খুঁজুন
মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ৮ বৈশাখ, ১৪৩৩

অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ: টিকে থাকবে নাকি বাতিল?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬, ৭:১৭ পূর্বাহ্ণ
অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ: টিকে থাকবে নাকি বাতিল?

বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনে জারি করা স্পর্শকাতর বেশকিছু অধ্যাদেশ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বিএনপি সরকারের।

তবে নবনির্বাচিত এই সরকার দায়মুক্তি অধ্যাদেশ বহাল রেখে এর আইনি ভিত্তি দিতে পারে।

তাদের আপত্তি আছে, আলোচিত সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের আদেশসহ বেশ কিছু অধ্যাদেশ নিয়ে।

ফলে প্রশ্ন উঠছে, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা অধ্যাদেশগুলোর আইনি ভিত্তির ভবিষ্যত নিয়ে। এগুলোর ভাগ্যে কী রয়েছে- চলছে এমন আলোচনা।

আইন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের আঠারো মাসে ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে।

সিনিয়র আইনজীবী শাহদীন মালিক বলছেন, অল্প সময়ে এত অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে; সেক্ষেত্রে প্রতিটি অধ্যাদেশের জন্য গড়ে পাঁচ দিনের কম সময় লেগেছে।

এখন নতুন বা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসবে আগামী ১২ই মার্চ।

শাহদীন মালিক উল্লেখ করেন, সংসদ বসা থেকে ৩০ দিনের মধ্যে যে অধ্যাদেশগুলোর আইনি ভিত্তি দেওয়া সম্ভব হবে না, সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘মৃত’ বা বাতিল হয়ে যাবে।

যদিও বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের অধ্যাদেশগুলো তারা যাচাই-বাছাই করছে।

কিন্তু কতটি বা কোন অধ্যাদেশগুলোর আইনি ভিত্তি দেবে তারা, সেটা এখনো স্পষ্ট নয়।

অস্পষ্টতা বা অনিশ্চয়তার প্রশ্ন কেন আসছে?

জুলাই গণ-অভ্যত্থানে ২০২৪ সালের পাঁচই অগাস্ট আওয়ামী লীগের শাসনের পতনের তিনদিন পর গঠিত হয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার।

এই সরকারের প্রতি সমর্থন দিয়েছিল বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ সে সময় সক্রিয় সব রাজনৈতিক দল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, বড় রাজনৈতিক সমর্থন পাওয়া সেই সরকার যখন কিছু আদেশ এবং একের পর এক অধ্যাদেশ জারি করেছে, তখনই স্পর্শকাতর কিছু ক্ষেত্রে বিএনপির আপত্তি ছিল।

বিশেষ করে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের জন্য আদেশ জারি করার সময়ই আপত্তি জানিয়েছিল বিএনপি। দলটি এমন আদেশ জারির এখতিয়ার নিয়েই প্রশ্ন তুলেছিল।

ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় পাওয়া বিএনপি সরকার গঠনের পরও ওই ইস্যুতে পুরোনো অবস্থানেই রয়েছে বলে মনে হয়েছে।

তাদের সেই অবস্থানের প্রকাশও দেখা গেছে, বিএনপি এবং এর মিত্র দলগুলো মিলে ২১২জন সংসদ সদস্য সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি।

যদিও জামায়াত ও এনসিপির জোটের নির্বাচিতরা সংসদ সদস্যের পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নিয়েছেন।

বিএনপি সরকারের সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ প্রশ্নে তাদের অবস্থানের পরিবর্তন এখনো হয়নি। তাদের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে আবারও আলোচনা করবেন।

আইনজ্ঞদের অনেকের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী, গণভোট হয়েছে। তাতে হ্যাঁ বিজয়ী হয়েছে। ফলে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।

আইনজীবী শাহদীন মালিক বলেছেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের আদেশ নিয়েই যেহেতু বিএনপির আপত্তি, ফলে এ সম্পর্কিত আদেশ ও অধ্যাদেশের ভাগ্য নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকছে।

এই আইনজীবীর বক্তব্যও বিএনপির অবস্থানের সঙ্গে মিলে যায়। তিনি বলেন, “অধ্যাদেশ জারি করে সংবিধানের কোনো অংশ বাতিল বা পরিবর্তন করা যায় না। সেখানে বেশকিছু অধ্যাদেশ করা হয়েছে, যেগুলো সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক”।

