খুঁজুন
সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০ ফাল্গুন, ১৪৩২

মধুখালীতে গভীর রাতে কাঁঠাল বাগানে অভিযান, পাইপগান-কার্তুজসহ দুই যুবক গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:২৩ পিএম
মধুখালীতে গভীর রাতে কাঁঠাল বাগানে অভিযান, পাইপগান-কার্তুজসহ দুই যুবক গ্রেপ্তার

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় একটি কাঁঠাল বাগানে অভিযান চালিয়ে দেশীয় তৈরি পাইপগান ও কার্তুজসহ দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার কামারখালী বাজার সংলগ্ন নিশ্চিন্তপুর এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার আখশুকনা গ্রামের মাধব ঘোষ (৩৬) এবং একই এলাকার অসিম শিকদার (২১)। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে তাদের ফরিদপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মধুখালী থানা পুলিশ জানতে পারে, নিশ্চিন্তপুর এলাকার একটি কাঁঠাল বাগানে কয়েকজন ব্যক্তি সন্দেহজনকভাবে অবস্থান করছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে চারদিক থেকে বাগানটি ঘিরে ফেলে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সেখানে থাকা দুজন ব্যক্তি পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয়রা তাদের ধাওয়া করে আটক করে।

পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে ওই দুইজনকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়। পরে তাদের তল্লাশি করে মাধব ঘোষের কাছ থেকে একটি দেশীয় তৈরি পাইপগান (কাঠের বাটসহ, প্রায় ১৪.৫ ইঞ্চি লম্বা) এবং অসিম শিকদারের কাছ থেকে দুই রাউন্ড শিসার কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ আরও জানায়, উদ্ধার করা কার্তুজের পেছনে ইংরেজিতে “CHEDDITE-12” লেখা রয়েছে, যা সাধারণত শটগানের কার্তুজ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। জব্দ করা অস্ত্র ও গোলাবারুদ যথাযথ প্রক্রিয়ায় তালিকাভুক্ত করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।

মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফকির তাইজুর রহমান ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ১৯-এ/এফ(১) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা অস্ত্র রাখার বিষয়ে সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেনি।”

তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে পূর্বে কোনো অপরাধমূলক সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ছাড়া তারা কোনো সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের সঙ্গে জড়িত কিনা, সে বিষয়েও তদন্ত চলছে।

 

ফরিদপুরে ভুয়া ভ্যাট কর্মকর্তা কারাগারে

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:১৩ পিএম
ফরিদপুরে ভুয়া ভ্যাট কর্মকর্তা কারাগারে

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ভ্যাট কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা ও চাঁদাবাজির অভিযোগে দুটি ঘটনায় ব্যবসায়ী মহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এক ঘটনায় ভুয়া ভ্যাট কর্মকর্তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালত এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। অন্যদিকে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের এক সিপাহীর বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে, যদিও তিনি তা অস্বীকার করেছেন।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বোয়ালমারী গরুহাটায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে স্বপন ঘোষ (৫৬) নামে এক ব্যক্তিকে দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ১৮৮ ধারায় এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আদালত পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শিব্বির আহমেদ।

আদালত সূত্রে জানা যায়, স্বপন ঘোষ বোয়ালমারী পৌর বাজারের একটি প্রেসে গিয়ে নিজেকে ফরিদপুর ভ্যাট অফিসের কর্মকর্তা পরিচয় দেন। তিনি ভ্যাট বকেয়ার কথা বলে টাকা দাবি করেন। অভিযোগ রয়েছে, এর আগেও তিনি দুই দফায় ৮ হাজার টাকা আদায় করেছিলেন। পরিচয়পত্র দেখাতে ব্যর্থ হলে স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এ সময় বোয়ালমারী থানার ওসি মো. আনোয়ার হোসেনসহ পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শিব্বির আহমেদ জানান, “ভুয়া পরিচয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”

এদিকে বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর বাজারের ব্যবসায়ী প্রান্ত সাহা অভিযোগ করেছেন, কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের সিপাহী মুস্তাইন শাহ মামুন তার দোকানে গিয়ে ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন। না দিলে ৫ থেকে ৭ লাখ টাকার ভ্যাট ফাঁকির মামলা দেওয়ার হুমকি দেন।

ভুক্তভোগী প্রান্ত সাহা জানান, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা না দিলে মামলা করা হবে বলে আলটিমেটাম দেওয়া হয়। পরে তিনি ৫ হাজার টাকা দিতে চাইলে অভিযুক্ত ব্যক্তি ১৫ হাজার টাকা দাবি করেন। বিষয়টি বাজারের অন্য ব্যবসায়ীরা টের পেয়ে তাকে আটক করেন এবং পুলিশকে খবর দেন।

