খুঁজুন
বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬, ৪ চৈত্র, ১৪৩২

ঈদের দিন যা করবেন, যা করবেন না? জেনে নিন এক নজরে

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬, ৭:৩৪ এএম
ঈদের দিন যা করবেন, যা করবেন না? জেনে নিন এক নজরে

ঈদ মুসলিম উম্মাহর জন্য আনন্দ, কৃতজ্ঞতা ও ইবাদতের এক অনন্য দিন। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর আসে ঈদুল ফিতর, যা মুমিনের জন্য পুরস্কারের বার্তা বয়ে আনে।

তাই এ দিনটি শুধু আনন্দ-উৎসবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং সুন্নত অনুসরণ, ইবাদত বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য জোরদারেরও এক গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। ইসলামে ঈদের দিনের জন্য কিছু করণীয় আমল রয়েছে, আবার কিছু কাজ থেকে বিরত থাকারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নিচে ঈদের দিনের করণীয় কাজ এবং বর্জনীয় বিষয়গুলো তুলে ধরা হলো—

করণীয়

১. গোসল ও পরিচ্ছন্নতা

ঈদের দিন সকাল সকাল গোসল করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অর্জন করা মুস্তাহাব। সাহাবিরা গোসল করে ঈদগাহে যেতেন। নাফে (রহ.) বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) ঈদুল ফিতরে ঈদগাহে যাওয়ার আগে গোসল করে নিতেন। (মুয়াত্তায়ে মালেক : ৪৮৮)

অন্য বর্ণনায় এসেছে, আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) ঈদের দিন উত্তমভাবে গোসল করতেন, সুগন্ধি থাকলে তা ব্যবহার করতেন, নিজের সর্বোত্তম পোশাক পরিধান করতেন। এরপর ঈদের নামাজে যেতেন। (শরহুস সুন্নাহ : খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ৩০২)

২. উত্তম পোশাক ও সাজসজ্জা

ঈদের দিন নিজের সাধ্যমতো উত্তম পোশাক পরিধান করা মুস্তাহাব। সাহাবিরা এমনটি করতেন। নাফে (রহ.) বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) দুই ঈদে উত্তম পোশাক পরতেন। (সুনানুল কুবরা লিল বাইহাকি : ৬১৪৩)

তবে উত্তম পোশাক মানে নতুন পোশাক নয়; বরং নিজের সংগ্রহে থাকা সবচেয়ে ভালো পোশাক পরা চাই।

৩. সদকাতুল ফিতর আদায়

ঈদুল ফিতরের দিন অর্থাৎ ১ শাওয়াল ভোরে নিজের মৌলিক প্রয়োজন ও ব্যবহার্য জিনিসপত্রের বাইরে যেসব মুসলিম নর-নারী এমন পরিমাণ সম্পদের মালিক হন, যার মূল্য সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার দামের সমান বা তার বেশি; তাদের ওপর সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব।

সাদাকাতুল ফিতর ঈদের দিন ঈদগাহে যাওয়ার পূর্বে আদায় করা উত্তম। আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) লোকজন ঈদের নামাজেরে উদ্দেশে বের হওয়ার পূর্বে সাদাকাতুল ফিতর আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন। (সহিহ বোখারি : ১৫০৯)

অবশ্য কোনো কোনো সাহাবি থেকে ঈদের কয়েকদিন পূর্বেও ফিতরা আদায়ের কথা প্রমাণিত আছে। যেমন নাফে‘ (রাহ.) বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) ঈদের দু-একদিন পূর্বেই তা (ফিতরা) আদায় করে দিতেন। (সুনানে আবু দাউদ : ১৬০৬)

তবে, কোনো কারণে নির্ধারিত সময়ে সাদাকাতুল ফিতর আদায় না করলে পরবর্তীতে তা আদায় করা আবশ্যক। তাই পরে হলেও তা আদায় করে দিতে হবে। (কিতাবুল আছল : ২/২০৭, ২১১; ফাতহুল কাদির : ২/২৩১; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া : ৩/৪৫২; রদ্দুল মুহতার : ২/৩৬৮)

৪. ঈদগাহে যাওয়ার আগে খেজুর

ঈদের দিন রোজা রাখা নিষেধ। তাই এর প্রকাশ হিসেবে মুস্তাহাব হলো, ঈদগাহে যাওয়ার আগে খেজুর খাওয়া। খেজুরের ব্যবস্থা না থাকলে অন্য কোনো মিষ্টান্ন গ্রহণ করা। আনাস (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) ঈদুল ফিতরে খেজুর না খেয়ে ঘর থেকে বেরুতেন না। তিনি বেজোড় সংখ্যক খেজুর খেতেন। (বোখারি : ৯৫৩)