এদিকে, বিএনপি সরকারের সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বলছে, গণভোট, সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়িয়ে ৩২ বছর করা, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করাসহ স্পর্শকাতর কিছু বিষয়ে অধ্যাদেশের ব্যাপারে তাদের সরকার এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।

আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এটুকুই বলেছেন, তারা সব অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই করছেন।

সরকারের সংশ্লিষ্ট অন্য সূত্রগুলো বলছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সব অধ্যাদেশের আইনি ভিত্তি দেবে না বর্তমান সরকার। তারা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয় এবং একেবারে প্রয়োজনীয় কিছু অধ্যাদেশ বাছাই করছেন। সেগুলোই সংসদের প্রথম অধিবেশনে উত্থাপন করে আইনে পরিণত করা হবে।

আইনজ্ঞরা বলছেন, বিএনপি সরকার যেহেতু এখনো স্পষ্ট করছে না তাদের অবস্থান, যাচাই-বাছাইয়ের কথা বলছে- ফলে শেষপর্যন্ত কতটা অধ্যাদেশের আইনি ভিত্তি তারা দেবে, এমন কথা যেমন উঠছে, আলোচনায় আসছে অনিশ্চয়তার প্রশ্ন।

দায়মুক্তিতে আপত্তি নেই বিএনপির

যে অধ্যাদেশ নানা আলোচনার জন্ম দিয়েছিল, আপত্তি তুলেছিলেন মানবাধিকার সংগঠক ও আইনজীবীদের অনেকে- সেটি হচ্ছে দায়মুক্তির অধ্যাদেশ।

জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের সপ্তাহ তিনেক আগে ২৫ শে জানুয়ারি জারি করা হয় ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ, ২০২৬’।

এই অধ্যাদেশে বলা হয়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে করা সব দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা, অভিযোগ বা কার্যধারা নির্ধারিত বিধান অনুসরণ করে প্রত্যাহার করা হবে। এছাড়া নতুন কোনো মামলা, অভিযোগ বা কার্যধারা গণ-অভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে আইনত বাধা (বারিত) হবে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো আপত্তি জানিয়ে বলেছিল, গণ-অভ্যুত্থানের সময় পুলিশ হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন ফৌজদারি অপরাধও সংগঠিত হয়েছে। কিন্তু অধ্যাদেশের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের দায়মুক্তি দেওয়া সংবিধান পরিপন্থি।

তাদের এমন অবস্থানের সমালোচনা করেছিলেন জুলাই আন্দোলনকারীরা।

যদিও অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, সে সময় ক্ষতিগ্রস্তদের কেউ চাইলে সরকারের জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে অভিযোগ করতে পারবেন। তবে এতে সন্তুষ্ট হতে পারেননি মানবাধিকার সংগঠকেরা।

কিন্তু আলোচিত এই দায়মুক্তির অধ্যাদেশের আইনি ভিত্তি দেবে বিএনপি সরকার, এমন ধারণা পাওয়া গেছে।

এই সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, দায়মুক্তির এই অধ্যাদেশের আইনি ভিত্তি দেওয়ার চিন্তা তাদের রয়েছে।

এর কারণ ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যত্থানে অংশগ্রহণকারীদের অনেকে দমন-পীড়ন ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, ১৪০০ প্রাণহানি ও অনেকে আহত হয়েছেন। ফলে এখানে আবেগ-অনুভূতির বিষয় আছে। সেটি বিবেচনায় নিচ্ছে বিএনপি সরকার।

বিএনপি এই অধ্যাদেশের বিপক্ষে অবস্থান নেবে না, এমন ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

জামায়াত ও এনসিপিসহ অন্য দলগুলো দায়মুক্তির অধ্যাদেশের পক্ষেই রয়েছে। বিএনপিও ইঙ্গিত দিচ্ছে। ফলে এই অধ্যাদেশের আইনি ভিত্তি পাওয়ার প্রশ্নে অনিশ্চয়তা কম।

