খুঁজুন
, ,

হরমুজ প্রণালী না খুললে তেলের বাজারে বিপর্যয়?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ৭:৪০ পূর্বাহ্ণ
হরমুজ প্রণালী না খুললে তেলের বাজারে বিপর্যয়?

সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি সৌদি আরামকো সতর্ক করে বলেছে, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের যুদ্ধের কারণে যদি হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকে, তাহলে বৈশ্বিক তেলের বাজারে ভয়াবহ বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরবের এই কোম্পানি জানিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ বন্ধ থাকলেও তারা তাদের স্বাভাবিক উৎপাদনের প্রায় ৭০ শতাংশ তেল বাজারে সরবরাহ করতে পারবে। তবে কোম্পানির প্রধান নির্বাহী সতর্ক করে বলেছেন, এই অচলাবস্থা দীর্ঘ হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব পড়বে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে হামলার পর থেকে গত ১১ দিন ধরে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেলবাহী জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালী দিয়ে যেতে পারছে না।

এতে প্রতিদিন বৈশ্বিক বাজার থেকে প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল সরবরাহ কমে গেছে।

তবে এই সতর্কবার্তার মধ্যেই মঙ্গলবার তেলের দাম কিছুটা কমেছে, কারণ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে যুদ্ধ খুব শিগগিরই শেষ হতে পারে।

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রায় ১৪ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৮৫ ডলারে নেমে আসে। যদিও এটি যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের হামলার আগে থাকা ৭২ ডলারের তুলনায় বেশি, তবে এ সপ্তাহে ছুঁয়ে যাওয়া ১১৯ ডলারের সর্বোচ্চ দামের তুলনায় কম।

২০২২ সালে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর এটিই ছিল সর্বোচ্চ দাম।

এদিকে আটলান্টিকের দুই পাশের শেয়ারবাজারেও আংশিক স্বস্তি ফিরে আসে। লন্ডনের এফটিএসই ১০০ সূচক মঙ্গলবার ১.৬ শতাংশ বেড়েছে, জার্মানির ডিএএক্স সূচক ২.৪ শতাংশ এবং ফ্রান্সের সিএসি ৪০ সূচক ১.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। নিউইয়র্কের ওয়াল স্ট্রিটেও লেনদেন ঊর্ধ্বমুখী ছিল।

আরামকোর প্রধান নির্বাহী আমিন নাসের বলেন, ‘আগেও আমরা নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হয়েছি, কিন্তু এটি এই অঞ্চলের তেল ও গ্যাস শিল্পের জন্য এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় সংকট।’

হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় আরামকো উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে সরাসরি তেল পাঠাতে পারছে না। তবে তারা পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল পাঠিয়ে লোহিত সাগরের তীরে ইয়ানবু বন্দর থেকে রপ্তানির পরিকল্পনা করছে।

কোম্পানিটি জানিয়েছে, কয়েক দিনের মধ্যেই এই পাইপলাইনের পূর্ণ সক্ষমতা ব্যবহার করে প্রতিদিন প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করা সম্ভব হবে। এর মধ্যে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলের শোধনাগারে যাবে এবং বাকি ৫০ লাখ ব্যারেল আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানো হবে।

সাধারণত ইরানের দক্ষিণে অবস্থিত এই সরু নৌপথ দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১০০টি তেলবাহী জাহাজ চলাচল করে। কিন্তু ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হুমকি দেওয়ার পর এই সংখ্যা এখন এক অঙ্কে নেমে এসেছে। অথচ এই পথ দিয়ে বিশ্বে সরবরাহ হওয়া তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন হয়।

আরামকো জানিয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলের বাইরে সংরক্ষিত তেলের মজুত ব্যবহার করে তারা আপাতত গ্রাহকদের চাহিদা মেটাচ্ছে। তবে এই মজুত দীর্ঘ সময় ব্যবহার করা সম্ভব নয়।

আমিন নাসের বলেন, ‘বৈশ্বিক তেলের বাজারে ভয়াবহ পরিণতি হতে পারে। আর এই অচলাবস্থা যত দীর্ঘ হবে, বিশ্ব অর্থনীতির ওপর প্রভাব ততই মারাত্মক হবে।’

এদিকে বিশ্বের বড় অর্থনীতিগুলোর জোট জি-৭ মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক জ্বালানি পর্যবেক্ষক সংস্থাকে জরুরি তেল মজুত বাজারে ছাড়ার সম্ভাব্য পরিকল্পনা তৈরির আহ্বান জানিয়েছে।

এই কাজটি করে থাকে ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ), যা ১৯৭০-এর দশকের মধ্যপ্রাচ্য তেল সংকটের পর গঠিত হয়েছিল। সংস্থাটির ৩২টি সদস্য দেশকে কমপক্ষে ৯০ দিনের তেল মজুত ধরে রাখতে হয়, যাতে সরবরাহে বড় ধাক্কা এলে তা বাজারে ছাড়তে পারে।

বর্তমানে আইইএ সদস্য দেশগুলোর কাছে মোট ১.২ বিলিয়ন ব্যারেল সরকারি তেল মজুত রয়েছে, পাশাপাশি শিল্পখাতে সরকারের বাধ্যবাধকতায় রাখা আরও ৬০০ মিলিয়ন ব্যারেল মজুত আছে। এর বাইরে বিশ্বের সবচেয়ে বড় জ্বালানি আমদানিকারক দেশ চীনের কাছেও প্রায় ১.৪ বিলিয়ন ব্যারেল তেল মজুত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বৈশ্বিক নেতারা তেলের বাজার স্থিতিশীল করতে হস্তক্ষেপ করতে পারেন—এমন প্রত্যাশার কারণে সপ্তাহের শুরুতে চার বছরের সর্বোচ্চ দামে ওঠা তেলের দাম পরে কিছুটা কমে যায়। দিনের শেষে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারের নিচে নেমে আসে।

