“অনেকদিন তোমাকে দেখা হয়না”
সময়ের চাকা ঘুরলো ঠিকই, কিন্তু থমকে গেছে প্রাণ,
আমাদের সম্পর্ক যেন এক বিষণ্ণ, অসমাপ্ত গান।
যেখানে শেষ হয়েছিল আমাদের সেই শেষ গোধূলি-বেলা,
সেখানেই মুখ থুবড়ে পড়ে আছে আমার একলা মনের খেলা।
তুমি চলে গেলে অন্য ঠিকানায়, হয়তো অন্য কোনো ছায়ায়,
আমি আজও আঁটকে আছি তোমার ফেলে যাওয়া ধূসর মায়ায়।
অনেকদিন তোমাকে দেখিনা, ঝাপসা স্মৃতির ভিড়ে—
খুঁজে-ফিরি সেই পুরনো রোদ, আমাদের নীল সাগরের তীরে।
শহুরে কোলাহলে আজও তোমার চেনা গলার স্বর খুঁজি,
তুমি নেই জেনেও কেন বারবার স্মৃতির জানালা বুজি?
অনেকদিন তোমাকে দেখা হয় না, সেই মায়াবী প্রিয় মুখ,
একলা ঘরের দেয়াল জানে— আমার কতটা গোপন অসুখ।
ক্যালেন্ডারের পাতা ওড়ে, পাল্টে যায় ঋতুর শরীরি রঙ,
শুধু আমার ভেতরটা জুড়ে চলে বিরহের নিঠুর ঢং।
অপেক্ষা আজ একবিংশ শতাব্দীর এক নিঃসঙ্গ বিলাস,
তোমার অভাবে গুমরে মরে আমার সকল সুপ্ত আশ্বাস।
মানুষ কি আসলেই পারে এতটা অনায়াসে দূরে চলে যেতে?
যেখানে কোনো আলো নেই, শুধু অন্ধকার বিচ্ছেদের পথে।
একটিবার কি আসা যায় না? মিটিয়ে দিতে সকল ঋণ?
অনেকদিন তোমাকে দেখিনা, বড্ড বেশি বিবর্ণ প্রতিটি দিন।
অভিমানী সেই চোখের তারায় আজও কি তুমি কাজল মেখো?
নাকি নতুন কোনো ভিড়ে আমাকে একাই ভুলে সুখে থাকো?
ফিরে না আসো, অন্তত একপলক দূরত্বটুকু মিটিয়ে দিও—
অনেকদিন তোমাকে দেখা হয় না, আমার চির-অপ্রিয় প্রিয়।
লেখক: গোলাম কিবরিয়া, সহকারী অধ্যাপক
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, বরগুনা সরকারি কলেজ।

আপনার মতামত লিখুন
Array