তবে সরকারের একাধিক সূত্র এ-ও বলেছে, গণ-অভ্যত্থানের সময় পুলিশ হত্যার ঘটনা আলাদাভাবে তদন্ত করার চিন্তাও রয়েছে বিএনপি সরকারে।

এদিকে, আইনজীবী শাহদীন মালিক বলছেন, “দায়মুক্তির অধ্যাদেশ সংসদে অনুমোদন করা হলেও সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় এর আইনগত বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ থাকে”।

গণভোট প্রশ্নে কী করবে বিএনপি

সংবিধান সংস্কারের ব্যাপারে গণভোট নিয়ে নির্বাচনের আগে বিএনপির অবস্থান স্পষ্ট ছিল না, এমন অভিযোগ তুলেছিল জামায়াতসহ অন্য দলগুলো।

অবশ্য নির্বাচনী প্রচারণার এক পর্যায়ে বিএনপির চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বক্তব্যে হ্যাঁ ভোট চেয়েছিলেন।

এখন বিএনপির সরকার গণভোট সম্পর্কিত অধ্যাদেশের ব্যাপারে কী অবস্থান নেবে, তাও স্পষ্ট করছেন না সংশ্লিষ্টরা।

বিএনপি সরকারের সংশ্লিষ্ট একাধিক নেতা বলছেন, সংসদের প্রথম অধিবেশন বসার আগেই উচ্চপর্যায়ে আলোচনা করে তারা বিষয়টাতে সিদ্ধান্ত নেবেন।

তবে বিশ্লেষকেরা মনে করেন, গণভোটে হ্যাঁ বিজয়ী হয়েছে। ফলে এ সর্ম্পকিত অধ্যাদেশের আইনি ভিত্তি দেওয়া এবং সংস্কারের জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছে।

এছাড়াও জুলাই আন্দোলনের ‘স্পিরিটের’ বিপক্ষে বিএনপি যেতে পারবে না। এমন বাস্তবতায় স্পর্শকাতর এই বিষয়টিতেও বিএনপিকে পক্ষে অবস্থান নিতে হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

চাকরিতে ঢোকার বয়সের সীমা বৃদ্ধি, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার অধ্যাদেশ যখন জারি করা হয়, তখন বিএনপি, জামায়াতসহ কোনো দলই আপত্তি করেনি।

দেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে সক্রিয় সব দলেরই ওই অধ্যাদেশের ব্যাপারে এক ধরনের সায় ছিল বলে বিশ্লেষকেরা মনে করেন।

তবে বিএনপির রাজনৈতিক সরকার রাজনীতিতে আওয়ামী লীগকে কতটা জায়গা দেবে, সে ব্যাপারে আলোচনা আছে। নির্বাচনে বিজয়ের পর প্রথম সংবাদসম্মেলনে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতে পারা না পারা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তারেক রহমান বলেছেন, আইন অনুযায়ী হবে।

তবে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার ওই অধ্যাদেশের ব্যাপারে অবস্থান স্পষ্ট করেনি বিএনপি। ফলে এ নিয়ে তাদের সিদ্ধান্ত জানতে অপেক্ষা করতে হবে।

সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩০ থেকে ৩২ বছর করা হয়েছে যে অধ্যাদেশের মাধ্যমে, সেই অধ্যাদেশকেও স্পর্শকাতর হিসেবে বিবেচনা করছে বিএনপি সরকার। এ অধ্যাদেশ নিয়েও আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলছে তারা।

তবে এই অধ্যাদেশ বাতিল করা হলে তরুণদের ভেতরে বিএনপির প্রতি বিরূপ প্রতিক্রিয়া হতে পারে। ফলে বিএনপি সরকারকে এই বাস্তবতাও বিবেচনায় নিতে হবে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।

আইনজীবী শাহদীন মালিক যেমনটা বলছিলেন যে, সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক অনেক অধ্যাদেশ আছে, যেগুলো নিয়ে উচ্চআদালতে চ্যালেঞ্জ করা সুযোগ আছে। অনেক অধ্যাদেশ নিয়ে বিএনপি সরকারের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রয়োজন। ফলে এগুলোর ভাগ্য নির্ধারণের পথে জটিলতা আছে।

