খুঁজুন
শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ৬ আষাঢ়, ১৪৩৩

ব্যাংকিং অ্যাপে প্রতারণা: নিরাপদ থাকতে জানুন উপায়

শাহ্ মুহাম্মদ আজিজুল হক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬, ৬:৪৬ পূর্বাহ্ণ
ব্যাংকিং অ্যাপে প্রতারণা: নিরাপদ থাকতে জানুন উপায়

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে ডিজিটাল আর্থিক সেবার ব্যাপক বৃদ্ধি ঘটেছে। ইন্টারনেট ব্যাংকিং, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস, ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম এবং ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেমের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার এই প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করেছে।

bKash, Nagad, Rocket এবং Upay-এর মতো সেবাগুলো আর্থিক লেনদেনের ধরন বদলে দিয়েছে, যা কোটি মানুষের কাছে আরও সহজলভ্য হয়েছে। একইভাবে, অনলাইন মার্কেটপ্লেসের উত্থান নগদবিহীন লেনদেনকে উৎসাহিত করেছে, ব্যবসা ও ভোক্তাদের জন্য সুবিধা বাড়িয়েছে।

ইন্টারনেট ব্যাংকিং অ্যাপ ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসে (যেমন bKash, Nagad, Rocket, Upay ইত্যাদি) লেনদেন সহজ হলেও একইসাথে ডিজিটাল প্রতারণাও বেড়েছে। নিচে কিছু সাধারণ ধরনের প্রতারণার ধরন ও পটভূমি তুলে ধরা হলো-

পটভূমি

• ইন্টারনেট ব্যাংকিং, এমএফএস ও ডিজিটাল পেমেন্টের ব্যবহার কয়েক কোটি গ্রাহককে যুক্ত করেছে।

• এই বিশাল ব্যবহারকারীর সংখ্যা হ্যাকার ও প্রতারকদের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করেছে।

• অনেক গ্রাহক এখনো ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ে নতুন এবং তারা সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতন নয়। তাই তারা সহজেই ফাঁদে পড়ে।

প্রতারণার ধাপসমুহ

১. আবেগীয় গল্প (Emotional Storytelling)

ইন্টারনেট ব্যাংকিং অ্যাপে প্রতারণার সবচেয়ে সাধারণ ও কার্যকর কৌশল হলো আবেগীয় গল্প বলা। প্রতারকরা জানে, মানুষ ভয়, আতঙ্ক বা লোভে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়। তাই তারা ফোনে বা মেসেজে এমন গল্প বানায় যা গ্রাহককে মানসিকভাবে দুর্বল করে ফেলে।

তারা প্রথমে ফোন করে এমন একটি গল্প শোনায় যা আপনাকে ভয় পাইয়ে দেয় বা কৌতূহলী করে তোলে।

• উদাহরণ

o ‘আপনার মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে, এখনই কোড দিলে বাঁচানো যাবে।’

o ‘আপনার অ্যাকাউন্টে অস্বাভাবিক লেনদেন হয়েছে, রিপোর্ট দেখতে এখানে লগইন করুন।’

o ‘ভুল করে আপনার অ্যাকাউন্টে ৫ লাখ টাকা চলে এসেছে, এখনই ফেরত দিতে হবে।’

o ‘আপনার অ্যাকাউন্ট ব্লক হয়ে গেছে, এখনই সচল না করলে সব টাকা কেটে যাবে।’

o ‘আপনি সরকারি অনুদান/লটারি জিতেছেন, তথ্য দিলে টাকা পাবেন।’

এই গল্পগুলো শুনে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে প্রতারকের নির্দেশ মেনে নেয়।

২. ফিশিং লিংক (Phishing Link)

উপরের গল্পগুলো বলার পর তারা আপনাকে একটি লিংক পাঠাবে (SMS বা WhatsApp-এ)। এই লিংকটি দেখতে হুবহু আপনার ব্যাংকের অ্যাপ বা ওয়েবসাইটের মতো হবে। আপনি যখন লিংকে ক্লিক করবেন-

o সেখানে আপনার User ID, Password, অথবা PIN দিতে বলা হবে।

o অনেক সময় এই লিংকে ক্লিক করার সাথে সাথেই আপনার ফোনে একটি Malware (ক্ষতিকর সফটওয়্যার) ইনস্টল হয়ে যেতে পারে।