সূত্র: গার্ডিয়ান

ফরিদপুরে ২৪ ঘণ্টায় ৪৪ জনের হাম শনাক্ত, মোট আক্রান্ত ৫৬৯৩

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:০০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ২৪ ঘণ্টায় ৪৪ জনের হাম শনাক্ত, মোট আক্রান্ত ৫৬৯৩

ফরিদপুর জেলাজুড়ে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হামের প্রাদুর্ভাব। ফরিদপুরে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৪৪ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। তবে এই সময়ে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

​মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পাঠানো সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

​স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে আজ পর্যন্ত জেলায় মোট হাম আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৬৯৩ জনে। এর মধ্যে হামজনিত জটিলতায় প্রাণ হারিয়েছেন ২১ জন।

​এদিকে গত এক দিনে আক্রানদের মধ্যে জেলার ২৪ জন এবং বাইরের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ১০ জন সন্দেহভাজন রোগী চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। জেলাজুড়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া নতুন ৪৪ জনের মধ্যে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ১৭ জন এবং ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৭ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

​বর্তমানে এই দুই হাসপাতালে নতুন-পুরোনো মিলিয়ে মোট ৯৩ জন হাম রোগী ভর্তি আছেন। যার মধ্যে জেনারেল হাসপাতালে ২৬ জন ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৬৭ জন। অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩৭ জন। এ নিয়ে জেলাজুড়ে মোট সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পাওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ৫ হাজার ৪৪৭ জনে।

​উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আলফাডাঙ্গায় সবচেয়ে বেশি ২৮ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এছাড়া বোয়ালমারীতে ২৫, সালথায় ২৩, চরভদ্রাসনে ১৭, সদরপুরে ১৪, ভাঙ্গায় ১২, মধুখালীতে ৬, ফরিদপুর সদর উপজেলায় ৫ এবং নগরকান্দায় ২ জন হামে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

​পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আক্রান্ত এলাকাগুলোতে টিকাদান ও স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম জোরদার করার কথা জানিয়েছে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ।

ফরিদপুরের মধুখালীতে পুকুরে ডুবে ৫ বছরের শিশুর মৃত্যু

মধুখালী প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৫৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের মধুখালীতে পুকুরে ডুবে ৫ বছরের শিশুর মৃত্যু

ফরিদপুরের মধুখালীতে পুকুরের পানিতে ডুবে উৎস সরকার নামের ৫ বছর বয়সী এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড় ৭টার দিকে উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের সীতারামপুর দাসপাড়া গ্রামে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

​নিহত উৎস সরকার ওই গ্রামের উত্তম সরকারের একমাত্র সন্তান।

​স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর শিশু উৎসের মা ঘরের গৃহস্থালি কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এ সময় সবার অলক্ষে শিশুটি ঘর থেকে বের হয়ে পাশের বাড়ির একটি পুকুরে পড়ে তলিয়ে যায়।

​সন্তানকে ঘরে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। অনুসন্ধানের একপর্যায়ে স্থানীয় একটি পুকুরে শিশুটির স্যান্ডেল ভাসতে দেখে স্বজনদের সন্দেহ হয়। পরে তারা পুকুরে নেমে তল্লাশি চালিয়ে পানির নিচ থেকে শিশুটির নিথর দেহ উদ্ধার করেন।

​একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন মা-বাবা। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় পুরো দাসপাড়া গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকদেব রায় বলেন, “পুকুরের পানিতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যুর খবর আমরা পেয়েছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং আবেদন করায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”

ফরিদপুরে উচ্ছেদ অভিযান: সওজের কোটি টাকার জমি উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৫২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে উচ্ছেদ অভিযান: সওজের কোটি টাকার জমি উদ্ধার

ফরিদপুরে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের সরকারি জমি উদ্ধার ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকার অবৈধ স্থাপনা সরাতে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসন। এসময় কোটি টাকার সওজের জমি উদ্ধার করা হয়।

​মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকা থেকে এই অভিযান শুরু হয়।

​অভিযানের সময় ভাঙ্গা-ফরিদপুর (গোয়ালচামট) সড়কের নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে ভাঙ্গা রাস্তার মোড় পর্যন্ত সওজের আওতাধীন জায়গার অবৈধ দখল ও বিভিন্ন ধরনের অস্থায়ী দোকানপাট ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হয়।

​জেলা প্রশাসনের এনডিসি শাকিব রহমান আকাশের নেতৃত্বে এবং ফরিদপুর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শফিকুল ইসলামের সমন্বয়ে এ যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে র‍্যাব, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

​স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হাসপাতাল চত্বর ও মূল সড়কের ওপর অবৈধ দোকানপাট ও দখলের কারণে দীর্ঘদিন ধরে রোগী, স্বজন ও পথচারীদের চলাচলে মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিল। এই উচ্ছেদের ফলে এলাকায় পরিবেশ ও শৃঙ্খলা ফেরার পাশাপাশি পথচারীদের যাতায়াত সহজ হয়েছে। হঠাৎ এই অভিযানে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

​অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সওজের সরকারি জমি দখল ও যত্রতত্র অস্থায়ী দোকান গড়ে ওঠায় জনভোগান্তি চরমে পৌঁছেছিল। উচ্ছেদ করা জায়গায় যেন নতুন করে কেউ দখল বা পুনরায় দোকানপাট বসাতে না পারে, সে জন্য নিয়মিত মনিটরিং ও কঠোর নজরদারি বজায় রাখা হবে।