উল্লেখ্য, এ আমল কেবল ঈদুল ফিতরের জন্য। কেননা, ঈদুল আজহার ক্ষেত্রে মুস্তাহাব হলো, না খেয়ে ঈদগাহে যাওয়া এবং কোরবানির গোশত দিয়ে সর্বপ্রথম আহার গ্রহণ করা। রাসুল (সা.) ঈদুল ফিতরে না খেয়ে বেরুতেন না, আর ঈদুল আজহার দিন ঈদগাহ হতে ফেরার আগে কিছু খেতেন না। ঈদগাহ থেকে ফিরে পশু জবাই করার পর নিজ কোরবানির পশুর গোশত থেকে খেতেন। (মুসনাদে আহমদ : ২২৯৮৪)

৫. বেশি বেশি তাকবির পাঠ

হজরত নাফে (রহ.) বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) ঈদুল আজহা ও ঈদুল ফিতরের সকালে সশব্দে তাকবির বলতে বলতে ঈদগাহে যেতেন এবং ইমাম আসা পর্যন্ত তাকবির বলতে থাকতেন (সুনানে দারা কুতনি : ১৭১৬)। তাই আমাদেরও উচিত ঈদগাহে যাওয়ার সময় বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে তাকবির বলা।

৬. ঈদগাহে ভিন্ন পথে যাতায়াত

সম্ভব হলে ঈদগাহে যাওয়ার সময় এক পথে যাওয়া আর ফেরার সময় ভিন্ন পথে আসা। নবীজি (সা.) এমনটি করতেন। জাবের (রা.) বলেন, নবীজি (সা.) ঈদের দিন এক পথ দিয়ে ঈদগাহে যেতেন আর ভিন্ন পথ দিয়ে বাড়ি ফিরতেন। (বোখারি : ৯৮৬)

৭. পায়ে হেঁটে ঈদগাহে গমন

যথাসম্ভব পায়ে হেঁটে ঈদগাহে যাওয়া মুস্তাহাব। আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) ঈদগাহে পায়ে হেঁটে যেতেন এবং পায়ে হেঁটে ফিরতেন। (সুনানে ইবনে মাজাহ : ১২৯৫)

৮. ঈদের নামাজ আদায়

ঈদের দিন সকালে পুরুষদের জন্য ঈদের নামাজ আদায় করা ওয়াজিব। বিশেষ পদ্ধতিতে অতিরিক্ত তাকবিরসহ জামাতে দু’রাকাত নামাজ আদায় করা এবং তারপর ঈদের খুতবা দেয়া ও শোনা চাই। ঈদের নামাজ খোলা ময়দানে আদায় করা উত্তম। কারণ, ঈদের জামাত রাসুল (সা.) সর্বদাই মাঠে গিয়ে আদায় করেছেন। বৃষ্টির কারণে একবার শুধু মসজিদে আদায় করেছেন। যা প্রমাণ করে, ঈদের জামাতের সুন্নাহসম্মত পদ্ধতি হলো মাঠে আদায় করা। বাকি যদি কেউ মসজিদে আদায় করে, তাহলেও তার নামাজ হয়ে যাবে। তবে ইচ্ছাকৃত সুন্নতকে ছেড়ে দেয়া উচিত হবে না। তাই সামর্থ্য থাকাবস্থায় ঈদের জন্য মাঠ রাখাই শরিয়তের নির্দেশ। (ফতোয়ায়ে শামি, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৪৯)

৯. একে অপরের জন্য দোয়া

ঈদের দিন সাহাবায়ে কেরাম দোয়াসুলভ বাক্যে সৌজন্য বিনিময় করতেন। তাবেয়ি জুবাইর ইবনে নুফাইর (রহ.) বলেন, রাসুল (সা.)-এর সাহাবিরা ঈদের দিন পরস্পর সাক্ষাতে বলতেন, তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম। অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমাদের এবং তোমাদের আমলগুলো কবুল কর (ফাতহুল বারি : খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৪৪৬)। এ রকম সৌজন্য বিনিময়ের মাধ্যমে উত্তম আচরণ প্রকাশিত হয় এবং মুসলিম ভ্রাতৃত্ব সুদৃঢ় হয়।