বিএনপি সরকারের সংশ্লিষ্টরাও জটিলতার কথা বলছেন।

তবে তাদের বক্তব্য হচ্ছে, প্রেক্ষাপট, বাস্তবতা ও সর্বোপরি আইনগত দিক বিবেচনা করে তাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আর সে ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের সব অধ্যাদেশ নয়, নির্দিষ্ট সংখ্যক অধ্যাদেশের আইনি ভিত্তি দেওয়া সম্ভব হতে পারে।

আইনজ্ঞরা বলছেন, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা যে সব অধ্যাদেশের আইনি ভিত্তি দেওয়া হবে না, সে সব অধ্যাদেশের অধীনে যে কর্মকাণ্ড হয়েছে-তার বৈধতা হারাবে।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

ফরিদপুরে শিক্ষকদের বহনকারী মাইক্রোবাসে ‘গুলির মতো’ আঘাত, ভাঙল কাঁচ—চরম আতঙ্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ১:৪১ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে শিক্ষকদের বহনকারী মাইক্রোবাসে ‘গুলির মতো’ আঘাত, ভাঙল কাঁচ—চরম আতঙ্ক

ফরিদপুরে সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের শিক্ষকদের বহনকারী একটি মাইক্রোবাসে ‘শর্টগানের গুলির মতো’ আঘাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মাইক্রোবাসটির পেছনের কাঁচ ভেঙে যায় এবং কাঁচের টুকরো ভেতরে থাকা শিক্ষকদের ওপর ছিটকে পড়ে। যদিও কেউ গুরুতর আহত হননি, তবে আকস্মিক এই ঘটনায় শিক্ষকরা চরম আতঙ্কের মধ্যে পড়েন।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ফরিদপুর শহরের চাঁনমারি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় মাইক্রোবাসটিতে রাজেন্দ্র কলেজের একাধিক শিক্ষক শহর ক্যাম্পাস থেকে বায়তুল আমান ক্যাম্পাসে যাচ্ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা জানান, চাঁনমারি ঈদগাঁ মোড় অতিক্রম করার কিছুক্ষণ পর হঠাৎ বিকট শব্দ হয়। মুহূর্তের মধ্যেই মাইক্রোবাসটির পেছনের কাঁচ চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়। পরে কাঁচে গুলির মতো একটি চিহ্ন দেখা যায়, যা দেখে তারা ধারণা করছেন এটি কোনো ধরনের আগ্নেয়াস্ত্রের গুলি হতে পারে।

মাইক্রোবাসে থাকা এক শিক্ষক বলেন, “ঘটনাটি এত দ্রুত ঘটেছে যে আমরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই কাঁচ ভেঙে ভেতরে পড়ে। আমরা সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। প্রথমে মনে হয়েছিল বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেছে।”

আরেকজন শিক্ষক জানান, “আমরা নিয়মিত এই পথে যাতায়াত করি। এমন ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। এটি পরিকল্পিত নাকি আকস্মিক—তা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।”

এ বিষয়ে রাজেন্দ্র কলেজ শিক্ষক সমিতির সম্পাদক মো. শাহিনুল ইসলাম ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “ঘটনার বিষয়টি আমি জেনেছি এবং ড্রাইভারের সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা জরুরি বৈঠক ডেকে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করব।”

কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর এস.এম. আব্দুল হালিম ‘ফরিদপুর প্রতিদিন’-কে বলেন, “ঘটনাটি প্রাথমিকভাবে শর্টগানের গুলির মতো মনে হচ্ছে। তবে নিশ্চিত হতে তদন্ত প্রয়োজন। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি এবং শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

এদিকে কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম ‘ফরিদপুর প্রতিদিন’-কে জানান, “ঘটনার বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি: বাড়তি চাপে মধ্য-নিম্নবিত্ত

দেলোয়ার হোসেন বাদল
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৫৩ পূর্বাহ্ণ
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি: বাড়তি চাপে মধ্য-নিম্নবিত্ত

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ঘোষণার পরপরই এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে জনজীবনে। জ্বালানির দাম বাড়ানোর একদিন পরেই আবার গ্যাসের দাম বাড়ানোয় নতুন করে চাপে পড়েছে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো।

অন্যদিকে পরিবহন খাতের চালকরা বলছেন, খরচ সামলাতে ভাড়া সমন্বয় ছাড়া তাদের সামনে আর কোনো পথ নেই।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, আমদানি ব্যয়ের চাপ ও বৈদেশিক মুদ্রার ওপর বাড়তি চাপের কারণে সরকার তেলের দাম সমন্বয় করেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশ্ববাজারের অস্থিরতা ও মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির প্রভাব বিবেচনায় এমন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। তাছাড়া জ্বালানি আমদানিতে ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় রাষ্ট্রীয় ভর্তুকির চাপ বাড়ছিল।

সেই চাপ সামাল দিতে মূল্য সমন্বয় প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কথা হয় নানা পেশার মানুষের সঙ্গে।

তারা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেই প্রথমে বাড়ে পরিবহন ভাড়া, এরপর ধাপে ধাপে বাড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। কিন্তু সেই তুলনায় আয় বাড়ে না।
রাজধানীর দোলাইপাড় এলাকার স্থানীয় মোটর পার্টস বিক্রেতা রুবেল বলেন, তেলের দাম বৃদ্ধির খবর আসতেই নিত্যপণ্যের দামসহ নানা রকম জিনিসের দাম কয়েকগুণ বেড়ে যায়। ইচ্ছে করলেই আমরা আমাদের পণ্যের দাম বা কাজের মূল্য হঠাৎ করে বাড়াতে পারি না। ফলে আমাদের মতো মানুষের জীবিকা নির্বাহ করা দুষ্কর হয়ে পড়ে।

ওয়ারী এলাকার এক শিক্ষার্থী বলেন, তেলের দাম যদি বাড়াতেই হতো তাহলে এখন কেন? এখন তো বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমানো হয়েছে। আগে তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়ে পর্যাপ্ত তেল বাজারে ছাড়লে সরকারের আয় হতো। হাজার হাজার মানুষকে দীর্ঘ লাইনে কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করে তেলের জন্য কষ্ট করতে হতো না। এটা জনগণের সঙ্গে মশকরা ছাড়া কিছু না।

মতিঝিলের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আমাদের মতো চাকরিজীবীদের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। প্রতিবার তেলের দাম বাড়লে অফিসে যাতায়াত খরচ বাড়ে, বাজার খরচ বাড়ে। কিন্তু বেতন তো বাড়ে না। সংসার চালানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

রাজধানীর জুরাইন আশ্রাফ মাস্টার আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক রুমানা আক্তার বলেন, গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বাড়ার পরই আমরা চাপে ছিলাম। এখন আবার তেলের দাম বাড়ানোয় দৈনন্দিন খরচ কীভাবে সামলাবো, সেটা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।

শ্যামপুর জুরাইন বাজারে সবজি কিনতে আসা গৃহিণী মুসফিকা সুলতানা বলেন, তেলের দাম বাড়লে পরিবহন খরচ বাড়ে আর পরিবহন খরচ বাড়লে সবকিছুর দাম বাড়ে। বাজারে এলেই এখন ভয় লাগে।

এদিকে কৃষি খাতে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন কেরানীগঞ্জের কৃষক মো. সাইদুর রহমান। তিনি বলেন, ডিজেলের দাম বাড়লে সেচ খরচ বাড়ে, জমি চাষের খরচ বাড়ে। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়। কিন্তু আমরা সেই অনুযায়ী ফসলের দাম পাই না।

অন্যদিকে পরিবহন চালকরা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে তাদেরও খরচ বেড়ে যায়, ফলে ভাড়া সমন্বয় করা ছাড়া উপায় থাকে না।

রাজধানীতে চলাচল করা রাইদা বাসের চালক মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, তেলের দাম বাড়লে আমাদের দৈনিক খরচ অনেক বেড়ে যায়। মালিককে জমা দিতে হয় আগের মতোই। তাই ভাড়া না বাড়ালে সংসার চালানো কঠিন হয়ে যায়।

অ্যাপভিত্তিক রাইড শেয়ারিং চালক মো. সোহেল রানা বলেন, তেলের দাম বাড়লে আমাদের আয় কমে যায়। যাত্রীরা যদি ভাড়া বাড়াতে না চান, তাহলে আমরা কীভাবে গাড়ির খরচ চালাব?

