পতিবার বিকেলে আপুকে ফোন দিলে আর যোগাযোগ করতে পারিনি। পরে আপুর মালিকের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হই। একপর্যায়ে তাদের পরিবারের এক সদস্যের মাধ্যমে জানতে পারি, বুধবারের বোমা হামলায় আমার আপুসহ তাদের পরিবারের আরও ছয়জন মারা গেছেন।”

জানা গেছে, হামলার পর গুরুতর আহত অবস্থায় দিপালীকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তিনি মৃত্যুর সঙ্গে লড়াইয়ে হার মানেন। বর্তমানে তার মরদেহ বৈরুতের একটি হাসপাতালে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। চর হরিরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সেক ফালু জানান, “দিপালী খুবই অসচ্ছল পরিবারের মেয়ে ছিল। সংসারের হাল ধরতেই সে বিদেশে গিয়েছিল। আমরা চাই তার মরদেহ দ্রুত দেশে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হোক।”

এদিকে, উপজেলা প্রশাসনও বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছে। চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুরাইয়া মমতাজ বলেন, “দিপালী নিহত হওয়ার খবর আমরা পেয়েছি। ইতোমধ্যে ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। বিধি মোতাবেক তার মরদেহ দেশে আনার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।”

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে লেবাননসহ বিভিন্ন দেশে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

দিপালীর অকাল মৃত্যুতে তার পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম এই নারীকে হারিয়ে তারা এখন দিশেহারা। দ্রুত তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে যথাযথ দাফনের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসীও।

ফরিদপুরে ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভনে বিধবাকে হোটেলে নিয়ে ধর্ষণ, ঢাকায় গ্রেফতার যুবক

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:০৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভনে বিধবাকে হোটেলে নিয়ে ধর্ষণ, ঢাকায় গ্রেফতার যুবক

ফরিদপুরে ফ্যামিলি কার্ড ও বিধবা ভাতার কার্ড করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক অসহায় বিধবাকে আবাসিক হোটেলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত সুজন শেখকে (৩৫) রাজধানী ঢাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব-১০)।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকার হাজারীবাগ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‍্যাব-১০ এর কোম্পানি কমান্ডার মো. তারিকুল ইসলাম।

জানা গেছে, ভুক্তভোগী নারী ফরিদপুর শহরের আলীপুর এলাকার বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে জীবনযাপন করছেন তিনি। প্রায় ১০ বছর আগে স্বামী হারানোর পর একমাত্র ছেলেকে নিয়ে জরাজীর্ণ টিনের ঘরে বসবাস করছেন। জীবিকার তাগিদে অন্যের বাড়িতে কাজ করে কোনোভাবে দিন পার করেন। সরকারি কোনো সহায়তা না পাওয়ায় তিনি ছিলেন চরম হতাশায়।

এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে প্রতিবেশী সুজন শেখ তাকে ফ্যামিলি কার্ড ও বিধবা ভাতার কার্ড করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। গত ২ এপ্রিল সকালে উপজেলা পরিষদে নেওয়ার কথা বলে তিনি ওই নারীকে রিকশায় তুলে নেন। পরে বাস টার্মিনাল সংলগ্ন একটি আবাসিক হোটেলে নিয়ে গিয়ে সেটিকেই অফিস বলে পরিচয় দেন।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, সেখানে নেওয়ার পর তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। ঘটনার পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস (ওসিসি) সেন্টারে ভর্তি করা হয়। চারদিন চিকিৎসা শেষে গত ৬ এপ্রিল তিনি বাড়ি ফেরেন।

পরবর্তীতে ৭ এপ্রিল ফরিদপুর কোতোয়ালী থানায় সুজন শেখের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী নারী।

বিচার দাবি করে তিনি বলেন, “আমি কোনো অফিস চিনতাম না। তার কথায় বিশ্বাস করে গিয়েছিলাম। সরকারের সুবিধা পাইতে চেয়েছিলাম, কিন্তু সে আমার সর্বনাশ করছে। আমি এর বিচার চাই।”

এদিকে অভিযুক্ত সুজন শেখ অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, এটি তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। তিনি বলেন, ওই নারী তার বাড়িতে যাতায়াত করতেন এবং ঘটনার দিন একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাকে মারধর করা হয়েছিল, যার জের ধরে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুজন শেখের সঙ্গে কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তির সখ্য রয়েছে বলে এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে। তবে ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ কে কিবরিয়া স্বপন বলেন, “আমাদের দলে সুজন নামে কোনো সক্রিয় নেতা বা কর্মী আছে বলে জানা নেই। অপরাধী যেই হোক, তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।”

ফরিদপুর কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, “ভুক্তভোগী প্রায় ৫০ বছর বয়সী একজন নারী। ঘটনাটি অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। আমরা শুরু থেকেই আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছিলাম। র‍্যাব তাকে গ্রেফতার করেছে, এখন আইনি প্রক্রিয়া চলবে।”

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে অভিযুক্তকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হবে এবং মামলার তদন্ত দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে।