খুঁজুন
শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন, ১৪৩২

বীজসহ ফল খাওয়ানোর আগে শিশুর জন্য যা জানা জরুরি?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:০৯ এএম
বীজসহ ফল খাওয়ানোর আগে শিশুর জন্য যা জানা জরুরি?

শিশুদের খাওয়ার প্রতি এমনিতেই অনীহা লক্ষ্য করা যায়। তার ওপর যদি হয় ফল তাহলে আর কোনো কথা নেই। তবে বাড়ন্ত শিশুদের পুষ্টির জন্য প্রয়োজন ফল।

শিশু বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে নতুন স্বাদের সঙ্গে পরিচিত হয়। ফলমূল থেকে সে পায় প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও পুষ্টি উপাদান। সাধারণত ছয় মাস বয়সের পর থেকেই অল্প পরিমাণে সম্পূরক খাবার শুরু করার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে সব খাবার শিশুর জন্য সমান নিরাপদ নয়।

বিশেষ করে বীজযুক্ত ফল খাওয়ানোর ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা জরুরি। সব ফল যে শিশুর জন্য নয় তা অনেকেই জানেন না। বিশেষ করে বীজযুক্ত ফল দেওয়ার আগে মানতে হবে প্রয়োজনীয় সতর্কতা।

চলুন কেন সতর্কতা প্রয়োজন জেনে নেওয়া যাক—

ফলের বীজ ছোট হলেও ঝুঁকি বড় হতে পারে—বিশেষ করে শিশুর ক্ষেত্রে। বরই, লিচু বা জামের মতো বড় বীজযুক্ত ফল তো আছেই, আপেল, আঙুর, কমলা কিংবা ডালিমের মতো তুলনামূলক ছোট বীজযুক্ত ফল খাওয়ার সময়ও দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। অসাবধানতায় বীজ শ্বাসনালিতে আটকে যেতে পারে। এমনকি কিছু কলাতেও সূক্ষ্ম বীজ থাকে, যা শিশুর জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।

সতর্ক না থাকলে কী ঘটতে পারে—

খাবার গিলতে মুখ ও গলার একাধিক পেশি সমন্বিতভাবে কাজ করে। তখনই আমরা বুঝে খেতে পারি— কোন অংশটি মুখে যাবে, আর কোনটি ফেলে দিতে হবে। প্রাপ্তবয়স্কদের এই নিয়ন্ত্রণ তুলনামূলকভাবে সুসংগঠিত হলেও শিশুদের ক্ষেত্রে তা পুরোপুরি বিকশিত হয় না।

ফলে শক্ত বা ছোট কোনো বস্তু তাদের গলায় আটকে যাওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। বিশেষ করে বীজের মতো শক্ত উপাদান শ্বাসনালিতে আটকে গেলে তা প্রাণঘাতীও হতে পারে।

ফল খাওয়ার সময় এমন দুর্ঘটনা তুলনামূলক বেশি ঘটে। কারণ ফল সাধারণত পিচ্ছিল ধরনের। তাই অসাবধানতায় বীজ সহজেই গলার দিকে সরে যেতে পারে। এমনকি শক্ত ফলের ছোট টুকরোও শিশুর গলায় আটকে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

যে বয়সে যেভাবে ফলমূল দেবেন

শিশুকে ফল খাওয়ানোর ক্ষেত্রে সতর্কতার কোনো বিকল্প নেই। ছয় মাস বয়স পার হলে সম্পূরক খাবারের অংশ হিসেবে ফল দেওয়া শুরু করা যায়। তবে শুরুতে শুধু ফলের নরম অংশ দিতে হবে। বীজ ও খোসা সম্পূর্ণ ফেলে দিয়ে নরম অংশ ভালোভাবে কচলে বা মিহি করে খাওয়াতে হবে। আপেলের মতো শক্ত ফল আগে সেদ্ধ করে নরম করে নিয়ে তারপর মিহি করে দেওয়া উচিত।

শিশু যখন ধীরে ধীরে চিবিয়ে খেতে শিখবে, তখন নরম ফল ছোট ছোট টুকরো করে দেওয়া যেতে পারে। এ সময়ও বীজ ও খোসা এড়িয়ে চলতে হবে। দুই বছর বয়স পূর্ণ হলে টুকরো না করেও ফল হাতে দেওয়া যায়, তবে তখনও অবশ্যই সব ধরনের বীজ ফেলে দিতে হবে।

সাধারণত পাঁচ বছর বয়স পূর্ণ হলে সুস্থ শিশুকে বীজসহ কিছু ফল খেতে দেওয়া যেতে পারে। তবু লিচু, জাম বা বরইয়ের মতো বড় বীজযুক্ত ফল পুরোটা একসঙ্গে মুখে দিতে না দেওয়াই ভালো। বরং বীজ বাইরে রেখে চারপাশের অংশ খাওয়ার অভ্যাস শেখানো নিরাপদ।

এখন জেনে নেই জীবন বাঁচানোর কৌশল

শিশু যখন খাবার খায়, তখন তার পাশে অন্তত একজন দায়িত্বশীল প্রাপ্তবয়স্কের উপস্থিতি থাকা জরুরি। শ্বাসনালিতে কিছু আটকে গেলে কী লক্ষণ দেখা দেয় এবং সেই মুহূর্তে কীভাবে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হয়— এসব বিষয়ে আগে থেকেই ধারণা রাখা প্রয়োজন। জীবনরক্ষাকারী সিপিআর প্রশিক্ষণ নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ জরুরি পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক সঠিক পদক্ষেপই একটি শিশুর জীবন বাঁচাতে পারে।

সূত্র : কালবেলা

ব্যারিস্টার সুমনকে নিয়ে যা বললেন অভিনেত্রী পিয়া জান্নাতুল

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:২৪ পিএম
ব্যারিস্টার সুমনকে নিয়ে যা বললেন অভিনেত্রী পিয়া জান্নাতুল

দেশের শোবিজ অঙ্গনে পরিচিত নাম পিয়া জান্নাতুল। মডেল, অভিনেত্রী ও আইনজীবী— তিন পরিচয়েই জনপ্রিয় তিনি। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আলোচিত ব্যারিস্টার সুমনের চেম্বারে অ্যাসোসিয়েটস আইনজীবী হিসাবে কাজ শুরু করেছিলেন পিয়া।

এই মডেল এবার তার সহকর্মীকে নিয়ে লিখলেন ফেসবুকে। সুমনের প্রশংসা করে তার মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি চাইলেন।

পিয়া তার স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘যে মানুষটি সবসময় অন্যায় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন, দেশের স্বার্থে নির্ভয়ে কথা বলেছেন, আজ তিনি নিজেই জামিন প্রার্থনা করছেন; সময়ের এটি নির্মম পরিহাস।  কেউ যে কোনো রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করতেই পারেন- সেটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।  কিন্তু একজন মানুষের মূল দর্শন, তার সততা, তার উদ্দেশ্য-সেগুলোই হওয়া উচিত আমাদের মূল্যায়নের আসল মানদণ্ড।’

স্ট্যাটাসে অভিনেত্রী-আইনজীবী আরও বলেন, ‘কোনো মামলা যদি হয়রানিমূলক হয়ে থাকে, তা যেন ন্যায়সঙ্গতভাবে পর্যালোচনা হয়ে দ্রুত নিষ্পত্তি হয়।  পাশাপাশি বাংলাদেশের উন্নতির জন্য ব্যারিস্টার সুমনের মতো মানুষের সংখ্যা বাড়ুক’-এই কামনাও ব্যক্ত করেন তিনি।

 

বোয়ালমারীতে পায়ুপথে বাতাস ঢুকিয়ে কিশোর শ্রমিককে হত্যা, পালিয়েও শেষ রক্ষা হলোনা রিহাতের

হারুন-অর-রশীদ ও আবরাব নাদিম ইতু, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:৪৭ পিএম
বোয়ালমারীতে পায়ুপথে বাতাস ঢুকিয়ে কিশোর শ্রমিককে হত্যা, পালিয়েও শেষ রক্ষা হলোনা রিহাতের

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে কম্প্রেসার মেশিনের বাতাস পায়ুপথে ঢুকিয়ে কিশোর শ্রমিক সজিব শরীফকে হত্যার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত রিহাত শেখ ওরফে হাকিম (২২)-কে মাগুরা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-১০।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে র‍্যাব-১০, সিপিসি-৩ ফরিদপুর ক্যাম্পে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার তারিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

জানা গেছে, গত সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের ডোবরা গ্রামে অবস্থিত আকিজ-বশির জনতা জুট মিলে এ নৃশংস ঘটনা ঘটে। নিহত সজিব শরীফ (১৫) পাশের দাদপুর ইউনিয়নের বাড়ৈপাড়া গ্রামের কৃষক শহিদুল শরীফের ছেলে। সে মিলটির স্পিনিং বিভাগে হেলপার হিসেবে কাজ করত।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাজ শেষে শরীরে লেগে থাকা পাটের আঁশ পরিষ্কার করতে সজিব কম্প্রেসার মেশিনের হাওয়ার পাইপ ব্যবহার করছিল। এ সময় সহকর্মী রিহাত শেখ ও তার এক সহযোগী মিলে মেশিনের উচ্চচাপের বাতাস সজিবের পায়ুপথে প্রবেশ করায়। এতে তার পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যায় এবং সে অচেতন হয়ে পড়ে।

সহকর্মীরা তাকে প্রথমে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে তার মৃত্যু হয়।

নিহতের পরিবার জানায়, অতিরিক্ত চাপের কারণে সজিবের অন্ত্র একাধিক স্থানে ছিদ্র হয়ে যায়। চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচার করলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

নিহতের ভাবি নুরজাহান বেগম বলেন, “আমার দেবর খুব শান্ত স্বভাবের ছিল। কাজ করতে গিয়ে এমন নিষ্ঠুরতার শিকার হবে, তা কখনও ভাবিনি।”
এ ঘটনায় নিহতের বাবা বোয়ালমারী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নম্বর ১৭, তারিখ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ধারা ৩০২/৩৪ পেনাল কোডে মামলা রুজু করা হয়েছে।

র‍্যাব জানায়, ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত রিহাত শেখ আত্মগোপনে চলে যায়। পরে গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় মাগুরার শ্রীপুর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলা দায়েরের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‍্যাব-১০, সিপিসি-৩, ফরিদপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লীডার তারিকুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের নৃশংস অপরাধের বিরুদ্ধে তারা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে আসছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

এদিকে এ মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন।

ফরিদপুরের ডিসি অফিসে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, সুযোগ পাচ্ছে ৯ জন নিরাপত্তা প্রহরী

চাকরি ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৪:২০ পিএম
ফরিদপুরের ডিসি অফিসে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, সুযোগ পাচ্ছে ৯ জন নিরাপত্তা প্রহরী

ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রাজস্ব শাখা থেকে আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে জনবল নিয়োগের জন্য দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ভূমি সংস্কার বোর্ডের নির্দেশনা এবং “আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় সেবা গ্রহণ নীতিমালা, ২০২৫” অনুসরণ করে জেলার ৯টি উপজেলা ভূমি অফিসের জন্য নিরাপত্তা প্রহরী (নৈশ প্রহরী) পদে জনবল সরবরাহ করা হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ক্যাটাগরি-৫ এর আওতায় মোট ৯ জন নিরাপত্তা প্রহরী নিয়োগ দেওয়া হবে। এ পদে আবেদনের জন্য প্রার্থীর বয়স ১৮ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে এবং ন্যূনতম অষ্টম শ্রেণি পাস থাকতে হবে। তবে সরাসরি ব্যক্তিগত নিয়োগ নয়, বরং সরকার অনুমোদিত নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে জনবল সরবরাহ করা হবে।

আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোকে জেলা প্রশাসক, ফরিদপুর-এর অনুকূলে এক হাজার টাকার পে-অর্ডার বা ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে আগামী ৪ মার্চ ২০২৬ তারিখের মধ্যে অফিস চলাকালীন সময়ে দরপত্র সংগ্রহ করতে হবে। ফটোকপি গ্রহণযোগ্য হবে না। জমাকৃত দরপত্র ৫ মার্চ ২০২৬ তারিখ দুপুর ১টার মধ্যে সিলগালা খামে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রাজস্ব শাখায় জমা দিতে হবে। একই দিন দুপুর আড়াই টায় দরপত্র উপস্থিত দরদাতাদের সামনে খোলা হবে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সেবাকর্মীদের সর্বজনীন পেনশন স্কিমের আওতায় অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে এবং সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সার্ভিস চার্জ ন্যূনতম ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া নিরাপত্তা প্রহরী নিয়োগের ক্ষেত্রে আনসার সদস্যদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

দরপত্রে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানকে বৈধ ট্রেড লাইসেন্স, ভ্যাট নিবন্ধন, আয়কর সনদ এবং সরকারি প্রকল্পে কমপক্ষে তিন বছরের জনবল সরবরাহের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা অনুযায়ী লাইসেন্স নবায়ন বাধ্যতামূলক।

চুক্তির মেয়াদ ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়োজিত কর্মীদের পরিবর্তনের সুযোগ রাখা হয়েছে। নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তি সম্পাদনের পরই জনবল কাজে যোগ দিতে পারবে।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে এবং কর্তৃপক্ষ যেকোনো দরপত্র গ্রহণ বা বাতিলের পূর্ণ অধিকার সংরক্ষণ করে।