তবে সিপাহী মুস্তাইন শাহ মামুন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি সরকারি কাজে বোয়ালমারীতে গিয়েছিলাম। ব্যবসায়ী নিজেই আমাকে টাকা দিতে চেয়েছিলেন, যা আমি প্রত্যাখ্যান করেছি। পরে আমাকে অপদস্ত করা হয় এবং পুলিশ এসে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আমার পরিচয় নিশ্চিত করে আমাকে উদ্ধার করে। আমি কোনো ঘুষ নিইনি।”

এলাকাবাসীর একাংশের দাবি, ভুয়া কর্মকর্তা স্বপন ঘোষ কখনো নিজেকে মুস্তাইন শাহ মামুন হিসেবেও পরিচয় দিতেন এবং নিজেকে বড় কর্মকর্তা দাবি করতেন। ফলে দুই ঘটনার মধ্যে কোনো ধরনের যোগসাজস রয়েছে কি না—এ বিষয়টি খতিয়ে দেখার প্রশাসনের কাছে দাবি জানানো হয়েছে। এছাড়া ঘটনা দুটির পর স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।

মধুখালীতে হাসপাতালে ঝটিকা পরিদর্শনে এমপি ইলিয়াস মোল্লা, সেবার মানে বড় বার্তা

মো. ইনামুল খন্দকার, মধুখালী:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:০২ পিএম
মধুখালীতে হাসপাতালে ঝটিকা পরিদর্শনে এমপি ইলিয়াস মোল্লা, সেবার মানে বড় বার্তা

ফরিদপুর-১ (মধুখালী, বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য প্রফেসর ড. মোঃ ইলিয়াস মোল্লা মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেছেন।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন এবং চিকিৎসাসেবার মান, অবকাঠামো ও জনবল পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যালোচনা করেন।

পরিদর্শনকালে এমপি হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ, পুরুষ ও নারী ওয়ার্ডসহ গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটসমূহ ঘুরে দেখেন। তিনি চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে হাসপাতালের বর্তমান কার্যক্রম ও চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নেন। একই সঙ্গে রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে মতবিনিময় করে চিকিৎসাসেবা নিয়ে তাদের অভিজ্ঞতা ও অভিযোগ শুনেন।

পরিদর্শনের আগে তিনি নিজেই হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নিয়ে সেবার মান উন্নয়নে সচেতনতার বার্তা দেন, যা উপস্থিত সবার মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। এ সময় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মামুন হাসান, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা আলীমুজ্জামান, পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা রেজাউল করিমসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এমপির কাছে চিকিৎসক ও নার্সের সংকট, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাব, শয্যা সংকট এবং আধুনিক যন্ত্রপাতির ঘাটতির বিষয় তুলে ধরেন। এছাড়া রোগীর অতিরিক্ত চাপের কারণে সেবা দিতে নানা সীমাবদ্ধতার কথাও জানান তারা।

পরিদর্শন শেষে এমপি প্রফেসর ড. মো. ইলিয়াস মোল্লা বলেন, “জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে তাদের সেবা করাই আমার প্রধান দায়িত্ব। এই অঞ্চলের মানুষ যেন উন্নত ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পায়, সেজন্য হাসপাতালের বিদ্যমান সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

তিনি আরও জানান, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ ও অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয়রা আশা করছেন, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যের এই উদ্যোগের ফলে মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবার মান বৃদ্ধি পাবে এবং সাধারণ মানুষ আরও উন্নত চিকিৎসাসেবা পাবে।

ফরিদপুরে সড়ক নির্মাণ কাজে অনিয়মকে পুজি করে দুইলাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:২০ পিএম
ফরিদপুরে সড়ক নির্মাণ কাজে অনিয়মকে পুজি করে দুইলাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ

ফরিদপুর পৌরসভার একটি সড়ক নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ তুলে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। একই সাথে নির্মাণ শ্রমিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও কাজে বাঁধা দেয়ারও অভিযোগ উঠেছে। তবে, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় ওই পক্ষটি।

