খুঁজুন
, ,

সাদা নাকি লাল, কোন ডিমে পুষ্টি বেশি? জেনে নিন

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬, ৬:২৭ পূর্বাহ্ণ
সাদা নাকি লাল, কোন ডিমে পুষ্টি বেশি? জেনে নিন

ডিম বাঙালির প্রতিদিনের খাদ্যতালিকার অত্যন্ত পরিচিত ও পুষ্টিকর একটি খাবার। সকালের নাশতা থেকে শুরু করে দুপুর বা রাতের খাবার, অনেকেরই পাতে ডিম না থাকলে যেন খাবারই অসম্পূর্ণ মনে হয়। তবে বাজারে ডিম কিনতে গেলে প্রায়ই একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খায়, সাদা ডিম ভালো, নাকি লাল ডিম?

অনেকেই মনে করেন লাল ডিমের দাম বেশি হওয়ায় এতে পুষ্টিও বেশি। আবার কেউ কেউ বলেন, দুই ধরনের ডিমের মধ্যে তেমন কোনো পার্থক্যই নেই। আসলে বিষয়টি কী? ডিমের খোলসের রং কি সত্যিই পুষ্টিগুণ নির্ধারণ করে?

বিশেষজ্ঞদের মতামত ও গবেষণার তথ্য বলছে, এই ধারণার পেছনে আছে কিছু বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা, আবার কিছু প্রচলিত ভুল ধারণাও। চলুন জেনে নেওয়া যাক সাদা ও লাল ডিমের পার্থক্য, এর রঙ হওয়ার কারণ এবং পুষ্টিগুণের বাস্তব চিত্র।

ডিমের রঙ লাল বা সাদা হওয়ার কারণ কী

ডিমের রং মুরগির জাত ও জিনের ওপর নির্ভর করে। সাধারণত, সাদা পালকের মুরগির ডিম সাদা এবং গাঢ় রঙের পালকের মুরগির ডিম লাল হয়ে থাকে।

বিশেষ করে সাদা লেগহর্ন জাতের মুরগি বিভিন্ন রঙের হলেও তারা সবাই সাদা ডিম পাড়ে। অন্য দিকে প্লেমাউথ রকস বা রোড আইল্যান্ড মুরগিগুলো লাল ডিম পেড়ে থাকে। কিছু কিছু জাতের মুরগি সাদা হলেও লাল ডিম পাড়ে। ডিমের খোসার রঙ বাদামি হয় মূলত মুরগির জরায়ুর মধ্যে থাকা শেল গ্ল্যান্ডের কারণে।

প্রথমে মুরগির গর্ভে ডিমের কুসুম তৈরি হয়। তারপর তিন ঘণ্টা ধরে তৈরি হয় কুসুমের চারদিকে সাদা অংশ বা অ্যালবুমিন। এরপর এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে তৈরি হয় খোসার নিচের ঝিল্লি।

এরপর ডিমটি লেজের কাছাকাছি শেল গ্ল্যান্ডে চলে যায়। এখানেই তৈরি হয় উপরের শক্ত খোসা। এই খোসা তৈরিতে সবচেয়ে বেশি সময় লাগে প্রায় ২০ ঘণ্টার মতো। সব ডিমের খোলস শুরুতে সাদাই থাকে। ডিম তৈরির একেবারে শেষ মুহূর্তে যোগ হয় রং। মুরগির দেহে থাকা এক রঞ্জক পদার্থ থেকে এই রং তৈরি হয়। তবে যেসব ডিম সাদা হয় সেগুলোয় রং যোগ হয় না।

আবার কিছু কিছু গবেষণায় এটাও বলা হয়েছে, মুরগির বয়স যতো বাড়তে থাকে, বা তারা যদি অনেক চাপে থাকে তাদের ডিমের রং হালকা হতে শুরু করে। সাধারণত ডুয়েল ব্রিড অর্থাৎ যেসব মুরগি ডিম ও মাংস দুটি উৎপাদনের উদ্দেশ্যে পালন করা হয় সেগুলো লাল রঙের ডিম পাড়ে। এসব মুরগি আকারে বড় হওয়ায় বেশি পরিমাণ খাবার দিতে হয়। ফলে ডিমের উৎপাদন খরচ বেশি পড়ে।

অন্যদিকে সাদা পালকের মুরগির প্রজনন খরচ কিছুটা কম। তারা বাদামি রঙের মুরগির চেয়ে খায়ও কম। এজন্য সাদা ডিমের দাম লাল মুরগির চেয়ে কিছুটা কম রাখা যায়।

কোন রঙের ডিমে পুষ্টি বেশি?