১০. ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়

ঈদে পরস্পরকে শুভেচ্ছা জানানো শরিয়ত অনুমোদিত একটি বিষয়। বিভিন্ন বাক্য দ্বারা এ শুভেচ্ছা বিনিময় করা যায়। হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি (রহ.) বলেছেন, সাহাবিরা ঈদের দিন সাক্ষাৎকালে একে অপরকে বলতেন, ‘তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকা।’ অর্থাৎ আল্লাহতায়ালা আমাদের ও আপনার ভালো কাজগুলো কবুল করুন। ঈদ মোবারক ইনশাল্লাহও বলা যেতে পারে। ঈদুকুম সাঈদ বলেও ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করা যায়।

১১. এতিম ও অভাবীকে পানাহার

ঈদের দিন এতিমের খোঁজখবর নেয়া, তাদের খাবার খাওয়ানো এবং সম্ভব হলে তাদের নতুন কাপড়ের ব্যবস্থা করে দেয়া চাই। এটা ঈমানদারদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তারা খাদ্যের প্রতি আসক্তি থাকা সত্ত্বেও মিসকিন, এতিম ও বন্দিকে খাদ্য দান করে।’ (সুরা দাহর : ৮)

১২. খোঁজ নেওয়া

ঈদের দিন আত্মীয়-স্বজনের খোঁজখবর নেওয়া ও তাদের বাড়ি বেড়াতে যাওয়া চাই। পাশাপাশি প্রতিবেশীরও খোঁজখবর নিতে হবে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা ইবাদত করো আল্লাহর, তাঁর সঙ্গে কোনো কিছুকে শরিক করো না। আর সদ্ব্যবহার কর মাতাপিতার সঙ্গে, নিকটাত্মীয়ের সঙ্গে, এতিম-মিসকিন, প্রতিবেশী, অনাত্মীয় প্রতিবেশী, পার্শ্ববর্তী পড়শী, মুসাফির এবং তোমাদের মালিকানাভুক্ত দাসদাসীদের সঙ্গে। নিশ্চয় আল্লাহ পছন্দ করেন না তাদের, যারা দাম্ভিক, অহংকারী।’ (সুরা নিসা : ৩৬)

১৩. মনোমালিন্য দূরীকরণ

পারস্পরিক মনোমালিন্য দূর করা ও সম্পর্ক সুদৃঢ় করার উত্তম সময় ঈদের দিন। রাসুল (সা.) বলেন, ‘কোনো মুসলমানের জন্য বৈধ নয় যে, তার ভাইকে তিন দিনের বেশি সময় সম্পর্ক ছিন্ন রাখবে। তাদের অবস্থা এমন যে, দেখা-সাক্ষাৎ হলে একজন অন্যজনকে এড়িয়ে চলে। এ দুজনের মাঝে ওই ব্যক্তি শ্রেষ্ঠ, যে আগে সালাম দেয়’ (মুসলিম : ৬৬৯৭)। তাই ঈদের দিন সব মান-অভিমান ভুলে একে অন্যের সঙ্গে আনন্দ প্রকাশ করা উচিত।

১৪. আনন্দ প্রকাশ করা

ইসলাম এমন একটি জীবনব্যবস্থা, যেখানে সুষ্ঠু বিনোদনের সুযোগ রয়েছে। আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) ঈদের দিন আমার ঘরে এলেন, তখন আমার কাছে দুজন কিশোরী বুয়াস যুদ্ধের বীরদের স্মরণে গান গাচ্ছিল। তারা পেশাদার গায়িকা ছিল না। এরই মধ্যে আবু বকর (রা.) ঘরে প্রবেশ করে এ বলে আমাকে ধমকাতে লাগলেন যে, নবীজি (সা.)-এর ঘরে শয়তানের বাঁশি? রাসুল (সা.) তার কথা শুনে বললেন, ‘ওদের গাইতে দাও হে আবু বকর! প্রত্যেক জাতির ঈদ আছে, আর এটি আমাদের ঈদের দিন।’ (বোখারি : ৯৫২)

বর্জনীয়

১. রোজা রাখা

রমজানের পুরো মাস রোজা রাখার পর ঈদ মোমিন বান্দার জন্য আনন্দের দিন। তাই আল্লাহ তায়ালা ঈদের দিন রোজা রাখা হারাম করেছেন। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) দুদিন রোজা রাখতে নিষেধ করেছেন। তা হলো, ঈদুল ফিতরের দিন এবং কোরবানির ঈদের দিন। (মুসলিম : ১১৩৮)

২. বিজাতীয় আচরণ প্রদর্শন

ঈদকে কেন্দ্র করে বিজাতীয় আচরণ মুসলিম সমাজে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। পোশাক-পরিচ্ছদে, চাল-চলনে, শুভেচ্ছা বিনিময়ে অমুসলিমদের অনুকরণে লিপ্ত হয়ে পড়েছে মুসলমানদের অনেকেই। আবদুল্লাহ বিন আমর (রা.) সূত্রে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি অন্য জাতির সঙ্গে সাদৃশ্য রাখবে, সে তাদের দলভুক্ত বলে গণ্য হবে।’ (আবু দাউদ : ৪০৩৩)

৩. খোলামেলা পোশাক পরা

ঈদের দিন নারীরা ব্যাপকভাবে বেপর্দা অবস্থায় রাস্তাঘাটে খোলামেলা ঘোরাফেরা করে। এ থেকে বিরত থাকতে হবে। নিজের অধীন মেয়েদেরও বিরত রাখতে হবে। এ বিষয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা নিজ ঘরে অবস্থান করবে এবং প্রাচীন মুর্খতার যুগের মতো নিজেদের প্রদর্শন করে বেড়াবে না।’ (সুরা আহজাব : ৩৩)

৪. অপচয়-অপব্যয়

ঈদের কেনাকাটা থেকে শুরু করে এ উপলক্ষে সবকিছুতেই অপচয়-অপব্যয় করা হয়। অথচ আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা কোনোভাবেই অপব্যয় করো না, নিশ্চয় অপব্যয়কারী শয়তানের ভাই।’ (সুরা বনি ইসরাইল : ২৬-২৭)

আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন, ‘তোমরা পানাহার কর, কিন্তু অপচয় করো না।’ (সুরা আরাফ : ৩১)

৫. মদ ও আতশবাজি

ঈদের আনন্দে মদ খাওয়া, জুয়া খেলা, আতশবাজি করা শরিয়তবিরোধী কাজ। শুধু ঈদ নয়, অন্য কোনো দিনও এসব করা যাবে না। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে মোমিনরা! নিশ্চয় মদণ্ডজুয়া, প্রতিমা-বেদি ও ভাগ্যনির্ধারক তিরগুলো তো নাপাক শয়তানের কর্ম। সুতরাং তোমরা তা পরিহার কর; যাতে সফলকাম হও।’ (সুরা মায়িদা : ৯০)

সূত্র : কালবেলা

‘ঈদের পর কৃষক কার্ড বিতরণ করা হবে’: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬, ১০:২৪ পিএম
‘ঈদের পর কৃষক কার্ড বিতরণ করা হবে’: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু বলেছেন, স্বল্প সময়ের মধ্যেই সরকার জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছেন। ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম চালু হয়েছে। কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে। খাল খনন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ঈদের পর কৃষক কার্ড বিতরণ করা হবে। বিএনপি যা প্রতিশ্রুতি দেয়, তা বাস্তবায়ন করে।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সন্ধ্যায় নিজ নির্বাচনী এলাকা ফরিদপুরের সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের সিংহপ্রতাপ গ্রামে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ইমামুল হোসেন তারা মিয়ার বাড়িতে আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমাদের অঞ্চলের অনেক মানুষ মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত রয়েছেন। চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তারা অনেক কষ্টে আছেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে সরকার। কূটনীতি ও পররাষ্ট্র নীতির মাধ্যমে আমরা চেষ্টা করছি- তারা যেন নিরাপদে থাকতে পারেন। প্রয়োজনে সুস্থ্যভাবে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে। একই সঙ্গে আমরা চাই যুদ্ধ পরিস্থিতির দ্রুত অবসান হোক।

শামা ওবায়েদ বলেন, আপনাদের সন্তান হিসেবে আমিও আমার দেওয়া প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে পালন করব। আমি যখন সংসদে বসি, তখন মনে হয় আমি সালথা-নগরকান্দার সকল মানুষকে নিয়েই সেখানে উপস্থিত আছি। এখন সময় দলমত নির্বিশেষে সবার উন্নয়নে কাজ করার। ঝগড়া-বিবাদ নয়, বরং মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে।

সালথায় একটি গার্লস স্কুল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়ে পরারষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনে কী হয়েছে, তা না দেখে ঐক্যবদ্ধভাবে জনগণের জন্য কাজ করতে হবে। নেতারা ঐক্যবদ্ধ থাকলে জনগণের সমস্যাও কমে যাবে। পাশাপাশি উন্নয়ন কাজও সহজ হবে।

গট্টি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ইমামুল হোসেন তারা মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আসাদ মাতুব্বর, উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি শাহিন মাতুব্বর, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খায়রুল বাসার আজাদ প্রমূখ।

ফরিদপুরে দুস্থদের ঘরে ঈদের আনন্দ পৌঁছে দিলেন এমপি নায়াব ইউসুফ

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬, ৯:২৯ পিএম
ফরিদপুরে দুস্থদের ঘরে ঈদের আনন্দ পৌঁছে দিলেন এমপি নায়াব ইউসুফ

পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরকে সামনে রেখে ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফের উদ্যোগে দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে ঈদ সামগ্রী ও ভিজিএফের চাল বিতরণ করা হয়েছে। সমাজের নিম্নআয়ের মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে এ মানবিক উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দিনব্যাপী ফরিদপুর সদর উপজেলার ডিক্রিরচর, মাচ্চর ও কানাইপুর ইউনিয়নসহ শহরের রঘুনন্দনপুর ৯নং ওয়ার্ড এবং ব্রাহ্মণকান্দা এলাকায় পৃথকভাবে এই বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। প্রতিটি স্থানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থেকে কর্মসূচি সফল করতে সহযোগিতা করেন।

বিতরণ কার্যক্রমে শতাধিক অসহায় ও দরিদ্র পরিবারের হাতে ভিজিএফের চাল, সেমাই, চিনি, তেলসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। ঈদের আগে এমন সহায়তা পেয়ে উপকারভোগীরা সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

সুবিধাভোগী কয়েকজন জানান, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ঈদের প্রস্তুতি নেওয়া তাদের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছিল। এমন সময়ে এই সহায়তা তাদের পরিবারের জন্য অনেকটা স্বস্তি নিয়ে এসেছে এবং ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার সুযোগ তৈরি করেছে।

সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ বলেন, “ঈদ মানেই আনন্দ, আর সেই আনন্দ সবার মাঝে সমানভাবে ছড়িয়ে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। সমাজের অসচ্ছল মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”

স্থানীয়রা জানান, প্রতিবছরের মতো এবারও ঈদ উপলক্ষে এ ধরনের সহায়তা কর্মসূচি গ্রহণ করায় সাধারণ মানুষের মাঝে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। তারা আশা করেন, এ উদ্যোগ ধারাবাহিকভাবে চলমান থাকবে এবং আরও বেশি মানুষ এর সুফল ভোগ করবে।

ফরিদপুরে প্রতিবন্ধী পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎসে হামলা, দোকান গুঁড়িয়ে লুটপাট

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর ও ভাঙ্গা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬, ৮:৪৮ পিএম
ফরিদপুরে প্রতিবন্ধী পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎসে হামলা, দোকান গুঁড়িয়ে লুটপাট

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার পৌরসদরের কইডুবি সদরদী গ্রামে প্রতিপক্ষের হামলায় এক দৃষ্টি প্রতিবন্ধী যুবকের মুদি দোকান ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এতে চার সন্তানের জনক ওই ব্যক্তি তার পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস হারিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত মিজানুর রহমান মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বিকেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি জানান, ভাঙ্গা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক সংলগ্ন একটি সরকারি জায়গায় দীর্ঘদিন ধরে ছোট একটি মুদি দোকান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছিলেন। তিনি নিজে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হওয়া সত্ত্বেও কঠোর পরিশ্রম করে স্ত্রী ও চার প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে কোনো রকমে জীবনযাপন করছিলেন।

মিজানুর রহমানের অভিযোগ, সম্প্রতি চৌধুরীকান্দা সদরী এলাকার সাবেক কাউন্সিলার জাহিদ ফকির ও তার সহযোগীদের নজর পড়ে ওই জায়গার ওপর। তারা দোকানটি সরিয়ে নিতে চাপ দিতে থাকেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১২ মার্চ বিকেলে জাহিদ ফকিরের নেতৃত্বে একদল লোক সংঘবদ্ধভাবে এসে তার দোকান ঘর ভেঙে ফেলে এবং ভেতরে থাকা মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, এ সময় বাধা দিতে গেলে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। এতে তারা আহত হন এবং চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত স্থানীয় গ্রামবাসীরাও ঘটনার নিন্দা জানান এবং দোষীদের দ্রুত শাস্তির দাবি করেন। তারা বলেন, একজন অসহায় প্রতিবন্ধীর সঙ্গে এ ধরনের আচরণ মানবিকতার পরিপন্থী।

এদিকে, ঘটনার প্রতিকার চেয়ে মিজানুর রহমান ভাঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ভাঙ্গা থানার এএসআই মো. ডালিম মিয়া জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত জাহিদ ফকিরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বর্তমানে দোকান হারিয়ে পরিবার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন মিজানুর রহমান। স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন পরিবারটি।