ফরিদপুর পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, পৌরসভার প্রকৌশলী বিভাগের অধীনে ১৪নং ওয়ার্ডের হাড়োকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় ৩৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা ব্যয়ে ৩৮৮ মিটার ইউনিব্লক সড়ক নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছেন। কাজটি বাস্তবায়ন করছেন মেসার্স মির্জা কনস্ট্রাকশন নামে সিরাজগঞ্জের একটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। এছাড়া কাজটির তদারকিতে রয়েছেন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও স্থানীয় বাসিন্দা মুরাদ শেখ নামে এক ব্যক্তি এবং গত তিনমাস আগে নির্মাণ কাজ শুরু হয়।

জানা যায়, গত শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকালে সড়ক নির্মাণ কাজে বাঁধা দেন স্থানীয় ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাহার শেখের নেতৃত্বে ৮ থেকে ১০ জন ব্যক্তি। তাঁরা নির্মাণ শ্রমিকদের হাত-পা কেটে ফেলার হুমকিও দেন বলে করিম আলী শেখ নামে এক শ্রমিক অভিযোগ করেন। এছাড়া দুই লাখ টাকা চাদা দাবির অভিযোগ করেন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মুরাদ শেখ।

ঘটনাটি নিয়ে সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কটি নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। সেখানে প্রায় ২০ জনের একদল লোক অবস্থান করছেন। তাঁদের নেতৃত্ব দিতে দেখা যায় বাহার শেখ ও শামিম হোসেন ওরফে সামিউল নামে দুই ব্যক্তিকে। এ সময় তাঁরা নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে বলে ঘুরে ঘুরে সাংবাদিকদের সামনে উত্থাপন করেন।

তাঁরা অভিযোগ করে বলেন, ব্যবহৃত ব্লকের মধ্যে নিম্নমানের উপদান রয়েছে, পুরুত্ব (এসএ) ৬ ইঞ্চির পরিবর্তে তিন ইঞ্চি রয়েছে। এছাড়া পলিথিন ও ময়লা মিশ্রিত মাটি ব্যবহার, নিম্নমানের ইট-খোয়ার ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব অভিযোগ তুলে কখনও আবার নির্মাণ শ্রমিকদের ওপর চড়াও হোন, কখনও আবার কাজ বন্ধ রাখার জন্য শ্রমিকদের নির্দেশ দেন। এক পর্যায়ে সেখানে কোতয়ালী থানার উপ-পরিদর্শক আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল উপস্থিত হোন এবং কাজে বাঁধা না দেয়ার জন্য নির্দেশ দেন।

এ সময় অভিযোগ তুলে মুরাদ শেখ বলেন, ‘তিনমাস যাবৎ কাজ চলতেছে এখানে কিন্তু হঠাৎ করেই এসে কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়। পরে বাহার শেখকে আমার বাসায় আসতে বলি এবং আসার পরে জানতে চাই কি কারণে কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তখন বাহার আমাকে বলে ঠিকাদারকে আমাদের দুই লাখ টাকা দিতে বলেন। আমার বাসার মধ্যেই বসে এই টাকা চেয়েছে, তখন বাহারের সাথে সুব্রত নামে এক লোকও উপস্থিত ছিল। পরবর্তীতে আমি ঠিকাদারকে বিষয়টি জানিয়েছিলাম এবং গতকাল পৌরসভায় জানানো হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে বাহার শেখের কাছে জানতে চাইলে তিনি পাল্টা অভিযোগ করেন। বাহার শেখ বলেন, শুক্রবার ইফতারির পরে মুরাদ শেখ নিজেই আমাকে দেখা করতে বলে এবং কয় টাকা ঘুষ দেয়া লাগবে-সেটা আমি দেখব। সে আমাকে প্রলোভন দেখিয়ে ও মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে তাঁর বাসায় ডেকে নেয়। আমি ভিডিওর মাধ্যমে অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় আমার নামে মিথ্যা অভিযোগ দেয়া হয়েছে এবং ঠিকাদার চক্রটি আমাকে ফাঁদে আটকিয়ে ফেলায়ছে।

এদিকে অনিয়মের বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে নির্মাণকাজের দায়িত্বরত উপ সহকারী প্রকৌশলী মো. লাইজিং হোসেন রাজু বলেন, কাজে কিছুটা অনিয়ম হচ্ছে আমিও দেখেছি এবং সে বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। এটাকে পুজি করে স্থানীয় একটি গ্রুপ টাকা দাবি করেছে বলে শুনেছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পৌর প্রশাসক স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মো. সোহরাব হোসেন বলেন, কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি এবং ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নির্বাহী কর্মকর্তাকে বলা হয়েছে। এছাড়া চাঁদা দাবির বিষয়ে কেউ আমার কাছে অভিযোগ দেয়নি।