পুষ্টিবিদ সৈয়দ তাসনিম হাসিন চৌধুরী এবং পোল্ট্রি বিশেষজ্ঞ শাকিলা ফারুক দুজনই জানিয়েছেন, ডিমের রঙের সাথে এর পুষ্টিগুণের কোনো তারতম্য হয় না।

আবার নিউ ইয়র্কের এক দল গবেষকের মতে, লাল ডিমে ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড সামান্য বেশি রয়েছে। কিন্তু সেই পার্থক্য এতটাই সামান্য যে তাতে খুব একটা ফারাক হয় না। সেক্ষেত্রে বলা যায়, দুই রঙের ডিমের খাদ্যগুণ প্রায় সমান। তাই ডিম যে রঙেরই হোক আপনি তা নিশ্চিন্তে খেতে পারেন।

যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, একটি ৫০ গ্রাম ওজনের ডিমে ৭২ ক্যালোরি ও ৪.৭৫ গ্রাম ফ্যাট রয়েছে। সাদা ও লাল ডিমে এই পুষ্টিগুণের পরিমাণ প্রায় সমান।

তবে বাজারে ওমেগা থ্রি সমৃদ্ধ ডিম, অর্গানিক ডিম, জৈব এবং নন-জিএমও ফিড দেওয়া মুরগির ডিম, খোলামেলা জায়গায় পালন করা দেশি মুরগির ডিম ইত্যাদির বেশ কদর রয়েছে।

এক্ষেত্রে মুরগির ডিমের রং নয়, বরং মুরগি কী ধরনের খাবার খায় এবং কী ধরনের পরিবেশে বেড়ে ওঠে সেটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

যেমন যেসব মুরগিকে বেশি বেশি ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডযুক্ত কিংবা ভিটামিন এ বা ই-যুক্ত ফিড খাওয়ানো হয়, সেসব মুরগির ডিমে এসব পুষ্টি উপাদান বেশি থাকে। এই বিশেষ ফিডের জন্য দামটাও বেশি পড়ে।

পুষ্টিবিদ তাসনিম হাসিন চৌধুরীর মতে, যেসব মুরগি প্রাকৃতিক উপায়ে পুষ্টিকর খাবার খুঁজে খুঁজে খায়, সেসব মুরগির ডিমে ভিটামিন ই, ভিটামিন এ, ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড, খনিজ উপাদান এবং ফ্যাট বেশি থাকে।

অন্যদিকে খামারের মুরগির ডিমে এই ভিটামিন ও খনিজ কিছুটা কম থাকলেও প্রোটিনের পরিমাণ বেশি এবং ফ্যাটের পরিমাণ কম থাকে।

তবে পোল্ট্রি বিশেষজ্ঞ শাকিলা ফারুক বলছেন, গৃহস্থালির মুরগি রোদে বেশি থাকায় এগুলোর ডিমে ভিটামিন-এ ও ডি বেশি থাকে৷ আবার খামারে ভালো ফিড খাওয়ানো মুরগির ডিমের পুষ্টি অনেক সময় এসব গৃহস্থালি মুরগির ডিমের চাইতেও বেশি হয়। কারণ তাদের নিয়মিত ভালো মানের ফিড দেওয়া হয়।

ডিমের কুসুমের রং

আবার ডিমের পুষ্টির সাথে ডিমের খোলসের রঙের কোনো যোগ না থাকলেও ডিমের কুসুমের রঙের একটা প্রভাব আছে।পুষ্টিবিদদের মতে, যে ডিমের কুসুমের রং যতো গাঢ় সেই ডিমে ভিটামিন এ, ক্যারোটিন ও খনিজ উপাদানের মাত্রা ততো বেশি। ওই ডিমের স্বাদও বেশি। এদিকে, ডিমের কুসুমের রংও নির্ভর করে মুরগি কী খাচ্ছে তার ওপর। ক্যারোটিনয়েড নামের এক রকম রাসায়নিকের প্রভাবে ডিমের কুসুমের রং গাঢ় হয়।