একই ধরনের কথা বলেন সিএনজি অটোরিকশাচালক মো. হেলাল উদ্দিন। তার ভাষ্য, গ্যাস আর তেলের দাম বাড়লে আমাদের ওপর চাপ পড়ে। তখন যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া না নিলে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে।

ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব শুধু পরিবহন খাতেই সীমাবদ্ধ থাকে না, এটি ধাপে ধাপে কৃষি, শিল্প ও নিত্যপণ্যের বাজারেও প্রভাব ফেলে। ফলে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ে নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের ওপর।

তারা মনে করছেন, জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ের পাশাপাশি গণপরিবহন ভাড়া নিয়ন্ত্রণ, বাজার তদারকি জোরদার এবং নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য সহায়তা কার্যক্রম বাড়ানো জরুরি। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কিছুটা হলেও কমতে পারে।

আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ও বাণিজ্য বিশ্লেষক মোবাশ্বের হোসেন টুটুলের মতে, মুক্তবাজার অর্থনীতির এই সময়ে সরকার এখনো নিজ উদ্যোগে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করে দেশে সরবরাহ করছে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ কমেছে, ফলে দাম বেড়েছে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ সংকট তৈরি হওয়ায় অতিরিক্ত দামে জ্বালানি আমদানি করতে গিয়ে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে। একইসঙ্গে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় দেশের সার কারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রসহ শিল্প খাতের উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

এই বিশ্লেষক বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ সামাল দিতে সরকার উন্নয়ন সহযোগী ও বহুজাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে ঋণ সহায়তা চেয়েছে। তবে দ্রুত বৈদেশিক মুদ্রা ছাড়ে অনিশ্চয়তা থাকায় সরকারকে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ের পথে হাঁটতে হয়েছে।

মোবাশ্বের হোসেন টুটুলের মতে, তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে শিল্প উৎপাদন ব্যয় ও পণ্য পরিবহন খরচ বাড়বে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে বাজারে পণ্যের দামে। এতে নির্দিষ্ট আয়ের সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীদের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে যাবে এবং মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়বে।

তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি বাড়লে মানুষের সঞ্চয় প্রবণতা কমে যেতে পারে, যা ব্যাংক খাতে তারল্য সংকট তৈরি করতে পারে। এতে বিনিয়োগের গতি কমে গিয়ে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দেশীয় উৎপাদনের প্রবৃদ্ধিও বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একইসঙ্গে উৎপাদন কমে গেলে সরকারের রাজস্ব আদায়ও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

তবে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি খাতে ভর্তুকি কমাতে পারলে তা সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন এই বিশ্লেষক।

মোবাশ্বের হোসেন টুটুল বলেন, স্বল্পমেয়াদি প্রভাব মোকাবিলায় সরকার যদি কার্যকর অর্থনৈতিক নীতি সমন্বয় করতে পারে এবং জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সক্ষম হয়, তাহলে এই মূল্য সমন্বয়ের ধাক্কা সামাল দেওয়া সম্ভব হবে।

ফরিদপুরে প্লাস্টিক ও কাপড়ে মোড়ানো ছিল অজ্ঞাত ভ্রূণের লাশ

সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:১৭ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে প্লাস্টিক ও কাপড়ে মোড়ানো ছিল অজ্ঞাত ভ্রূণের লাশ

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় প্লাস্টিকের কাগজ ও কাপড়ে মোড়ানো ৫ মাস বয়সী গর্ভপাতকৃত এক অজ্ঞাত ভ্রূণের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সোমবার (২০ এপ্রিল) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের মাঝারদিয়া বাজার সংলগ্ন একটি ব্রিজের নিচে, মজিবর শেখের বাড়ির সামনে কুমার নদের পাড় থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্লাস্টিক ও কাপড়ে মোড়ানো একটি সন্দেহজনক বস্তু দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা বিষয়টি সালথা থানা পুলিশকে জানায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সেটি উদ্ধার করে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান জানান, কে বা কারা ভ্রূণটি সেখানে ফেলে গেছে তা এখনও জানা যায়নি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় গোলপাড়া মাদ্রাসা কবরস্থানে ভ্রূণটির দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।