৩. ওটিপি (OTP) চুরি

আপনি যখন ওই ভুয়া লিংকে তথ্যগুলো দেবেন, হ্যাকাররা সেই তথ্য ব্যবহার করে আসল ব্যাংকিং অ্যাপে লগইন করার চেষ্টা করবে। তখন আপনার ফোনে একটি OTP আসবে। হ্যাকার আপনাকে ফোনে কথা বলে ভুলিয়ে সেই OTP-টিও নিয়ে নেবে।

৪. টাকা সরিয়ে ফেলা

একবার অ্যাকাউন্টে ঢুকে পড়লে তারা খুব দ্রুত টাকা অন্য অ্যাকাউন্টে বা bKash/Nagad/Rocket এ পাঠিয়ে দেয়।

সুরক্ষার জন্য জরুরি টিপস

• লিংক এড়িয়ে চলুন : ব্যাংক কখনো ফোনে লিংক পাঠায় না।

o উদাহরণ : যদি SMS-এ লেখা থাকে ‘Click here to unblock your account’, সেটি ভুয়া।

• অফিসিয়াল অ্যাপ ব্যবহার করুন : সবসময় ব্যাংকের অফিসিয়াল অ্যাপ বা ওয়েবসাইট ব্যবহার করুন।

o উদাহরণ : Play Store/App Store থেকে ডাউনলোড করা অ্যাপ ছাড়া অন্য কোনো লিংক থেকে অ্যাপ ইনস্টল করবেন না।

• সন্দেহ হলে ফোন কেটে দিন: অপরিচিত বা সন্দেহজনক কল এলে সাথে সাথে ফোন কেটে দিন।

o উদাহরণ: কেউ যদি বলে ‘আমি ব্যাংক থেকে বলছি, আপনার PIN দিন’, সাথে সাথে ফোন কেটে দিন। কারন সত্যিকারের ব্যাংক থেকে কখনো আপনার কাছে PIN/OTP চাওয়া হবে না। কারো সাথে PIN/OTP শেয়ার করবেন না।

o প্রতারণার শিকার হলে : সাথে সাথে ব্যাংকের কাস্টমার কেয়ারে কল করুন এবং থানায় জিডি করুন।

লেখক: শাহ্‌ মুহাম্মদ আজিজুল হক, আইসিটি ডিভিশন, এনসিসি ব্যাংক পিএলসি

 

ফরিদপুরে রাতে স্বামীর সাথে ঝগড়া, ভোরে মিলল গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১২:১৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে রাতে স্বামীর সাথে ঝগড়া, ভোরে মিলল গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ

ফরিদপুর সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নে শ্বশুরের সেবাযত্নকে কেন্দ্র করে স্বামীর সঙ্গে বিরোধের জেরে রিমা আক্তার (৩৩) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (২০ জুন) ভোরে সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ওয়াজউদ্দিন মুন্সির ডাঙ্গী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রিমা আক্তার ওই এলাকার শাহেদ আলীর স্ত্রী। তিনি দুই সন্তানের জননী ছিলেন। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, রিমার শ্বশুর জহির উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছেন। তাকে দেখাশোনা ও সেবাযত্ন করার বিষয় নিয়ে প্রায়ই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ হতো।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার (১৯ জুন) সন্ধ্যায় শ্বশুরের দেখভাল করা নিয়ে রিমা আক্তার ও তার স্বামী শাহেদ আলীর মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে রিমা আক্তার স্বামীকে বিভিন্ন কথা বলেন। পরে রাতের খাবার খেয়ে স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন।

পরদিন শনিবার ভোরে শাহেদ আলী ঘুম থেকে উঠে ঘরের বাইরে গেলে ওই সুযোগে রিমা আক্তার ঘরের বাঁশের ধরনার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।কিছুক্ষণ পর তার মেয়ে সাবিহা (৯) মাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করলে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। পরে শাহেদ আলী ওড়না কেটে তাকে নিচে নামালেও ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) খায়রুল বাশার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে এসআই খায়রুল বাশার বলেন, “মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”

সালথায় মাদক ব্যবসা বন্ধে এক সপ্তাহের আলটিমেটাম, রাস্তায় নেমেছে গ্রামবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ৯:৫২ অপরাহ্ণ
সালথায় মাদক ব্যবসা বন্ধে এক সপ্তাহের আলটিমেটাম, রাস্তায় নেমেছে গ্রামবাসী

মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে এবার ফরিদপুরের সালথা উপজেলার রামকান্তপুর এলাকায় রাস্তায় নেমেছে সাধারণ মানুষ।

মাদক ব্যবসা ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম বন্ধের দাবিতে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল থেকে স্থানীয়রা মাদক কারবারীদের এক সপ্তাহের সময় বেঁধে দিয়েছেন।

শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেলে রামকান্তপুর বাজার স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত মাদকবিরোধী সমাবেশে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বাজারের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

সমাবেশে স্থানীয়দের পক্ষে বক্তব্য দেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা কামরুল ইসলাম। তিনি বলেন, “মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, পুরো পরিবার ও সমাজকে ধ্বংস করে। নতুন প্রজন্মকে রক্ষায় সবাইকে একসঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে। তাই এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে মাদক ব্যবসায়ীদের এক সপ্তাহের সময় দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে মাদক ব্যবসা বন্ধ না হলে আরও কঠোর সামাজিক কর্মসূচি নেওয়া হবে।”

বক্তারা বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরও দায়িত্ব রয়েছে। তারা দাবি করেন, এলাকার তরুণদের সুরক্ষা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় মাদকের বিস্তার রোধ করা এখন সময়ের দাবি।

সমাবেশ থেকে রাত ১২টার পর অকারণে এলাকায় ঘোরাফেরা না করার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি সন্দেহজনক কার্যকলাপ দেখলে স্থানীয়দের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

বক্তারা আরও বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে যে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে উঠছে, রামকান্তপুরবাসীও সেই আন্দোলনের অংশ হতে চায়। তারা আশা প্রকাশ করেন, স্থানীয় জনগণের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান এলাকায় মাদক ব্যবসা প্রতিরোধে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
সমাবেশ শেষে অংশগ্রহণকারীরা ‘মাদকমুক্ত সমাজ চাই’, ‘তরুণদের বাঁচাতে মাদক রুখতে হবে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

পরিবারের কর্মসংস্থান চান ফরিদপুরের ভাইরাল লোকসংগীত শিল্পী লাইলী বাউল

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ৮:৫৮ অপরাহ্ণ
পরিবারের কর্মসংস্থান চান ফরিদপুরের ভাইরাল লোকসংগীত শিল্পী লাইলী বাউল

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লোকসংগীত পরিবেশন করে দেশজুড়ে আলোচনায় আসা জনপ্রিয় লোকশিল্পী লাইলী বাউল তাঁর দীর্ঘ সঙ্গীতজীবনের স্বীকৃতি ও সফলতার জন্য গণমাধ্যমকর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং সর্বস্তরের মানুষের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।

শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুরে ফরিদপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন লাইলী বাউল। এ সময় তাঁর ছেলে আপন শেখসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময় সভায় আবেগঘন বক্তব্যে লাইলী বাউল বলেন, “গান আমার সাধনা, আমার জীবন। ছোটবেলা থেকেই গান গেয়ে আসছি। মানুষের ভালোবাসা, গণমাধ্যমের সহযোগিতা এবং আপনাদের আন্তরিক সমর্থন না পেলে আজকের এই অবস্থানে পৌঁছাতে পারতাম না। আমার এই স্বীকৃতি মূলত সাধারণ মানুষের ভালোবাসারই প্রতিফলন।”

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী লোকগান পরিবেশন করলেও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর গান ছড়িয়ে পড়ার পর দেশ-বিদেশের মানুষের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পেয়েছেন। এই ভালোবাসা তাঁকে নতুনভাবে অনুপ্রাণিত করেছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে লাইলী বাউল বলেন, “আমি মানুষের জন্য গান গেয়ে যেতে চাই। সুযোগ পেলে চলচ্চিত্রেও গান গাওয়ার ইচ্ছা আছে। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন, যেন সুস্থ থেকে গানকে সঙ্গে নিয়ে মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকতে পারি।”

এ সময় বক্তব্য দেন তাঁর ছেলে আপন শেখ। তিনি বলেন, “আমার মা পৃথিবীর সেরা মা। সারা বিশ্বের মানুষ আজ তাঁকে চিনছে, এটি আমাদের পরিবারের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। তিনি অনেক কষ্ট করে আমাদের বড় করেছেন।”