অনেক খামারে কুসুমের রং গাঢ় করতে মুরগিকে ক্যারোটিনয়েড জাতীয় ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়। কোথাও আবার লাল ক্যাপসিকাম খাওয়ানো হয়।

যেহেতু ডিমের স্বাদ ও পুষ্টিগুণ মুরগির খাদ্যের ওপর নির্ভর করে। তাই যেসব মুরগি সাদা ডিম দেয় এবং যেগুলো লাল ডিম পাড়ে, তাদের সবাইকে একই ধরনের খাবার দিলে স্বাদে ও পুষ্টিতে তেমন কোনো পার্থক্য হবে না।

সূত্র : বিবিসি

নগরকান্দায় উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের গাছের চারা বিতরণ ও রোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন

জাকির হোসেন, নগরকান্দা:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৩৩ অপরাহ্ণ
নগরকান্দায় উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের গাছের চারা বিতরণ ও রোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলার লক্ষ্যে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় ৬টি জাতের চারা গাছ বিতরণ ও রোপণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের আওতায় এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

​মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) নগরকান্দার রামনগর ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে চারা গাছগুলো স্থানীয় ইউপি সদস্যদের (মেম্বার) হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেন চেয়ারম্যান মো. কায়মদ্দীন মন্ডল।

​অনুষ্ঠানে ইউপি চেয়ারম্যান মো. কায়মদ্দীন মন্ডল বলেন, “পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষের বিকল্প নেই। বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলায় আমাদের বেশি করে গাছ লাগাতে হবে। নিজ নিজ জায়গা থেকে পরিবেশ সুরক্ষায় এগিয়ে আসা প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব।”

​তিনি ইউনিয়নের ফাঁকা রাস্তার পাশ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদসহ সুবিধাজনক স্থানে চারাগুলো রোপণের নির্দেশ দেন।

​চেয়ারম্যানের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ইউপি সদস্য মো. মুরাদ হোসেন বলেন, “পরিষদের সব সদস্য মিলে নির্দেশিত স্থানে চারাগুলো রোপণ করব। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও বাড়ির আশপাশের খালি জায়গায় গাছ লাগানোর আহ্বান জানাচ্ছি।”

​কর্মসূচিতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ রামনগর ইউনিয়ন পরিষদের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ফরিদপুরে শিশুকে ধর্ষণের দায়ে যুবকের যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:০৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে শিশুকে ধর্ষণের দায়ে যুবকের যাবজ্জীবন

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে ১৩ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের দায়ে রাজু শেখ নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে দুই লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

​মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফরিদপুরের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) এ রায় ঘোষণা করেন।

​রায় ঘোষণার সময় আসামি রাজু শেখ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে কড়া পুলিশ পাহারায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

​মামলার বিবরণ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ওই শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে রাজু শেখের বিরুদ্ধে চরভদ্রাসন থানায় মামলা দায়ের করা হয়। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে। বিচারকাজ চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষ প্রয়োজনীয় সাক্ষী, চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি ও অন্যান্য তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করে।

​দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনায় আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় দেন।

​রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট গোলাম রাব্বানী রতন বলেন, মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ ও নথি পর্যালোচনা করে আদালত আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং দুই লাখ টাকা জরিমানা করেছেন। এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছে।

ফরিদপুরে দোকানঘরের দেয়াল চাপা পড়ে যুবকের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২৬ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে দোকানঘরের দেয়াল চাপা পড়ে যুবকের মৃত্যু

ফরিদপুরের নগরকান্দায় একটি পুরাতন দোকানঘরের দেয়াল ভাঙার সময় চাপা পড়ে শাহিন (১৯) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

​সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে ঢাকার ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নগরকান্দা উপজেলা অডিটোরিয়ামের পূর্ব পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

​নিহত শাহিন নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া ইউনিয়নের শশা গ্রামের কামাল শেখের ছেলে।

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে আবু জাফর (৬৫) নামে এক ব্যক্তির পুরাতন দোকানঘরের সাইড ওয়াল ভাঙার কাজ করছিলেন শাহিন। কাজ করার একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত দেয়ালটি হঠাৎ করে তার ওপর ভেঙে পড়ে। এতে শাহিনের বুক ও ঘাড়ে গুরুতর আঘাত লাগে।

​ঘটনার পর স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। পরবর্তীতে সেখান থেকেও উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ।